Category: রংপুর বিভাগ

  • বীরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ মহড়া

    বীরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ মহড়া

    রনজিৎ সরকার রাজ বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:  ভিডিও দেখুন
    চলমান মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বেড়েছে ছিসকে চুরি, কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া মটর বাইক ড্রাইভিং, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ।

    প্রতিরোধে থানা পুলিশও কঠোর অবস্থানে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চলছে ব্যপক তৎপরতা।

    অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত, পরিচালিত হচ্ছে নানান অত্যাধুনিক কার্যক্রম।

    ইতোমধ্যে পৌর শহরের বিভিন্ন বিপনি-বিতানের সামনে ও জনসমাগম এলাকায় পুলিশি অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের টহল, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি।

    পোষাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

    বিশেষ মহড়া চলমান, পাশাপাশি ১৫ মার্চ’২৫ শনিবার সন্ধ্যায় সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়কে পুলিশের এই বিশেষ টহল পরিলক্ষিত হয়।

    সম্প্রতি সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টি চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    সেই ধারাবাহিকতায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে মর্মে জানান এসআই জাহাঙ্গীর বাদশা রনি।

    টহল অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশ সদস্যদের পরনে ছিল নির্ধারিত ইউনিফর্ম, হেলমেট ও প্রতিরক্ষা মূলক গিয়ার।

    শতাধিক মোটর সাইকেল বহর নিয়ে তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে মহড়া প্রদর্শন ও তল্লাশি চালায়।

    পুলিশের সাথে স্বেচ্ছাসেবকরাও অংশ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করেন।

    এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল গফুর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

  • তেঁতুলিয়ায় মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে টিউলিপ, দেখতে পর্যটকদের ভিড়

    পঞ্চগড়ে সূর্যের আলো আর তাপ নিয়ন্ত্রণ করা বিশেষ শেডের নিচে সারি সারি ফুটেছে রাজসিক সৌন্দর্যের ফুল টিউলিপ। ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা। টিউলিপের বাগানে এসে কেউ ছুঁয়ে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ফুলের সঙ্গে সেলফি নিচ্ছেন। আবার কেউবা ভিডিও কলে দূরে থাকা স্বজনদের দেখাচ্ছেন টিউলিপের সৌন্দর্য। কেউ কেউ ফুল কিনে ফিরছেন বাড়িতে। সব মিলিয়ে টিউলিপের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ সবাই।

    গত মঙ্গলবার বিকালে তেঁতুলিয়ার চোখজুড়ানো এই টিউলিপ বাগানে গিয়ে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে। মনোমুগ্ধকর এই ফুল চতুর্থবারের মতো তেঁতুলিয়ায় ফুটেছে শুনে নেমেছে দর্শনার্থীদের ঢল। দর্শনার্থীরা জনপ্রতি ৫০ টাকার টিকিট কেটে বাগানে ঢুকে উপভোগ করছেন এই ফুলের সৌন্দর্য।

    এবার চতুর্থবারের মতো উপজেলার ক্ষুদ্র চাষিদের মাধ্যমে প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে খামার পর্যায়ে করা হয়েছে শীতের দেশের ফুল টিউলিপের চাষ। টিউলিপ উৎপাদনের এই উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। প্রকল্পটিতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে টিউলিপ বাগান। সচ্ছলতা ফিরেছে নারী উদ্যোক্তাদের পরিবারে।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শীতপ্রধান দেশে টিউলিপ ফুল ভালো হয়। এই ফুল চাষের ক্ষেত্রে দিনের বেলা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহনশীল ধরা হয়। এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রা হলে ফুল যথাযথভাবে না-ও ফুটতে পারে। স্বাভাবিকভাবে রোপণের ১৮ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কলি আসতে শুরু করে। ২৫ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত ফুল স্থায়ী হয়।

    ইএসডিও ও নারী উদ্যোক্তারা জানান, নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় টিউলিপ চাষে এগিয়ে এসেছে ইএসডিও। তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের দর্জিপাড়া গ্রামে এবার ১৩ জন নারী উদ্যোক্তা এক একর জমিতে চতুর্থবারের মতো এই ফুল চাষ করেছেন। এ বছর সানি রাজকুমার, পিংক আর্ডোর, প্যারেড, অক্সফোর্ড, কমলা ভ্যাব বরলশ, ফেরডেক্স, অ্যাপেলডুম, ব্লাশিং এলিট ও মেস্টিক ভ্যান ইউজক নামের ৯ প্রজাতির ফুল চাষ হয়েছে। সম্প্রতি ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ জামান এবং ইএসডিওর পরিচালক (প্রশাসন) ড. সেলিমা আখতার ফিতা কেটে টিউলিপ বাগানে পর্যটকদের প্রবেশ উন্মুক্ত করেন।

