Blog

  • ডেপুটি হাই কমিশনার খোরশেদ আলম খাস্তগীরকে প্রত্যাহার

    ডেপুটি হাই কমিশনার খোরশেদ আলম খাস্তগীরকে প্রত্যাহার

    মো:নুরুল ইসলাম সুজন মালয়েশিয়াঃ অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি হাই কমিশনার খোরশেদ আলম খাস্তগীরকে প্রত্যাহার করে নোটিশ জারি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রলায়।

    বুধবার (১২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের এক অফিস আদেশে ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীরেরকে অবিলম্বে ঢাকায় ফিরতে বলা হয়।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) শাহ আসিফ রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আপনাকে (মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীর) সদর দপ্তর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় বদলির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ায় আপনার বর্তমান দায়িত্ব ত্যাগ করে অবিলম্বে সদর দপ্তর ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

    ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগদান করেন। মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীর বিসিএস (ফরেন অ্যাফেয়ার্স) ক্যাডারের ২০ তম ব্যাচের একজন কূটনীতিক।

    তিনি ২০০১ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইউরোপ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক সংস্থা অনুবিভাগের মহাপরিচালক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    এছাড়া নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে প্রথম সচিব ও ওমানের মাস্কাটে বাংলাদেশ দূতাবাসে চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স বা কাউন্সেলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    এদিকে, ২০০৯-১০ সালে নিউইয়র্কের জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে থাকা অবস্থায় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ল’ফার্ম সংক্রান্ত দুর্নীতির বিষয়ে স্ট্যান্ড রিলিজও করেছিল।

    ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে খোরশেদ আলম খাস্তগীরকে বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিলো। কিন্তু তার অতীত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে মানামা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে ওয়ারশোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসাবে প্রস্তাব করে বিদায়ী সরকার এবং পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগেরও সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

    পরবর্তীতে জুলাই বিপ্লবের সময়ে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন ছাত্র-শিক্ষকদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে কাজাং থানায় অভিযোগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীর। সে সময়ে এই খাস্তগীর দেশের আন্দোলনকারীদেরও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংকে একটি অকার্যকর ও অপ্রয়োজনীয় উইং স্বরূপ প্রমাণ করে মিশন থেকে পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে পাসপোর্ট ও ভিসা সার্ভিস ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের আউট সোর্সিং প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। এছাড়া হাইকমিশনের মধ্যে গ্রুপিং তৈরি করে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতিসহ নানান অভিযোগের খবর দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে বদলীর সিদ্ধান্ত নিল সরকার।

  • ত্রাণের পর গাজার বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে দিল ইসরায়েল

    ত্রাণের পর গাজার বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে দিল ইসরায়েল

    গাজায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার পর আজ উপত্যকাটির বিদ্যুৎ সংযোগও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। জিম্মি মুক্তির আলোচনায় হামাসের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেশটি এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    আজ সোমবার গার্ডিয়ান ও এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে গাজায় খাবার পানি সরবরাহ অনেক কমে আসবে।

    এএফপি জানায়, ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ করে ইসরায়েল আবারও গাজায় ‘খাদ্য সংকট’ তৈরি করছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছে জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ক্যাথরিন দেশাউয়ার বলেন, ‘গাজায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পানি সরবরাহ বন্ধের আলোচনা নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।”এ ধরনের পদক্ষেপ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ,’ যোগ করেন তিনি।

    ইসরায়েলের জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী এলি কোহেন এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘সব ইসরায়েলি জিম্মির প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আমরা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করব এবং যুদ্ধের পর হামাস আর গাজায় থাকতে পারবে না।’

    ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে ‘সস্তা ব্ল্যাকমেইল’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে হামাস।

    সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ইজাত আল-রিশক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘খাবার, ওষুধ ও পানির পর এবার গাজার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত দখলদার গোষ্ঠীর নির্লজ্জ চাপ সৃষ্টির অংশ।’সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় বিমান হামলাও বাড়িয়েছে ইসরায়েল। সামরিক কর্মকর্তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, উপত্যকাটিতে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি চলছে।

    ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের মেয়াদ এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে এবং এরমধ্যে বাকি জিম্মিদের হস্তান্তর করানোর দাবি জানিয়ে আসছে।হামাসের হাতে এখনো অন্তত ৫৮ জন ইসরায়েলি জিম্মি আটক আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের মেয়াদ শেষ হয়েছে এই মাসের শুরুতে। পূর্ব আলোচনা অনুযায়ী, এর পরপরই দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা। দ্বিতীয় ধাপে বাকি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি, গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি সেখান থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহারের কথা ছিল।

    হামাস এখনো এই পরিকল্পনা অনুযায়ীই দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে।

