Blog

  • ককটেল ফাটিয়ে, কুপিয়ে স্বর্ণ লুট: সাভারের সেই ব্যবসায়ী মারা গেছেন

    ঢাকার সাভারে দুর্বৃত্তের হামলায় আহত সেই স্বর্ণ ব্যবসায়ী দিলীপ দাস (৪৭) মারা গেছেন। রোববার রাতে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।এর আগে রাত ৯টার দিকে সাভারের নয়ারহাট বাজারে স্বর্ণপট্টিতে দুর্বৃত্তের হামলায় দিলীপ গুরুতর আহত হন।

    এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেরাজুর রায়হান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দিলীপের বুক, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মকভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আমরা চিকিৎসা শুরু করেছিলাম, কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।’

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টার দিকে সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকারে তিনজন অস্ত্রধারী স্বর্ণপট্টিতে ঢুকে ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। দিলীপ স্বর্ণালয়ের স্বত্বাধিকারী সে সময় দোকান বন্ধ করছিলেন। স্বর্ণের ব্যাগটি তার হাতে ছিল। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে স্বর্ণের ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে কাকটেল ফাটাতে ফাটাতে প্রাইভেটকারে চেপে চলে যায়।

    দিলীপের স্ত্রী সরস্বতী দাস জানান, ওই ব্যাগে ২০ থেকে ২৫ ভরি স্বর্ণ ছিল।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আমরা ঘটনাস্থলে আছি। প্রয়োজনীয় তথ্য নিচ্ছি, দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • পাইলস, এনাল ফিসার নাকি ফিস্টুলা?

    পাইলস, এনাল ফিসার নাকি ফিস্টুলা?

    আমাদের পায়খানার রাস্তায় বা মলদ্বারে হওয়া একটা কমন রোগ হলো পাইলস (Piles)/অর্শ, যাকে চিকিৎসা ভাষায় হেমোরয়েডস (Hemorrhoids) বলা হয়। পাইলস (Piles) এর মতই আরো দুইটি রোগ আমাদের পায়খানার রাস্তায় বা মলদ্বারে হয়ে থাকে, সেটা হলো এনাল ফিসার এবং ফিশ্চুলা। তিনটা রোগেরই কমন কিছু লক্ষণ আছে । তাই বেশিরভাগ সাধারণ মানুষই বুঝতে পারে না তার কোন রোগ হয়েছে? মানুষ এই সমস্যাগুলো নিয়ে তেমন একটা খোলামেলা ভাবে কথা বলে না কারণ অনেকেই এটাকে লজ্জাজনক সমস্যা মনে করে।

    এই ভাবেই পুরো জীবন চলে যায় সে বুঝতেই পারে না যে তার কি আসলে কি হয়েছে আর কি ধরনের চিকিৎসা নেওয়া উচিত। আমাদের দেশে নিজে নিজে ঔষধ খাওয়ার একটা প্রবণতা আছে। বিশেষ করে এ ধরনের অসুস্থাতে টোটকা চিকিৎসাই বেশি নিয়ে থাকে। আপনি যদি এই সমস্যাগুলোর পার্থক্য সর্ম্পকে ভাল ভাবে জানেন তাহলে আরো ভাল ভাবে আপনার চিকিৎসা করাতে পারবেন। আজকে আমরা শুধুমাত্র পাইলস (Piles)/অর্শ বা হেমোরয়েডস (Hemorrhoids) নিয়ে জানবো।

    আমাদের মলদ্বারে অনেক গুলো রক্তনালীর গুচ্ছ থাকে (Blood vessel bunch)। যদি কোনো কারণে পায়খানা করার সময় অনেক বেশি চাপ দেওয়া লাগে, আর্শ জাতীয় খাবার কম খেলে, পায়খানা কষা হলে, অনেক কাশি হলে, মলদ্বারে চাপ বেশি লাগলে রক্তনালীর গুচ্ছ গুলো বড় হযে যায় এবং সেখান থেকে রক্ত বের হয়। এটাই পাইলস। এটা কম হতে পারে আবার বেশিও হতে পারে। এটার উপর নির্ভর করে পাইলসকে চারটা গ্রেডে ভাগ করা হয়।

