Blog

  • অবসরের পর প্রিমিয়ার লিগে নেমে সংবর্ধনা পেলেন মুশফিক

    অবসরের পর প্রিমিয়ার লিগে নেমে সংবর্ধনা পেলেন মুশফিক

    মাঠ থেকে ওয়ানডে ছাড়ার সুযোগ নেননি মুশফিকুর রহিম। তবে ভিন্নভাবে মাঠেই পেলেন বিদায় সংবর্ধনা। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে সতীর্থরা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে দিলেন গার্ড অব অনার, কেক কেটে বিদায় উদাযপনও হলো মিরপুরে।

    বুধবার রাতে ফেসবুকে ওয়ানডে থেকে অবসর ঘোষণা দেন মুশফিক। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ব্যর্থতার পর সমালোচনায় পড়েছিলেন ৩৭ পেরুনো তারকা। তাকে আর ওয়ানডেতে বিবেচনা করা হবে এই নিয়ে উঠছিল প্রশ্ন। সংশয়ের মধ্যে না থাকে বিদায়ের পথে হাঁটেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার মিরপুরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে রূপগঞ্জ টাইগার্সের মুখোমুখি হয়েছিলো মুশফিকের মোহামেডান। খেলার শুরুতে ফিল্ডিং করতে নামার সময় কিপার মুশফিককে গার্ড অব অনার দেন সতীর্থরা।

    এই ম্যাচ রান তাড়ায় সহজেই মোহামেডান জিতে যাওয়ায় ব্যাট করা হয়নি মুশফিকের। ম্যাচ শেষে সবাইকে নিয়ে পরে তিনি কেক কাটেন। এই সময় জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির গেম ডেলোলাপমেন্টের কর্মকর্তা হাবিবুল বাশার সুমনও উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে ১৯ বছর বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে খেলায় মুশফিককে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

    মুশফিকুর ২৭৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন, যা বাংলাদেশের হয়ে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে সর্বোচ্চ। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান ৩৬.৪২ গড় এবং ৭৯.৭০ স্ট্রাইক রেটে ৭৭৯৫ রান সংগ্রহ করেছেন। যেখানে রয়েছে ৯টি সেঞ্চুরি ও ৪৯টি হাফ-সেঞ্চুরি।
  • ফুলে ভরপুর লিচু বাগান, রেকর্ড ফলনের আশা

    ফুলে ভরপুর লিচু বাগান, রেকর্ড ফলনের আশা

    লিচুর দেশ’ হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর। জেলাজুড়ে হাজার হাজার লিচু গাছ সেজেছে সোনালি ফুলে। অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত চাষাবাদের কারণে এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।

    বসন্তে ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে দিনাজপুরের ১৩ উপজেলার পাঁচ হাজার ৪১৮ বাগান লিচু ফুলের মিষ্টি সুবাসে মৌ মৌ করছে। এদের অধিকাংশই দিনাজপুর সদর, চিরিরবন্দর, খানসামা ও বীরগঞ্জ উপজেলায়।

    দিনাজপুরের লিচু বাগানে সোনালি ফুলে ভরপুর।

    চায়না-১, ২ ও ৩, বেদানা, বোম্বে, মাদ্রাজি ও কাথালির মতো জাতগুলো এসব বাগানে আধিপত্য করছে। কৃষকরা ফসল রক্ষায় সেচ, কীটনাশক ও সারে বিনিয়োগ করছেন।দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নুরুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে। আগামীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে প্রচুর ফলনের আশা করছি।’

    বাজারে দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা বেশি হওয়ায় রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে ব্যবসায়ীরা বাগানে গিয়ে চাষিদের আগাম টাকা দিচ্ছেন।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর দিনাজপুরে পাঁচ হাজার ৭৮৭ হেক্টর জমিতে ৪২ হাজার টন লিচু পাওয়া গেছে। বাজার দাম ছিল ৮০০ কোটি টাকা।

    লিচু দিনাজপুরের অন্যতম মৌসুমি অর্থকরী ফসল। যদিও এর ব্যতিক্রমী স্বাদ রপ্তানির সুযোগ তৈরি করেছে। তবে ফলটির পচনশীল প্রকৃতি ও যথাযথ প্রক্রিয়াকরণ সুবিধার অভাব রপ্তানি বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে।

    হিমাগার ও প্রক্রিয়াকরণ কারখানা গড়তে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কৃষকরা।চিরিরবন্দর উপজেলার লিচু চাষি বাবলু মিয়া অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে আমরা লিচুর জুস রপ্তানি করতে পারছি।’

