Blog

  • দুই মাসের মধ্যে তুলা কৃষি পণ্য ঘোষণা: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    দুই মাসের মধ্যে তুলা কৃষি পণ্য ঘোষণা: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    কৃষিখাতের বড় সিদ্ধান্ত! দুই মাসের মধ্যে তুলাকে কৃষি পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। এতে দেশে তুলা উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামে (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে বাংলাদেশে তুলা চাষের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ট্যাক্স প্রত্যাহারের সুপারিশ
    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, দেশি তুলার ওপর আরোপিত ট্যাক্স ও ভ্যাট জরুরিভিত্তিতে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হবে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে সুপারিশ করা হবে বলে জানান এনবিআরের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন (কাস্টম বন্ড)।

    তামাকের বদলে তুলা চাষের পরামর্শ
    তামাক চাষে জমির উর্বরতা কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “তামাকের পরিবর্তে তুলা চাষ করলে কৃষকরা লাভবান হবেন এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে।”

    কৃষি ঋণে প্রবেশাধিকার চায় তুলা খাত
    বাংলাদেশ কটন জিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সাবের জানান, তুলাকে কৃষি পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় তুলা চাষিরা কৃষি ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকার নীতি সহায়তা দিলে কমপক্ষে দুই লাখ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করা সম্ভব হবে, যা আমদানির চাপ কমাবে।

    বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অগ্রগতি
    বাংলাদেশ তুলা আমদানিতে চীনকে ছাড়িয়ে শীর্ষ স্থানে যেতে চলেছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা আরও বলেন, চামড়া শিল্পের মতো তুলা খাতেও স্বল্প সুদের ঋণের ব্যবস্থা করা হলে কৃষকরা তুলা উৎপাদনে আগ্রহী হবেন।

     

  • বীরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ মহড়া

    বীরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ মহড়া

    রনজিৎ সরকার রাজ বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:  ভিডিও দেখুন
    চলমান মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বেড়েছে ছিসকে চুরি, কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া মটর বাইক ড্রাইভিং, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ।

    প্রতিরোধে থানা পুলিশও কঠোর অবস্থানে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চলছে ব্যপক তৎপরতা।

    অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত, পরিচালিত হচ্ছে নানান অত্যাধুনিক কার্যক্রম।

    ইতোমধ্যে পৌর শহরের বিভিন্ন বিপনি-বিতানের সামনে ও জনসমাগম এলাকায় পুলিশি অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের টহল, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি।

    পোষাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

    বিশেষ মহড়া চলমান, পাশাপাশি ১৫ মার্চ’২৫ শনিবার সন্ধ্যায় সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়কে পুলিশের এই বিশেষ টহল পরিলক্ষিত হয়।

    সম্প্রতি সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টি চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    সেই ধারাবাহিকতায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে মর্মে জানান এসআই জাহাঙ্গীর বাদশা রনি।

    টহল অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশ সদস্যদের পরনে ছিল নির্ধারিত ইউনিফর্ম, হেলমেট ও প্রতিরক্ষা মূলক গিয়ার।

    শতাধিক মোটর সাইকেল বহর নিয়ে তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে মহড়া প্রদর্শন ও তল্লাশি চালায়।

    পুলিশের সাথে স্বেচ্ছাসেবকরাও অংশ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করেন।

    এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল গফুর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

  • পুঠিয়ায় পেঁয়াজের কদম চাষে কৃষকের আগ্রহ বৃদ্ধি

    পুঠিয়ায় পেঁয়াজের কদম চাষে কৃষকের আগ্রহ বৃদ্ধি

    পুঠিয়া, রাজশাহী: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় পেঁয়াজের কদম (বীজ) চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ভালো দাম ও লাভজনক চাষাবাদের কারণে কৃষকরা এবার পেঁয়াজ কদম উৎপাদনে বেশি আগ্রহী। তবে অতিরিক্ত পুকুর খননের ফলে কৃষি জমি কমে যাওয়ায় কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হয়েছে চাষিদের।

    আবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা

    পুঠিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, গত বছর ৭০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের কদম চাষ হয়েছিল। চলতি বছরে ৮০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৭৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। শিলমাড়িয়া, ভাল্লুক গাছি ও জিউপাড়া ইউনিয়নে পেঁয়াজের কদমের আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে।

    কৃষকদের মতামত ও চাষাবাদের চ্যালেঞ্জ

    স্থানীয় কৃষক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, “কালো সোনা খ্যাত পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে এবার আশানুরূপ ফলন হবে বলে মনে করছি। প্রতি বিঘায় ১২০ কেজির বেশি ফলন হতে পারে। আমরা কৃষি বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি এবং পরাগায়ন সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে পরামর্শ পাচ্ছি।”

