Blog

  • বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালকে বরণ: নানা রঙের আয়োজন এবং শোকের ছায়া

    বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালকে বরণ: নানা রঙের আয়োজন এবং শোকের ছায়া

    ২০২৫ সালকে বরণ করতে বিশ্বব্যাপী শুরু হয়েছে নানা রঙের আলো এবং বর্ণিল আয়োজন। একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে কিছু দেশের মধ্যে শোকের ছায়া, পুরো বিশ্ব উত্সাহ-উদ্দীপনায় পালন করছে নতুন বছরের সূচনা। তবে যেখানেই নতুন বছরের আগমন, সেখানে মানুষের এককথার আকাঙ্ক্ষা—নতুন বছর যেন পুরোনো কষ্ট, দুঃখ এবং সংকটকে পিছনে ফেলে নিয়ে আসে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ভালোবাসা। আসুন, ২০২৫ সালের বর্ষবরণের নানা আয়োজনে ভ্রমণ করি।

    সিডনির অপেরা হাউসে এক দুর্দান্ত দৃশ্য

    অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের অপেরা হাউস এলাকায় ২০২৫ সালের সূচনা হয়েছিল এক আশ্চর্য দৃশ্যে। ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটা যখন ১২টা ছুঁয়েছিল, রাতের আকাশ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল নানা রঙের আলোকচ্ছটায়। সেখানকার বাতাসে ছিল আনন্দের জোয়ার, আর পানিতে অপেরা হাউসের প্রতিচ্ছবি যেন আরও এক শোভা যোগ করছিল। সিডনির রাস্তার প্রতিটি কোণায় মানুষ উদযাপন করছিল নতুন বছরকে। সিডনির আতশবাজি প্রতিটি দর্শককে বিস্মিত করেছিল, এই সুন্দর দৃশ্য বিশ্বের মানুষের কাছে আবারও প্রমাণ করেছে, তারা কীভাবে উল্লাসের মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।

    নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে আতশবাজির দৃশ্য

    বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে প্রথম নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে শুরু হয়েছিল ২০২৫ সাল। স্কাই টাওয়ারে আতশবাজি প্রদর্শনীর মাধ্যমে শহরটি আলোকিত হয়ে ওঠে। সেখান থেকে আকাশে উঠে চলে একধরনের রঙিন খেলা, যা পুরো শহরকে ছড়িয়ে দেয় এক নতুন অনুভূতি। নিউজিল্যান্ডে বর্ষবরণের সময় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে উদযাপন করেন। এটি ছিল এক অনুপ্রেরণামূলক দৃশ্য, যা সারা বিশ্বের কাছে নতুন বছরের আগমনের আনন্দ পৌঁছে দেয়।

    দক্ষিণ কোরিয়ার শোকের মূহূর্ত

    যেখানে একদিকে পৃথিবীজুড়ে নতুন বছরকে নিয়ে আনন্দ উদযাপন হচ্ছিল, সেখানে দক্ষিণ কোরিয়া ছিল এক ভিন্ন অবস্থায়। উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ১৭৯ জনের মৃত্যুর কারণে দেশটি গভীর শোক পালন করছে। এ কারণে এবারের বর্ষবরণ ছিল একেবারে ভিন্ন, শোকের মধ্যে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শহরের পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, সাধারণত শহরটি বর্ষবরণের জন্য খ্যাত, তবে এবারে তারা এক নিরব শোক অনুষ্ঠানে এটি পালন করেছে। শোকের ছায়ায় থেকেও তারা নতুন বছরের আগমনের প্রতিটি মুহূর্তে নিজেদের দেশের জন্য আশা এবং সমৃদ্ধির কামনা করেছে।

    জাপানের পয়লা জানুয়ারির ঐতিহ্য

    জাপানে খ্রিষ্টীয় বর্ষবরণের বিশেষ কিছু ঐতিহ্য রয়েছে। পয়লা জানুয়ারির দিনটি জাপানে জাতীয় ছুটির দিন, যেখানে দেশের ঘরবাড়ি ও মন্দিরগুলো পরিষ্কার করা হয়। নতুন বছরের শুরুতে, টোকিওর তোকুদাই-জি মন্দিরে রাতের অন্ধকারে জনসমাবেশ হয়। সেখানে একসঙ্গে প্রার্থনা করা হয় এবং মধ্যরাতে ঘণ্টার শব্দের মধ্যে নতুন বছরকে বরণ করা হয়। এটি জাপানি সংস্কৃতির একটি অমূল্য অংশ, যা প্রতিবছর আরও গভীর আধ্যাত্মিকতায় উদযাপিত হয়।

    চীন সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক বার্তা

    চীন, হংকং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে বর্ষবরণের সময় রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তার ভাষণে বলেছেন, দেশের অর্থনীতি এখন ঊর্ধ্বগামী। এ সময়ে তিনি তাইওয়ান নিয়ে চলমান উত্তেজনা সম্পর্কেও কথা বলেছেন। সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়াতে বর্ষবরণ যথাযথভাবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে উদযাপিত হয়েছে, যেখানে দেশটির মানুষের মধ্যে একতা এবং অগ্রগতির আশা দেখা গেছে।

    বাংলাদেশেও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নতুন বছর শুরু

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নতুন বর্ষবরণ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আতশবাজি এবং নানা রকম আয়োজন। মিষ্টি, খাবারের আয়োজন ছিল ঘরবাড়ি এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে। সারা দেশে উৎসবের পরিবেশে নতুন বছরের আগমনের আনন্দ উদযাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সমাজিক সংগঠনও এই সময় একত্রিত হয়ে দেশের সমৃদ্ধি কামনা করেছে।