    গ্রেডঃ ১

    আপনার পাইলস আছে কিন্ত আপনি বুঝতে পারেন না। আপনার পায়খানা শক্ত হচ্ছে, পরিষ্কার হচ্ছে না। আপনি চিকিৎসকের কাছে গেলে উনি মলদ্বার পরিক্ষা করে বললেন আপনার পাইলস হয়েছে।

    গ্রেডঃ ২

    এই ক্ষেত্রে আপনি যখন পায়খানায় করে বাহিরে আসেন তখন বলেন কিছু একটা মলদ্বার থেকে বের হচ্ছে তবে সেটা আবার ভেতরে চলে যাচ্ছে।

    গ্রেডঃ ৩

    এই ক্ষেত্রে কিছু একটা মলদ্বার থেকে বের হচ্ছে তবে সেটা আপনাআপনি ভেতরে যায়না আপনাকে হাত দিয়ে ঠেলে ভেতরে ঢুকাতে হয়।

    গ্রেডঃ ৪

    এই ক্ষেত্রে কিছু একটা মলদ্বার থেকে বের হচ্ছে আপনি হাত দিয়ে ঠেলে ভেতরে ঢুকাতে পারবেন না।

    পাইলস দুই ধরনের হয়

    ১. ইন্টারনাল পাইলস (Internal Hemorrhoids): মলদ্বারের ভিতরে হয়।

    ২. এক্সটারনাল পাইলস (External Hemorrhoids): মলদ্বারের বাইরের দিকে হয়।

    কেন পাইলস হয়?

    পাইলস হওয়ার কিছু সাধারণ কারণ:

    • দীর্ঘসময় ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য
    • অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মল ত্যাগ করা
    • গর্ভাবস্থা
    • মোটা হওয়া (ওজন বেশি হওয়া)
    • দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা বা বসে থাকা
    • লো ফাইবার (তন্তুযুক্ত) খাদ্যাভ্যাস
    • বারবার ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা

    পাইলসের লক্ষণগুলো কী কী?

    • পায়খানার সময় রক্ত যাওয়া (সাধারণত টাটকা লাল রক্ত)
    • মলদ্বারে ব্যথা বা জ্বালা
    • মলদ্বারের বাইরে চাকা বা গাঁট দেখা যাওয়া
    • চুলকানি বা অস্বস্তি
    • বসার সময় অস্বস্তি লাগা

    পাইলস হলে কী খাওয়া যাবে?

    যা খাওয়া উচিত:
    ফাইবারযুক্ত খাবার যেমন:

    • শাকসবজি (লাউ, পুঁইশাক, মিষ্টিকুমড়া ইত্যাদি)
    • ফল (পেঁপে, কলা, আমড়া, বেল)
    • দানাশস্য (লাল চাল, ওটস, ব্রাউন রাইস)
    • পানি বেশি করে পান করা (দিনে অন্তত ২.৫-৩ লিটার)
    • ইসবগুলের ভুসি (কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে উপকারী)

    যা খাওয়া এড়ানো উচিত:
    ❌ অতিরিক্ত ঝাল বা মসলা জাতীয় খাবার
    ❌ ভাজাপোড়া খাবার
    ❌ ফাস্টফুড
    ❌ মদ্যপান
    ❌ বেশি চা বা কফি

     

    লেখকঃ

    ডাঃ মুরাদ আলী

    এমডি (হোমিওপ্যাথি), ভারত।

    লেকচারার ইন মেডিসিন (এস.এইচ.এম.সি.এইচ)

    ফাউন্ডার: ইনফো হোমিও।

    মোবাইল: ০১৭৩৩-১৯৩০৬১

  • বাউফলে চারটি অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

    বাউফলে চারটি অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

    সাইফুল ইসলাম, পটুয়াখালী প্রতিনিধি পটুয়াখালীর বাউফলে চারটি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে পিভিসি ব্রিকস, এসজিআর ব্রিকস, সততা ব্রিকস এবং খানজাহান ব্রিকস নামের ইটভাটাগুলো ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে পিভিসি ব্রিকসের মালিক মনির হোসেনকে ১ লাখ টাকা, এসজিআর ব্রিকসের মালিক মো. সাগরকে ৫০ হাজার টাকা এবং সততা ব্রিকসের মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা পরিশোধ না করলে সততা ব্রিকসের মালিককে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছে।

