কৃষি, মানব সভ্যতার সবচেয়ে প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্ষেত্রের একটি। মানব সমাজের উত্থান-পতনে কৃষির ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশ, একটি অত্যন্ত সংগ্রহশীল দেশ, যেখানে প্রায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জীবনযাপনের বেশিরভাগ অংশ কৃষিতে নির্ভর করে। এই মহান ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কৃষির উন্নতির দিকে অগ্রগতি হচ্ছে নতুন এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে।
বাংলাদেশের কৃষি সেই অংশ যেখানে অনেক ক্ষেত্রে এখন আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মিলিত হচ্ছে। নতুন জাতের বীজ, সুষম খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত পোকা বিনামূল্যের দ্রব্য এবং বার্ষিক ফসলের সুখে সহায়তা নিতে সহায়ক সরঞ্জাম ব্যবহার হচ্ছে কৃষি প্রযুক্তিতে। এছাড়াও, সংস্থাগুলি ব্যবহার করে কৃষকদের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের উন্নতির পথে সাহায্য করে।
বাংলাদেশের কৃষি ও তার আধুনিকায়নের সফলতার গতি দেখে বোঝা যায় আমাদের কৃষি হবে জগৎ সেরা। এই সাফল্যের মূল চেষ্টা হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে এবং কৃষকদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ সৃষ্টি করা। এ ক্ষেত্রে সরকার, বিশেষভাবে কৃষি মন্ত্রণালয়, যে অনেকগুলি উন্নত প্রযুক্তি এবং সুবিধা ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করেছে, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একজন কৃষকের জীবনযাপন ও উন্নতির সাথে সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতেও কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। সুতরাং, বাংলাদেশের কৃষি হবে জগৎ সেরা এমন একটি স্বপ্ন আমরা সকলের অধিকারিতা।
বাংলাদেশ, একটি দেশ যেখানে অনেক মানুষ কৃষি করে আবার অনেকে কৃষিতে নিজেদের আয় বাড়াতে চান। এই সময়ে বাংলাদেশের কৃষি র ক্ষেত্রে একটি নতুন দিশায় মুখ তুলতে হচ্ছে – অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে।
অর্থনৈতিক মুক্তি অর্থাৎ মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং স্বায়ত্তশাসিত অর্থনীতির অবসানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে আয় উৎপাদন করা। বাংলাদেশের প্রাথমিক অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যের মধ্যে বিপুল মানুষের সমৃদ্ধি এবং প্রত্যাশা থাকে। এই সমৃদ্ধির এবং অর্থনীতির স্বাধীনতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বাংলাদেশের কৃষিতে।
বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রতি অত্যন্ত উন্নতি হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে। এই দেশে নতুন জাতের বীজ, সুষম খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত পোকা বিনামূল্যের দ্রব্য এবং বার্ষিক ফসলের সুখে সহায়তা নিতে সহায়ক সরঞ্জাম ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়াও, কৃষকদের প্রশিক্ষণের এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে তাদের উন্নতি হচ্ছে।
কৃষির উন্নতির মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক মুক্তি লক্ষ্য সাধার। এই দেশের কৃষিকাজের প্রতিষ্ঠানগুলি এবং সরকার একত্রে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, এবং সুযোগ সৃষ্টি করেছে যাতে কৃষকদের জীবনযাপন এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বৃদ্ধি পায়।
এই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই ক্ষেত্রে আরও প্রয়োজন এবং সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি বৃদ্ধি পায় যা বাংলাদেশের কৃষি প্রয়োজন এবং এটির প্রয়োজনীয় উন্নতির লক্ষ্যে পরিবর্তন করতে সাহায্য করবে।
অতএব, বাংলাদেশের কৃষি হবে অর্থনৈতিক মুক্তির উপায়।.
