Category: দেশ

  • অভয়নগরে পোকার আক্রমণে বিপাকে কুমড়া চাষিরা, কী করবেন?

    অভয়নগরে পোকার আক্রমণে বিপাকে কুমড়া চাষিরা, কী করবেন?

    যশোরের অভয়নগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মিষ্টি_কুমড়া ক্ষেতে ভয়াবহ পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কৃষকরা অভিযোগ করছেন, কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাদা_মাছি ও ফল_ছিদ্রকারী_পোকা এর মূল কারণ।

    উপজেলা কৃষি_অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে ২৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ হয়েছে। কিন্তু সাদা মাছির আক্রমণে গাছের_পাতা হলুদ হয়ে কুঁচকে যাচ্ছে, ফলে ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি হচ্ছে এবং একপর্যায়ে পচন ধরে কুমড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

    গুয়াখোলা গ্রামের সুব্রত রায় বলেন, ‘মাচায় থাকা কুমড়া ভালো হয়েছে, কিন্তু মাটির ফল শুকিয়ে যাচ্ছে।’

    কোটা গ্রামের কামরুল ইসলাম জানান, ‘১ বিঘা জমিতে ভালো ফলন হলেও পচন_সমস্যায় বিক্রি করতে পারছি না।’

    এছাড়া চেঙ্গুটিয়া গ্রামের চাষিরাও একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন জানান, এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা অফিসে আসেননি। তবে দ্রুত পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন,

    ✔ বিচালি (খড়) ব্যবহার করুন

    ✔ সেক্সফেরোমেন_ফাঁদ বসান (১০ শতাংশে ৩টি)

    ✔ বায়োক্লিন (জৈব বালাইনাশক) স্প্রে করুন

  • বীরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ মহড়া

    বীরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ মহড়া

    রনজিৎ সরকার রাজ বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:  ভিডিও দেখুন
    চলমান মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বেড়েছে ছিসকে চুরি, কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া মটর বাইক ড্রাইভিং, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ।

    প্রতিরোধে থানা পুলিশও কঠোর অবস্থানে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চলছে ব্যপক তৎপরতা।

    অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত, পরিচালিত হচ্ছে নানান অত্যাধুনিক কার্যক্রম।

    ইতোমধ্যে পৌর শহরের বিভিন্ন বিপনি-বিতানের সামনে ও জনসমাগম এলাকায় পুলিশি অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের টহল, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি।

    পোষাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

    বিশেষ মহড়া চলমান, পাশাপাশি ১৫ মার্চ’২৫ শনিবার সন্ধ্যায় সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়কে পুলিশের এই বিশেষ টহল পরিলক্ষিত হয়।

    সম্প্রতি সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টি চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    সেই ধারাবাহিকতায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে মর্মে জানান এসআই জাহাঙ্গীর বাদশা রনি।

    টহল অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশ সদস্যদের পরনে ছিল নির্ধারিত ইউনিফর্ম, হেলমেট ও প্রতিরক্ষা মূলক গিয়ার।

    শতাধিক মোটর সাইকেল বহর নিয়ে তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে মহড়া প্রদর্শন ও তল্লাশি চালায়।

    পুলিশের সাথে স্বেচ্ছাসেবকরাও অংশ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করেন।

    এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল গফুর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

  • সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ৮ জন দগ্ধ

    সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ৮ জন দগ্ধ

    নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জে বাড়িতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ আটজন দগ্ধ হয়েছেন। আজ সোমবার ভোরে উপজেলার ২ নম্বর ঢাকেশ্বরী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের গুরুতর অবস্থায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

    দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা সাব্বির (১৬), মো. হান্নান (৪০), মো. সোহাগ (২৩), দেড় বছরের শিশু সুমাইয়া, রূপালি বেগম (২০), সামিয়া আক্তার (৯), জান্নাত (৩) ও লাকী বেগম (৩০)।

  • উন্নয়ন কাজে ইউপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করায় কচুয়ায় জামায়াত নেতৃবৃন্দদের প্রতিবাদ লিপি

