Category: সিলেট বিভাগ

  • সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় বিয়ের আগের দিন যুবকের মৃত্যু

    সিলেট প্রতিনিধি: বিয়ের আনন্দ বদলে গেল শোকে! বিয়ের মাত্র একদিন আগে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সিলেটের তরুণ মো: শাহ আলম। আগামীকাল, ২১শে ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার), তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই অকাল মৃত্যু কেড়ে নিল তার প্রাণ।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলার একটি ব্যস্ত সড়কে দ্রুতগামী একটি যানবাহন তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    শাহ আলমের অকাল মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিয়ের ঘর ভরা আনন্দের পরিবর্তে এখন শুধুই কান্নার সুর।

    সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। সবাইকে অনুরোধ, গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকুন এবং রাস্তা পারাপারে সাবধানতা অবলম্বন করুন। একটি ছোট ভুলের কারণে অকালে ঝরে যেতে পারে আরও একটি তাজা প্রাণ।

  • সিলেট বিশ্বনাথে হাইব্রিড কাজলা জাতের বেগুন চাষে লাভবান চাষী

    সিলেট বিশ্বনাথে হাইব্রিড কাজলা জাতের বেগুন চাষে লাভবান চাষী

    মোঃ শহিদুল ইসলাম, সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার রায়পুর গ্রাম ও পাশাপাশি অনেক গ্রামে তাল বেগুন বা কেজি বেগুন নামে লোকাল ভাষায় বলে, বড় সাইজের বেগুন চাষ হয়ে থাকে।

    তবে, স্থানীয় যে জাত টি চাষ করা হয়ে থাকে, এই জাতটির ফলন দেরিতে পাওয়া যায়, রোগ-প্রতিরোধ অনেক কম, ফলন ভালো হলেও গাছ মারা যায় অনেক বেশি এবং পোকার আক্রমন খুব মারাত্নক। এই সমস্যা সমাধানে কৃষি অফিস থেকে কোন প্রকার ভালো পরামর্শ পান নাই। এলাকার বেশির ভাগ জমি পরিদর্শনে দেখা যায়, স্থানীয় জাত যে সকল চাষীগন করেছেন, তাদের খরচের টাকা উঠবে না, তাঁদের অনেক লোকসান হবে।

    পাশাপাশি উক্ত এলাকার একজন চাষী মো: নজির মিয়ার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, ইউনাইটেড সিডের মার্কেটিং অফিসার মো: আব্দুস সাত্তারের সাথে পরিচয় হয় এবং তাঁর পরামর্শে এই বছর তাঁর জমিতে ইউনাইটেড সিডের হাইব্রিড বড় সাইজের কাজলা জাতের বেগুন চাষ করেন। কাজলা জাতের বেগুন চাষ করে তিনি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছেন।

    কাজলা জাতের বেগুন টি চারা রোপনের মাত্র ৬৫-৭০ দিনে ফসল তোলা যায়, গড় ওজন ৮০০গ্রাম ১২০০গ্রাম ওজন হয়ে থাকে, খেতে সুস্বাদু ও মজাদার, ভিতরে বীজের পরিমান কম থাকে, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি, একটা গাছে ১৫-২০ টি ফল তোলা যায়। তিনি এই জাতটি চাষ করে অনেক লাভবান হবেন- ইনশাআল্লাহ । তিনি কাজলা জাতের বেগুন চাষ করতে এলাকার চাষীদের উৎসাহ দিচ্ছেন।। প্রথম তোলায় তিনি ৫০-৬০টাকা কেজি দরে পাইকারী বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বাজারে ৩০-৪০ টাকা কেজিতে পাইকারী বিক্রি করতে পারতেছেন।

    সামনে রমজানে সময় কেজি বা তাল বেগুনের চপ বা বেগুনীর চাহিদা অনেক বেশি থাকে। খেতে সুস্বাদু ও সিলেট জনপ্রিয় বড় বেগুন বেশি চলে। বেগুন মানব দেহের অনেক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বাড়ায় ও ভিটামিন চাহিদা পুরন করে। সামনের রজমানের চাহিদা অনুসারে আশা করা যায় তাঁর এই জমি থেকে তিনি ২-২.৫ লক্ষ টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারবেন।।।। তাঁর খরচ বাদে প্রায় ১-১.৫ লক্ষ লাভ করতে পারবেন। কাজলা জাতের বেগুন চাষ করে তিনি লাভবান, ভালো বীজ দেয়ার জন্য তিনি ইউনাইটেড সীড কোম্পানী কে ধন্যবাদ প্রদান করেন।