    গত বছর প্রতি পিস লিচুর দাম ছিল তিন থেকে ১৮ টাকা। কৃষকরা দামের ওঠানামা সম্পর্কে সতর্ক আছেন। কারণ বাজারের পরিস্থিতি ও পরিবহন খরচ তাদের মুনাফাকে প্রভাবিত করে।

    খানসামা উপজেলার লিচু চাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কীটপতঙ্গের প্রাদুর্ভাব কিংবা একটা ঝড়ের কারণে কয়েক মাসের প্রচেষ্টা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের আবহাওয়া সম্পর্কে জানতে ও সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।’

  • দেশে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসের ক্লাস্টার শনাক্ত: আইসিডিডিআরবি

    দেশে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসের ক্লাস্টার শনাক্ত: আইসিডিডিআরবি

    দেশে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসের ক্লাস্টার শনাক্ত করা হয়েছে। ঢাকায় আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় পাঁচজন জিকা-পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

    গবেষণা দলের প্রধান শফিউল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘জিকা শনাক্ত হওয়া পাঁচ জন মহাখালী এলাকার বাসিন্দা এবং তাদের ঠিকানা এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধ্যের মধ্যে। এ কারণেই এটাকে জিকা ভাইরাসের ক্লাস্টার বলা হচ্ছে।’

    নিবন্ধে বলা হয়, ‘নমুনাগুলোর মধ্যে পাঁচজনের জিকা ভাইরাস সংক্রমণের প্রমাণ এই ইঙ্গিত দেয় যে বাংলাদেশে এ রোগের প্রকৃত সংক্রমণ জানতে দেশব্যাপী স্ক্রিনিং প্রয়োজন।’যাদের জিকা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে দুই বছরের মধ্যে তারা বিদেশ ভ্রমণ করেননি।

    পাঁচ রোগীর মধ্যে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন, যা দেশে জিকা-ডেঙ্গু যৌথ সংক্রমণের প্রথম রেকর্ড।২০১৬ সালে আইইডিসিআরের এক গবেষণায় ২০১৪ সালে সংগ্রহ করা রোগীর নমুনায় দেশে প্রথম জিকা-পজিটিভ রোগী শনাক্ত করা হয়েছিল।

    ওই রোগীর বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস না থাকায়, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্রাজিলে ২০১৫ সালে জিকা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের আগেই বাংলাদেশে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে।জিকা ভাইরাস শুধু মশার মাধ্যমেই নয়, যৌন মিলন, রক্ত সঞ্চালন, মা থেকে শিশুতে সংক্রমণ এবং শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে বলে জানিয়েছে আইসিডিডিআরবি।

  • নির্বাচন করবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের: বিবিসিকে প্রধান উপদেষ্টা

    নির্বাচন করবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের: বিবিসিকে প্রধান উপদেষ্টা

    আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন করবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত তাদের নিজেদেরই নিতে হবে বলে মন্তব্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার এই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা ও তার দল অংশ নেবে কিনা সে ব্যাপারটি এখনো পরিষ্কার নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে পরোয়ানা রয়েছে।

    এ ব্যাপারে ঢাকায় তার সরকারি বাসভবনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনুস বলেন, ‘তারা [আওয়ামী লীগ] করতে চায় কিনা, সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। আমি সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেয় কে নির্বাচনে অংশ নেবে।’

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি প্রথমে ‘বিস্মিত’ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম না যে আমাকে সরকারের নেতৃত্ব দিতে হবে।’

    অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, তার সরকারের অগ্রাধিকার ছিল আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা।

    ইউনুস বলেন, ‘এটা এমন যেন ১৬ বছরের এক ঘূর্ণিঝড়ে সব উড়ে গিয়েছিল। আমরা এখন ভাঙা টুকরোগুলো জড়ো করছি।’

    অধ্যাপক ইউনুসের ভাষ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে। তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কারগুলো দ্রুত করা যায়, তবে ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর যদি সংস্কারের দীর্ঘ প্রক্রিয়া থাকে, তবে আমাদের আরও কয়েক মাস লাগতে পারে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলা থেকে উঠে এসেছি। মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, নিহত হয়েছে।’

    দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাস পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘উন্নতি একটি আপেক্ষিক শব্দ। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করেন, তবে এটি ঠিক আছে বলে মনে হয়। এখন যা ঘটছে, তা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা নয়।’

    দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য পূর্ববর্তী সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘আমি বলছি না যে এই জিনিসগুলো ঘটা উচিত। আমি বলছি, আপনাকে বিবেচনা করতে হবে, আমরা কোনো আদর্শ দেশ বা আদর্শ শহর নই যা আমরা হঠাৎ তৈরি করেছি। এটি সেই দেশের ধারাবাহিকতা যা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, এমন একটি দেশ যা বহু বছর ধরে চলছে।’