    তবে অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, পূর্বে যেখানে পেঁয়াজ চাষ হতো, এখন সেখানে পুকুর হওয়ায় তারা কদম চাষ করতে পারছেন না।

    কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পেঁয়াজের কদমের আবাদ বেড়েছে। কৃষকরা উচ্চমূল্যে বীজ কিনতে বাধ্য হওয়ায় বেশি পরিমাণ বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে চাষ করেছে।

    তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পুঠিয়া উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলা ও উপজেলায় বীজ সরবরাহ সম্ভব হবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সার্বিক কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে কৃষি অফিস।

  • আলুর উৎপাদন রেকর্ড গড়লেও দামের ধাক্কায় কৃষকের দুর্ভোগ

    আলুর উৎপাদন রেকর্ড গড়লেও দামের ধাক্কায় কৃষকের দুর্ভোগ

    রংপুর: চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদিত হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। হিমাগারে সংরক্ষণের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

    উৎপাদনে রেকর্ড, কিন্তু সংকটে কৃষক

    রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩,৯৫০ হেক্টর, তবে চাষ হয়েছে ৬৬,২৮০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের ১৫.২৬ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ছাড়িয়ে এবার ২০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি উৎপাদন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    রংপুর ছাড়াও নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটে এক লাখ ৬০২ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চাষ হয়েছে ১,১৯,৮৩৯ হেক্টর জমিতে।

    দামে ধস, লোকসানের শঙ্কা

    গত বছর এই সময়ে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম ১২-১৩ টাকা কেজি। এতে কৃষকরা ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

    গঙ্গাচড়া উপজেলার কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, ২৭ শতক জমিতে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ভালো ফলন পেলেও বর্তমান বাজারমূল্যে লাভের আশা নেই। হিমাগারে সংরক্ষণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

    নগরীর চব্বিশ হাজারি এলাকার চাষি কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মন বলেন, “ফলন ভালো হলেও বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে লোকসান হবে। তাই হিমাগারে সংরক্ষণের পরিকল্পনা করলেও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সংকটে আছি।”

    পীরগাছার কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমিতে ৩৫-৪০ হাজার টাকা খরচ করে ৭০-৮০ মণ আলু উৎপাদন করেছেন। কিন্তু বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ৪৮০-৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।

    হিমাগারের সংকট ও ভবিষ্যৎ ভাবনা

    হিমাগারে সংরক্ষণের সুযোগ সীমিত ও ভাড়া বেশি হওয়ায় কৃষকরা বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছেন

    রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আলু উৎপাদিত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে উদ্বৃত্ত আলু দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ ও রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া গেলে সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে।

  • দুর্গম এলাকা ঘোষণা: ২৩ জেলার ৭৪টি উপজেলা

    দুর্গম এলাকা ঘোষণা: ২৩ জেলার ৭৪টি উপজেলা

    ঢাকা: যোগাযোগ ব্যবস্থার ভিত্তিতে ২৩ জেলার ৭৪টি উপজেলাকে দুর্গম হিসেবে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব এলাকায় দায়িত্ব পালনকারীদের ভাতা নির্ধারিত হারের চেয়ে দেড়গুণ বেশি দেওয়া হবে।

    সিদ্ধান্তের পটভূমি

    ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

    ভাতা বৃদ্ধির কারণ

    ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে নিয়োজিত লোকবলের জন্য ভাতা নির্ধারণ করতে গিয়ে দুর্গম এলাকার বিষয়টি আলোচিত হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয় যে, ২৩ জেলার ৭৪টি উপজেলায় তথ্য সংগ্রহকারী ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভাতা দেড়গুণ বাড়ানো হবে।

    দুর্গম ঘোষণা করা উপজেলাসমূহ

    দ্বীপ ও উপকূলীয় এলাকা:

    • ভোলা: চরফ্যাশন, মনপুরা
    • বরগুনা: বেতাগী, পাথরঘাটা, বামনা
    • বাগেরহাট: রামপাল, মোড়লগঞ্জ, শরণখোলা
    • খুলনা: বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা, দাকোপ, কয়রা
    • নোয়াখালী: হাতিয়া
    • চট্টগ্রাম: সন্দ্বীপ
    • কক্সবাজার: মহেশখালী, কুতুবদিয়া

    হাওর ও জলাভূমি এলাকা:

    • হবিগঞ্জ: বানিয়াচং, আজমেরীগঞ্জ, লাখাই
    • সুনামগঞ্জ: দোয়ারাবাজার, ধর্মপাশা, শাল্লা, জামালগঞ্জ, দিরাই, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর
    • কিশোরগঞ্জ: ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম
    • নেত্রকোনা: কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, খালিয়াজুরী

    দুর্গম সমতল ও নদীবেষ্টিত এলাকা:

    • বরিশাল: হিজলা, মুলাদী, মেহেন্দিগঞ্জ
    • সিরাজগঞ্জ: চৌহালী
    • পটুয়াখালী: গলাচিপা, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, দশমিনা
    • সাতক্ষীরা: আশাশুনী, শ্যামনগর
    • পিরোজপুর: কাউখালী
    • কুমিল্লা: মেঘনা
    • কুড়িগ্রাম: রৌমারী, রাজিবপুর
    • মানিকগঞ্জ: হরিরামপুর
    • মাদারীপুর: শিবচর

    পার্বত্য এলাকা:

    • খাগড়াছড়ি: পানছড়ি, মহালছড়ি, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা, রামগড়, গুইমারা, লক্ষীছড়ি, খাগড়াছড়ি সদর, দিঘীনালা
    • বান্দরবান: থানছি, রোয়াংছড়ি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবান সদর, রুমা, লামা
    • রাঙামাটি: নানিয়ারচর, বরকল, বাঘাইছড়ি, রাঙামাটি সদর, রাজস্থলী, লংগদু, কাউখালী, কাপ্তাই, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    ইসি জানিয়েছে, পার্বত্য অঞ্চল, হাওর অঞ্চল, দ্বীপ অঞ্চল ও সমতল ভূমি বিবেচনায় নিয়ে দুর্গম এলাকার শ্রেণিভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

  • মিরসরাইয়ে পানি সংকটে অনাবাদি দেড় হাজার একর জমি

    মিরসরাইয়ে পানি সংকটে অনাবাদি দেড় হাজার একর জমি

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে পর্যাপ্ত পানির অভাবে দেড় হাজার একর জমিতে বোরো ধান চাষ করতে পারছেন না কৃষকেরা। পানির ব্যবস্থা করা গেলে বোরো মৌসুমেও ধান চাষের আওতায় আসতে পারে পরিত্যক্ত থাকা এসব কৃষিজমি। গভীর নলকূপ, ছড়া ও খাল খননের মাধ্যমে বাওয়াছড়া সেচ প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহের দাবি কৃষকদের। পানি পেলে শস্য উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বাড়বে আবাদি জমির পরিমাণ।

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে মোট কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার একর। যার মধ্যে তিন ফসলি জমির পরিমাণ ৪২৫ একর। বোরো ধান আবাদি জমির পরিমাণ ১২০ একর। শাক-সবজি আবাদি জমির পরিমাণ ৫০০ একর। বাকি ৯৫৫ একর কৃষিজমিতে পানির অভাবে চাষাবাদে বেগ পেতে হয় কৃষকদের।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৫ সালে ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সেলিমের প্রচেষ্টায় ৩, ৫, ৬, ৭ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ২ হাজার কৃষককে নিয়ে সমিতি করা হয়। তাদের নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে একটি বাঁধ নির্মাণ ও স্লুইচ গেইট স্থাপন করে। সেখানে বর্ষা মৌসুমে পানি ধারণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজের জন্য সরবরাহ করে বাওয়াছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড।

    এ প্রকল্পের আওতাধীন ছড়া ও খালগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করে কিছু জায়গায় সরকারিভাবে খননের মাধ্যমে ওয়াহেদপুর বিলের সাথে মাইজগাঁও গঙ্গার বিলকে সংযুক্ত করে স্লুইচ গেইট নির্মাণ করা গেলে গঙ্গার বিল ও তার পাশের কয়েকটি খালের মাধ্যমে এ পানি ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের সিংহভাগ কৃষিজমিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ফলে আমন, বোরো ধান, শাক-সবজিসহ কৃষিপণ্য আবাদ তিনগুণ বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

    ইউনিয়নের নিজামপুর বারোমাসি ছড়া ও গাছবাড়িয়া খাল ঘুরে দেখা গেছে, অবৈধ স্থাপনা ও পলি জমে ২টি ছড়া ও খালে গতিপথ পাল্টে গেছে। বর্ষাকালে সঠিকভাবে পানি প্রবাহিত না হওয়ায় ছড়া, খাল পাড় ও আশেপাশের সড়ক ভাঙনের কবলে পড়ছে। নষ্ট হচ্ছে ক্ষেত খামার ও মাছের ঘের। অন্যদিকে দেখা গেছে গঙ্গার বিল ছড়ার অস্তিত্বই প্রায় বিলীনের পথে।

