Blog

  • মুরগি খামারের সাধারণ ভুল এবং সেগুলো এড়ানোর উপায়

    মুরগি খামারের সাধারণ ভুল এবং সেগুলো এড়ানোর উপায়

    মুরগী খামার অনেকে করে থাকেন। কিন্তু মুরগি খামারের সাধারণ ভুল এড়াতে না পারার কারণে অনেকেই লাভবান হতে পারেন না। কিন্তু একটু সচেতন থাকলেই এই ভুলগুলো এড়ানো সম্ভব।পোলট্রি খামার এখন গ্রামাঞ্চলে কতটা জনপ্রিয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু সমস্যা হয় তখনই যখন খামারিরা মুরগী খামারের সাধারণ ভুল এড়াতে পারে না। যার ফলস্বরূপ তাদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। তাই আজ আমরা আলোচনা করব পোলট্রি খামারের কিছু সাধারণ ভুল এবং মুরগী খামারের ভুল এড়ানোর উপায় নিয়ে।

    পোলট্রি খামারের জনপ্রিয়তার কারণ

    আমাদের দেশে মুরগী পালন নতুন নয়। বহু আগে থেকেই এ চর্চা চলে আসছে সীমিত পরিসরে। কিন্তু বর্তমান সময়ে কৃষক ভাইদের টানাটানির সংসারে বাড়তি ইনকামের একটি অন্যতম উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পোলট্রি খামার। 

    একারণেই আগের মত যত্ন ছাড়া মুরগী পালার থেকে খামারে মুরগী পালা নিয়ে এখন সকলেরই আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি তরুণ সমাজ যারা হাজার খুঁজেও একটা চাকরি জোগাড় করতে পারছেন না, তাদের জন্যও এটি একটি দারুণ সমাধান।পোলট্রি খামার শুধু পুরুষদেরই নয়, বরং নারীদের এনে দিয়েছে সাফল্য। তারা এখন চাইলেই পোলট্রি খামারের মাধ্যমে পরিবারের জন্য বাড়তি ইনকামের ব্যবস্থা করে চাহিদা মেটাতে পারছে।প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর সুবিধা তো আছেই। এসকল কারণেই পোলট্রি খামার এখন এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সব জায়গাতেই। 

    পোলট্রি খামারে নতুনদের ১০ টি সাধারণ ভুল এবং এড়ানোর উপায়

    পোলট্রি ব্যবসায় ব্যর্থতার কারণ হিসেবে ১০ টি কারণ নিয়ে আমরা এখানে আলোচনা করব। পাশাপাশি এই ভুলগুলো আপনি কীভাবে এড়াবেন সে নির্দেশনাও এখানেই পেয়ে যাবেন।

    ১. খামারের জমি নির্বাচনে ভুল

    আপনি যখন একটি মুরগী খামার নির্বাচন করবেন, তখন অবশ্যই দেখে শুনে জমি নির্বাচন করতে হবে। নিচু জমিতে খামার নির্মাণ করলে অতিবৃষ্টিতে পানি জমে পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে করে তোলে।পাশাপাশি যদি হাওর এলাকা বা বন্যাপ্রবণ এলাকা হয় তাহলে খামার ডুবে যেতে পারে। এছাড়াও আলো-বাতাস জনিত সমস্যা বিদ্যমান।

    সমাধান:

    খামার তৈরীর জমি হতে হবে উঁচু এবং সেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, সেখানে পরিমিত সূর্যের আলোও আসতে হবে।এমন জায়গা ডিম এবং মুরগীর স্বাস্থ্যের জন্য দরকার। ঘুপচি জায়গা বা কোনো বাঁশঝাড়ের পাশে করা যাবে না। এতে মুরগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা হবে।

    ২. খামার তৈরীর সময় ভুল 

    মুরগীর খামার তৈরীর সময় জায়গার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। অনেকে অল্প জায়গার উপর খামার নির্মাণ করে গাদাগাদি করে সেখানে অনেক মুরগী রাখে। এতে মুরগীর স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হয় চরমভাবে। তাছাড়াও খামারের মধ্যে পর্যাপ্ত লাইট না থাকলে বর্ষার দিনে বা শীতকালে যখন সূর্যের আলো কম থাকে, তখন মুরগীর রোগ-ব্যাধির সৃষ্টি হয়।

    সমাধান:

    প্রতিটি মুরগীর জন্য অবশ্যই ১.৫-২ ফিট জায়গা লাগবে এমন হিসেব করে খামার বানাতে হবে। খামারের বিভিন্ন স্থানে লাইট বসাতে হবে যেনো সূর্যের আলো কম থাকলেও মুরগী পরিমিত আলো পায়।

    ৩. মুরগী পালনের সঠিক পদ্ধতিতে ভুল

    মুরগী ছেড়ে, মাঁচা পদ্ধতিতে বা খাচার মধ্যে পালন করা যায়। এর মধ্যে ছেড়ে মুরগী পালন করলে তার উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে কম। ফলে সহজেই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

    সমাধান:

    মুরগী পালনের সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো খাঁচায় মুরগী পালন। তবে অতিরিক্ত অর্থ সংকট হলে মাচা বা ছেড়ে পালন করা যায়। তবে এসব মুরগীর প্রতি বিশেষ যত্ন আবশ্যক।

    ৪. মুরগীর প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহে ভুল

    মুরগীর বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস রয়েছে। যেমন ডিম পাড়ার বাক্স, ফিডার ইত্যাদি। এসব যন্ত্র সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে মুরগীর স্বাস্থ্য এবং ডিম দুটোই হানির মুখে পড়ে।

    সমাধান:

    মুরগীর প্রয়োজনীয় সকল কিছুর ব্যবস্থা করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ ডিম পাড়ার বাক্স না থাকলে মুরগী খোলা জায়গায় ডিম পাড়ে যা ডিমের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।

    ৫.মুরগীর খাদ্যজনিত ভুল 

    মুরগীর চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান চাহিদা হলো খাদ্য। সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণ খাদ্য এবং পানি যদি মুরগীকে সরবরাহ না করা হয় তাহলে মুরগীর স্বাস্থ্য খারাপ হয় এবং ডিম উৎপাদন কম হয়।

    সমাধান:

    মুরগীর জন্য ধান, গম, চাল, ভূট্টা, তিসি বীজ, সরিষা বীজ, শাক সবজি জাতীয় খাবার ইত্যাদি সব কিছু ব্যবস্থা করতে হবে এবং সঠিক সময়ে এ খাবার সরবরাহ করতে হবে।

    ৬.মুরগী খামারে পরিচ্ছন্নতার ভুল 

    খাদ্যের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাজনিত ভুলও মারাত্মক ভয়াবহ। মুরগীর আশপাশের পরিবেশ যদি পরিষ্কার না থাকে তাহলে মুরগীতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদির সংক্রমণ ঘটে রোগ-বালাই ছড়িয়ে দেয়।

    সমাধান:

    পোলট্রি খামার নিয়ে সর্বদাই সচেতন থাকতে হবে। মুরগীর বিষ্ঠা, উচ্ছিষ্ট খাদ্য এবং অন্যান্য নোংরা জিনিস তা নিয়মত পরিষ্কার করতে হবে। কোনো প্রকার ময়লা আবর্জনা থালা যাবে না।

    ৭.সঠিক সময়ে ভ্যাক্সিন না দেয়া 

    মুরগী খামারে নতুনদের ভুল এর মধ্যে অন্যতম হলো সঠিক সময়ে ভ্যাক্সিন না দেয়া। অনেকেই জানে না কখন ভ্যাক্সিন দেয়া প্রয়োজন যার ফলে মুরগীর স্বাস্থ্য মারাত্মক হানির মুখে পড়ে এবং মারাও যায়।

    সমাধান:

    মুরগী পালনের আগে প্রশিক্ষণ নেয়া আবশ্যক। তাছাড়াও এ বিষয়ে অভিজ্ঞ পশু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ভ্যাক্সিন দিতে হবে।

    ৮.মুরগী পালন ব্যবস্থাপনায় ভুল

    মুরগী খামার পরিচালনা ভুল হলে সে খামার থেকে কখনোই আয় বৃদ্ধি সম্ভব না। মুরগীর দেখভাল সবসময়ই উত্তমরূপে করতে হয়। দক্ষতার সাথে পরিচালনা না করলে মুরগী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মারাও যেতে পারে।

    সমাধান:

    কোনো মুরগী অসুস্থ কিনা কিংবা ঠিকমত খাচ্ছে কিনা এই বিষয়গুলো ভালোভাবে নজর রাখতে হবে। 

    ৯. মুরগী পালনের উদ্দেশ্য ঠিক না করা 

    মুরগী সাধারণত দুই উদ্দেশ্যে পালন করা হয়। এগুলো হলো মাংস উৎপাদন এবং ডিম উৎপাদন। ডিম উৎপাদন করতে হলে মুরগীর ক্যালসিয়াম এবং খনিজ লবণজনিত খাবার বাড়িয়ে দিতে হয় যা শুধু মাংস উৎপাদনে না দিলেও চলে।

    সমাধান:

    মুরগী পালন শুরুর পূর্বেই এর উদ্দেশ্য নিশ্চিত করে সেই অনুযায়ী খাদ্য দিতে হবে।

    ১০. মুরগীর বাজারজাতকরণে ভুল

    অনেকে শুধু স্থানীয়ভাবেই মুরগী বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু এতে লাভ হয় কম। অনেক সময় ঐ এলাকায় খামার বেশি থাকলে চাহিদাও কমে যেতে পারে কেননা স্থানীয় বাজারে মুরগীর চাহিদা একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকে।

     

    সমাধান:

    স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন হোটেল, রেঁস্তোরায় এবং শহরের ব্যবসায়ীদের কাছে মুরগী বিক্রির চেষ্টা করতে হবে।অতএব, আমরা মুরগী খামারে ভুল চিহ্নিত করার মাধ্যমে পোলট্রি খামার ব্যর্থতার কারণগুলো জানলাম এবং মুরগী পালনে সাধারণ সমস্যার সমাধান জেনে নিলাম। 

    তাই কৃষক ভাইয়েরা এবং উদ্যোক্তা যারা আছে তারা অবশ্যই পোলট্রি খামারে ত্রুটি সংশোধন করে ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবেন। এতে লাভের সম্ভাবনা শতভাগ।

  • মুরগি পালন: সহজ উপায়ে আয় বাড়ানোর কৌশল

    মুরগি পালন: সহজ উপায়ে আয় বাড়ানোর কৌশল

    মুরগি পালন নিয়ে এখন গ্রামীণ প্রায় সব এলাকাতেই বেশ আগ্রহ দেখা যায়। একারণে আমাদের দেশে পোলট্রি ফার্মের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। তাই এই ফার্মগুলো থেকে আয় বাড়ানোর কৌশল সম্পর্কে জানা আবশ্যক।মুরগী পালন বর্তমানে বেশ লাভজনক একটু ব্যবসা হিসেবে পরিচিত। এর প্রত্যেকটি বিষয়বস্তু সম্পর্কে সঠিকভাবে জানলে এবং দক্ষতা অর্জন করতে পারলে পোলট্রি খামার থেকে বেশ ভালো পরিমাণে লাভ পাওয়া সম্ভব। তাই সহজ উপায়ে মুরগী পালনের আয় বাড়ানোর কৌশলগুলো নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

    মুরগী পালনের গুরুত্ব 

     

