Blog

  • ফসলের প্রধান রোগ ও তাদের মোকাবেলার পদ্ধতি

    ফসলের প্রধান রোগ ও তাদের মোকাবেলার পদ্ধতি

     বর্তমানে বাংলাদেশে রোগ-ব্যাধি জনিত ফসলের ক্ষতি অত্যন্ত গুরুতর আকার ধারণ করেছে। একারণে ফসলের প্রধান রোগ ও তাদের মোকাবেলার পদ্ধতি সম্পর্কে জানা আবশ্যক।কৃষক ভাইদের সমস্যাগুলোর মধ্যে প্রধান সমস্যা হিসেবে পাওয়া যায় ফসলের রোগ-ব্যাধি। একারণেই ফসলের প্রধান রোগ ও তাদের মোকাবেলার পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা আলোচনা করব। 

    কেননা এই বিষয়টির কারণে এত আধুনিক প্রযুক্তি আসার পর বাংলাদেশে খাদ্য অভাব নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না

    ফসলের উপর বিভিন্ন রোগের প্রভাব

    বাংলাদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় এখানে বিভিন্ন ধরণের ফসল করা সম্ভব। যেমন, ডালজাতীয়, তেলজাতীয়, শস্যজাতীয়, ফল, বাদামসহ ইত্যাদি বিভিন্ন ফসলে গ্রাম-বাংলার মাঠ সর্বদা সবুজ থাকে।তারপরেও আমাদের খাদ্য আমদানি করতে হয় প্রচুর পরিমাণে। আর তার অন্যতম প্রধান কারণই হলো ফসলের রোগ-ব্যাধি। 

    ফ স লে র চারা বের হওয়া থেকে শুরু করে যতদিন মাঠে থাকে, প্রতিটি ধাপেই কোনো না কোনো রোগের আক্রমণ হয়। যার ফলে ফ স ল তোলার সময় উৎপাদন পাওয়া যায় খুবই কম।

     

    ফসলের প্রধান রোগগুলির পরিচিতি

    ফ.স.লে র রোগসমূহ যে আমাদের জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ তা আমরা দেখেছি। এখন আমরা জানব ফসলের প্রধান রোগ সম্পর্কে। কারণ রোগের প্রতিকার করতে হলে প্রথমে এ সম্পর্কে জানা আবশ্যক।

    ছত্রাকজনিত রোগ

    ফসলের রোগের কারণসমূহের মধ্যে ছত্রাকজনিত রোগের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে রয়েছে ফসলের পাতা পোড়া রোগ, ফসলের পাতায় দাগ, পাওডারি মিলডিউ বা পাতার উপর সাদা আস্তরণ ইত্যাদি।ছত্রাকজনিত রোগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো ধানের ব্লাস্ট রোগ যা প্রত্যেক বছর আমাদের প্রচুর পরিমাণ ধান নষ্ট করে দেয়। ফসলের বিভিন্ন পর্যায়ে এ রোগগুলো আক্রমণ করে।

    ভাইরাসজনিত রোগ

    ভাইরাসজনিত ফসলের রোগ এর মধ্যে রয়েছে পাতা কুঁচকানো রোগ, মোজাইক বা পাতায় হলদে-সবুজ রঙ হওয়া, গাছ নেতিয়ে পড়া বা মারা যাওয়া ইত্যাদি।ভাইরাসজনিত রোগগুলো মূলত কীটপতঙ্গের মাধ্যমে ছড়ায়। ভাইরাসের স্পোর বহনকারী এসব পোকা সুস্থ ফসলে বসলেই সেখানে আক্রমণ শুরু হয়।

     

    ব্যাকটেরিয়াল রোগ

    ব্যাকটেরিয়াল রোগগুলো মূলত ধানের পাতা এবং কান্ড উভয়কেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই জীবাণুর আক্রমণে পাতায় বাদামি দাগ পড়ে যা ক্রমান্বয়ে কালো হয়ে ঐ জায়গায় পঁচে যায়।প্রত্যেক ফসলেই কিছু না কিছু ব্যাকটেরিয়াল রোগ আছে যেগুলো ফসলের ক্ষতি করে সবচেয়ে বেশি। একারণেই ব্যাকটেরিয়াল রোগগুলো প্রতিরোধ করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 

    এছাড়াও এসকল রোগের লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে এজাতীয় বিস্তারিত বর্ণনা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিতে পারেন।

     

    ফসলের রোগ চিহ্নিতকরণ এবং সময়মত প্রতিকার

    ফসলের রোগ সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য আমরা জানলাম। এবার প্রয়োজন রোগের প্রতিরোধ এবং প্রতিকার। কৃষি প্রযুক্তি এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণে ফসলের ক্ষতি কমানো অনেকাংশে সম্ভব।কিন্তু রোগ হলে তার প্রতিকারস্বরূপ এবং রোগ যেনো বৃদ্ধি না পায় তার প্রতিরোধ স্বরূপ ফসলের কিছু পরিচর্যা প্রয়োজন। এখন আমরা সেগুলো নিয়েই আলোচনা করব-

    প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ প্রতিরোধের কৌশল

    কৃষকদের জন্য রোগ প্রতিরোধের কৌশল বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রথমেই বেছে নেয়া উচিৎ প্রাকৃতিক উপায়ে ফসলের রোগ-বালাই প্রতিরোধ।কারণ কীটনাশক ব্যবহার জমির স্বাস্থ্য এবং ফসলের রোগ দুটোকেই প্রভাবিত করে। আর অতিরিক্ত কীটনাশক বা রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহারে এক পর্যায়্র ঐ জীবাণু ঐ ঔষধের প্রতি সহনশীল হয়ে ওঠে।ফলস্বরূপ ঐ ঔষধ আর কাজ করে না তেমন। একারণে জমির পুষ্টি ঠিক রাখতে হবে সবার আগে। পাশাপাশি, ফসলে পরিমিত জৈব সার প্রয়োগ কর‍তে হবে যেনো প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি পায়।

    মিশ্র ফসল চাষ এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা

    ফসলের রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ করার একটি উত্তম উপায় হলো মিশ্র ফসল চাষ। একই জমিতে দুই বা তিনটি ফসল থাকলে তা বেশ উপকারী হয়। যেমন পেয়াজ চাষের সময় এর সাথে সরিষা বা কালোজিরা জাতীয় ফসল অল্প পরিমাণে চাষ করা যায়। এর ফলে হোস্ট বা জীবাণুর নির্দিষ্ট ফসলের সাথে মিশ্রণ থাকায় এরা বেশি সুবিধা করতে পারে না। ফলে রোগ কম হয়।

    জৈবিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং তাদের প্রয়োগ

    ফসলের রোগের জৈবিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে অনেক কৃষক ভাই জানেন না। তাই তাদের জন্য এ পদ্ধতি এবং জৈব বালাইনাশক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি আবশ্যক।জৈব বালাইনাশক মূলত প্রস্তুত করা হয় উদ্ভিদ বা প্রাণির অংশ থেকে। একইসাথে, যেসকল শিকারী পোকামাকড় আছে যারা ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে শেষ করে এদের ব্যবহারও আবশ্যক।

    ফ.স.লে.র রোগসমূহ আমাদের জন্য কতটা ক্ষতিকর এ সম্পর্কে আমরা ইতোমধ্যে জেনে গেছি। কৃষক ভাইয়েরা এ বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন তাদের ফসলের মাঠে। 

     

    তাই ফসলের রোগ মোকাবেলা করতে উপর্যুক্ত পদ্ধতিগুলো অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে। এতে আমাদের খাদ্য আমদানির প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশেই কমে যাবে। 

    Facebook page

  • সফল মৎস্য খামারীদের ৫টি মূলমন্ত্র: কীভাবে তাঁরা সফল হলেন

    সফল মৎস্য খামারীদের ৫টি মূলমন্ত্র: কীভাবে তাঁরা সফল হলেন

    মৎস্য খামারে উন্নতি করতে হলে অবশ্যই জানতে হবে সফল মৎস্য খামারীদের ৫টি মূলমন্ত্র যার সঠিক ব্যবহার আপনার ব্যবসার প্রসার শতভাগ নিশ্চিত করবে।মৎস্য খামার নিয়ে যদি দুশ্চিন্তায় থাকেন, তবে আপনার জন্য উপযোগী হবে সফল মৎস্য খামারীদের ৫ টি মূলমন্ত্র।কেননা এগুলো জানার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন, কীভাবে পরিচালনা করলে খামার থেকে আরও বেশি লাভ অর্জন করতে পারবেন আপনি। তাই আজ এ প্রসঙ্গে বিষদ আলোচনা করব আমরা।

    মৎস্য ব্যবসায়ের গুরুত্ব ও সাফল্যের প্রেক্ষাপট

    বর্তমানে মৎস্য ব্যবসা বেশ উল্লেখযোগ্য এবং লাভজনক একটি ব্যবসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একারণে গ্রামাঞ্চলে অনেকে নিজের পুকুর না থাকলেও অন্যের পুকুর লীজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন। তবে এই ব্যবসায়ে সাফল্য আসলেও তা কৌশল নির্ভর। ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে ভালো উপার্জন করতে হলে আপনাকে জানতে হবে মৎস্য ব্যবসার মূলনীতি। 

    আর এই মূলনীতির প্রয়োগই হলো মৎস্য ব্যবসায়ের সাফল্যর মূলমন্ত্র। নিচে আমরা ভাগে ভাগে সফল মৎস্য খামারীদের মূলমন্ত্রগুলো উপস্থাপন করেছি যা খামার উন্নয়নে আবশ্যক।

    সফল মৎস্য খামারীদের ৫টি মূলমন্ত্র

    এখন আমরা জেনে নেবো সফল মৎস্য খামারীদের ৫ টি মূলমন্ত্র যা প্রয়োগ করে তারা ব্যবসায় সাফল্য পেয়েছেন।

     মৎস্য খামারের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা

    সফল মৎস্য খামারের কৌশল সমূহের মধ্যে প্রধান হলো সঠিকভাবে প্রাথমিক প্রস্তুতি গ্রহণ। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো-