  • ডিএফইউ এর ইফতার মাহফিল-২০২৫

    ডিএফইউ এর ইফতার মাহফিল-২০২৫

    “ডিএফইউ এর ইফতার মাহফিল-২০২৫”
    ডেভেলপারস ফোরাম উত্তরা (ডিএফইউ) এর সকল মেম্বার ও বৃহত্তর উত্তরার সকল ডেভেলপার ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানীদেরকে নিয়ে ঢাকা,উত্তরার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্ট-এ ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
    উক্ত মাহফিলে মাহে রমজানের তাৎপর্য ও করণীয় বিষয়ক আলোচনা পেশ করেন রিহ্যাব এর পরিচালক জনাব ডঃ হারুন অর রশিদ। এছাড়া ও অন্যান্য বক্তাগণ উক্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুমীন জীবনের তাকওয়া অর্জনের আহ্বান জানান।

    ডিএফইউ এর ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাব এর সম্মানিত প্রেসিডেন্ট জনাব মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান, আরো বক্তব্য রাখেন রিহ্যাবের সম্মানিত পরিচালক সেলিম রাজা পিন্টু, ডিএফইউ এর সাধারণ সম্পাদক জনাব মোহাম্মদ মোবারক হোসেন। উক্ত মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাব এর পরিচালক এ.এফ.এম ওবায়েদুল্লাহ, লাবিব বিল্লাহ, সুরুজ সরদার,কর্ণফুলী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মজিবুর রহমান,অধ্যক্ষ মোঃ সালাহউদ্দীন,জয়নাল আবেদিন,মিরপুর রিয়েল এস্টেট ফোরামের সভাপতি, সেক্রেটারি ও নেতৃবৃন্দ,রিহ্যাবের সাবেক পরিচালক রাগীব আহসান, সুলতান মাহমুদ, রোটারিয়ান এমদাদ হোসেন সহ ডিএফইউ এর কার্যনির্বাহী পরিষদের সকল সদস্যগণ।

    উক্ত মাহফিলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডিএফইউ এর অর্থ সম্পাদক জনাব সফিকুল ইসলাম বাদল, সঞ্চালনায় ছিলেন ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আহ্বায়ক জনাব আব্দুল্লাহ আল এহসান, ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির শিল্পীগণ। ডিএফইউ এর সভাপতি জনাব ইব্রাহীম সরকার মাহফিলের সভাপতি হিসাবে সমাপনি বক্তব্য রাখেন এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

    See less
  • পরিবেশবান্ধব পর্যটনের পথে আশাজাগানিয়া অভিযাত্রা

    পরিবেশবান্ধব পর্যটনের পথে আশাজাগানিয়া অভিযাত্রা

    বিশ্বজুড়ে পর্যটন শিল্পের রূপান্তরের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে—পরিবেশবান্ধব পর্যটন। এই ধারণার কেন্দ্রে রয়েছে প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভ্রমণ, স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা, এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার। বাংলাদেশেও এই প্রবণতা বাড়ছে আশাজাগানিয়া গতিতে। সুনীল সাগরের কোলজুড়ে কক্সবাজার থেকে শুরু করে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন, পাহাড়ি অঞ্চলের আদিবাসী গ্রাম থেকে নদীবিধৌত গ্রামীণ বাংলা—সবখানেই গড়ে উঠছে পরিবেশ-সচেতন পর্যটনের নানা উদ্যোগ। এই পরিবর্তন শুধু প্রকৃতিকে রক্ষা করছে না, বরং কৃষক, মৎস্যজীবী, ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথ দেখাচ্ছে।

    বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পৃথিবীবিখ্যাত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পর্যটনের নামে অপরিকল্পিত নির্মাণ, প্লাস্টিক বর্জ্যের ছড়াছড়ি, এবং সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণহীনতা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটক ও উদ্যোক্তাদের চিন্তায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখন ভ্রমণ মানেই কেবল দর্শনীয় স্থান দেখা নয়—এটি একটি দায়িত্বশীল অভিজ্ঞতা, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে মাটির কথা, পানির কথা, মানুষের কথা ভাবা হয়। সুন্দরবনের গহিনে ইকো-কটেজ থেকে শুরু করে রাঙ্গামাটির পাহাড়ি রিসোর্টে সৌরশক্তির ব্যবহার, সেন্ট মার্টিনে প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পেইন—এসবই এখন টেকসই পর্যটনের প্রতীক।

    এই পরিবর্তনের পেছনে কাজ করছে বৈশ্বিক জলবায়ু সচেতনতা। নতুন প্রজন্মের ভ্রমণপিপাসুরা চাইছেন কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানো, স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান করা, এবং প্রকৃতির কাছ থেকে শেখা। বাংলাদেশের গ্রামীণ পর্যটন এই চাহিদাকে পূরণ করছে অনন্যভাবে। সিলেটের চা বাগানের পাশে গড়ে উঠেছে জৈব খামারভিত্তিক স্টে-ক্যাম্প, যেখানে পর্যটকরা নিজ হাতে চা পাতা তুলতে পারেন, স্থানীয় খাবার রান্না শিখতে পারেন। নেত্রকোনার চলনবিলে নৌকায় ভেসে দেখা যায় জলাভূমির জীববৈচিত্র্য—যেখানে স্থানীয় মাঝিরা গাইডের ভূমিকায়। এভাবে পর্যটনের অর্থ স্থানীয় মানুষের হাতে রয়ে যাচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন গতি দিচ্ছে।

    সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বও এই খাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড “গ্রিন ট্যুরিজম গাইডলাইন” চালু করেছে, যাতে হোটেল ও রিসোর্টগুলো শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এছাড়া, সুন্দরবন এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প চালু হয়েছে, যা পর্যটকদের অংশগ্রহণে সফল হচ্ছে। বেসরকারি সংস্থাগুলো আদিবাসী নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গাইড হিসেবে গড়ে তুলছে, যারা তাদের ঐতিহ্যবাহী গল্প ও শিল্পকে বিশ্বের সাথে ভাগ করে নিচ্ছেন।

    তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রসারে প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যেমন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। এছাড়া, পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি—যেমন, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়ানো, স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান করা। বাংলাদেশের কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল, যা পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সম্প্রসারণে বাধা।

    ভবিষ্যতে এই শিল্পের সম্ভাবনা অপার। বিশ্বজুড়ে টেকসই পর্যটনের চাহিদা বাড়ছে, এবং বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ এই খাতকে সমৃদ্ধ করতে পারে। যদি সরকার, স্থানীয় সম্প্রদায়, ও পর্যটকরা একসাথে কাজ করে, তাহলে পরিবেশবান্ধব পর্যটন হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন ইঞ্জিন।

  • আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নির্দেশিকা হালনাগাদ

    আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নির্দেশিকা হালনাগাদ

    বৈশ্বিক মহামারি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নির্দেশিকা ক্রমাগত হালনাগাদ হচ্ছে। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে প্রতিটি দেশই নিজেদের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জনস্বাস্থ্যের ভারসাম্য রক্ষায় নতুন নীতি প্রণয়ন করছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি ভ্রমণপিপাসু, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী শ্রমিকের জন্য এই হালনাগাদকৃত নির্দেশিকা জানা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই প্রবন্ধে আমরা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট সর্বশেষ নীতিমালা, ডিজিটাল রূপান্তর, স্বাস্থ্যবিধি ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করব।

    কোভিড-১৯ মহামারি আন্তর্জাতিক ভ্রমণে আমূল পরিবর্তন এনেছে। যদিও ২০২৩ সালে এসে অনেক দেশ কোয়ারেন্টাইন নীতি শিথিল করেছে, তবুও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত শর্তাবলি এখনও প্রাসঙ্গিক। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা বিদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য পূর্ণ ডোজ টিকার প্রমাণ চেয়ে থাকে। অন্যদিকে, জাপান ও চীন মতো দেশগুলো নেগেটিভ PCR টেস্ট রিপোর্ট বাধ্যতামূলক রেখেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের “ইইউ ডিজিটাল কোভিড সার্টিফিকেট” একটি মডেল হিসেবে কাজ করছে, যা টিকা, টেস্ট বা সুস্থতার সার্টিফিকেট একীভূত করে। বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য এই সার্টিফিকেট অপরিহার্য, বিশেষত স্কেংজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে।

    আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অভূতপূর্ব গতি পেয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ভারতের মতো দেশগুলো ই-ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করেছে, যেখানে অনলাইনে আবেদন করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভিসা মিলছে। বাংলাদেশ সরকারও ২০২৩ সালে ৪০টি দেশের জন্য “অন অ্যারাইভাল ভিসা” চালু করেছে, যা পর্যটনকে উদ্দীপিত করছে। এছাড়া, বিমানবন্দরগুলোতে বায়োমেট্রিক স্ক্রিনিং (চেহারা ও আঙুলের ছাপ শনাক্তকরণ) চালু হয়েছে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করছে। তবে এই প্রযুক্তির প্রসারে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ডিজিটাল বিভাজন একটি চ্যালেঞ্জ।

    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অনেক দেশ পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ নীতি গ্রহণ করেছে। ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ড স্থানীয় ফ্লাইটের বিকল্প হিসেবে রেলভ্রমণকে প্রণোদনা দিচ্ছে। এছাড়া, কার্বন অফসেট ফি (যেমন—জার্মানির বিমান ভাড়ায় অতিরিক্ত পরিবেশ কর) চালু হয়েছে। বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য এই নীতিগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভবিষ্যতে এয়ারলাইন্সগুলো “গ্রিন ফ্লাইট” সার্টিফিকেট চালু করতে পারে, যা পরিবেশ-সচেতন ভ্রমণকে অগ্রাধিকার দেবে।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মিয়ানমার সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নির্দেশিকাকে প্রভাবিত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ান নাগরিকদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবের শ্রম ভিসা নীতিতে পরিবর্তন এসেছে—যেমন, দক্ষতার স্বীকৃতির জন্য নতুন সার্টিফিকেশন প্রয়োজন। এ ধরনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভ্রমণ পূর্বাভাস ও ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি মনিটরিং জরুরি।

    বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সহজীকরণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন “স্মার্ট পাসপোর্ট” চালু করা হয়েছে, যা বায়োমেট্রিক ডেটা সমৃদ্ধ। এছাড়া, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বয়ংক্রিয় ইমিগ্রেশন সিস্টেম (e-gate) চালু হয়েছে, যা ভ্রমণ সময় কমিয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে—যেমন, ভিসা প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, স্বাস্থ্য সার্টিফিকেট জালিয়াতি ও সীমান্তে স্বচ্ছতার অভাব। বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য পরামর্শ হলো—যেকোনো দেশে ভ্রমণের আগে ঐ দেশের দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে হালনাগাদ তথ্য নেওয়া।

    ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নির্দেশিকা আরও প্রযুক্তিনির্ভর হবে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) মাধ্যমে ভার্চুয়াল ভিসা ইন্টারভিউ, মেটাভার্সে ডিজিটাল ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন—এসব ধারণা বাস্তবায়নের পথে। এছাড়া, AI-চালিত কাস্টমস চেক ও ব্লকচেইনভিত্তিক স্বাস্থ্য রেকর্ড শেয়ারিং সিস্টেম আসতে পারে। তবে এসব উদ্ভাবন নিয়ে গোপনীয়তা ও ডেটা সুরক্ষার প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

    হালনাগাদকৃত ভ্রমণ নির্দেশিকা শুধু ব্যক্তি পর্যায়েই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। পর্যটন-নির্ভর দেশগুলো (যেমন—থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ) তাদের জিডিপি পুনরুদ্ধারে ভিসা শিথিল করেছে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য নীতি কঠোর থাকায় চীনের মতো দেশগুলো পর্যটন আয় হারাচ্ছে। সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ভ্রমণ নীতির উদারতা মানুষে মানুষে সংযোগ বাড়াচ্ছে, যা শান্তি ও সমঝোতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

    আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নির্দেশিকা এখন আর স্থির নয়—এটি গতিশীল ও পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তনশীল। এই প্রেক্ষাপটে ভ্রমণকারী, নীতিনির্ধারক ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অভিযোজনশীলতা ও সচেতনতা ключ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। ভবিষ্যতের ভ্রমণ হবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও ডিজিটাল—এই লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।

  • আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কৃষি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত  বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

    আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কৃষি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

    পটুয়াখালী প্রতিনিধি: বাউফলে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও কৃষি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৯ মার্চ (রবিবার) সকাল ১০টায় বাউফল প্রেস ক্লাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাউফল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. জলিলুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বাউফল শাখার ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার সাইদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ উপসহকারী কর্মকর্তা মানবিন্দ শীল, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, বাউফল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন, মাই টিভির বাউফল প্রতিনিধি অহিদুজ্জামান ডিউক এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক নাজমা বেগম।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্পিড ট্রাস্টের প্রোগ্রাম অফিসার রিনা ঘোষ। দিবসটির প্রেক্ষাপট ও বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বক্তব্য দেন এএলআরডি প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম।

    এসময় “স্ট্যান্ড ফর হারল্যান্ড ক্যাম্পেইন” উদ্যোগে নারী কৃষকদের কৃষি পণ্য ও নকশি কাঁথার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি, নারী ও কিশোরীদের দল সংগীত পরিবেশন করে।

    “অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন: নারী ও কন্যার উন্নয়ন” প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে সভায় বক্তব্য রাখেন বাউফল প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরেফিন সহিদ, তথ্য সেবা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোসা. মরিয়ম বেগম, এএলআরডি প্রতিনিধি তারা খাতুন, যুব উন্নয়ন সহকারী কর্মকর্তা মো. হানিফ খান, ইউপি সদস্য আহসান হাবিব ও আনোয়ার হোসেন খান, প্যারালিগাল মিতা রানী, জন সমবায় গ্রুপ লিডার মিনারা বেগম, খাদিজা বেগম ও তাসলিমা বেগম প্রমুখ।

    গ্রামীণ ভূমিহীন, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকার ও সরকারি পরিষেবা পাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল।

  • স্ট্রবেরী চাষে সাফল্য

    মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম জয়পুর। এই গ্রামের নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল ইসলাম। ছোট মেয়ে লামিয়ার খুব পছন্দ স্ট্রবেরি। বাজারে সহজলভ্য নয়, তাই নিজেই শুরু করলেন স্ট্রবেরি চাষ। বাবা জানতেনই না যে, শখের বাগান তার ভাগ্য বদলের হাতিয়ার হবে। মেয়ের শখ মেটানোর জন্য শুরু করা সেই চাষ থেকে বাবার লাখ লাখ টাকা আয়। স্ট্রবেরি চাষের কঠিন ধাপ পার করে আজ তিনি সফল কৃষি উদ্যোক্তা।