    আমাদের গ্রামাঞ্চলে মুরগী পালন অতি প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত। গ্রামের উঠানে ছাড়া অবস্থায় দেশী মুরগী পালন করে থাকেন অনেকেই। এই মুরগীগুলো একদিকে যেমন পরিবারের মানুষের মাংস এবং ডিমের চাহিদা মেটায়, তেমনি বিক্রি করে অর্থ উপার্জনও করা যায়। তবে সমস্যা হলো দেশী মুরগীর জন্য খাবার ছাড়া অতিরিক্ত তেমন কোনো যত্ন নেয়া হয় না। একারণেই এদের উৎপাদনশীলতা খুবই কম। কিন্তু এদের পুষ্টিমান বেশি। একারণেই খামার ব্যবসা নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।

    ছাড়া অবস্থায় মুরগী পালন করলে এসব মুরগীর জন্য তেমন কিছুই করতে হয় না। শুধু দানা জাতীয় খাবার দিলেই চলে। বাকিটা তারা আশপাশ থেকে খাবার খুঁজে নেয়। ফলে তেমন কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই এটি পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা মেটাচ্ছে। সেকারণেই মুরগী পালনের গুরুত্ব অনেক। লাভ করার জন্য খামার আকারে মুরগী পালন করলে তা আরও বেশি লাভজনক।

    মুরগি পালন থেকে আয় বৃদ্ধির উপায় 

    সাধারণত গ্রামাঞ্চলে কৃষি কাজের সাথে জড়িত মানুষের সংখ্যাই বেশি। কৃষিকাজের জন্য বেশ ভালো একটা সময় তাদের জমিতে দিতে হয়। ফলে অন্য কিছু করা দুষ্কর হয়ে পড়ে।সেক্ষেত্রে মুরগী পালন বেশ ভালো একটি সুবিধা। কৃষক ভাইয়েরা তাদের কাজের অবসরে বিকেলে কিংবা রাতে মুরগী খামারে সময় দিতে পারবেন। 

    পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাকে এই কাজে সহায়তা করতে পারবেন যা অন্য কাজের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। ফলে অতিরিক্ত লোক নিয়োগ ছাড়াই মুরগী পালন থেকে অতিরিক্ত উপার্জন সম্ভব।

    মুরগী খামার সফলভাবে পরিচালনার গাইডলাইন

    মুরগী খামার সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হলে আপনাকে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এগুলো হলো-

    • ফার্মের পরিবেশ সবসময় পরিচ্ছন্ন এবং ময়লামুক্ত রাখতে হবে। যেনো কোনোভাবেই কোনো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াসহ অন্যান্য জীবাণু ছড়াতে না পারে।
    • মুরগীর খাদ্য যথাসময়ে এবং যথাযথভাবে প্রদান করতে হবে। যেসব খাবার মুরগীর সুষম খাদ্যকে নির্দেশ করে সেসব কিছুর মিশ্রণ থাকতে হবে খামারে।
    • খামারের জায়গা খোলামেলা থাকতে হবে যেনো ভালোভাবে আলো-বাতাস ঢুকতে পারে। এতে মুরগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে এবং রোগব্যাধিও কম হবে।
    • মুরগীর ভ্যাক্সিনেশন এর ব্যাপারটি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে সবসময়। সঠিকভাবে পরিচর্যা করা থাকলে এবং মুরগীর রোগ-ব্যাধির ভ্যাক্সিন দেয়া থাকলে অনেকাংশেই মুরগীর স্বাস্থ্য বেশি সুরক্ষিত হয়।
    • মুরগী সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। এতে মুরগী মৃত্যুহার কমে যাবে।

    মুরগী পালনে খরচ নিয়ন্ত্রণ

    মুরগি পালন করে লাভবান হওয়ার উপায় হলো খরচ নিয়ন্ত্রণ। পোলট্রি লাভ কৌশল বলতেই আমরা বুঝি কম খরচে মুরগী পালন। মুরগী খামারে লাভজনক পরিচালনা করা একটি দক্ষতার বিষয়।খরচ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রথমেই আপনার নজর দিতে হবে মুরগীর খাবার এবং স্বাস্থ্যের দিকে। খামারে মুরগীর খাদ্যের জন্য বেশ ভালো একটি পরিমাণ অর্থ খরচ হয়। খাদ্য যেনো কোনোভাবেই অপচয় না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্যের এবং পানির গুণগত মান নিশ্চিত হলে এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকলে মুরগীর রোগ-ব্যাধির পরিমাণ কমে যায়।

    ফলে চিকিৎসাজনিত খরচ তেমন করতে হয় না। এতে মুরগী খামার আয় বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও ডিম পাড়ার কৌশল অবলম্বন করলেও ডিম এবং মাংসের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যায় যা খরচ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বেশ মুরগী খামার লাভ এনে দেয়।

    মুরগি পালনে কম খরচে বেশি আয়

    মুরগী পালনের মাধ্যমে আয় করার কৌশল আমরা ইতিমধ্যে জেনে গেছি। তবে মুরগী খামার থেকে দ্রুত আয় বাড়ানো যদি আপনার লক্ষ্য হয় তবে আপনাকে নজর দিতে হবে পোলট্রি ব্যবসায়ী, স্থানীয় দোকানি এবং হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোর প্রতি।

    কারণ এসব জায়গায় নিয়মিতভাবে মুরগীর চাহিদা থাকে। ফলে গ্রামে বা স্থানীয়ভাবে মুরগী বিক্রির পাশাপাশি যদি এসব জায়গায় মুরগী বিক্রি শুরু করতে পারেন তবে সহজ মুরগী পালন থেকে বেশ ভালো পরিমাণ আয় আপনি করে নিতে পারবেন।

    মুরগি পালনের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং লাভজনক উপায় 

    এতক্ষণ তো মুরগী পালন আয় এবং এই আয় বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে অনেক কিছুই আমরা জানলাম। কিন্তু মুরগী পালন নিয়ে কেনো এত আগ্রহ? কারণ খামার ব্যবসা বর্তমানে বেশ সম্ভাবনাময় একটি ব্যবসা।

    বাজারে গরু, খাসি সহ অন্যান্য মাংসের যে দাম, তাতে দেশের বেশিরভাগ মানুষের পক্ষে নিয়মিত এগুলো কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। একমাত্র পোলট্রি মুরগীর দামই তাদের নাগালের মধ্যে।

    একারণে এই মুরগী পালনের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছেই। তাই কৌশলগত ভাবে শুরু করতে পারলে এ ব্যবসায় আপনার লাভ নিশ্চিত। 

    মুরগী পালন প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয়। সময়ের পরিক্রমায় আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষিতে এ ব্যবসা আরও বেশি চাহিদাসম্পন্ন এবং লাভজনক হয়ে উঠছে। তাই আপনিও কৃষিকাজের পাশাপাশি নতুন কোনো ব্যবসা নিয়ে আগাতে চাইলে এ কাজটি করতে পারেন।

  • মুরগির খাবার ব্যবস্থাপনা: পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের সেরা উপায়

    মুরগির খাবার ব্যবস্থাপনা: পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের সেরা উপায়

    মুরগির খাবার ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না জানলে মুরগীর বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই একজন লাভবান খামারী হতে চাইলে খাবারের দিক নিয়ে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে।পোলট্রি ফার্মে মুরগ খাবার ব্যবস্থাপনা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মুরগীর খাদ্য পরিকল্পনা করতে চাইলে আপনাকে হতে হবে কৌশলী এবং পোলট্রি খাদ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে দক্ষ। এতে একদিকে যেমন আপনার মুরগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষ নিশ্চি হবে, তেমনি ফার্মের লাভের পরিমাণও বাড়তে থাকবে।

    পোলট্রি খামারে খাদ্য ব্যবস্থাপনার ভূমিকা

    একটি পোলট্রি খামার লাভজনকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে বেশ কিছু দিক সম্পর্কে সচেতন থাকা আবশ্যক। আর তার মধ্যে একটি হলো খাদ্য ব্যবস্থাপনা। কিন্তু কেনো খাদ্য ব্যবস্থাপনা এত গুরুত্বপূর্ণ? তাহলে এখন এই বিষয়টি সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-

    • পোলট্রি মুরগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এবং সঠিকভাবে বৃদ্ধির জন্য সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা একান্ত প্রয়োজন। সঠিক পুষ্টি না পেলে তার শরীরে বিভিন্ন অস্বাভাবিকতা দেখা যেতে পারে।
    • মাংস এবং ডিমের গুণগত মান বৃদ্ধি করার পাশাপাশি মুরগীর উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রয়োজন সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হলো পোলট্রি খামারের খাদ্য ব্যবস্থাপনা। 
    • দক্ষতার সাথে খাদ্য ব্যবস্থাপনা করতে পারলে খাদ্যের অপচয় হয় না। এতে খরম কমানো সম্ভব হয়।
    • আগেই বলেছি, খাদ্যের গুণগত মান এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা মুরগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেয়। ফলে মুরগীর রোগ প্রতিরোধ কম হয় যা ওষুধের খরচ কমাতে পারে।

    এসকল কারণেই পোলট্রি খামারে সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলে একটি টেকসই ব্যবসা পরিচালনার জন্য তা সহায়ক হয়।

    মুরগির খাবার পরিকল্পনার মৌলিক বিষয়

    আমরা জেনে নিয়েছি যে কেনো পোলট্রি খামারে মুরগীর খাবার ব্যবস্থাপনা এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কিন্তু খাদ্য ব্যবস্থাপনা করতে চাইলে প্রথমেই জানতে হবে এই পরিকল্পনাতে কী কী বিষয় থাকতে হবে। তাই এই মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো-

    ১. মুরগীর খাদ্য হতে হবে সুষম। মুরগী যেহেতু প্রোটিনের উৎস, তাই প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য তাকে অবশ্যই দিতে হবে। পাশাপাশি কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন এবং খনিজ লবণের চাহিদা মেটে এমন খাদ্যও দিতে হবে।

    ২. খাবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে মুরগীর জাত, মুরগীর আকার এবং বয়সের দিকগুলো খেয়াল রাখতে হবে। ডিম পাড়তে পারে এমন মুরগীগুলো সাধারণত একটি বেশি খাবার খায় ছোট এবং বৃদ্ধের তুলনায়।

    ৩. মুরগীর জন্য প্রতিদিন কী পরিমাণে খাবার লাগবে তা নির্ধারণ করতে হবে। এটি নির্ধারণ করার আগে অবশ্যই পুষ্টি চাহিদা সম্পর্কে সঠিকভাবে বিচার বিশ্লেষণ করতে হবে।

    ৪. মুরগীর খাদ্য গ্রহণের অভ্যাসের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদি দেখা যায় যে খাবার পরিকল্পনা করা হয়েছে তা সঠিকভাবে পুষ্টি চাহিদা মেটাতে পারছে না, সেক্ষেত্রে খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনতে হবে।

    ৫. সর্বক্ষেত্রেই মুরগীর পুষ্টি বিষয়টিকে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।

    এভার মুরগীর খামার করার পরপরই মুরগীর খাবারের ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে বুঝে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

    পোলট্রি মুরগীর সঠিক পুষ্টির চাহিদা

    মুরগির খাবার ব্যবস্থাপনা বা কোন খাদ্য কতটুকু পরিমাণে প্রয়োজন তা বুঝতে হলে প্রথমেই মুরগীর পুষ্টির চাহিদা সম্পর্কে জানতে হবে। বয়স অনুযায়ী মুরগীর এ চাহিদা পরিবর্তিত হয়। তাই আমরা এখন মুরগীর পুষ্টি চাহিদা সম্পর্কে জেনে নিব।