    • মাছের জন্য পুকুর খনন করার পদ্ধতি সঠিকভাবে জানা।
    • মাছের জাত এবং সঠিক জাতের পোনা নির্বাচন
    • মাছের পোনা ছাড়ার সঠিক সময় জেনে তা অবমুক্তকরণ
    • সঠিকভাবে পোনার পরিচর্যা করা
    • পানির গুণাগুণ সঠিকভাবে রক্ষা করার উপায় জানা
    • মাছের খাদ্য সম্পর্কে বিষদ ধারণা রাখা
    • নিয়মিত এবং পরিমিত হারে খাবার দেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানা

    এসব বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে এবং যথাযথ পরিকল্পনা করে তবেই মৎস্য খামার গড়ে তোলা আবশ্যক।

     উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

    এরপর, মৎস্য খামার পরিচালনার টিপস হিসেবে দ্বিতীয় ধাপ হলো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার। আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে হলে এই বিষয়টি আবশ্যক।বর্তমানে Recirculating aquaculture system ev RAS,   বায়োফ্লক বটমক্লিন রেসওয়ে সিস্টেম, ইনপন্ড রেসওয়ে সিস্টেম ইত্যাদি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে আইপিআরএস পদ্ধতি বেশি পরিচিতি পাচ্ছে যেখানে কম পানিতে বেশি সংখ্যক মাছ চাষ করা যায়।

    এছাড়াও অন্যান্য প্রযুক্তিগত মেশিন যেমন পানিতে অক্সিজেন বৃদ্ধির জন্য অ্যারেটার, অটোমেটিক ফিডার ইত্যাদি মাছের উন্নয়নের লাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং খামারীরা বেশ লাভ পাচ্ছেন এগুলো থেকে।

     লাভজনক মৎস্য খামারের আর্থিক পরিকল্পনা

    এবার আসা যাক তৃতীয় ধাপে। মৎস্য খামারে লাভ করতে চাইলে অবশ্যই খামারের সঠিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা মেনে চলতে হবে। নয়ত মৎস্য ব্যবসার আর্থিক লাভ করা সম্ভব না।মৎস্য খামারের প্রসার করতে হলে আপনাকে বুঝতে হবে কীভাবে রোগমুক্ত স্বাস্থ্যবান মাছ উৎপাদন করা যায়। এক্ষেত্রে খাদ্য, পানির গুণাগুণ, পানিতে অক্সিজেন এর পরিমাণ ইত্যাদি নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।

    আর এসব কাজে কী পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে সে বিষয় সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকতে হবে। প্রয়োজনে আপনি যেকোনো জায়গা থেকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। খরচ কমাতে পারলে ব্যবসায় লাভ করা সম্ভব।

     মৎস্য খামারের বাজারজাতকরণ 

    খামারী দৃষ্টিকোণ থেকে সফলতার মাপকাঠির অন্যতম বিষয় হলো খামারের বাজারের চাহিদা বোঝা। আপনাকে প্রথমেই জানতে হবে আপনি যে মাছ চাষ করতে চাচ্ছেন, তা কতটা বাজার উপযোগী।স্থানীয় বাজার থেকে শুরু করে অন্যান্য বাজারে এর জন্য কী পরিমাণ লাভ আপনি করতে পারবেন এসব বিচার করতে হবে। একইসাথে, উৎপাদিত মাছ দ্রুততর সময়ে বাজারে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এভাবে বাজারজাত করতে পারলে বেশ ভালো লাভ করা সম্ভব।

    মৎস্য খামারের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ

    সর্বশেষ, মৎস্য খামারে সাফল্য লাভের উপায় হলো ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ। আজ যতটুকু জায়গায় আপনি মৎস্য চাষ করছেন, তার থেকে অবশ্যই ক্রমান্বয়ে ব্যবসা বৃদ্ধি করতে হবে।আর উপর্যুক্ত চারটি পদ্ধতি অনুসরণ করলে বুদ্ধি কিংবা কৌশল খাটিয়ে সহজেই আপনি মৎস্য খামারের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ কর‍তে সফল হবেন। এখানে মূলত আপনার কৌশলই আপনার হাতিয়ার।

    একজন সফল খামারীর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

    সফল মৎস্য খামারীদের
    সফল মৎস্য খামারীদের

    এতক্ষণ তো আমরা মৎস্য খামারে সফলতার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানলাম। এখন একজন সফল মৎস্য খামারীর দৃষ্টিকোণ থেকে জেনে নেয়া যাক মৎস্য খামারের উদ্যোক্তা পরামর্শ।একজন খামারীর বাস্তব অভিজ্ঞতা জানতে আমরা বেছে নিয়েছি হাকিম আলীকে যার বর্তমানে ২০ হেক্টর জায়গায় ৩৬ টি পুকুর রয়েছে। তিনি দেশ-বিদেশ ঘুরে বিভিন্ন ফার্ম পর্যবেক্ষণ করেছেন শুধু তার চাষের উন্নতির জন্য।

    উপর্যুক্ত আলোচনায় আমরা যে বিভিন্ন মৎস্য প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছি তার প্রায় সব কটিই তিনি ব্যবহার করেন তার মাছের ফার্মে। এই সফল খামারীর পরামর্শ থেকে বেশ কিছু দিক সম্পর্কে আমর নির্দেশনা পাই। নিচে সেগুলো উল্লেখ করা হলো-

    • মাছ চাষ শুরু করার পূর্বেই সঠিক পরিকল্পনা করে নেবেন।
    • কোন জাতের মাছ কীভাবে চাষ করব্রন এবং বাজারজাতকরণ করবেন সে সম্পর্কিত বিস্তারিত ধারণা নিয়ে শুরু করবেন।
    • মাছের পরিচর্যা সঠিকভাবে করতে হবে।
    • মাছ চাষে অবশ্যই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, নয়ত এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। 
    • মাছের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে যথাযথভাবে।

    মাছ চাষে সাফল্যের গল্প থেকে এসব সম্পর্কে আমরা জানতে পারি।

    মৎস্য চাষ বর্তমানে খামারীদের জন্য নতুন অর্থ উপার্জনের পথ তৈরী করেছে যা বেশ সফল একটি ব্যবসা হিসেবেই পরিগনিত হচ্ছে।তাই আপনিও যদি এ ক্ষেত্রে উদ্যোগী হন, তবে অবশ্যই সঠিক পন্থায় ব্যবসা শুরু করতে হবে। এতে সাফল্য অবশ্যই আসবে। অন্যথায়, সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি।

    facebook page

  • ফসলের রোগ-বালাই: প্রাকৃতিক উপায়ে প্রতিরোধের কৌশল

    ফসলের রোগ-বালাই: প্রাকৃতিক উপায়ে প্রতিরোধের কৌশল

    বর্তমানে সচেতন কৃষক যারা তারা ফসলের রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক উপায়ে প্রতিরোধের কৌশল সম্পর্কে জানতে চান। কেননা এতে একদিকে যেমন ফলন বাড়ে, তেমনি বেশ ভালো পরিমাণ ফলনও পাওয়া যায়।ফসলের রোগ-বালাই নিয়ে যদি আপনিও দুশ্চিন্তায় থাকেন তবে অবশ্যই আপনার জেনে নেয়া উচিত প্রাকৃতিক উপায়ে প্রতিরোধের কৌশল। কারণ এসব কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

    তাই এখন আমরা এ সম্পর্কে বিষদভাবে জানব যেনো আমাদের কৃষক ভাইয়েরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

    ফসলের রোগ-বালাই: কৃষিতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ

    ফসলের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে কৃষক ভাইয়েরা দুশ্চিন্তায় দিন পার করেন, কারণ বর্তমানে এটি কৃষিক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের প্রায় ১৫-২০% ফসল নিয়মিত নষ্ট হয় রোগ-ব্যাধি এবং পোকামাকড়ের আক্রমণে। যার ফলে, বাংলাদেশ কৃষি এতটা উন্নত হওয়ার পরেও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারছে না। একইসাথে, অনেক কৃষককেই লোকসান গুণে বেশ মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

    পাশাপাশি, উৎপাদন কম থাকায় সাধারণ জনগণও ন্যায্যমূল্যে খাদ্য কিনতে পারছে না। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে নাভিশ্বাস উঠেছে সবারইম তাই ফসলের রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি।

    প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ প্রতিরোধের গুরুত্ব

    উপরিউক্ত অংশ থেকে আমরা দেখেছি, রোগ-ব্যাধির কারণে আমাদের কৃষি কতটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। তাই কৃষি ক্ষেত্রে কর্মরত বিজ্ঞানী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এখন মূল উদ্দেশ্য ফসলের রোগ-বালাই চিহ্নিতকরণ এবং ফসলের রোগ-বালাইয়ের বিরুদ্ধে জৈব লড়াই।

    কিন্তু কেনো জৈব লড়াই? কেননা বর্তমানে ফসলের রোগ বেশি। তাই কীটনাশকের পরিমাণও বেড়েছে। এত বেশি কীটনাশক ব্যবহারের ফলে খাদ্য দূষিত হয়ে যাচ্ছে। 

    তাৎক্ষণিক আমরা বুঝতে না পারলেও বেশ দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ছে শরীরে যা ক্যান্সার জাতীয় ভয়াবহ রোগের রূপ নিচ্ছে। একারণেই প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ করাই এখন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

    জৈবিক বালাইনাশক ব্যবহার এবং এর কার্যকারিতা

    ইতোমধ্যে, আমরা জেনেছি প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ কতটা জরুরী। আর তার অন্যতম একটি অংশ হলো জৈবিক বালাইনাশক। ছত্রাকজনিত রোগ প্রতিরোধ, ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে।জৈব বালাইনাশক তৈরী করা হয় উদ্ভিদ বা প্রাণির জৈব অংশ থেকে। ফলে এর থেকে কোনো দূষণ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকেনা। প্যাকেটজাত উপায়ে বাজারে এগুলো বিক্রি হয় যা বিভিন্ন রোগে উপকারী।

     