কৃষি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, যা মানব সমাজের জন্য অপরিসীম ভূমিকা পালন করে। এটি না মাত্র খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে জীবনসঙ্গী করে, বরং এটি সম্পদ সৃষ্টি করে এবং অর্থনৈতিক উন্নতির পথে প্রযুক্তির সাথে সমন্বয় করে। বাংলাদেশে, যেখানে অনেকের মাঝে পারিবারিক কৃষি এখনও প্রধান অংশ, শিক্ষাপ্রাপ্ত ও প্রযুক্তিগত পরিবেশে একটি নতুন সূচনা রয়েছে – “পারিবারিক কৃষি এখন শিক্ষিতদের হাতে”.
পারিবারিক কৃষি হলো একটি অবস্থানবিশেষ কৃষি প্রক্রিয়া যেখানে পরিবারের সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কৃষি সংস্থানের আউটপুটের উন্নতির জন্য তাদের বৈষম্যিক সম্প্রদায়ের আবশ্যক প্রযুক্তি, জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণ করে। এটি মৌলিকভাবে কৃষিকাজে পরিবারের সদস্যদের সামর্থ্য বৃদ্ধি করে এবং সামগ্রিকভাবে উন্নত কৃষি প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে।
বাংলাদেশে, পারিবারিক কৃষির চাহিদা এখন প্রায়ই বাড়ছে কারণ শিক্ষিত প্রজন্মের মধ্যে কৃষি কর্মকে স্বাক্ষর পেশা হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে। তারা অনেক উচ্চমানের কৃষি পণ্য উৎপাদন করতে ইচ্ছুক, তবে তাদের জন্য প্রযুক্তি এবং ব্যবসায় প্রযুক্তির জ্ঞান অন্যের চেয়ে অল্প।
এই অবনতির মধ্যে একটি সমাধান হলো পারিবারিক কৃষির প্রচার ও উন্নতিতে প্রযুক্তির প্রয়োগ। প্রযুক্তি ব্যবহার করে পারিবারিক কৃষি করে, শিক্ষিত প্রজন্ম না মাত্র কৃষির উন্নতি করতে সক্ষম হয়, বরং একটি উন্নত ও সামর্থ্যশালী কৃষি প্রণালীর অধিকারী হয়।
তাই, বাংলাদেশে পারিবারিক কৃষি এখন শিক্ষিতদের হাতে। এটি একটি সুস্থ এবং সহজ উপায় যাতে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত পরিবেশে কৃষিকাজের প্রচার হতে পারে এবং সহজেই শিক্ষিত প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে পারে।
বাংলাদেশে, অর্থনৈতিক মুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে পুকুরে মুক্তা চাষ এর প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় মুক্তা চাষকে একটি আর্থিক সম্পদ উৎপাদনের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
মুক্তা চাষ একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ যা অনেক মানুষের জীবিকা উন্নত করতে পারে এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে। এটি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ভাল বিকল্প হতে পারে যারা নিজেদের আয় বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে চান।
পুকুরে মুক্তা চাষ করে অনেক সুবিধা প্রাপ্ত করা সম্ভব, যেমন পুকুরের পানি ব্যবহার করে মুক্তা চাষের জন্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা তৈরি করা, স্থানীয় বাজারে মুক্তা বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক মানুষের আয় বাড়তে সাহায্য হতে পারে, যারা আর্থিক অস্বাভাবিকতা বিষয়ে চিন্তিত এবং আজকের বাজারে কার্যরত হতে চান।
পুকুরে মুক্তা চাষ আনতে পারে অর্থনৈতিক মুক্তি এবং এটি একটি উদাহরণ যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অগ্রাধিকারের উদাহরণ হিসাবে কাজ করতে পারে।