    নারী উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে নানা রঙের টিউলিপে ভরে উঠেছে বাগান। বাগান ঘিরে গড়ে উঠেছে ইকোট্যুরিজম। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি রোপণ করা হয়েছিল। মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে চারা গজিয়ে কয়েক সারিতে ফুল ছড়িয়ে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। আগামী দুই মাস এই ফুল তার রাজসিক সৌন্দর্য ও সৌরভ ছড়াবে। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন হাজারো পর্যটক।

    সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে টিউলিপ বাগান দেখতে এসেছেন। কেউ ফুল ছুঁয়ে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ফুলের সঙ্গে সেলফি নিচ্ছেন। কেউ ১৫০ টাকা দিয়ে ফুল কিনছেন।

    রাজশাহী থেকে টিউলিপ বাগান দেখতে আসা শিক্ষার্থী আসিফুজ্জামান আসিফ বলেন, ‘শুনেছি টিউলিপ নেদারল্যান্ডসে হয়। এবার ইউটিউবেও দেখলাম তেঁতুলিয়ায় ফুটেছে। তাই দেখতে এলাম। বাগান দেখে মন ভরে গেছে। অনেক ছবি তুললাম। দেশের মাটিতে বিদেশি ফুল দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে।’

    ঠাকুরগাঁও থেকে আসা স্কুলশিক্ষক তামান্না আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জীবনে প্রথম টিউলিপ ফুল দেখলাম। দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আমাকে যদি কেউ বলে তোমার প্রিয় ফুল কী, এখন থেকে বলবো টিউলিপ।’

    ঢাকা থেকে আসা আইনজীবী আব্দুল মজিদ বলেন, ‘অনেকবার তেঁতুলিয়ায় এসেছি তবে টিউলিপ বাগানের কথা এর আগে শুনিনি। এবার শুনে দেখতে এসেছি। সত্যিই অনেক সুন্দর বাগান। চোখ জুড়িয়ে গেলো।’

    দিনাজপুর থেকে আসা রাজিউদ্দিন চৌধুরী ডাবলু বলেন, ‘এবার তেঁতুলিয়ায় ভ্রমণে আসা নতুন একটি মাত্রা যোগ হয়েছে। সেটি হলো টিউলিপ বাগান। এর আগে যখনই এসেছি চা বাগান, নদী থেকে পাথর উত্তোলন এগুলো দেখেছি। এবার টিউলিপ বাগান দেখে খুব ভালো লাগলো আমার। তবে টিউলিপ বাগানে প্রবেশমূল্য যে ৫০ টাকা করা হয়েছে, সেটা আরেকটু কমালে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো হতো।’

    টিউলিপচাষি ও উদ্যোক্তা সুমি আক্তার এবং মুর্শিদা খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পিকেএসএফ ও ইএসডিওর সহযোগিতায় এবার আমরা ১৩ জন নারী উদ্যোক্তা নয় প্রজাতির টিউলিপ চাষ করেছি। ফুল ফোটার পর থেকে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে ভিড় করছেন। নেদারল্যান্ডস থেকে টিউলিপের একেকটি বাল্ব আনতে এবার ৮০ টাকা করে খরচ হয়েছে। বর্তমানে বাগান থেকেই একেকটি ফুলের স্টিক ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া একেকটি টবসহ ফুল ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    মুর্শিদা খাতুন বলেন, ‘প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০টি ফুল বিক্রি হচ্ছে। গত তিন মৌসুম শেষে প্রত্যেক উদ্যোক্তা ৪০-৫০ হাজার টাকা করে পেয়েছি। এবারও আশা করছি লাভবান হবো। লাভের টাকা দিয়ে  আমাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে। আমি স্বাবলম্বী হয়েছি। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারছি।’

     