    শনিবার (৮ মার্চ) সকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক কুমার কুন্ডের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান এবং বাউফল ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কমরুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পানি ঢেলে ইটভাটাগুলো ধ্বংস করা হয় এবং কাঁচা ইট বিনষ্ট করা হয়।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক কুমার কুন্ড বলেন, “এই ইটভাটাগুলোর কোনো অনুমোদিত লাইসেন্স কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছিল না। পরিবেশগত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে পরিচালিত এসব অবৈধ ইটভাটা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

  • পঞ্চগড় সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মৃত্যু এক যুবকের

    পঞ্চগড় সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মৃত্যু এক যুবকের

    পঞ্চগড় প্রতিনিধি পঞ্চগড়ের ভিতরগড় সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে মো. আল আমিন (৩৬) নামের এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। লাশটি ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ।

    ৮ মার্চ শনিবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ভিতরগড় এলাকায় মেইন পিলার ৭৪৪ এর ৭নং সাব পিলারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন একই উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের জিন্নাত পাড়ার সুরুজ আলীর ছেলে।

    বিজিবি ও স্থানীয়রা জানান, আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে গরুর ব্যবসা করেন। ভোরে আল আমিনসহ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে গরু আনতে যান। গরু নিয়ে ফেরার পথে ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে বিএসএফের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে।

    বিএসএফের দাবি, বাংলাদেশিরা তাদের দেশি অস্ত্রে হামলা করতে গেলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় বিএসএফ। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আল আমিন নিহত হন। পরে বিএসএফ তার মরদেহ ভারতে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে সকালে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মো. বদরুদ্দোজা সীমান্ত পিলার ৭৪৪/৭ এস এলাকায় ভারতের ৪৬ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের অধিনায়কের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করেন।

    লেফট্যানেন্ট কর্নেল শেখ মো. বদরুদ্দোজা বলেন, পতাকা বৈঠকে আমরা এ ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে মরদেহ ফেরতের আহ্বান জানিয়েছি।

    লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে বদরুদ্দোজা বলেন, ‘পতাকা বৈঠকে আমরা জানিয়েছি, কেউ অপরাধ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু গুলি করে হত্যা কখনোই কাম্য নয়। এ ঘটনায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। পরে আমরা লাশ ফেরত চাইলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজিবি–বিএসএফের উপস্থিতিতে দুই দেশের পুলিশের মাধ্যমে লাশ হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছে বিএসএফ।’

  • দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, অভিযুক্ত সাবেক ইউএন

    দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, অভিযুক্ত সাবেক ইউএন

    রনজিৎ সরকার রাজ ,দিনাজপুর প্রতিনিধি :দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখে বরাদ্দকৃত সমুদয় টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে এলাহীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলার আশ্রয়ণবাসীদের পক্ষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম মিলন।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রথম ধাপে সারাদেশে ১০৪৮টি ঘর পুনর্নির্মাণের মধ্যে বীরগঞ্জ উপজেলা বরাদ্দ পায় ৮৯৮টি ঘর। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২৮ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। প্রতিটি ঘরে দুটি শয়নকক্ষ, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও একটি বারান্দা থাকার কথা থাকলেও অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। বিশেষ করে টয়লেট স্থাপন করা হয়নি, নিম্নমানের ইট ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্লাস্টার উঠে যেতে শুরু করেছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে বদলি হওয়া ইউএনও ফজলে এলাহী ব্যাপক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে প্রকল্পটি কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে বরাদ্দের সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করেছেন। তিনি কোনো টেন্ডার ছাড়াই আশ্রয়ণের পুরাতন ঘরের টিন, কাঠ, পিলার বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

    নীতিমালা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের তদারকি ও বাস্তবায়ন কমিটি থাকলেও ইউএনও ফজলে এলাহী সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীসহ অন্যদের কোনো দায়িত্ব পালন করতে দেননি। তিনি নিজেই যাবতীয় মালামাল ক্রয়সহ সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন।

    ভোগডোমা আশ্রয়ণে পুনর্বাসিত জামাল উদ্দিন ও চানমিয়া জানান, ২৮০টি পরিবারের টিনসেট ঘর ভেঙে ২৪৩টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়। দলিল থাকা সত্ত্বেও ৩৭টি পরিবারকে ঘর না দিয়ে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে। একইভাবে আনসার আলী, সমিরন, আহম্মদ আলী, শাহজাহান ও নুরবানু জানান, ঘরের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে।