    মধ্যম ওয়াহেদপুরের কৃষক আবুল কাশেম বলেন, ‘গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক কৃষক কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আমাদের কৃষিকাজে বেগ পেতে হয়। অনেক দূর থেকে পানি সংগ্রহ করে এনে ক্ষেতে সেচ দিতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচও অনেক বেড়ে যায়। পানির অভাবে নষ্ট হয় ক্ষেত। বোরো ধান তো আবাদ করা সম্ভবই হয় না। পানি পেলে বোরো ধানের পাশাপাশি অন্য শাক-সবজি আবাদ করা যাবে। এর জন্য বাওয়াছড়া থেকে পাইপ লাইন স্থাপন করে বা ছড়াগুলো খননের মাধ্যমের পানির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’

    ইছামতি গ্রামের কৃষক সাইফুদ্দিন ও আবুল হাশেম বলেন, ‘মধ্যম ওয়াহেদপুর বিলের সাথে গঙ্গা বিলের সংযোগস্থলের ছড়া ও খাল খনন করে বাওয়াছড়া সেচ প্রকল্প থেকে পানি এনে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে বণ্টন করা গেলে সিংহভাগ কৃষিজমিতে বোরো ধানসহ নানা ধরনের শাক-সবজি অবাদের আওতায় আনা যাবে। কেননা এটি হলো ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থান। এ বিলের খাল ও ছড়ার সাথে বেশিরভাগ বিলের সংযোগ আছে। বর্ষাকালে এ বিল দিয়ে ইউনিয়নের বেশিরভাগ পানি নিষ্কাশিত হয়।’

    নিজামপুর ছড়া ও গাছবাড়িয়া খাল খননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির গতিপথ পাল্টে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলবদ্ধতা। বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। ক্ষতি হচ্ছে আমন ধানসহ নানা কৃষি ক্ষেতের। খাল ও ছড়া খননের মাধ্যমে একদিকে জলবদ্ধতা নিরসন হবে; অন্যদিকে কৃষিতে বাড়বে উৎপাদন। এ সমস্যা সমাধানে সরকারিভাবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন চাষিরা।

  • সিলেট এয়ারপোর্ট থানার চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তি

    সিলেট এয়ারপোর্ট থানার চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তি

    সিলেট প্রতিনিধি:

    সিলেটের এয়ারপোর্ট থানার ছড়াগাং চা বাগান এলাকায় সংঘটিত গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। ভিকটিমের বাবার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে এবং আদালতে হাজির করলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।

    ভিকটিম বিশ্বনাথ উপজেলার একজন নারী, যার বয়স ২৯ বছর। মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হলেও তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার দিন, ১১ মার্চ, কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি সিলেট শহরে আসেন। তিনি প্রথমে শাহজালাল (রহ.) মাজার এবং পরে শাহপরাণ (রহ.) মাজারে যান। সন্ধ্যায় মাজার থেকে বের হওয়ার পর বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন।

    এ সময় একটি লেগুনার চালক ও তার সহকারী তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতে ওঠান। কিন্তু নির্ধারিত পথে না গিয়ে তারা এয়ারপোর্ট থানাধীন ছড়াগাং চা বাগানের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে টিলার ওপরে নিয়ে গিয়ে তারা জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

    ঘটনার পর ভিকটিম অসুস্থ অবস্থায় ছড়াগাং চা বাগানের কাছেই পড়ে ছিলেন। স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ইউপি মেম্বারকে খবর দেন। পরে মেম্বারের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

    ভিকটিমের দেওয়া তথ্য এবং লেগুনার নম্বরের সূত্র ধরে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ও শাহপরাণ (রহ.) তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের যৌথ অভিযানে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন—. মোঃ আব্দুল করিম (২৯), পিতা-মৃত হাশেম মিয়া, মাতা-মায়া বেগম, সাং-উত্তর মোকামেরগুল, থানা-শাহপরাণ (রহ.), জেলা-সিলেট।. মোঃ রাকিব মিয়া (২৫), পিতা-আনোয়ার মিয়া, সাং-ধলইপাড়া, থানা-শাহপরাণ (রহ.), জেলা-সিলেট।

    ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০)-এর ৭/৯(৩) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১০, তারিখ- ১২/০৩/২০২৫।

    গ্রেফতারের পর আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আদালত আসামিদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    এই নির্মম ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

    এয়ারপোর্ট থানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই এই ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।”

    স্থানীয়দের মতে, সিলেট অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা বেড়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