    জানা যায়, মঞ্জুরুলের স্ট্রবেরি খামারে সব সময়ই ভিড় থাকে বিভিন্ন বয়সী মানুষের। কেউ আসেন আবাদ শিখতে আবার কেউ স্ট্রবেরির সৌন্দর্য ও স্বাদ নিতে। সারি সারি বেডের সবুজ গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে শোভা পাচ্ছে লাল টসটসে রসালো স্ট্রব্রেরি। বাগান থেকে এর স্বাদ নিয়ে বেজায় খুশি শিশুরা। অন্যদিকে এলাকার তরুণ ব্যবসায়ীরা এই বাগানের স্ট্রবেরি কিনে বিক্রি করছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে।

    মঞ্জুরুল ইসলাম মেয়ের শখ পূরণ করতে তিন বছর আগে বাড়ির ছাদের ১০টি টবে স্ট্রবেরি চারা লাগান। ফলন ভালো হওয়ায় রাজশাহী টিস্যুকালচার থেকে বীজ সংগ্রহ করে পরের বছর দেড় বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন। দেড় বিঘা জমিতে ৭ হাজার স্ট্রবেরি চারা রোপণ করেন। একেকটি গাছে ৮০০ গ্রাম থেকে ৯০০ গ্রাম পর্যন্ত স্ট্রবেরি হয়। এরই মধ্যে কয়েকশ চারা বিক্রি করেছেন। স্ট্রবেরি বিক্রি করেছেন ১৮ লাখ টাকার ওপর। আগামীতে অন্তত আরও কয়েক লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি করবেন। মঞ্জুরুল ইসলামের এ সফলতা দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

    মেয়ের শখ মেটাতে স্ট্রবেরি চাষ, বিক্রি ১৮ লাখ টাকা

    মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফল পাওয়া পর্যন্ত সব মিলিয়ে আমার সাড়ে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কয়েক লাখ টাকার চারা বিক্রি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়ে ৬ লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি করে লাভবান হয়েছি। প্রতিদিন দেড় থেকে ২ মণ ফল সংগ্রহ হয়। প্রতি কেজি স্ট্রবেরি পাইকারি বিক্রি হয় ৪০০-৫০০ টাকা। জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা হয়। তাই অনেকে আগ্রহ নিয়ে কিনছেন। জানুয়ারি-মার্চ গাছ থেকে নিয়মিতভাবে ফল পাওয়া যায়। এটি শীতকালীন চাষ। রোদের তাপমাত্রা বাড়লেই স্ট্রবেরি গাছ মারা যায়। ফল দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। আগামীতে আরও জমিতে চাষ করবো। কম সময়ে বেশি মুনাফা হওয়ায় চাষিদের মাঝে আগ্রহ দেখা গেছে।’

    তিনি বলেন, ‘৩ বছর আগে দেড় বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করে লাভ আসে ৬ লাখ টাকা। প্রথম বছরের অভিজ্ঞতায় গত ২ বছর বেড়েছে চাষের পরিধি। পাশাপাশি অর্জন করেছি অনন্য অভিজ্ঞতা। তবে স্ট্রবেরির মানসম্মত টিস্যু চারার সংকট আছে। তাই সরকারি সহযোগিতায় ল্যাব স্থাপন করা গেলে সারাদেশের উদ্যোক্তাদের হাতে উন্নত চারা তুলে দিতে পারবো।’

    মেয়ে লামিয়া ইসলাম বলেন, ‘কয়েক বছর আগে আমরা কুষ্টিয়ায় থাকতাম। তখন আব্বু আমার জন্য স্ট্রবেরি ফল কিনে নিয়ে আসেন। আমার ফল অনেক ভালো লাগে। তখন আব্বুকে আমি স্ট্রবেরি চাষের জন্য বলি। তাই আব্বু পরীক্ষামূলক বাড়ির ছাদে চাষ শুরু করেন। ছাদে এ ফল চাষ করে সফলতা পেলে প্রথমে দেড় বিঘা, বর্তমানে চার বিঘা জমিতে চাষ করছেন। আগামী বছর আরও বেশি করে স্ট্রবেরি চাষ করবেন।’

    ক্রেতা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘বিদেশি বেশি দামের এ ফল মঞ্জুরুলের মাধ্যমে হাতের নাগালে সহনীয় দামেই পাওয়া যাচ্ছে। আগে এ ফল চোখে দেখা খুবই কঠিন ছিল। আমাদের পাশের গ্রাম জয়পুরে এ ফল সামর্থের মধ্যেই পাওয়া যায়।’

    কৃষক ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের মেহেরপুরের মাটিতে এত সুন্দর ফল হবে, তা কখনো কল্পনা করিনি। মঞ্জুরুল ইসলাম ভাই ৪ বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করে যে টাকা লাভবান হয়েছেন, তা অন্য আবাদে সম্ভব নয়। ভালোভাবে বাজারজাত করতে পারলে আরও লাভ হওয়া সম্ভব। আমি চারা সংগ্রহ করে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী আগামী বছর চাষ করবো।’