বাংলাদেশে, কৃষি একটি প্রধান অর্থনৈতিক ক্ষেত্র, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য মুখ্য মাধ্যম। এই কৃষি ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সম্প্রতি, নারীদের কৃষি ক্ষেত্রে অবদান বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং তাদের সংখ্যা অধিক হচ্ছে যা একটি সামাজিক পরিবর্তনের চিহ্নিত উদাহরণ।
নারীদের কৃষি ক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে অনেক উপকারের দিকে এগিয়ে এসেছে। তারা অধিকাংশই গ্রামীণ অঞ্চলে বাস করে এবং মুখ্যতঃ পারিবারিক কৃষি করেন। নারীদের কৃষিতে অবদান করা কৃষিকাজের সমগ্র প্রক্রিয়ায় উন্নতি আনে, সংস্থানিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে ফলন উৎপাদন বৃদ্ধি করে, সহজে অস্ত্রোপচার করে এবং পরিবেশের সংরক্ষণের দিকে মনোনিবেশ সৃষ্টি করে।
সাথে সাথে, নারীদের কৃষি কর্ম দ্বারা তাদের আর্থিক স্বাধীনতা বৃদ্ধি পায়, স্থানীয় সম্প্রদায়ে সামাজিক অবদান করে এবং সমাজে উন্নত অবস্থা সৃষ্টি করে। এছাড়াও, নারীদের কৃষি প্রযুক্তিগত প্রভাবে শিক্ষার স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উন্নতি এবং সামাজিক পরিবর্তন সৃষ্টি করে।
এই প্রক্রিয়ায় নারীদের কৃষি ক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির একটি অগ্রণী প্রয়োজনা। সরকার এবং সংস্থাগুলির সাথে কাজ করে, নারীদের কৃষি ক্ষেত্রে অধিক সুযোগ ও সুবিধা সৃষ্টি করা একটি প্রয়োজন।
সুতরাং, কৃষি ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি অর্থনৈতিক মুক্তির পথে একটি প্রধান উদাহরণ।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সাথে কৃষি খাতে নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত ফসলের উন্নতি এবং বিস্তারের দিকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান চলছে। এই প্রযুক্তির একটি উদাহরণ হলো পঞ্চগড়ে কফি চাষের প্রযুক্তি প্রকল্প। পঞ্চগড়, একটি সমৃদ্ধ উত্তর পূর্ব জেলা, যেখানে চা চাষের পরে কফি চাষের প্রচেষ্টা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কফি একটি গুণগত ও মৌলিক উৎপাদন, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য একটি নতুন দিক সৃষ্টি করতে পারে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে, পঞ্চগড়ে কফি চাষ কৃষকদের মাঝে একটি নতুন স্বপ্ন উত্তীর্ণ করেছে। সাথী ফসল হিসাবে কফি চাষের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারের বিষয়ে চাষিরা সংশয় ও উৎসাহে মিশে আছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্পের অংশ হিসেবে, এই বছরে পঞ্চগড়ে ২৬ হেক্টর জমিতে কফি ও কাজু বাদাম চাষ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৪ জন চাষি এই প্রযুক্তিতে জড়িত হন। পঞ্চগড়ের তিনটি উপজেলা (পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) উপজেলা স্তরে এই প্রযুক্তির প্রযুক্তিতে সফলভাবে কাজ করছে।
কফি ও কাজু বাদাম গবেষণা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অধিকাংশ উদ্যোগে এই প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্পর্কে কৃষকদের অবগতি প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কফি চাষের প্রক্রিয়ায় সাফল্যের উন্নতি ও উন্নত ফসল উৎপাদনে মানুষের উপকারের সাথে সাথে সম্পর্কিত অর্থনৈতিক উন্নতি এবং গ্রাহকদের প্রচেষ্টা সফলতার সাথে সাথে চালিত হচ্ছে।