  • ইউনাইটেড সীড কোম্পানির আয়োজনে হাইব্রিড টমেটো জিকো-১০ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

    ইউনাইটেড সীড কোম্পানির আয়োজনে হাইব্রিড টমেটো জিকো-১০ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

     সিলেট প্রতিনিধি

    সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তুরুকবাগ গ্রামে ইউনাইটেড সীড কোম্পানি কর্তৃক আয়োজিত হাইব্রিড টমেটো জিকো-১০ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে এলাকার মডেল চাষীরা অংশগ্রহণ করেন এবং হাইব্রিড টমেটো জিকো-১০ এর বিভিন্ন গুণাগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন।

    এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টমেটো চাষী মো: রাফি হোসেন, যিনি তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “টমেটো চাষের বহু বছর পরেও আমি এর আগে কখনো এত ভালো জাতের টমেটো চাষ করিনি। জিকো-১০ জাতটি রোগ-বালাই, উইল্ট রোগের প্রতি অত্যন্ত সহনশীল, যা চাষীদের জন্য একটি বড় সুবিধা।” তিনি আরও বলেন, “এই জাতের টমেটো একটি গড় ওজন ১৫০-২০০ গ্রাম হয় এবং প্রতিটি গাছ থেকে ৮-১০ কেজি ফলন পাওয়া যায়, যা চাষীদের জন্য লাভজনক হবে।”

    এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা উক্ত জিকো-১০ জাতের টমেটো চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তারা আশা করছেন এই জাতটি তাদের কৃষিকাজে ব্যাপক সফলতা নিয়ে আসবে। ইউনাইটেড সীড কোম্পানির পক্ষ থেকে কৃষকদের উপদেশ দেয়া হয়, যাতে তারা এই নতুন এবং উন্নত জাতের টমেটো চাষ করে লাভবান হন।

    উল্লেখযোগ্য যে, জিকো-১০ জাতের টমেটো চাষে উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • কৃষি শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি: কৃষকদের কৃষিতে আগ্রহ হারানোর দুই প্রধান কারণ

    কৃষি শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি: কৃষকদের কৃষিতে আগ্রহ হারানোর দুই প্রধান কারণ

     

    সিলেটে অনুষ্ঠিত কৃষি বিষয়ক একটি কর্মশালায় বক্তারা বলেছেন, “শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে কৃষি কাজ করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা, ফলে তারা কৃষিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।” তাই কৃষকদের রক্ষায় প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষিতে মনোনিবেশ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    আজ বুধবার সিলেটে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় আঞ্চলিক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

    সিলেটের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সিলেট অঞ্চল।

    কর্মশালায় বক্তারা আরও বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে কৃষি শ্রমিকের সংকট বেড়েই চলছে। এর অন্যতম কারণ, বিদেশমুখী যুবসমাজ যারা কাজের সন্ধানে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলে যাচ্ছেন।”

    তারা আরও বলেন, “শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। উৎপাদন খরচ বাড়লে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং এতে কৃষিতে আগ্রহ কমে যায়।”

    বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, উৎপাদন কমে গেলে বাংলাদেশে বিশাল জনগণের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা ব্যাহত হবে। এ জন্য তারা কম খরচে এবং কম পরিশ্রমে বেশি উৎপাদন করার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিতে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।

    তারা বলেন, “কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সময়োপযোগী একটি পদ্ধতি, যা সময় এবং আর্থিক ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে। সরকার কৃষি যন্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে কৃষকদের জন্য বিশেষ ভর্তুকির ব্যবস্থা রেখেছে।”

    কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ডিএই সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ কাজী মজিবুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিএই খামার বাড়ী ঢাকার সরেজমিন উইং-এর পরিচালক কৃষিবিদ সরকার শফি উদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএই সিলেট-এর উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ খয়ের উদ্দিন মোল্লা, ডিএই সুনামগঞ্জের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম, আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার জালাল উদ্দিন সরকার, বারি, আকবরপুর, মৌলভীবাজারের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল।

    কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ডিএই সিলেট অঞ্চলের কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানদের প্রতিনিধি, এবং যন্ত্র ব্যবহারকারী কৃষকরা।