    প্রাকৃতিক সার এবং ফসলের রোগ প্রতিরোধ

    ফসলের রোগ-বালাই
    ফসলের রোগ-বালাই

    জমিতে পরিমিত ফসল পেতে চাইলে এবং রোগ-ব্যাধি কমাতে চাইলে কম্পোস্ট এবং প্রাকৃতিক সার ব্যবহার অত্যন্ত উপযোগী একটি পদক্ষেপ। বর্তমানে বাংলাদেশে একটি উন্নত জৈবিক প্রযুক্তি এসেছে যার নাম “ভার্মিকম্পোস্ট”। এটি মূলত এক ধরণের জৈব সার যা কেঁচোর সংমিশ্রণ এর মাধ্যমে তৈরী করা হয়।

    জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে এটি খুবই উপকারী বলে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন। তাই প্রাকৃতিক অন্যান্য জৈব সার এর পাশাপাশি ভার্মিকম্পোস্ট প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশ বাড়ানো যায়।

    বায়োকন্ট্রোল এবং তার কার্যকারিতা 

    বায়োকন্ট্রোল বলতে মূলত বোঝায় ফসলের মাঠে এমন কোনো পোকার উপস্থিতি প্রয়োগ করা যা ক্ষতিকর পোকাকে খেয়ে শেষ করে, কিন্তু নিজে ক্ষতি করে না ফসলেএমন একটি পোকা হলো “লেডি বার্ড বিটল”। এটি ফসলের মাঠে আপনি অবশ্যই দেখে থাকবেন। এর শরীরের উপরের অংশ লাল এবং তাতে কালো ছোপ ছোপ দাগ থাকে। 

    এরা জাব পোকার মত ক্ষতিকারী পোকাকে খেয়ে ফেলে। কিন্তু ফসলের ক্ষতি করে না। এ জাতীয় পোকা যদি আপনার ক্ষেতে থাকে, তবে জাব পোকাজাতীয় ছোট পোকা মারার জন্য কোনো কীটনাশক দরকার হবে না।

    অনেকে তো আবার কৃষি বিজ্ঞানীদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করা লেডি বার্ড বিটল ছেড়ে দেন তার ক্ষেতে।

    জমির রোগ প্রতিরোধে মিশ্র ফসল চাষ

    এতক্ষণ আমরা বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনেছি। এবার একটু ভিন্ন উপায় সম্পর্কে জানব যা ফসলের মাঠে বেশ উপযোগী। বলতে পারেন, ফসল দিয়েই পোকা তাড়ানোর পদ্ধতি।এ পদ্ধতিকে কৃষি বিজ্ঞানীরা তাদের ভাষায় “রিপেলেন্ট” বলে থাকেন যার অর্থ দূর করা। এটি মূলত কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক কৌশল যেখানে ফসলের মাঠের চারপাশ দিয়ে গাদা ফুল, বেসিল, ল্যাভেন্ডার ইত্যাদি গাছ লাগিয়ে দেয়া হয়।আমাদের দেশে ল্যাভেন্ডার তেমন প্রচলিত নয়। বেসিল এবং গাদা ফুলই সবচেয়ে প্রচলিত। এসব গাছের ওষধি তীব্রতার কারণে এদের আশপাশে পোকা আসতে পারে না। বিশেষত, প্রাকৃতিক কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ বিজ্ঞানীরা সমর্থন করেন।

    ফলে এসব গাছ আশপাশ দিয়ে লাগিয়ে দিলে পোকা কীটপতঙ্গ দূর করা যায়। আর পোকা দূরে থাকলে রোগের পরিমাণও কমে যায়। কেননা পোকাই হলো ব্যাধির সবচেয়ে বড় বাহক।

    রোগ প্রতিরোধে মাটির স্বাস্থ্য ও পুষ্টির গুরুত্ব

    এরপর, মাটির গুণাগুণ নিয়ে কিছু জানা যাক। উদ্ভিদ রোগ প্রতিরোধের জৈবিক উপায় যেগুলো আছে তার মধ্যে এটি সর্বপ্রথম ধাপ। এই প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধের কৌশল অবলম্বনে শুধু যে পোকা দূরীভূত হবে তা নয়, বরং ফলনও বাড়বে। অর্গানিক ফার্মিং ও ফসলের রোগ প্রতিরোধ করতে হলে মাটির স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ মাটির পুষ্টিমান হতে হবে সর্বোচ্চ।

    যে জমিতে ফসল ফলানো হবে তার মাটি যদি উন্নত হয় এবং পিএইচ মান যদি নিরপেক্ষ বা হালকা ক্ষারীয় হয়, তবে সেখানে জীবাণু সুবিধা করতে পারে না। একইসাথে, ফসলের অভ্যন্তরীণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। যেমনটা আমাদের ক্ষেত্রে হয়। ঠিকমত খাবার খেলে আমরা যেমন সুস্থ থাকি, ঠিক তাদের ক্ষেত্রেও এমনি।

    তাই মাটির পুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে। এতে আপনার খরচও কম হবে, অতিরিক্ত সার কীটনাশক কেনার টাকা সাশ্রয় হবে। তাই জমির রোগ নিয়ন্ত্রণে জৈবিক পদ্ধতি অবশ্যই অবলম্বন করুন।

    সর্বশেষ বলা যায়, এই বিষদ আলোচনার মাধ্যমে আমরা বুঝলাম যে কৃষকদের জন্য জৈবিক প্রতিরোধ পদ্ধতি সবচেয়ে উপযোগী। পাশাপাশি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও এই রোগ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি আবশ্যক।কেননা, এসকল কীটনাশক এবং ভেজালের প্রভাব আমাদের শরীরে বেড়েই চলেছে। আর এসব কারণেই ক্রমেই আমরা দুরারোগ্য ব্যাধিতে বেশি আক্রান্ত হয়ে পড়ছি।

    তাই প্রাকৃতিক প্রতিরোধমূলক পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমেই যেনো কৃষক ভাইয়েরা ফসল উৎপাদন করতে পারে সেই কাজেই আমরা তাদের উৎসাহী করব এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য করব।

    facebook page

  • অল্প বিনিয়োগে সফল পোলট্রি খামারী হওয়ার কৌশল

    অল্প বিনিয়োগে সফল পোলট্রি খামারী হওয়ার কৌশল

    অল্প বিনিয়োগে সফল পোলট্রি খামারী হওয়ার কৌশল জানতে হলে আপনাকে পোলট্রি ফার্ম সম্পর্কিত বিষদ জ্ঞান রাখতে হবে। কেননা পোলট্রি ব্যবসা সহজ হলেও এটা বেশ কৌশলী একটি ব্যবসা। তাই প্রত্যেকটি ধাপেই সচেতন থাকতে হবে।খামারীদের কাছে সবচেয়ে আগ্রহের বিষয় হলো অল্প বিনিয়োগে সফল পোলট্রি খামারী হওয়ার কৌশল। কেননা যারা খামার শুরু করেন তাদের মধ্যে অধিকাংশেরই পুঁজির পরিমাণ থাকে খুব অল্প। সার্বিক দিক দিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল থাকায় অর্থ সংকুলান করা কষ্টকর হয়।

    অনেকে আবার ধার দেনা করেও পোলট্রি খামার শুরু করেন৷ সেক্ষেত্রে বাধ্য হয়েই অল্প বিনিয়োগে পোলট্রি খামার ফার্ম শুরু করতে হয়। এমতাবস্থায়, এই সংক্ষিপ্ত বিনিয়োগ থেকেই ভালো লাভ পাবার কৌশল জানতে হবে। 

    পোলট্রি খামার শুরু করার প্রস্তুতি

    পোলট্রি খামার সস্তায় শুরু করতে চাইলে অবশ্যই তার জন্য সঠিক প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রস্তুতির এই পর্যায়েই মূলত আপনার সাফল্য বিদ্যমান। কেননা খামার নির্মাণের সময় যদি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ না করেন তবে ভবিষ্যতে তা আপনার খরচ বৃদ্ধির কারণ হবে।

    পোলট্রি খামার শুরু করার টিপস হলো আপনাকে খামারের জন্য উত্তম জায়গা নির্বাচন করতে হবে যা মুরগির জন্য স্বাস্থ্যকর। এতে আপনার মুরগির রোগব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব হবে। ফলে কম খরচে পোলট্রি ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে। 

    একইসাথে, এমন জায়গায় খামার নির্মাণ করার চেষ্টা করতে হবে যেনো সরবরাহ করতে সুবিধা হয়। এতে পরিবহন খরচ কম হবে, ফলে আপনার খরচের থেকে আয় বৃদ্ধি পাবে। 

    এভাবে পোলট্রি খামার শুরু করার পদ্ধতি থেকেই শুরু হবে আপনার খামারী হওয়ার সেরা পরিকল্পনা।

    পোলট্রি খামারে খরচ কমানোর উপায়

    পোলট্রি খামারে খরচ কমাতে হলে খামারে সাশ্রয়ী কৌশল অবলম্বন করতে হবে। পোলট্রি খামারের পরিকল্পনা ও বাজেট বিষয়টির মধ্যে এটি সম্পর্কিত।খামার ব্যবস্থাপনার সময় আপনাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে বিভিন্ন খাত থেকে খরচ বাঁচানোর জন্য। এর কিছু উপায় নিচে উল্লেখ করা হলো-

    • আপনার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খামার পরিচালনা সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। এতে আপনি অন্য কাজে ব্যস্ত থাকলেও বাইরে থেকে লোক নিয়োগ করতে হবে না। ফলে এক্ষেত্রে খরচ বাঁচানো সম্ভব।
    • খামারের মুরগির ভ্যাক্সিনেশন অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে মুরগির চিকিৎসা এবং ঔষধজনিত খরচ বেঁচে যাবে।
    • মুরগির জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টিকর এবং সুষম খাদ্যের ব্যবস্থাপনা করতে হবে। যেনো খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে মুরগি তার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এতে বিক্রির সময় ভালো লাভ করতে পারবেন, ডিম বেশি হবে এবং মুরগির ব্যবস্থাপনা খরচ কমবে। 
    • মুরগি নিয়মিত ভাবে সঠিক পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। এতে কোনো মুরগির অসুখ হলেও ছড়াতে পারবে না এবং আপনার খরচ কমে যাবে। 
    • এছাড়াও, মুরগির ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সবকিছু মেনে চলতে হবে। এটি নিয়ে আমাদের ওয়েবসাইটে একটি আর্টিকেল আছে যেখানে এগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণিত। চাইলে সেগুলো দেখে নিতে পারেন। 