তবে, কফি চাষের সহজতর পক্ষে সঙ্গে অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কফি চাষের প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজার আবদ্ধতা, মৌলিক সাধারণ মান বিষয়ে চাষিরা মৌলিকভাবে চিন্তিত এবং উত্সাহিত আছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তারা নতুন প্রযুক্তিগত সম্পর্কে অবগত হওয়ার সাথে সাথে সমস্যা ও উপেক্ষা সমাধানে মাধ্যমিক প্রযুক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন মেশিনারি এবং বাস্তবায়নে।
প্রতিষ্ঠান ও সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশে কফি চাষ এবং তার উন্নত উৎপাদনের জন্য একটি সুবিধামূলক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। চাষি সমাজের উন্নত অর্থনৈতিক অবস্থা এবং মানবিক উন্নতির সাথে সাথে এই প্রকল্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সম্পর্কিত উপস্থাপনার সাথে সাথে পঞ্চগড়ে কফি চাষের প্রকল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং কৃষি খাতে উন্নতির জন্য একটি নতুন দিক সৃষ্টি করতে সক্ষম হতে পারে।
উপকূলের কৃষকদের মাঝে সূর্যমুখী চাষ এর সাফল্যের মুখ দেখা যাচ্ছে। এই বছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখী খেত পরিচর্যা নিয়ে কৃষকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এবং ভালো ফলন ঘরে তোলার আশায় আছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই বছরে মোট ১৯৫০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইসান-৩৩, বারি সূর্যমুখী-১ ও বারি সূর্যমুখী-২ জাতের ফুলের চাষ বেশি করেছে কৃষকরা। এ বছর প্রায় ১২’শ হেক্টর জমিতে এ ফুলের চাষ বেশি হয়েছে তুলনা করে গত বছরের। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় কমবেশি সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছে।
সূর্যমুখী চাষ উপকূলের কৃষকদের মাঝে একটি নতুন আশার উদাহরণ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখী চাষের সফলতা দেখে অনেকে আরও এই ফুলের চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। কৃষকদের মধ্যে এই ফুলের চাষের সংশ্লিষ্ট পরিচর্যা ও উপযোগী পরামর্শের উপলব্ধির জন্য অধিকাংশ উপকূলের কৃষি অফিস কাজ চালাচ্ছেন।
সূর্যমুখী ফুলের চাষের সফলতা একটি আশাবাদী অবস্থা যা উপকূলের কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নতির দিকে একটি নতুন দিক খুলে দেখাচ্ছে। আশা করা যায় যে, এই সাফল্যের প্রভাব উপকূলের কৃষকসম্প্রদায়ের উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে একটি উদাহরণ স্থাপন করবে।
লতিরাজ কচু আমাদের দেশে অনেকগুলো জনপ্রিয় সবজির মধ্যে একটি। এই লতি কচু বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে, যা থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ খুলেছে। অনেকে মূলত পানি কচুকেই কচুর লতি বলেন। অনেক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ এই লতিরাজ কচু। মুখীকচু বেশ জনপ্রিয় একটি কচু আর এর পরই কচুর লতির স্থান।
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি লতির মূল্য ৭০-৮০ কেজি। খুব সহজেই লতিরাজ কচু চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি কি তা জেনে নেয়া যাক।
