Blog

  • নারীদের সবচেয়ে কমন সমস্যা ইউরিন ইনফেকশন

    নারীদের সবচেয়ে কমন সমস্যা ইউরিন ইনফেকশন

    ইউরিন ইনফেকশনের বা Urinary tract infections (UTIs) খুবই কমন একটা রোগ, যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে নারীদের এই রোগ সবথেকে বেশি হয়।

    পরিসংখ্যান মতে প্রতি ২ জন মেয়ের মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ২০ জন ছেলের মধ্যে ১ জন ছেলে  জীবনে কোন না কোন সময় এই রোগে আক্রান্ত হয়।

    ইউরিন ইনফেকশন থেকে বাঁচতে হলে ইউরিন ইনফেকশন সর্ম্পকে কিছু তথ্য আপনাদের জানতে হবে। তাহলে সহজেই ইউরিন ইনফেকশন হওয়া থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারবেন।

    ইউরিন ইনফেকশন কী?

    আমাদের শরীর থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি প্রস্রাব হিসেবে বেরিয়ে যায়। প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়ার এই ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত অঙ্গগুলো নিয়ে আমাদের মূত্রতন্ত্র গঠিত। মূত্রতন্ত্রের মধ্যে থাকে দুটি কিডনি, দুটি ইউরেটার, একটি মূত্রথলি বা ব্লাডার ও একটি মূত্রনালী।

    মূত্রতন্ত্রের কোনো অংশে ব্যাকটেরিয়া সংক্ৰমণ হলে সেটিকে ইউরিন ইনফেকশন বা প্রস্রাবের সংক্ৰমণ বলে। ডাক্তারি ভাষায় একে ‘ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন’ বা ‘ইউটিআই’ বলা হয়।

    ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ

    ইউরিন ইনফেকশনের সবচেয়ে কমন লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

    ১. প্রস্রাবের সময়ে ব্যথা অথবা জ্বালাপোড়া হওয়া

    ২. স্বাভাবিকের চেয়ে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া

    ৩. রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা

    ৪. অস্বাভাবিক গন্ধযুক্ত অথবা ঘোলাটে প্রস্রাব হওয়া

    ৫. হঠাৎ প্রস্রাবের বেগ আসা অথবা বেগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া

    ৬. তলপেটে ব্যথা হওয়া

    ৭. প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া

    ৮. কোমরের পেছনে পাঁজরের ঠিক নিচের অংশে ব্যথা হওয়া

    ৯. জ্বর আসা কিংবা গা গরম লাগা এবং শরীরে কাঁপুনি হওয়া

    ১০. শরীরের তাপমাত্রা ৩৬° সেলসিয়াস বা ৯৬.৮° ফারেনহাইট এর চেয়ে কমে যাওয়া

    ১১. ক্লান্তি ও বমি বমি লাগা

    ১২. কোমর ও তলপেটে ব্যথা করতে পারে

    ওপরের লক্ষণগুলোর পাশাপাশি বয়সভেদে প্রস্রাবের ইনফেকশনের লক্ষণগুলোতে কিছুটা ভিন্নতা দেখা দিতে পারে।

    বয়স্ক ও প্রস্রাবের নল (ক্যাথেটার) দেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় পরিবর্তনগুলো হলো—

    • অস্বাভাবিক আচরণ
    • মানসিক বিভ্রান্তি অথবা ক্ষোভ
    • নতুন করে শরীরে কাঁপুনি অথবা ঝাঁকুনি হওয়া
    • প্রস্রাব করে জামাকাপড় নষ্ট করে ফেলা

    আবার বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সাধারণ লক্ষণগুলোর পাশাপাশি ভিন্ন ধরনের কিছু লক্ষণ দেখা দেয়।

    যেমন—

    • মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
    • ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করা বন্ধ করে দেওয়া
    • জ্বর আসা বা শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া
    • ঘন ঘন প্রস্রাব করা কিংবা হঠাৎ বিছানায় প্ৰস্রাব করতে শুরু করা
    • বমি হওয়া

    জ্বর আসা ও বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে

    ইউরিন ইনফেকশনের কারণ

    বেশিরভাগ ইউরিন ইনফেকশন এশেরিকিয়া কোলাই বা ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া কারণে হয়।

    সাধারণত মলদ্বার থেকে  বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া মূত্রতন্ত্রে প্রবেশ করে ইউরিন ইনফেকশন ঘটায়। প্রস্রাবের রাস্তা বা মূত্রনালী দিয়ে এসব ব্যাকটেরিয়া মূত্রতন্ত্রে প্রবেশ করে।