    বাংলাদেশে চলমান সহিংসতায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং সরকার উল্টো ন্যায্যতা দিচ্ছে বলে আওয়ামী লীগ যে অভিযোগ তুলছে সে ব্যাপারেও প্রধান উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করে বিবিসি। জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আদালত আছে, আইন আছে, থানা আছে, তারা গিয়ে অভিযোগ করতে পারে, তাদের অভিযোগ নথিভুক্ত করতে পারে। …আপনি অভিযোগ করার জন্য থানায় যান এবং দেখুন আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে কিনা।’

  • দাদ নাকি রিংওয়ার্ম? ছত্রাকের সংক্রমণে ত্বকের যত সমস্যা

    দাদ নাকি রিংওয়ার্ম? ছত্রাকের সংক্রমণে ত্বকের যত সমস্যা

    দাদ রোগ একটি পরিচিত চর্মরোগ। এই রোগটি ছত্রাক বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের কারণে ঘটে। একে মেডিকেল ভাষায় টিনিয়া কর্পোরিস (Tinea Corporis )বা রিং ওয়ার্ম(Ring worm) বলা হয় তবে আমরা একে দাউদ বা দাদ নামে চিনি। এটিকে Ring worm বলা হয় কারণ এটি একটি বৃত্তাকার ফুসকুড়ি (রিংয়ের মতো আকৃতির) হয় যা সাধারণত দেখতে লাল হয় এবং চুলকায়।

    দাদ এক ধরনের ছোঁয়াচে রোগ।

    তাই পরিবারের কেউ এমন রোগে আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করা উচিত। না হলে অল্পদিনেই কিন্তু বাকিদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশে দাদ এর প্রাদুর্ভাব থাকলেও আমাদের দেশের মতো গরম ও ঘামপ্রবণ দেশে বেশি দেখা দেয়। সব বয়সের মানুষই এতে আক্রান্ত হতে পারে এবং একবার আক্রান্ত হলে বারবার আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। মনে রাখবেন, এ রোগের চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিতে খুবই সহজ এবং দ্রুত আরোগ্য হওয়া সম্ভব, তবে দেরি করলে অনেক সময় জটিলতা সৃষ্টি হয়ে থাকে। তাই দাদ হলে যথাসম্ভব দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। এজন্য নিজে ভালো থাকতে এবং পরিবারের সদস্যদেরও দাদ থেকে ভালো রাখতে হলে দাদ সর্ম্পকে সাধারণ কিছু তথ্য আপনার জানা থাকা একান্ত প্রয়োজন। যেমন:

    দাদ কেন হয়?

    দাদের লক্ষণ কি কি?

    দাদ রোগ কীভাবে ছড়ায়?

    দাদ প্রতিরোধে আপনার করণীয় কি?

    দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা কি?

    দাদ কেন হয়?

    ডার্মাটোফাইট (Dermatophyte) নামক ছত্রাকের সংক্রমণে এ রোগ হয়।

     দাদ রোগের লক্ষণসমূহঃ

    ১. দাদের প্রধান উপসর্গ হলো ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ। এই র‍্যাশ দেখতে সাধারণত আংটির মতো গোল হয়ে থাকে। রঙ হয় লালচে। তবে রোগীর ত্বকের বর্ণভেদে এটি রূপালি দেখাতে পারে। আবার আশেপাশের ত্বকের চেয়ে গাঢ় বর্ণও ধারণ করতে পারে।

    ২. আক্রান্ত স্থানটি বৃত্তাকার (গোলাকার চাকার ন্যায়) ধারন করে যার কিনারাগুলো সামান্য উঁচু হয়। দিনদিন চাকার আকৃতি বাড়তে থাকে আর কেন্দ্রের বা মাঝখানের দিকে ভালো হয়ে যেতে থাকে।

    ৩. ক্ষতস্থান থেকে খুঁশকির মত চামড়া উঠতে থাকে।

    ৪. কখনো কখনো পানি বা পুঁজ ভর্তি গোঁটা দেখা যায়।

    ৫. ক্ষতস্থান অত্যন্ত চুলকায়।

    ৬. ত্বক কিছুটা খসখসে বা শুকনো হয়ে যাওয়া।

    ৭. আক্রান্ত ত্বকের ওপরে চুল অথবা লোম থাকলে সেগুলো পড়ে যায়।

    দাদ বা রিংওয়ার্ম হওয়ার কারণ কি কি?

