Blog

  • খাঁচায় দেশী মুরগি পালন পদ্ধতি: আধুনিক উপায়ে অধিক লাভজনক খামার

    খাঁচায় দেশী মুরগি পালন পদ্ধতি: আধুনিক উপায়ে অধিক লাভজনক খামার

    খাঁচায় দেশী মুরগি পালন করতে চান? আজ আমরা আলোচনা করবো আধুনিক পদ্ধতিতে কিভাবে দেশী মুরগি পালন করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং রোগ কমবে।কৃষি নির্ভর আমাদেশে দেশী মুরগি পালন প্রায় প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিদেশী মুরগীর তুলনায় এর চাহিদাও যথেষ্ট বেশি। তাই তো খাঁচায় দেশী মুরগী পালন পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা বেড়েছে। 

    একারণেই বর্তমানে আমরা অনেক জায়গাতেই ঘরে বদ্ধ অবস্থায় দেশী মুরগী পালন দেখে থাকি , যাকে খাঁচায় দেশী মুরগী পালন পদ্ধতি বলে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট মুরগী পালন পদ্ধতি নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।সেই প্রচেষ্টারই এক ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি হলো “দেশি মুরগী সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প” যা দেশী জাতের মোরগ-মুরগীর উন্নতি সাধনে নিয়ে এসেছে এই খাঁচায় দেশী  মুরগী পালনের সঠিক পদ্ধতি।

    আপনি হয়ত লক্ষ্য করে থাকবেন যে এখন অনেকেই খোলা অবস্থায় বা ছেড়ে মুরগী পালন অপেক্ষা বদ্ধ অবস্থায় মুরগী পালন বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু মুরগী পালনের এই আধুনিক পদ্ধতি কতটা লাভজনক, চলুন তা জেনে নেই-

    • খাঁচায় মুরগী পালন করলে এসকল মুরগীর রোগ-ব্যাধির পরিমাণ কম হয়। 
    • রোগ কম থাকায় এর উৎপাদন ক্ষমতাও বেশি হয় যাতে ফার্মের মালিক বেশ ভালো পরিমাণ লাভ করতে পারে। 
    • মুরগীর মৃত্যুহার হ্রাস পায়। কেননা রোগ হলে তা নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।
    • খাদ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে মেনে চলা যায়। খোলা অবস্থায় ছেড়ে রাখা মুরগী নিজের খাবার নিজেই খুঁজে নেয়। কিন্তু এসকল মুরগীকে পুষ্টিসমৃদ্ধ উন্নত খাবার দেয়া হয় যা তাদের ভালো বৃদ্ধি এনে দেয়।
    • ঘরে গরম এবং ঠান্ডার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকায় মুরগীর রোগ-ব্যাধি ও অন্যান্য সমস্যা কম হয়।

    খামারে দেশী মুরগী নির্বাচন

    দেশী মুরগী পালন খাঁচায় করলে কতটা লাভজনক তা আমরা ইতিমধ্যে জেনে গেছি। এবার এই খাবার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক। আমাদের দেশে প্রায় ২০-২২ কোটি দেশী মুরগী পালিত হয় যেগুলো সাধারণত ৩ জাতের। কমন দেশী মুরগি,এগুলো বিভিন্ন রঙের হতে পারে। সাদা, সোনালী, বাদামী ইত্যাদি। এদের ওজন ছোট অবস্থায় (১ দিনের বাচ্চা) ২৬-৩০ গ্রাম হয়ে থাকে এবং পূর্ণবয়স্ক মুরগী ১৬০০-১৭০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। তবে এ জাতীয় মোরগ ২০০০-২৫০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। এই মুরগি বছরে ১৫০-১৫৫ টা পর্যন্ত ডিম দিতে পারে।

    গলাছিলা মুরগি,গলায় লোম না থাকায় এরা গলাছিলা নামে পরিচিত। এরা বিভিন্ন রঙের হতে পারে।এদেরও ছোট অবস্থায় ওজন ২৭-৩৪ গ্রাম হয়। তবে পূর্ণবয়স মুরগী ১৩০০-১৫০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে এবং মোরগ ১৫০০-২০০০ গ্রাম।তবে এরা ওজনে কম হলেও অন্য দুই জাতের তুলনায় ডিম বেশি দেয়। বছরে ১৭০-১৮০ টা ডিম সাধারণত এ মুরগী দেয়।

    আরেক ধরনের মুরগি দেখা যায়। সেগুলোর নাম হিলি।সাদা, ধূসর বা লালচের মধ্যে কালো ছিটা রঙের মুরগীগুলো হলো হিলি। এরা আমাদের দেশে প্রচলিত দেশী মুরগীগুলোর মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়।এরা পূর্ণবয়স্ক হলে ১৮০০-২০০০ গ্রাম হয় এবং মোরগ ২৫০০-৩০০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়।বার্ষিক ডিম উৎপাদনের পরিমাণ ১৩০-১৪০ টি।

    খামার তৈরী

    খাঁচায় দেশী মুরগী পালনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা আবশ্যক। আর এক্ষেত্রে মুরগী জাত নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হলো উপযুক্ত খামার তৈরী। মুরগীর জন্য যে খাঁচা নির্বাচন করবেন কাঠ বা অন্য যেকোনো ধাতুর হতে হবে। তবে খেয়াল রাখবেন যেনো খাঁচার শিক বেশি ঘন না হয়, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকে।প্রতি মুরগীর জন্য ৪ বর্গফুট জায়গা থাকতে হবে। এমন হিসেব করে আপনার যতটুকু জমি বা যতগুলো মুরগী আনতে চান সেই অনুযায়ী খামার তৈরী করুন।মুরগীকে আরামদায়ক রাখতে খড় বা এমন জাতীয় বস্তু দিয়ে বাসস্থান তৈরি করুন।

    দেশী মুরগির জন্য খাদ্য ও পানি সরবরাহ

    সঠিক উৎপাদন হারের জন্য দেশী মুরগির জন্য প্রয়োজনীয় খাবারের বিষয়ে সচেতন থাকা আবশ্যক। খাবারের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো আমি অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন-