    মেয়েদের ইউরিন ইনফেকশন বেশি হবার কারণ

    মেয়েদের মূত্রনালী পুরুষদের মূত্রনালীর তুলনায় দৈর্ঘ্যে অনেক ছোটো।

    এ ছাড়া নারীদের মূত্রনালী পায়ুপথের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই পায়ুপথ থেকে মূত্রনালীতে প্রবেশ করে ইউরিন ইনফেকশন সৃষ্টি করে।

    যেসব কারণে ইউরিন ইনফেকশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়—

    ১. পর্যাপ্ত পানি পান না করলে

    ২. মূত্রতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এমন রোগ হলে। যেমন: কিডনিতে পাথর হওয়া

    ৩. যৌনাঙ্গ পরিষ্কার ও শুকনো না রাখলে

    ৪. যেকোনো কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে। যেমন—

    ৫. টাইপ ২ ডায়াবেটিস অথবা এইচআইভি আক্রান্ত হলে

    ৬. কেমোথেরাপি অথবা দীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ সেবনকালে

    ৭. গর্ভবতী হলে

    ৮. মূত্রথলি পুরোপুরি খালি করতে বাধা সৃষ্টি করে এমন রোগ হলে। যেমন: পুরুষদের ‘প্রস্টেট গ্রন্থি’ বড় হয়ে যাওয়া, শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা স্নায়ুতন্ত্রের কোনো অসুখ

    ৯. মাসিক চিরতরে বন্ধ হয়ে গেলে। এই ঘটনাকে ‘মেনোপজ’ বলা হয়। এক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন নামক হরমোন কমে যাওয়ায় সংক্ৰমণ প্রবণতা বেড়ে যায়

    ১০. যৌন সহবাস করলে

    ১১. প্রস্রাবের রাস্তায় নল বা ক্যাথেটার পরানো থাকলে

    ১২. ইতঃপূর্বে প্রস্রাবের ইনফেকশন হয়ে থাকলে

    উল্লেখ্য, ইউরিন ইনফেকশন ছোঁয়াচে নয়। এটি যৌন সহবাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। কিন্তু সহবাসের সময়ে ঘর্ষণের কারণে জীবাণু মূত্রনালীতে প্রবেশ করতে পারে কিংবা ইতোমধ্যে মূত্রনালীতে থাকা জীবাণু আরও ভেতরে চলে যেতে পারে।

    ইউরিন ইনফেকশনের প্রকারভেদ

    1. Urethritis (ইউরেথ্রাইটিস):

    ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করলে মূত্রনালীর সংক্রমণ হয়। যখন এটি মূত্রনালীতে ছড়িয়ে পড়ে তখন তাকে ইউরেথ্রাইটিস বলে।

    1. Cystitis (সিসটাইটিস):

    ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করার পর যদি  মূত্রনালির নিম্নাংশ আক্রান্ত হয়, তখন তাকে ব্লাডার /মূত্রথলির সংক্রমণ বা সিস্টাইটিস বলে

    1. Pyelonephritis (পায়েলোনেফ্রাইটিস):

    ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করার পর যদি  মূত্রনালির ঊর্ধ্বাংশ আক্রান্ত হয়, তখন তাকে কিডনির সংক্রমণ বা পায়েলোনেফ্রাইটিস বলে।

    ইউরিন ইনফেকশনের ঘরোয়া চিকিৎসা

    ইউরিন ইনফেকশন তেমন গুরুতর না হলে রোগী কয়েকদিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠে। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি ঘরোয়াভাবে নিচের উপদেশগুলো মেনে চলতে পারেন—

    • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রচুর পানি পান করতে হবে। এমন পরিমাণে পানি পান করা উচিত যেন নিয়মিত স্বচ্ছ ও হালকা হলুদ রঙের প্রস্রাব হয়। নিয়মিত প্রস্রাব করলে সেটি শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া বের করে দিতে সাহায্য করে।
    • পেটে, পিঠে ও দুই উরুর মাঝে গরম সেঁক নেওয়া যায়। এটি অস্বস্তি উপশমে সাহায্য করতে পারে।
    • সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত যৌন সহবাস থেকে বিরত থাকা ভালো। ইউরিন ইনফেকশন ছোঁয়াচে না হলেও ইনফেকশন থাকা অবস্থায় যৌন সহবাস অস্বস্তিকর হতে পারে।
    • কিডনি রোগ, হৃদরোগ অথবা প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মতো বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে দৈনিক কতটুকু পানি পান করা নিরাপদ সেটি ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।