    ১) সাধারণত ভেঁজা, স্যাঁতস্যাঁতে ও আদ্র জায়গা ও আবহাওয়াতে, যেখানে পর্যাপ্ত আলোবাতাস পৌছায় না, এ ধরনের জায়গায় দাদ বা রিংওয়ার্ম সৃষ্টিকারী ছত্রাক জন্ম নেয়।

    ২) একই কাপড় না ধুঁয়ে দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে, নোংরা, অপরিস্কার কাপড়চোপড় পরিধান করলে।

    ৩) আক্রান্ত রোগীর জামা-কাপড়, গামছা, তোয়ালে, চিড়ুনি ইত্যাদি ব্যবহারেও দাঁদ হয়ে থাকে।

    ৪) আঁটসাঁট কাপড়চোপড় ও আঁটসাঁট অন্তর্বাস ব্যবহার করলে।

    ৫) পায়ের পুরনো মোজা দ্বারা সংক্রমণ হতে পারে।

    ৬) যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা সহজেই আক্রান্ত হতে পারেন।

    ৭) যারা বেশী ঘামেন।

    ৮) পোষ্য প্রাণী থেকেও ছড়াতে পারে।

    শরীরের কোন কোন স্থানে দাদ রোগ হয়?

    আমাদের শরীরের যেকোনো অংশে দাদ দেখা দিতে পারে। যেমন: কুঁচকি, মাথার ত্বক, হাত, পা, পায়ের পাতা, এমনকি হাত-পায়ের নখ। আক্রান্ত স্থানভেদে দাদের লক্ষণেও ভিন্নতা আসতে পারে। যেমন, র‍্যাশের আকারে ভিন্নতা থাকতে পারে। দাদের র‍্যাশ আস্তে আস্তে বড় হয়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। আবার কখনো কখনো একাধিক র‍্যাশ দেখা দিতে পারে।

    নিচে শরীরের বিশেষ কিছু স্থানের দাদ রোগ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হয়েছে—

    মাথার ত্বক: মাথার ত্বকে দাদ দেখা দিলে সাধারণত আক্রান্ত অংশের চুল পড়ে টাক সৃষ্টি হয়। টাক পড়া অংশে লালচে, গোলাকার ও ছোটো ছোটো আঁইশযুক্ত র‍্যাশ তৈরি হয়। এতে চুলকানি থাকতে পারে।

    ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়লে টাক পড়া অংশের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে এবং মাথার ত্বকে দাদ রোগের একাধিক র‍্যাশ তৈরি হতে পারে।

    মাথার ত্বকের দাদ রোগ প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

    পা ও পায়ের আংগুলের ফাঁকে

    এক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানটি লাল হয়ে ফুলে ওঠে এবং সেখান থেকে চামড়া উঠে যেতে থাকে। সেই সাথে পায়ের আঙ্গুলগুলোর ফাঁকে ফাঁকে চুলকানি হয়। বিশেষ করে পায়ের সবচেয়ে ছোটো আঙুল দুটির মাঝখানের অংশে চুলকানি হয়ে থাকে।

    পায়ে দাদ হলে পায়ের পাতা ও গোড়ালিও আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি গুরতর ক্ষেত্রে পায়ের ত্বকে ফোস্কা পড়তে পারে।

    (ছবি: পা ও পায়ের আংগুলের ফাঁকে দাদ রোগ)

    কুঁচকি

    কুঁচকিতে দাদ হলে সেটি সাধারণত ঊরুর ভেতরের দিকের ভাঁজে লাল লাল র‍্যাশ হিসেবে দেখা যায়। র‍্যাশে আঁইশ থাকে এবং চুলকানি হয়।

    দাঁড়ি

    গাল, চিবুক ও গলার ওপরের অংশে এই ধরনের দাদ দেখা দেয়। এটিও লাল লাল র‍্যাশ হিসেবে দেখা যায়, যাতে আঁইশ থাকে এবং চুলকানি হয়। দাঁড়িতে দাদ হলে অনেক সময় র‍্যাশের ওপরে চলটা পড়ে।আবার ভেতরে পুঁজও জমতে পারে। একই সাথে আক্রান্ত অংশের চুল পড়ে যেতে পারে।)

    চামড়ার যে জায়গায় সংক্রমণ হয় সেই জায়গার নামানুসারে দাঁদের নামকরণ করা হয়। উদাহরণ স্বরুপঃ

    ১)টিনিয়া কর্পোরিসঃশরীরের যেকোন জায়গায় ছত্রাকের  সংক্রমণ হলে তাকে সাধারণত টিনিয়া কর্পোরিস বলা হয়।

    ২)টিনিয়া ক্যাপিটিসঃ মাথার তালুতে ছত্রাক সংক্রমণ।

    ৩)টিনিয়া ক্রুরিসঃকুঁচকিতে ছত্রাকের সংক্রমণ।

    ৪)টিনিয়া আঙ্গুইয়ামঃ নখের ছত্রাক সংক্রমণ।

    ৫)টিনিয়া ম্যানুমঃ হাতের ছত্রাক সংক্রমণ।

    ৫)টিনিয়া পেডিস(অ্যাথলেটস ফুট):পায়ের ছত্রাক সংক্রমণ।

    দাদ রোগ কীভাবে ছড়ায়?