    একটুকু শোক, অনেকটা আনন্দ

    বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালকে বরণ করার সময় একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে কিছু দেশে শোকের ছায়া ছিল। তবে, বর্ষবরণের মূল বিষয় ছিল একটাই—বিশ্ববাসী যেন নতুন বছরকে উদযাপন করে এক নতুন দিনের অপেক্ষায়। বহু মানুষের জীবনে বহু ধরণের ঘটনা ঘটে থাকে, কিন্তু বর্ষবরণের এই সময়ে পুরোনো কষ্টের বাইরে নতুন আশা, আনন্দ এবং সমৃদ্ধি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়কে অক্ষুণ্ণ রাখা হয়। এবার বিশ্ব আরও এক বার প্রমাণ করল যে, তার সবাই এক কাতারে, এক সঙ্গে, নতুন বছরের আগমনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

     

  • সফল পোলট্রি ব্যবসা: একজন খামারীর বাস্তব জীবনের পরামর্শ

    সফল পোলট্রি ব্যবসা: একজন খামারীর বাস্তব জীবনের পরামর্শ

    সফল পোলট্রি ব্যবসা করতে চাইলে বাস্তব পরামর্শ আবশ্যক। আর এক্ষেত্রে সর্বোত্তম উপায় হলো একজন খামারীর বাস্তব জীবনের পরামর্শ নেয়া। কারণ এর মাধ্যমে এমন অনেক কিছু শেখা যায় যা প্রশিক্ষণ দ্বারা শেখা সম্ভব না।সফল পোলট্রি ব্যবসা প্রত্যেক খামারীর স্বপ্ন। একজন খামারী তার ব্যবসা পরিচালনার পথে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। যার অনেক কিছুই তার একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব হয়না।

    এমন অবস্থায়, তিনি যদি একজন সফল খামারীর পরামর্শ নেন, তবে অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে কোনো রকম লোকসান হওয়া ছাড়াই। একারণেই আমরা সর্বদা পরামর্শ দেই একজন খামারীর থেকে উপযুক্ত পরামর্শ নিতে।

    একজন সফল খামারীর বাস্তব জীবনের পরিচিতি

    পোলট্রি খামারীর বাস্তব পরামর্শ পেতে হলে একজন খামারীর বাস্তব জীবন সম্পর্কে প্রথমে জেনে নেয়া প্রয়োজন। আমরা আজ এখানে বিশেষ কোনো খামারীর নাম উল্লেখ করব না। বরং সামগ্রিক ভাবে বিভিন্ন খামারীদের সাথে কথা বলে যে বাস্তব জীবনের পরিচিতি পেয়েছি, সেটাই তুলে ধরব। সফল খামারী হওয়ার পথ কখনোই মসৃণ নয়। প্রায় সব খামারী অত্যন্ত দরিদ্র অবস্থা থেকেই শুরু করেছেন তাদের খামার।

    দারিদ্র‍্যে জর্জরিত হয়ে নিজের শেষ সম্বল টুকু দিয়ে অথবা ঋণ করে পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন এক একটি খামার। অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলও পেয়েছেন তারা। তাদের কেউ আজ একের অধিক খামারেরও মালিক। কিন্তু কেমন ছিল তাদের প্রস্তুতির সময়কাল বা এই দীর্ঘ যাত্রা। চলুন ধাপে ধাপে সেগুলো জেনে নেই।

    পোলট্রি খামার শুরু করার সময়ে যে প্রস্তুতি প্রয়োজন

    পোলট্রি খামার শুরু করার সময় প্রথমত যে প্রস্তুতি প্রয়োজন তা হলো পরিকল্পনা। একটি খামার পরিচালনার পূর্বে সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হয়। খামারের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, মুরগীর জাত ইত্যাদি সম্পর্কিত বিষদ জানা আবশ্যক।

    প্রস্তুতিগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো-

    • আলো-বাতাস সমৃদ্ধ উঁচু জায়গা সন্ধান যেখানে খামার স্থাপন করা যায়।
    • সুপরিকল্পিত বাজেট তৈরী।
    • খামার নির্মাণের সরঞ্জাম ক্রয়।
    • সঠিক মুরগীর জাত নির্বাচন এবং ক্রয়।
    • মুরগীর খাবার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা 
    • খামারে লোক নিয়োগ করা সম্ভব কিনা তা বিচার করা। যদি বাজেটে সংকুলান হয়, তবে অভিজ্ঞ এবং দক্ষ কর্মচারীর ব্যবস্থা করা।
    • খামারের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করা।
    • পণ্য বাজারজাতকরণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ। 

    পোলট্রি খামার পরিচালনার জন্য কার্যকর কৌশল ও পরিকল্পনা

    পোলট্রি খামার পরিচালনা করতে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসটি হলো পোলট্রি ব্যবসার কৌশল। যে খামারী যত বেশি কৌশলী, তার খামারের উন্নতি তত বেশি। পরিকল্পনা বা কৌশল যেটাই হোক না কেনো, তার মূল দিক হলো কীভাবে অল্প বাজেটে লাভ বেশি করা যায়। খামার পরিচালনায় বিভিন্ন রকম প্রতিকূলতা সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা দ্বারা এসব সমস্যার সমাধান করা গেলেও সব ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয় না।

    একারণে খামারের সাধারণ সমস্যা এবং তাদের সমাধান পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নেয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ। 

     এবং তাদের কার্যকর সমাধান কৌশল

    উপর্যুক্ত তথ্য থেকে আমরা জেনেছি, খামারের সাধারণ সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানা কতটা জরুরী। মূলত পোলট্রি খামারে সফলতা অর্জন এর উপরই নির্ভরশীল। তাই পোলট্রি খামারের সমস্যা ও সমাধান পদ্ধতিগুলো নিয়ে এখন আমরা আলোচনা করব-