    • বাণিজ্যিক ফিড

    সাধারণত ধান, গম ইত্যাদি গুঁড়া করে এই ফিড বানানো হয়। তাই এটি মুরগীর জন্য স্বাস্থ্যকর এবং সাশ্রয়ীও বটে।

    • পরিপূরক

    পরিপূরক হিসেবে রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট শাক বা নরম সবজির অংশ ছোট ছোট টুকরো করে দেয়া যায়। কেননা প্রোটিং ও ভিটামিন জাতীয় খাদ্য থাকা আবশ্যক।

    • ফরেজিং

    মুরগীকে পোকামাকড়, কৃমি, উদ্ভিদের গ্রহণীয় অংশ এগুলো দেওয়া যায়।

    • স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।

    মুরগির স্বাস্থ্যসেবা 

    খাবার এবং উন্নত বাসস্থানের পাশাপাশি মুরগির জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করতে হবে যেনো দেশী মুরগির উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত না ঘটে।।মুরগীর দুটি অতি পরিচিত রোগ হলো নিউক্যাসল এবং এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা। মুরগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই দুটি রোগের বিরুদ্ধে টিকা নেয়া আবশ্যক। উকুনের মত কিছু বাহ্যিক পরজীবী অনেক সময় দেখা যায় মুরগীতে। তাই এদের বিরুদ্ধে সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে হবে। খামারে প্রবশের সময় অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।খাঁচায় মুরগীর স্বাস্থ্য সংরক্ষণ করতে খামারে যেনো কোনো জীবাণু কোনোভাবেই না ছড়াতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    দেশী মুরগি পালন নিয়ে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কিছু পরামর্শ

    দেশী মুরগি পালন পারতপক্ষে সহজ মনে হলেও সামান্য কিছু ভুলে পুরো ফার্ম লস হয়ে যেতে পারে। তাই কিছু বিষয় নিয়ে পরামর্শ এখানে দেয়া হলো।

    • এলাকার আবহাওয়া অনুযায়ী উপযুক্ত মুরগির জাত নির্বাচন করতে হবে। 
    • মুরগির বিভিন্ন রোগব্যাধি (রাণিক্ষেত, গামরারো, কক্সিডিওসিস৷ ইত্যাদি) যদি একবার ছড়িয়ে পড়ে তাহলে সেই ফার্মের মুরগি রক্ষা করা কঠিন। তাই এই ভুলটির বিষয়ে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে।
    • মুরগির জায়গা সংকীর্ণ হওয়া যাবে না। এতে মুরগী পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পাবে না যা স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করবে। 
    • ডিম পাড়ার পর ৭-১০ দিন বাচ্চাকে মুরগির কাছে রাখতে হবে যেনো মায়ের ওম পায়। তবে এরপর সাথে সাথেই বাচ্চাকে দূরে সরিয়ে নিতে হবে। এমনকি বাচ্চার আওয়াজও যেনো মায়ের কান পর্যন্ত না আসে। এতে মা খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়।
    • বাচ্চা মুরগিকে মায়ের সাথে রাখার সময় তাদের জন্য আলাদাভাবে ছোট দানার খাবার রাখতে হবে।
    • পর্যাপ্ত খাবার দিতে হবে। এতে দেশী মুরগির উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। 

    আমরা এতক্ষণ বাণিজ্যিকভাবে খাঁচায় দেশী মুরগী পালন পদ্ধতি সম্পর্কে জানলাম। বিশেষত ছোট ব্যবসার জন্য খাঁচায় দেশী মুরগি পালন অত্যন্ত লাভজনক। তাই উপর্যুক্ত বিষয়গুলো মেনে আপনিও চাইলে দেশী মুরগি পালনের কাজ শুরু করে দিতে পারবেন। অল্প বিনিয়োগে বেশ ভালো লাভ এতে পাওয়া সম্ভব যদি আপনি সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে সক্ষম হন।

  • বাদামের যত রোগ ব্যাধি – ফসলের সুরক্ষায় সঠিক পরিচর্যার উপায়

    বাদামের যত রোগ ব্যাধি – ফসলের সুরক্ষায় সঠিক পরিচর্যার উপায়

    নাজনীন নাহার অনন্যা

    বাদাম চাষী ভাইদের খোঁজ-খবর নেওয়ার সময় তাদের একটি সমস্যা অনেক বেশি শোনা যায়। আর তা হলো বাদামের যত রোগ-ব্যাধি। তাই আজ এ বিষয়টি নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক।

    বাদামে সবসময়ই রোগ-ব্যাধি বেশি হয়ে থাকে। এসব রোগের মধ্যে যেগুলো সচরাচর দেখা যায় সেগুলো হলো-পাতায় বাদামি ছোপ, রাস্ট, বাদামের কান্ড পঁচা রোগ, কুঁড়ি পঁচা রোগ,অলটারনেরিয়া ছত্রাক সংঘটিত রোগ ,অ্যানথ্রাকনোজ,এসপারজিলাস মুকুট পঁচা রোগ।

    এখন আমরা বাদামের যত রোগ-ব্যাধি এই সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানব। প্রথমে আমরা এই রোগগুলোর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানব এবং সবশেষে এর সমাধানও জেনে নিব।

    বাদামের যত রোগ ব্যাধি চিহ্নিতকরণ

    পাতায় বাদামি ছোপ 

    সারকোস্পোরা নামক একটি ছত্রাকের আক্রমণে এই রোগ হয়ে থাকে। সাধারণত বীজ বপনের ১ মাস পর থেকেই এই রোগের আক্রমণ শুরু হয়।এ রোগে পাতার উপরে ছোট ছোট গোলাকার হলুদ ছোপ দেখা যায়।

    ক্রমাগত দিন বাড়ার সাথে সাথে এই দাগগুলো বাদামি হতে থাকে এবং সবশেষে কালো রঙ ধারণ করে।পাতার নিচেও হালকা বাদামি দাগ দেখা যেতে পারে।

    ধীরে ধীরে কান্ড এবং পাতার বোঁটাতেও এই ছোপ স্পষ্টভাবে দেখা যেতে থাকে।

    সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে অল্প বয়সেই গাছ বৃদ্ধ হয়ে মারা যায়।