    তারা আরও জানান, টয়লেটের জন্য রিং-স্লাব আনা হলেও স্থাপন করা হয়নি, ঘরের ভিটার মাটি তাদের নিজেদের টাকায় ভরাট করতে হয়েছে এবং কোনো টিউবওয়েল দেওয়া হয়নি। পুরাতন ঘরের টিন, কাঠ, পিলার স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইউএনও নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

    উপজেলার একাধিক অভিজ্ঞ নির্মাণ ঠিকাদার ও সচেতন মহল জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা হতে পারে, অথচ বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ অনেক বেশি। হিসাব অনুযায়ী, ইউএনও ফজলে এলাহী ঘর নির্মাণে প্রায় ১০ কোটি এবং পুরাতন টিন, কাঠ, পিলার বিক্রির ১ কোটি টাকাসহ মোট ১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসান হাবিব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীংপঙ্কর বর্মন, সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ছানাউল্লাহ ও উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিবরীল আহমাদ সকলেই ঘটনার ব্যাপারে কোনো তথ্য জানেন না বলে দাবি করেছেন।

    এ ব্যাপারে সাবেক ইউএনও ফজলে এলাহীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

  • শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    মো: আবু শাহীন ,ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    শনিবার (৮ মার্চ) সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে মাদারগঞ্জ কচুবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

    ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোজাম্মেল হক মানিক স্কুলের বাচ্চাদের প্রাইভেট পড়ান। প্রতিদিনের মতো প্রাইভেটে যায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। ‘এ সময় সুযোগ বুঝে আমাদের মেয়ের সঙ্গে নরপশুর মতো হিংস্র আচরণ করেছে ওই শিক্ষক। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’

    ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রাকিবুল আলম বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে একটি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি এবং ঘটনার প্রেক্ষিতে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি।

    স্থানীয়রা বলেন, ‘ইতোমধ্যে অপরাধীকে বাঁচাতে নানারকম পাঁয়তারা চলছে। গ্রামের প্রভাবশালী রাজনীতিক নেতারা ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে ওই ভুক্তভোগী শিশুকে সরকারি হাসপাতালে না পাঠিয়ে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যার। পরে আমরা পরিবারটিকে এখান থেকে উদ্ধার করে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসি। আমরা চাই অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত আটক করা হোক।’

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোজাম্মেল হক মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ আছে। আমরা কাউকে কোচিং করানোর অনুমতিও দিইনি। আমি ওই শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তার মুঠোফোন বন্ধ। আমি বিস্তারিত জেনে আমার শিক্ষা অফিসারকে অবগত করব।

    ভুল্লি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগে ঘটনাটি শুনেছি। অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্ড়ে পরিবারকে এজাহার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

  • সৌদি আরবকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব আমিরাত

    সৌদি আরবকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব আমিরাত

    চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের প্রধান উৎস ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে—এ সময়ে শীর্ষ ৩০ দেশ থেকে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৫ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।

    গত ডিসেম্বরে এই রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ বেড়ে গেলেও জানুয়ারিতে তা কমতে শুরু করে। সম্ভবত উৎসব-পরবর্তী মন্দা ও অর্থনৈতিক সমন্বয়ের কারণে এমনটি হয়েছে।

    ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স এসেছে দুই দশমিক নয় বিলিয়ন ডলার। গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ৫৬৫ দশমিক শূন্য চার মিলিয়ন ডলার। জানুয়ারিতে তা কমে হয় ৪০৭ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার।

    দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল এক দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। গত ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্য থেকে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৪৮ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলার। গত জানুয়ারিতে তা বেড়ে হয় ২৭৩ দশমিক চার মিলিয়ন ডলার।একই সময়ে সৌদি আরব থেকে এসেছে এক দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। গত ডিসেম্বর এই দেশ থেকে এসেছে ২৯০ মিলিয়ন ডলার, যা জানুয়ারিতে কমে যায় ৩০ শতাংশ।

    রেমিট্যান্স আয়ের দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে থাকা আরব আমিরাত থেকে এসেছে দুই দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। এই দেশ থেকে গত ডিসেম্বরে এসেছিল ৩৭০ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার, যা জানুয়ারিতে কমে হয় ২৪৯ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার।

    শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে এসেছিল ৮৭৬ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলার ও কুয়েত থেকে ৮৬৭ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলার। রেমিট্যান্স আয়ের প্রেক্ষাপটে ইতালি, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    গত জানুয়ারিতে ইতালি থেকে এসেছিল ১৩১ মিলিয়ন ডলার। গত সাত মাসের মধ্যে তা সর্বোচ্চ।

    দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে মোট রেমিট্যান্স এসেছে যথাক্রমে ১৭৫ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলার, ৯৯ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার ও ৯৩ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার।

    ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স প্রেরণকারী দেশ। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ডিশটিংগুইশড ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রেমিট্যান্স আয়ের দিক থেকে আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র প্রধান উৎস হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ডলার ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের কাছ থেকে বেশি দামে ডলার কিনে তা আরও বেশি দামে অন্য ব্যাংকের কাছে বিক্রি করেছে।’

    এই সময়ে বিশেষ করে দুবাই এ ধরনের কাজের মূল কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে বলে জানান তিনি।

    ‘হঠাৎ সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স আসা কমে গেছে। অন্যদিকে, আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে। রেমিট্যান্সের উৎসের এই পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার।’

    পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী থাকায় এই দেশগুলো বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে থেকে গেছে।’

    তার মতে, ‘ঈদ, পূজা ও শীতকালে বিয়ের ধুম পড়লে তখন অভিবাসীরা দেশে টাকা পাঠান বলে সেই সময় রেমিট্যান্স আসা বেড়ে যায়।’

    রেমিট্যান্স প্রবণতা

    বাংলাদেশের অর্থনীতি রেমিট্যান্সের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত কয়েকটি দেশ মূল ভূমিকা পালন করে।

    ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, অভিবাসন নীতি ও শ্রমবাজারের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে দেশের রেমিট্যান্স আয়ের উৎসে পরিবর্তন দেখা গেছে।

    আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে প্রধান রেমিট্যান্স উৎস হিসেবে রয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে সেসব দেশ থেকে রেমিট্যান্স আসা বাড়ছে।

    ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স এসেছে দুই দশমিক শূন্য নয় বিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা তিন দশমিক শূন্য এক বিলিয়ন ডলার হয়।

    সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দুই দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা তিন দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার হয়।

    ২০২২-২৩ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স আসা বেড়ে দুই দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

    কয়েকটি দেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। আবার কয়েকটি দেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা কমবেশি হয়েছে।

    ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কুয়েত থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল এক দশমিক শূন্য তিন বিলিয়ন ডলার যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে বেড়ে হয় এক দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় এক দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার ধরে রেখেছে।

    যুক্তরাজ্য ও ইতালিসহ ইউরোপীয় দেশগুলো রেমিট্যান্সের শক্তিশালী উৎস হিসেবে আছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৮০৮ দশমিক দুই মিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় দুই দশমিক শূন্য আট বিলিয়ন ডলার।

    একই সময়ে ইতালি থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি, ৫১০ দশমিক শূন্য আট মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে এক দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার।

    রেমিট্যান্সের উদীয়মান ও ক্রমহ্রাসমান উৎস

    দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া থেকে রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আয় হয়েছে ৮০ দশমিক সাত মিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ১১৬ দশমিক চার মিলিয়ন ডলার।

    জাপান থেকে রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী।

    বিপরীতে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে রেমিট্যান্স আয় কমবেশি হচ্ছে। কাতার থেকে প্রথমে রেমিট্যান্স বাড়লেও পরে তা কমে যায়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ওমান থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৯৭ দশমিক দুই মিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে হয় ৭৬৬ দশমিক তিন মিলিয়ন ডলার।

    পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী এই বিষয়ে বলেন, ‘করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় রেমিট্যান্স এগ্রিগেটরের সংখ্যা বেড়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কাতার বা ওমানের মানি চেঞ্জাররা বাংলাদেশে ডলার পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রেমিট্যান্স এগ্রিগেটরের চ্যানেল ব্যবহার করে থাকতে পারে। এর ফলে কাতার ও ওমান থেকে রেমিট্যান্স কমেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেড়েছে।’