     

    • প্রোটিন- একটি বাচ্চা মুরগীর মোট খাবারের ১৮-২০% প্রোটিনের প্রয়োজন এবং একটি পূর্ণবয়স্ক মুরগীর জন্য এ চাহিদা ১৫-১৮%।

     

    • মুরগীকে প্রতিদিন নিয়মিত কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাদ্য দিতে হবে। মুরগীর শরীর পরিচালনার জন্য যে শক্ত দরকার তা মুরগী কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য থেকেই পেয়ে থাকে।

     

    • শরীরে তাপ উৎপাদনের মাধ্যমে শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রদান করা এবং বিভিন্ন ভিটামিন শরীরে শোষণ করার জন্য চর্বির প্রয়োজনীয়তা অনেক। প্রতিদিন মোট খাবারের ২-৫% অবশ্যই চর্বিজাতীয় খাদ্য প্রদান করতে হবে।

     

    • ডিম উৎপাদনের জন্য ভিটামিনের ভূমিকা অপরিসীম। তাই ভিটামিন জাতীয় খাদ্য উপাদান দিতে হবে। এছাড়াও প্রয়োজনে খাদ্যের বাইরে সাপলিমেন্ট হিসেবে ভিটামিন দেওয়া যায়।

     

    • মুরগীর জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, জিংক এবং আয়রন পরিমিত হারে দিতে হবে। ক্যালসিয়াম ডিমের খোলসের গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খনিজ লবণের অভাবে ডিম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। 

     

    • ডিমের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় এমন উপাদানগুলোর মধ্যে আরেকটি হলো পানি। বিশুদ্ধ পানি পরিমিত হারে নিয়মিত ভাবে মুরগীকে দিতে হবে। তা না হলে মুরগীর শারীরিক কার্যকলাপ সঠিকভাবে পরিচালিত হবে না। 

     

    একজন পোলট্রি খামারিকে অবশ্যই এ বিষয়গুলো ভালোভাবে জানতে হবে। অন্যথায় মুরগীর সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত হবে না।

     

    মুরগীর পুষ্টিকর খাদ্য ব্যবস্থাপনা 

    পোলট্রি পুষ্টি ব্যবস্থাপনা একটি সুষ্ঠু খামার পরিচালনার জন্য শুধু গুরুত্বপূর্ণই নয়, বরং আবশ্যক। সঠিক পুষ্টির উপর নির্ভর করছে মুরগীর স্বাস্থ্য,উৎপাদনশীলতা এবং লাভজনকতা নিশ্চিত করা উপায়। মুরগীর সুষম খাদ্য বণ্টনে কী কী পুষ্টিকর খাদ্য দেয়া প্রয়োজন তা যদি আপনি না জেনে থাকেন, তাহলে অবশ্যই এখান থেকে দেখে নিন-

     

    • প্রোটিন- সয়াবিন, মাছের খাবার, সরিষা বীজ, সূর্যমুখী বীজ, তিসি বীজ ইত্যাদি
    • কার্বোহাইড্রেট- ধান, চাল, গম, ভূট্টা এবং শস্য জাতীয় খাদ্য।
    • ভিটামিন- সবুজ শাক, সাপলিমেন্টারি ভিটামিন
    • খনিজ লবণ- ঝিনুকের খোসাজাতীয় গুঁড়া, শেল ইত্যাদি।
    • পরিমিত পানি
    • শুধু এক ধরণের খাবার না দিয়ে বিভিন্ন খাবার একসাথে মিশিয়ে দিলে তা পুষ্টিমান রক্ষায় বেশি উপকারী হয়। যেমন, সয়াবিন, ভূট্টা, রাইস ব্রান এবং অন্যান্য শস্যের সমন্বয়ে একটি মৌলিক খাদ্য মিশ্রণ তৈরি করা।
    • বাচ্চা, প্রাপ্তবয়স্ক মুরগী এবং লেয়ার মুরগীর জন্য আলাদা আলাদা খাদ্য পরিকল্পনা করতে হবে যেনো পুষ্টি চাহিদা সঠিকভাবে মেনে চলা যায়।

     

    মুরগীর খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনা 

    ইতিমধ্যে আমরা বিস্তারিতভাবে জেনে গেছি যে মুরগীর জন্য কোন কোন পুষ্টিকর খাদ্য কেমন পরিমাণে দরকার। তাহলে এখন মুরগীর খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়েও কিছু জেনে নেয়া যাক-

     

    • প্রথমেই উপরে বর্ণিত নিয়মাবলী অনুসারে সঠিক খাদ্য নির্বাচন করতে হবে। 
    • পুষ্টিমান নিশ্চিত করে মুরগীর আলাদা খাদ্য মিশ্রণ পদ্ধতি অবলম্বন যেনো তাতে সব খাবার নির্দিষ্ট হারে মিশ্রিত থাকে।
    • প্রতিদিন কত টুকু খাদ্য দেয়া হবে এবং কখন দেয়া হবে সেই সময়সূচি নির্ধারণ।
    • খাবারের পাশাপাশি পানিও যেনো সঠিক পরিমাণে দেয়া হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। 
    • খাদ্য বিতরণের জন্য অটোমেটেড ফিডার বা ম্যানুয়াল ফিডার এই দুই ধরণের পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু খাদ্য দিলেই হবে না। মুরগী খাবার ঠিকমত খাচ্ছে কিনা সেটাও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
    • যথাসম্ভব চেষ্টা করতে হবে যেনো খাদ্য সরবরাহে অপচয় কম হয়। এতে খরচ কমানো যাবে।

    এভাবেই সঠিকভাবে মুরগীর খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

     

    শেষ কথা

    পোলট্রি মুরগীর পুষ্টিকর খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং মুরগীর খাদ্য সরবরাহ একটি বেশ দক্ষতামূলক কাজ। মুরগীর খাদ্যে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন সহ সব কিছুর সমন্বয় যেনো ঘটে সে কারণে মুরগীর খাবার পরিকল্পনা একান্ত প্রয়োজনীয়। মুরগীর খাবার ও বৃদ্ধি পরস্পর যে একসাথে জড়িত তা আমরা জানি। তাই পোলট্রি মুরগীর সঠিক খাবার নিশ্চিত করে আপনিও খামারের আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন।

    ভিজিট ফেইজবুক পেইজ: ক্লিক হেয়ার

  • পোলট্রি ব্যবসার খরচ ও লাভের হিসাব:পোলট্রি ব্যবসা লাভ বৃদ্ধির উপায়

    পোলট্রি ব্যবসার খরচ ও লাভের হিসাব:পোলট্রি ব্যবসা লাভ বৃদ্ধির উপায়

     

    পোলট্রি ব্যবসা লাভ জনক করা কঠিন না হলেও বেশ কৌশলী একটি কাজ। নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে আপনি অতি এই সহজেই ব্যবসা থেকে বেশ ভালো একটি আয় করতে পারবেন। আপনি কি বেশ লাভজনক একটি ব্যবসার আইডিয়া খুঁজছেন? সেক্ষেত্রে আপনার পছন্দের লিস্টে অবশ্যই পোল্ট্রি ব্যবসা রাখতে পারেন কেননা পোলট্রি ব্যবসা লাভ করার জন্য একটি বেশ উদ্যোগ। 

    তবে পাশাপাশি যদি আপনি পোলট্রি ব্যবসায় লাভের কৌশল বুঝতে পারেন তাহলে তা আপনার জন্য হবে গুপ্তধন। তাই পোলট্রি ব্যবসা খরচ এবং পোলট্রি ব্যবসায় লাভের হার সম্পর্কে আমরা এখানে বিষদ আলোচনা করব যেনো আপনার পোলট্রি পালনের আয় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। 

    কেনো পোলট্রি ব্যবসা একটি লাভজনক উদ্যোগ

    পোলট্রি ব্যবসার লাভজনকতা কিছু বিশেষ কারণে হয়ে থাকে। তাহলে চলুন এবার জেনে নেই এ বিষয়গুলো যে কারণে পোলট্রি পালনের আয় এত বেশি।

    বর্তমান যুগে মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন। আর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এই বাজারে বেশিরভাগ মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর একমাত্র উৎস বলো মুরগীর মাংস এবং ডিম। তাই এর চাহিদা কতটা সেটা নিশ্চয়ই আলাদা করে বলতে হবে না। এছাড়া বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, হোটেল ইত্যাদি স্থানেও বিভিন্ন রেসিপিতে মুরগীর প্রয়োজন হয়।

    তাই এসব স্থানে সাপ্লাই দেওয়ার মাধ্যমেও বেশ ভালো পরিমাণ লাভ করা সম্ভব।দ্রুত বর্ধনশীল ব্যবসা এটি।পোলট্রি ব্যবসায় সবচেয়ে বড় লাভ হলো এটি বেশ দ্রুত বাড়ানো যায়। মুরগী সাধারণত ৪-৫ মাসের মধ্যেই ডিম উৎপাদন শুরু করে। ফলে আপনাকে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না লাভের জন্য।পোলট্রি ফিডের ব্যবসা করার মাধ্যমেও আপনি বেশ ভালো লাভ করতে পারেন।

    অতএব বুঝতেই পারছেন পোলট্রি ব্যবসায় আয় কত দ্রুত করা সম্ভব।

    পোলট্রি ব্যবসার শুরুতে প্রয়োজনীয় খরচ

    একটি পোলট্রি ফার্ম শুরু করতে হলে ব্যবসার শুরুতেই কিছু প্রয়োজনীয় খরচে আপনার মূলধন বিনিয়োগ করতে হবে। এগুলো নিয়ে এখানে আলোচনা করা হলো-

     

    • প্রথমেই আপনাকে খরচ করতে হবে খামার স্থাপনে। খামার তৈরী করতে চাইলে বাঁশ, খাঁচা, ডিম রাখার বাক্স, ফিডার ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে খামার স্থাপনে বেশ ভালো পরিমাণ খরচ করতে হবে। 
    • খামার স্থাপনের পর মুরগীর বাচ্চা কেনার জন্য খরচ করতে হবে।
    • মুরগীর খাদ্য কিনতে হবে। আপনি যদি অর্গানিক পোলট্রি খামার করতে চান তবে শাক,সব্জি, বিভিন্ন বীজ ইত্যাদি কিনতে হবে। সাধারণ মুরগী খামার করতে চাইলে ফিড সহ অন্যান্য দানা কিনতে হবে। 
    • পানি সরবরাহের ব্যবস্থার জন্য খরচ লাগবে
    • মুরগীর ঔষধ, ভ্যাক্সিনেশন ইত্যাদি কাজের জন্য খরচ করতে হবে।
    • বিদ্যুৎ ও পানি বিল দিতে হবে।
    • দক্ষ জনবল নিয়োগের জন্য খরচ করতে হবে।
    • ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রচারণা করতে চাইলে তার খরচ থাকবে।

     

    এসকল বিভিন্নমুখী খরচের জন্য আপনাকে অর্থ ব্যয় করতে হবে।

    পোলট্রি ব্যবসায় আয়ের সম্ভাবনা 

    পোলট্রি ব্যবসা হলো এমন একটি ব্যবসা যা যদি আপনি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেন, তাহলে আয়ের সম্ভাবনা শতভাগ। একটু আগেই আমরা পোলট্রি ব্যবসা কেনো লাভজনক এ সম্পর্কে জেনেছি। এসকল গুরুত্ব জানার পর অবশ্যই আপনার মনে আর কোনো সন্দেহ নেই যে এই ব্যবসা কতটা লাভজনক। কিন্তু আপনাকে এ ব্যবসা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। অর্থাৎ মুরগীর রক্ষণাবেক্ষণ থেকে শুরু করে খামারের যাবতীয় কার্যক্রম সঠিকভাবে করতে হবে।

