Category: আমেরিকা

  • ইউএসএআইডির তহবিল স্থগিতে বন্ধ হচ্ছে কৃষি গবেষণা ল্যাব, নতুন সংকটে কৃষকেরা

    ইউএসএআইডির তহবিল স্থগিতে বন্ধ হচ্ছে কৃষি গবেষণা ল্যাব, নতুন সংকটে কৃষকেরা

    ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে। এর ফলে ১৩টি অঙ্গরাজ্যের ল্যান্ড–গ্রান্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবস্থিত কৃষি গবেষণা ল্যাবরেটরিগুলোর কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এই ল্যাবগুলো কৃষিপ্রযুক্তি, বীজ উন্নয়ন এবং বিদেশে মার্কিন পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের জন্য গবেষণা করছিল। এই বন্ধ হওয়া ল্যাবগুলো কৃষকদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে, বিশেষ করে এনজিওটির কার্যক্রম বন্ধ করায় সরকারি খাদ্য ক্রয়, কৃষি অনুদান এবং ঋণ কর্মসূচিগুলোও ব্যাহত হচ্ছে।

    ল্যান্ড–গ্রান্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফেডারেল সরকারের দেওয়া জমিতে প্রতিষ্ঠিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ল্যাবগুলো ইউএসএআইডির ‘ফিড দ্য ফিউচার ইনোভেশন ল্যাবস’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে অর্থায়িত হতো। এই ল্যাবগুলো মালাবি, তানজানিয়া, বাংলাদেশ ও রুয়ান্ডার মতো দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বে গবেষণা চালায়। এই গবেষণাগুলো মার্কিন কৃষকদের জন্য উপকারী ছিল। কারণ, বিদেশে পরিচালিত প্রোগ্রামগুলো উৎপাদন পদ্ধতি উন্নত করতে বা কীটপতঙ্গের আগাম সতর্কতা দিতে পারে।

    ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়াবিন ইনোভেশন ল্যাবের প্রধান পিটার গোল্ডস্মিথ বলেছেন, ‘মার্কিন কৃষকদের জন্য এটি ভালো নয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, তাঁর ল্যাবের ৩০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে এবং ল্যাবটি ১৫ এপ্রিল বন্ধ হয়ে যাবে। এই ল্যাবটি আফ্রিকার দেশগুলোতে সয়াবিন চাষের জন্য কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছিল এবং সয়া প্রক্রিয়াকরণ কারখানা নির্মাণকারী কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করছিল।

    পেন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ইউএসএআইডি ইনোভেশন ল্যাবের পরিচালক ডেভিড হিউজ বলেছেন, ‘এটি কৃষকদের কীটপতঙ্গ এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং মার্কিন কৃষকদের রোগবালাই প্রতিরোধে সাহায্য করার আমাদের সক্ষমতা সত্যিই কমিয়ে দেবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, তানজানিয়ায় একটি ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য চলমান একটি গবেষণা বন্ধ হয়ে গেছে। এই রোগ একটি জাবপোকার মাধ্যমে ছড়াচ্ছিল এবং কলা ফসলের ক্ষতি করছিল।

    মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ডেভিড টসচিরলি। যিনি ফিড দ্য ফিউচার ইনোভেশন ল্যাব কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, বলেছেন, এই ল্যাব নেটওয়ার্কে প্রায় ৩০০ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন এবং তাঁদের বিদেশে চার হাজারেরও বেশি সহযোগী রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি বিশ্বের কাছে আমেরিকার একটি ভাবমূর্তি তুলে ধরে যা খুবই প্রশংসিত।’ তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরনের কাজ জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও উপকারী।

    গত জানুয়ারির শেষ নাগাদ ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি সহায়তা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পরে ১৭টি ল্যাবেরই ওয়ার্ক অর্ডার বন্ধ হয়ে গেছে। টসচিরলি বলেন, ইউএসএআইডির তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে কোনো নির্দেশনা বা প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়নি। কিছু ল্যাব তাদের হোস্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কিছু খরচ বহন করার জন্য আবেদন করছে, তবে সাফল্য আশানুরূপ নয়।

    মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি টসচিরলির ল্যাবকে কর্মীদের রাখার অনুমতি দিয়েছে, এই আশায় যে ইউএসএআইডি শেষ পর্যন্ত ব্যয় অনুমোদন করবে। তবে গোল্ডস্মিথ বলেছেন, তিনি তাঁর ল্যাবের সমস্ত কর্মীকে ছাঁটাই করেছেন এবং ল্যাবটি বন্ধ করার পরিকল্পনা করছেন।

    ট্রাম্প প্রশাসনের অন্য কর্মকাণ্ডও মার্কিন কৃষকদের প্রভাবিত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২৪ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশি সহায়তা স্থগিত করার আদেশের পরে কয়েক মিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য ক্রয় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দেশজুড়ে কৃষকেরাও বলছেন, তাঁরা ট্রাম্পের ফেডারেল ঋণ এবং অনুদান স্থগিত করার নির্দেশনার কারণে বিভিন্ন ফেডারেল কৃষি কর্মসূচি থেকে অর্থ পাচ্ছেন না। আদালত এসব অর্থ ছাড় ঠেকিয়ে রেখেছে।

    এই অবস্থায় মার্কিন কৃষকেরা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। কৃষি গবেষণা ল্যাবগুলো বন্ধ হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে কৃষিপ্রযুক্তি এবং উৎপাদন পদ্ধতির উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দাবানল, পালাচ্ছে মানুষ

    যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দাবানল, পালাচ্ছে মানুষ

    ক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্চেলসে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ঘরবাড়িসহ সবকিছু। আগুনের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে সেখান থেকে পালাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সংবাদমাধ্যম লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ১০০ কিলোমিটার গতিতে বাতাস বইতে থাকে। এতে তিনটি বড় দাবানলের শক্তি বৃদ্ধি পায়। আগুনে দগ্ধ হয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

    এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে পালিসাদেস দাবানলটি। এটির আগুনে ১৫ হাজার ৮০০ একর জমি পুড়ে গেছে। এ থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি কোনো কিছু বাদ যায়নি।

    অপরদিকে ইটন দাবানলে ১০ একর জায়গা ভষ্মিভূত হয়ে গেছে। ছাই হয়েছে আলটাডেনা এবং পাসাডেনার বহু ঘরবাড়ি। এ দুটির পাশাপাশি তাণ্ডব চালাচ্ছে সানসেট এবং হার্স্ট দাবানল। এরমধ্যে নতুন করে হলিউড হিলে আগুন ছড়িয়েছে।

    ভয়াবহ আগুনে বেশ কয়েকজন হলিউড তারকার ঘর পুড়ে গেছে। তারা নিজেরাই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন।

    আগুনের কারণে সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দাবানলের আগুনের তীব্রতা এতই বেশি যে অনেকে তাদের গাড়ি রেখেই পালাতে বাধ্য হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সাংবাদিক অ্যান্ডারসন কুপার আলটাডেনা থেকে জানিয়েছেন, সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে আলটাডেনার এমন কিছু নেই যা দাবানলের আগুনে পুড়েনি।

    দাবানলের কারণে অনেক জায়গার মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া অনেকে খাবার পানির অভাবে পড়েছেন। সিএনএন জানিয়েছে, অন্তত দুটি জায়গার মানুষকে আপাতত কলের পানি না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, এ মুহূর্তে যেন শুধুমাত্র বোতলজাত পানি পান করেন তারা।