    ইউরিন ইনফেকশনের জটিলতা

    • ইউরিনের ইনফেকশনের চিকিৎসা না করা হলে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। ইনফেকশন কিডনিতে পৌঁছে গেলে কিডনির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
    • এ ছাড়া ইনফেকশন রক্তে ছড়িয়ে পড়লে ‘সেপসিস’ নামক মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে।
    • পুরুষদের ক্ষেত্রে বারবার সংক্ৰমণ হলে মূত্রনালি সরু হয়ে যেতে পারে। এতে মূত্রতন্ত্রের জটিলতার পাশাপাশি যৌন ও প্রজনন সংক্রান্ত সমস্যা হতে পারে।
    • গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে কিডনির ইনফেকশনসহ নানান জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন: জন্মের সময়ে শিশুর ওজন কম হওয়া ও নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বাচ্চা প্রসব (প্রিম্যাচুর বেবি) হয়ে যাওয়া।

    ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধ

    প্রস্রাবের ইনফেকশন সবসময় প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও কিছু নিয়ম মেনে চললে ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনা যায়।

    যা করবেন

    • টয়লেটে টিস্যু ব্যবহারের সময়ে সামনে থেকে পেছনে পরিষ্কার করুন।
    • যৌনাঙ্গ শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন।
    • প্রচুর পানি পান করুন। দৈনিক কমপক্ষে ছয় থেকে আট গ্লাস পানি পান করা উচিত।
    • বাথটাব বা পুকুরে গোসল করার পরিবর্তে শাওয়ার কিংবা বালতির সাহায্যে গোসল করুন।
    • প্রস্রাব করার সময়ে মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি করার চেষ্টা করুন।
    • সহবাসের আগে ও পরে যৌনাঙ্গ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
    • সহবাসের পরে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রস্রাব করুন।
    • সুতি কাপড়ের ঢিলেঢালা অন্তর্বাস ব্যবহার করুন।
    • এক থেকে তিন বছর বয়সী বাচ্চার ডায়পার বা কাপড়ের ন্যাপি নিয়মিত পরিবর্তন করুন।

    যা করবেন না

    • প্রস্রাবের বেগ আসলে তা ধরে রাখবেন না।
    • প্রস্রাব করার সময়ে তাড়াহুড়ো করবেন না।
    • যৌনাঙ্গে সুগন্ধি সাবান অথবা ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করবেন না।
    • সিনথেটিক কাপড় (যেমন: নাইলন) এর তৈরি আঁটসাঁট অন্তর্বাস ব্যবহার করবেন না।
    • আঁটসাঁট পায়জামা পরবেন না।
    • চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় খাবেন না। এগুলো জীবাণু বেড়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে।
    • যেসব কনডম অথবা ডায়াফ্রামে শুক্রাণু ধ্বংস করার পিচ্ছিলকারক থাকে সেগুলো ব্যবহার করবেন না। এর পরিবর্তে ভিন্ন ধরনের কনডম ও লুব্রিকেন্ট কিংবা জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করুন।

    লেখকঃ

    ডাঃ মুরাদ আলী

    এমডি (হোমিওপ্যাথি), ভারত।

    লেকচারার ইন মেডিসিন (এস.এইচ.এম.সি.এইচ)

    ফাউন্ডার: ইনফো হোমিও।

    মোবাইল: ০১৭৩৩-১৯৩০৬১

  • পূর্বাশা পরিবহন থেকে সোনার বার আটক

    পূর্বাশা পরিবহন থেকে সোনার বার আটক

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পূর্বাশা পরিবহন থেকে আজ দুপুরে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে পৌঁছানোর পর ১৮টি সোনার বারসহ দুই জনকে আটক করেছে বিজিবি। উদ্ধারকৃত সোনার বারের মোট ওজন ২ কেজি ৪১১ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।

    আটককৃত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পূর্বাশা পরিবহন তল্লাশি চালিয়ে এই সোনার বার উদ্ধার করা হয়।

    এ বিষয়ে বিজিবি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

     

  • বাউফলের স্কুল শিক্ষক আলতাফ হোসেনকে হত্যার হুমকি: আইনজীবীর বিরুদ্ধে থানায় ডায়রি

    বাউফলের স্কুল শিক্ষক আলতাফ হোসেনকে হত্যার হুমকি: আইনজীবীর বিরুদ্ধে থানায় ডায়রি

     সাইফুল ইসলাম, পটুয়াখালী প্রতিনিধি

    পটুয়াখালীর বাউফলের ইন্দ্রোকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইসলাম ধর্ম বিষয়ের শিক্ষক আলতাফ হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালী জর্জ কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ও আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে। একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। আতঙ্কিত শিক্ষক আলতাফ হোসেন জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