     

    দক্ষ হাতে পুরো খামার নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই কেবল পোলট্রি ব্যবসা আয় দিয়ে আপনি উন্নতি করতে পারবেন। আর এজন্য আপনাকে জানতে হবে পোলট্রি লাভ কৌশল। 

    মূলত পোলট্রি খামারের মাসিক খরচ এবং মুনাফার হিসাব সঠিকভাবে আয়ত্তে আনতে পারলে এ সম্ভাবনা বেড়ে যাবে বহুগুণে।

    পোলট্রি ব্যবসায় লাভ বাড়ানোর কৌশল 

    পোলট্রি ব্যবসায় লাভের জন্য সঠিক খরচ নিয়ন্ত্রণ কৌশল আপনাকে জানতে হবে। কেননা পোলট্রি ব্যবসায় খরচ কমানোর উপায় এবং লাভ বৃদ্ধির কৌশল পরস্পর সমানুপাতিক।অর্থাৎ পোলট্রি ব্যবসায় লাভের হার বাড়াতে হলে পোলট্রি খামারের খরচ কমানোর উপায় জানতে হবে।

    পোলট্রি খামারে খাবার, চিকিৎসা এবং পরিচর্যার খরচ নিয়ে আপনাকে বেশ কৌশলী হতে হবে। কারণ খামার তৈরীর খরচে আপনি খুব বেশি বাঁচাতে পারবেন না। কিন্তু মুরগীর খাবারে কিছুটা খরচ কমাতে পারবেন।

    যেমন মুরগীর জন্য সরিষা দানা, মসুর ডাল এগুলো বেশ উপকারী। এসব যদি আপনি নিজ ক্ষেতেই ফলান তাহলে খরচ কমে যায়। তাছাড়াও বাড়ির আশপাশে নিমগাছ লাগিয়ে মুরগীর প্রাথমিক ঔষধের ব্যবস্থা করা যায়।

    পোলট্রি খামারে খরচ নিয়ন্ত্রণের আরেকটি উপায় হলো নিজেকে দক্ষ করে তোলা। আপনি যদি নিজে এ কাজে দক্ষ হোন এবং আপনার পরিবারের সদস্যদের দক্ষ করে তোলেন, তাহলে বাইরে থেকে আপনাকে অতিরিক্ত খরচে লোক নিয়োগ করতে হবে না।

    এছাড়াও মুরগীর যত্ন সঠিকভাবে নিলে ঔষধের খরচ অনেকাংশে কমানো যায়। এতে তুলনামূলক ভাবে হিসেবের অনুপাতে খরচ কম হয়। 

    আবার, মুরগীর ডিম পাড়ার সময় খোলা জায়গায় ডিম পাড়া অপেক্ষা বক্সে ডিম পাড়লে ডিমের সুরক্ষ এবং মুরগীর সুরক্ষা দুটোই নিশ্চিত হয়। যা লাভ বাড়াতে সক্ষম। 

    এভাবেই কিছু কৌশল অবলম্বন করে খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং লাভ বাড়ানোর কাজ আপনি করতে পারেন। 

    ব্যবসার লাভজনকতা ধরে রাখার জন্য নিয়মিত কৌশল 

    পোলট্রি ব্যবসায় লাভজনকতা ধরে রাখা বেশ নিয়মতান্ত্রিক একটি ব্যাপার। ইতিমধ্যে পোলট্রি ব্যবসার লাভজনকতা নিশ্চিত করার জন্য খরচ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আমরা জেনেছি। 

    লাভজনকতা ধরে রাখতে এই প্রত্যেকটি বিষয় মেনে চলতে হবে। তার সাথে আরও একটি বিষয় সংযুক্ত হবে আর তা হলো নেটওয়ার্কিং। অর্থাৎ কীভাবে স্থানীয় বাজারে আরও বেশি ডিম এবং মুরগী সরবরাহ করতে পারেন, আপনাকে সেই উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

    নতুন নতুন হোটেল ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। ফলস্বরূপ অতি অল্প সময়েই আপনার ব্যবসার লাভের প্রসার হবে এবং লাভের স্থায়ীত্ব লাভ হবে। মুরগী পালনে প্রাথমিক বিনিয়োগ যেমনই হোক না কেনো মুরগী পালনের আয়ের হিসাব তার থেকে বেশি হবে।

    উপর্যুক্ত বিষয়গুলো থেকে আমরা জেনে নিলাম পোলট্রি খামার লাভজনক করার উপায়। পোলট্রি ব্যবসায় খরচ বিশ্লেষণ করলেই পোলট্রি ফার্মের খরচ এবং মুনাফা সম্পর্কে একই সাথে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

    তবে পোলট্রি খরচ হিসাব করতে আপনাকে পোলট্রি খামার বিনিয়োগ থেকে শুরু করে মুরগী পালন খরচ পর্যন্ত যাবতীয় হিসাব করতে হবে। আর এটাই হলো লাভজনক পোলট্রি ব্যবসা শুরুর এবং লাভের মূল উপাদান।

    কৃষক কণ্ঠ ফেইজবুক পেইজ

  • অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন-শুরু থেকে সফল

    অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন-শুরু থেকে সফল

    খামারিদের কাছে অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন অপরিচিত বিষয় নয়। তবে এখনো আমাদের দেশে অনেকেই আছেন যারা মুরগী পালন করতে চাচ্ছেন কিন্তু এই বিষয়টি সম্পর্কে তেমন জানেন না। তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে আমরা নিয়ে এসেছি এই পদ্ধতির বিশ্লেষণ। 

    অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন

    প্রথমেই জেনে নিতে হবে অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন বিষয়টা কী। এটি মূলত একটি প্রক্রিয়া যেখানে আপনি মুরগীকে কোনো রকম এন্টিবায়োটিক, রাসায়নিক কোনো খাবার বা ঔষধ দিতে পারবেন না।অর্গানিক খামার শুরু করতে হলে আপনাকে মুরগীর সব ধরণের প্রাকৃতিক খাদ্য এবং প্রাকৃতিক ব্যবস্থাপনা নিতে হবে। রাসায়নিক কোনো বিষয় এখানে থাকে না বলেই একে অর্গানিক পোলট্রি ব্যবস্থাপনা বলা হয়।

    এটি একটি স্বাস্থ্যকত এবং পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়া কেননা মুরগীকে রাসায়নিক সব প্রকার বস্তু থেকে আলাদা রাখা হয়। এতে মুরগীর স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের বিষয়টিও নিশ্চিত থাকে। তাই বিজ্ঞানীরা অর্গানিক পোলট্রি খামার নিয়ে বেশ ইতিবাচক মত পোষণ করেছেন।

    অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালনের গুরুত্ব এবং সুবিধা 

    অর্গানিক মুরগী পালন পদ্ধতি সম্পর্কে জানার আগে আমরা জেনে নেবো এ পদ্ধতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এর বাজার চাহিদা কেমন। কারণ আমরা সবসময়ই বলে থাকি, বাজার চাহিদা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। অন্যথায়, ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।এই পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো-

    • মানুষের স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় এই পদ্ধতি বেশ উপকারী। কেননা অর্গানিক মুরগীর ডিম এবং মাংসতে কোনো রাসায়নিক বস্তুর অবশিষ্টাংশ থাকে না। এতে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের মান উন্নত হয়।

     

    • রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করার কারণে এটি একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। এতে পরিবেশের ভারসাম্য সুরক্ষিত থাকে।

     

    • অর্গানিক পোলট্রি খামার এর মুরগীর বাজার চাহিদা অনেক। তাই পোলট্রি খামারের সাফল্যের কৌশল হিসেবে অন্যতম ধরা হয় অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন। 

     

    • প্রাকৃতিক অবস্থায় পালিত হয় বিধায় মুরগী খোলামেলা জায়গায় স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে পারে যা তার জন্য স্বাস্থ্যকর।

     

    • স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের উপায় হিসেবেও এ পদ্ধতির বেশ মূল্যায়ণ রয়েছে।

     

    • বিশেষত নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অর্গানিক পোলট্রি খামার বেশ লাভজনক।

     

    তাই পোলট্রি সফলতা নিশ্চিত করতে অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালনের জুড়ি নেই। এ খামারের মাধ্যমে বেশ ভালো সুবিধা আপনি পেতে পারেন।

    অর্গানিক পোলট্রি খামার শুরু করার ধাপ

    অর্গানিক পোলট্রি খামার শুরু করার প্রাথমিক ধাপ হলো খামারের পরিকল্পনা। পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কিছু শুরু করলে তাতে লাভের সম্ভাবনা এবং পরিমাণ দুটোই কম থাকে। তাই ভেবেচিন্তে শুরু করতে হবে।খামার তৈরী করার জন্য একটি নির্দিষ্ট জমি ঠিক করতে হবে যেখানে মুরগী নিরাপদে চলাফেরা করতে হবে। জমি অবশ্যই উঁচু জায়গায় হতে হবে যেনো পানি জমে না থাকে। পাশাপাশি পরিমিত রৌদ্রজ্বল স্থান হতে হবে। স্যাতসেতে জায়গায় মুরগীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেশি।

    পাশাপাশি জায়গাটি এমন হতে হবে যেনো তা খোলামেলা হয়৷ কেননা পরিমিত আলো-বাতাস থাকলে সেখানে মুরগীর গঠন ভালো হয় এবং ওজনেও ঠিকভাবে বাড়ে। এভাবে জায়গা নির্বাচন করে মুরগীর প্রয়োজনীয় অর্গানিক খাদ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করে অর্গানিক পোলট্রি খামার শুরু করতে হবে।

    অর্গানিক পোলট্রি খামারের ব্যবস্থাপনা 

    আপনি একটি সফল অর্গানিক পোলট্রি খামার গড়ে তুলতে পারবেন কিনা তা নির্ভর করছে আপনার খামারের ব্যবস্থাপনার উপর। তাই অর্গানিক পোলট্রি খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বেশ ভালোভাবে জানতে হবে আপনাকে।খামারের প্রাথমিক ধাপে এর পরিকল্পনা সম্পর্কে আমরা জেনে গেছি। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর মূল কাজ হলো এর ব্যবস্থাপনা। সেক্ষেত্রে আপনাকে যেগুলো দেখতে হবে তা হলো- 

    অর্গানিক পোলট্রি খামারের ব্যবস্থাপনা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে গঠিত। এখানে কিছু মূল দিক তুলে ধরা হলো:

    খাদ্য ব্যবস্থাপনা 

    ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেই প্রথমেই আসবে খাদ্যের বিষয়টি। কেননা অন্যান্য মুরগী ফার্ম অপেক্ষা আপনার অর্গানিক পোলট্রি খামার আলাদা হওয়ার প্রধান কারণ এই খাদ্যের পার্থক্য।তাহলে কী কী খাদ্য দিতে হবে মুরগীকে? জেনে নেই এই সম্পর্কিত কিছু তথ্য-