    রাস্ট

    এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ।রাস্ট এমন একটি রোগ যা আপনি দেখামাত্রই শনাক্ত করতে পারবেন এবং বাদাম চাষী ভাইয়েরা অনেক আগে থেকেই এর সাথে পরিচিত। পাতার নিচের দিকের পৃষ্ঠে কমলা রঙের তিলের মত কিছু গঠন দেখা যায় যা হালকা স্ফীত হয়ে ওঠে। অনেকটা মানুষের শরীরে যেমন ফুঁসকুড়ি ওঠে এমন।

    এগুলো সাধারণত গোলাকৃতির হয় এবং ০.৫ থেকে ১.৪ মিলিমিটার পর্যন্ত ব্যাস হয়ে থাকে এদের।পাতার উপরের অংশেও এগুলো দেখা যেতে পারে।অনেক সময় ফুলেও দেখা যায়।অতিরিক্ত আক্রান্ত হয়ে গেলে পাতা পঁচে যায় এবং এতে গাছ মারা যায়।

    বাদামের কান্ড পঁচা রোগ

    এই কান্ড পঁচা রোগটির জন্য দায়ী স্ক্লেরোশিয়াম নামক এম ধরণের ছত্রাক।

    এ রোগের কারণে কান্ডের কিছু নির্দিষ্ট জায়গাউ সাদা ছত্রাকজনিত সুতার মত অংশ সৃষ্টি হয়।গাছের মূল কান্ড হলুদ হয়ে যায় এবং গাছ ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়ে।

    সাদা ছত্রাক সুতার মত অংশ মাটির কাছে কান্ডের যে অংশ সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়। সরিষার বীজের মত আকারের বাদামি রঙের ছত্রাক স্পষ্টভাবে দেখা যায়। বীজ নীলাভ রঙ ধারণ করে এবং পঁচে যায়।

    অলটার নেরিয়া ছত্রাক সংঘটিত রোগ

    এটিও একটি ছত্রাকজনিত রোগ যা অলটারনেরিয়া ছত্রাকের কারণে হয়ে থাকে।

    এ রোগ হলে ছোট অনিয়তাকার কিছু স্পট বা দাগ সৃষ্টি হবে পাতায় যা প্রথমে হালকা বাদামি থাকবে এবং ক্রমাগত গাঢ় বাদামি দাগে পরিণত হবে। আক্রমণ আরও বেশি হলে পাতা কুঁচকে যাবে, পাতা ভঙ্গুর হয়ে যাবে এবং এবং তা গাছ থেকে আলাদা হয়ে যাবে।

    পাতার উপরে যে দাগগুলো সৃষ্টি হবে তা ভেজা এবং পঁচা হবে যা ক্রমাগত পুরো পাতাতেই ছড়িয়ে পড়বে। পাতার সাথে যেসব শিরা সংযুক্ত থাকবে, সেই শিরাগুলোও ক্রমাগত নষ্ট হয়ে যেতে থাকবে।

    বাদামের অ্যানথ্রাকনোজ

    এটি কোলেটোট্রাইকাম নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকেহলুদ ১-৩ মিলিমিটার ব্যাসবিশিষ্ট ছোট এবং গোলাকার ছোপ দেখা যাবে পাতার কিনারায়। এ রোগ সাধারণত নিচের দিকের পাতাগুলোতে বেশি হয়ে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশি আক্রমণ হলে পাতার পঁচা অংশগুলো বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তা পুরো পাতা এবং কান্ডতেই ছড়িয়ে পড়ে।

    এসপারজিলাস মুকুট পঁচা রোগ

    এই রোগটি দ্বারা বাদামের বীজ পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে যা এসপারজিলার ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে।বীজ থেকে চারা উৎপাদনের আগেই মাটিতে বীজ নষ্ট করে দিতে পারে এই এসপারজিলাস ছত্রাক।চারা বের হলেও নতুন চারাগুলো খুব শীঘ্রই মারা যাবে এ ছত্রাক আক্রমণ করলে গাছে ভেজা পঁচা স্থানের সৃষ্টি করে এবং গাছ নেতিয়ে পড়ে সবশেষে মারা যায়।কলার অংশ বা কোষের অংশগুলো গাঢ় বাদামি হয়ে মারা যায়।

    কুঁড়ি পঁচা রোগ

    এ রোগটি PBNV (Peanut Bud Necrosis Virus) নামক এক প্রকার ভাইরাস দ্বারা সংঘটিত হয়ে থাকে।এ রোগের ক্ষেত্রে দেখা যাবে নতুন পাতার উপরে পঁচা গোলাকার স্থান দেখা যাবে এবং হলুদ ছোপ ছোপ দাগ দেখা যাবে। অনেক সময় লম্বা কিছু আড়া আড়ি দাগও পাতায় দেখতে পারেন। এর মূল কুঁড়িগুলো যেখান থেকে পাতা উৎপন্ন হয় সেগুলো নষ্ট করে দেয়।গাছ বড় হলেও আকারে অনেক খাটো হবে এবং ঠিকমত বাড়বে না।মূলত থ্রিপস পোকার সাহায্যে এই রোগগুলো ছড়ায়।

     

    বাদামের উপরের রোগ গুলোর সমাধান নিন্মে তুলে ধরা হলো:-

    আপনি যদি উপরের রোগগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখে থাকেন তাহলে দেখতেই পাচ্ছেন বাদামে ছত্রাকজনিত সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আপনার করণীয় গুলো আমরা উল্লেখ করে দিচ্ছি। এবং সবচেয়ে ভালো ফলন পেতে এই সবগুলোই আপনাকে মেনে চলতে হবে।