    শিক্ষক আলতাফ হোসেন জানান, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনের জন্য প্রধান শিক্ষক একটি আবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠান। আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন সভাপতি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তিনি আবেদন করেননি, তাই তার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আলতাফ হোসেনকে ফোনে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হত্যার হুমকি দেন।

    ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ডে শোনা যায়, আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন শিক্ষক আলতাফ হোসেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোরে কোপাইলে কি হইবে? শালার পো শালা, তোরে ধইররা কল্লাডা ছিইররা ফালামু। তুই বাড়ির ধারের ছোট ভাই, সেইভাবে থাক। তোরে শনিতে লাড়েচাড়ে, চাকরি করবি নাকি কেনু খাবি।’ এছাড়া, তিনি আরও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

    এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘অডিও ভাইরাল হওয়া ভালো, এতে অসুবিধা নেই। সে গালমন্দ পায় দেখে তাকে গালাগাল করেছি। সে আমার ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে বিমার জন্য ৩ লাখ টাকা নিয়েছে, সেটি ফেরত দেয়নি। তাই রাগের মাথায় এসব বলেছি।’

    সভাপতি নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখন সভাপতি না হতে পারলে ছয় মাস পর হবো। দল ক্ষমতায় আসলে ডিসির অনুমতিও লাগবে না। এজন্য গালাগাল করাটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। মূলত টাকার বিষয়েই এই কথা হয়েছে।’

    এ বিষয়ে ইন্দ্রোকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘শুধু আলতাফ স্যারই নন, জাহাঙ্গীর হোসেন আমাকে নিয়েও কটূক্তি করেছেন এবং হুমকি দিয়েছেন। তবে আমরা কিছু করতে পারি না, কারণ সভাপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নেবেন।’

    বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষক আলতাফ হোসেন থানায় জিডি করেছেন। আমরা জিডির কপি আদালতে পাঠাবো, আদালত অনুমতি দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

     

  • রোজা না রেখে প্রকাশ্যে খাওয়া-দাওয়া, নাইজেরিয়ায় আটক বহু মুসলিম

    রোজা না রেখে প্রকাশ্যে খাওয়া-দাওয়া, নাইজেরিয়ায় আটক বহু মুসলিম

    বিবিসিঃবছর ঘুরে আবারও শুরু হয়েছে রহমত, মাগফেরাত আর নাজাতের মাস মাহে রমজান। রোজা ইসলামের মৌলিক ইবাদতের মধ্যে অন্যতম এবং এই কারণে সারা বিশ্বের মুসলিমরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে রোজা পালন করে থাকেন।

    এমন অবস্থায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় পবিত্র রমজান মাসে রোজা না রাখা মুসলমানদের গ্রেপ্তার করছে দেশটির ইসলামিক পুলিশ। মূলত আফ্রিকার এই দেশটির কানো প্রদেশে রোজার মাসে দিনের বেলা জনসমক্ষে খাবার খেতে দেখার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    এছাড়া খাবার বিক্রির দায়েও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

    সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পবিত্র রমজান মাসে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোজা রাখার কথা থাকলেও যেসব মুসলমানকে প্রকাশ্যে খাবার খেতে ও পানীয় পান করতে দেখা গেছে এবং সেইসাথে যারা রমজানের শুরুতে খাবার বিক্রি করছে তাদের গ্রেপ্তার করেছে উত্তর নাইজেরিয়ার কানো প্রদেশের ইসলামিক পুলিশ।

    হিসবাহের ডেপুটি কমান্ডার মুজাহিদ আমিনুদিন বিবিসিকে বলেছেন, রোজা না রাখার জন্য ২০ জনকে এবং খাবার বিক্রির জন্য আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান পুরো মাস জুড়ে চলবে।

    তিনি বলেন, “এটি গুরুত্বপূর্ণ যে— আমরা অমুসলিমদের বিষয়ে এই ধরনের কোনও চিন্তা করছি না। রমজানের প্রতি কোনও ‘অসম্মান’ ক্ষমা করা হবে না।”

    তিনি বলেন, “এমন একটি পবিত্র মাসে রোজা রাখার কথা থাকলেও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের প্রকাশ্যে খাওয়া-দাওয়া করতে দেখা যাওয়াটা হৃদয়বিদারক। আমরা এমন কাজ ক্ষমা করব না এবং সে কারণেই আমরা (অভিযুক্তদের) গ্রেপ্তার করতে বাইরে বেরিয়েছি।”

    তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ২৫ জনকে শরিয়াহ আদালতে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে।

