ফসলের রোগ শনাক্তকরণ ও নিরাময়ের মাধ্যমে কৃষকের সহায়তা করা বর্তমানে সময়ের দাবি। কেননা প্রত্যেক বছর বেশ ভালো পরিমাণ ফসল নষ্ট হচ্ছে এসব রোগের কারণে।
ফসলের রোগ-বালাই নিয়ে কৃষক ভাইদের নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে বেশ অনেক বছর যাবত। ক্রমাগত এ সমস্যা আরও বাড়ছে। তাই কৃষককে সহায়তা করতে ফসলের রোগ শনাক্তকরণ ও নিরাময় পদ্ধতি তাদের মাঝে পৌঁছে দেয়া আবশ্যক।উন্নত প্রযুক্তি এবং সঠিক পদ্ধতিগুলো কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সহজেই এসব ব্যাধি প্রতিকার সম্ভব। যার ফলে আমাদের দেশ হয়ে উঠবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাই এখন আমরা এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।
ফসলের রোগের লক্ষণ
এখন আমরা ফসলের কিছু রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নিব যেগুলো দেখলে বোঝা যাবে এসকল ফসলে পরিচর্যা প্রয়োজন।
- ফসলের পাতায়, শিরা কিংবা কান্ডে বাদামী দাগ দেখা গেলে বুঝতে হবে এই ফসল রোগাক্রান্ত। সাধারণত ছত্রাকের আক্রমণে এমন হয়ম
- পাত কুঁচকে গেলে কিংবা গাছ নেতিয়ে পড়লে সাধারণত ভাইরাসজনিত রোগগুলোকে নির্দেশ করে। পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে এই ভাইরাস ছড়ায়
- পাতা হলুদ হয়ে গেলে বা ফুল,ফল, মূল ইত্যাদি বিকশিত না হলে তা ফসলের পুষ্টি ঘাটতি কারন নির্দেশ করে।
- ফসলের পাতায় পঁচা দাগ দেখা তা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগসমূহকে নির্দেশ করে।
- অনেক সময় ফসল আকৃতিতে ছোট হয়। এর কারণ হতে পারে ভাইরাসের আক্রমণ, যেমন ধানের টুংরো রোগ কিংবা পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব।
- মূল পরিপূর্ণভাবে সংগঠিত না হলে তা ফসলের পুষ্টিহীনতাকে নির্দেশ করে।
ফসলের রোগ নির্ণয়ের কৌশল
এরপর, আমাদের জানতে হবে ফসলের রোগ নির্ণয়ের কৌশল সম্পর্কে। কেননা উপযুক্ত সময়ে রোগ নির্ধারণ না করতে পারলে তা বেশ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-
- ফসলের রোগ নির্ণয়ের জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা আবশ্যক। প্রত্যেকটি ফসল ভালোভাবে দেখার জন্য ড্রোন জাতীয় প্রযুক্তু ব্যবহার করা যেতে পারে যদি সম্ভব হয়।
- ফসলের রোগের কারণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে। যেমন কচি পাতা হলুদ হলে সালফার জাতীয় ঘাটতি নির্দেশ করে, কিন্তু বয়স্ক পাতা হলুদ হলে নাইট্রোজেন এর ঘাটতি বোঝায়।আবার, পাতায় হলুদ-সবুজ ছোপ ছোপ দাগ থাকলে ভাইরাসের আক্রমণ বোঝায়। এই ব্যাপারগুলো ভালোভাবে জানতে হবে।
- কোন সময়ে ফসলে কোন রোগ হতে পারে তা সম্পর্কিত বিস্তারিত ধারণা থাকতে হবে। এতে ২/১ টা গাছেও হঠাৎ সমস্যা দেখা দিলে সমাধান পদ্ধতি দ্রুত গ্রহণ করা যাবে।
কৃষি রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি
কৃষি উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সাহায্যে রোগ শনাক্তকরণ আমাদের দেশে এখনো তেমন প্রচলিত নয়। বর্তমানে অনেক ন্যানো প্রযুক্তির মেশিন আবিষ্কৃত হচ্ছে যার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব।এসব মেশিনের মাধ্যমে রোগের প্রকৃতিসহ রোগ কতটা গুরুতর সে সবকিছু নির্ণয় করা সম্ভব। যদিও আমাদের দেশে কৃষক পর্যায়ে এ প্রযুক্তি এখনো পৌঁছায় নি। যা কৃষকদের সহায়তায় দ্রুত নিয়ে আসা আবশ্যক।
ফসলের রোগ প্রতিরোধ পরামর্শ
ফসলের রোগের লক্ষণ, নির্ণয় কৌশল ইত্যাদি সম্পর্কিত বিভিন্ন কিছু আমরা এতক্ষণ জেনেছি। তবে কৃষকদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হলো প্রতিরোধ কৌশল। তাই এটা নিয়ে এখন বিস্তারিত আলোচনা করব আমরা।
- ফসলের রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে কৃষি বিজ্ঞানীরা সর্বদা ফসলের মিশ্র চাষ পদ্ধতিকে উপদেশ দেন। কেননা একই জীবাণু কেবল তার হোস্ট ফসলকেই আক্রমণ করে। ফলে মিশ্রিত থাকলে জীবাণু বা পোকামাকড় তেমন সুবিধা করতে পারে না।
- ফসলের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ফসলের ভাইরাস প্রতিরোধ এবং ছত্রাকজনিত রোগ নিরাময় পদ্ধতি- সবকিছুতেই জৈব ব্যবস্থাপনা আগে নিতে হবে। এরপর রাসায়নিক।
- জৈবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ফসলের মাটি উর্বর করতে হবে জৈব সার দ্বারা। এতে রাসায়নিক ব্যবহার কমবে এবং ফসলের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
- ফসলের রোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সেমিনার আয়োজন করা যেতে পারে যাতে কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ সরাসরি এ সম্পর্কে কৃষকদের জানাতে পারেন।
ফসলের রোগ নিরাময় করার ক্ষেত্রে কৃষকের সহায়তা কেন প্রয়োজন তা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। আমাদের কৃষক জনগোষ্ঠী এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তাই তাদের এসব কিছু সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দিয়ে রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে ফলন বাড়াতে হবে।

কৃষককন্ঠ ডেস্ক 