    এটি মূলত তিনভাবে ছড়ায়—

    ১. আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা তার ব্যবহার্য জিনিসের সংস্পর্শ থেকে। যেমন: চিরুনি, তোয়ালে ও বিছানার চাদর।

    ২. দাদ আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শ থেকে। যেমন: কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল ও ঘোড়া।

    ৩. দাদ রোগের জীবাণু আছে এমন পরিবেশ, বিশেষ করে স্যাঁতস্যাঁতে স্থান থেকে।

    প্রতিরোধঃ

    জীবন ধারা বা লাইফস্টাইলের পরিবর্তনের মাধ্যমে দাঁদ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস এবং দৈনন্দিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে দাঁদ সংক্রমণ রোধ করা যায়ঃ

    ১) ত্বক সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শুষ্ক রাখুন।

    ২)পরিস্কার,ঢিলেঢালা এবং শুষ্ক কাপড় (বিশেষত সুতি কাপড়) এবং অন্তর্বাস পড়িধান করুন।

    ৩) আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার্য জিনিস ব্যবহার করলেও দাদ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই দাদ আছে এমন কারও সাথে পোশাক, তোয়ালে, চাদর বা অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিস শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

    ৪) খুব আঁটসাঁট জুতা পরলে এবং অতিরিক্ত ঘাম হলে দাদ রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এমন জুতো ব্যবহার করুন যা আপনার পায়ের চারপাশে অবাধে বাতাস চলাচল করতে দেয়।

    ৫)আক্রান্ত স্থান স্পর্শ করার পর সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন,যাতে সংক্রমণ দেহের অন্যত্র না ছড়ায়।

    ৭) প্রতিদিনের পরিহিত কাপড়চোপড়, গেঞ্জি, মোজা, আণ্ডারওয়্যার প্রতিদিন ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

    ৯) পোষ্য-প্রাণীর সংস্পর্শে আসার পর হাত ধুয়ে ফেলুন।

    ১১) স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে দাদ রোগের ঝুঁকি বেশি। তাই জিম কিংবা চেঞ্জিং রুম ও পাবলিক গোসলখানা এর মতো স্থানে খালি পায়ে হাঁটা থেকে বিরত থাকা উচিত।

    দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

    যা করবেন

    ১.যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করুন।

    ২.ত্বক সবসময় শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন। আক্রান্ত ত্বক স্পর্শ করলে সাথে সাথে হাত ধুয়ে ফেলুন।

    ৩. দৈনন্দিন ব্যবহারের কাপড় (যেমন: তোয়ালে ও বিছানার চাদর) নিয়মিত ফুটন্ত পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

    যা করবেন না

    ১.দাদ হয়েছে এমন কারও ব্যবহার্য জিনিস (যেমন: তোয়ালে, চিরুনি ও বিছানার চাদর) ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

    ২.আক্রান্ত ত্বক স্পর্শ করা অথবা চুলকানো থেকে বিরত থাকুন। নাহলে দাদ শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি চুলকানোর কারণে ত্বকে ভিন্ন আরেকটি জীবাণু আক্রমণ করে ইনফেকশন ঘটাতে পারে, যা দাদের চিকিৎসাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    লেখকঃ

    ডাঃ মুরাদ আলী

    এমডি (হোমিওপ্যাথি), ভারত।

    লেকচারার ইন মেডিসিন (এস.এইচ.এম.সি.এইচ)

    ফাউন্ডার: ইনফো হোমিও।

    মোবাইল: ০১৭৩৩-১৯৩০৬১

  • নদী-খাল পুনরুদ্ধারে মাছ চাষের সম্ভাবনা

    নদী-খাল পুনরুদ্ধারে মাছ চাষের সম্ভাবনা

    বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তায় মাছ চাষের ভূমিকা অপরিসীম। তবে নদী-খাল দূষণ, অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে দেশের প্রাকৃতিক জলাধারগুলো ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। এতে ঐতিহ্যবাহী মাছ চাষ বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও তীব্রতর হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী-খাল পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের মাধ্যমে মাছ চাষের হার বাড়ানো সম্ভব। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি।

    গত এক দশকে বাংলাদেশের নদীগুলোর অবস্থা উদ্বেগজনক হারে অবনতি হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪০ শতাংশ নদীই এখন মৃতপ্রায়। খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হয়েছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে দেশে উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মাছের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। এই সংকট মোকাবিলায় নদী-খাল পুনরুদ্ধারকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন পরিবেশবিদ ও অর্থনীতিবিদরা।