    হিসবাহের এই কর্মকর্তা বলেছেন, রোজার সময়ে লোকেদের যখন প্রকাশ্যে খেতে দেখা যায় তখন মাঝে মাঝে আমরা এই বিষয়ে গোপন তথ্য পাই। তার ভাষায়, “আমাদের কাছে এমন লোকদের কাছ থেকে ফোন আসে যারা জনসমক্ষে লোকেদের খাওয়া দেখে ক্ষুব্ধ হয় এবং আমরা গ্রেপ্তারের জন্য সেই এলাকায় দ্রুত ছুটে যাই।”

    এমনকি “অনুপযুক্তভাবে চুল কাটা” এবং হাঁটুর ওপরে শর্টস পরতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিদেরও গ্রেপ্তারের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন হিসবাহের ডেপুটি কমান্ডার মুজাহিদ আমিনুদিন।

    এর আগে গত বছরও রোজা না রাখার জন্য মুসলিমদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের রোজা রাখার প্রতিশ্রুতি আদায় করে মুক্তি দেওয়া হয়। এমনকি তাদের কয়েকজনের আত্মীয় বা অভিভাবকদের ডেকে তাদের রোজা রাখার বিষয়ে নজরদারি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

    তবে এই বছর গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মুখোমুখি হতে হবে। মাত্র দুই দশক আগে নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের ১২টি প্রদেশে ধর্মনিরপেক্ষ আইনের পাশাপাশি শরিয়াহ বা ইসলামী আইন কার্যকর করা হয় যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে।

    তবে এই প্রদেশগুলোতে বসবাসকারী খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের জন্য শরিয়াহ আইন প্রযোজ্য নয়।

  • বন্দর থেকে নির্ধারিত সময়ে পণ্য না নিলে তিনগুণ জরিমানা

    বন্দর থেকে নির্ধারিত সময়ে পণ্য না নিলে তিনগুণ জরিমানা

    কোনো আমদানিকারক বন্দর থেকে নির্ধারিত সময়ে পণ্য না নিলে তিনগুণ জরিমানা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

    মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।বাজারে ভোজ্যতেলের কিছুটা সংকট থাকলেও শাক-সবজির দাম বাড়েনি বলে এসময় জানান তিনি।

    উপদেষ্টা বলেন, বাজারে ভোজ্যতেলের কিছুটা সংকট রয়েছে। তবে শাক-সবজির দাম বাড়েনি। দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিত্যপণ্য আমদানি করা হয়েছে।সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কোনো আমদানিকারক বন্দর থেকে নির্ধারিত সময়ে পণ্য না নিলে তিনগুণ জরিমানা দিতে হবে।

    উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীতে ডুবে যাওয়া এম ভি আল-বাখেরা সারবাহী নৌযান দুর্ঘটনায় নিহত ৬ শ্রমিকের পরিবারকে সচিবালয়ে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে দুই লাখ ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নোয়াপাড়া গ্রুপের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকার চেক তুলে দেন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।
  • রিকশাচালক থেকে সফল মাশরুম চাষী,বছরে আয় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা

    রিকশাচালক থেকে সফল মাশরুম চাষী,বছরে আয় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা

    বাসস : আরও লেখাপড়ার সাধ ছিল। কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি। এসএসসির পরপরই ধরতে হয় পরিবারের হাল। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে রিকশা চালানো শুরু করেন মোহাম্মদ হাসিব (২৬)। রিকশা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করলেও মনের বাসনা পূরণ হচ্ছিল না তার।

    রিকশা চালাতে চালাতেই ভাবতে থাকেন ভিন্নধর্মী কাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। কিন্তু কি করবেন? বন্ধুদের সাথে আলাপ করেন। বন্ধুদের পরামর্শেই পেয়ে যান দিন বদলের চাবি। এক বন্ধুর পরামর্শে মাত্র এক হাজার টাকার মাশরুমের স্পন কিনে শুরু করেন মাশরুম চাষ৷ সেই শুরু । প্রথমে সফল হতে না পারলেও আন্তরিক চেষ্টা আর পরিশ্রমের ফলে একসময় সব বাঁধাই কাটিয়ে উঠেছেন। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি হাসিবকে। বর্তমানে তিনি মাশরুম চাষ করেই বছরে ৭-৮ লক্ষ টাকা আয় করছেন।

    পাশাপাশি অন্যদের মাশরুম চাষের পরামর্শ দিয়ে গড়ে তুলছেন নতুন উদ্যোক্তা।

    জেলার বন্দর উপজেলায় তিনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসান ও শিল্পী বেগম দম্পতির পুত্র মোহাম্মদ হাসিব। দুই ভাইয়ের মধ্যে হাসিব বড়। ছোট ভাই মোহাম্মদ রিফাত (১৪)।