    • পোলট্রি খামারী হওয়ার পরামর্শ গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মুরগীর জাত নির্বাচন। শুরুর দিকে এ সমস্যা অনেকেরই হয়ে থাকে। ডিম এবং মাংস উভয়ই উৎপাদন করতে চাইলে উপযুক্ত জাত নির্বাচন আবশ্যক।
    • পোলট্রি খামারের চ্যালেঞ্জ প্রায় সময়ই উদ্ভুত হতে দেখা যায়। আর তার মধ্যে প্রধান হলো বাজেট সমস্যা। খাদ্য ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাজেট ব্যয় করতে দেখা যায় কিছু খামারী। পরবর্তীতে যা লাভের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দেয়। তাই বাজেট যতটা সম্ভব কম করতে হবে।
    • সফল খামারী হওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। সফল খামারীদের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তারা বেশ পরিশ্রমী। তাই সমস্যা দেখে ধৈর্য হারা হওয়াটাও বেশ বড় একটা সমস্যা হিসেবেই দেখা হয়।
    • পোলট্রি খামারের ঝুঁকি থাকবেই। এক্ষেত্রে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ঝুঁকির ভয়ে খামার গুটিয়ে ফেললে চলবে না।

    পোলট্রি খামারের ভবিষ্যত উন্নতি এবং বৃদ্ধি কৌশল

    পোলট্রি খামারে লাভ বৃদ্ধি করতে চাইলে খামারে সময় ও সম্পদের ব্যবস্থাপনা সঠিক হওয়া চাই। এক্ষেত্রে পোলট্রি ব্যবসার বৃদ্ধি কৌশল সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে। পোলট্রি খামার নিকট ভবিষ্যতে এদেশের বেশ বড় একটা শিল্প হতে চলেছে। খামারে সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োগ করলে এ দিন আর বেশি দূরে নয়। তাই খামারী হওয়ার টিপস সম্পর্কে বিষদভাবে জানতে হবে। 

    মুরগীর খাদ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং বাকারজাতকরণ- এ তিনটি বিষয়ে পান্ডিত্য থাকলে অতি সহজেই পোলট্রি ব্যবসায় লাভ করা যায়। পাশাপাশি, পোলট্রি খামারে প্রযুক্তির ভূমিকা অনেক। 

    তাই, সাধ্যমত প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পোলট্রি খামারের ভবিষ্যত পরিকল্পনা করলে অতি দ্রুত এ ব্যবসায় প্রসার লাভ করা সম্ভব।

    পোলট্রি ব্যবসা সম্পর্কে এতক্ষণ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানলাম আমরা। যেকোনো নতুন খামারী উদ্যোক্তার জন্য এ বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো মেনে চলা আবশ্যক। এতে একজন উদ্যোক্তা দ্রুত একজন সফল খামারী হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন।

  • মাটিবিহীন চাষাবাদ: আধুনিক কৃষির নতুন দিগন্ত 

    মাটিবিহীন চাষাবাদ: আধুনিক কৃষির নতুন দিগন্ত 

    আসিয়া আফরিন চৌধুরী

    বর্তমান যুগে খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাটিবিহীন চাষাবাদ, বিশেষ করে হাইড্রোপনিকস, অ্যাকোফনিকস এবং এয়ারোপনিকস, এই সমস্যাগুলির সমাধানে একটি যুগান্তকারী পদ্ধতি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে কৃষকরা উৎপাদন বাড়াতে এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করতে সক্ষম হচ্ছেন।

    মাটিবিহীন চাষাবাদের প্রক্রিয়া

    মাটিবিহীন চাষাবাদে মূলত মাটির ব্যবহার নেই। বরং এখানে গাছের শিকড়কে পুষ্টি সমৃদ্ধ জল বা নানান মাধ্যমের মাধ্যমে লালন পালন করা হয়। হাইড্রোপনিকস একটি অত্যন্ত পরিচিত পদ্ধতি, যেখানে গাছের শিকড়কে পুষ্টিকর পানির সলিউশনে রাখা হয়। এই পদ্ধতিতে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ভালো ফলন দেয়।

    অন্যদিকে, অ্যাকোফনিকসে মাছের চাষের সঙ্গে গাছের চাষকে সংযুক্ত করা হয়। এখানে মাছের বর্জ্য গাছের জন্য পুষ্টি হিসেবে কাজ করে, ফলে দুটি উৎপাদন একসঙ্গে হয়। এয়ারোপনিকসে, গাছের শিকড়গুলো কুয়াশায় ভিজিয়ে রাখা হয়, যা গাছকে দ্রুত বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

    সুবিধাসমূহ

    মাটিবিহীন চাষাবাদের অনেক সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এটি জল সংরক্ষণে সহায়ক। এই পদ্ধতিতে জল ব্যবহার কম হয়, যা পরিবেশের জন্য একটি বড় সুবিধা। উদাহরণস্বরূপ, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে প্রথাগত কৃষির তুলনায় ৯০% পর্যন্ত কম জল ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয়ত, স্থান সাশ্রয় সম্ভব। শহরাঞ্চলে জমির অভাব দেখা দিচ্ছে, এবং মাটিবিহীন চাষাবাদ এই সমস্যার সমাধান করে। এটি সীমিত জায়গায় অধিক ফলন উৎপাদন করতে সক্ষম।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো রোগ ও পোকামাকড়ের সংক্রমণ কমে আসা। যেহেতু এখানে মাটি ব্যবহার করা হয় না, তাই মাটির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন রোগ এবং পোকামাকড়ের প্রাদুর্ভাব অনেকটাই হ্রাস পায়। এর ফলে, কৃষকরা রসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমাতে পারে, যা পরিবেশের জন্য আরো নিরাপদ।

    জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণ

    মাটিবিহীন চাষাবাদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে খাদ্য উৎপাদনের জন্য জমির অভাব দেখা দিয়েছে। মাটিবিহীন চাষাবাদ শহরাঞ্চলে সহজে খাদ্য উৎপাদন করতে সহায়ক।

    বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং প্রযুক্তির উন্নতির ফলে মাটিবিহীন চাষাবাদ আরো কার্যকর হয়েছে। নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে এই পদ্ধতিতে উৎপাদন এবং ফলন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে। স্বাস্থ্যসম্মত ও জৈব খাদ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহও এই চাষাবাদকে জনপ্রিয় করছে।

    এছাড়াও, বিভিন্ন সরকার ও বেসরকারি সংস্থা মাটিবিহীন চাষাবাদকে সমর্থন করছে। তারা বিনিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং প্রণোদনা দিয়ে কৃষকদের এই পদ্ধতিতে উৎসাহিত করছে। এই উদ্যোগগুলো কৃষকদের জন্য নতুন বাজারের দরজা খুলে দিয়েছে।

    ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

    মাটিবিহীন চাষাবাদ খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। কৃষি গবেষকরা এ পদ্ধতিতে আরও নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে, শহরাঞ্চলে খাদ্য উৎপাদনের জন্য এটি একটি কার্যকর সমাধান।

    প্রযুক্তির উন্নতি এবং গবেষণার মাধ্যমে মাটিবিহীন চাষাবাদকে আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ডেটা বিশ্লেষণ ও সেন্সর প্রযুক্তির সাহায্যে কৃষকরা তাদের উৎপাদনকে আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

    মাটিবিহীন চাষাবাদ আধুনিক কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। এটি খাদ্য উৎপাদনকে আরও কার্যকর ও টেকসই করে তুলছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এটি একটি সম্ভাবনাময় সমাধান। কৃষকদের জন্য এটি একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যেখানে তারা অধিক ফলন ও কম সম্পদের ব্যবহার করে টেকসই কৃষির লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। মাটিবিহীন চাষাবাদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা একটি টেকসই ও নিরাপদ খাদ্য ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।

    facebook page

    কৃষি প্রোডাক্ট

  • রংপুরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রবি মৌসুমে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

    রংপুরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রবি মৌসুমে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

    নিজস্ব সংবাদদাতা রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলায়  রবি মৌসুমে ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

    উক্ত কর্মসূচির আওতায় দশটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট ৩৪৫০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সহায়তা পাবেন। এক্ষেত্রে গম বীজ ও সার সহায়তা পাবেন ২৪০ জন, সরিষা বীজ ও সার সহায়তা পাবেন ২৬২০ জন, ভূট্টা বীজ ও সার সহায়তা পাবেন ৫২০ জন,  সূর্যমুখী বীজ ও সার সহায়তা পাবেন ২০ জন, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ ও সার সহায়তা পাবেন ২০ জন ও অড়হড় বীজ ও সার সহায়তা পাবেন ৩০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক।

    একজন কৃষক কেবলমাত্র একটি ফসলের বীজ ও সার সহায়তা পাবেন।

    প্রতিজন কৃষক ০১ (এক) বিঘা জমির জন্য গম ফসলের ক্ষেত্রে ২০ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার, সরিষা ফসলের ক্ষেত্রে ০১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার, ভূট্টা ফসলের ক্ষেত্রে ০২ কেজি বীজ, ২০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার, সূর্যমুখী ফসলের ক্ষেত্রে ০১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার, শীতকালীন পেঁয়াজ ফসলের ক্ষেত্রে ০১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার এবং অড়হড় ফসলের ক্ষেত্রে ০২ কেজি বীজ, ০৫ কেজি ডিএপি সার ও ০৫ কেজি এমওপি সার সহায়তা পাবেন।

    বুধবার উক্ত বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন মোছাঃ মলিহা খানম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত), বদরগঞ্জ, রংপুর। আরও উপস্থিত ছিলেন মোছাঃ সেলিনা আফরোজ, উপজেলা কৃষি অফিসার এবং ডা: স্বপন চন্দ্র সরকার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার, বদরগঞ্জ, রংপুর।

    সরকারের গৃহীত উক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে রবি মৌসূমে গম, সরিষা, ভূট্টা, সূর্যমুখী, শীতকালীন পেঁয়াজ ও অড়হড় ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।

    facebook page

    কৃষি প্রোডাক্ট

  • ভোলায় গ্রেনেডসহ যুবক আটক

    ভোলায় গ্রেনেডসহ যুবক আটক

    মোঃ নোমান,ভোলা জেলা প্রতিনিধি

    দক্ষিণাঞ্চল কোস্ট গার্ড ভোলায় একটি সফল অভিযান পরিচালনা করে সুজন নামে এক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তার কাছ থেকে তিনটি গ্রেনেড ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

    ৬ নভেম্বর বুধবার রাতে কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে সন্ত্রাসী সুজন পালানোর চেষ্টা করলেও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা দ্রুততার সাথে তাকে আটক করতে সক্ষম হন। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে তিনটি শক্তিশালী গ্রেনেড এবং বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র রয়েছে যা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হতো বলে জানা গেছে।

    দক্ষিণাঞ্চল কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভোলা এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তারা আরও জানান, এই ধরনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমানো সম্ভব হবে।

    গ্রেপ্তারকৃত সুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। কোস্ট গার্ডের এই অভিযান এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    facebook page

    কৃষি প্রোডাক্ট

  • কৃষকের জন্য ১৫০০ টাকায় ধান কেনার দাবি উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ে

    কৃষকের জন্য ১৫০০ টাকায় ধান কেনার দাবি উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ে

    ঠাকুরগাঁও শহরে কৃষকদের পক্ষে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আমন ধানের দাম মণপ্রতি ১৫০০ টাকা নির্ধারণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার শহরের চৌরাস্তায় বাংলাদেশ কৃষক সমিতির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

    সমাবেশের আগে শহরের সাধারণ পাঠাগারের সামনে কৃষক ও কৃষক সমিতির নেতারা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হন। এরপর একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে কৃষকদের ১২ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি পেশ করেন।