    বাদামের ছত্রাকজনিত রোগ

    ✅বাদামের তাপমাত্রা কম থাকলে, অধিক সময় পর্যন্ত বৃষ্টিপাত থাকলে এবং জমিতে বৃষ্টির পানি জমে থাকলে ছত্রাকজনিত রোগগুলো হয়ে থাকে। তাই জমিতে কোনোভাবেই পানি জমতে দেয়া যাবেনা, পানি নিষ্কাশন করে ফেলতে হবে।
    ✅এক জমিতে টানা কয়েকবার বাদাম চাষ না করে সরগম, জোয়ার বা বাজরা ইত্যাদি করলে রোগব্যাধি কমানো যায়।
    ✅ প্রত্যেকবার ফসল তোলার পর মাঠে অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
    ✅ পাতায় জলীয় নিমপাতার দ্রবণ (২-৫%) অথবা ৫% নিম বীজের রস প্রয়োগ করতে হবে মাঠে। এটি ২ সপ্তাহ পর পর ৩ বার করে করতে হবে। গাছের বয়স ৪ সপ্তাহ হলেই এটি শুরু করতে হবে।
    ✅ ছত্রাকনাশক হিসেবে কার্বেন্ডাজিম ০.১% বা ম্যানকোজেব ০.২% বা ক্লোরোথালোনিল ০.২% হারে প্রয়োগ করতে হবে।
    ✅বীজ শোধনের প্রয়োজন হলে ট্রাইকোডার্মা দিয়ে প্রতি কেজিতে ৪ গ্রাম অনুযায়ী প্রয়োগ করতে হবে এবং মাটি শোধনের জন্য প্রতি হেক্টরে ২৫-৬২.৫ কেজি পর্যন্ত ট্রাইকোডার্মা দিতে হবে। এর সাথে ক্যাস্টর কেক বা নিম কেক বা নিম কেক প্রতি হেক্টরে ৫০০ কেজি অনুসারে দিতে হবে।

    ভাইরাসজনিত রোগ:


    ✅ভাইরাসজনিত রোগ যেমন কুঁড়ি পঁচা রোগ হলে প্রথমেই আগাছা তুলে ফেলতে হবে।
    ✅ কোনো গাছ আক্রান্ত হলে সাথে সাথে সেই গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
    ✅ সাধারণত খরিফ মৌসুমের প্রথমেই বীজ বপন করলে এই রোগে গাছ কম আক্রান্ত হয়।
    ✅ বাজরা বা জোয়ারের সাথে সহ ফসল হিসেবে চাষ করা যেতে পারে ৭:১ অনুপাতে। যেখানে বাদাম হবে ৭ এবং বাজরা ১।
    ✅মোনোক্রোটোফোস ১.৬ মিলি/লিটার অথবা ডাইমিথোয়েট ২ মিলি/ লিটার হারে প্রয়োগ করতে হবে।

    অতএব, এভাবে চাষ করলে বাদামের রোগব্যাধি থেকে আমাদের কৃষক ভাইয়েরা মুক্তি পেতে পারেন।

    মুরগি পালনের সহজ উপায় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

  • কৃষক বান্ধব স্কুল ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল’ – উন্নত কৃষি শিক্ষার পথ

    কৃষক বান্ধব স্কুল ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল’ – উন্নত কৃষি শিক্ষার পথ

    নাজনীন নাহার অনন্যা

    কিছুদিন যাবৎ কৃষক বান্ধব স্কুল বা পার্টনার ফিল্ড স্কুল (PFS) সম্পর্কে আমাদের কাছে কৃষক ভাইয়েরা জানতে চাচ্ছেন। তাদের প্রত্যেকেরই প্রধান জিজ্ঞাসা হলো কীভাবে PFS এর জন্য আদর্শ কৃষক বাছাই করব?

    তাই কৃষক ভাইদের এই সমস্যা সমূলে উৎপাটন করতে আমরা পাশে আছি সবসময়। তাহলে এখন আমরা জেনে নেই, এই কৃষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের জোর দিতে হবে।

    PFS নির্বাচনে প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে একই রকম আর্থ সামাজির অবস্থা এবং মানসিকতার বিষয়টি। একজন দরিদ্র কৃষক এবং একজন স্বচ্ছল কৃষকের চাহিদা, কাজের ইচ্ছে বা দৃষ্টিভঙ্গি একরকম হবে না। ফলে তারা একই গ্রুপে কাজ করলে বিভিন্ন সমস্যার উৎপত্তি হবে। একারণে একই রকম অবস্থার কৃষক নির্বাচন করতে হবে।  

    PFS সদস্য সংখ্যা

    প্রতিটা PFS এর জন্য ২৫ জনকে নির্বাচন করতে হবে। এই ২৫ জনের মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারী কৃষকের সমন্বয় করতে পারলে সুবিধা হবে। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র কৃষক ৮০% এবং মাঝারী বা বড় কৃষক ২০% রাখা যেতে পারে যদি তারা ক্ষুদ্র কৃষকদের মানসিকতার সাথে মিলে সুন্দরভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে তাহলে।

    তবে একই পরিবারে একাধিক কৃষক থাকলে সকলকে না নিয়ে ২৫ টি পরিবার থেকে ২৫ জন নির্বাচন করতে হবে। আর এর মধ্যে অবশ্যই ৩০% কৃষাণী নির্বাচন আবশ্যক। কৃষি ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

    সদস্য নির্বাচনে কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রতি মনোযোগ দেয়া যায়। এরকম একজন মানুষ থাকলে বাকি সবাই তার নির্দেশনায় বেশ ভালো পরিমাণ লাভ করতে পারবে এবং নতুন নতুন বিষয়গুলো শিখতে পারবে।

    PSF স্কুলের কৃষকের বয়সসীমা

    কৃষক বান্ধব স্কুল বা PFS এ কোনো স্কুল ছাত্র ছাত্রীকে নেয়া যাবে না। এর বয়সসীমা ১৮-৩০ বছরের বয়সের মধ্যে থাকতে হবে। কেননা বিভিন্ন প্রযুক্তিগত এবং বিভিন্ন বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই সংগঠন গঠিত যেখানে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সঠিক মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা কৃষক ছাড়া অন্য কারো জন্য করা কঠিন।

     সকলের লক্ষ্য থাকবে একই

     PFS এর সদস্যদের মনোভাব এমন হতে হবে যারা দলীয়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী। বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ হলেও যেনো কোনো প্রকার সমস্যা সৃষ্টি না হয় এই বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন সেমিনার এবং অন্যান্য কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।