    • জৈব দানা (মসুরের ডাল, সরিষা দানা, তিসি বীজ ইত্যাদি)
    • শাকসবজি (পালং শাক, ব্রকোলি, গাজর ইত্যাদি)
    • ফলমূল (আমলকি) 
    • ভিটামিন এবং মিনারেল সমৃদ্ধ খাদ্য
    • গম, ভূট্টা ইত্যাদি শস্য
    • পরিমিত পানি

     

    অর্গানিক ফার্ম স্থাপন করতে হলে এসব খাদদ্য অবশ্যই দিতে হবে।

    স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা

    খাদ্যের পর এবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভাবতে হবে। যেহেতু এখানে রাসায়নিক কিছু আপনি ব্যবহার করছেন না। তাই স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে।নিয়মিত মুরগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে এবং নজরদারিতে রাখতে হবে। সামান্য অস্বাভাবিকতা দেখা গেলেও সাথে সাথে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগের জন্য প্রাকৃতিক প্রতিকার ব্যবহার করতে হবে যেমন আদা, তেজপাতা, নিমপাতা ইত্যাদি। 

    তাছাড়াও মুরগীর অসুখ হলে কী করণীয় তা পশু চিকিৎসকের মাধ্যমে সঠিকভাবে জেনে নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্রাকৃতিক জিনিস ব্যবহার করতে হবে।

    পরিবেশগত সুরক্ষা

    পরিবেশগত সুরক্ষা বলতে মুরগীর চারপাশ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। মুরগীর আবাসস্থল এবং আশপাশের সব জায়গায় নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। মুরগীর অপসারিত জিনিস যেমন প্রতিদিনের উচ্ছিষ্ট খাদ্য, বিষ্ঠা, আবর্জনা ইত্যাদি নিয়মিত ভাবে পরিষ্কার করতে হবে। কারণ এগুলো থাকলে তা দ্বারা বিভিন্ন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি ছড়ায় যা রোগ-ব্যাধির মূল কারণ।

    দক্ষতাপূর্ণ তদারকি

    পোলট্রি খামারের জন্য দক্ষ লোক নিয়োগ আবশ্যক। পোলট্রি মুরগীর খাদ্য, রক্ষণাবেক্ষণ, সঠিক প্রজনন ব্যবস্থা গড়ে তোলা ইত্যাদি কাজের জন্য অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ লোক লাগবে। নাহলে একটি অর্গানিক ফার্ম গড়ে তোলা বেশ কঠিন। কোন সময়ে কোন জিনিস দিতে হবে এবং কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে এসব বিষয় নিয়ে তাকে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে। অর্গানিক পোলট্রি ফার্মের মূল বিষয়ই হলো এই তদারকি।

     

    আমাদের দেশে ইদানীং পোলট্রি ব্যবসা বেশ জনপ্রিয় উঠছে। তাই আপনিও যদি এমন কোনো ব্যবসার কথা চিন্তা করে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য উত্তম নির্দেশনা হলো অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন। তবে সেক্ষেত্রে এখানে উল্লেখ্য বিষয়গুলো মেনে চললে ব্যবসায় বেশি লাভ করা সম্ভব।

  • গ্রামীণ মুরগি খামার: স্বনির্ভরতার পথে গ্রামের অর্থনীতি

    গ্রামীণ মুরগি খামার: স্বনির্ভরতার পথে গ্রামের অর্থনীতি

    প্রাচীনকাল থেকেই গ্রাম বাংলায় মুরগী পালন একটি চিরাচরিত এবং অতি সাধারণ বিষয়। দিন বদলেছে, তাই মানুষও এখন ছোট ঘরের পরিবর্তে বাণিজ্যিকভাবে মুরগী পালন শুরু করেছে। তাই গ্রামীণ মুরগি খামার এখন অতি পরিচিত একটি বিষয়।আগে বাড়িতে মেহমান আসলেই কেবল মুরগী জবাই হত, কিন্তু এখন শরীরের প্রোটিনের চাহিদা সম্পর্কে মানুষ সচেতন। তাই ডিম এবং মাংসের চাহিদাও বেড়েছে অত্যাধিক। আর এই চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যেই গ্রামীণ অর্থনীতিতে মুরগী পালন এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

    পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধাও পাওয়া সম্ভব এই মুরগী পালন দ্বারা। এজন্য এখন অনেক কৃষক ভাইও তাদের অবসরের সময়টা খামার তৈরী এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজেই ব্যবহার করছেন।

    মুরগী পালন ও গ্রামীণ আয়ের উৎস

    গ্রামীণ আয়ের উৎস হিসেবে মুরগী পালন এখন বেশ লাভজনক একটি ব্যবসা। মুরগী পালনের জন্য বিনিয়োগের পরিমাণও কম লাগে। তাই স্বল্প আয়ের কৃষক ভাইয়েরা চাইলেই মুরগী পালন নিয়ে কাজ করতে পারেন।খামার ব্যবস্থাপনায় মুরগী পালন এখন বেশ উপযোগীও বটে। কেননা এর মাধ্যমে মুরগীর রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং মুরগীর জন্য প্রয়োজনীয় এবং উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে মুরগী পালন করা যায়। 

    এর ফলে অধিক পরিমাণে লাভবান হওয়া সম্ভব যা গ্রামীণ জনজীবনের জন্য আয়ের একটি অন্যতম উৎস হতে পারে। অন্যান্য যেকোনো ব্যবসাতে আপনাকে আলাদাভাবে সময় দিতে হবে। 

    কিন্তু গ্রামীণ মুরগি খামার হলো এমন একটা ব্যবসা যা আপনি অন্য যেকোনো কাজের পাশাপাশি করতে পারবেন। তাই এটি বর্তমানে অন্যতম একটি আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত।

    মুরগী খামার এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান

    গ্রামীণ আয়ের উৎস হিসেবে মুরগী খামারের গুরুত্ব অনেক তা ইতিমধ্যে আমরা জেনে গেছি। তবে শুধু কৃষক ভাইদের ব্যবসাই নয়, বরং তরুণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্যও এটি খুব ভালো একটি কর্মসংস্থানের মাধ্যম।বেকারত্বের অভিশাপ যে কতটা তা একজনই বেকারই ভালো বোঝেন। আর বাংলাদেশের এমন মানুষের পরিমাণ অনেক বেশি। পাশাপাশি গ্রামীণ নারীরাও ঘরের কাজ সামলে বা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে বাইরে কাজে যেতে পারেন না।

    এমন মানুষদের জন্য একটি উত্তম কর্মসংস্থানের উপায় হলো মুরগী খামার। মুরগী পালন কর্মসংস্থান বিষয়টি এখন চারদিকে বেশ সাড়া পেয়েছে। একারণেই গ্রামীণ জীবিকায় মুরগী পালন এবং নারীর মুরগী পালন নিয়ে অনেকেই মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।

    গ্রামীণ মুরগি খামার থেকে আয় বাড়ানোর উপায়

    মুরগী পালন আয় বাড়াতে চাইলে মুরগী খামার থেকে আয় বাড়ানোর কৌশল সম্পর্কে জানতে হবে। আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে আপনাদের কিছু পরামর্শ মেনে চলা আবশ্যক। নিচে এগুলো উল্লেখ করা হলো-

    • এক্ষেত্রে প্রথম কাজ হলো নেটওয়ার্কিং বাড়াতে হবে। এখন ডিম এবং মুরগী ব্যবসায় সিন্ডিকেট থাকার কারণে খামারিদের কাছ থেকে অল্প দামে কিনে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে ক্রেতার কাছে বিক্রি করে।ফলে মধ্যবর্তী সংস্থা বেশ ভালো লাভ করে নেয়। তাই এই সিন্ডিকেট ভাঙতে নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা বাড়াতে হবে যেনো খামারিরা ন্যায্য মূল্যে তাদের ডিম দোকানীদের কাছে বিক্রি করতে পারে।

     

    • মুরগীর স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং সুরক্ষার জন্য সঠিকভানে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। মুরগীর রোগ-ব্যাধি সম্পর্কে জানতে হবে এবং সঠিকভাবে মুরগীর পরিচর্যা করতে হবে।

     

    • মুরগী পালনে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। দক্ষভাবে মুরগী পালনের মাধ্যমে আয়ের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ানো যায়।

    মুরগী পালন এবং গ্রামীণ উন্নয়ন কৌশল

    আমাদের গ্রামীণ জীবনে অনেক সমস্যার কথা প্রায়ই শোনা যায়। তাই গ্রাম অঞ্চলের খেটে খাওয়া কৃষক ভাইদের জন্য মুরগী পালন হতে পারে উন্নয়নের একটি প্রধান ধাপ। আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি যে মুরগী পালন গ্রামীণ জীবনকে এক নতুন দিশা প্রদান করেছে। মুরগী পালনের মাধ্যমে শুধু গ্রামবাংলার কৃষক ভাইয়েরাই নয়, বরং নারী এবং তরুণ উদ্যোক্তারাও কাজের মাধ্যম খুঁজে পাচ্ছেন।

    ফলে বেকারত্ব থেকে মুক্তি নিয়ে তারা উপার্জনের দিকে ধাবিত হয়েছেন। আর একটি গ্রামে উপার্জনক্ষম মানুষের সংখ্যা যদি বাড়ে তাহকে নিশ্চিতভাবেই যেই গ্রামের উন্নয়ন সম্ভব। এভাবেই মুরগী পালন গ্রামীণ উন্নয়নকে নিশ্চিত করছে।

    মুরগী পালনের সুবিধা এবং চ্যালেঞ্জ

    এবার আমরা জেনে নিব গ্রামীণ এলাকায় মুরগী সুবিধা এবং চ্যালেঞ্জগুলো কী কী!

    সুবিধা:

    প্রথমেই আমরা দেখে নিব, গ্রামীণ এলাকায় মুরগী পালন কতটা সুবিধাজনক। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য বিষয়গুলো হলো-

    • নিজ বাড়িতেই প্রোটিনের উৎস তৈরী
    • নিয়মিত আয় করার সুযোগ।
    • স্থানীয় দোকানগুলোতে দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামের অন্যান্য মানুষও মুরগী এবং ডিম কিনে থাকে। ফলে নিয়মিত আয় হয়।
    • মুরগীর জন্য নিক্ষিপ্ত খাবার প্রয়োজনে কৃষিকাজেও ব্যবহার করা যায়।
    • মুরগী পালন নিজে শিখে অন্যদের প্রশিক্ষণ দানের মাধ্যমে ব্যবসা বাড়ানো যায়।

    তবে সুবিধার পাশাপাশি কিছু সমস্যাও রয়েছে। এগুলোও জেনে রাখা আবশ্যক। নাহলে সমস্যার সমাধান কঠিন হয়ে যাবে।

    • রোগ-ব্যাধির প্রাদুর্ভাব 
    • পরিবেশ এবং আবহাওয়াগত সমস্যা
    • বাজারজাতকরণে সমস্যা 
    • দক্ষতার অভাব
    • খরচ বৃদ্ধি
    • পালনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাব

     

    এই বিষয়গুলো অনেক ক্ষেত্রেই মুরগী পালনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। তাই মুরগী পালন অর্থনীতি নিয়ে আরও গবেষণা এবং উপায় আবিষ্কার প্রয়োজন।তাই আমাদের সরকার এবং স্থানীয় প্রতিনিধিগণের এই বিষয়টি নিয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কীভাবে মুরগী পালন করে খামারিরা আরও উন্নতি করতে পারেন সেই সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করা আবশ্যক।

  • পোলট্রি খামারে রোগ প্রতিরোধ ও সহজে লাভবান হওয়ার কৌশল

    পোলট্রি খামারে রোগ প্রতিরোধ ও সহজে লাভবান হওয়ার কৌশল

    পোলট্রি খামারিদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রোগব্যাধি। মুরগীর বিভিন্ন রোগ হয়ে থাকে যা অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম। তাই পোলট্রি খামারে রোগ প্রতিরোধ উপায়সমূহ জানা আবশ্যক। তা না হলে লাভের চেয়ে লসের পরিমাণই বেশি হবে।

    পোলট্রি খামারে রোগ প্রতিরোধ কেনো গুরুত্বপূর্ণ? 