  • পরিবেশবান্ধব বিপ্লবের গল্পে বিষাক্ত সাকার ফিশ থেকে প্রাণিখাদ্য

    পরিবেশবান্ধব বিপ্লবের গল্পে বিষাক্ত সাকার ফিশ থেকে প্রাণিখাদ্য

    বাংলাদেশের নদী, খাল, বিল ও হাওর অঞ্চলে এক সময় বৈচিত্র্যময় মাছের প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলোতে জলজ পরিবেশে আগ্রাসী প্রজাতি সাকার ফিশের (চানা স্ট্রায়াটা) ব্যাপক বিস্তার এই ভারসাম্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে। স্থানীয়ভাবে এই মাছকে বিষাক্ত ও নিম্নমানের হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর প্রভাবে নদীর স্বাভাবিক মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, জলজ বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আর মৎস্যজীবীদের জীবিকা সংকটাপন্ন হচ্ছে। কিন্তু এই সমস্যাকে সম্পদে রূপান্তর করার অভিনব সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একদল উদ্যমী শিক্ষার্থী, গবেষক ও উদ্যোক্তা। তাদের গবেষণা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হলো সাকার ফিশ থেকে পুষ্টিসমৃদ্ধ প্রাণিখাদ্য তৈরির সফল প্রযুক্তি। এই দীর্ঘ প্রতিবেদনে আমরা জানব কীভাবে একটি পরিবেশবিধ্বংসী মাছকে কাজে লাগিয়ে টেকসই খাদ্য উৎপাদনের মডেল তৈরি করা সম্ভব হলো, এবং এই উদ্ভাবন কীভাবে দেশের অর্থনীতি ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

    সাকার ফিশ (স্ট্রাইডেড স্নেকহেড) দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় প্রজাতি হলেও বাংলাদেশের জলাশয়ে এর অস্তিত্ব ছিল সীমিত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, নদীদূষণ ও অন্যান্য পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে গত দুই দশকে এটি দেশের প্রায় সব প্রধান নদী ও জলাভূমিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এটি অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে পারে—দূষিত পানি, অক্সিজেনের স্বল্পতা, এমনকি শুষ্ক মৌসুমে কাদার নিচেও এটি বেঁচে থাকতে পারে। প্রতিবছর একটি সাকার মাছ হাজার হাজার ডিম পাড়ে, যা এর বিস্তারকে ত্বরান্বিত করে।

    সাকার ফিশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি স্থানীয় মাছের ডিম ও পোনা খেয়ে ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, বুড়িগঙ্গা নদীতে গত পাঁচ বছরে স্থানীয় মাছের প্রজাতির সংখ্যা ৪০% কমেছে, যার মূল কারণ সাকার ফিশের আধিপত্য। হাওর অঞ্চলেও একই চিত্র। মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগে যেখানে জালে নানান রকম মাছ উঠত, এখন সেখানে ৬০-৭০% সাকার ফিশ ধরা পড়ে। কিন্তু এই মাছের বাজারমূল্য প্রায় শূন্য—বিষাক্ততা ও দুর্গন্ধের কারণে মানুষ এটি খেতে চায় না, পশুখাদ্য হিসেবেও এর ব্যবহার সীমিত।

    নরসিংদীর মৎস্যজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকার মাছ বিক্রি করতাম। এখন সাকার ফিশ ছাড়া অন্য মাছ পাওয়াই দায়। বিক্রি করা যায় না বলে এগুলো ফেলে দিতে হয়।” এভাবে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকার ক্ষতি হচ্ছে মৎস্যজীবীদের। পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন, সাকার ফিশের অপ্রতিরোধ্য বিস্তার যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ না করা যায়, তবে আগামী এক দশকে দেশের জলজ সম্পদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

    ২০২২ সালের শুরুতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের একদল শিক্ষার্থী ও গবেষক এই সমস্যা সমাধানের জন্য গবেষণা শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল সাকার ফিশকে এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত করা যাতে তা পোষা প্রাণী, পোলট্রি ও মাছের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য তৈরি করা যায়। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইয়াস ওয়ার্ল্ড এই প্রকল্পে অর্থায়ন করে, যা “বর্জ্য থেকে সম্পদ” (ওয়েস্ট টু ওয়েলথ) এবং “সমস্যা থেকে সম্পদ” (প্রব্লেম টু ওয়েলথ) নামক বৈশ্বিক ধারণাকে অনুসরণ করে।

    সাকার ফিশ থেকে খাদ্য তৈরির প্রধান বাধা ছিল এর মধ্যে থাকা বিষাক্ত উপাদান ও দুর্গন্ধ। গবেষক দলটি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবেলা করেন:

    ১. ডিটক্সিফিকেশন (বিষাক্ততা দূরীকরণ): বিশেষ ফার্মেন্টেশন (গাঁজন) পদ্ধতি ব্যবহার করে মাছের টিস্যু থেকে ভারী ধাতু ও অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থ দূর করা হয়।

    ২. পুষ্টি সংযোজন: প্রোটিন সমৃদ্ধ সাকার ফিশের মাংসের গুঁড়ার সাথে সয়াবিন মিল, ভুট্টা, ভিটামিন ও মিনারেল মিশিয়ে সুষম খাদ্যের ফর্মুলা তৈরি করা হয়।

    ৩. প্যালাটেবিলিটি বৃদ্ধি: প্রাণীদের কাছে আকর্ষণীয় করতে খাদ্যে প্রাকৃতিক ফ্লেভার যুক্ত করা হয়।

    গবেষণার প্রথম ধাপে বিড়ালের উপর পরীক্ষা চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে ৭০% বিড়াল এই খাদ্য গ্রহণ করে, এবং তাদের স্বাস্থ্য ও ওজন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ফল দেখা যায়। দ্বিতীয় ধাপে ফর্মুলা উন্নত করে ৮৫% সাফল্য অর্জিত হয়। শেকৃবির অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিভাগের ল্যাবরেটরিতে পোলট্রির জন্য প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য তৈরির পরীক্ষাও সফল হয়েছে।

    ২০২৪ সালে ইয়াস ওয়ার্ল্ডের গ্লোবাল প্রজেক্ট কম্পিটিশনে এই প্রকল্পটি বিশ্বের ১২০টি দেশের মধ্যে চতুর্থ স্থান অর্জন করে। “সাকার ফিশ থেকে প্রাণিখাদ্য” থিমের অধীনে এই উদ্ভাবনী সমাধান আন্তর্জাতিক জাজ প্যানেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রতিযোগিতার একজন জাজ, ড. মারিয়া গোন্জালেজ বলেন, “এই প্রকল্পটি শুধু একটি স্থানীয় সমস্যার সমাধানই নয়, এটি বিশ্বব্যাপী আগ্রাসী প্রজাতি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি মডেল হতে পারে।”

    ফিশারিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী নিয়ামুল ইসলাম, যিনি এই প্রকল্পের মূল সদস্য, বলেন: “আমরা দেখিয়েছি যে কোনো সমস্যাই সম্ভাবনায় রূপান্তরিত হতে পারে। সাকার ফিশকে সাধারণত শত্রু ভাবা হয়, কিন্তু আমরা এটিকে প্রাণিখাদ্যের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য জয়-জয় পরিস্থিতি তৈরি করেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো এই প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা, যাতে দেশের পশুখাদ্যের আমদানি কমে এবং মৎস্যজীবীরা সাকার ফিশ বিক্রি করে আয় করতে পারে।”

    প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. হাবীব বলেন, “সাকার ফিশ নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক বা জাল ব্যবহার করা অকার্যকর। আমরা বায়োলজিক্যাল কন্ট্রোলের একটি মডেল তৈরি করেছি—এটি যত বেশি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে, ততই এর জনসংখ্যা কমবে। বিড়ালের খাদ্য হিসেবে সাফল্যের পর আমরা এখন কুকুর, মুরগি ও মাছের খাদ্য নিয়ে কাজ করছি।”

    বাংলাদেশে পোষা প্রাণীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে। শুধু ঢাকাতেই প্রায় ১৫ লক্ষ বিড়াল ও কুকুর রয়েছে, এবং প্রতি বছর ২০% হারে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে দেশে পশুখাদ্যের ৮০% আমদানি করা হয়, যা বছরে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে। শেকৃবির এই খাদ্য উৎপাদন শুরু হলে দাম স্থানীয় বাজারের তুলনায় ৩০-৪০% কম হবে, যা আমদানির উপর চাপ কমাবে।

    প্রকল্পটিকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করতে প্রয়োজন বড় আকারের উৎপাদন ইউনিট, সরকারি অনুমোদন, এবং বিপণন কৌশল। ইতিমধ্যে এগ্রো-প্রসেসিং কোম্পানি প্রাণ ও এসিআইয়ের সাথে আলোচনা চলছে। এছাড়া, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগকে সহায়তা করার জন্য প্রযুক্তিগত কমিটি গঠন করেছে।

    সাকার ফিশের জনসংখ্যা ৫০% কমানো গেলে, SAU-এর মডেলিং অনুযায়ী, আগামী ৫ বছরে স্থানীয় মাছের প্রজাতি ২৫-৩০% পুনরুদ্ধার হতে পারে। এছাড়া, এই প্রকল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্কুলার ইকোনমির জন্য একটি আদর্শ উদাহরণ তৈরি করেছে।