    কচুয়া(বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ স্বৈরাচারের দোসর পলাতক ইউপি সদস্যের নামে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজ ও সই অব্যাহত রাখার প্রতিবাদ।বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী কচুয়া উপজেলার বাধাল ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদ লিপি কচুয়া উপজেলা প্রশাসন বরাবর প্রদান করা হয়েছে।

    ২৫ শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী ৭ নং বাধাল ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও রাজনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক এর যৌথ স্বাক্ষরিত এই প্রতিবাদ লিপি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গ্রহণ করেন।

    প্রতিবাদ লিপিতে উল্লেখ করা হয়, নতুন উন্নয়নমূলক কাজে পলাতক স্বৈরাচারীর দোসর ইউপি সদস্যের নামে ছাড়া কাজ করা অসম্ভব এবং ইউনিয়ন পরিষদের চারিত্রিক সনদে সই অব্যাহত রয়েছে এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী ৭ নং বাধাল ইউনিয়ন সমর্থন করে না।
    অতি শীঘ্রই স্বৈরাচারের দোসর থেকে ইউনিয়ন পরিষদকে রক্ষা এবং বিকল্পভাবে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজ করার দাবি জানানো হয়।আওয়ামীলীগ এর সকল মেম্বাররা এখনও ওপেনে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।এদেরকে বিচারের আওতায় আনা হোক ।সাধারণ জনগণের দাবি এরা অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি করছে।

  • সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় বিয়ের আগের দিন যুবকের মৃত্যু

    সিলেট প্রতিনিধি: বিয়ের আনন্দ বদলে গেল শোকে! বিয়ের মাত্র একদিন আগে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সিলেটের তরুণ মো: শাহ আলম। আগামীকাল, ২১শে ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার), তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই অকাল মৃত্যু কেড়ে নিল তার প্রাণ।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলার একটি ব্যস্ত সড়কে দ্রুতগামী একটি যানবাহন তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    শাহ আলমের অকাল মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিয়ের ঘর ভরা আনন্দের পরিবর্তে এখন শুধুই কান্নার সুর।

    সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। সবাইকে অনুরোধ, গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকুন এবং রাস্তা পারাপারে সাবধানতা অবলম্বন করুন। একটি ছোট ভুলের কারণে অকালে ঝরে যেতে পারে আরও একটি তাজা প্রাণ।

  • সিলেট বিশ্বনাথে হাইব্রিড কাজলা জাতের বেগুন চাষে লাভবান চাষী

    সিলেট বিশ্বনাথে হাইব্রিড কাজলা জাতের বেগুন চাষে লাভবান চাষী

    মোঃ শহিদুল ইসলাম, সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার রায়পুর গ্রাম ও পাশাপাশি অনেক গ্রামে তাল বেগুন বা কেজি বেগুন নামে লোকাল ভাষায় বলে, বড় সাইজের বেগুন চাষ হয়ে থাকে।

    তবে, স্থানীয় যে জাত টি চাষ করা হয়ে থাকে, এই জাতটির ফলন দেরিতে পাওয়া যায়, রোগ-প্রতিরোধ অনেক কম, ফলন ভালো হলেও গাছ মারা যায় অনেক বেশি এবং পোকার আক্রমন খুব মারাত্নক। এই সমস্যা সমাধানে কৃষি অফিস থেকে কোন প্রকার ভালো পরামর্শ পান নাই। এলাকার বেশির ভাগ জমি পরিদর্শনে দেখা যায়, স্থানীয় জাত যে সকল চাষীগন করেছেন, তাদের খরচের টাকা উঠবে না, তাঁদের অনেক লোকসান হবে।

    পাশাপাশি উক্ত এলাকার একজন চাষী মো: নজির মিয়ার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, ইউনাইটেড সিডের মার্কেটিং অফিসার মো: আব্দুস সাত্তারের সাথে পরিচয় হয় এবং তাঁর পরামর্শে এই বছর তাঁর জমিতে ইউনাইটেড সিডের হাইব্রিড বড় সাইজের কাজলা জাতের বেগুন চাষ করেন। কাজলা জাতের বেগুন চাষ করে তিনি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছেন।