    হাসিবের সাথে আলাপকালে জানা যায় তার সাফল্য ও চ্যালেঞ্জের গল্প। খুব সহজেই মাশরুম চাষে সাফল্য পাননি তিনি। এজন্য তাকে অনেক পরিশ্রম ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়েছে। পাশাপাশি সঠিকভাবে মাশরুম চাষের জন্য তিনি প্রশিক্ষণও নিয়েছেন।

    বাসসের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, রিকশা চালাতে ভালো লাগত না। ভিন্ন কিছু করার ইচ্ছা ছিল। ২০২০ সালে আমার এক বন্ধু আমাকে মাশরুম চাষ করার কথা বলে। কিন্তু কিভাবে কি করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। ঘন্টার পর ঘন্টা ইউটিউবে মাশরুম চাষ সংক্রান্ত ভিডিও দেখেছি। স্পন বানানোর বিষয়গুলো ভালো করে বুঝতে পারতাম না। কিছু বিষয় বুঝলেও মনে রাখতে পারতাম না। পরে সাভারের মাশরুম উন্নয়ন  ইন্সটিটিউট থেকে মাশরুমের স্পন কিনে আনি। মানুষের কাছে বিক্রি করার আগে নিজে খাই। খেয়ে ভালো লাগে। পরে প্রতিবেশীকে, নিজের আত্মীয়-স্বজনকে ফ্রীতেই মাশরুম খেতে দেই। সবাইকে মাশরুমের গুণাগুণ জানাতে থাকি। কিছুদিন পর অল্প অল্প বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু ঢাকা থেকে স্পন এনে বিক্রি করে আমার কোন লাভ থাকত না। পরে সাভার মাশরুম ইন্সটিটিউট থেকে ট্রেনিং নিয়ে নিজেই শুরু করি মাশরুমের স্পন উৎপাদন। প্রথমবার চেষ্টায় আমার সব স্পন নষ্ট হয়ে যায়। পরে কয়েকবার চেষ্টা করে করে এখন আমি নিজেই মাশরুমের স্পন তৈরি করতে পারি।

    মাশরুমের পাশাপাশি স্পন বিক্রি করছি নিয়মিত। এছাড়াও মাশরুমের তৈরি খাবার বিক্রিরও পরিকল্পনা রয়েছে।

    হাসিব জানান, মাশরুমের স্পন প্যাকেট থেকে ২৫ – ৩০ দিনের মধ্যে ফলন আসে। ১ কেজির একটি স্পন প্যাকেট থেকে প্রায় ১ কেজি মাশরুম পাওয়া যায়। তিনি প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কেজি মাশরুম বিক্রি করেন। প্রতি কেজি কাঁচা মাশরুমে ৮০-৯০ টাকা খরচ করে  ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করা যায়। এছাড়া শুকানো মাশরুম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫’শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে থাকে। ৩২ টাকা খরচে একটি স্পন প্যাকেট  ৪০ টাকা মূল্যে বিক্রি করেন। মাশরুম চাষ করে বছরে সাত থেকে আট লক্ষ টাকা উপার্জন করা যায়। হাসিব বলেন, প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা পেলে এ বছর দ্বিগুণ আয় করতে পারবো।

    হাসিবের গ্রাম তিনগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাসিবের নিজস্ব জায়গা জমি নেই। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে দুই কক্ষের একটি টিনশেড ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। এক কক্ষে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন, অন্যটিকে বানিয়েছেন মাশরুম চাষের ল্যাবরেটরি কক্ষ। এখানেই তিনি মাশরুমের স্পন (বীজ) উৎপাদন করেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি জমি ইজারা নিয়ে দুটি টিনের কক্ষে মাশরুম চাষ করছেন হাসিব। মাশরুমের মৌসুমে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মী দিয়ে কাজ করলেও মৌসুম ছাড়া স্ত্রী-সন্তানদের নিয়েই এই কাজ করেন তিনি।

    হাসিবের মা শিল্পী বেগম বাসসকে বলেন, ‘আমার ছেলের বউ, নাতি-নাতীন সবাই মিলে মাশরুমের কাজে ছেলেকে সহয়তা করে। বউ দিনে সংসারের সব কাজ শেষ করে আবার মাশরুমের কাজ শুরু করে। প্রায় প্রতিদিন রাত একটা-দেড়টা পর্যন্ত কাজ করে।’

    হাসিবের এই কাজে তাকে সহয়তা করেন তার স্ত্রী সাদিয়া। তারা নিজেদের মধ্যে কাজের দায়িত্ব  ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। হাসিবের স্ত্রী সাদিয়া বলেন,  ‘আমার স্বামী যেভাবে শিখায় দিছে সেভাবেই কাজ করি। আমি পরিশ্রম করি যেন তার স্বপ্ন পূরণ হয়। তার স্বপ্ন, মাশরুমের মতো পুষ্টিকর খাবার সকলের খাবার তালিকায় থাকবে। মাশরুমকে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতায় আনার চেষ্টায় তিনি কাজ করছেন।’