সাধারণত উষ্ণ জলবায়ুতে কচুর লতি ভালো জন্মে। কচুর লতি প্রায় সব ধরনের মাটিতে চাষ করা যায় তবে পলি দোআঁশ ও এটেল মাটি পানি কচু চাষের জন্য উপযুক্ত। কচুর লতি জন্য মাঝারি নিচু শ্রেণির জমি প্রয়োজন যেখানে বৃষ্টির পানি জমে বা জমির পানি ধারণ ক্ষমতা আছে এমন। অল্প আলো বা ছায়াযুক্ত জমিতে লতি কচু ভালো জন্মাতে পারে। প্রখর রোদেও ভালো ফলন দেখা যায়।
জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ লতিরাজ কচু ০৩
আমদের দেশে বেশ কিছু কচুর লতির জাত রয়েছে। দেশী জাতের গাছ ছোট, পাতা ছোট ও চিকন সরু ও লম্বা হয়। আর উন্নত জাতের লতি লম্বা ও মোটা এবং গিটযুক্ত হয়। আবার খাটো ও মোটা, শাসাল ও মাংসল যা দ্রুত গলে যায় এমন জাতেরও রয়েছে।
এ দেশে উদ্ভাবিত পানি কচুর দুটি উন্নত জাত যেমন বারি পানি কচু ১ ও বারি পানি কচু-২। আমাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত দুটি জাত লতি উৎপাদনের জন্য ভালো জাত হিসেবে পরিচিত। উন্নত জাতের ভালো চারা বাছাই করতে হবে এবং চারাগুলি বোনার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। চারা বপন করতে সমান দূরত্ব রাখতে হবে এবং প্রতি লাইনে চারা গুলি সঠিকভাবে লাগাতে হবে।
সেপ্টেম্বর মাসে জমির লতি হারভেস্ট করার আগেই লতির আগায় জন্মানো চারা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। তারপরে কচুর লতি চাষ করার জন্য সংরক্ষিত চারাগুলোকে আলাদা কোনো জায়গায় পুঁতে রাখতে হবে। জমিতে এসকল চারা পুনরায় শীতের আগেই লাগিয়ে ফেলতে হবে। লাগানো লতির চারা থেকে ফেব্রুয়ারি – মার্চ মাসে লতি আসা শুরু হয়।
কচুর লতি চাষের জন্য জমিতে ৩ থেকে ৪টি চাষ দিয়ে মাটি সমান করে জমি তৈরি করে নিতে হবে। কচুর লতির চারা জমিতে সারি সারি করে লাগাতে হবে। সারিবদ্ধভাবে চারা লাগালে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩৮, ০০০ চারা প্রয়োজন হবে। গুড়িচারা কচুর লতির চারা হিসেবে লাগানো হয়।
জমি থেকে ভালো ও বেশি ফলন পেতে হলে জমিতে অবশ্যই সুষম সার দিতে হবে। প্রতি বিঘাতে কচুর লতি চাষের জন্য ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২৫ কেজি এমওপি, ১৮ কেজি টিএসপি ও ৫০০ কেজি গোবর সার দিতে হবে। লতি চাষে সব সার একত্রে দেয়া উচিত নয়। প্রথম পর্যায়ে ইউরিয়া ব্যতিত অন্যান্য সব সার জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে।
চারা লাগানোর প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন পরেই জমিতে ইউরিয়া ব্যবহার করা যায়। অবশ্যই জমিতে সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা থাকতে হবে। চারা লাগানোর সময় জমিতে পানি না থাকলে অতিরিক্ত সেচের মাধ্যমে জমি কাদা করতে হবে। লতির জমি শুকিয়ে গেলে কচু গাছের ক্ষতি হয়। তাই বৃষ্টির অপেক্ষা না করে জমিতে প্রবাহমান পানি নিশ্চিত করতে হবে।
লতি কচুর গোড়ায় সব সময় পানি থাকা প্রয়োজন। আর দাঁড়ানো পানি মাঝে মাঝে নাড়াচাড়া ব্যবস্থা করতে হবে। সবসময় পানি থাকলে জমিতে আগাছার উপদ্রব কম হয়। জমিতে আগাছা থাকলে শামুক আশ্রয় নেয় ও কচুর লতি গাছে উঠে পাতা খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। জমির এসব আগাছা হাতে টেনে সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে।
জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ লতিরাজ কচু ০১