    ইএসডিওর প্রকল্প ব্যবস্থাপক কল্যাণ মোহন্ত বলেন, ‘পিকেএসএফ ও ইএসডিওর সহযোগিতায় ২০২২ সালে তেঁতুলিয়ায় প্রথমবার পাইলট প্রকল্প হিসেবে আট নারী উদ্যোক্তার মাধ্যমে ৪০ শতাংশ জমিতে ছয় প্রজাতির ৪০ হাজার টিউলিপ চাষ করা হয়েছিল। তৃতীয় ও চতুর্থবার ইএসডিওর নিজস্ব অর্থায়নে চাষ করা হয়। এবার এক একর জমিতে ৯টি প্রজাতির ফুল চাষ হয়েছে। ১৩ জন নারী উদ্যোক্তা চাষ করেছেন। নেদারল্যান্ডস থেকে টিউলিপের একেকটি বাল্ব আনতে এবার ৮০ টাকা খরচ হয়েছে। গত তিন মৌসুমে আমরা নানাভাবে বাল্ব সংরক্ষণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু সফল হইনি। গাছ হলেও ফুল হচ্ছে না। সরকারিভাবে কোয়ারেন্টাইন ফি ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে টিউলিপ চাষের পরিমাণ বাড়বে। তেঁতুলিয়াসহ আশপাশের এলাকা ভরে যাবে।’

    তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফজলে রাব্বী বলেন, ‌‘টিউলিপ বাগান পর্যটনের ক্ষেত্রে তেঁতুলিয়াকে সমৃদ্ধ করেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও দারুণ ভূমিকা রাখছে এই বাগান।’

    রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে টিউলিপ বাগান দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘ইউটিউবে দেখেছি তেঁতুলিয়ার টিউলিপ বাগান। এখন বাস্তবে দেখলাম। খুবই সুন্দর। পর্যটকদের অনুপ্রাণিত করছে। পর্যটনকে এগিয়ে নিতে উদ্যোক্তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’

    ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, ‘এবার চতুর্থবারের মতো তেঁতুলিয়ায় নারী উদ্যোক্তারা টিউলিপ চাষ করেছেন। গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি তেঁতুলিয়াকে ইকোট্যুরিজমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পটি লাভের মুখ না দেখলেও পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। তারা মুগ্ধ হচ্ছেন, এটাই আমাদের স্বার্থকতা।’

    পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টিউলিপ বাগান, চা বাগান আর কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ঘিরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য করতোয়া নদী সংলগ্ন এলাকায় দেশের সবচেয়ে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার, ইকো পার্ক নির্মাণে আর্কিটেকচার ডিজাইন ও প্রজেক্ট প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পর্যটন মোটেল নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান আছে। পর্যটকদের জন্য একটি ট্যুর গাইড অ্যাপস তৈরি করছি আমরা। ইতোমধ্যে মহাসড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সবকিছু তৈরি হয়ে গেলে পর্যটকদের নতুন গন্তব্য হবে পঞ্চগড়।’

  • বীরগঞ্জে ৩৯৫ কেজি ওজনের কষ্টি পাথরসহ ১ জন গ্রেফতার।

    বীরগঞ্জে ৩৯৫ কেজি ওজনের কষ্টি পাথরসহ ১ জন গ্রেফতার।

    রনজিৎ সরকার রাজ  দিনাজপুর প্রতিনিধি: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ০৪ ফ্রেব্রুয়ারী’২০২৫ ইং রাত ১০টার দিকে র‍্যাব-১৩ সিপিসি-২ নীলফামারি মেজর ইসতিয়াকের নেতৃত্বে থানা পুলিশের সহযোগিতায় যৌথ অভিযানে বীরগঞ্জের ৩ নম্বর শতগ্রাম ইউনিয়নের অর্জুনাহার এলাকার কৃষক মৃত ছমির আলীর ছেলে গোলাম মোর্শেদের বাড়ীর গোয়াল ঘরের পিছনে গর্তে পাটি দিয়ে মোড়ানো পলিথিন প‍্যাচানো মুর্তিটি মাটি খুড়ে উদ্ধার করা হয়।

    ঘটনার সাথে জড়িতদের মধ্যে ঐ এলাকার আবেদ আলীর পুত্র আক্কাস (৪০) কে গ্রেফতার করেছে যৌথ বাহিনী।জানা গেছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের ঐ কষ্টি পাথরটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র আত্মসাত করতে চেয়েছিল কিন্তু প্রশাসন সজাগ থাকায় তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সফল হয়নি।বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল গফুর ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন মামলার প্রস্তুতি চলছে ।

