Category: কৃষি প্রযুক্তি

  • পুঠিয়ায় পেঁয়াজের কদম চাষে কৃষকের আগ্রহ বৃদ্ধি

    পুঠিয়ায় পেঁয়াজের কদম চাষে কৃষকের আগ্রহ বৃদ্ধি

    পুঠিয়া, রাজশাহী: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় পেঁয়াজের কদম (বীজ) চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ভালো দাম ও লাভজনক চাষাবাদের কারণে কৃষকরা এবার পেঁয়াজ কদম উৎপাদনে বেশি আগ্রহী। তবে অতিরিক্ত পুকুর খননের ফলে কৃষি জমি কমে যাওয়ায় কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হয়েছে চাষিদের।

    আবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা

    পুঠিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, গত বছর ৭০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের কদম চাষ হয়েছিল। চলতি বছরে ৮০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৭৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। শিলমাড়িয়া, ভাল্লুক গাছি ও জিউপাড়া ইউনিয়নে পেঁয়াজের কদমের আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে।

    কৃষকদের মতামত ও চাষাবাদের চ্যালেঞ্জ

    স্থানীয় কৃষক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, “কালো সোনা খ্যাত পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে এবার আশানুরূপ ফলন হবে বলে মনে করছি। প্রতি বিঘায় ১২০ কেজির বেশি ফলন হতে পারে। আমরা কৃষি বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি এবং পরাগায়ন সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে পরামর্শ পাচ্ছি।”

    তবে অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, পূর্বে যেখানে পেঁয়াজ চাষ হতো, এখন সেখানে পুকুর হওয়ায় তারা কদম চাষ করতে পারছেন না।

    কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পেঁয়াজের কদমের আবাদ বেড়েছে। কৃষকরা উচ্চমূল্যে বীজ কিনতে বাধ্য হওয়ায় বেশি পরিমাণ বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে চাষ করেছে।

    তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পুঠিয়া উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলা ও উপজেলায় বীজ সরবরাহ সম্ভব হবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সার্বিক কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে কৃষি অফিস।

  • মাটিবিহীন চাষাবাদ: আধুনিক কৃষির নতুন দিগন্ত 

    মাটিবিহীন চাষাবাদ: আধুনিক কৃষির নতুন দিগন্ত 

    আসিয়া আফরিন চৌধুরী

    বর্তমান যুগে খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাটিবিহীন চাষাবাদ, বিশেষ করে হাইড্রোপনিকস, অ্যাকোফনিকস এবং এয়ারোপনিকস, এই সমস্যাগুলির সমাধানে একটি যুগান্তকারী পদ্ধতি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে কৃষকরা উৎপাদন বাড়াতে এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করতে সক্ষম হচ্ছেন।

    মাটিবিহীন চাষাবাদের প্রক্রিয়া

    মাটিবিহীন চাষাবাদে মূলত মাটির ব্যবহার নেই। বরং এখানে গাছের শিকড়কে পুষ্টি সমৃদ্ধ জল বা নানান মাধ্যমের মাধ্যমে লালন পালন করা হয়। হাইড্রোপনিকস একটি অত্যন্ত পরিচিত পদ্ধতি, যেখানে গাছের শিকড়কে পুষ্টিকর পানির সলিউশনে রাখা হয়। এই পদ্ধতিতে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ভালো ফলন দেয়।

    অন্যদিকে, অ্যাকোফনিকসে মাছের চাষের সঙ্গে গাছের চাষকে সংযুক্ত করা হয়। এখানে মাছের বর্জ্য গাছের জন্য পুষ্টি হিসেবে কাজ করে, ফলে দুটি উৎপাদন একসঙ্গে হয়। এয়ারোপনিকসে, গাছের শিকড়গুলো কুয়াশায় ভিজিয়ে রাখা হয়, যা গাছকে দ্রুত বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

