সিলেটে অনুষ্ঠিত কৃষি বিষয়ক একটি কর্মশালায় বক্তারা বলেছেন, “শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে কৃষি কাজ করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা, ফলে তারা কৃষিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।” তাই কৃষকদের রক্ষায় প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষিতে মনোনিবেশ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার সিলেটে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় আঞ্চলিক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সিলেটের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সিলেট অঞ্চল।
কর্মশালায় বক্তারা আরও বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে কৃষি শ্রমিকের সংকট বেড়েই চলছে। এর অন্যতম কারণ, বিদেশমুখী যুবসমাজ যারা কাজের সন্ধানে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলে যাচ্ছেন।”
তারা আরও বলেন, “শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। উৎপাদন খরচ বাড়লে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং এতে কৃষিতে আগ্রহ কমে যায়।”
বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, উৎপাদন কমে গেলে বাংলাদেশে বিশাল জনগণের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা ব্যাহত হবে। এ জন্য তারা কম খরচে এবং কম পরিশ্রমে বেশি উৎপাদন করার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিতে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।
তারা বলেন, “কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সময়োপযোগী একটি পদ্ধতি, যা সময় এবং আর্থিক ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে। সরকার কৃষি যন্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে কৃষকদের জন্য বিশেষ ভর্তুকির ব্যবস্থা রেখেছে।”
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ডিএই সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ কাজী মজিবুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিএই খামার বাড়ী ঢাকার সরেজমিন উইং-এর পরিচালক কৃষিবিদ সরকার শফি উদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএই সিলেট-এর উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ খয়ের উদ্দিন মোল্লা, ডিএই সুনামগঞ্জের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম, আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার জালাল উদ্দিন সরকার, বারি, আকবরপুর, মৌলভীবাজারের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ডিএই সিলেট অঞ্চলের কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানদের প্রতিনিধি, এবং যন্ত্র ব্যবহারকারী কৃষকরা।