    বাংলাদেশের এই সাফল্য বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক। উদাহরণস্বরূপ, ক্যারিবিয়ানে লায়নফিশের আগ্রাসন বা উত্তর আমেরিকায় স্নেকহেড মাছের সমস্যা সমাধানেও এই মডেল কাজে লাগানো যেতে পারে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. রবার্ট ক্লার্ক মন্তব্য করেন, “এটি প্রমাণ করেছে যে স্থানীয় উদ্ভাবন বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সংকট মোকাবেলায় কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।”

    শেকৃবির এই গবেষণা শুধু একটি মাছের গল্প নয়—এটি একটি দৃষ্টান্ত যে বিজ্ঞান, উদ্ভাবনী চিন্তা ও স্থানীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে যেকোনো সংকটকে সুযোগে পরিণত করা সম্ভব। সাকার ফিশ থেকে প্রাণিখাদ্য তৈরির এই প্রযুক্তি যদি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়, তবে এটি বাংলাদেশের জলজ বাস্তুতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন, মৎস্যজীবীদের আয় বৃদ্ধি, এবং পশুখাদ্য শিল্পের স্থিতিশীলতায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। এই প্রকল্পের সাফল্য আমাদের শেখায় যে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ না করে তার সাথে সহাবস্থান করাই টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি।

     

  • ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: নকল কীটনাশক বিক্রির দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা  তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: নকল কীটনাশক বিক্রির দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

    সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার তালা উপজেলার স্বজন শাহ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নকল কীটনাশক বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় অসাধু ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান রনির দোকানে সিনজেনটা কোম্পানির নামে ভেজাল কীটনাশক পাওয়া যায়। দোকানে থাকা ১০০ গ্রাম ও ৫০ গ্রামের ৭টি প্লাস্টিকের বোতল নকল কীটনাশক হিসেবে শনাক্ত করা হয়, যা ধানের পচা রোগ প্রতিরোধের নামে কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করছিল।

    অভিযানের পর মোস্তাফিজুর রহমান রনিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • মৎস্য চাষে যুব উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে স্টার্টআপের বিপ্লব 

    মৎস্য চাষে যুব উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে স্টার্টআপের বিপ্লব 

    বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি ও মৎস্য খাতের অবদান অপরিসীম। তবে গত কয়েক বছরে মৎস্য চাষে যুব উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে স্টার্টআপগুলোর ভূমিকা নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। সরকারি নীতিসহায়তা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয়ে এই খাত এখন যুবসমাজের কাছে আকর্ষণীয় পেশা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৎস্য চাষের আধুনিকীকরণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে স্টার্টআপগুলোর উদ্যোগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশে মৎস্য চাষের সঙ্গে যুক্ত যুব উদ্যোক্তার সংখ্যা প্রায় ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং অর্থায়নের সুবিধা যুবদেরকে আকৃষ্ট করার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে মৎস্য চাষ বিষয়ক স্টার্টআপগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে অ্যাকুয়াকালচার টেকনোলজি, মৎস্য খাদ্য উৎপাদন, পোনা বাজারজাতকরণ এবং ফিশ ফার্ম ম্যানেজমেন্টের মতো ইনোভেটিভ সমাধান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

    মৎস্য চাষে যুবদের সম্পৃক্ত করতে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। ‘কৃষি যুব কার্যক্রম’ এবং ‘মৎস্য চাষী উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় প্রশিক্ষণ, অনুদান ও কম সুদে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “যুব উদ্যোক্তাদের জন্য আমরা বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি, যেখানে আধুনিক মৎস্য চাষের পদ্ধতি, রোগ ব্যবস্থাপনা এবং বাজার সংযোগ সম্পর্কে হাতে-কলমে শেখানো হয়। পাশাপাশি, স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করে আমরা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি।”

    এ বছর বাজেটে মৎস্য খাতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ যুব উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। এ ছাড়া ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচির অধীনে মৎস্য চাষীদের জন্য মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা জলাশয়ের মান নিয়ন্ত্রণ, পোনার গুণাগুণ যাচাই এবং বাজারদর সম্পর্কে রিয়েল-টাইম তথ্য পাচ্ছেন।

    সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মগুলোও মৎস্য স্টার্টআপগুলোর দিকে ঝুঁকছে। ‘অ্যাকুয়া টেক’, ‘ফিশনেট’, ‘পোনা বিক্রয়’ এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো যুব উদ্যোক্তাদেরকে লোন প্রদান, টেকনিক্যাল সাপোর্ট এবং নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ দিচ্ছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘প্রজন্ম টেক’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর হোসেন বলেন, “মৎস্য চাষে টেকসই উন্নয়নের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে কয়েকটি স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেছি, যারা বায়োফ্লক প্রযুক্তি এবং স্মার্ট পন্ড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়িয়েছে।”

    এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাচ্ছে চট্টগ্রামের ‘অ্যাকুয়া ফার্মস’। এই স্টার্টআপটি আইওটি (IoT) প্রযুক্তির মাধ্যমে জলাশয়ের অক্সিজেন লেভেল, pH মান এবং তাপমাত্রা মনিটরিং করে চাষিদের স্মার্টফোনে নোটিফিকেশন পাঠায়। প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আরিফুল হক বলেন, “প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা মাছের মৃত্যুর হার ৬০% কমাতে পেরেছি। এ ছাড়া আমাদের অ্যাপের মাধ্যমে চাষিরা সরাসরি কিনতে পারছেন উন্নত মানের পোনা ও খাদ্য।”

    মৎস্য চাষের প্রথাগত পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ করে স্টার্টআপগুলো নিয়ে আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বায়োফ্লক প্রযুক্তি, রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (RAS), এবং অটোমেটেড ফিডিং যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। কুমিল্লার এক যুব উদ্যোক্তা সুমাইয়া আক্তার বলেন, “বায়োফ্লক পদ্ধতিতে অল্প জায়গায় বেশি মাছ চাষ করা যায়। আমি শুধু নিজের আয় বাড়াইনি, স্থানীয় ১০ জন যুবককে এই পদ্ধতি শিখিয়েছি।”

    এ ছাড়া ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে মৎস্য সরবরাহ শৃঙ্খলার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে ‘ফিশ ট্র্যাকার’নামের একটি স্টার্টআপ। ভোক্তারা স্ক্যান করে জেনে নিতে পারছেন মাছটি কোন পুকুর থেকে এসেছে, কী ধরনের খাবার ব্যবহার করা হয়েছে। এই উদ্যোগ ভোক্তাদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করছে।

    মৎস্য চাষে যুব উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়লেও কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। অনেকেই প্রাথমিক বিনিয়োগ জোগাড় করতে হিমশিম খান। জমির উচ্চমূল্য, প্রশিক্ষণের অভাব এবং বিপণন সংকটও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খানম বলেন, “গ্রামীণ পর্যায়ে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম দুর্বল। স্থানীয়ভাবে ইনকিউবেটর এবং মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম বাড়ানো গেলে যুব উদ্যোক্তাদের সাফল্যের হার আরও বাড়বে।”

    এই সমস্যা সমাধানে সামাজিক সংগঠনগুলো এগিয়ে আসছে। ‘যুব মৎস্য নেটওয়ার্ক’ নামের একটি সংস্থা গ্রামীণ যুবদের জন্য কমিউনিটি পন্ড তৈরির ব্যবস্থা করছে, যেখানে একাধিক উদ্যোক্তা সম্মিলিতভাবে চাষ করতে পারবেন। এ ছাড়া ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে পার্টনারশিপ করে মাছ বিক্রির নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে মৎস্য উৎপাদন ৬০ লাখ মেট্রিক টন ছাড়াবে। এ লক্ষ্য অর্জনে যুব উদ্যোক্তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) বাংলাদেশের মৎস্য স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে কাজ করছে টেকসই চাষ পদ্ধতি প্রসারে।

    মৎস্য চাষের এই রূপান্তর কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই নয়, গ্রামীণ সমাজের চিত্রও বদলে দিচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে, যা সমাজে নেতৃত্বের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নারায়ণগঞ্জের তরুণী ফারিহা আক্তার তার ছোট্ট ফার্ম থেকে মাসে ৫ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি করছেন। তাঁর ভাষায়, “মৎস্য চাষ আমাকে আর্থিক স্বাধীনতা দিয়েছে। এখন আমি অন্য মেয়েদেরও এই পথে আসতে উৎসাহ দিই।”

    মৎস্য চাষে স্টার্টআপের এই জোয়ার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে মজবুত করার পাশাপাশি যুবসমাজের মাঝে আশার আলো জ্বালিয়েছে। সরকার, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়ে এই খাতের উন্নয়ন টেকসই হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের সম্মিলনে মৎস্য চাষ আজ শিল্পে পরিণত হয়েছে—যেখানে যুব উদ্যোক্তারাই হচ্ছেন নেতৃত্বের মুখ।