    নদী দখল ও দূষণ রোধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। নদী খনন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতার অভাব এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই এসব উদ্যোগ সফল হচ্ছে না। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নদী-খাল পুনরুদ্ধারে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব। এ জন্য সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বেসরকারি সংস্থাগুলোও নদী পুনরুদ্ধারে এগিয়ে আসছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলি নদীর তীরে বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও কমিউনিটি ভিত্তিক নদী পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। ঢাকার কাছে তুরাগ নদী পুনরুদ্ধারে স্থানীয় যুবকদের নিয়ে কাজ করছে ‘নদী বাঁচাও আন্দোলন’। তাদের একজন কর্মী বলেন, “নদী বাঁচলে মাছ ফিরে আসবে, জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। আমরা স্থানীয় মানুষদের নিয়ে প্রতি সপ্তাহে নদী পরিষ্কার করি।”

    মাছ চাষের সঙ্গে নদী-খালের সম্পর্ক গভীর। প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের খাদ্য ও প্রজননের সুযোগ থাকে, যা বদ্ধ পুকুরে সম্ভব নয়। মৎস্য চাষিরা বলছেন, নদী-খাল সংস্কার হলে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে রুই, কাতলা, মৃগেল ও স্থানীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন। নরসিংদীর গোড়াইন গ্রামের মৎস্য চাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমাদের এলাকার খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাছের উৎপাদন কমে গিয়েছিল। গত বছর খালটি খনন করা হয়েছে, এখন আবার মাছের চাষ বাড়ছে।”

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী-খাল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি টেকসই মাছ চাষের কৌশল গ্রহণ করতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক খাদ্য শৃঙ্খল রক্ষা করা জরুরি। এ ছাড়া স্থানীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে গবেষণা বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “নদীর স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে হলে এর পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাছের অভয়াশ্রম তৈরির মাধ্যমে জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।”

    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নদী-খাল পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখলে বন্যা ও খরার ঝুঁকি কমে। এ ছাড়া মাছ চাষের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকাও সচল রাখা যায়। বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। তাই নদী রক্ষা শুধু পরিবেশের জন্য নয়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও জরুরি।

    সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ‘নদী ও খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ এর আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় ২০০টির বেশি জলাধার সংস্কারের কাজ চলছে। এ ছাড়া ‘জলাশয় সংরক্ষণ আইন-২০২৩’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নদী-খাল দখল বা দূষণ করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে আইনের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে।

    নদী-খাল পুনরুদ্ধারে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিউনিটি ভিত্তিক নদী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে তাদেরকে নদী রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সুন্দরবন অঞ্চলের ‘ম্যানগ্রোভ বনায়ন’ মডেল অনুসরণের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় মানুষদের সম্পৃক্ত করে কাজ করলে দখল ও দূষণ রোধে সচেতনতা তৈরি হবে।

    মাছ চাষের সম্প্রসারণে নদী-খালের পাশাপাশি হাওর, বাওড় ও বিল সংরক্ষণেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭০ লাখ হেক্টর জলাশয়ের মধ্যে মাত্র ২০ লাখ হেক্টরে নিয়মিত মাছ চাষ হয়। অব্যবহৃত জলাশয়গুলোকে কাজে লাগানো গেলে মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ।

    নদী-খাল পুনরুদ্ধার ও মাছ চাষের সমন্বিত উদ্যোগকে টেকসই করতে শিক্ষা ও গবেষণার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মৎস্য চাষের আধুনিক পদ্ধতি শেখানো হচ্ছে। এ ছাড়া ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করে নদীর পানির গুণাগুণ পর্যবেক্ষণ, মাছের রোগ নির্ণয় ও বাজার সংযোগের কাজও বাড়ানো হচ্ছে।

    পরিশেষে বলা যায়, নদী-খাল পুনরুদ্ধার কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, এটি খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জলবায়ু সহিষ্ণুতা অর্জনের মূল হাতিয়ার। সরকারি নীতি, বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগ ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের নদী আবার প্রাণ ফিরে পেলে মাছ চাষের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

     

  • ঠাকুরগাঁওয়ে হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই

    ঠাকুরগাঁওয়ে হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই

    মো: আবু শাহীন ,ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি

    ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৫ মার্চ) দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দনগর এলাকায় উড়াওপাড়া এলাকার তোতামিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে ১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও শহরের গোবিন্দনগর এলাকার তোতামিয়ার বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উড়াওপাড়া এলাকার তোতামিয়ার ছেলে প্রিয় ইসলামকে (১৭) আটক করেন।

    পরবর্তীতে একই এলাকার আরিফ (২৫), রাজা (২৩) ও বিজয় (২২) মাদকদ্রব্য কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রিয় ইসলামের হাতকড়া ছিনিয়ে তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। হামলায় সিপাহী ফেরদৌস কোবির বাঁধন ও এএসআই আব্দুল হালিম আহত হন।