    হাসিবের মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা তাবাসসুম। নিজের মেয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হাসিব বলেন, আমার মেয়ে আমার কাজে অনেক সহায়তা করে। সকালে মক্তব থেকে আরবি পড়ে এসে কাজ শুরু করে। ১১টার দিকে স্কুলে যায়। ঘড়ির দিকে তাকায় আর কাজ করে। স্কুলে যাওয়ার আগে চেষ্টা করে তার কাজগুলো সব গুছিয়ে শেষ করার। মাঝে মধ্যে শেষ না হলে সেটা তার মা করে দেয়। বিকেলে স্কুল থেকে এসেও কাজ থাকলে খেলতে যায়না। ওর মায়ের সাথে সহায়তা করে। আমার সন্তান এবং স্ত্রী সহায়তা না করলে আমি একা সফল হতে পারতাম না।

    নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে হাসিব বলেন, আমি বিসমিল্লাহ মাশরুম সেন্টার নামে একটি পেজ খুলেছি (https://www.facebook.com/share/15jnLrdfvW/। সেটার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় মাশরুম বিক্রি করি। তারা আমার রিপিট ক্রেতা হয়ে গেছে। কিন্তু আমি এখানেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। আমার কাছ থেকে অনেক উদ্যোক্তা মাশরুমের স্পন নিয়ে বাজারে মাশরুম বিক্রি করে সফল হয়েছেন। কিন্তু তারা নিজেরাও স্পন তৈরি করতে আগ্রহী।  আমি নিজে যতটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, আমি চাই না অন্য কেও এগুলোর সম্মুখীন হোক। তাই মাশরুম উৎপাদন বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ সেন্টার খুলতে চাই আমি। পাশাপাশি মাশরুমের একটা ফ্যাক্টরি দিতে চাই, যেন সকলেই পুষ্টিকর মাশরুম কিনতে পারেন।

    বন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার তাসলিমা আক্তার এ বিষয়ে বলেন, মাশরুম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর উপজেলার ২ জন মাশরুম চাষিকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাসিবকে মাশরুম চাষে দুই লক্ষ সত্তর হাজার টাকা মূল্যের চাষঘর তৈরি করে দেওয়াসহ অন্যান্য সহায়তা  করা হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সেলিমা খাতুন বলেন, মাশরুমের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ থাকায় সারা দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবকদের মাঝে মাশরুম চাষে আগ্রহ বাড়ছে। মাশরুম চাষ বেকার সমস্যার সমাধান ও বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    মাশরুম চাষে কোনো আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না। চাষের জমি না থাকলেও বসত ঘরের পাশে অব্যবহৃত জায়গা ও ঘরের বারান্দা ব্যবহার করে অধিক পরিমাণ মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব। মাশরুম বীজ উৎপাদনের জন্য যেসব কাঁচামাল প্রয়োজন তা আমাদের দেশে সহজলভ্য ও সস্তা। এজন্য বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষে আমরা চাষিদের উৎসাহিত ও আর্থিক সহযোগিতা করছি। এই ধারাবাহিকতায় মাশরুম চাষি হাসিবকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে

  • নড়াইলে ২,৯০৩ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

    বাসস: জেলার তিন উপজেলায় ২ হাজার ৯০৩ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

    চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির চাষাবাদ শুরু হবে বলে জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি নিপু মজুমদার। উচ্ছে, করলা, বরবটি, ধুন্দল, ওলকচু, বেগুন, সবুজ শাক, চিচিংগা, শসা, লাউ, কুমড়াসহ বিভিন্ন ধরনের গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি আবাদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষক-কৃষাণীরা।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি খরিপ-১ মওসুমে জেলার ৩ উপজেলায় মোট ২ হাজার ৯০৩ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

    এর মধ্যে জেলা সদর উপজেলায় ১ হাজার ৩৭৮ হেক্টর জমিতে, লোহাগড়া উপজেলায় ৭৫৫ হেক্টর জমিতে এবং কালিয়া উপজেলায় ৭৭০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন উপজেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে  ৫৮ হাজার ৬৬৯ মেট্রিক টন।

    নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জসীম উদ্দীন জানান, জেলার ৩ উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির চাহিদা মেটাতে চাষ উপযোগী জমিতে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষীদের সাথে যোগাযোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। অল্প জমিতে অধিক সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে চাষীদের পরামর্শ দিচ্ছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা।আশা করা যাচ্ছে গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। ভালোমানের বীজ সরবরাহ, সেচ, সার ও কীটনাশকের কোনো ঘাটতি পড়বে না।