    মূলত শিখতে আগ্রহী এবং উদ্যোগী কৃষকদের জন্যই এই স্কুল। পাশাপাশি তাদের নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মানসিকতা থাকতে হবে। PFS এর সকল সদস্যকে এক সাথে যেকোনো একটি উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ করতে হবে। এখানে আলাদা আলাদা করে ছোট দলে ভাগ হয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।

    নতুন প্রযুক্তির উপর আগ্রহ

    নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের প্রতি আগ্রহী হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কৃষক ভাইয়েরা প্রযুক্তি গ্রহণ করতে আগ্রহী থাকেন না ক্ষতি হওয়ার ভয়ে। এমনটা করা যাবে না। দক্ষতার সাথে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শিখতে হবে।সকল কৃষক সদস্যদের স্কুলের নিয়মনীতি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। কোনোভাবেই নীতি-বহির্ভূত কোনো কাজ করা যাবে না।

    অতএব, আপনিও যদি মনে করেন আপনি PFS এর জন্য যে কৃষক নির্বাচন করেছেন তার মধ্যে এসব গুণাবলী আছে তাহলে তাকে আপনি এর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

    পার্টনার ফিল্ড স্কুলের স্থান কীভাবে নির্বাচন করবেন?

    PFS স্থান নির্বাচনের জন্য মূলত খেয়াল করতে হবে যেনো এটি এমন কোনো জায়গায় স্থাপন করা হয় যার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। এতে কৃষকগণের জন্য সুবিধা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন কৃষি কর্মকর্তাগণ এবং অন্যান্য গবেষকবৃন্দও স্বচ্ছন্দ্যে এখানে এসে বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিতে পারবেন।

    পাশাপাশি, সেচ ব্যবস্থা ভালো হতে হবে। উৎপাদন কাজে যেসব জিনিস প্রয়োজনীয় তা সহজলভ্য হতে হবে। আর একটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটা হলো এই এলাকা বন্যামুক্ত হতে হবে। বন্যাপ্রবণ এলাকায় এটি নির্মাণ করা যাবে না।

     

  • পার্টনার ফিল্ড স্কুল – কৃষিতে আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি

    পার্টনার ফিল্ড স্কুল – কৃষিতে আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি

    নাজনীন নাহার অনন্যা

    আজ আলোচনা করব সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারণা নিয়ে। আর তা হলো পার্টনার ফিল্ড স্কুল বা PFS। এটি মূলত কিছু সাধারণ নীতিমালার সমষ্টি যা কৃষি প্রযুক্তি বিস্তারে অনবদ্য ভূমিকা রাখে।

    আপনার কৃষি বিষয়ক যে কোনো ধরণের প্রশিক্ষণ, ফিল্ড প্রদর্শনী, মাঠ দিবসের কার্যক্রম ইত্যাদি যাই-ই প্রয়োজন হোক না সব কিছুই এই PFS এর মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে। তাই নতুন কোনো প্রযুক্তি আসলে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিংবা নতুন পদ্ধতি কীভাবে শিখবেন এসব নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোনো প্রয়োজনই নেই।

     পার্টনার ফিল্ড স্কুলের উদ্দেশ্য কী??

    -নিত্যনতুন আধুনিক প্রযুক্তি আসছে যা আধুনিক কৃষিতে কাজে লাগানো আবশ্যক। আপনি একাই কৃষিকাজ করলে অনেক সময় অনেক কিছু সম্পর্কে নাও জানতে পারেন। কিন্তু দলীয়ভাবে কাজ করলে অন্যদের মাধ্যমে জানাটা সহজ হয়ে যাবে। মূলত এটিই হলো মূল উদ্দেশ্য।

    -তাছাড়াও কৃষি পণ্য উৎপাদন করে শুধু ঘরে রাখলেই তো হবে না, তা বাজারজাতকরণ কর‍তে হবে। এক্ষেত্রেও এই পার্টনার ফিল্ড স্কুল বা PFS কার্যকরী।

    -বিভিন্ন মেশিন ক্রয় করা অনেক ব্যয়বহুল যা সকল কৃষকের ক্ষেত্রে সম্ভব না। সেক্ষেত্রে কয়েকজন মিলে কিনে শেয়ারে আপনারা তা দিয়ে কাজ করতে পারবেন।

    -একসাথে সকলে কাজ করার জন্য নতুন কোনো ফসল নিয়ে কাজ করলে তাতে সকলের সাহায্য পাওয়া যায়। এতে লসের সম্ভাবনা কমে যায়।

    -রপ্তানিমুখী ব্যবসা নিয়ে কাজ করা যায়। অনেকেই প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করলেও তা কীভাবে বাইরে রপ্তানি করবেন এই উপায় জানেন না। তারা খুব সহজেই অন্যের সহায়তায় রপ্তানিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন।

    FB Page clink hare

  • অনাবাদি জমি চাষ সম্পর্কে কাজ করতে হবে : কৃষি উপদেষ্টার পরামর্শ

    অনাবাদি জমি চাষ সম্পর্কে কাজ করতে হবে : কৃষি উপদেষ্টার পরামর্শ

     

    কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী  বলেছেন, দেশের বর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পুরণে অনাবাদি জমি চাষ এর আওতায় আনার জন্য কাজ করতে হবে। সরকার তখনই কৃষক বান্ধব হবে, যখন কৃষকরা সঠিকভাবে বীজ ও সার পাবে, তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে।


    আজ বিকালে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। 
    উপদেষ্টা বলেন, সার নিয়ে যাতে কোন সংকট না হয় তার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। 
    তিনি বলেন ,‘কৃষিখাতের অগ্রগতির মূল কৃতিত্ব কৃষকদের। উৎপাদন করে কৃষকরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়ে, ন্যায্য দাম পায়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। কৃষি খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে আছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।