    সুবিধাসমূহ

    মাটিবিহীন চাষাবাদের অনেক সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এটি জল সংরক্ষণে সহায়ক। এই পদ্ধতিতে জল ব্যবহার কম হয়, যা পরিবেশের জন্য একটি বড় সুবিধা। উদাহরণস্বরূপ, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে প্রথাগত কৃষির তুলনায় ৯০% পর্যন্ত কম জল ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয়ত, স্থান সাশ্রয় সম্ভব। শহরাঞ্চলে জমির অভাব দেখা দিচ্ছে, এবং মাটিবিহীন চাষাবাদ এই সমস্যার সমাধান করে। এটি সীমিত জায়গায় অধিক ফলন উৎপাদন করতে সক্ষম।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো রোগ ও পোকামাকড়ের সংক্রমণ কমে আসা। যেহেতু এখানে মাটি ব্যবহার করা হয় না, তাই মাটির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন রোগ এবং পোকামাকড়ের প্রাদুর্ভাব অনেকটাই হ্রাস পায়। এর ফলে, কৃষকরা রসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমাতে পারে, যা পরিবেশের জন্য আরো নিরাপদ।

    জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণ

    মাটিবিহীন চাষাবাদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে খাদ্য উৎপাদনের জন্য জমির অভাব দেখা দিয়েছে। মাটিবিহীন চাষাবাদ শহরাঞ্চলে সহজে খাদ্য উৎপাদন করতে সহায়ক।

    বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং প্রযুক্তির উন্নতির ফলে মাটিবিহীন চাষাবাদ আরো কার্যকর হয়েছে। নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে এই পদ্ধতিতে উৎপাদন এবং ফলন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে। স্বাস্থ্যসম্মত ও জৈব খাদ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহও এই চাষাবাদকে জনপ্রিয় করছে।

    এছাড়াও, বিভিন্ন সরকার ও বেসরকারি সংস্থা মাটিবিহীন চাষাবাদকে সমর্থন করছে। তারা বিনিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং প্রণোদনা দিয়ে কৃষকদের এই পদ্ধতিতে উৎসাহিত করছে। এই উদ্যোগগুলো কৃষকদের জন্য নতুন বাজারের দরজা খুলে দিয়েছে।

    ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

    মাটিবিহীন চাষাবাদ খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। কৃষি গবেষকরা এ পদ্ধতিতে আরও নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে, শহরাঞ্চলে খাদ্য উৎপাদনের জন্য এটি একটি কার্যকর সমাধান।

    প্রযুক্তির উন্নতি এবং গবেষণার মাধ্যমে মাটিবিহীন চাষাবাদকে আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ডেটা বিশ্লেষণ ও সেন্সর প্রযুক্তির সাহায্যে কৃষকরা তাদের উৎপাদনকে আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

    মাটিবিহীন চাষাবাদ আধুনিক কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। এটি খাদ্য উৎপাদনকে আরও কার্যকর ও টেকসই করে তুলছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এটি একটি সম্ভাবনাময় সমাধান। কৃষকদের জন্য এটি একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যেখানে তারা অধিক ফলন ও কম সম্পদের ব্যবহার করে টেকসই কৃষির লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। মাটিবিহীন চাষাবাদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা একটি টেকসই ও নিরাপদ খাদ্য ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।

    facebook page

    কৃষি প্রোডাক্ট

  • কৃষক বান্ধব স্কুল ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল’ – উন্নত কৃষি শিক্ষার পথ

    কৃষক বান্ধব স্কুল ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল’ – উন্নত কৃষি শিক্ষার পথ

    নাজনীন নাহার অনন্যা

    কিছুদিন যাবৎ কৃষক বান্ধব স্কুল বা পার্টনার ফিল্ড স্কুল (PFS) সম্পর্কে আমাদের কাছে কৃষক ভাইয়েরা জানতে চাচ্ছেন। তাদের প্রত্যেকেরই প্রধান জিজ্ঞাসা হলো কীভাবে PFS এর জন্য আদর্শ কৃষক বাছাই করব?