    পথসভায় বক্তারা বলেন, কৃষির গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই, কারণ দেশের অর্থনীতি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি, উৎপাদন খরচ বাড়লেও কৃষকরা যথাযথ দাম পাচ্ছেন না। ধানের দাম যদি ১৫০০ টাকা না হয়, তবে কৃষকরা সঠিক দাম পাবে না এবং তাদের জীবনযাত্রা আরো কঠিন হয়ে পড়বে। বক্তারা আরও দাবি করেন, প্রতি ইউনিয়নে ক্রয়কেন্দ্র খুলে কৃষকদের সরাসরি ধান কেনার ব্যবস্থা করা উচিত এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

    facebook page

    কৃষি প্রোডাক্ট

  • ফসলের রোগ-বালাই: নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রভাব

    ফসলের রোগ-বালাই: নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রভাব

    ফসলের রোগ-বালাই সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা এবং সে অনুযায়ী উপযুক্ত নতুন প্রযুক্তি এবং গবেষণার প্রভাব সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রত্যেক কৃষকের জন্য অত্যাবশ্যক। এর ফলে ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।ফসলের রোগ-বালাই নিরাময়ে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। আমাদের কৃষিক্ষেত্রে পূর্বের তুলনায় যথেষ্ট পরিবর্তন এসেছে এবং তা সম্ভব হয়েছে এই প্রযুক্তির কারণে। 

    কিন্তু দু:খের বিষয় হলো এই প্রযুক্তিগত বিষয় গুলোতে আমাদের কৃষক ভাইয়েরা এখনো পুরোপুরি প্রবেশ কর‍তে পারেননি। এ সকল প্রযুক্তি সম্পর্কে  আজ আমরা আলোচনা করব।

    ফসলের রোগ-বালাই প্রতিরোধে প্রযুক্তির প্রভাব

    আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি মাধ্যমে রোগ-বালাই প্রতিরোধ করা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি প্রক্রিয়াকে স্মার্ট ফার্মিং বলা হয়। কিন্তু স্মার্ট ফার্মিং কেন জরুরি?

    এর বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এগুলো হলো-

    • বর্তমানে আবহাওয়া কৃষিকাজের জন্য আগের মত অনুকূল নয়। বিশেষত করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া এবং জলবায়ুর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। 
    • অত্যাধিক হারে কীটনাশক প্রয়োগের ফলে পোকামাকড় কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে যাকে বলা হয় ‘’রেসিটেন্ট”.।এক্ষেত্রে পূর্বের মত কীটনাশক দ্বারা পোকা, রোগ ইত্যাদি নির্মূল করা যাচ্ছে না।
    • কৃ্‌ষকের উৎপাদন খরচ মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেননা এত উচ্চ পরিমাণ রোগব্যাধির সাথে মোকাবেলা করতে নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন খরচ বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে পরিবেশ দূষণ।
    • কৃষিজমি গুলোতে আগের মত উর্বরতা নেই। অতিরিক্ত কর্ষণ এবং রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে জমির প্রাকৃতিক উর্বরতা হুমকির সম্মুখীন।

    ফলস্বরূপ, ফসলের রোগ-বালাই প্রতিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহার আবশ্যক হয়ে উঠছে।

    ফসলের রোগ-বালাই গবেষণা ও বিশ্লেষণ 

    রোগমুক্ত ফসল উৎপাদনের উপায় হলো ফসলের রোগ-বালাই গবেষণা ও বিশ্লেষণ করে নতুন নির্মূল পদ্ধতির আবিষ্কার করা।উদাহরণস্বরূপ, বেগুনের কিছু বন্য জাত আছে। সেখান থেকে বেগুণের রোগ-প্রতিরোধী জিন চাষযোগ্য জাতের মধ্যে বৈজ্ঞানিক উপায়ে দেয়া সম্ভব হওয়ায় নতুন জাতের বেগুন এসেছে যা “ছিদ্র পোকা”প্রতিরোধী।

    এখন, বেগুনের কোন জিনের উপস্থিতিতে এটা সম্ভব হবে তা না জানলে তো বিজ্ঞানীরা নতুন ভালো জাত উৎপাদন করতে পারবেন না। একারণে ফসলের রোগ সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা হওয়া আবশ্যক।

    আবার, রোগ বালাই সম্পর্কে যথাযথ গবেষণা করলে ফসল তোলার আগেই আগাম ধারণা পাওয়া যায় যে কেমন ফসল হতে পারে। এর ফলে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধী গ্রহণ করা সহজ হয়।

    ফসলের রোগ প্রতিরোধ প্রযুক্তি

    ফসলের রোগ প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে কৃষি বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে আসছেন ক্রমাগত। এগুলো সম্পর্কে কিছু বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক-

    • জৈবিক বালাইনাশক

    এসকল বালাইনাশক উদ্ভিদ বা প্রাণির দেহাংশ থেকে তৈরী হওয়ায় এগুলো উপকারী এবং নিরাপদ। বর্তমানে এর প্রচলন বেড়েছে বহুগুণে।আবার, কিছু শিকারী পোকা আছে যারা ফসলের ক্ষতিকর পোকাগুলোকে খেয়ে শেষ করে দেয়। এরা আক্ষরিক অর্থে বালাইনাশক না হলেও ভাবার্থে বালাইনাশক হিসেবেই গণ্য। 

    • কৃষিতে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার

    কৃষিতে ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে প্রত্যেকটি গাছে সঠিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব। এতে রোগ নিরাময় সহজ হয়।এই প্রযুক্তি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ফসলের রোগ নির্ণয় করতে সাহায্য করে। 