    সার ও বীজ সরবরাহ, পতিত জমি আবাদের আওতায় আনা, শস্য বহুমুখীকরণ, ফল-ফলাদির চাষ বৃদ্ধি ও মৌসুমি ফল রপ্তানি বাড়ানো, ইউরিয়া সারের ব্যবহার হ্রাস, বন্যা পরবর্তী জমির উপযোগী ফসল চাষ, শুষ্ক এলাকাকে সেচ ব্যবস্থার আওতায় আনাসহ কৃষিখাতকে আরও কার্যকর ও কৃষক-বান্ধব হওয়ার বিষয়ে এসময় আলোকপাত করেন উপদেষ্টা। 


    পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন উইং ঘুরে দেখেন উপদেষ্টা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ,  অতিরিক্ত সচিব ড. মলয় চৌধুরী  ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব)  মো. তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী এসময় উপস্থিত ছিলেন।

  • শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতি, মৃতের সংখ্যা ৫

    শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতি, মৃতের সংখ্যা ৫

     

    আজ রবিবার, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতি র অবনতি হয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে বিভিন্ন নদীর পানি। বিভিন্ন এলাকায় পানি বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় শেরপুরের মহারশি, সোমেশ্বরী, চেল্লাখালি, ভোগাই ও মৃগী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রতিটি গ্রাম বন্যা কবলিত।ঝিনাইগাতী,ডাকাবর,শালচুড়া,দিঘিরপাড়,বনগাঁও,জিগাতলা,চতল,হাতিবান্ধা,কোনাগাও,পাইকুড়া,হাসলিগাও,বাতিয়াগাও সহ অনেক গ্রাম বন্যায় তলিয়ে গেছে।

     স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিজিবি ত্রান সামগ্রী ও উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া শনিবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে নালিতাবাড়ীতে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছেন।শেরপুরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খোলা হয়েছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়  গত ৩৫ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেনি স্থানীয়রা।আকস্মিক এই বন্যায় অনেকেই শুধু নিজের প্রানটুকু নিয়েই আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছেন।

    শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতি তে  জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রনব কুমার কর্মকারের দেয়া তথ্য মতে, শুধু ঝিনাইগাতী এবং নালিতাবাড়ী উপজেলায় ২ হাজার ৫৭টি মাছের ঘের ভেসে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিক হিসাবে ১১ কোটি টাকার বেশি। আর কৃষি অফিসের তথ্য মতে, জেলার অন্তত ৩০ হাজার হেক্টর আমন আবাদ এবং এক হাজার হেক্টর সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ৭০হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    আরো জানুন: সুনামগঞ্জের বন্যায় পরিস্থিতি

  • আসছে মৌসুমে করুন ডাল চাষ

    আসছে মৌসুমে করুন ডাল চাষ

    নাজনীন নাহার অনন্যা: আমাদের দেশে ডাল একটি অতি পরিচিত খাদ্য। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন হিসেবে পরিচিত এই ডাল চাষ বিভিন্নভাবে আমাদের ক্ষেতে ফলন হয়ে থাকে। মুগ, মসুর, মাসকলাই, খেসারি, অড়হর ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের ডাল আমাদের আশপাশে প্রচলিত।

    মূলত ডালজাতীয় ফসল আমাদের মাটিকে উর্বর করে। ডাল এমন একটি ফসল যা রবি, খরিফ-১ এবং খরিফ-২ এই তিন মৌসুমেই চাষ করা যায়। কৃষি গবেষকদের মতে, ১ হেক্টর জমি থেকে ৮-১০ টন বায়োমাস পাওয়া যায় যা উর্বরতা রক্ষায় অত্যন্ত উপকারী। 

    কিন্তু ডাল চাষে আমাদের কৃষক ভাইদের এখনো অনেক অবহেলা দেখা যায়। যা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। তাই ডাল চাষে অধিক ফলন পেতে কী কী করণীয় এমন কিছু টিপস নিয়ে আমাদের এই আর্টিকেল।

    ডালচাষে আরও বেশি ফলন লাভের উপায়:

    -ডালচাষের প্রধান সমস্যা হলো একই সময়ে সম্পূর্ণ ফসল তোলা যায় না। ডালের ফুল থেকে বীজ পর্যায়ক্রমে পরিপক্ব হয় এবং একারণেই পুরো মৌসুমে ২-৩ বারে ফসল তুলতে হয়। তাই পরিপক্বতা অনুযায়ী সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে ফল তুলতে হবে।

    -যে জমিতে ডালচাষ করবেন সেখানে অবশ্যই পানি জমতে পারবে না। বৃষ্টি বা সেচের কারণে যদি পানি জমে যায় তাহলে তা অতি দ্রুত নিষ্কাশন করে ফেলতে হবে। মাটি জমে থাকা অবস্থায় ডালজাতীয় ফসল হতে পারে না।

    -সবচেয়ে ভালো ফসল পেতে রবি কিংবা খরিফ-১ মৌসুমে (যেটাকে আউশ ধানের মৌসুম হিসেবে বলা হয়) ডালচাষ করুন। কারণ এসময় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম থাকে এবং তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা কম থাকে। এ পরিবেশ ডালচাষের জন্য আদর্শ।

    -জমি প্রস্তুতের সময় সার পরিমিত উপাদানে দিতে হবে যেনো পরবর্তীতে কোনো ঘাটতির সৃষ্টি না হয়। তবে এতে ইউরিয়া প্রয়োজন হয় না। কারণ ডালজাতীয় ফসলের মূলে যে স্ফীত গুটির সৃষ্টি হয় তা পরিবেশ থেকে নাইট্রোজেন সংবদ্ধ করতে পারে। মূলত রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া এ কাজে সাহায্য করে। এতে একদিকে যেমন ফসলের পুষ্টির যোগান হয় তেমনি মাটিতেও উর্বরতা বাড়ে। তাই ইউরিয়া সার দিয়ে খরচ বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই।

    -ডালচাষের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার ফল তোলার পরেই গাছ মাটিতে মিশিয়ে দেয়া উচিৎ।  কারণ ২ বার ফল তোলার পর তেমন ফল আর পাওয়া যায় না। ফলে ঐ সামান্য ফলসহ গাছ মাটিতে মিশিয়ে দিলে জমির উর্বরতা বেশ ভালো পরিমাণে বেড়ে যায়। তাই, আসছে মৌসুমে ডাল চাষের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো আপনারা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