    তাই কৃষক ভাইদের এই সমস্যা সমূলে উৎপাটন করতে আমরা পাশে আছি সবসময়। তাহলে এখন আমরা জেনে নেই, এই কৃষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের জোর দিতে হবে।

    PFS নির্বাচনে প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে একই রকম আর্থ সামাজির অবস্থা এবং মানসিকতার বিষয়টি। একজন দরিদ্র কৃষক এবং একজন স্বচ্ছল কৃষকের চাহিদা, কাজের ইচ্ছে বা দৃষ্টিভঙ্গি একরকম হবে না। ফলে তারা একই গ্রুপে কাজ করলে বিভিন্ন সমস্যার উৎপত্তি হবে। একারণে একই রকম অবস্থার কৃষক নির্বাচন করতে হবে।  

    PFS সদস্য সংখ্যা

    প্রতিটা PFS এর জন্য ২৫ জনকে নির্বাচন করতে হবে। এই ২৫ জনের মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারী কৃষকের সমন্বয় করতে পারলে সুবিধা হবে। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র কৃষক ৮০% এবং মাঝারী বা বড় কৃষক ২০% রাখা যেতে পারে যদি তারা ক্ষুদ্র কৃষকদের মানসিকতার সাথে মিলে সুন্দরভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে তাহলে।

    তবে একই পরিবারে একাধিক কৃষক থাকলে সকলকে না নিয়ে ২৫ টি পরিবার থেকে ২৫ জন নির্বাচন করতে হবে। আর এর মধ্যে অবশ্যই ৩০% কৃষাণী নির্বাচন আবশ্যক। কৃষি ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

    সদস্য নির্বাচনে কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রতি মনোযোগ দেয়া যায়। এরকম একজন মানুষ থাকলে বাকি সবাই তার নির্দেশনায় বেশ ভালো পরিমাণ লাভ করতে পারবে এবং নতুন নতুন বিষয়গুলো শিখতে পারবে।

    PSF স্কুলের কৃষকের বয়সসীমা

    কৃষক বান্ধব স্কুল বা PFS এ কোনো স্কুল ছাত্র ছাত্রীকে নেয়া যাবে না। এর বয়সসীমা ১৮-৩০ বছরের বয়সের মধ্যে থাকতে হবে। কেননা বিভিন্ন প্রযুক্তিগত এবং বিভিন্ন বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই সংগঠন গঠিত যেখানে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সঠিক মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা কৃষক ছাড়া অন্য কারো জন্য করা কঠিন।

     সকলের লক্ষ্য থাকবে একই

     PFS এর সদস্যদের মনোভাব এমন হতে হবে যারা দলীয়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী। বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ হলেও যেনো কোনো প্রকার সমস্যা সৃষ্টি না হয় এই বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন সেমিনার এবং অন্যান্য কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।

    মূলত শিখতে আগ্রহী এবং উদ্যোগী কৃষকদের জন্যই এই স্কুল। পাশাপাশি তাদের নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মানসিকতা থাকতে হবে। PFS এর সকল সদস্যকে এক সাথে যেকোনো একটি উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ করতে হবে। এখানে আলাদা আলাদা করে ছোট দলে ভাগ হয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।

    নতুন প্রযুক্তির উপর আগ্রহ

    নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের প্রতি আগ্রহী হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কৃষক ভাইয়েরা প্রযুক্তি গ্রহণ করতে আগ্রহী থাকেন না ক্ষতি হওয়ার ভয়ে। এমনটা করা যাবে না। দক্ষতার সাথে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শিখতে হবে।সকল কৃষক সদস্যদের স্কুলের নিয়মনীতি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। কোনোভাবেই নীতি-বহির্ভূত কোনো কাজ করা যাবে না।

    অতএব, আপনিও যদি মনে করেন আপনি PFS এর জন্য যে কৃষক নির্বাচন করেছেন তার মধ্যে এসব গুণাবলী আছে তাহলে তাকে আপনি এর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

    পার্টনার ফিল্ড স্কুলের স্থান কীভাবে নির্বাচন করবেন?