    পোলট্রি খামারে রোগ প্রতিরোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি খামারের উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা নির্ধারণ করে। রোগের সংক্রমণ হলে মুরগির স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা তাদের বৃদ্ধি, ডিম উৎপাদন এবং সামগ্রিক কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে। 

    রোগ-ব্যাধি থেকে মুরগীকে দূরে রাখতে পারলে আপনি যেভাবে লাভবান হবেন তা হলো-

    • স্বাস্থ্যকর মুরগী দ্বারা অধিক পরিমাণে মাংস এবং ডিম উৎপাদন। 
    • রোগ প্রতিরোধ করতে পারলে রোগের চিকিৎসা বাবদ খরচ কমে যায়। তাছাড়াও মুরগী মৃত্যুর পরিমাণ কমে যাওয়ায় লাভ ভালো পাওয়া যায়।
    • খামারিরা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে লাভবান হতে পারেন।
    • প্রোটিনের সঠিক জোগান নিশ্চিত হয়।

    পোলট্রি খামারে সাধারণ রোগের তালিকা

    পোলট্রি খামারে রোগ প্রতিরোধ করার পূর্বে রোগ সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে নেয়া আবশ্যক। এতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। তাই প্রথমেই আমরা মুরগীর কিছু সচরাচর রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নেই।

    রাণিক্ষেত

    • এটি ভাইরাসজনিত রোগ
    • আক্রান্ত মুরগীর সবুজ রঙের তরল পায়খানা এর প্রধান লক্ষণ
    • ঘাড় বাঁকা হয়ে যায় কিছু ক্ষেত্রে
    • দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস নেয়
    • ঝিমিয়ে থাকে সবসময় 
    • মুরগী খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলে এবং ডিম পাড়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়।
    • আক্রান্ত হবার এক সপ্তাহের মধ্যে মারা যায়।

    মুরগীর বসন্ত/ কন্টাজিয়াস এপিথেলিওমা ও এভিয়ান ডিপথেরিয়া 

    • এটি ভাইরাসজনিত রোগ
    • মুখের কোণায়, চোখের কোণায়, কানের লতিতে ছোট ছোট আঁচিলের মত অংশ দেখা যায়। 
    • প্রথমে ঐ স্থান লাল হয়ে যায় এবং রস জমে।
    • এরপর কালো কালো গুঁটি দেখা যায়।
    • বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বড় মুরগীগুলো ৩-৪ সপ্তাহ আক্রান্ত থেকে এরপর নিজে নিজেই ভালো হয়ে ওঠে। তবে ছোট মুরগীতে এ অসুখ হলে অনেক সময়ই মারা যায়।

    মুরগীর কলেরা

    • এটি একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ
    • আক্রান্ত মুরগীর মল দ্বারা অন্য মুরগীর মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। 
    • পালক খসখসে হয়ে যায়।
    • পিপাসা বেড়ে যায়।
    • পায়খানা সবুজ ও ফেনাযুক্ত হয়।
    • কিছুদিনের মধ্যেই মুরগী মারা যায়।

    ককসিডিওসিস 

    • ইমেরিয়া নামক এক প্রকার পরজীবী দ্বারা হয়।
    • হজম শক্তি ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। 
    • মুরগী সবসময় ঝিমাতে থাকে এবং অবসন্ন দেখা যায়।

    গামবারো

    • এ রোগে মুরগী পালক কুঁচকে যায় এবং অবসন্ন দেখায়।
    • ময়লাযুক্ত পায়ুস্থান এবং ডায়রিয়াও দেখা যায়।
    • এ রোগের ভ্যাকসিন না দিলে হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি

    ইনফেকসাস ব্রংকাইটিস 

    • এটি প্রধানত বয়স্ক মুরগীর ক্ষেত্রে বেশি হয়ে থাকে।
    • শ্বাসযন্ত্র আক্রান্ত হয় বলে শ্বাস প্রশ্বাস জোরে নেয়।
    • অনেক সময় জোরে মাথা ঝাড়া দিয়ে উঠে শব্দ করে।

    পোলট্রি খামারে রোগ বিস্তারের কারণ

    মুরগীর কিছু সাধারণ রোগ সম্পর্কে তো আমরা জেনেছি। কিন্তু এ রোগগুলো কেনো হয় এবং কীভাবে ছড়ায় এটি জামাও গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে প্রতিরোধ অসম্ভব।যে কারণগুলোর জন্য এসকল রোগের বিস্তার হয় সেগুলো হলো-

    • মুরগীর বাসস্থান যদি অপরিষ্কার হয়, তাহলে বিভিন্ন জীবাণু সেখানে প্রবেশ করে। 
    • সুষম খাদ্যের অভাব
    • সংকীর্ণ স্থানে গাদাগাদি করে অনেক বেশি মুরগী রাখলে
    • ভেজাল এবং দূষিত খাদ্য
    • খামারির পরিচর্যার অভাব
    • অনভিজ্ঞ ব্যক্তির দ্বারা খামার পরিচালনা
    • দূষিত পরিবেশের পানি, বায়ু, মাটি ইত্যাদির দ্বারা এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

    পোলট্রি রোগ প্রতিরোধ কৌশল

    পোলট্রি খাবারে রোগ প্রতিরোধ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা আগেই দেখে নিয়েছি। এবার জেনে নিব এসব রোগ প্রতিরোধের কৌশল সম্পর্কে- 

    পোলট্রি খামারের পরিচ্ছন্নতা

    আপনাকে অবশ্যই খামার সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রতিদিনের উচ্ছিষ্ট অংশ প্রতিদিন ফেলে দিতে হবে। খামারে যেনো কোনোভাবেই স্যাতস্যাতে অবস্থার সৃষ্টি না হয় তা খেয়াল রাখতে হবে। কেননা এমন পরিবেশেই জীবাণুর বিস্তার ঘটে।পোলট্রি খামারে জীবাণুনাশক ব্যবহার করার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান অনেকটা করা সম্ভব। এতে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগগুলো ছড়াতে পারবে না।

    পোলট্রি খামারে স্বাস্থ্যবিধি

    এটি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খামারে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। পোলট্রি খামারে সঠিক ভ্যাকসিন প্রয়োগ আবশ্যক। জায়গা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ভ্যাক্সিন প্রয়োগে খামারের মুরগী রোগমুক্ত রাখা সহজ হয়। একই সাথে পোলট্রি খামারে যারা কাজ করেন তাদেরকেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং দক্ষ হতে হবে এ কাজে। খামারের যেকোনো কাজ সাবধানতার সাথে করতে হবে যেনো বাইরে থেকে জীবাণু না আসে।

    পোলট্রি খামারের রক্ষণাবেক্ষণ

    খামারের রক্ষণাবেক্ষণ এর দায়িত্ব যার থাকবে তাকে খামারের প্রতিটি মুরগীর প্রতি নজর রাখতে হবে। পোলট্রি রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা সম্পর্কে তাকে দক্ষ হতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় যদি একজন ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ নেন।তবে পোলট্রির জন্য এমন কাউকে না পেলে অন্তত রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবে এমন একজন দক্ষ মানুষ রাখতে হবে যেনো তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় স্থানে নিতে পারে।

     

    পোলট্রি খামারে মুরগীর বিভিন্ন রকম রোগ-ব্যাধি হতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সচেতন থাকা আবশ্যক। একবার রোগ ছড়িয়ে পড়লে সেই খামার রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব। আর রক্ষা করতে পারলেও তা অনেক ব্যয়বহুল। তাই পোলট্রি খামারের রক্ষণাবেক্ষণ সঠিকভাবে করা আবশ্যক।

     

  • মুরগি পালনের সহজ উপায় – নতুনদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড।

    মুরগি পালনের সহজ উপায় – নতুনদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড।

     

    অতি দ্রুত একটি লাভজনক ব্যবসা দাঁড় করাতে  মুরগি পালনের সহজ উপায় সম্পর্কে জানা আবশ্যক। আর একই সাথে জানতে হবে বিশেষ কিছু টিপস যা সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয়।

    দেশী মুরগী কিংবা ব্রয়লার মুরগি পালন বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক হিসেবে পরিচিত। অনেকেই ইতিমধ্যে ব্যবসা শুরু করে দিয়েছেন। আবার অনেকে খুঁজছেন মুরগি পালনের সহজ উপায়। তাই আমরা এখানে আলোচনা করব মুরগি পালনের সহজ কৌশল এবং নতুনদের জন্য পরামর্শ নিয়ে।

    যেকোনো কাজ শুরু করার পূর্বেই আমরা তার গুরুত্ব সম্পর্কে জানার জন্য পরামর্শ দেই। তাই এক্ষেত্রেও আপনাকে মুরগী পালনের গুরুত্ব বিবেচনা করতে হবে। 

    মুরগী পালন থেকে প্রাপ্ত মাংস এবং ডিম গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের উৎস। ফলে বাড়িতেই আপনার প্রয়োজনীয় প্রোটিন উৎস আপনি পেয়ে যাচ্ছেন।কৃষক ভাইয়েরা কৃষি কাজের পাশাপাশি মুরগী পালন করে স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি করতে পারেন। গ্রামের মহিলারা কিংবা কম বয়সী যুবক যারা চাকরি পাচ্ছেন না, তারা এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন।

    তাছাড়া কম মূলধনে এবং কম জমিতে করা সম্ভব বলে আপনার অধিক বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই।এই ব্যবসা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক নয়। স্থানীয় ভাবে বাজারজাত করা যায় বলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

    এসকল কারণেই মুরগী পালন বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর কৃষি উদ্যোগ।

    কিভাবে শুরু করবেন মুরগী চাষ

     আপনি যদি এই উদ্যোগ নিয়ে থাকেন, তাহলে ছোট পরিসরে মুরগী পালন শুরু করে দিতে পারেন। তবে ছোট বা বড় যে পরিসরেই হোক না কেনো সফলভাবে মুরগী পালনের জন্য অবশ্যই আপনাকে কিছু প্রাথমিক ধাপ অনুসরণ করতে হবে। নিচে এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

    উদ্দেশ্য নির্ধারণ

    মুরগী পালনের উদ্দেশ্য সাধারণত তিন রকম হয়ে থাকে। এগুলো হলো- মাংস উৎপাদন, ডিম উৎপাদন কিংবা উভয়ই। প্রথমেই আপনাকে ঠিক করতে হবে কেনো আপনি মুরগী পালন করতে চান। কারণ উদ্দেশ্য অনুযায়ী আপনার কার্যপদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হবে। 

    জায়গা নির্বাচন

    মুরগীর জন্য সঠিক জায়গা নির্বাচন করতে হবে। নিচু জমি যেখানে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে এমন জমি নেয়া যাবে না। উঁচু এবং রৌদ্রজ্বল স্থান মুরগী পালনের জন্য উপযুক্ত। পাশাপাশি ভালো স্থানটিতে পরিমিত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। 