    এ ঘটনায় পুলিশ অভিযানে নেমে ইমরান আলী (২৩) এবং খুশি আক্তার (১৮) সহ আরও কয়েকজনকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইমরান আলীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০০ টাকা জরিমানা ও ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    ঠাকুরগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ ফরহাদ আকন্দ জানান, প্রিয় ইসলামকে গ্রেপ্তার করার সময় তার সহযোগী যুবকরা এসে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

    এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘এটি মাদকবিরোধী একটি অভিযান ছিল। অভিযানে মাদক সেবনের সময় ইমরান আলীকে আটক করা হয়। তাকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।’

     

  • ইতিহাস গড়লো কৃষক ঐক্য পরিষদ: কৃষকের পণ্য সরাসরি ভোক্তার হাতে

    ইতিহাস গড়লো কৃষক ঐক্য পরিষদ: কৃষকের পণ্য সরাসরি ভোক্তার হাতে

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃবাংলাদেশের কৃষক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। মধ্যস্বত্বভোগী ও বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হলেও কৃষক ন্যায্যমূল্য পান না। এই চিত্র পরিবর্তন করতেই কৃষক ঐক্য পরিষদ এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছে—তারা কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তার হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। এই পদক্ষেপ দেশের কৃষিখাতের জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

    সাধারণত কৃষকের পণ্য বাজারজাত করতে একাধিক পর্যায়ে মধ্যস্বত্বভোগী লাভ করে, ফলে কৃষক তার প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। কৃষক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এই অবস্থা বদলাতে শুরু করেছে। তাদের কার্যক্রমের ফলে কৃষকরা সরাসরি তাদের উৎপাদিত পণ্য ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করতে পারছেন, ফলে কৃষিপণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

    এই উদ্যোগ কেবল কৃষকদেরই নয়, বরং সাধারণ ভোক্তাদের জন্যও উপকারী। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার মাধ্যমে পণ্যের দাম স্বাভাবিক ও সাশ্রয়ী হচ্ছে। ফলে ভোক্তারাও লাভবান হচ্ছেন, কারণ তারা ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য ক্রয় করতে পারছেন।

    দীর্ঘদিন ধরে কৃষিপণ্যের বাজার সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি ছিল। কৃষক ঐক্য পরিষদের কার্যক্রম এই সিন্ডিকেট ভাঙার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কিনে বাজারে প্রবাহিত করার মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পাচ্ছে।

    এই কার্যক্রমকে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের নিয়ে জরুরি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কৃষকদের সংগঠিত করে এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

    কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের সাশ্রয়ী দামে পণ্যপ্রাপ্তির জন্য এই উদ্যোগকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে আমাদের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।

    কৃষক ঐক্য পরিষদের এই যুগান্তকারী উদ্যোগ দেশের কৃষিখাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এটি শুধুমাত্র একটি বাজারব্যবস্থা নয়, বরং কৃষক-ভোক্তা সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত। দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব এই উদ্যোগকে সফল করার জন্য একসঙ্গে কাজ করা, যাতে কৃষকের ঘরে হাসি ফোটে এবং ভোক্তারা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পান।

  • ব্রয়লার বাচ্চার ব্রুডিং: প্রস্তুতি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

    ব্রয়লার বাচ্চার ব্রুডিং: প্রস্তুতি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

    আসিয়া আফরিন চৌধুরী  ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার পর কৃত্রিমভাবে তাপ প্রদান করে তাদের লালন-পালনের প্রক্রিয়াকে ব্রুডিং বলা হয়। নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং সুষ্ঠুভাবে বড় করা ব্রুডিং-এর প্রধান লক্ষ্য। ব্রুডিং-এর সময় নির্দিষ্ট মাত্রায় তাপ সরবরাহ করা হয়, যা ব্রুডিং তাপমাত্রা নামে পরিচিত। এ তাপ সরবরাহের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে ব্রুডার বলে। সাধারণত ঋতুভেদে ব্রয়লার বাচ্চাগুলোকে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ ব্রুডিং করা হয় যাতে তারা আরামবোধ করে এবং নিরাপদ থাকে।

    ব্রুডিং-এর উদ্দেশ্য

    • বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় তাপ সরবরাহ করা।
    • ধকল থেকে বাচ্চাদের রক্ষা করা।
    • খাদ্য ও পানি গ্রহণ নিশ্চিত করা।
    • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
    • দৈহিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
    • টিকার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা।