    PFS স্থান নির্বাচনের জন্য মূলত খেয়াল করতে হবে যেনো এটি এমন কোনো জায়গায় স্থাপন করা হয় যার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। এতে কৃষকগণের জন্য সুবিধা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন কৃষি কর্মকর্তাগণ এবং অন্যান্য গবেষকবৃন্দও স্বচ্ছন্দ্যে এখানে এসে বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিতে পারবেন।

    পাশাপাশি, সেচ ব্যবস্থা ভালো হতে হবে। উৎপাদন কাজে যেসব জিনিস প্রয়োজনীয় তা সহজলভ্য হতে হবে। আর একটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটা হলো এই এলাকা বন্যামুক্ত হতে হবে। বন্যাপ্রবণ এলাকায় এটি নির্মাণ করা যাবে না।

     

  • অনাবাদি জমি চাষ সম্পর্কে কাজ করতে হবে : কৃষি উপদেষ্টার পরামর্শ

    অনাবাদি জমি চাষ সম্পর্কে কাজ করতে হবে : কৃষি উপদেষ্টার পরামর্শ

     

    কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী  বলেছেন, দেশের বর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পুরণে অনাবাদি জমি চাষ এর আওতায় আনার জন্য কাজ করতে হবে। সরকার তখনই কৃষক বান্ধব হবে, যখন কৃষকরা সঠিকভাবে বীজ ও সার পাবে, তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে।


    আজ বিকালে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। 
    উপদেষ্টা বলেন, সার নিয়ে যাতে কোন সংকট না হয় তার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। 
    তিনি বলেন ,‘কৃষিখাতের অগ্রগতির মূল কৃতিত্ব কৃষকদের। উৎপাদন করে কৃষকরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়ে, ন্যায্য দাম পায়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। কৃষি খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে আছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।


    সার ও বীজ সরবরাহ, পতিত জমি আবাদের আওতায় আনা, শস্য বহুমুখীকরণ, ফল-ফলাদির চাষ বৃদ্ধি ও মৌসুমি ফল রপ্তানি বাড়ানো, ইউরিয়া সারের ব্যবহার হ্রাস, বন্যা পরবর্তী জমির উপযোগী ফসল চাষ, শুষ্ক এলাকাকে সেচ ব্যবস্থার আওতায় আনাসহ কৃষিখাতকে আরও কার্যকর ও কৃষক-বান্ধব হওয়ার বিষয়ে এসময় আলোকপাত করেন উপদেষ্টা। 


    পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন উইং ঘুরে দেখেন উপদেষ্টা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ,  অতিরিক্ত সচিব ড. মলয় চৌধুরী  ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব)  মো. তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী এসময় উপস্থিত ছিলেন।

  • কৃষি ফার্ম কিংবা পোল্ট্রি ফার্ম দেয়ার আগে লক্ষ্য রাখুন  ৬টি দিক

    কৃষি ফার্ম কিংবা পোল্ট্রি ফার্ম দেয়ার আগে লক্ষ্য রাখুন ৬টি দিক

    আমাদের দেশের অনেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে কৃষি ফার্ম কিংবা পোল্ট্রি ফার্ম দেওয়ার কথা চিন্তা করে থাকেন। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ফার্ম দাঁড় করাতে পারেন না।তাই আপনাদের কথা চিন্তা করেই কৃষিবিদগণের সাথে কথা বলে আমরা জেনেছি কীভাবে একটি ফার্ম সঠিকভাবে গড়ে তোলা যায়। এখানে আমরা আলোচনা করব কীভাবে ধাপে ধাপে আপনি একটি পুরো ফার্ম গড়ে তুলতে পারেন।

    ফার্ম এর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ৬ টি প্রাথমিক ধাপ আছে যা আপনাদের মেনে চলা আবশ্যক। আসুন তাহলে এগুলো জেনে নেই-

    ১. কৃষি বা পোল্ট্রি ফার্মের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের সঠিক তালিকা

    আপনি যখন একটি ফার্ম করতে চাইবেন তখন আপনাকে প্রথমেই দেখতে হবে যে আপনার কাছে কী কী সম্পদ আছে বা কোন কোন জিনিস সহজলভ্য। এসব ক্ষেত্রে আপনার প্রথমেই প্রয়োজন হবে জমি। জমির আশপাশের পরিবেশ, যদি কৃষি ফার্ম করতে চান তাহলে জমির উর্বরতা, সেচ সুবিধা, মাটির ধরণ ইত্যাদিও বিবেচনায় আনতে হবে।