    কাজলা জাতের বেগুন টি চারা রোপনের মাত্র ৬৫-৭০ দিনে ফসল তোলা যায়, গড় ওজন ৮০০গ্রাম ১২০০গ্রাম ওজন হয়ে থাকে, খেতে সুস্বাদু ও মজাদার, ভিতরে বীজের পরিমান কম থাকে, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি, একটা গাছে ১৫-২০ টি ফল তোলা যায়। তিনি এই জাতটি চাষ করে অনেক লাভবান হবেন- ইনশাআল্লাহ । তিনি কাজলা জাতের বেগুন চাষ করতে এলাকার চাষীদের উৎসাহ দিচ্ছেন।। প্রথম তোলায় তিনি ৫০-৬০টাকা কেজি দরে পাইকারী বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বাজারে ৩০-৪০ টাকা কেজিতে পাইকারী বিক্রি করতে পারতেছেন।

    সামনে রমজানে সময় কেজি বা তাল বেগুনের চপ বা বেগুনীর চাহিদা অনেক বেশি থাকে। খেতে সুস্বাদু ও সিলেট জনপ্রিয় বড় বেগুন বেশি চলে। বেগুন মানব দেহের অনেক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বাড়ায় ও ভিটামিন চাহিদা পুরন করে। সামনের রজমানের চাহিদা অনুসারে আশা করা যায় তাঁর এই জমি থেকে তিনি ২-২.৫ লক্ষ টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারবেন।।।। তাঁর খরচ বাদে প্রায় ১-১.৫ লক্ষ লাভ করতে পারবেন। কাজলা জাতের বেগুন চাষ করে তিনি লাভবান, ভালো বীজ দেয়ার জন্য তিনি ইউনাইটেড সীড কোম্পানী কে ধন্যবাদ প্রদান করেন।

  • তেঁতুলিয়ায় মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে টিউলিপ, দেখতে পর্যটকদের ভিড়

    পঞ্চগড়ে সূর্যের আলো আর তাপ নিয়ন্ত্রণ করা বিশেষ শেডের নিচে সারি সারি ফুটেছে রাজসিক সৌন্দর্যের ফুল টিউলিপ। ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা। টিউলিপের বাগানে এসে কেউ ছুঁয়ে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ফুলের সঙ্গে সেলফি নিচ্ছেন। আবার কেউবা ভিডিও কলে দূরে থাকা স্বজনদের দেখাচ্ছেন টিউলিপের সৌন্দর্য। কেউ কেউ ফুল কিনে ফিরছেন বাড়িতে। সব মিলিয়ে টিউলিপের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ সবাই।

    গত মঙ্গলবার বিকালে তেঁতুলিয়ার চোখজুড়ানো এই টিউলিপ বাগানে গিয়ে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে। মনোমুগ্ধকর এই ফুল চতুর্থবারের মতো তেঁতুলিয়ায় ফুটেছে শুনে নেমেছে দর্শনার্থীদের ঢল। দর্শনার্থীরা জনপ্রতি ৫০ টাকার টিকিট কেটে বাগানে ঢুকে উপভোগ করছেন এই ফুলের সৌন্দর্য।

    এবার চতুর্থবারের মতো উপজেলার ক্ষুদ্র চাষিদের মাধ্যমে প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে খামার পর্যায়ে করা হয়েছে শীতের দেশের ফুল টিউলিপের চাষ। টিউলিপ উৎপাদনের এই উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। প্রকল্পটিতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে টিউলিপ বাগান। সচ্ছলতা ফিরেছে নারী উদ্যোক্তাদের পরিবারে।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শীতপ্রধান দেশে টিউলিপ ফুল ভালো হয়। এই ফুল চাষের ক্ষেত্রে দিনের বেলা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহনশীল ধরা হয়। এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রা হলে ফুল যথাযথভাবে না-ও ফুটতে পারে। স্বাভাবিকভাবে রোপণের ১৮ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কলি আসতে শুরু করে। ২৫ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত ফুল স্থায়ী হয়।