ক্ষুদ্র লাল মাকড় বা রেড স্পাইডার মাইট আগাম কচুর লতি চাষে ক্ষতি করে। কচুর লতির ক্ষেতে মাকড়ের আক্রমণ থাকলে পাতার সবুজ রং নষ্ট হয়ে বিন্দু বিন্দু শুকনো দাগ দেখা যায়। মাকড় পোকা দূরীকরণে মাকড়নাশক ব্যবহার করতে হবে। আবার এমনভাবে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে যাতে পাতার উল্টো পাশও ভিজে যায়।
লেদা পোকার আক্রমণও কচুর লতির ক্ষেতে দেখা যায়। ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি স্প্রে করে লেদা পোকা দমন করা যায়।
চারা রোপণের প্রায় ২ মাস পর থেকে ৭ মাস পর্যন্ত লতি হয়ে থাকে। যে কোন বয়সেই গাছ থেকে কচুর লতি তুলে খাওয়া যায়। তবে জরুরী বিষয় হচ্ছে, ছোট সাইজের লতি গাছ থেকে তুললে লতির ফলন কমে যেতে পারে। গাছের সবচাইতে বড় আর মোটা লতিগুলো প্রথমে তুলতে হবে।
সালফার হল একটি উপাদান, যে কয়েকটি উপাদানের মধ্যে একটি বিশুদ্ধ আকারে প্রকৃতিতে অন্য উপাদানের সাথে মিলিত না হয়েই পাওয়া যায়। এটি একটি প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন কীটনাশক যা কয়েকশত বিভিন্ন কীটনাশক পণ্যের উপাদান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অবশ্য, এটিকে সরাসরিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
যদিও সালফারের গন্ধ অপ্রীতিকর, সাধারণত পচা ডিমের সাথে যুক্ত, সালফার শুধুমাত্র আপনার গাছপালা থেকে মাকড়কে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি এটি একটি ছত্রাকনাশক হিসাবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। ফলিয়ার স্প্রে হিসাবে সালফার ব্যবহার করার পাশাপাশি, এটি বাষ্পীভূত বা পোড়ানোও যেতে পারে। এটি পোকামাকড় বা ছত্রাক নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত সবচেয়ে সাধারণ উপায়।
আপনি বিভিন্ন ধরণের শোভাকর, শাকসবজি, ফল, গুল্ম, ফুল, গোলাপ ইত্যাদি সহ প্রায় যে কোনও ধরণের উদ্ভিদে সালফার ব্যবহার করতে পারেন।
স্ট্রবেরি গোড়া পচা রোগ হলো একটি প্রচলিত ফুলফলের রোগ, যা পুষ্টি অভাব, পোকা বা কীট আক্রমণ, বা অশুদ্ধ পানি পরিবেশের কারণে স্ট্রবেরি গাছের লিজার্ড অংশের উপর আক্রমণ করে। এই রোগের ফলে স্ট্রবেরি গাছের গোড়া পচা হয়ে যায়, যা ফলে স্ট্রবেরি ফলের মান ও রঙে ক্ষতি হয়ে থাকে।
এই রোগের কারণে অনেক সময় স্ট্রবেরি ফলের উপর ছালা পড়ে যা সাদা বা হলুদ রং হয়ে যায় এবং তা ফ্যাকেরিয়া পোকা বা অন্যান্য ফাংগাস জনিত রোগের চেহারা দেখাতে পারে। আরও অন্যান্য উপাদানের প্রভাবে স্ট্রবেরি ফলের গোড়া পচা হতে পারে।
এই রোগের প্রধান লক্ষণগুলি হলো:
১. স্ট্রবেরি ফলের গোড়া মেলা অথবা ধুসর রঙের হয়ে যাওয়া। ২. গোড়ার উপর ছালা পড়ে থাকা যা সাদা বা হলুদ রঙের হয়ে যায়। ৩. ফলের আকার অস্বাভাবিক হয়ে যাওয়া। ৪. ফলের গন্ধ অথবা স্বাদ পরিবর্তন হওয়া।
স্ট্রবেরি গোড়া পচা রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিষ্ঠান বিষয়ে কিছু পরামর্শ নিম্নে দেওয়া হলো:
১. সুস্থ ফলজাত বেছে নেওয়া। ২. গাছের দেখার মধ্যে পরিষ্কারতা বজায় রাখা। ৩. নিয়মিত ফসল বিস্তার নিশ্চিত করা। ৪. ফলে অভাবগ্রস্থ ফলগুলি বেছে নেওয়া। ৫. স্ট্রবেরি গাছে পরিমিত রোগনিরোধক প্রস্তুতি করা যেমন ফুংসিডাইড বা পরিস্কারক।
স্ট্রবেরি গোড়া পচা রোগের প্রতিরোধ এবং প্রতিষ্ঠান উপায়ে মূলত এই সময় যে অনুসন্ধান চলছে তা অধিক করে প্রযুক্তির মাধ্যমে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে এই রোগের প্রতিরোধ করা হয়।