    ধান চাষ বিস্তারিত

  • কৃষি ফার্ম কিংবা পোল্ট্রি ফার্ম দেয়ার আগে লক্ষ্য রাখুন  ৬টি দিক

    কৃষি ফার্ম কিংবা পোল্ট্রি ফার্ম দেয়ার আগে লক্ষ্য রাখুন ৬টি দিক

    আমাদের দেশের অনেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে কৃষি ফার্ম কিংবা পোল্ট্রি ফার্ম দেওয়ার কথা চিন্তা করে থাকেন। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ফার্ম দাঁড় করাতে পারেন না।তাই আপনাদের কথা চিন্তা করেই কৃষিবিদগণের সাথে কথা বলে আমরা জেনেছি কীভাবে একটি ফার্ম সঠিকভাবে গড়ে তোলা যায়। এখানে আমরা আলোচনা করব কীভাবে ধাপে ধাপে আপনি একটি পুরো ফার্ম গড়ে তুলতে পারেন।

    ফার্ম এর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ৬ টি প্রাথমিক ধাপ আছে যা আপনাদের মেনে চলা আবশ্যক। আসুন তাহলে এগুলো জেনে নেই-

    ১. কৃষি বা পোল্ট্রি ফার্মের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের সঠিক তালিকা

    আপনি যখন একটি ফার্ম করতে চাইবেন তখন আপনাকে প্রথমেই দেখতে হবে যে আপনার কাছে কী কী সম্পদ আছে বা কোন কোন জিনিস সহজলভ্য। এসব ক্ষেত্রে আপনার প্রথমেই প্রয়োজন হবে জমি। জমির আশপাশের পরিবেশ, যদি কৃষি ফার্ম করতে চান তাহলে জমির উর্বরতা, সেচ সুবিধা, মাটির ধরণ ইত্যাদিও বিবেচনায় আনতে হবে।

    এগুলো ছাড়াও শ্রমিকের সহজলভ্যতা, মূলধনের পরিমাণ, প্রয়োজনীয় মেশিনের সহজলভ্যতা, স্টোরহাউজ, পরিচালনার দক্ষতা, প্রয়োজনীয় জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ইত্যাদিও এই সম্পদের তালিকার মধ্যেই পড়ে। এগুলো আপনার কাছে কেমন পরিমাণে আছে তা প্রথমেই একটি তালিকা তৈরী করতে হবে।

    ২. সফল কৃষি বা পোল্ট্রি ফার্মের জন্য সঠিক এন্টারপ্রাইজ নির্বাচন

    আপনার সম্পদের তালিকা তৈরী করার পর ঠিক করতে হবে যে আপনার কাছে যা যা আছে তা নিয়ে আপনি কোম ধরণের ফার্ম তৈরী করতে চান। পোল্ট্রি ফার্ম, নাকি মাছের খাবার, নাকি কৃষি ফার্ম? কোনটি আপনার জন্য অধিক সুবিধাজনক হবে।

    ৩. প্রতি এন্টারপ্রাইজের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ

    এন্টারপ্রাইজ নির্বাচন করার পর আপনার সম্পদ নিয়ে আবারও হিসেবে বসতে হবে। অর্থাৎ এক একর বা এক হেক্টর জমি প্রতি কতটুকু ফসল ফলানোর সম্পদ আপনার কাছে আছে তা জানতে হবে। অথবা যদি গবাদি পশু নিয়ে কাজ করে থাকেন তাহলে পশু প্রতি কী পরিমাণ সম্পদ আপনার কাছে আছে তা দেখে নিতে হবে।

    ৪. সম্পূর্ণ এন্টারপ্রাইজের হিসাব

    ৩ নং ধাপে আপনি একটি ইউনিটের জন্য সম্পদের পরিমাণ হিসাব করেছেন। এবার করতে হবে সমগ্র। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার কাছে ৫ হেক্টর জমি থাকে সর্বমোট, তাহলে সম্পূর্ণ জমিতে ফসল ফলাতে কী পরিমাণ সম্পদ প্রয়োজন এবং তা আপনার কাছে আছে কিনা এটা দেখতে হবে। আপনার ফলন সম্পর্কে ধারণা দিতে এই ধাপ কাজে আসবে।

    ৫. SWOT analysis বা মূল্যায়ণ

    SWOT বিষয়টি প্রথমে একটু বুঝিয়ে বলি। S= strength বা শক্তি; W= Weakness বা দুর্বলতা; O=Opportunity বা সুযোগ এবং T=Threats বা ঝুঁকি।

    অর্থাৎ এই ফার্মটি যদি আপনি করেন তবে তার কতটুকু সুবিধা বা ঝুঁকি রয়েছে এবং এগুলো করতে কী কী সমস্যা আপনার হতে পারে তা বের করতে হবে। কোন জিনিস থাকার কারণে আপনি মনে করছেন ফার্মটি চলবে এবং কোন জিনিস না থাকার কারণে মনে হচ্ছে আপনি কিছুটা ঝামেলায় পরতে পারেন, সেসব বিবেচনা করতে হবে।

    ৬.পুরো ফার্মের পরিকল্পনা

    পুরো ফার্মটির নিয়ে এবার পরিকল্পনা করুন। কোন জায়গায় কী চাষ করবেন কিংবা গবাদি পশুর ফার্ম হলে কোন প্রাণির ফার্ম করবেন, কোথায় কী স্থাপন করবেন, কতটুকু জনবল আপনার লাগবে এই সব বিস্তারিত পরিকল্পনা করে ফেলুন।

    যেকোনো ফার্ম পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই ৬ টি ধাপে যদি আগান এবং ধাপগুলো সঠিকভাবে সম্পূর্ণ করেন, তাহলে নিশ্চিত থাকুন আপনার ফার্ম অবশ্যই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি লাভ এনে দিবে।

     

  • ধান চাষে এসআরআই পদ্ধতি – আধুনিক ও কার্যকরী কৃষি কৌশল

    ধান চাষে এসআরআই পদ্ধতি – আধুনিক ও কার্যকরী কৃষি কৌশল

     

    বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ফসল বিশেষ করে ধান চাষের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু সনাতন পদ্ধতিতে ধান চাষ এবং বর্তমান পদ্ধতিতে ধান চাষের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু পার্থক্য। আর বর্তমান সময়ে আমাদের জন্য একটি বেশ বড় হাতিয়ার হলো ধান চাষে এসআরআই পদ্ধতি। আমাদের আজকের আর্টিকেলে এই পদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করবো

    প্রথমেই জেনে নেই, এই পদ্ধতির কিছু আগের কথা। ১৯৭০ সালে IRRI (International Rice Research Institute) একটি নতুন ধান চাষের পদ্ধতি নিয়ে আসে যে পদ্ধতিতে এখনো বেশিরভাগ কৃষক ধান চাষ করছেন। আর তা হলো ধানের চারা প্রথমে বীজতলায় প্রস্তুত করে এরপর মূল জমিতে স্থানান্তর করে চাষাবাদ।পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে Bangladesh Rice Research Institute (BRRI) প্রতিষ্ঠিত হলে আমরা নতুন নতুন জাত এবং ভালো ফলনের উপায় পেতে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা পেয়েছি SRI (এসআরআই পদ্ধতি)

    এসআরআই পদ্ধতিতে কীভাবে ধান চাষ হয়?

    আমরা এখানে প্রচলিত পদ্ধতির সমান্তরালে রেখে এই পদ্ধতিটি বর্ণনার চেষ্টা করব যেনো কৃষক ভাইদের বুঝতে সুবিধা হয়।এক্ষেত্রে প্রথমে বীজতলায় চারা তৈরী করে ৩৫-৪০ দিনের চারা মূল জমিতে স্থানান্তর করতে হবে। এক্ষেত্রে চারা যথেষ্ঠ শক্ত থাকে বলে রা মারা যায় না।

    তবে প্রচলিত পদ্ধতিতে যেমন একটি গোছায় ৪/৫ টা করে ধানের চারা লাগানো হয়, এ পদ্ধতি কিন্তু এমন নয়। এক্ষেত্রে একটি গোছায় একটিই ধানের চারা লাগানো হয় এবং চারাগুলো বর্গাকৃতি অনুযায়ী লাগানো হয়। এতে প্রত্যেকটি চারা যথেষ্ট আলো-বাতাস পায়, কুশি বেশি হয় এবং ফলন বেড়ে যায়।

    এরপর সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে জৈব সার প্রয়োগের প্রতি বেশি নজর দেয়া হয়। যার ফলে মাটির অম্লত্ব নিয়ন্ত্রিত হয়ে, অণুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। ফলাফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং ফলন ভালো হয়।

    প্রচলিত পদ্ধতির মত এ পদ্ধতিতে সবসময় মাঠে পানি রাখতে হয় না। যখন সেচ প্রয়োজন শুধু তখনই শুধু দেয়া হয়। রাইস উইডার দিয়ে আগাছা মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়। ফলে এটিও মাটিতে পুষ্টি যোগাতে সহায়তা করে।

    এসআরআই পদ্ধতির সুবিধা:

    -এ পদ্ধতিতে ধান উৎপাদন প্রচলিত পদ্ধতি অপেক্ষা বেশি হয় কারণ যত্ন, সেচ, আগাছা দমন ইত্যাদি কাজ সঠিক উপায়ে করা হয়।

    -পরিচর্যার পরিমাণও এ পদ্ধতিতে বেশি। তবে উৎপাদনে সময় লাগলেও এর ফলন অনেক বেশি দেয়।

    – কম বয়সের চারাও রোপণ করা যায়।

    -যন্ত্র দিয়ে আগাছা দমন করা হয় বলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

    – কীটনাশক, রাসায়নিক সার ইত্যাদি কম দরকার হয় বলে খরচের মাত্রাও কমে যায়।

    -জমি প্রয়োজন অনুযায়ী ভিজানো বা শুকানো যায়।

    – এ পদ্ধতিতে শ্রমিকের পরিমাণও কম প্রয়োজন হয়।

    তাই আসছে ধানের মৌসুমে কৃষক ভাইয়েরা চাইলে৷ পদ্ধতি অবলম্বন করতেই পারেন।

     

     

  • নীলফামারীতে জিংক ধান চাষ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা

    নীলফামারীতে জিংক ধান চাষ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা


    নীলফামারী প্রতিনিধি

    নীলফামারীতে জিংক ধান চাষ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা। নীলফামারীতে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন জিং ধান চাষে উদ্বুদ্ধকরণ ও বাজারজাত নিয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দিনব্যাপী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের নটখানায় টিএলএমের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    কর্মশালায় জিং ধানের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম্প্রোভড নিউট্রিশনের (গেইন) কনসালট্যান্ট ড. মনির হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পুষ্টি সমৃদ্ধ জিংক ধান চাষ উৎপাদনে নতুন ধারা উন্মোচন করেছে। এতে কৃষক শতভাগ সফলতাও পেয়েছে। বায়োফর্টিফাইড ধানের জাত বি-৭৪, বি-৮৪, বি-৮২ ও বঙ্গবন্ধু ১০০, ১০২ জাতের ধান উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করার এখন আমাদের সময় এসেছে।

    গেইন’র সহযোগিতায় বায়োফর্টিফাইড ধান সংগ্রহ এবং সামাজিক সুরক্ষায় জলবায়ুবান্ধব মসুর ডাল ও চালের ভূমিকা বিষয়ক এ কর্মশালাটির সভাপতিত্ব করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সৈয়দ আতিকুল হক। কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) শাহিনা বেগম, নীলফামারী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক আহমেদ, সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তৌহিদুর রহমান, টুপামারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান, অটোরাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি সামসুল হক, প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবিএম মঞ্জুরুল আলম সিয়াম, কৃষক তারা পদ রায় ও আজাহারুল ইসলাম প্রমুখ।

    ড. মনির হোসেন আরও বলেন, সরকার আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে জিং ধান চাষের বিকল্প নেই। কর্মশালায় বিভিন্ন সেক্টরের কর্মকর্তা, এনজিও কর্মী, কৃষক, বিএডিসি কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।