    কৃষকরা গ্রীস্মকালীন সবজি চাষে অধিক মনোযোগী হবেন বলে তিনি জানান।

  • বাবা চালাচ্ছিলেন ট্রলি, চাকার নিচে পড়ে শিশুসন্তানের মৃত্যু

     নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের লালপুরে বাবার চালিত ট্রলির নিচে পড়ে মুরসালিন হোসেন (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার কাজিপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মুরসালিন হোসেন ওই গ্রামের পিন্টু মণ্ডলের ছেলে। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে মুরসালিন ট্রলির শব্দ শুনে বাবাকে দেখার জন্য বাড়ির সামনে যায়। এ সময় ট্রলির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। আজ মঙ্গলবার সকালে জানাজা শেষে শিশুটিকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

  • ইউক্রেনকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করে কী চাইছেন ট্রাম্প

    ইউক্রেনকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করে কী চাইছেন ট্রাম্প

    বিবিসিঃইউক্রেনকে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ট্রাম্প কী অর্জন করতে চাচ্ছেন?

    বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়, ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে, তাঁকে ছাড় দিতে বাধ্য করতেই মার্কিন সামরিক সহযোগিতা বন্ধের বিস্ময়কর সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন ট্রাম্প।

    তিন বছর আগে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের সামরিক সহায়তার সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। এখন ট্রাম্প ইউক্রেনকে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করে দিলেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা সহায়তা বন্ধ রাখছেন, সহায়তার বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। তাঁরা দেখছেন, বিষয়টি একটি সমাধানের (ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে) ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে কি না।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি শান্তির প্রতি মনোনিবেশ করেছেন। তাঁরা চান, যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারেরাও এই লক্ষ্যের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, যতক্ষণ না ট্রাম্প মনে করেন যে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রতি অঙ্গীকারের সদিচ্ছা ইউক্রেন দেখাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সহায়তা বন্ধ থাকবে।

    এদিকে ইউক্রেনে শান্তিচুক্তির জন্য জেলেনস্কিকে পদত্যাগ করতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালৎস। তিনি বলেন, ইউক্রেনের একজন নেতা প্রয়োজন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, এই যুদ্ধ থামাতে পারবেন।

    রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধের সমাপ্তি ‘খুব, খুব দূরে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন জেলেনস্কি। তাঁর এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। এই সমালোচনার কয়েক ঘণ্টার মাথায় তিনি ইউক্রেনকে মার্কিন সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করলেন।

    এর আগে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত খনিজ চুক্তি ভেস্তে যায়।

    যুক্তরাষ্ট্র কী চায়, হোয়াইট হাউসের ঘটনায় ট্রাম্পের কাছে জেলেনস্কি দুঃখ প্রকাশ করুক? কোনো ধরনের আপত্তি ছাড়াই তিনি খনিজ চুক্তি গ্রহণ করুন?

    ট্রাম্প প্রশাসন তা-ই চায় বলে মনে হচ্ছে। ইতিমধ্যে তারা হোয়াইট হাউসের ঘটনার জন্য জেলেনস্কিকে দোষারোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে, ট্রাম্পকে যথেষ্ট ধন্যবাদ না বলার অভিযোগে মিথ্যাভাবে জেলেনস্কিকে অভিযুক্ত করেছে ওয়াশিংটন।

    তবে জেলেনস্কি ইতিমধ্যে বলে দিয়েছেন, তিনি দুঃখ প্রকাশ করবেন না। ক্ষমা চাইবেন না। ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া খনিজ চুক্তি করবেন না।চলতি মাসেই জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার বিনিময়ে পদত্যাগ করতে রাজি থাকার কথা বলেছিলেন তিনি।তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মস্কোর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সংগতি রেখে কিয়েভের এই জোটে যোগদানের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

  • মইনুদ্দিন হত্যা বিচার দাবিতে মানববন্ধন

    মইনুদ্দিন হত্যা বিচার দাবিতে মানববন্ধন

    কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার মিরপুর থানাধীন ছাতিয়ান ইউনিয়নের ধলসা গ্রামে মইনুদ্দিন হত্যা মামলার দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    গত সোমবার সকাল ১১টায় ধলসা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে নিহত মইনুদ্দিনের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেন। তারা দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “নিরীহ মইনুদ্দিনকে নির্মমভাবে হত্যার পরও এখন পর্যন্ত মূল অপরাধীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আমরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।”

    স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু বিচারের আশায় রয়েছেন।