    মুরগীর বাসস্থান তৈরী

    এই বিষয়টি নির্ভর করছে আপনি কীভাবে মুরগী পালন করবেন তার উপর। গ্রামীণ পদ্ধতিতে অনেকেই ছেড়ে মুরগী পালন করেন। এতে মুরগী সকালে ছেড়ে দেয়া হয় এবং রাতে ফিরে আসে। এভাবে মুরগী পালন করলে যতগুলো মুরগী আছে তা থাকতে পারবে এমন পরিমিত জায়গা হলেই যথেষ্ট।

    তবে যদি আপনি বদ্ধ অবস্থায় খাচায় মুরগী পালন করেন, তাহলে প্রতি মুরগীর জন্য ১.৫ -২ ফুট জায়গা লাগবে এমন হিসেব করে বাসস্থান তৈরী করবেন। 

    বদ্ধ জায়গার ক্ষেত্রে ঘর নির্মাণ করে তাতে খড় জাতীয় জিনিস ছড়িয়ে দেয়া যেতে পারে। এতে মুরগীর জন্য আরামদায়ক হবে।

    জাত নির্বাচন

    আপনি দেশী মুরগী পালন করতে ইচ্ছুক নাকি ব্রয়লার মুরগী তা নির্বাচন করে উন্নত জাতের মুরগী বাছাই করুন। বিভিন্ন ব্রিডারদের কাছে ভালো জাতের মুরগীর সন্ধান পেয়ে যাবেন। তবে দেশী হিলি জাতের মুরগীগুলো ওজনে বড় হয় এবং ডিম বেশি দেয়।

    প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ 

    মুরগী পালনের পূর্বে অবশ্যই প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তবে যদি আপনি আগে থেকেই দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। মুরগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, খাদ্য, পানি, রোগব্যাধি, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা আবশ্যক।

    মুরগী পালন সফল করার জন্য কিছু সাধারণ পরামর্শ

    মুরগী পালন সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যে অনেক কিছুও জেনেছি। এখন তাহলে বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ সম্পর্কে জানা যাক যেনো এই ব্যবসায় সাফল্য নিশ্চিত হয়। 

    •  এ কাজে সফল হতে হলে প্রথমেই সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। আপনি কী জাতের মুরগী পালন করছেন তার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন। অর্থাৎ ঐ জাতের মুরগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেমন খাদ্য এবং পরিবেশ প্রয়োজন তা সম্পর্কে জানতে হবে।
    • মুরগীর জন্য সুষম খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। ভিটামিন এবং খনিজসমৃদ্ধ সব রকমের খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় পানি সঠিকভাবে সরবরাহ করুন।
    •  মুরগীর ডিম সংগ্রহের জন্য সম্ভব হলে বাক্স পদ্ধতি অবলম্বন করুন। কারণ এ পদ্ধতিতে ডিমের তেমন ক্ষতি হয় না এবং মুরগীর স্বাস্থ্যও নিশ্চিত হয়।
    • মুরগীর জন্য প্রয়োজনীয় আলো এবং তাপমাত্রা নিশ্চিত করুন।কোনো মুরগীর রোগ হলে তা দ্রুত সরিতে ফেলুন যেনো ছড়িয়ে পড়তে না পারে।  সময়মত মুরগীর ভ্যাক্সিনেশন এর ব্যবস্থা করুন।
    •  সঠিকভাবে বাজারজাতকরণের পদ্ধতি জানতে হবে। আপনার উৎপাদিত পণ্য যেনো সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে পারেন তার ব্যবস্থা করতে হবে।

    মুরগী পালনে নতুনদের করণীয়

    যারা নতুন খামারিদের জন্য মুরগি পালনের উপায় খুঁজছেন তাদের জন্য কিছু দিকনির্দেশনা-

    • ভালো জাতের মুরগী অবশ্যই নির্ধারণ করবেন।
    • মুরগী সাধারণত একটু নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত ডিম দেয়। তাই প্রথমেই ডিম পাওয়ার আশায় বড় মুরগী কিনবেন না। ছোট বাচ্চা কিনে প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং পরিবেশ দিয়ে বড় করুন। এতে ডিমের সংখ্যাও বাড়বে।
    • মুরগী সম্পর্কে পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলে দক্ষ কারও সাথে যোগাযোগ করে পদক্ষেপ নিন।
    • মূলধন একেবারেই না থাকলে ব্যাংক কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে লোন নিয়ে কাজ শুরু করুন। আস্তে আস্তে ব্যবসা বৃদ্ধি করুন।
    • মুরগীর জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিমিত হারে ব্যবহার করুন।
    • নেটওয়ার্কিং এর চেষ্টা করুন। অর্থাৎ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কৌশলী যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের পরিধি বিস্তার করুন।

     

    কম খরচে কোন ব্যবসায় লাভবান হওয়া যায় এমন কোনো উপায় যদি আপনি খুঁজে থাকেন তাহলে নিশ্চিন্তে মুরগী পালন আপনার জন্য যথোপযুক্ত। শুধু একটু সময় এবং পরিশ্রম দিতে হবে সঠিকভাবে। 

     

  • ডিম উৎপাদনে পোলট্রির গুরুত্ব: কেন পোলট্রিতে ডিম উৎপাদন বেশি?

    ডিম উৎপাদনে পোলট্রির গুরুত্ব: কেন পোলট্রিতে ডিম উৎপাদন বেশি?

    স্বাস্থ্যকর ডিম উৎপাদনে পোলট্রির গুরুত্ব কতটা এবং কীভাবে এই ডিম উৎপাদন ব্যবস্থা পরিচালনা করা যায় তা অনেক খামারিরাই সঠিকভাবে জানেন না।তাই এ বিষয়ে আলোচনা আবশ্যক। প্রোটিনের আধিক্যের কারণে ডিমকে ‘’সুপার ফুড” হিসেবে ধরা হয় তা আমরা সবাই জানি। তাছাড়াও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান তো রয়েছেই। আর এমন স্বাস্থ্যকর ডিম উৎপাদনে পোলট্রির গুরুত্ব অবর্ণনীয়। এখন আমরা এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানব-

    ডিম উৎপাদনে পোলট্রির খাদ্য

    সাধারণত দেশী মুরগীর ডিম বেশি পুষ্টিকর ধরা হয়। তবে বিজ্ঞান বলে দেশী মুরগী এবং পোলট্রি মুরগীর ডিমে খুব বেশি পার্থক্য নেই। দেশী মুরগী ছাড়া অবস্থায় থাকার কারণে কেঁচোসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান খেয়ে থাকে যা পুষ্টিমান বাড়ায়।তবে, পোলট্রি খামারেও বিভিন্ন ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন খনিজ পদার্থসমৃদ্ধ খাবারও দেয়া হয়। যেমন খৈল, শামুকের গুঁড়া, গম, ভূষি, লবণ, শুঁটি মাছের গুড়া ইত্যাদি। 

    তাছাড়াও পোলট্রির মুরগীর ডিম দেশী মুরগীর তুলনায় বড়। তাই বলা যায়, পোলট্রি মুরগী থেকেও আপনি যথেষ্ট পরিমাণ পুষ্টি পেতে পারেন। একারণেই পোলট্রি ডিম উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত।

    ডিম উৎপাদনের পোলট্রির পরিবেশগত প্রভাব 

    পোলট্রি সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। তাছাড়াও পোলট্রি খামারে মুরগীর জন্য প্রয়োজনীয় আলো-বাতাস, সঠিক তাপমাত্রা, সঠিক আর্দ্রতা, গুণসম্পন্ন খাদ্য এবং পানি ইত্যাদি বিষয় রক্ষা হয়। শুধু তাই নয়, প্রতিটি মুরগীর জন্য নির্ধারিত বাসস্থান এবং ডিম পাড়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয় বলেই এই পরিবেশ মুরগীর ডিম পাড়ার জন্য সহযোগী।

    ডিম উৎপাদনে পোলট্রির স্বাস্থ্য এবং রক্ষণাবেক্ষণ 

    পোলট্রি ফার্মে মুরগীর স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট সচেতন থাকা হয়। ঠিক সময় ভ্যাক্সিনেশন এর পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখা হয় যে সব মুরগীর স্বাস্থ্য ডিম উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত কিনা।

    তাছাড়া, সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে কোনো মুরগী অসুস্থ হলে তাকে সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে ডিম পাড়ার হার এবং ডিমের গুণগত মান বৃদ্ধির চেষ্টা তো রয়েছেই। এতেই বোঝা যায়, স্বাস্থ্যকর ডিম উৎপাদনে পোলট্রি যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে।

     

    পোলট্রি ডিম উৎপাদন কৌশল

    পোলট্রিতে ফার্মের ডিম উৎপাদন ব্যবস্থা হিসেবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হলো ডিম পাড়ার বাক্সে ডিম উৎপাদন। এক্ষেত্রে প্রতি ৪-৫ টি মুরগীর জন্য ১২*১২*১৪ (দৈর্ঘ্য* প্রস্থ* উচ্চতা) আয়তন বিশিষ্ট ডিম পাড়ার বাক্স রাখতে হবে। বাক্সগুলো মুরগীর ঘরের একদিকে যেখানে আলো পরিমাণ সামান্য কম সেখানে স্থাপন করতে হবে।

    এই ডিম পাড়ার বাক্স ব্যবহার করলে খামারে লাভের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। কেননা ডিম নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না এবং মুরগীর মলদ্বার ঠোকড়ানোর অভ্যাসটি থাকে না। 

    পোলট্রি খামারের ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির উপায় 

    পোলট্রি খামারের ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির উপায় 

     

    পোলট্রি ফার্মে ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করতে প্রথমে একটি বিষয় ভালোভাবে বুঝতে হবে। আর তা হলো ডিম উৎপাদন কম হওয়ার কারণগুলো কী! কারণ এই কারণগুলো বুঝতে পারলেই ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির উপায় বের করা যাবে।

    তাহলে কী সেই কারণগুলো যা ডিম উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এক নজরে দেখে নেই সেগুলো-

    • মুরগীর বয়স
    • মুরগীর জাত
    • পুষ্টিকর খাদ্য
    • দিনের দৈর্ঘ্য
    • পীড়ন

    এবার এ সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করব এবং একইসাথে সমাধান দেখে নিব।

    মুরগীর বয়স  

    পোলট্রি মুরগীগুলো সাধারণত ১৮-২০ সপ্তাহ বয়সে ডিম পাড়া শুরু করে এবং ৭২ সপ্তাহ পর্যন্ত ডিম পাড়ে। তবে ২৪-২৬ সপ্তাহ বয়সে সর্বোচ্চ ডিম পাড়ে। ৭২ সপ্তাহ বয়সে এই ডিমের পরিমাণ প্রায় ৭০% পর্যন্ত কমে আসে। 

    তাই আপনার মুরগীর বয়স সম্পর্কে জানতে হবে। বয়স বেশি হলে কোনো কিছু প্রয়োগেই ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব নয়।

    মুরগীর জাত

    বিভিন্ন ব্রিডার্স কোম্পানি অধিক উৎপাদনশীল জাতের মুরগী বাজারে নিয়ে এসেছে। তাই সর্বোচ্চ ভালো জাতটি ফার্মে আনার এবং তার জন্য কীরূপ পরিচর্যা দরকার তা নিশ্চিত করলে অধিক ডিম পাবার সম্ভাবনা থাকে। 