    মেয়ের শখ মেটাতে স্ট্রবেরি চাষ, বিক্রি ১৮ লাখ টাকা

     

    কৃষক জায়েদুল ইসলাম বলেন, ‘মঞ্জুরুল ইসলামের কাছে স্ট্রবেরি চাষ হাতেকলমে শিখতে এসেছি। আগামীতে নিজ জমিতে তার পরামর্শে চাষ করতে চাই।’ফল ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমি মৌসুমী ফলের ব্যবসা করি। জানুয়ারি-মার্চ মাসে স্ট্রবেরির ব্যবসা করি। কারণ এই ফলের চাহিদা অনেক। পাশাপাশি এই ফল বিক্রি করে লাভ বেশি হয়।’

    মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, ‘এখানকার কৃষকেরা নতুন নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে অনেক আগ্রহী। মঞ্জুরুল ইসলাম জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন। এই ফল অত্যন্ত পুষ্টিকর ও উচ্চমূল্যের ফসল। তিনি বাজারমূল্য ভালো পাচ্ছেন। আশা করি জেলায় আরও চাষ হবে। আমরা আগ্রহী অনেককেই পরামর্শ দিচ্ছি।’

  • বক যেভাবে হয়ে ওঠে কৃষকের পরম বন্ধু

    বক যেভাবে হয়ে ওঠে কৃষকের পরম বন্ধু

    বোরো ধান আবাদের জন্য ট্রাক্টর দিয়ে জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকেরা। পোকামাকড় খেতে এসব জমিতে জড়ো হচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে সাদা বক। ফসলের মাঠে বকের ওড়াউড়ি দেখতে ভালো লাগে। শুধু তা-ই নয়, পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে কৃষকের উপকার করে থাকে ‘কৃষকবন্ধু’ বক।

    মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। শর্ষে ঘরে তোলার পর বোরো ধান আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকেরা। এসব জমি ঘিরে আনাগোনা বেড়েছে অসংখ্য সাদা বকের। ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষের সময় জমিতে থাকা কীটপতঙ্গ বের হয়ে আসে। এসব কীটপতঙ্গ খেতেই জড়ো হয় ঝাঁকে ঝাঁকে সাদা বক।

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জমি চাষের সময় প্রতিদিন সকাল হলেই কোথা থেকে যেন ছুটে আসে এসব বক। একসঙ্গে ফসলের মাঠে এত বকের উপস্থিতি বছরের অন্য সময় দেখা যায় না। দল বেঁধে এসব বক খেতের পোকামাকড় খেয়ে থাকে। বকগুলোর ওড়াউড়ি বেশ উপভোগ করেন তাঁরা। এ দৃশ্য দেখে তাঁদের মন ছুঁয়ে যায়।

    ফসলের মাঠে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় থাকে। এসব খেতেই সাদা বকগুলো জমিতে জড়ো হয়। এতে ফসলের মাঠের ক্ষতিকর পোকামাকড় নিধন হয়। কৃষকদের উপকার হয়।

    ইমতিয়াজ আলম, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা

    মঙ্গল ও বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি সময় চলে গেলেও মানিকগঞ্জে সকালে এখনো কিছুটা শীতের আবহ রয়ে গেছে। জেলা সদরের দিঘি, ছুটিভাটবাউর, কয়ড়া, পিতলাই, ভাটবাউরসহ বিভিন্ন এলাকায় বোরো আবাদ করতে জমি চাষ করছেন কৃষকেরা। এর পাশাপাশি বীজতলায় বোরোর চারা তুলতে ও চারা রোপণে কৃষকদের সময় ব্যস্ততায় যাচ্ছে। ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষের সময় জমিতে লুকিয়ে থাকা পোকামাকড় বের হয়ে আসে। তখনই পোকামাকড় খেতে জমিতে এবং এর আশপাশে অসংখ্য সাদা বকের ঝাঁক এদিক-সেদিক ওড়াউড়ি করে।

    মঙ্গলবার বিকেলে দিঘি গ্রামে ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ করছিলেন কৃষক মহির আলী (৫০)। কথা হলে তিনি বলেন, ‘হাল বাইলে খেত থেকে পোকা উঠে। এই পোকা খাইতে বক আইস্যা ভিড় করে। যখন হাল বাই, তখন বক পিছে পিছে ঘুরে। দেখতে ভালোই লাগে।’ তাঁর কথা, বক শিকার করা ঠিক নয়। বক পোকামাকড় খাওয়ায় ফসল আবাদে কীটনাশক কম লাগে। পোকামাকড় খেয়ে বক কৃষকের উপকার করে।

    বকগুলোর ওড়াউড়ি বেশ উপভোগ করেন কৃষকেরা
    বকগুলোর ওড়াউড়ি বেশ উপভোগ করেন কৃষকেরা