    লাভজনক খামার চালানোর জন্য ব্যবসায়িক পরিকল্পনা 

    পোলট্রি ব্যবসা স্বল্প পুঁজি দিয়ে পোলট্রি খামারে লাভের কৌশল হলো মূলত সফল পোলট্রি খামারী হওয়ার কৌশল। আর ব্যবসায়িক পরিকল্পনা হলো খামারের প্রচার বৃদ্ধি করা। এক্ষেত্রে অর্গানিক ফার্ম গড়ে তুললে আপনি দ্রুত প্রচার করতে পারবেন। কেননা বর্তমানে অর্গানিক ফার্মের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি দেখা যায়। এ সম্পর্কে যদি আপনি না জেনে থাকেন, তবে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত জেনে নিবেন। পাশাপাশি, দোকানীদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে যেনো তারা আপনার পণ্য নিতে পারে। এভাবে নিজের ব্যবসা প্রচার করার পরিকল্পনা বা ব্যবস্থা করতে হবে। 

    পোলট্রি খামারের ঝুঁকি ও সমাধান

    খামারে কম বিনিয়োগে বেশি লাভ করতে হলে আপনাকে বুঝতে হবে পোলট্রি ব্যবসা শুরু করার সেরা সময় কোনটি। পাশাপাশি কেনো এই সময়টাই সেরা এবং অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থা কীভাবে করা যায় সেগুলোও বুঝতে হবে-

    • শীতকালে কম তাপমাত্রার কারণে মুরগির কিছুটা জড়তা থাকে। এরা খাদ্য গ্রহণ করে কম। ফলে বাড়েও কম। আবার এই আবহাওয়ায় তারা তুলনামূলক কম ডিম দেয়। খামার যেহেতু বাচ্চা মুরগি দিয়েই শুরু করতে হয়, তাই শীতকালে কোনোভাবেই শুরু করা যাবে না। অনেক বাচ্চা মুরগি শীতকালে মারা যায়। আবার অতিরিক্ত গরমও সুবিধাজনক নয়, এজন্য শীত চলে যাওয়ার পর ফেব্রুয়ারী মার্চ সময়টা খামার তৈরীর সবচেয়ে ভালো সময়।
    • খামারে মুরগির খাদ্যের সমস্যা হলে মুরগির ঠিকমত ডিম এবং মাংস উৎপাদন করে না। অনেকে খাবার বেশি দেন, কিন্তু তাতে পুষ্টিকর খাবারের পরিমাণ থাকে কম। এই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। খাবার সুষম হওয়া আবশ্যক যেখানে আমিষ, কার্বোহাইড্রেট সহ সবকিছু সুষম পরিমাণে থাকবে। পোলট্রির চিকিৎসা বিষয়ে যেকোনো কাজ পশু ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তবেই করতে হবে। অন্যথায়, এতে মুরগীর স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
    • মুরগী যেনো অতিরিক্ত গরমে বা ঠান্ডা মারা না যায় সেজন্য মুরগীর ঘরের তাপমাত্রা সর্বদা স্বাভাবিক অর্থাৎ ২৫° সেলসিয়াস রাখতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

    বিষয়গুলো মেনে চললে পোলট্রি খামারের মূল ঝুঁকিগুলো এড়ানো সম্ভব।

    পোলট্রি খামারে স্বল্প পুঁজি নিয়ে সফলতা লাভ করতে হলে তার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম এবং বুদ্ধির প্রয়োগ ঘটানো আবশ্যক। কেননা প্রতিযোগীতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে নিজেকে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। 

    তাই আশা করা যায়, খামারী ভাইয়েরা যদি এই নীতিগুলো অনুসরণ করেন, তবে তারা অবশ্যই সাফল্য পাবেন এই কাজে।  পাশাপাশি খামার বৃদ্ধিও করতে পারবেন অতি দ্রুত।

     

  • উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি

    উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি

    বর্তমান যুগে প্রযুক্তির উন্নয়ন আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে কৃষি এবং মৎস্য চাষের ক্ষেত্রে, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ফিচারে আমরা আলোচনা করব কীভাবে বিভিন্ন প্রযুক্তির সাহায্যে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়।

     বায়োফ্লক প্রযুক্তি

    বায়োফ্লক প্রযুক্তি একটি উদ্ভাবনী পদ্ধতি যা মৎস্য চাষে ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিতে মাছের পুকুরে খাদ্যের জন্য অণুজীব উৎপন্ন হয়। এটি মাছের খাদ্য ও স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করে। বায়োফ্লক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয় এবং খাদ্য খরচ কমে আসে। এই প্রযুক্তি মাছ চাষে বিদ্যমান জলবায়ু ও পরিবেশগত সমস্যাগুলি কাটিয়ে উঠতে সহায়ক।

     জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ

    জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। এটি পুকুরে এবং জলাশয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখে। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ করা যায়, যা পরবর্তীতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। উদাহরণস্বরূপ, ডিএনএ বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে মৎস্যের প্রজাতি চিহ্নিত করা এবং তাদের সঠিক চাষ পদ্ধতি প্রণয়ন করা সম্ভব।

    সঠিক খাদ্য সরবরাহ

    মাছের স্বাস্থ্য এবং বৃদ্ধির জন্য সঠিক পুষ্টি অপরিহার্য। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সঠিক খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। উদ্ভাবিত পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য তৈরির জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন করা হচ্ছে। এই খাদ্যগুলো মাছের বৃদ্ধির হার বাড়ায় এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সহায়ক।

     

    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা

    জলবায়ু পরিবর্তন মৎস্য চাষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উন্নত প্রযুক্তি, যেমন স্যাটেলাইট ডেটা বিশ্লেষণ এবং মডেলিং টুলস, মৎস্য চাষীদের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বুঝতে এবং তার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে চাষীরা সঠিক সময়ে মাছ চাষের পরিকল্পনা করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।

    স্মার্ট অ্যাকোয়া সংস্কৃতি

    স্মার্ট অ্যাকোয়া সংস্কৃতি প্রযুক্তি মাছের উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম। এতে সেন্ট্রালাইজড সেন্সর ব্যবহার করে পুকুরের পানির গুণগত মান, তাপমাত্রা, অক্সিজেনের মাত্রা ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মাধ্যমে মাছের জন্য আদর্শ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছের স্বাস্থ্য ও উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়।

    ডিজিটাল মার্কেটিং

    উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাছের বিক্রির প্রক্রিয়াও সহজতর হয়েছে। ডিজিটাল মার্কেটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মৎস্য চাষীরা সরাসরি গ্রাহকদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এর মাধ্যমে মাছের বিক্রি বাড়ানো এবং চাষীদের আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব। অনলাইন মার্কেটপ্লেসে মাছ বিক্রির ফলে চাষীরা তাদের উৎপাদনকে আরও ভালোভাবে বিক্রি করতে সক্ষম হচ্ছে।

    গবেষণা ও উন্নয়ন

    মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন অপরিহার্য। নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলোর সহযোগিতায় নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা এবং সেগুলোকে চাষিদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। এতে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর নতুন নতুন উপায় বের হবে।

     উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি একটি সম্ভাবনাময় পথ। এটি শুধু মাছের উৎপাদনই নয়, বরং মৎস্য খাতের অর্থনৈতিক অবস্থাও উন্নত করতে সক্ষম। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আমাদের এই খাতকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্মের জন্য এটি টেকসই ও লাভজনক হয়। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং চাষিদের জন্য সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহায়তা।

     

  • ফসলের রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ: সফল কৃষকদের কৌশল

    ফসলের রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ: সফল কৃষকদের কৌশল

    ফসলের রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ কৃষকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যার জন্য প্রত্যেক বছর গুণতে হচ্ছে বেশ বড় অঙ্কের লোকসান। তাই ফসলের রোগ নিয়ন্ত্রণে জানতে হবে সফল কৃষকদের কৌশল।ফসলের রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ করতে কি আপনারও হিমশিম খেয়ে যেতে হচ্ছে? তবে জেনে নিন সফল কৃষকদের কৌশল। জমিতে পোকা-মাকড় এবং রোগ-ব্যাধির জন্য কৃষক ভাইদের বেশ সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের প্রত্যেক বছরই। 

    আর একারণেই এসব সমস্যার সমাধানে কৃষক ভাইদের সহযোগীতার জন্য আমরা সফল কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করে জেনেছি তাদের পন্থা। কেননা ফসলের রোগ-বালাই মোকাবেলায় কৃষকদের ভূমিকাই সবচেয়ে অগ্রগণ্য। এগুলো সম্পর্কেই বিস্তারিত জানব আমরা এখন-

     

    ফসলের সাধারণ রোগ-বালাই ও তাদের প্রভাব

    ফসলের রোগ-বালাই সম্পর্কে জানার আগে প্রথমে আমাদের জানতে হবে সাধারণ রোগগুলো কী কী এবং ফসলের উপর তাদের প্রভাব কেমন বা কতটা ক্ষতিকর।এই বিষয়টি মূলত ফসলের রোগ নির্ধারণ পদ্ধতি হিসেবে পরিগণিত হয়। আর ফসলের রোগ নিরাময়ের টিপস জানার মূল মন্ত্রই হলো এই বিষয়।

    বিভিন্ন কারণে ফসলের রোগ-ব্যাধি হয়ে থাকে। যেমন: ছত্রাক, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পোকামাকড় ইত্যাদি। ফসলের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভালোভাবে বুঝতে হলে এসব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে।উদাহরণস্বরূপ, গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া, বাদামি দাগ পড়া ইত্যাদি দেখলে বুঝতে হবে যে ছত্রাকজনিত রোগ দমন কিংবা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ মোকাবেলা করতে হবে।