    ইএসডিও ও নারী উদ্যোক্তারা জানান, নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় টিউলিপ চাষে এগিয়ে এসেছে ইএসডিও। তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের দর্জিপাড়া গ্রামে এবার ১৩ জন নারী উদ্যোক্তা এক একর জমিতে চতুর্থবারের মতো এই ফুল চাষ করেছেন। এ বছর সানি রাজকুমার, পিংক আর্ডোর, প্যারেড, অক্সফোর্ড, কমলা ভ্যাব বরলশ, ফেরডেক্স, অ্যাপেলডুম, ব্লাশিং এলিট ও মেস্টিক ভ্যান ইউজক নামের ৯ প্রজাতির ফুল চাষ হয়েছে। সম্প্রতি ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ জামান এবং ইএসডিওর পরিচালক (প্রশাসন) ড. সেলিমা আখতার ফিতা কেটে টিউলিপ বাগানে পর্যটকদের প্রবেশ উন্মুক্ত করেন।

    নারী উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে নানা রঙের টিউলিপে ভরে উঠেছে বাগান। বাগান ঘিরে গড়ে উঠেছে ইকোট্যুরিজম। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি রোপণ করা হয়েছিল। মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে চারা গজিয়ে কয়েক সারিতে ফুল ছড়িয়ে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। আগামী দুই মাস এই ফুল তার রাজসিক সৌন্দর্য ও সৌরভ ছড়াবে। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন হাজারো পর্যটক।

    সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে টিউলিপ বাগান দেখতে এসেছেন। কেউ ফুল ছুঁয়ে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ফুলের সঙ্গে সেলফি নিচ্ছেন। কেউ ১৫০ টাকা দিয়ে ফুল কিনছেন।

    রাজশাহী থেকে টিউলিপ বাগান দেখতে আসা শিক্ষার্থী আসিফুজ্জামান আসিফ বলেন, ‘শুনেছি টিউলিপ নেদারল্যান্ডসে হয়। এবার ইউটিউবেও দেখলাম তেঁতুলিয়ায় ফুটেছে। তাই দেখতে এলাম। বাগান দেখে মন ভরে গেছে। অনেক ছবি তুললাম। দেশের মাটিতে বিদেশি ফুল দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে।’

    ঠাকুরগাঁও থেকে আসা স্কুলশিক্ষক তামান্না আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জীবনে প্রথম টিউলিপ ফুল দেখলাম। দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আমাকে যদি কেউ বলে তোমার প্রিয় ফুল কী, এখন থেকে বলবো টিউলিপ।’

    ঢাকা থেকে আসা আইনজীবী আব্দুল মজিদ বলেন, ‘অনেকবার তেঁতুলিয়ায় এসেছি তবে টিউলিপ বাগানের কথা এর আগে শুনিনি। এবার শুনে দেখতে এসেছি। সত্যিই অনেক সুন্দর বাগান। চোখ জুড়িয়ে গেলো।’

    দিনাজপুর থেকে আসা রাজিউদ্দিন চৌধুরী ডাবলু বলেন, ‘এবার তেঁতুলিয়ায় ভ্রমণে আসা নতুন একটি মাত্রা যোগ হয়েছে। সেটি হলো টিউলিপ বাগান। এর আগে যখনই এসেছি চা বাগান, নদী থেকে পাথর উত্তোলন এগুলো দেখেছি। এবার টিউলিপ বাগান দেখে খুব ভালো লাগলো আমার। তবে টিউলিপ বাগানে প্রবেশমূল্য যে ৫০ টাকা করা হয়েছে, সেটা আরেকটু কমালে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো হতো।’