    বাবলু মিয়া নামের এক কৃষক বলেন, ‘জমিতে পোকামাকড় খাইয়্যা ফসলের ক্ষতি থেইক্যা রক্ষা করে। এসব বক আমাগো বন্ধুর মতো কাজ করে।’

    মানিকগঞ্জে পাখি সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করে আসছে ‘এসো পাখি লালন করি’ (পালক) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনটির সদস্যসচিব বিমল রায় বলেন, পাখি প্রকৃতির অনন্য সম্পদ। একসময় সাদা বক যতটা দেখা যেত, দিন দিন এর সংখ্যা কমে আসছে। পাখিদের রক্ষা করতে শিকার বন্ধ করতে হবে। পাখিদের বাসযোগ্য আবাসস্থল সংরক্ষণ করতে হবে।

    মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আলম বলেন, সাদা বক সাধারণত ছোট মাছ ও কীটপতঙ্গ খায়। ফসলের মাঠে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় থাকে। কৃষকেরা বোরো ধান আবাদ করার জন্য জমি চাষ করছেন। জমি চাষ করার সময় পোকামাকড় মাটির নিচ থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। আর এসব খেতেই সাদা বকগুলো জমিতে জড়ো হয়। এতে ফসলের মাঠের ক্ষতিকর পোকামাকড় নিধন হয়। কৃষকদের উপকার হয়।

  • গাজা পুনর্গঠনে আরব লিগের পরিকল্পনাকে সমর্থন ফ্রান্স-জার্মানি-ইতালি-যুক্তরাজ্যের

    গাজা পুনর্গঠনে আরব লিগের পরিকল্পনাকে সমর্থন ফ্রান্স-জার্মানি-ইতালি-যুক্তরাজ্যের

    গাজা পুনর্গঠনে আরব লিগ অনুমোদিত ৫৩ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনাকে সমর্থন দিয়েছেন ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।আজ শনিবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর দেওয়া হয়।

    মঙ্গলবার কায়রোতে আরব লিগের সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত প্রস্তাবের বিপরীতে একটি বিকল্প পরিকল্পনা পেশ করা হয়। সেখানে গাজায় জরুরি সহায়তা, বিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার পুনর্গঠনের জন্য একটি ট্রাস্ট তহবিল গড়ে তোলা হবে এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) অধীনে অঞ্চলটি পরিচালিত হবে।আজ এক যৌথ বিবৃতিতে এই পরিকল্পনাকে সমর্থন দেন ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গাজার পুনর্গঠনে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান দিচ্ছে এই পরিকল্পনা। এটি কার্যকর হলে গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের ভয়াবহ জীবনমানের দ্রুত ও টেকসই উন্নয়ন হবে।’মিশরের প্রণীত এই পুনর্গঠন পরিকল্পনা ফিলিস্তিনিদের ‘নিজ ভূখণ্ডে থাকার’ অধিকার নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

    আরব লিগের নেতৃত্বের পাশাপাশি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই পরিকল্পনাকে সমর্থন দিয়েছেন।তবে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র এ পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।ফেব্রুয়ারির শুরুতে ইসরায়েলি নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর প্রথম গাজা পুনর্গঠনের ‘বিস্ফোরক’ পরিকল্পনার কথা জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    তার প্রস্তাব অনুযায়ী, গাজা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে জর্ডান ও মিশরে পাঠিয়ে দিয়ে উপত্যকাটির দখল নেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং একে পর্যটনবান্ধব ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়েরা’ হিসেবে গড়ে তুলবে।ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে ‘জাতিগত নিধন’-এর পরিকল্পনা হিসেবে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।সব আরব দেশ এবং বেশ কিছু ইউরোপীয় রাষ্ট্র ট্রাম্পের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

  • আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বিধিনিষেধ পরিবর্তন

    আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বিধিনিষেধ পরিবর্তন

    বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ইতিহাসে কোভিড-১৯ মহামারি এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। ২০২০ সালের শুরুতে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই দেশে দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, কোয়ারেন্টাইন নীতি, এবং স্বাস্থ্যবিধির কঠোর প্রয়োগ দেখা গেছে। তবে সময়ের সাথে সাথে টিকা উদ্ভাবন, ভাইরাসের প্রকৃতি বোঝা, এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে এই বিধিনিষেধগুলোর ধারায় পরিবর্তন এসেছে। আজকের বিশ্বে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ শুধু পাসপোর্ট ও ভিসার অধীনেই নয়, এটি এখন স্বাস্থ্য সনদ, টিকার ডোজ, এবং জৈবনিরাপত্তার গ্যারান্টির সাথে জড়িত। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি ভ্রমণকারী, পর্যটন শিল্প, এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।

    মহামারির শুরুর দিকে দেশগুলো প্রবল অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে গেছে। ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো যখন সংক্রমণের চূড়ায়, তখন সীমান্ত বন্ধ করা হয়েছিল জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও কঠোর লকডাউন এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সময়ে শুধু জরুরি ভিত্তিতে কূটনৈতিক ও মানবিক ফ্লাইট পরিচালিত হতো। তবে এই বিধিনিষেধের অর্থনৈতিক ফলাফল ছিল ভয়াবহ—পর্যটন শিল্প ধসে পড়া, হাজারো মানুষ কর্মহীন হওয়া, এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে ধস নামা।