    আবার অন্যদিকে, কুঁচকানো পাতা কিংবা নেতিয়ে পড়া গাছ দেখলে প্রাথমিক আন্দাজ করা যায় যে তাতে ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা আবশ্যক। সফল কৃষকদের সফলতার মূল মন্ত্রই এটি যে তারা দেখামাত্র প্রাথমিক আন্দাজ করতে পারেন গাছের রোগ সম্পর্কে। এজন্য তৎক্ষনাৎ ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হন।

    ফসলের রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক কৌশল

    ফসলের রোগ-বালাই এর প্রারম্ভিক বিষয় তো আমরা জেনে নিয়েছি। তবে এই রোগ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণের বেশ কিছু ধাপ আছে বলে কৃষক ভাইয়েরা আমাদের জানিয়েছেন। এর মধ্যে প্রাথমিক কৌশলটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমেই, আপনাকে মাটির পুষ্টিগুণের বিষয়টি দেখতে হবে। মাটির স্বাস্থ্য এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ পরস্পর সম্পর্কিত। ফসলের পরিচর্যা কৌশল সঠিকভাবে জানলে কী পরিমাণ পুষ্টি বা অন্যান্য জিনিস দরকার তা বোঝা যায়।

    ফলে ফসলের পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিত হয়। কেননা ফসল যখনই মাটি থেকে পরিপূর্ণ পুষ্টি নিতে পারে, তখন অতিরিক্ত সার প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না। ফলে রোগ-ব্যাধি নিয়ন্ত্র সহজ হবে। এছাড়াও ফসলের জমিতে পানিতে জমতে না দেয়া, কোনো গাছ অস্বাভাবিক দেখলেই তা তুলে ফেলা ইত্যাদি মাধ্যমে রোগ-প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    ফসলের রোগ প্রতিরোধে জৈবিক পদ্ধতি

    মাটির পুষ্টিগুণ নিয়ন্ত্রণের পর আসে জৈবিক পদ্ধতিতে ফসলের রোগ প্রতিরোধ কৌশল। এ পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে জৈব সার এবং জৈব বালাইনাশক ব্যবহার।ফসলের রোগ প্রতিরোধের জৈবিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে চাইলে প্রথমেই কীটনাশকের ব্যবহার না করে সঠিক পোকামাকড়ের ব্যবহার করতে হবে যারা ফসলের জন্য ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলবে এবং নিজেরা উপকারী হবে।

    পাশাপাশি, জৈব সার প্রয়োগের কারণে পূর্বেই ফসলের অভ্যন্তরীণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হবে।

    কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য রোগ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কৌশল

    জৈবিক পদ্ধতির পাশাপাশি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য রোগ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কৌশল হিসেবে বিভিন্ন ফাঁদের ব্যবস্থা করতে হবে। আলোক ফাঁদ, বিষ ফাঁদ, আঠালো ফাঁদ ইত্যাদির দ্বারা কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াও অনেক পোকা মারা যায়।

    এছাড়াও নেট জালের ব্যবহার করে তুলনামূলক বড় উড়ন্ত পোকামাকড় ধরা যায়। ফেরোমম ফাঁদে রাসায়নিক বস্তু ব্যবহার করা হলেও তা ফসলের সাথে সংযুক্ত থাকে না। এটিও বেশ কার্যকরী কৌশল ফসলের কীটপতঙ্গজনিত রোগ নির্ণয়ের জন্য।

    ফসলের রোগ দমনে রাসায়নিক ও প্রাকৃতিক প্রতিকার

    উপর্যুক্ত পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করেও যদি ফল না পাওয়া যায় এবং ফসলের মাঠে যদি অতিরিক্ত রোগের আক্রমণ হয়ে যায়, তবে এই রোগ প্রতিকারে রাসায়নিক ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে। ছত্রাকের পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়া নাশকও পাওয়া যায় বাজারে। তবে এগুলো পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে যা বোতলের গায়ে নির্দেশনা দেয়া থাকে। বেশি ব্যবহার করা যাবে না। 

    আর ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য জৈব বালাইনাশক পাওয়া যায় বাজারে। সেটিই সবচেয়ে উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    ফসলের রোগ নিয়ন্ত্রণে কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার

    ফসলের রোগ নির্ণয়ের সময়োপযোগী পদ্ধতি হলো কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বর্তমানে আমাদের কাছে ড্রোন নামক একটি প্রযুক্তি আছে যা প্রতিটি ফসল নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সহযোগীতা করে। এছাড়াও ফসলের রোগ প্রতিরোধ প্রযুক্তি হিসেবেও বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন ফাঁদ কিংবা পদ্ধতি আবিষ্কার করছেন যা বিশেষ প্রযুক্তির সাথে সংযুক্ত। 

    যদিও রোগ প্রতিরোধ প্রযুক্তি এখনো আমাদের দেশে ততটা প্রচলিত নয়, তবে রোগ সম্পর্কে আগাম ধারণা করে ফলন বাঁচানোর উপায় ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়।

    ফসলের রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের সফলতা এবং পরামর্শ

    ফসলের রোগ প্রতিরোধে সফল কৃষক ভাইয়েরা কী কী করেন তা তো আমরা জেনে নিলাম। এবার তাদের থেলে কিছু পরামর্শ সম্পর্কে জানব।

    • তাদের মতে, সর্বপ্রথম বিষয়টি হলো ফসলের যত্ন নিশ্চিত করা। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফসল তোলা পর্যন্ত কোনো জায়গাতেই পরিচর্যা নিয়ে অবহেলা করা যাবে না।
    • যথাসম্ভব কীটনাশক এবং ছত্রাকনাশক কম ব্যবহার করতে হবে। যে পর্যায়ে গেলে রাসায়নিক বস্তু ছাড়া হবেই না শুধু তখন করতে হবে। এর আগে জৈব পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করতে হবে।
    • এক জমিতে একই ফসল বারবার ফলানো যাবে না।
    • ফসলের মাঠের চারদিকে এমন জাতীয় চারা বুনতে হবে যা ঐ ফসলের পোকামাকড়কে কাছে আসতে দিবে না বিষাক্ততার কারণে।
    • ফসলের মাঠে যেনো সংক্রমণ না ঘটে সেজন্য নিয়মিত ভাবে ফসল পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
    • কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে যেনো যেকোনো সমস্যায় তাদের থেকে সঠিক পরামর্শ পাওয়া যায়।

    আমরা এতক্ষণ ফসলের রোগ বালাই নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানলাম। এগুলো মেনে চললে আপনিও হতে পারবেন একজন সফল কৃষক এবং ঘুচাতে পারবেন দারিদ্র্য।

  • জমির রোগের ঝুঁকি: কীভাবে কৃষকরা তাদের ফসল রক্ষা করবেন

    জমির রোগের ঝুঁকি: কীভাবে কৃষকরা তাদের ফসল রক্ষা করবেন

    ফসল উৎপাদনের মাত্রা বাড়াতে চাইলে জমির রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে জেনে নেয়া আবশ্যক। কেননা, যে জমিতে ফসল উৎপাদন করা হবে তা যদি দূষিত থাকে, তবে শুরুতেই ফসলের মধ্যে রোগ সংক্রমিত হয়ে ফসলের ক্ষতি করে। জমির রোগের ঝুঁকি বলতে মূলত মাটিতে অণুজীব মিশ্রিত থাকার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। গবেষণা থেকে জানা যায়, আমাদের দেশের ১৫-২০% ফসল নষ্ট হয় এসকল রোগের কারণে। 

    এই রোগগুলোর মধ্যে কিছু কিছু জমির মাটি থেকে ফসলে সংক্রমিত হয়, যার মূল কারণ সঠিক চাষ পদ্ধতির অভাব। একারণেই,মাটির রোগ নির্ণয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা আবশ্যক। 

    জমির রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে জানা কেন গুরুত্বপূর্ণ

    পুর্ববর্তী অংশ থেকে আমরা বুঝেছি যে জমির রোগের ঝুঁকি বলতে মূলত কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করছে। কিন্তু কেনো এ বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ সেটাও জানা প্রয়োজন। এখন তাহলে সেগুলো জেনে নেয়া যাক- 

    • জমির রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে জানলে আপনি বুঝতে পারবেন, কোন জমিতে ফসল ফলালে ক্ষতির সম্ভাবনা আছে। ফলে এ নিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হবে না।
    • জমি শোধন করার মাধ্যমে ফসলকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন। 
    • জমির মাটি অনুযায়ী ফসলের কতটা পুষ্টি দরকার এসব সম্পর্কে বিষদভাবে জানতে পারবেন। ফলে পদক্ষেপ নেয়া সহজ হবে,
    • ফসলের পরিচর্যা করা সহজ হবে।
    • ফসল উৎপাদনের খরচ কমিয়ে আনতে পারে জমির রোগ সম্পর্কিত ধারণা।
    • জমি বা মাটির রোগ সম্পর্কে জানা থাকলে ফসল রক্ষার কৌশল এবং ফসলের রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে ব্যবস্থা নেয়া যায়।

     

    জমির রোগ ফসলের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলে

    জমির রোগের সাথে যে ফসলের ব্যাপারটি জড়িত তা আপনি অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু ফসলের ওপর এর প্রভাব কেমন তা সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। দেখে নিন সেগুলো-

    • মাটির সাথে ফসলের সম্পর্ক কতটা নিবিড় তা নিশ্চয়ই বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই। এতে বোঝা যাচ্ছে, মাটি যদি দূষিত হয়, তাহলে ফসল হুমকির মুখে পড়বে।
    • জমির গুণাগুণ কেমন তা অনুযায়ী ফসলের পুষ্টির পরিমাণ নির্ভর করে। অর্থাৎ জমিতে অণুজীব বেশি থাকলে ফসল মাটি থেকে পরিমিত পুষ্টি পাবে না।
    • জমির গুণাগুণ ভালো হলে ফসলের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে কীটনাশক প্রয়োজন হয় কম। অন্যথায়, ফসল সহজেই আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
    • জমির রোগ-ব্যাধি বেশি থাকলে সেই জমিতে দো-ফসলি বাঁ তিন ফসলি উৎপাদন সম্ভব হয়না। ফলে লাভ অত্যন্ত কম হয়।