    টিউলিপচাষি ও উদ্যোক্তা সুমি আক্তার এবং মুর্শিদা খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পিকেএসএফ ও ইএসডিওর সহযোগিতায় এবার আমরা ১৩ জন নারী উদ্যোক্তা নয় প্রজাতির টিউলিপ চাষ করেছি। ফুল ফোটার পর থেকে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে ভিড় করছেন। নেদারল্যান্ডস থেকে টিউলিপের একেকটি বাল্ব আনতে এবার ৮০ টাকা করে খরচ হয়েছে। বর্তমানে বাগান থেকেই একেকটি ফুলের স্টিক ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া একেকটি টবসহ ফুল ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    মুর্শিদা খাতুন বলেন, ‘প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০টি ফুল বিক্রি হচ্ছে। গত তিন মৌসুম শেষে প্রত্যেক উদ্যোক্তা ৪০-৫০ হাজার টাকা করে পেয়েছি। এবারও আশা করছি লাভবান হবো। লাভের টাকা দিয়ে  আমাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে। আমি স্বাবলম্বী হয়েছি। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারছি।’

     

    ইএসডিওর প্রকল্প ব্যবস্থাপক কল্যাণ মোহন্ত বলেন, ‘পিকেএসএফ ও ইএসডিওর সহযোগিতায় ২০২২ সালে তেঁতুলিয়ায় প্রথমবার পাইলট প্রকল্প হিসেবে আট নারী উদ্যোক্তার মাধ্যমে ৪০ শতাংশ জমিতে ছয় প্রজাতির ৪০ হাজার টিউলিপ চাষ করা হয়েছিল। তৃতীয় ও চতুর্থবার ইএসডিওর নিজস্ব অর্থায়নে চাষ করা হয়। এবার এক একর জমিতে ৯টি প্রজাতির ফুল চাষ হয়েছে। ১৩ জন নারী উদ্যোক্তা চাষ করেছেন। নেদারল্যান্ডস থেকে টিউলিপের একেকটি বাল্ব আনতে এবার ৮০ টাকা খরচ হয়েছে। গত তিন মৌসুমে আমরা নানাভাবে বাল্ব সংরক্ষণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু সফল হইনি। গাছ হলেও ফুল হচ্ছে না। সরকারিভাবে কোয়ারেন্টাইন ফি ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে টিউলিপ চাষের পরিমাণ বাড়বে। তেঁতুলিয়াসহ আশপাশের এলাকা ভরে যাবে।’

    তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফজলে রাব্বী বলেন, ‌‘টিউলিপ বাগান পর্যটনের ক্ষেত্রে তেঁতুলিয়াকে সমৃদ্ধ করেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও দারুণ ভূমিকা রাখছে এই বাগান।’

    রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে টিউলিপ বাগান দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘ইউটিউবে দেখেছি তেঁতুলিয়ার টিউলিপ বাগান। এখন বাস্তবে দেখলাম। খুবই সুন্দর। পর্যটকদের অনুপ্রাণিত করছে। পর্যটনকে এগিয়ে নিতে উদ্যোক্তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’

    ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, ‘এবার চতুর্থবারের মতো তেঁতুলিয়ায় নারী উদ্যোক্তারা টিউলিপ চাষ করেছেন। গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি তেঁতুলিয়াকে ইকোট্যুরিজমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পটি লাভের মুখ না দেখলেও পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। তারা মুগ্ধ হচ্ছেন, এটাই আমাদের স্বার্থকতা।’

    পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টিউলিপ বাগান, চা বাগান আর কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ঘিরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য করতোয়া নদী সংলগ্ন এলাকায় দেশের সবচেয়ে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার, ইকো পার্ক নির্মাণে আর্কিটেকচার ডিজাইন ও প্রজেক্ট প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পর্যটন মোটেল নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান আছে। পর্যটকদের জন্য একটি ট্যুর গাইড অ্যাপস তৈরি করছি আমরা। ইতোমধ্যে মহাসড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সবকিছু তৈরি হয়ে গেলে পর্যটকদের নতুন গন্তব্য হবে পঞ্চগড়।’

  • বাউফলে নলেজ শেয়ারিং ও সম্পর্ক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত

    বাউফলে নলেজ শেয়ারিং ও সম্পর্ক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত

    বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
    বাউফলে স্পিড ট্রাস্ট-এর আয়োজনে এবং এএলআরডি (মিজেরিয়া)-এর সহযোগিতায় জন সমবায় দলীয় সদস্যদের নলেজ শেয়ারিং ও সম্পর্ক উন্নয়ন সভা এবং বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ সকালে আয়োজিত এই সভায় সহকারী যুব উন্নয়ন অফিসার মো: হানিফ খান আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাটি স্পিড ট্রাস্টের উজ্জীবক সাইফুল ইসলাম-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তব্য রাখেন এনিমেটর সালমা বেগম, ক্লাস্টার লিডার খাদিজা বেগম, পারভীন বেগম, সাহিদা বেগম প্রমুখ।

    সভায় জন সমবায় দলীয় কার্যক্রম, ভূমিস্বত্ব, সরকারি সেবা, কৃষি চর্চা, যৌথ পুঁজি বিনিয়োগ এবং জাতীয় প্লাটফর্ম কর্মশালা নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

    আয়োজনের শুরুতেই জন সমবায় গ্রুপের কিশোরী দল বসন্তের ঋতুকে কেন্দ্র করে একটি জারীগান পরিবেশন করে, যা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে।

  • কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোঃ জামাল উদ্দিন স্যারের পদন্নোতিতে অভিনন্দন

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোঃ জামাল উদ্দিন স্যারের পদন্নোতিতে অভিনন্দন

    পাবনা প্রতিনিধি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পাবনার সুযোগ্য উপপরিচালক ড. মোঃ জামাল উদ্দিন স্যারের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন), সরেজমিন উইং ডিএই খামারবাড়ি, ঢাকায় পদন্নোতি পাওয়ায় পেস্টিসাইড অফিসার্স এসোসিয়েশন ও কৃষক কন্ঠ পরিবার এর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

    ড. মোঃ জামাল উদ্দিন স্যারের নেতৃত্বে ডিএই পাবনা কৃষিতে একটি মডেল জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়, যা তাঁর কঠোর পরিশ্রম, দক্ষ নেতৃত্ব এবং কৃষি উন্নয়নে অবদানকে প্রমাণ করে। তিনি কৃষির বিভিন্ন দিক নিয়ে অনেক কাজ করেছেন এবং কৃষকদের উন্নতির জন্য কাজ করে চলেছেন।

    তিনি সদা উদ্যোগী এবং কৃষি সম্প্রসারণের ধারাকে আরও বিস্তৃত করার জন্য সদা প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। তাঁর এই পদন্নোতি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষকদের জন্য এক বিরাট সম্মান।

    পেস্টিসাইড অফিসার্স এসোসিয়েশন এবং দৈনিক কৃষক কন্ঠ পরিবার আশাবাদী, ড. মোঃ জামাল উদ্দিন স্যার ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা পালন করবেন এবং দেশের কৃষি খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবেন। তাঁর নেতৃত্বে কৃষি সম্প্রসারণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং দেশে কৃষির বিকাশ ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।

    আমরা তাঁর সাফল্য কামনা করি এবং তাঁর পরবর্তী কর্মজীবনে আরও সমৃদ্ধির আশা রাখি।

  • ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের বিনামূল্যে খাইয়ে প্রশংসায় ভাসছেন পাবনাবাসী

    ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের বিনামূল্যে খাইয়ে প্রশংসায় ভাসছেন পাবনাবাসী

    হঠাৎ বিকল ট্রেনের ইঞ্জিন। আশেপাশে স্টেশন নেই। বিকল্প আরেকটি ইঞ্জিন এসে ট্রেন সচল করতে লাগবে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। এত দীর্ঘ সময় ট্রেনে বসে থাকতে গিয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে ওঠেন যাত্রী ও ট্রেনের স্টাফরা। আর ঠিক সেই মূহুর্তে ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে দুপুরের খাবার খাইয়ে প্রশংসায় ভাসছেন পাবনাবাসী। এক ফেসবুক পোস্টে পাবনার মানুষের মানবিকতার প্রশংসা করেছেন খোদ রেল কর্মকর্তা ও যাত্রীরা।