    এগুলো ছাড়াও শ্রমিকের সহজলভ্যতা, মূলধনের পরিমাণ, প্রয়োজনীয় মেশিনের সহজলভ্যতা, স্টোরহাউজ, পরিচালনার দক্ষতা, প্রয়োজনীয় জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ইত্যাদিও এই সম্পদের তালিকার মধ্যেই পড়ে। এগুলো আপনার কাছে কেমন পরিমাণে আছে তা প্রথমেই একটি তালিকা তৈরী করতে হবে।

    ২. সফল কৃষি বা পোল্ট্রি ফার্মের জন্য সঠিক এন্টারপ্রাইজ নির্বাচন

    আপনার সম্পদের তালিকা তৈরী করার পর ঠিক করতে হবে যে আপনার কাছে যা যা আছে তা নিয়ে আপনি কোম ধরণের ফার্ম তৈরী করতে চান। পোল্ট্রি ফার্ম, নাকি মাছের খাবার, নাকি কৃষি ফার্ম? কোনটি আপনার জন্য অধিক সুবিধাজনক হবে।

    ৩. প্রতি এন্টারপ্রাইজের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ

    এন্টারপ্রাইজ নির্বাচন করার পর আপনার সম্পদ নিয়ে আবারও হিসেবে বসতে হবে। অর্থাৎ এক একর বা এক হেক্টর জমি প্রতি কতটুকু ফসল ফলানোর সম্পদ আপনার কাছে আছে তা জানতে হবে। অথবা যদি গবাদি পশু নিয়ে কাজ করে থাকেন তাহলে পশু প্রতি কী পরিমাণ সম্পদ আপনার কাছে আছে তা দেখে নিতে হবে।

    ৪. সম্পূর্ণ এন্টারপ্রাইজের হিসাব

    ৩ নং ধাপে আপনি একটি ইউনিটের জন্য সম্পদের পরিমাণ হিসাব করেছেন। এবার করতে হবে সমগ্র। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার কাছে ৫ হেক্টর জমি থাকে সর্বমোট, তাহলে সম্পূর্ণ জমিতে ফসল ফলাতে কী পরিমাণ সম্পদ প্রয়োজন এবং তা আপনার কাছে আছে কিনা এটা দেখতে হবে। আপনার ফলন সম্পর্কে ধারণা দিতে এই ধাপ কাজে আসবে।

    ৫. SWOT analysis বা মূল্যায়ণ

    SWOT বিষয়টি প্রথমে একটু বুঝিয়ে বলি। S= strength বা শক্তি; W= Weakness বা দুর্বলতা; O=Opportunity বা সুযোগ এবং T=Threats বা ঝুঁকি।

    অর্থাৎ এই ফার্মটি যদি আপনি করেন তবে তার কতটুকু সুবিধা বা ঝুঁকি রয়েছে এবং এগুলো করতে কী কী সমস্যা আপনার হতে পারে তা বের করতে হবে। কোন জিনিস থাকার কারণে আপনি মনে করছেন ফার্মটি চলবে এবং কোন জিনিস না থাকার কারণে মনে হচ্ছে আপনি কিছুটা ঝামেলায় পরতে পারেন, সেসব বিবেচনা করতে হবে।

    ৬.পুরো ফার্মের পরিকল্পনা

    পুরো ফার্মটির নিয়ে এবার পরিকল্পনা করুন। কোন জায়গায় কী চাষ করবেন কিংবা গবাদি পশুর ফার্ম হলে কোন প্রাণির ফার্ম করবেন, কোথায় কী স্থাপন করবেন, কতটুকু জনবল আপনার লাগবে এই সব বিস্তারিত পরিকল্পনা করে ফেলুন।

    যেকোনো ফার্ম পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই ৬ টি ধাপে যদি আগান এবং ধাপগুলো সঠিকভাবে সম্পূর্ণ করেন, তাহলে নিশ্চিত থাকুন আপনার ফার্ম অবশ্যই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি লাভ এনে দিবে।