    পুষ্টিকর খাদ্য

    ডিম পাড়ার সময়ে একটি মুরগী গড়ে ১১০-১২০ গ্রাম খাদ্য গ্রহণ করে। এই খাদ্যে অবশ্যই ভিটামিন এবং খনিজ থাকতে হবে। বিশেষত ক্যালসিয়ামের অভাবে ডিম পাড়ার হার কমে যায়।

    সমাধান:মুরগী যাতে খাবার থেকে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ঝিনুকচূর্ণ এবং লাইমস্টোন ক্যালসিয়ামের একটি ভালো উৎস।

    পীড়ন

    মুরগীর পীড়নের কারণগুলো প্রথমে জানা আবশ্যক। এগুলো হলো –

    • মুরগীর ঘরের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা অতিরিক্ত কম বা বেশি। ২৫-৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা তাদের জন্য আদর্শ।
    • মুরগীর ঘরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা
    • ভ্যাক্সিনেশন, ঠোঁট কাটা বা ট্রিমিং 
    • পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা না থাকা
    • খাদ্যের গুণগত মানে সমস্যা
    • স্বাস্থ্যকর এবং পর্যাপ্ত পানি না থাকা 
    • ঘরে আলোর তীব্রতা অতিরিক্ত থাকলে

     

    সমাধান:

    যেসকল কারণে পীড়ন হয়ে থাকে এসকল বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে যেনো তা না হয়।

    দিনের দৈর্ঘ্য

    মুরগীর ডিম পাড়ার জন্য দিনে ১৪ ঘণ্টার বেশি আলো প্রয়োজন হয়। একারণে শীতকালে দিনের অংশ কম থাকায় মুরগী কম ডিম পাড়ে।

    সমাধান: 

    কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করতে হবে।

    পোলট্রিতে ডিম উৎপাদন একটি বেশ লাভজনক ব্যবসা। পাশাপাশি, এর বাজার চাহিদাও অনেক বেশি। একারণেই সঠিকভাবে পোলট্রি পরিচালনা অতি আবশ্যক। আর ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশলগুলো অবলম্বন করে এই লাভের পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব।

    মুরগি পালনের সহজ উপায় সম্পর্কে পড়ুন

    FACEBOOK PAGE

  • বাণিজ্যিক পোলট্রি খামার – লাভজনক খামার পরিচালনার ৫ টি  সেরা উপায়।

    বাণিজ্যিক পোলট্রি খামার – লাভজনক খামার পরিচালনার ৫ টি সেরা উপায়।

    আপনি কি বাণিজ্যিক পোলট্রি খামার শুরু করার কথা ভাবছেন? পোলট্রি ব্যবসায় সাফল্য গল্প এখন অতি পরিচিত আমাদের কাছে। তবে এই ব্যবসা শুরু করার আগে জেনে নিতে হবে পোলট্রি খামারের ৫ টি সাফল্যের রহস্য।

    কেনো পোলট্রি খামার একটি লাভজনক ব্যবসা

    একটি মুরগি খামার গড়ে তোলার আগে অবশ্যই আপনার জেনে নেয়া প্রয়োজন এটি কতটা লাভজনক হবে। বাস্তব জীবনের সাথে মিলিয়ে দেখলেই বিষয়টি আপনি বুঝতে পারবেন। আমাদের দেশের দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধির কারণে বেশিরভাগ মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটার মুরগীর মাংস এবং ডিম। ফলে আপনি যদি একটি পোলট্রি ফার্ম তৈরী করেন, তবে সেটার চাহিদা নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না।

    আর যেখানে পর্যাপ্ত চাহিদা আছে সেখানে সঠিক কৌশল অবলম্বন করলে অবশ্যই লাভ করা সম্ভব। তাছাড়াও তুলনামূলক অন্য ব্যবসার থেকে কম বিনিয়োগ করেই বেশ ভালো একটি লাভের পরিমাণ আপনি তুলে আনতে পারছেন অতি অল্প সময়ে। 

    নিশ্চয়ই এবার আপনার মনে আর সংশয় নেই যে পোলট্রি ব্যবসা কতটা লাভজনক।

    কীভাবে পোলট্রি খামার শুরু করলে লাভ পাবেন

    একটি সফল পোলট্রি খামার তৈরী করার প্রধান শর্ত হচ্ছে কৌশলগত পরিকল্পনা। আপনি যদি পোলট্রি খামার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাহলে এই বিষয়গুলো অবশ্যই পরিকল্পনায় রাখবেন। 

    জায়গা নির্বাচন 

    পোলট্রি খামারের জন্য জায়গা নির্বাচন করতে হলে আপনি যেগুলো দেখবেন তা হলো-

    • জায়গা যেনো একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে না হয়ম শহরের আশেপাশে হলে ভালো যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো। এতে শহরাঞ্চলের দোকানগুলোতে ডিম এবং মুরগী সরবরাহ করা সুবিধা হবে। গ্রামে বেশিরভাগ মানুষের বাড়িতে মুরগী থাকে বলে চাহিদা একটু কমে যেতে পারে। 
    • আবাসিক এলাকায় খামার স্থাপন করবেন না। কারণ এসব পোলট্রি খামার থেকে অনেক দুর্গন্ধ পাওয়া যায়।
    • তুলনামূলক কম দামে জমি পাওয়া যায় এমন জায়গা পাওয়ার চেষ্টা করবেন।

     

    খামারের অবস্থান

    • জায়গা নির্বাচন করার পর আপনাকে খামার স্থাপনের কাজে লেগে যেতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথম বিষয়টি হলো যেনো খামার উঁচু স্থানে হয়। বন্যাপ্রবণ এলাকা বলে পানি যেনো কোনোভাবেই ঢুকতে না পারে। তাছাড়াও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। 
    • বিদ্যুৎ এবং বিশুদ্ধ পানি থাকতে হবে।

     

    অর্থ-সংক্রান্ত বিষয়

    • ফার্ম শুরু করার আগেই বাজেটের বিষয়টি নিয়ে ভেবে নিতে হবে।
    • কতটুকু জায়গা আছে এবং তা কতগুলো মুরগীর জন্য বরাদ্দ করা যাবে এসব হিসেব করে বিনিয়োগ করতে হবে। 
    • তাছাড়াও আনুষঙ্গিক সকল খরচের বাজেট করে নিতে হবে।

     

    জাত নির্বাচন

    • এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। কোন জাতের মুরগীর ফার্ম করবেন তা আপনাকে অবশ্যই অনেক যাচাই বাছাই করে ঠিক করতে হবে যেনো ভালো জাতের পোলট্রি খামার করা যায়।

    দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ

    • ফার্মে যারা কাজ করবে তারা কতটুকু দক্ষ তা যাচাই করে নিতে হবে। পরিপূর্ণ দক্ষ না হলে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।ব্যবসার মূল লক্ষ্যই হলো পণ্য বিক্রয়। আর পোলট্রি পণ্য বাজারজাতকরণ তুলনামূলক সহজ। তাই এই কাজটি কীভাবে এগিয়ে নেবেন তা আগেই ঠিক করে নিন।

    পোলট্রি খামারের ব্যবস্থাপনা

    পোলট্রি খামার পরিচালনা প্রাথমিকভাবে সহজ মনে হলেও এখানে বেশ কিছু জটিল বিষয় রয়েছে। তাই সঠিক পরিকল্পনার পরে পোলট্রি ব্যবসা পরিচালনার কৌশল সম্পর্কেও আপনার জানতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার করণীয় হবে-

    • প্রথমত মুরগীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে কোনো মুরগী অসুস্থ আছে কিনা তা জানা যাবে।
    • কোনো মুরগী অসুস্থ হলে দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। 
    • ডিম উৎপাদনের লক্ষ্য থাকলে ব্রুডিং সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে।
    • খামারের তাপমাত্রা, আলো-বাতাস এসব ঠিক আছে কিনা তা দেখতে হবে।
    • মুরগীর খাবার পুষ্টিসমৃদ্ধ কিনা এবং ভ্যাক্সিনেশন ঠিকমত হয়েছে কিনা তা তদারকি করতে হবে।

    পোলট্রি খামার সফল করার জন্য মৌলিক বিষয়গুলো 

    পোলট্রি খামার সফল করার জন্য মৌলিক বিষয়গুলো 
    পোলট্রি খামার সফল করার জন্য মৌলিক বিষয়গুলো

     

    পোলট্রি খামারের মুনাফা বৃদ্ধির জন্য কিছু মৌলিক বিষয় আপনার অবশ্যই জেনে নেয়া উচিৎ যা আপনি পোলট্রি খামারের সাফল্যের রহস্য হিসেবেও বলতে পারেন। সেগুলো হলো-

    • মুরগীর জন্য সঠিক বাসস্থান নির্মাণ।
    • ভালো জাতের, উচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন মুরগী নির্বাচন।
    • মুরগীর জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং পুষ্টি উপানাদের ব্যবস্থা সঠিক ভাবে করা।
    • সময়মত ভ্যাক্সিনেশন এবং রোগ যেনো না হতে পারে এই ব্যাপারগুলো নিশ্চিত করা।
    • নিয়মিত মুরগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
    • ফার্ম সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা
    • বাজারের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং সে অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করা।

     

    পোলট্রি খামার পরিচালনা করার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো মেনে চললে আপনি অবশ্যই সফল হবেন।

     

    পোলট্রি খামার শুরু করার সমস্যা এবং সমাধানের উপায় 

    পোলট্রি খামারের আয় বৃদ্ধি করার জন্য এর সমস্যাগুলোও আপনার জেনে নেয়া প্রয়োজন যেনো আপনি এর সহজ সমাধান পেতে পারেন-

     

    • বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি বড় সমস্যা হলো দরিদ্রতা। একারণে ইচ্ছে থাকার পরেও অনেক তরুণ এ কাজে আসছেন না।
    • সুস্থ রোগমুক্ত বাচ্চার অভাবেও এই পোলট্রি খামারগুলো সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে না।
    • পোল্ট্রি খাদ্যের অত্যাধিক মূল্য থাকার কারণে অনেকের কাছে মূলধন থাকলেও তা দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারছেন না। শুধু খাদ্য নয়, টিকা এবং অন্যান্য সামগ্রীও মূল্যবান। এক্ষেত্রে লোন নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
    • পোল্ট্রি ফার্মের এসকল মুরগীর জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাজার নেই। তাই একটি নির্দিষ্ট বাজার করা প্রয়োজন যেনো খামারিরা তাদের ন্যায্যমূল্য পান।
    • অনেক সময় কিছু ডিম অস্বাভাবিক আকৃতির হওয়ায় এগুলোকে নকল বলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের খামারে যত ডিম উৎপাদন হয়, তার ২-৪% কিছুটা অস্বাভাবিক। তাই বাণিজ্যিক পোলট্রি খামারগুলো এ ব্যাপারে জনগণকে জানাতে পারে।
    • এছাড়াও পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ এবং দক্ষ জনবলের অভাবও লক্ষ করা যায়। এসব ক্ষেত্রে নজর দেয়া আবশ্যক।

     

    পোলট্রি ব্যবসা সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই জানলাম। তবে আপনি যদি এই ব্যবসা শুরু করার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে উল্লেখিত বিষয়গুলোর কোনোটিই বাদ দেয়া যাবে না। প্রয়োজনে আরও একবার ভালো করে দেখে নিন। নিশ্চিত থাকুন আপনি অবশ্যই লাভ পাবেন এই ব্যবসায়।

     

    FACEBOOK  PAGE