  • বাড়ির কাজে ব্যস্ত ছিলেন মা, দুই বছরের নাঈম ডুবল পাশের ডোবায়

    বাড়ির কাজে ব্যস্ত ছিলেন মা, দুই বছরের নাঈম ডুবল পাশের ডোবায়

    সকালে বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করছিলেন মা লাকী বেগম। এ সময় বাড়ির আঙিনায় খেলছিল তাঁর দুই বছর বয়সী শিশুসন্তান নাঈম হাসান। খেলার একপর্যায়ে মায়ের অগোচরে বাড়ির বাইরে চলে যায় নাঈম। কিছুক্ষণ পর প্রতিবেশীদের চিৎকারে বাড়ির বাইরে ছুটে আসেন লাকী বেগম। বাড়ির পাশের টিউবওয়েলের পানি জমে থাকা ডোবার পানিতে নাঈমকে ভাসতে দেখেন তিনি। তৎক্ষণাৎ ডোবায় ঝাঁপ দিয়ে পানি থেকে নাঈমের নিথর দেহ বুকে জড়িয়ে নেন লাকী বেগম। পরে নাঈমকে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে সেখানে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    আজ বুধবার সকাল আটটার দিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভার সকিনাপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নাঈমের বাবা আইয়ুব আলী পেশায় একজন শ্রমিক। ঘটনার সময় তিনি গাইবান্ধার জেলার বালাসিঘাট এলাকায় একটি চীনা কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজে ছিলেন।

    পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ সকালে বাড়ির উঠানে ছেলে নাঈমকে রেখে বাড়ির কাজ করছিলেন লাকী বেগম। কিছুক্ষণ পর বাড়ির বাইরে প্রতিবেশীদের চিৎকার শুনতে পান। এ সময় বাড়িতে ছেলেকে না দেখতে পেয়ে দৌড়ে বাড়ির বাইরে বের হন লাকী বেগম। বাড়িসংলগ্ন প্রায় ১০ হাত দূরে বাড়ির টিউবওয়েলের পানি জমে থাকার ডোবায় ছেলেকে ডুবে থাকতে দেখেন মা লাকী। এ সময় তিনি পানিতে ঝাঁপ দিয়ে ছেলেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে নাঈমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাঈমকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

  • উত্তরবঙ্গ কৃষক মহাসমাবেশে মানুষের উপস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা

    উত্তরবঙ্গ কৃষক মহাসমাবেশে মানুষের উপস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা

    কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় অনুষ্ঠিত উত্তরবঙ্গ কৃষক মহাসমাবেশে উপস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। গতকাল রোববার দুপুরে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে হাট ও ঘাট থেকে ইজারা প্রথা বাতিল, নদীভাঙন রোধ, কৃষকের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণসহ ১২ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। তবে ঘুরে-ফিরে কৃষকদের উপস্থিতির সংখ্যা কম নিয়ে বেশি কথা চাউর হচ্ছে।

    কৃষক মহাসমাবেশে অন্তর্বর্তী সরকারের দুজন উপদেষ্টা উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা আসেননি। তাঁরা কেন এলেন না, এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। যেখানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সেখানে ৫০০ জনের কম মানুষের উপস্থিতি নিয়ে হতাশ হয়েছেন অনেকে।

    কৃষক মহাসমাবেশের আয়োজকদের ভাষ্য, ইজারাদার ও প্রভাবশালী মহলের চক্রান্তে প্রত্যাশিত মানুষের উপস্থিতি হয়নি। তবে চিলমারী জোড়গাছ এলাকার কৃষক নেতা ও সংগঠক মাহমুদুল হাসান বলছেন, কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সময় নির্ধারণ না করায় এ মহাসমাবেশ ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ।

    গতকাল অনুষ্ঠিত কৃষক মহাসমাবেশে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ নাছির উদ্দিন, লেখক, গবেষক ও সংগঠক রাখাল রাহা, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা কনক রহমান, চলচ্চিত্রকার খন্দকার সুমন ও ন্যাপ ভাসানী কুড়িগ্রামের সভাপতি সেলিম খান বক্তব্য দেন। এ ছাড়া মহাসমাবেশের মঞ্চে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ১৭ জন নেতা-কর্মী, কৃষক প্রতিনিধি ১ জন, মৎস্যজীবী প্রতিনিধি বক্তব্য দেন। মহাসমাবেশের মঞ্চের সামনে দর্শক আসনে কৃষকদের জন্য মাটিতে ত্রিপল বিছানো হয়েছিল। সেখানে ৫০০ জনেরও কম কৃষককে বসে থাকতে দেখা যায়। পাশেই ছিল বিশেষ অতিথি ও সাংবাদিকদের জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা। সেখানে কিছু সাংবাদিক ও অতিথিকে বসে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয় লোকজন জানান, উত্তরবঙ্গ কৃষক মহাসমাবেশের জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে চিঠি দেওয়া হয়েছিল সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ চেয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে। সেই চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মহলে কৃষক মহাসমাবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আর এ কারণে হয়তো মহাসমাবেশে কৃষকের উপস্থিতি ছিল হতাশাব্যঞ্জক।