    ট্রেনটির টিটিই আব্দুল আলিম মিঠু ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন। ছড়িয়ে পড়া সেই পোস্টে এই প্রশংসা উঠে এসেছে।

    পাকশী পশ্চিমাঞ্চল বিভাগীয় রেলওয়ের টিটিই আব্দুল আলিম মিঠু ফেসবুক পোস্টে বলেন, “পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর থেকে রাজশাহী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচল করে “ঢালারচর এক্সপ্রেস”। রবিবার সকাল ৭টার দিকে ট্রেনটি ঢালারচর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। আমি ওই ট্রেনে দায়িত্ব পালন করছিলাম। পথে সকাল ৮টা ৫ মিনিটের দিকে সাঁথিয়ার রাজাপুর স্টেশন পার হওয়ার পরে হঠাৎ করেই ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে ঈশ্বরদী থেকে বিকল্প ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুনরায় ট্রেনটি চালু করতে বেলা ১১টা ৪০ মিনিট বেজে যায়।”

    তিনি বলেন, “মাঝখানে সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় ট্রেনে বসে থাকতে গিয়ে অস্থির হয়ে ওঠেন যাত্রীরা। আশপাশে স্টেশন বা দোকানপাট কিছু ছিল না। ট্রেনের স্টাফসহ অনেক যাত্রী ক্ষুধায় তৃষ্ণায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বেশি বিপাকে পড়েন স্বজনরা।”

    টিটিই আব্দুল আলিম মিঠু বলেন, “ট্রেনের যাত্রী আর স্টাফদের এমন করুণ অবস্থা দেখে এগিয়ে আসেন রেললাইন থেকে কিছু দূরে বসবাসকারী মানুষগুলো। বিনা স্বার্থে যার যা সামর্থ্য ছিল, যার ঘরে যা রান্না করা খাবার ছিল, তাই দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। বাড়ি থেকে গৃহবধূরা খাবার নিয়ে ট্রেনের কাছে পৌঁছান। কারও হাতে ছিল ভাত-ডাল, কারও হাতে খিচুরি, কারও হাতে রুটি-সবজি, আবার কারও হাতে পানি। এর মাঝেই কেউ কেউ রান্না করে খাবার নিয়ে আসার জন্য উদগ্রীব। বৃদ্ধ এবং শিশুদের প্রতি তাদের নজর ছিল বেশি। তাদের খাবার পানিতে শান্তি পায় সবাই।”

    টিটিই আব্দুল আলিম মিঠু তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “তাদের এমন মানবিক দৃষ্টান্ত আমি কোথাও দেখিনি। ওইসব মানুষগুলোর পরিবার দেখে মনে হয়েছে দিন এনে দিন খাওয়ার মতো। অথচ কিভাবে তারা মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়ালো। পাবনার মানুষ যে কতটা আত্মিক আর অতিথি পরায়ণ তা আবারও প্রমাণ হলো।”

    ঘটনাস্থল তাঁতীবন্দ গ্রামের বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, “আমি যখন দেখলাম স্টেশনের বাইরে হঠাৎ ট্রেনটা অনেক সময় দাঁড়িয়ে আছে। কাছে গিয়ে দেখি অনেকে পানির জন্য, কেউবা খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে। আশপাশে কোনো দোকানপাট ছিল না। তখন আশপাশের সবাইকে সাধ্যমতো খাবার পানি নিয়ে আসতে বলি। এভাবেই হয়েছে।”

    রহিমা খাতুন নামের এক গৃহবধূ বলেন, “মানুষের কষ্ট দেখে কি ভালো লাগে বলেন তো। যেখানে ট্রেন থেমে ছিল, সেখান থেকে কিছু দূরেই আমারে বাড়ি। ট্রেন অনেকক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। অনেক মানুষ। এগিয়ে গিয়ে দেখি কেউ পানি খুঁজছে, কেউ কিছু খাবার খুঁজছে। এরপর বাড়িতে গিয়ে যা ডাল-ভাত ছিল, সেগুলোই এনেই দিয়েছি। আমার নিজেরও ভালো লেগেছে।”