    জমির রোগের সাধারণ কারণ 

    জমির রোগের মূল কারণ হলো মাটিতে অণুজীবের আক্রমণ। মূলত কিছু ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া আছে যারা মাটিতে বসবাস করে। এরা মাটিতে গুপ্ত অবস্থায় থাকে।যখনই কৃষক ভাই মাটিতে ফসল ফলান তখন তারা সজীব হয়ে ওথে এবং ফসলে সংক্রমণ ঘটায়। এরা এতটাই ভয়াবহ যে বছরের পর বছর সেখানে অবস্থান করে এবং রোগ সৃষ্টি করে। কোনো এক মাধ্যমে যেমন বাতাস, পানি, পোকামাকড় কিংবা মানুষ- যে মাধ্যমই হোক না কেনো তারা যদি তার মাধ্যমে জমিতে পৌঁছাতে পারে তবে সেখানেই স্থায়ী হয়ে যায়, পাশাপাশি, বছরের পর বছরের ফসলের ক্ষতি করতে থাকে।

     

    ফসলের রোগ নির্ণয়ের প্রাথমিক লক্ষণ

    অতএব, আমরা বুঝতে পারছি যে জমির রোগ নিয়ন্ত্রণ কতটা জরুরী। ফসলের রোগ নিরাময় করতে হলে আগে জমি শোধন করতে হবে। আর এ কাজে অর্থাৎ জমির রোগ নির্ণয়ে কৃষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।কৃষক ভাইয়েরা ফসলের প্রাথমিক অবস্থা দেখলেই বুঝতে পারেন যে ফসল রোগাক্রান্ত হয়েছে কিনা। মূলত যেসব লক্ষণগুলো দেখা যায় সেগুলো হলো-

    • ফসলের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া
    • ফসলের পাতা কিংবা কান্ডে কালো বা বাদামী দাগ 
    • কান্ড পচে যাওয়া
    • শিকড় দুর্বল হয়ে যাওয়া
    • গাছ স্বাভাবিকের তুলনায় আকারে ছোট বাঁ খর্ব হওয়া
    • আগুনে পোড়ালে যেমন দাগ হয় তেমন দাগ পাতায় থাকা
    • ঠিকমত ফুল না আসা ইত্যাদি।

    এসকল সমস্যা ফসলে দেখা গেলে বোঝা যাবে, তা রোগাক্রান্ত। সেক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বোঝা যাবে ফসলের এই রোগ মাটির সংক্রমণের কারণে হয়েছে কিনা। 

    জমির রোগ চিহ্নিতকরণের আধুনিক পদ্ধতি

    জমির পুষ্টি এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ করা ফসলের জন্য আবশ্যক তা আমরা আগেই জেনেছি। আর কৃষি প্রযুক্তি এবং রোগ নির্ণয় বিষয় দুইটি যে পরস্পর সম্পর্কিত সে ধারণাও আমরা কিছুক্ষণ আগেই পেয়েছি। একারণে আমাদের জানতে হবে ফসলের রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে কোন কোন আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। জিপিএস এর সাহায্যে আমরা মাটির গুণাগুণ সম্পর্কে ধারণা পেতে পারি। 

    এটি একটি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি। এর দ্বারা মাটির পুষ্টি উপাদান নির্ণিত হয়। আর যদি পুষ্টি কম থাকে, তাহলে সেই মাটিতে অণুজীবের আক্রমণ আছে এ ধারণা পাওয়া যাবে। তাছাড়াও, পিএইচ মিটার দিয়ে মাটির পিএইচ মাপা যায়, অম্ল মাটি হলে তাতে অণুজীবের আধিক্য বেশি থাকে। 

    কৃষকদের জন্য জমির রোগ প্রতিরোধ কৌশল

    এতক্ষণ আমরা জমির রোগ সম্পর্কিত অনেক কিছু জানলাম। এবার জানতে হবে আসল উপায় যার মাধ্যমে জমির স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে। তাহলে এবার এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা যাক-

    • জমির মাটি অতিরিক্ত দুষিত হয়ে গেলে রাসায়নিক উপাদান দ্বারা শোধন করতে হবে।
    • জমির রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করতে হবে। অর্থাৎ
      • একই জমিতে বারবার একই ফসল করা যাবে না। বিভিন ফসল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে করতে হবে।
      • কীটপতঙ্গ প্রতিরোধ কৌশল অবলম্বন করতে হবে যেনো এরা রোগ ছড়াতে না পারে। তার জন্য আলোক ফাঁদ, বিষ ফাঁদ, আঠালো ফাঁদ ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
      • জমিতে ফসল বোনার আগে গভীর চাষ দিয়ে মাটি ওলট-পালট করে দিতে হবে। এতে জীবাণু নিচে চলে যাবে এবং ফসলে সংক্রমণ ঘটাতে পারবে না।
      • রোগ প্রতিরোধে সঠিক চাষাবাদ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান দেয়া যাবে না।
    • জমির রোগ প্রতিরোধে জৈব সার ব্যবহার
    • মাটির পিএইচ ভারসাম্য ও রোগ প্রতিরোধ পরস্পর সম্পর্কিত। তাই পাটি নিরপেক্ষ বা হালকা ক্ষারীয় রাখতে হবে। এ কাজে চুনাপাথর ব্যবহার করা যায়।

    এতক্ষণ আমরা জানলাম, জমির রোগের ঝুঁকি এবং কৃষকদের রোগ প্রতিরোধ পদ্ধতি সম্পর্কে। জমির রোগ নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের করণীয় এই কাজগুলো অবশ্যই করতে হবে। জমির সুস্থতা নিশ্চিতকরণে ফসলের পরিচর্যা বিষয়টিও নিশ্চিত হবে যা ফলন বাড়াতে সাহায্য করবে।

     

  • কৃষকদের জন্য ফসলের রোগ চিহ্নিতকরণ : প্রাথমিক লক্ষণ ও সমাধান

    কৃষকদের জন্য ফসলের রোগ চিহ্নিতকরণ : প্রাথমিক লক্ষণ ও সমাধান

    সঠিকমাত্রায় লাভ করতে হলে এবং দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য রক্ষা করতে চাইলে কৃষকদের জন্য ফসলের রোগ চিহ্নিতকরণ : প্রাথমিক লক্ষণ ও সমাধান বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এর মাধ্যমেই সার্বিক সফলতা অর্জিত হবে। কৃষকদের জন্য ফসলের রোগ চিহ্নিতকরণ : প্রাথমিক লক্ষণ ও সমাধান বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে বিজ্ঞানীরা সবচেয়ে বেশি কাজ করছেন। কেননা এই রোগগুলোর কারণেই সর্বদা ফসল নষ্ট হয় এবং কৃষক পর্যায়ে দুর্দশা দেখা যায়।

    ফসলের রোগ চিহ্নিতকরণের গুরুত্ব

    ফসলের রোগ সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে জানা প্রয়োজন ফসলের রোগ নিয়ে কেনো এত দুশ্চিন্তা। এই দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ হলো আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে না এই রোগ- ব্যাধির কারণে।কেননা, প্রতি বছর দেশের ১৫-২০% ফসল নষ্ট হয় শুধু রোগের কারণে। এছাড়াও অন্যান্য দুর্যোগ তো রয়েছেই৷ ফলে আমাদের দেশে কৃষিব্যবস্থা উন্নত হলেও তেমন কোনো উপকার মিলছে না।

    প্রতি বছরই বেশ ভালো পরিমাণ খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে আমাদের। আর একারণেই ফসলের রোগ চিহ্নিতকরণ করার মাধ্যমে এসব রোগ-ব্যাধি নির্মূল করা আবশ্যক।

    ফসলের রোগের সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ

     

    উপর্যুক্ত বিষয় অনুসারে, আমরা জানি যে ফসলের রোগ নির্ণয় কেনো প্রয়োজন। তাহলে এবার জেনে নেই, সচরাচর দেখা যায় এমন কিছু রোগের প্রাথমিক লক্ষণ-

    • পাতার রঙ পরিবর্তন: হলুদ, লালচে হওয়া। এর মধ্যে ফসলের পাতা হলুদ হওয়া বেশি লক্ষ করা যায়।
    • পাতা ঝরে যাওয়া এবং শুকিয়ে যাওয়া
    • শিকড়ের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া
    • ফসলের গড় বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া
    • ফসলের ফুল ও ফল ঝরে যাওয়া
    • পর্যাপ্ত পরিমাণে ফুল না আসা
    • ফুল আসলেও সেখান থেকে ফল উৎপাদন না হওয়া। (যেমন ধানের শীষ আসলেও চিটা ধান পাওয়া যায়।)
    • গাছ শুকিয়ে যাওয়া বা একেবারে মরে যাওয়া।

    ভিন্ন ভিন্ন ফসলের রোগের প্রাথমিক লক্ষণ

    ফসলের রোগের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে তো আমরা জেনে গেছি। তবে এগুলো কেনো হয় তা না জানলে ফসলের রোগ নির্ণয় করে তার সঠিক সমাধান বের করা সম্ভব হবে না। তাহলে এবার এই কারণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

    ফসলের ছত্রাকজনিত রোগ

    ছত্রাকজনিত আক্রমণে ফসলের  রোগের প্রাথমিক লক্ষণ থাকে পাতার অনিয়তাকার বাদামী দাগ পড়া। এসব দাগ ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে পাতায় ছিদ্র তৈরী করে।

    ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগ

    ভাইরাসজনিত রোগে গাছ আকারে ছোট হয়, অর্থাৎ বাড়তে পারে না ঠিকমত। এছাড়াও গাছ নেতিয়ে পড়ে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মারা যায়।

    ফসলের ব্যাকটেরিয়াল সমস্যা

    ব্যাকটেরিয়াল সমস্যা হলে গাছের পাতার পাশাপাশি কান্ডেও স্পট বা দাগ দেখা যায় বাদামী রঙের। এগুলো এক পর্যায়ে কালো হয়ে গাছ নষ্ট করে দেয়।