    ব্রুডিং-এর গুরুত্ব

    সাধারণত হ্যাচারিতে ডিম থেকে ফুটে বের হওয়ার পর বাচ্চাগুলো নিজেদের শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই ব্রুডিং দ্বারা তাদের জন্য পর্যাপ্ত তাপ সরবরাহ করা জরুরি। সাধারণত বাচ্চাগুলো ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই নিজেদের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অর্জন করে।

    বাচ্চাগুলোর পেটে অবশিষ্ট ডিমের কুসুম ধীরে ধীরে শোষিত হয়। একটি সদ্য ফুটে ওঠা ৪০ গ্রাম ওজনের বাচ্চার পেটে প্রায় ৪ গ্রাম কুসুম থাকে। যদি ব্রুডিং, খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা সঠিকভাবে করা হয়, তাহলে ৩-৪ দিনের মধ্যেই কুসুম শোষিত হয়। তবে ব্রুডিং সঠিকভাবে না হলে এই কুসুম জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে বাচ্চার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং খামারে লোকসানের কারণ হতে পারে।

    ব্রয়লার বাচ্চার ব্রুডিং প্রস্তুতি

    সুষ্ঠুভাবে ব্রুডিং সম্পন্ন করতে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা উচিত:

                  পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা:

      • শেডের দেয়াল চুনকাম করতে হবে।
      • শেডের ভেতর ও বাইরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
      • জীবাণুনাশক ছিটিয়ে শেডকে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
      • খাদ্যপাত্র, পানির পাত্র, ব্রুডার, চিকগার্ড, তুষ ইত্যাদি ধুয়ে রোদে শুকিয়ে জীবাণুমুক্ত করা প্রয়োজন।
      • শেডের মেঝে কাঁচা হলে জীবাণুনাশক (যেমন ৯ লিটার পানিতে ১ লিটার ফরমালিন) প্রয়োগ করতে হবে।সঠিক তাপমাত্রা ও পরিবেশ নিশ্চিত করা:
        • শেডের পর্দা বন্ধ রাখতে হবে, তবে ওপরের দিকে ১ ফুট খোলা রাখতে হবে।
        • শুকনো মেঝেতে নতুন তুষ বিছিয়ে দিতে হবে।
        • ব্রুডার এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যাতে প্রয়োজনে ওঠানো-নামানো যায়।
        • ব্রুডারের সব লাইট কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করা জরুরি।
        • চিকগার্ড দিয়ে ব্রুডার, খাদ্যপাত্র ও পানির পাত্র ঘিরে রাখতে হবে।
        • শেডের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য শেডের চার কোনায় ও মাঝখানে থার্মোমিটার স্থাপন করা দরকার।
    1. ফিউমিগেশন প্রক্রিয়া:
      • বাচ্চা তোলার ২৪ ঘণ্টা আগে থেকেই ব্রুডার চালু রেখে তাপমাত্রা ঠিক রাখতে হবে।
      • ব্রুডারের তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট) রাখা উচিত।
      • শেডের দরজা ও পর্দা বন্ধ করে ফরমালিন ও পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে ফিউমিগেশন করতে হবে।
      • ফিউমিগেশনের সময় সতর্ক থাকতে হবে যাতে ধোঁয়া চোখে না লাগে।

    ব্রুডিং-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

    • উন্নতমানের হ্যাচারি থেকে স্বাস্থ্যকর ও সুস্থ ব্রয়লার বাচ্চা সংগ্রহ করা।
    • ব্রুডিং সংক্রান্ত পর্যাপ্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
    • আধুনিক ব্রুডিং পদ্ধতি (যেমন গ্যাস ব্রুডিং) ব্যবহার করা।
    • প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি (ফিডার, ড্রিংকার, লিটার, থার্মোমিটার, চিকগার্ড ইত্যাদি) যথাযথভাবে স্থাপন করা।
    • উন্নতমানের খাদ্য, নিরাপদ পানি এবং নির্দিষ্ট সময়ে টিকা প্রদান নিশ্চিত করা।
    • খামারে জীব নিরাপত্তা (বায়োসিকিউরিটি) ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
    • সর্বোপরি, খামার পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।

    সঠিক ব্রুডিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে ব্রয়লার বাচ্চাদের স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি ভালো হবে, ফলে খামারের লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

  • সিলেটে ক্বীন ব্রিজের নিচ থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    সিলেটে ক্বীন ব্রিজের নিচ থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    সিলেট প্রতিনিধি

    সিলেটের পুরান পুল বা ক্বীন ব্রিজের নিচ থেকে সার্কিট হাউস সংলগ্ন এলাকায় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত যুবকের সঙ্গে পাওয়া মেডিকেল একটি চিকিৎসাপত্রে তার নাম শরিফুল (২৮) লেখা রয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    কোতোয়ালী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এছাড়া, শরিফুলের পরিবার ও তার পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

    উল্লেখ্য, এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।