    ২০২১ সালের মাঝামাঝি টিকা উদ্ভাবনের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) টিকার বৈশ্বিক বন্টনের ওপর জোর দিলেও ধনী দেশগুলোর টিকা মজুদদারি “ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ” এর জন্ম দেয়। এই সময়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে টিকার সনদ বাধ্যতামূলক করা শুরু হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন “ইইউ ডিজিটাল কোভিড সার্টিফিকেট” চালু করে, যা টিকা, টেস্ট, বা সুস্থতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। এশিয়ার অনেক দেশ, যেমন সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া, “ভ্যাকসিন ট্রাভেল লেন” চালু করে নির্বাচিত দেশগুলোর সাথে ভ্রমণ সুবিধা বাড়ায়। তবে টিকার বৈষম্য ছিল সুস্পষ্ট—আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ টিকা সংকটে থাকায় তাদের নাগরিকরা ভ্রমণে পিছিয়ে পড়ে।

    ২০২২ সালে ওমিক্রন ভেরিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব বিধিনিষেধের পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে। যদিও এই ভেরিয়েন্ট দ্রুত ছড়ালেও গুরুতর অসুস্থতার হার কম ছিল, ফলে অনেক দেশ স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, এবং অস্ট্রেলিয়া বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন তুলে নেয় এবং টিকার সনদ বাধ্যতামূলক করা বন্ধ করে। এই নীতির পেছনে যুক্তি ছিল—”কোভিড-১৯ এর সাথে বসবাস শেখা”। তবে চীন, জাপান, এবং নিউজিল্যান্ড কঠোর শূন্য কোভিড নীতি বজায় রাখে, যা পরবর্তীতে অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক অসন্তোষের কারণে প্রত্যাহার করা হয়।

    বর্তমানে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্রায় পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে, তবে কিছু রেশ রয়ে গেছে। বেশিরভাগ দেশ এখন আর আগের মতো কঠোর টেস্ট বা কোয়ারেন্টাইনের বিধি রাখছে না। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য টিকার প্রমাণ চায়, কিন্তু আগের মতো নেগেটিভ টেস্টের রিপোর্ট জমা দিতে হয় না। অন্যদিকে, ভারত “এয়ার সুভিধা” অ্যাপ চালু করেছে, যেখানে ভ্রমণকারীরা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সকল ডকুমেন্ট আপলোড করতে পারেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, যেমন থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম, পর্যটন পুনরুজ্জীবনে বিশেষ ভিসা সুবিধা দিচ্ছে—যেমন “স্যান্ডবক্স প্রোগ্রাম” বা দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল নোমাড ভিসা।

    এই পরিবর্তনের মূলে কাজ করেছে অর্থনৈতিক চাপ। পর্যটনশিল্প বৈশ্বিক জিডিপির ১০% এবং ৩৩০ মিলিয়ন কর্মসংস্থানের উৎস। থাইল্যান্ডের মতো দেশ, যেখানে পর্যটন জিডিপির ২০% অবদান রাখে, তারা দ্রুত ভ্রমণ নীতি শিথিল করে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। একইভাবে, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল এবং ট্যাক্স ছাড়ের মতো প্রণোদনা দিয়েছে।

    তবে স্বাস্থ্য ঝুঁকি এখনও অমীমাংসিত। নতুন ভেরিয়েন্টের উত্থান, যেমন ক্রোনাস বা এরিস, কিছু দেশকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য করেছে। চীন ২০২৩ সালের শুরুতে শূন্য কোভিড নীতি তুলে নিলেও হঠাৎ সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে আবারও ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এই অনিশ্চয়তা ভ্রমণ শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে বাধা দিচ্ছে।

    ডিজিটাল প্রযুক্তি ভ্রমণ বিধিনিষেধ ব্যবস্থাপনাকে সহজ করেছে। “কমনপাস” বা “ভেরিফ্লাই” এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম স্বাস্থ্য সনদ যাচাইকে দ্রুত ও স্বচ্ছ করেছে। এছাড়া, বায়োমেট্রিক সিস্টেম, যেমন ফেসিয়াল রিকগনিশন, বিমানবন্দরে ভিড় কমাতে সাহায্য করেছে। তবে ডিজিটাল বিভাজন এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ—অনুন্নত দেশগুলোর অনেক নাগরিকের কাছে স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট সুবিধা সীমিত।

    ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নীতিতে স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, স্বাস্থ্য ঝুঁকির স্তরভেদে নীতি প্রণয়ন করতে—যেমন, “লাল”, “হলুদ”, ও “সবুজ” তালিকা তৈরি। এছাড়া, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং টিকা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি, যাতে ভবিষ্যতের মহামারিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।