    যেখানে লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সেখানে ৫০০ জনের কম মানুষের উপস্থিতি নিয়ে হতাশ হয়েছেন অনেকে। রোববার দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার জোড়গাছ এলাকায়
    যেখানে লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সেখানে ৫০০ জনের কম মানুষের উপস্থিতি নিয়ে হতাশ হয়েছেন অনেকে। চিঠিতে কৃষক মহাসমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করে ৩০ হাজার কৃষক-জেলের এক বেলা খাবারের জন্য জনপ্রতি ২০০ টাকা করে ৬০ লাখ টাকা, ১০০ জন ভিআইপি অতিথিদের খাবারের জন্য জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে ৫০ হাজার টাকা এবং স্টেজ, সাউন্ড সিস্টেম, গেট, লাইটিং, বসার ব্যবস্থা, তোরণ ও অন্যান্য বাবদ ৫ লাখসহ মোট সাড়ে ৬৫ লাখ বরাদ্দ চাওয়া হয়। মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ হাসান (নলেজ) স্বাক্ষরিত এ চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক তৈরি হয়।

    এমডি রাহিমুল ইসলাম নামের একজন তাঁর ফেসবুকে কৃষক মহাসমাবেশের ছবিসহ পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এত এত মানুষ কুড়িগ্রাম আগে কখনো দেখে নাই। উপস্থিতি ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ প্রত্যাশা করা হলেও উপস্থিতির সংখ্যা খুবই নাজুক।’

    জানতে চাইলে উত্তরবঙ্গ কৃষক মহাসমাবেশের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য নাহিদ হাসান  বলেন, ‘সরকারের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা কৃষকদের এক বেলা খাবারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের টাকা দেয়নি। উল্টো আমাদের আবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস করে দেয়। পরে হাট ও ঘাটের ইজারাদার, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও চরাঞ্চলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সহজ–সরল কৃষকদের বোঝায় যে সরকার টাকা দিয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকেরা আমাদের প্রোগ্রামে আসতে টাকা দাবি করেন। কৃষকদের হাতে হাতে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা কৃষক সমাবেশে আসা বন্ধ করে দেন।’

    চিলমারীর মতো একটি ছোট উপজেলায় এত মানুষের সমাবেশ সম্ভব কি না—জানতে চাইলে নাহিদ হাসান বলেন, ‘এটি আমাদের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ইজারাদার ও প্রভাবশালী মহলের চক্রান্তে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’

    স্থানীয় কৃষক নেতা ও সংগঠক মাহমুদুল হাসান বলেন, চিলমারীর মতো জায়গায় ৩০ হাজার কৃষক নিয়ে সমাবেশের কল্পনা করা একটি অলীক স্বপ্ন ছাড়া কিছুই নয়। আয়োজকেরা হয়তো জানেনই না, চিলমারীতে ঠিক কতজন কৃষক আছেন। জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকে কৃষক এই মহাসমাবেশে আসবেন, সেটির জন্য উপযুক্ত সময় এখন নয়। বর্তমানে ইরি ও বোরো ধান লাগানোর সময়। এ সময়ে সমাবেশ না করে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন পরে করলে আরও বেশি কৃষক সমাবেশে আসতেন। তবে সেই সংখ্যা ৩০ হাজার হতো না।

  • বাদাম চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন চরের কৃষকদের

    বাদাম চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন চরের কৃষকদের

    দেশের বৃহৎ চরাঞ্চলখ্যাত কুড়িগ্রাম জেলায় বাদাম চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। চরের কৃষকরা বাদাম চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছেন।

    কুড়িগ্রামে দেশের বৃহৎ ব্রহ্মপুত্র নদের পানি শুকিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য বালুচর জেগে উঠেছে। জেগে ওঠা ধু-ধু বালুচরে বাদামের চাষ করেছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। বাদাম গাছের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে পুরো বালুচর। তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর, দুধকুমারসহ জেলার ১৬টি চরাঞ্চলে পাঁচশতাধিক চরাঞ্চলে বাদাম তোলার কর্মযজ্ঞ চলছে। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ দল বেঁধে বাদাম তোলার দৃশ্য চোখে পড়বে চরগুলোতে। চরাঞ্চলের বালু মাটি বাদাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের বালু মাটির জমিতে বাদাম চাষ করেছেন।

    রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, এবারে বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। ২০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। ইতোমধ্যে ওই জমি থেকে ৫/৭ মন বাজারে বিত্রিু করেছি। মন প্রতি ২ হাজার ৯শ টাকা। আরও অনেক বাদাম আছে, বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভ হবে।

    একই ইউনিয়নের আব্দুল জলিল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে নদীর ভাঙা-গড়ার খেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে চরের সংখ্যা। প্রতিবছর বন্যায় অনেক ক্ষতি হয়। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে বন্যা-পরবর্তী সময়ে জেগে ওঠা চরে বাদাম, কাউন, তিল, তিসিসহ হরেক রকম ফসল চাষ করে ক্ষতি পুষিয়ে নেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।

    চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের বজরা দিয়ার খাতা এলাকার মাহফুজার রহমান বলেন, বাদাম খেত থেকে আগাছা কেটে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হয়। এ ছাড়া অন্য ফসলের মতো বাদামের জমিতে তুলনামূলক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। তবে সার-বীজ, কীটনাশকসহ শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়া কৃষকরা লাভ কম পাচ্ছেন। বীজ রোপণের আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যেই বাদাম তুলে সংগ্রহ ও হাট-বাজারে বিক্রি করা যায়।

    রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের  শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম বলেন,  চরাঞ্চলে কৃষি কাজ ছাড়া হাতে তেমন কাজ না থাকায় বছরের অন্যান্য সময় জেলার বাইরে কাজের সন্ধানে যেতে হয় এই অঞ্চলের মানুষকে। দরিদ্র ও অসচ্ছল সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাজ করছেন চরাঞ্চলগুলোতে। এক মন বাদাম তুলে দিলে পারিশ্রমিক হিসেবে পাঁচ কেজি বাদাম দেন।

    একই ইউনিয়নের মোছা. আমেনা বেগম বলেন, বাদাম চাষ ভালো হয়েছে। সারাদিন বাদাম তুলে শুকাতে হচ্ছে।

    কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মুনাফা অর্জনের আশায় চরের কৃষকরা বাদাম চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছেন। কৃষি অফিস থেকে চাষিদের সব সময় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

    জেলায় এবার প্রায় সাড়ে ৫ শতাধিক চরাঞ্চলে বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ হাজার হেক্টর। যা অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ১১০ হেক্টর।

  • তিস্তা ব্যারেজ কমান্ড এলাকায় সেচের পানি দেওয়া শুরু

    তিস্তা ব্যারেজ কমান্ড এলাকায় সেচের পানি দেওয়া শুরু

    বাসস: তিস্তা ব্যারেজ কমান্ড এলাকায় চলতি বোরো মৌসুমে ক্যানেলগুলোতে সেচের পানি দেওয়া শুরু হয়েছে। ফলে কমান্ড এলাকায় কৃষকরা বোরো চাষে মাঠে নেমে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার থেকে মাঠে নেমেছেন তিস্তার সুবিধাভোগী চাষীরা। তারা বলছেন, যদি পানি সঠিকভাবে পাওয়া যায় তাহলে লাখো কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে। ফলাবে সোনালী ফসল।

    তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি স্লুইস গেইট বন্ধ রেখে সেচ ক্যানেলে নদীর পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে। পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে এবার ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে।

    রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ পর্যন্ত সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহ শুরু করা হয়। তিস্তা সেচ কমান্ড এলাকার সেচ খালে পানি পেয়ে কৃষকরা বোরো চারা রোপণে নেমে মাঠে নেমে পড়ছে।

    গংগাচড়ার চাষী সুজন বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে জমিতে পানি পেয়েছি, এবার ৪ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করছি, যদি পানি সঠিকমত পাই তাহলে ভালো ফলন হবে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের মুখ্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অমলেশ চন্দ্র রায় বাসসকে জানান, এবার ২০২৫ সালে তিস্তা সেচ প্রকল্পের রবি মৌসুমের বোরো ধান উৎপাদনে সেচ লক্ষ্যমাত্র ৫৫ হাজার ৭০০ হেক্টর।