  • মালয়েশিয়ায় প্লান্টেশন কলিং ভিসার সময়সীমা ৩১ মার্চ

    মালয়েশিয়ায় প্লান্টেশন কলিং ভিসার সময়সীমা ৩১ মার্চ

    মো. নুরুল ইসলাম সুজন, মালয়েশিয়া: মালয়েশিয়ায় প্ল্যান্টেশন খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশটিতে কর্মী প্রবেশের চূড়ান্ত সময়সীমা ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    আজ শুক্রবার (৭ মার্চ) কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ৬ মার্চ জারি করা স্মারক অনুযায়ী, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে ১০ মার্চের মধ্যে প্ল্যান্টেশন খাতে কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র হাইকমিশন থেকে সত্যায়ন করে নিতে হবে। এছাড়া, বিএমইটি (জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) থেকে ২০ মার্চের মধ্যে কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে।

    বাংলাদেশ হাইকমিশন সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে এসব নির্দেশনা অনুসরণ করে যথাসময়ে কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

  • উপসাগরীয় ছয় দেশে এক ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ

    উপসাগরীয় ছয় দেশে এক ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ

    আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জগতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC) ভুক্ত ছয় দেশে একক ভিসার প্রবর্তন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন—এই ছয়টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত জিসিসি অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চল। সম্প্রতি এই দেশগুলোর মধ্যে একটি “ইউনিফাইড ট্যুরিস্ট ভিসা” চালুর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যা শেঙ্গেন ভিসার আদলে তৈরি হতে পারে। এই উদ্যোগ সফল হলে বিশ্বব্যাপী পর্যটক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের জন্য ভ্রমণ সহজ হবে, পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সমন্বয়ও শক্তিশালী হবে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিগত, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

    ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ওমানে অনুষ্ঠিত জিসিসি শীর্ষ সম্মেলনে ছয় দেশের নেতারা একক ভিসা ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেন। এই ভিসার মূল উদ্দেশ্য হলো পর্যটন শিল্পকে গতিশীল করা এবং জিসিসি অঞ্চলকে বৈশ্বিক ভ্রমণ বাজারে একটি সমন্বিত গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। বর্তমানে এই দেশগুলো পৃথকভাবে ভিসা ইস্যু করে থাকে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরব ২০১৯ সাল থেকে নির্বাচিত দেশের জন্য ই-ভিসা চালু করলেও কুয়েত এখনও প্রচলিত পদ্ধতিতে ভিসা দিয়ে থাকে। ইউনিফাইড ভিসা চালু হলে একজন পর্যটক একবার আবেদন করেই ছয় দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন, যা ভ্রমণ খরচ ৩০-৪০% কমিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, ব্যবসায়িক ভ্রমণ ও আন্তঃদেশীয় বিনিয়োগও বৃদ্ধি পাবে।

    একক ভিসা ব্যবস্থা জিসিসি অঞ্চলকে বৈশ্বিক পর্যটন মানচিত্রে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। এই দেশগুলোর রয়েছে বৈচিত্র্যময় আকর্ষণ—সংযুক্ত আরব আমিরাতের অত্যাধুনিক শহর দুবাই ও আবুধাবি, সৌদি আরবের ঐতিহাসিক মদিনা ও মক্কা, ওমানের প্রাকৃতিক নৈসর্গ, কাতারের বিশ্বকাপ-বিপ্লবী অবকাঠামো, বাহরাইনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং কুয়েতের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র। বর্তমানে এই দেশগুলো বছরে প্রায় ৫ কোটি পর্যটক গ্রহণ করে, যা একক ভিসার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ১২ কোটিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার ভ্রমণপিপাসুদের জন্য জিসিসি হয়ে উঠতে পারে একটি অখণ্ড ভ্রমণ সার্কিট, যেখানে মরুভূমির সাফারি, সমুদ্রসৈকতের বিলাসিতা ও ঐতিহ্যের সম্মিলন ঘটবে।

    এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে জিসিসি দেশগুলো একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে, যেখানে ভিসা আবেদন, অনুমোদন ও ট্র্যাকিং করা যাবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের “স্মার্ট গভর্ন্যান্স” মডেল এবং সৌদি আরবের “Vision 2030” প্রযুক্তিগত রূপান্তরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে। বায়োমেট্রিক ডেটা শেয়ারিং (যেমন ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেসিয়াল রিকগনিশন) এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে রিয়েল-টাইম ডেটা বিনিময়ের জন্য একটি কমন ডাটাবেস তৈরি করা হবে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