    কীটপতঙ্গের আক্রমণ

    পতঙ্গ যেমন জাব পোকার আক্রমণ দেখলে বোঝা যায়। এসব পোকার কারণে ভাইরাল রোগ ছড়িয়ে পড়ে। পাতার উপরের দিকে কালো স্তর দেখা যায় এবং পাতা নিচের দিকে কুঁকড়ে যায়।

     

    ফসলের রোগ নির্ণয়ের জন্য উন্নত প্রযুক্তি

    এতক্ষণ তো আমরা ফসলের রোগ নির্ণয় করার জন্য এর লক্ষণ সম্পর্কে জানলাম। তবে বর্তমানে কৃষিবিদ এবং বিজ্ঞানীগণ ফসলের রোগের প্রাথমিক লক্ষণ নির্ণয়ের জন্য বাংলাদেশে উন্নত প্রযুক্তি আনার চেষ্টা করছেন।তাই ফসলের বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করার জন্য আমরা এখন ফসলের রোগ নির্ণয়ের ডিজিটাল কৌশল সম্পর্কে জানব।

     

    • শারীরিক পর্যবেক্ষণ ও লক্ষণ বিশ্লেষণ

    অর্থাৎ ফসলের সামগ্রিক অবস্থা সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ

    • মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং তার প্রভাব

    বর্তমানে বিভিন্ন “সয়েল টেস্টিং কিট” পাওয়া যায় বাজারে যার দ্বারা মাটি পরীক্ষা করে বলা যায় যে এই মাটিতে কোনো জীবাণু আছে কিনা

    • আধুনিক প্রযুক্তি ও টুলসের ব্যবহার 

    ড্রোন জাতীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসে সকল ফসলের অবস্থা সঠিকভসবে পরিমাপ করতে পারবেন।

    • জিপিএস নামক সেন্সর মেশিন ব্যববারের মাধ্যমে ঐ জায়গার মাটির গুণাগুণ সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পাওয়া সম্ভব যাতে বোঝা যায় ঐ মাটিতে জীবাণু কতটা উপযুক্ত পরিবেশ পাবে। মাটির স্বাস্থ্য ও রোগ বিষয়টি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। তাই এসব কৃষি পর্যবেক্ষণ টুলস ব্যবহার করার মাধ্যমে কৃষকদের জন্য রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি আরও সহজ হয়ে যাবে।

     

    ফসলের রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের করণীয় 

    ফসলের রোগ নির্ণয় সম্পর্কে তো আমরা জানলাম, কিন্তু সঠিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই জ্ঞান কোনো কাজেই আসবে না। একারণেই কৃষক ভাইদের এ সমস্যা সমাধানে রোগের প্রতিরোধ কৌশল সম্পর্কে আমরা জেনে নিব।

    • ফসলের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যন্ত রোগের মাত্রা থাকলে শুধু স্বাভাবিক পরিচর্যা করতে হবে। এর থেকে বেশি কিছু না করলেও চলবে। 
    • তবে রোগের মাত্রা বেশি হলে ফসলের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 
    • প্রথমে জৈবিক বালাই প্রতিরোধ ব্যবস্থা (যেমন নিম বীজের রস) ব্যবহার করতে হবে।
    • পরবর্তীতে ছত্রাকনাশক জাতীয় রাসায়নিক জিনিস ব্যবহার করতে হবে।
    • রোগাক্রান্ত গাছ অবশ্যই সাথে সাথে তুলে ফেলতে হবে যেনো রোগ বেশি ছড়াতে না পারে।
    • পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যেনো এদের মাধ্যমে রোগ ছড়াতে না পারে।

    অতএব, আমরা বুঝতেই পারছি ফসলের রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য অবশ্যই সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে।  এতেই আমাদের কৃষি উন্নয়ন সাধিত হবে।

  • জেনে নিন সফল পোলট্রি খামারীর ৭টি সিক্রেট

    জেনে নিন সফল পোলট্রি খামারীর ৭টি সিক্রেট

    পোলট্রি খামার তৈরী করা সহজ হলেও তা সঠিকভাবে পরিচালনা করে সেখান থেকে ব্যবসায়িক লাভ তুলে আনাটা বেশ কঠিন। আর এই কঠিন কাজটি সহজে করতে চাইলে আপনাকে জানতে হবে পোলট্রি খামারীর ৭টি সিক্রেট রহস্য।আপনি হয়ত জিজ্ঞেস করতে পারেন যে পোলট্রি খামারীর ৭টি সিক্রেট জানা কেনো এত প্রয়োজনীয়? তাহলে জেনে নিন, আমাদের দেশের অনেক কৃষক এবং তরুণরা এখন পোলট্রি উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা করছে। 

    তবে এদের মধ্যে অনেকেই পোলট্রি ব্যবসা লাভজনক হওয়ার পরেও তেমন সুবিধা করতে পারছে না। আবার কিছু পোলট্রি উদ্যোক্তাদের খামার বন্ধ করে দিতে হচ্ছে লসের জন্য। আর একারণেই আপনার খামারে যেনো এমন কোনো সমস্যা না হয় সেকারণে আপনার এই জিনিসগুলো জেনে নেয়া আবশ্যক। সফল খামারী হওয়ার মানসিকতা থাকলে আপনি অবশ্যই লাভবান হবেন।

    পোলট্রি খামারে সফল হওয়ার জন্য প্রাথমিক ধারণা

    পোলট্রি খামারে সাফল্য অর্জনের প্রাথমিক ধাপ হলো সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং সব বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নিয়ে শুরু করা।

    কেননা মুরগীর খাদ্য, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, রোগ-ব্যাধি ইত্যাদি নিয়ে বেশ ভালো ধকল পোহাতে হয় খামারীদের৷ আর এগুলো জানার পাশাপাশি নিচের সিক্রেটগুলো ফলো করলে অবশ্যই লাভ করা সম্ভব।

    পোলট্রি খামারে সফল হওয়ার সিক্রেট

    উপর্যুক্ত ধারণা থেকে আপনি অবশ্যই বুঝতে পারছেন আপনার উদ্যোগ আসলে কেমন হওয়া উচিৎ। এবার সেই উদ্যোগকে সম্পূর্ণ সফল করতে জেনে নিন এই ৭টি সিক্রেট।

    সিক্রেট-১: সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি 

    সফল পোলট্রি খামারী হতে চাইলে প্রথমেই আপনার থাকতে হবে বিষদ এবং সঠিক পরিকল্পনা। খামারে সাফল্য অর্জনের কৌশল এর মধ্যে প্রথমটিই হলো সঠিক পরিকল্পনা। আপনার পরিকল্পনা হতে হবে সহজ এবং পরিষ্কার। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কীভাবে শুরু করবেন, কোন মুরগীর জাত নিবেন, অর্গানিক খামার করবেন কিনা, আপনার আশপাশে মুরগীর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা আছে কিনা এসব সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে পরিকল্পনা করতে হবে।

    প্রত্যেকটি পরিকল্পনা অভিজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে নোট করে রাখতে হবে যেনো ভুল হবার কোনো সম্ভাবনা না থাকে। পোলট্রি খামারে সঠিক পরিকল্পনা আপনার সাফল্যের মাত্রা ৫০% পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারে।

     

    সিক্রেট ২: সময় ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার

    সিক্রেট ১ অনুযায়ী, আপনি আপনার সঠিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করে ফেলেছেন ইতোমধ্যে। তাহলে আপনার পরবর্তী কাজ বা ধাপ হলো সময় ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার। এক্ষেত্রে আপনার পোলট্রি খামারের টিপস ও ট্রিক্স হিসেবে একটি স্পেশাল ট্রিকস ব্যবহার করতে পারেন। ধরুন, আপনার খামারের জন্য পর্যাপ্ত জমি নেই। কিন্তু পুকুর আছে, সেক্ষেত্রে পুকুরের উপরও আপনি ফার্ম তৈরী করতে পারেন।

    এতে পুকুরে মাছ চাষ এবং উপরে পোল্ট্রি খামার দুটোই করতে পারেন যা পোলট্রি খামারে অর্থনৈতিক সাফল্যে এনে দিতে পারে। এছাড়াও সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে হবে।অর্থাৎ মুরগীর সকল খাদ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক সময়ে হওয়া উচিৎ। এভাবে খামারে সময় ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।

     

    সিক্রেট ৩: প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের গ্রহণ

    সফল খামারী হওয়ার পরামর্শ হিসেবে আপনার জন্য তৃতীয় সিক্রেট হলো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার। মুরগীর সুরক্ষার জন্য এবং সঠিকভাবে তদারকির জন্য উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার খুবই সহায়ক।এক্ষেত্রে ড্রোন জাতীয় প্রযুক্তি গ্রহণ করা যেতে পারে যাতে আপনি এক জায়গায় বসে সকল মুরগীকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। এছাড়াও ডিম রাখার বাক্স, ফিডিং মেশিন ইত্যাদি প্রযুক্তিও বেশ কার্যকরী।

    এভাবে পোলট্রি খামারের উদ্ভাবন ও কৌশল আপনার জন্য উপকারী হতে পারে।

     

    সিক্রেট ৪: কঠিন সময় ও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা

    আপনার পোলট্রি খামারের পরিশ্রম ও ফল তখনই সমানুপাতিক হবে যখন কঠিন সময় সঠিকভাবে মোকাবিলা করার দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। বর্তমানে মুরগীর খাদ্যের মূল্য বেশি থাকায় অনেক খামারী বেশ সংকটে সময় পার করছেন। আবার কিছু কিছু সময় বিশেষত শীতকালে মুরগীর রোগ-ব্যাধির পরিমাণ বেড়ে যায়। এসকল বিপর্যয় বা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার জ্ঞান এবং দক্ষতা দুটোই থাকতে হবে।

     