    • ফসলের রোগ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি

    ফসলের রোগ শনাক্ত করার জন্য বিভিন্ন ন্যানো প্রযুক্তি সমৃদ্ধ মেশিন আবিষ্কৃত হচ্ছে।

    • ফসলের রোগ প্রতিরোধী বীজ রোগ নিরাময়ে বেশ উপকারী। 

    কিছুক্ষণ আগের আলোচনা থেকে আমরা জেনেছি যে রোগ প্রতিরোধে নতুন প্রতিরোধী জাত আমাদের কতটা প্রয়োজনীয়। 

    এসব জাত যদি ভালো ফলন দেয়, তবে কম রাসায়নিক বস্তু প্রয়োগে আমাদের ফসল ফলানো সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন আমাদের মাটি বাঁচবে, তেমনি বাঁচব আমরা। 

    কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়নের প্রভাব

    ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর উপায় নির্ণয় করতে হলে কৃষকদের জন্য প্রযুক্তিগত সমাধান বেছে নেয়াই সর্বোত্তম উপায়। কৃষি প্রযুক্তি সীমিত হারে হলেও প্রয়োগ শুরু হয়ে গেছে।কিছু কিছু জায়গার কৃষক যারা কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করেন।তারা এসব প্রযুক্তি সম্পর্কে জানছেন এবং গ্রামের অন্য কৃষকদের জানাচ্ছেন।

    এছাড়াও প্রাকৃতিক নিরাময় পদ্ধতিগুলোও প্রয়োগ হচ্ছে নিয়মিত। ফসল বোনার পূর্বে এবং পরের করণীয় কাজগুলো সম্পর্কে বর্তমানে কৃষক ভাইয়েরা যথেষ্ট সচেতন। এই কারণে কিছুটা হলেও আমরা আমাদের অভাব মেটাতে পারছি। তবে এই প্রযুক্তিগত প্রয়োগ আরও দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে। তাহলেই আমাদের কৃষিব্যবস্থা এবং কৃষকদের উন্নতি হবে।

    অবশেষে, একটি কথাই বলা যায়, কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যতীত কৃষিতে উন্নয়ন অসম্ভব। তাই আমাদের সরকার এবং কৃষিক্ষেত্রে যারা কর্মরত আছেন, তাদের উচিৎ অবিলম্বে কৃষক ভাইদের এসব সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া এবং সচেতন করে তোলা।

  • মৎস্য খামারে রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ: সফল খামারীদের অভিজ্ঞতা

    মৎস্য খামারে রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ: সফল খামারীদের অভিজ্ঞতা

    মৎস্য খামারে রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ খামার ব্যবসায় লাভ করার একটি অন্যতম কৌশল। সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হলে খামারের খরচ কমানো সম্ভব হয়। একইসাথে, খামারের মোট লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। মৎস্য খামারে রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজনীয়তা আজ থেকে নয়, বরং অনেক আগে থেকেই চলে আসছে খামারীদের এ দুর্ভোগ।

    অনেক সময় চিকিৎসা কিংবা রোগ প্রতিকারে গুণতে হয় অনেক বড় অংকের টাকার পরিমাণ।যার ফলে হয়ত মূলধন টুকু উঠে আসছে, কিন্তু লাভ করতে পারছেন না অনেক খামারী। তাদের কথা চিন্তা করেই আমরা সাজিয়েছি মাছের রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এই বিষয়গুলো। সফল খামারীদের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা বিস্তারিত বর্ণনা করব প্রতিটি বিষয়। 

    মৎস্য খামারে রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ কেনো প্রয়োজন

    মৎস্য খামারে রোগ-বালাই এর সমস্যার আক্রণে খামারীদের ভোগান্তির স্বীকার হতে দেখা যায় অনেকসময় । বিভিন্ন জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম একটি মাধ্যম হলো পানি্সমযার ফলে কৃমি, জোঁক থেকে শুরু করে পরজীবী সবকিছুর আক্রমণেরই স্বীকার হতে হয় মাছকে। এ অবস্থায় সর্বক্ষেত্রে পরিপূর্ণ ব্যবস্থা না গ্রহণ করলে মাছ সহজেই আক্রান্ত হয়ে যায়। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন না করলে মড়ক নিশ্চিত।

    আর এর ফলে গুণতে হয় লোকসান। এ কারণেই রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়ে খামারীদের সবসময়ই সচেতন থাকতে হয়। 

    মৎস্য খামারে রোগ-বালাইয়ের প্রধান কারণসমূহ

    সফল মৎস্য খামারীদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে আমরা কিছু কারণ পেয়েছি যা রোগ-ব্যাধির প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচ্য। এ কারন গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো- 

    • পানির মানহীনতা এবং দূষণ

    পানি হলো মাছের বাসস্থান। তাই এর দূষণ মান হতে হবে শূণ্য। কিন্তু পানি যদি কোনো কারণে দূষিত হয় বা পানির মধ্যে কাদার পরিমাণ বেড়ে যায় তাহলে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। ফলস্বরূপ, মাছ তার বসবাসের উপযুক্ত স্থান পায় না এবং রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়। 

    • খাদ্য গুণগত মানের অভাব

    মাছের খাদ্য শুধু দিলেই হবে না, তা হতে হবে সুষম। মাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টির সবটুকু যদি না পায়, তাহলে মাছের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। 

    • পরিবেশগত সমস্যা এবং অতিরিক্ত ঘনত্ব

    মাছের পোনা ছাড়ার নির্দিষ্ট অনুপাত আছে। প্রয়োজনের তুলনায় কিংবা জায়গার তুলনায় অধিক পোনা ছাড়লে মাছের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় সেখানে। এর ফলে মাছ কর্তৃক উৎপাদিত বর্জ্যের পরিমাণও বেশি হয়। ফলে সহজেই সেখানে রোগ-ব্যাধির উৎপত্তি হয় এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। 

    পাশাপাশি রৌদ্রময় সুন্দর পরিবেশ না হয়ে স্যাতসেতে পরিবেশ হলে সেখানে রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয় যা মাছের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর অবস্থার সৃষ্টি করে। 

    • ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের সংক্রমণ

    বিভিন্ন রোগের জীবাণু যদি কোনোভাবে পুকুরে এসে মিশ্রিত হয় তবে সহজেই রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে।

    মাছের রোগের প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিতকরণ

    মাছের রোগের কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়। যদিও প্রত্যেকটি রোগের লক্ষণ আলাদা। আমাদের ওয়েবসাইট থেকে সহজেই এ সম্পর্কিত বিস্তারিত ধারণা আপনি পেয়ে যাবেন। তবে কিছু প্রাথমিক লক্ষণ থেকে আপনি আন্দাজ করতে পারেন যে মাছ রোগাক্রান্ত। 

    মাছের রোগ প্রতিরোধের কৌশল সম্পর্কে জানতে হলে এসব রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জানা বেশি জরুরী। তাই নিচে এগুলো উল্লেখ করা হলো-

    • শারীরিক লক্ষণ
      • শারীরিক লক্ষণের মধ্যে প্রথমেই দেখা যায় মাছের ত্বকের ক্ষতি। লালচে রঙের দাগ দেখা যায় মাছে। 
      • এছাড়াও, পাখনার ক্ষতি দেখা যায়।
      • মাছের শরীরের বিভিন্ন স্থানের মাংসপেশির রঙ এবং ধরণ পরিবর্তন ইত্যাদি থেকেও বোঝা যায়।
    • আচরণগত পরিবর্তন
      • মাছের মধ্যে রোগ দেখা দিলে খাদ্য গ্রহণে অনীহা দেখা যায়।
      • পাশাপাশি, তারা অস্বাভাবিকভাবে সাঁতার কাটে, একই জায়গায় বারবার ঘুরে। 

    এ ধরণের কিছু লক্ষণ দেখা দিলে বোঝা যাবে যে মাছ রোগাক্রান্ত হয়েছে।

    সফল খামারীদের রোগ-বালাই প্রতিরোধ কৌশল

    সফল খামারীদের রোগ প্রতিরোধের পরামর্শ থেকে আমরা মৎস্য খামারে রোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি। মাছের রোগ নিরাময়ের কার্যকর পদ্ধতি এবং মাছের রোগ সনাক্তকরণ প্রযুক্তি সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো। এর মাধ্যমে আপনারা মাছের প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে পারবেন। 

    বায়োসিকিউরিটি এবং খামারের স্বাস্থ্যবিধি

    মৎস্য খামারে জীবাণুনাশক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরূপ বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা গ্রহন করলে মৎস্য খামারে পরিবেশগত স্বাস্থ্য নিশ্চিত হয়। খামারের যাবতীয় ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হতে হবে। তা না হলে রোগব্যধি ছড়িয়ে পড়বে। খামারে যেসব যন্ত্রপাতির ব্যবহার হয়, সেগুলো জীবাণুনাশক হওয়া আবশ্যক।

    নিয়মিত মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ও রোগ পর্যবেক্ষণ

    মাছ নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ না করলে আপনি বুঝতে পারবেন না যে মাছের আদৌ সব চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা। মৎস্য রোগ বিষয়ে সঠিক এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হলে মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও আবশ্যক।নিয়মিতভাবে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এর পরামর্শ অনুযায়ী মাছের শারীরিক এবং আচরণগত পর্যবেক্ষণ করা আবশ্যক।

    সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং খামার পরিষ্কার রাখা

    খাদ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা পরস্পর একে অপরের সাথে জড়িত। এক্ষেত্রে সঠিকভাবে খাদ্য ব্যবস্থাপনা করা আবশ্যক। উপযুক্ত পরিমাণে খাবার প্রদান করলে মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ফলস্বরূপ মাছ সঠিকভাবে বৃদ্ধি লাভ করতে পারে। 

    মৎস্য খামারে পানির গুণমান এবং পরিবেশ রক্ষা

    মৎস্য খামারে পানির গুণমান নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কেননা পানির মান খারাপ হয়ে গেলে মাছ রক্ষা করা সম্ভব হয়না। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, 

    • পানির pH এবং অক্সিজেনের মাত্রা যেনো উপযুক্ত পরিমাণে থাকে। 
    • খামারের সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর‍তে হবে। মাছের বর্জ্য যথাসময়ে পরিষ্কারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। 
    • খামারের সুস্থ পরিবেশ রক্ষা এবং ভারসাম্য বজায় রাখা একইসাথে আবশ্যক।

    পরিশেষে বলা যায়, খামারে রোগ ব্যবস্থাপনার সফলতা নির্ভর করে উপযুক্ত পর্যবেক্ষণের উপর। তাই খামারিদের নিজের খামার সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়সমূহ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খেয়াল রাখতে হবে।

    কৃষি পাওডাক্ট

    facebook page

  • রংবাহারি পিটুনিয়া গাছের যত্ন নেবেন যেভাবে

    রংবাহারি পিটুনিয়া গাছের যত্ন নেবেন যেভাবে

    শীতে বাগানের শোভা বাড়াতে রংবাহারি পিটুনিয়া ফুলের চেয়ে আর কিছু হতে পারে না। লাল, নীল, বেগুনি, গোলাপি—নানা রঙের পিটুনিয়া ফুলের মধ্যে যেন এক অপূর্ব সুন্দরতা ফুটে ওঠে। কিছু ফুলে একাধিক রংও থাকে, যা বাগানের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে, অনেকেই জানেন না যে এই গাছের সঠিক যত্ন কিভাবে নিতে হয়, যার কারণে গাছে আশানুরূপ ফুলও দেখা যায় না। তবে চিন্তা নেই! আমরা জানাচ্ছি কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস, যেগুলো অনুসরণ করলে আপনার পিটুনিয়া গাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠবে এবং বেশি ফুল ধরবে।

    পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করুন

    পিটুনিয়া গাছের জন্য আলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি সরাসরি সূর্যালোকে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং সুন্দর ফুল দেয়। তাই প্রতিদিন অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যের আলোতে গাছ রাখুন। যদি গাছটি আপনি ঘরে রাখেন, তবে এমন স্থানে রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো পৌঁছায়। সূর্যের আলো না পেলে গাছের ফুল কম হতে পারে এবং গাছ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

    নিয়মিত পানি দিন

    পিটুনিয়া গাছ নিয়মিত পানি পছন্দ করে, তবে অতিরিক্ত পানি দেওয়া উচিত নয়। মাটির কিছু অংশ শুকিয়ে গেলে পানি দেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু মাটি অতিরিক্ত ভেজা থাকলে শিকড় পচে যেতে পারে। তাই পানি দেওয়ার পরিমাণের প্রতি খেয়াল রাখুন। একদিকে যেন মাটি স্যাঁতসেঁতে না থাকে, আর অন্যদিকে যেন গাছের শিকড় অতিরিক্ত শুকিয়ে না যায়।

     সঠিক মাটি ব্যবহার করুন

    পিটুনিয়া গাছের জন্য হালকা, নিষ্কাশন ক্ষমতাসম্পন্ন মাটি সবচেয়ে উপযুক্ত। এই ধরনের মাটি গাছের শিকড়ের জন্য ভালো পরিবেশ সৃষ্টি করে, যাতে গাছ সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে। মাটিতে কিছুটা জৈব সার বা কম্পোস্ট মেশালে গাছের বৃদ্ধি ভালো হবে এবং ফুলও বেশি আসবে।

     সার প্রয়োগ করুন

    পিটুনিয়া গাছকে নিয়মিত সার প্রয়োগ করলে ফুলের সংখ্যা অনেক বাড়ে। সাধারণত ২-৩ সপ্তাহ পরপর তরল সার ব্যবহার করা উচিত। নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ সার গাছের ফুল ধরানোর জন্য উপকারী। নিয়মিত সার প্রয়োগের মাধ্যমে গাছের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ফুলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়।

    পোকামাকড় রোগ থেকে রক্ষা করুন

    পিটুনিয়া গাছ মাঝে মাঝে পোকামাকড় বা ছত্রাকের আক্রমণের শিকার হতে পারে। সেক্ষেত্রে গাছের সুরক্ষায় কীটনাশক ব্যবহার করা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক উপায়ে যেমন, নিমপাতার রস বা হালকা কীটনাশক ব্যবহারে গাছকে রক্ষা করা যেতে পারে। এটি গাছের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, এবং পোকামাকড় দূর করতে সাহায্য করে।

     মরা ফুল পাতা ছেঁটে দিন

    পিটুনিয়া গাছের শুকিয়ে যাওয়া ফুল বা পাতা নিয়মিত ছেঁটে ফেলুন। এর ফলে গাছ নতুন ফুল ধরতে উদ্দীপ্ত হয় এবং গাছের শোভাও বৃদ্ধি পায়। এটি গাছের বৃদ্ধি এবং ফুল ধরার জন্য সহায়ক।

     তাপমাত্রা বজায় রাখুন

    পিটুনিয়া গাছ ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারে না, তাই শীতকালীন সময়ে গাছের জন্য ১৫-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আদর্শ। শীতকালে গাছটি বাইরে রাখলে তাপমাত্রা খুব কম হলে গাছের বৃদ্ধি কমে যেতে পারে এবং ফুলও কম আসতে পারে। শীতকালে গাছ ঘরে নিয়ে আসলে তা ভালোভাবে বেড়ে উঠবে এবং ফুল দিবে।

    এই সব পরামর্শ মেনে চললে আপনার পিটুনিয়া গাছের যত্ন নেয়া হবে সঠিকভাবে, এবং শীতে গাছটি আপনার বাগানে রংবাহারি ফুল দিয়ে তার শোভা বাড়াবে। সঠিক পরিচর্যায়, আপনিও পাবেন সুন্দর ও পরিপূর্ণ পিটুনিয়া ফুল গাছ।

    আরও জানতে: Facebook Page  

     

  • অনিবন্ধিত উৎস থেকে বালাইনাশক আমদানির অভিযোগ, অনুসন্ধানের নির্দেশ

    অনিবন্ধিত উৎস থেকে বালাইনাশক আমদানির অভিযোগ, অনুসন্ধানের নির্দেশ

    কৃষিতে ব্যবহৃত বালাইনাশক অনিবন্ধিত ও বেআইনি উৎস থেকে আমদানি হচ্ছে, এমন অভিযোগ অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কৃষি, বাণিজ্য, পরিবেশ ও বনসচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান করে দুই মাসের মধ্যে বিবাদীদের আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

    এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন। আগামী বছরের ৪ জানুয়ারি শুনানির পরবর্তী দিন রেখেছেন আদালত।

    নিম্নমানের বালাইনাশক অননুমোদিত উৎস থেকে আমদানি, আয়কর ফাঁকি, জাল–জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ নিয়ে গত অক্টোবরে একটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই বিষয়ে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. সালেকুজ্জামান সাগর আবেদনকারী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন।

    আদেশের বিষয়টি আজ সোমবার জানিয়ে আইনজীবী মো. সালেকুজ্জামান সাগর প্রথম আলোকে বলেন, “নিবন্ধিত উৎস থেকে বালাইনাশক আমদানি করতে হবে। অথচ অনিবন্ধিত ও বেআইনি উৎস থেকে বালাইনাশক আমদানি করা হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের বালাইনাশক কৃষিজমি ও ফসলের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যে কারণে রিটটি করা হয়।”

    শুনানি নিয়ে আদালত রুল দিয়ে অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন। রুলে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত ও বেআইনি উৎস থেকে বালাইনাশক আমদানির অভিযোগ অনুসন্ধান করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না।

    আরও জানতেঃ Facebook Page