    তিনি জানান, রংপুর জেলায় ১২ হাজার হেক্টরের মধ্যে তারাগঞ্জ উপজেলায় তিন হাজার হেক্টর, বদরগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার হেক্টর, গঙ্গাচরা উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টর ও রংপুর সদরে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে বৃহস্পতিবার থেকে পানি সরবরাহ শুরু করা হয়েছে।

    সূত্র জানায়, তিস্তা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রবাহিত অন্যতম একটি অভিন্ন নদী।

    বাপাউবোর উত্তরাঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বাসসকে জানান, এ প্রকল্পটি বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতার আংশিক ব্যবহার করে রংপুরের ৪টি উপজেলায় সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। নতুন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে এর সক্ষমতা বহুলাংশে বাড়বে।

  • খলিলুর রহমানের চায়না কমলা বাগান: কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে এক নতুন দৃষ্টান্ত

    খলিলুর রহমানের চায়না কমলা বাগান: কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে এক নতুন দৃষ্টান্ত

    আসিয়া আফরিন চৌধুরী     লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা পশ্চিম সারডুবী গ্রামে শিক্ষকের বাগান হয়ে উঠেছে এক অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু। শিক্ষক খলিলুর রহমান, যিনি একই সাথে মিলন বাজার মোজাম্মেল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কৃষির প্রতি তার গভীর ভালোবাসা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলভাবে চায়না কমলার চাষ শুরু করেছেন। তার উদ্ভাবনী উদ্যোগ আজ এলাকাবাসীকে প্রেরণা যোগাচ্ছে, এবং তার বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।

    চায়না কমলার সফল চাষের গল্প

    ২০১১ সালে খলিলুর রহমান প্রথম দার্জিলিং জাতের কমলা চাষ শুরু করেন, ১ বিঘা জমিতে। শুরুতে গাছের সংখ্যা ছিল ১৫২টি, এবং ৪ বছরের মধ্যে ফল আসা শুরু হয়। এর পর, ২০২০ সালে তিনি ১ একর জমিতে চায়না জাতের ৪০০ কমলা গাছের বাগান স্থাপন করেন। কমলার গাছগুলো অতি যত্নে পরিচর্যা করার ফলে, ২০২৪ সালের শেষে প্রতিটি গাছে আশানুরূপ ফল এসেছে। বর্তমানে গাছগুলোতে হলুদ রঙের সুস্বাদু কমলা ঝুলছে, যা এলাকাবাসীর চোখে এক নতুন প্রেরণার সৃষ্টি করেছে।

    প্রকৃতির শোভা ও কৃষির সাফল্য

    খলিলুর রহমানের চায়না কমলার বাগান শুধু কৃষি সাফল্যই নয়, প্রকৃতির শোভাও। তার বাগানে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট গাছের মধ্যে কমলা থোকায় থোকায় ঝুলছে। সবুজ পাতার ফাঁকে হলুদ কমলার এই দৃশ্য যেন এক স্বর্গীয় সৌন্দর্য। গাছগুলোর ডালগুলো ভারী হয়ে মাটির দিকে নুয়ে পড়েছে, যা দেখার মতো। এটি শুধু একটি কমলা বাগান নয়, বরং এক ধরনের শিল্প সৃষ্টি, যেখানে কৃষির সৌন্দর্য এবং বাণিজ্যিক সাফল্য মিলেমিশে একত্রিত হয়েছে।

    অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

    খলিলুর রহমানের কমলা বাগান একটি ব্যবসায়িক সফলতার চিত্র। ২০২৪ সালে তার বাগান থেকে কমলা বিক্রি করেছেন প্রায় লক্ষাধিক টাকার। এই সফলতার পেছনে রয়েছে তার কঠোর পরিশ্রম, কৃষি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান এবং বাগানের প্রতি নিবিড় মমতা। তার এই উদ্দীপনা শুধু একাধিক ব্যক্তি ও পরিবারের জীবন পরিবর্তন করেছে, বরং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতেও কমলা চাষে আগ্রহী লোকের সংখ্যা বাড়িয়েছে। খলিলুর রহমানের বাগান দেখে অনেকেই কৃষির দিকে মনোযোগী হয়েছেন এবং চায়না কমলার চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

    জাতীয় পুরস্কার ও সম্মাননা

    নিজের খামারে কৃষির উন্নয়ন ঘটিয়ে সফলতার জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন, যা তার পরিশ্রমের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এই পুরস্কার তার জন্য এক বড় ধরনের সম্মান এবং একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা এলাকাবাসী এবং দেশের অন্যান্য কৃষকদের জন্যও এক অনুপ্রেরণা।

    ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং দৃষ্টিভঙ্গি

    এখন খলিলুর রহমানের পরিকল্পনা আরও বড় পরিসরে চাষাবাদ চালানো এবং কমলার বাগানকে আরও সম্প্রসারিত করা। তার লক্ষ্য কমলা চাষের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের আরো উপার্জনবান্ধব করার পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন ঘটানো।

    খলিলুর রহমানের চায়না কমলা বাগান শুধুমাত্র কৃষির সফলতা নয়, একটি নৈতিক শিক্ষা ও উৎসাহের উৎস হিসেবে কাজ করছে। তার উদ্যোগ শুধুমাত্র একান্ত কৃষি চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের যুবকরা যাতে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি ঘটায় এবং তা থেকে লাভবান হয়, সেই দিকে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

  • রংপুরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রবি মৌসুমে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

    রংপুরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রবি মৌসুমে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

    নিজস্ব সংবাদদাতা রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলায়  রবি মৌসুমে ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

    উক্ত কর্মসূচির আওতায় দশটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট ৩৪৫০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সহায়তা পাবেন। এক্ষেত্রে গম বীজ ও সার সহায়তা পাবেন ২৪০ জন, সরিষা বীজ ও সার সহায়তা পাবেন ২৬২০ জন, ভূট্টা বীজ ও সার সহায়তা পাবেন ৫২০ জন,  সূর্যমুখী বীজ ও সার সহায়তা পাবেন ২০ জন, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ ও সার সহায়তা পাবেন ২০ জন ও অড়হড় বীজ ও সার সহায়তা পাবেন ৩০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক।

    একজন কৃষক কেবলমাত্র একটি ফসলের বীজ ও সার সহায়তা পাবেন।

    প্রতিজন কৃষক ০১ (এক) বিঘা জমির জন্য গম ফসলের ক্ষেত্রে ২০ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার, সরিষা ফসলের ক্ষেত্রে ০১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার, ভূট্টা ফসলের ক্ষেত্রে ০২ কেজি বীজ, ২০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার, সূর্যমুখী ফসলের ক্ষেত্রে ০১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার, শীতকালীন পেঁয়াজ ফসলের ক্ষেত্রে ০১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার এবং অড়হড় ফসলের ক্ষেত্রে ০২ কেজি বীজ, ০৫ কেজি ডিএপি সার ও ০৫ কেজি এমওপি সার সহায়তা পাবেন।

    বুধবার উক্ত বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন মোছাঃ মলিহা খানম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত), বদরগঞ্জ, রংপুর। আরও উপস্থিত ছিলেন মোছাঃ সেলিনা আফরোজ, উপজেলা কৃষি অফিসার এবং ডা: স্বপন চন্দ্র সরকার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার, বদরগঞ্জ, রংপুর।

    সরকারের গৃহীত উক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে রবি মৌসূমে গম, সরিষা, ভূট্টা, সূর্যমুখী, শীতকালীন পেঁয়াজ ও অড়হড় ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।

    facebook page

    কৃষি প্রোডাক্ট

  • কৃষকের জন্য ১৫০০ টাকায় ধান কেনার দাবি উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ে

    কৃষকের জন্য ১৫০০ টাকায় ধান কেনার দাবি উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ে

    ঠাকুরগাঁও শহরে কৃষকদের পক্ষে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আমন ধানের দাম মণপ্রতি ১৫০০ টাকা নির্ধারণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার শহরের চৌরাস্তায় বাংলাদেশ কৃষক সমিতির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

    সমাবেশের আগে শহরের সাধারণ পাঠাগারের সামনে কৃষক ও কৃষক সমিতির নেতারা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হন। এরপর একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে কৃষকদের ১২ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি পেশ করেন।

    পথসভায় বক্তারা বলেন, কৃষির গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই, কারণ দেশের অর্থনীতি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি, উৎপাদন খরচ বাড়লেও কৃষকরা যথাযথ দাম পাচ্ছেন না। ধানের দাম যদি ১৫০০ টাকা না হয়, তবে কৃষকরা সঠিক দাম পাবে না এবং তাদের জীবনযাত্রা আরো কঠিন হয়ে পড়বে। বক্তারা আরও দাবি করেন, প্রতি ইউনিয়নে ক্রয়কেন্দ্র খুলে কৃষকদের সরাসরি ধান কেনার ব্যবস্থা করা উচিত এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

    facebook page

    কৃষি প্রোডাক্ট