    সিক্রেট ৫: ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা

    খামারে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের সিক্রেট আপনার খামারকে অন্য অনেক খামারের তুলনায় এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম। ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বলতে বোঝানো হচ্ছে যে আপনি কীভাবে আপনার ব্যবসা পরিচালনা করবেন।অনেক ক্ষেত্রেই ডিম অথবা মাংস সরবরাহ নিয়ে সমস্যা দেখা যায়। একারণে স্থানীয় বাজারেই শুধু খামারীরা তাদের পণ্য বিক্রির চেষ্টা করেন। এমনটা না করে ব্যবসা কীভাবে পরিচালনা করলে বেশি লাভবান হওয়া যাবে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    আবার অর্গানিক মুরগী খামারের পরিকল্পনাও এর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত। বিষয়টি কিছুটা কঠিন হলেও বেশ লাভজনক। পোলট্রি খামারে ঝুঁকি ও সাফল্য পরস্পর জড়িত। তাই সাফল্য পেতে হলে কিছু ঝুঁকি নিতেই হবে। তবে তা অবশ্যই চিন্তাভাবনা করে। হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।

     

    সিক্রেট ৬: ব্যবসার বৃদ্ধি ও উন্নতির পথ

    পোলট্রি খামারে ব্যবসায়িক সাফল্য লাভের পন্থা হলো উত্তরোত্তর ব্যবসার বৃদ্ধি এবং উন্নতির পথ। স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি শহরাঞ্চলে আপনি আপনার পণ্য বিক্রি করতে পারেন।এছাড়াও বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোতে মুরগী এবং ডিমের চাহিদা প্রচুর। সেসব জায়গায় সাপ্লাই দেওয়ার মাধ্যমে ব্যবসা বৃদ্ধি করা যায়।এভাবে পোলট্রি ব্যবসায়িক কৌশল খাটিয়ে লাভবান হওয়ার প্রচেষ্টা করতে হবে। 

     

    সিক্রেট ৭: একটি দৃঢ় মনোভাব ও সঠিক মনোভাব

    খামারে উদ্যোক্তার সিক্রেটস হিসেবে সর্বশেষ হলো দৃঢ় এবং সঠিক মনোভাব। পোলট্রি খামারী হতে হলে অনেক ধরণের চড়াই-উতরাই আপনাকে পার হতে হবে। তাই এসব ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। কখনোই ভয় পেয়ে বা মাঝ পথে ব্যবসা ছেড়ে দেয়া যাবে না। এতেই উন্নতি সাধিত হবে। 

     

    এই হলো পোলট্রি খামারে সফল হওয়ার সিক্রেট। পোলট্রি খামারী হওয়ার টিপস সম্পর্কে আমরা আগেও আলোচনা করেছি যা আপনি আমাদের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া যাবেন। তবে পোলট্রি খামারের সিক্রেটস ফলো করলে ব্যবসা সঠিকভাবে পরিচালনার মাধ্যমে আপনি লাভবান হতে পারবেন এবং ব্যবসা বৃদ্ধিও করতে পারবেন।

     

  • ডেইরি খামারী ঐক্য: টেকসই উন্নয়নের সোপান

    ডেইরি খামারী ঐক্য: টেকসই উন্নয়নের সোপান

    ডেইরি খামারী ঐক্য বিষয়টি খামারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা খামারীরা একত্রিত হলে তারা ন্যায্যমূল্যে তাদের পণ্য বাজারে বিক্রি করতে পারবেন যাতে ক্রেতাদেরও সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়।ডেইরী খামারী ঐক্য বর্তমান বাজারের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কেননা খামারীরা একত্রিত হলে তারা বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নিজেরা শক্ত অবস্থান গঠন করতে পারবেন। ফলে বাজারের উন্নতি সাধন হবে। 

    এছাড়াও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে তারা তাদের অধিকার আদায় করে নিতে পারবেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছু ন্যায্য দামে পেতে পারবেন, ফলে বাজারে ডেইরী পণ্যগুলোর দামও স্থিতিশীল হবে।

    ডেইরী খামারীদের ঐক্যের গুরুত্ব 

    ডেইরী খামারীদের ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা জানতে পারলাম। কিন্তু এই ঐক্য কেনো গুরুত্বপূর্ণ তা জেনে নেয়া প্রয়োজন। তাহলে এবার সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেই-

    • ডেইরী খামারিরা একসাথে কাজ করলে বাজারের দাম নির্ধারণ করতে পারবেন তারা। ফলে ক্রেতাদের অধিক মূল্য দিয়ে পণ্য কিনতে হবে না।
    • ডেইরী খামারীরা যদি একসাথে কাজ করেন তাহলে তারা নতুন নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। এতে তারা তাদের খামারের উন্নয়ন সাধন করতে পারবেন।
    • খামারিরা একত্রিত হয়ে কাজ করলে তারা বিভিন্ন অর্ডার সম্মিলিত ভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে ভালো লাভ করতে পারবেন।
    • এছাড়াও যারা মধ্যবর্তী লাভকারী আছে তারা এক্ষেত্রে সুবিধা করতে পারবে না যা বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয়ের জন্যই উপকারী।

     

    ডেইরী খামারীদের ঐক্য: বর্তমান অবস্থা

    অর্থাৎ, নিশ্চিতভাবেই বোঝা যাচ্ছে ডেইরী খামারিদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা তাদের জন্য এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এই ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা সকলে বুঝলেও এর প্রয়োগ খুবই কম।যদিও এর পিছনে বেশ কিছু আর্থ-সামাজিক সমস্যা রয়েছে। এসকল সমস্যার কারণে খামারীদের মধ্যে এখনো অমত হয়ে থাকে।

    একে অপরের প্রতি পারস্পরিক সহযোগিতার অভাব, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, অর্থনৈতিক সমস্যা এবং বহুদিন ধরে চলে আসা বাজারের সিন্ডিকেট- এই সমস্যাগুলোর কারণে ডেইরী খামারিরা চাইলেও এক হতে পারছেন না।

    তবে আশা করা যায় এই সমস্যা থেকে অচিরেই উত্তরণ হবে আমাদের কেননা বর্তমান খামারীরা শুধু লাভের বিষয়েই নয়, বরং ব্যবসা প্রসারের বিষয়েও সচেতন।

    পরিবেশবান্ধব ডেইরি খামারের চাহিদা

    আমরা জানি ডেইরী খামারিদের সংঘবদ্ধ হওয়ার পথটি অত্যন্ত দুর্গম। তবুও তারা যদি এক হন তাহলে পরিবেশবান্ধব ডেইরী খামার গড়ে তুলতে পারবেন। যার চাহিদা বিশ্বব্যাপী।কিন্তু পরিবেশবান্ধব ডেইরী খামারের চাহিদা এত বেশি কেনো? তাহলে এবার জেনে নেই এগুলো-

    • পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে দুধ উৎপাদন করা সম্ভব হয় বলে এসব ডেইরী খামারের প্রতি গ্রাহকের আগ্রহ বেশি থাকে।
    • খামারীদের মধ্যে সহায়তা এবং টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয় বলে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এই পণ্য ভরসাযোগ্য হয়। কারণ বর্তমানে মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠছে।
    • রাসায়নিক বস্তু মুক্ত থাকে বলে মানুষ পরিবেশবান্ধব ডেইরী খামারের প্রতি নির্দ্বিধায় ভরসা করতে পারে।
    • এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদন খরচ কম হয় বলে ডেইরি খামারের চ্যালেঞ্জ ও সমাধান সহজ হয়। এতে ব্যবসায় লাভবান হওয়া সম্ভব হয়।
    • দুধ উৎপাদন খাতে টেকসই উন্নয়ন কৌশল এবং টেকসই খামারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
    • বড় বড় ডেইরী অর্ডারগুলো সাধারণ পরিবেশবান্ধব ডেইরী ফার্মগুলোতে করা হয় কেননা এগুলো বেশি ভরসাযোগ্য ক্রেতাদের কাছে।

    খামারীদের সহযোগিতা: একটি শক্তিশালী খাতের ভিত্তি

    বর্তমানে বাংলাদেশে শিল্পের দিক থেকে গার্মেন্টস শিল্প সবেচয়ে এগিয়ে। কিন্তু দেশে সরকারি এবং বেসরকারিভাবে এত খামার প্রতিষ্ঠিত হওয়া পরেও ডেইরী শিল্পে সহযোগিতা না থাকায় টেকসই ডেইরী খামার শিল্প তৈরী হচ্ছে না।একই কারণে খামার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নও সাধিত হচ্ছে না। তাই দুধ উৎপাদন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে খামারিদের এক হতে হবে। টেকসই ডেইরি খামারের জন্য নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটাতে হবে।

    তাছাড়াও যেহেতু ডেইরি খামারী ঐক্য এবং পরিবেশ রক্ষা বিষয়টি পরস্পর সম্পর্কিত, তাই ডেইরি খামারীদের ঐক্য এবং তার প্রভাব সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এতেই এই খাতের উন্নয়ন সম্ভব।

    ডেইরি খামারের ভবিষ্যৎ: একটি সবুজ এবং টেকসই খাত 

    উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝলাম যে, টেকসই ডেইরী চাষ পদ্ধতি ডেইরী খামারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশবান্ধব খামারীরা তাদের প্রচারের জন্য যে মার্কেটিং করে তাকেই গ্রিন বা সবুজ মার্কেটিং বলে।

    ডেইরী খামারীরা যদি সংঘবদ্ধ হয়ে এই কাজ পরিচালনা করতে পারে, তবে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প হিসেবে গড়ে উঠবে ডেইরী খাত। দুধ উৎপাদনে খামারীদের সহযোগিতার গুরুত্ব সম্পর্কে বিষদভাবে জানলে অবশ্যই সকলে এক্ষেয়্রে আগ্রহী হবে।

    বিশেষত, ছোট ডেইরি খামারের জন্য টেকসই প্রযুক্তি আনা সম্ভব হবে যারা অধিক মূলধন বিনিয়োগ করতে পারছে না। ফলে ডেইরী খাতের টেকসই সমাধান সম্ভব হবে এবং সবুজ ডেইরী উৎপাদন করা যাবে।

    ডেইরি খাতের ভবিষ্যৎ টেকসই উন্নয়ন কৌশল সম্পর্কে  আমরা বিষদভাবে জেনেছি। এবার এই জ্ঞানকে কাজে লাগাতে হবে প্রাত্যহিক জীবনে। তাহলেই আমাদের এই খাত নিয়ে দেশের অর্থনীতি ভবিষ্যৎ স্বপ্ন দেখতে পারবে।