    যদিও অর্থনৈতিক সুবিধা স্পষ্ট, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতা এই উদ্যোগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে কাতার অবরোধ (২০১৭-২০২১), ইয়েমেন সংকট ও তেল নীতিকে কেন্দ্র করে মতপার্থক্য রয়েছে। একক ভিসা চালু করতে গেলে সীমান্ত নিরাপত্তা নীতিতে সমঝোতা প্রয়োজন, যা অর্জন সহজ নয়। এছাড়া, ভিসা রেভেনিউ বণ্টন নিয়েও দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব পর্যটন থেকে সর্বোচ্চ আয় করে; ছোট দেশগুলো (যেমন বাহরাইন) ভিসা আয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারে।

    জিসিসি দেশগুলোতে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বিপুল। একক ভিসা চালু হলে শ্রমিক পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এজন্য শ্রম ভিসার জন্য পৃথক নিয়ম প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এছাড়া, স্থানীয় সংস্কৃতি রক্ষায় পর্যটকদের জন্য গাইডলাইন তৈরি করতে হবে—যেমন সৌদি আরবের রক্ষণশীল পোশাক নীতি বা ওমানের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন মেনে চলা।

    জিসিসি ভিসা চালু হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রায় ২৫ লক্ষ বাংলাদেশি এই অঞ্চলে কাজ করেন; একক ভিসার মাধ্যমে তাদের জন্য আন্তঃদেশীয় চলাচল সহজ হতে পারে। এছাড়া, বাংলাদেশি পর্যটকরা কম খরচে উপসাগরীয় দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে এজন্য বাংলাদেশকে ডিজিটাল পাসপোর্ট সিস্টেম আপগ্রেড করতে হবে এবং ভিসা প্রক্রিয়ায় দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।

    জিসিসি নেতারা ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এর জন্য প্রয়োজন পর্যায়ক্রমিক পদক্ষেপ:

    ১. ফেজ ১ (২০২৪-২০২৬): প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো তৈরি ও ট্রায়াল রান।

    ২. ফেজ ২ (২০২৬-২০২৮): নির্বাচিত দেশে পাইলট প্রকল্প চালু (যেমন UAE-সৌদি-কাতার ট্রায়াঙ্গেল)।

    ৩. ফেজ ৩ (২০২৮-২০৩০): সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং।

    উপসাগরীয় একক ভিসা কেবল একটি ভ্রমণ নীতি নয়—এটি জিসিসি অঞ্চলের রাজনৈতিক ঐক্য, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের প্রতীক। এই উদ্যোগ সফল হলে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বায়নের নতুন মডেল হিসেবে আবির্ভূত হবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন আন্তরিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের উচিত এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতের সুযোগগুলো কাজে লাগানো যায়।

  • অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ পরিবারকে সহায়তা দিলেন বিএনপি নেতা মনজুরুল ইসলাম

    অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ পরিবারকে সহায়তা দিলেন বিএনপি নেতা মনজুরুল ইসলাম

    রনজিৎ সরকার রাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের ভেলা পুকুর গ্রামে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে লাগা এই আগুনে ১৫টি পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসে যায়।

    অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মনজু। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি পরিবারের প্রত্যেককে নগদ ২,০০০ টাকা করে মোট ৩০,০০০ টাকা সহায়তা প্রদান করেন।

    এসময় মনজুরুল ইসলাম বলেন, “মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই মানবতার সেবা। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এ ধরনের দুর্যোগে এগিয়ে আসতে হবে।”

    স্থানীয়রা জানান, অগ্নিকাণ্ডে ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পদ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এমন সংকটময় মুহূর্তে বিএনপি নেতা মনজুরুল ইসলামসহ সরকারি বিভিন্ন সহায়তা তাঁদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

    সহায়তা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন—
    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বীরগঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্য সচিব তানভীর চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত জুলিয়াস জুয়েল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ শিপন, ১নং শিবরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সহিমুদ্দিন আহমেদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।