Blog

  • প্রথম ধাপের ইজতেমা শুরু কাল, সড়ক ও পার্কিং নির্দেশনা

    প্রথম ধাপের ইজতেমা শুরু কাল, সড়ক ও পার্কিং নির্দেশনা

    ইউএনবি

    বিশ্বে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত হিসেবে পরিচিত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপ আগামীকাল ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত হবে।

    ইজতেমার দ্বিতীয় ধাপ আগামী ৯ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি একইস্থানে অনুষ্ঠিত হবে।

    বৃহৎ এই জমায়েতকে সামনে রেখে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) যৌথভাবে ট্রাফিক ও গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা জারি করেছে।

    ইজতেমার প্রতিটি ধাপের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

    গতকাল বুধবার পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যান চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট এড়ানো ও মুসল্লিদের চলাচল নির্বিঘ্নে করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করা হয়।

    পার্কিং নির্দেশাবলী

    রাজধানীর খিলক্ষেত-আব্দুল্লাহপুর-ধউর সেতু থেকে সড়ক ও আশপাশের এলাকাকে নো-পার্কিং জোন ঘোষণা করা হয়েছে।

    নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা

    ইজতেমায় মুসল্লিদের অংশগ্রহণের জন্য গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধার কয়েকটি জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছে পুলিশ।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পার্কিং: ৩০০ ফুট রাস্তার পাশে স্বদেশ সম্পত্তির খালি জায়গা।

    ডিএমপি এলাকার ভেতরে বিভাগীয় পার্কিং:

    ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ পার্কিং: ১৫ নম্বর সেক্টরের কদম আলী মার্কেট, ৫ নম্বর সেক্টরের কদম আলী মার্কেট এবং ১৭ নম্বর সেক্টরের উলুদহ মাঠ।

    সিলেট ও খুলনা বিভাগের পার্কিং: উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের লেকপাড় মাঠ।

    রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ: ১০ ও ১১ নম্বর ব্রিজের পশ্চিম পাশ, ১৬ নম্বর সেক্টর ও বউবাজার মাঠের ভেতর।

    জিএমপি এলাকার ভেতরে বিভাগীয় পার্কিং:

    ময়মনসিংহ ডিভিশন পার্কিং: চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয়, চৌরাস্তা, গাজীপুর।

    উত্তরবঙ্গ ও টাঙ্গাইল থেকে আসা গাড়িগুলো ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ ও পূবাইল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পার্কিং করবে।

    সরকারি যানবাহন: টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) ও টঙ্গী সরকারি কলেজ মাঠ।

    পার্কিং করা যানবাহনের চালক ও হেলপারদের অবশ্যই তাদের গাড়ির সঙ্গে থাকতে হবে। মুসল্লি ও চালক একে অপরের মোবাইল নম্বর রেখে দেবেন, যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। চালকের মোবাইল নম্বর অবশ্যই গাড়ির সামনে দৃশ্যমান হতে হবে।

    ডাইভারশন পয়েন্ট (শুধু সমাপনী মোনাজাতের দিন ৪ ও ১১ ফেব্রুয়ারি)

    ধউর সেতু, ১৮ নম্বর সেক্টর পঞ্চবটি ক্রসিং, পদ্মা লুপ, ১২ নম্বর সেক্টর খালপাড়, মহাখালী ক্রসিং, হোটেল রেডিসন ব্লু ক্রসিং, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক (বিশ্ব রোড নিকুঞ্জ-১ কাচ্চি গেইট), কুড়াতলী ফ্লাইওভার লুপ-২, মহাখালী ফ্লাইওভার পশ্চিম পাশ, মিরপুর দিয়াবাড়ি বাসস্ট্যান্ড ক্রসিং, আশুলিয়া বাজার ক্রসিং।

    ইজতেমার দুই ধাপেই মান্নু গেট থেকে কামারপাড়া সড়ক বন্ধ থাকবে।

    ভোগড়া বাইপাস থেকে আব্দুল্লাহপুর থেকে দ্বিমুখী ও মীরের বাজার থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত দ্বিমুখী সড়কে ৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা এবং ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

    বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী ভিভিআইপি/ভিআইপি/বিদেশি মুসল্লিদের বহনকারী যানবাহনগুলোকে বিএনএস টাওয়ার থেকে টঙ্গী ফ্লাইওভার ব্যবহার করে স্টেশন রোডে নেমে মান্নু গেইট, কামারপাড়া সড়ক হয়ে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    সমাপনী মোনাজাতের দিন ভোর ৪টা থেকে আব্দুল্লাহপুর, ধউর ব্রিজ মোড় পরিহার করে মহাখালী, বিজয় সরণী-গাবতলী হয়ে সব ধরনের বাস ও কাভার্ডভ্যানসহ ভারী যানবাহন চলাচল করবে।

    মোনাজাতের দিন ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় পদ্মা লুপ ও কুড়াতলী লুপ-২ থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিদেশগামী পরিবহন সেবা দেওয়া হবে।

    মোনাজাতের দিন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাওলা/বিমানবন্দর বহির্গমন না করার জন্যও অনুরোধ করা হলো।

    ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কিত যেকোনো সহযোগিতার জন্য যাত্রীদের নিচের নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ: উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর)- ০১৩২০-০৪৩৯৪০, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর)- ০১৩২০-০৪৩৯৪১, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর-পূর্ব জোন)- ০১৩২০-০৪৩৯৫২, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-নর্থ ওয়েস্ট জোন)- ০১৩২০-০৪৩৯৫৫, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-এয়ারপোর্ট জোন)- ০১৩২০-০৪৩৯৫৮, পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন)- ০১৩২০-০৪৩৯৭৩, টিআই (আব্দুল্লাহপুর)- ০১৩২০-০৪৩৯৬৮, টিআই (কামার পাড়া)- ০১৩২০-০৪৩৯৭১, টিআই (কামার পাড়া)- ০১৩২০-০৪৩৯৭১, টিআই (ধউর সেতু)- ০১৩২০-০৪৩৯৭০, টিআই (বিমানবন্দর)- ০১৩২০-০৪৩৯৬২, ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম- ০১৭১১-০০০৯৯০।

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ: অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক)- ০১৩২০-০৭০৯৯১, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর)- ০১৩২০-০৭১০০৪, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ)- ০১৩২০-০৭১২৭৭, পুলিশ পরিদর্শক (নগর ও ট্রাফিক) (স্টেশন রোড)-০১৩২০-০৭১২৯১, ইজতেমা কন্ট্রোল রুম (হটলাইন)- ০১৩২০-০৭২৯৯৯, কন্ট্রোল রুম, জিএমপি-০১৩২০-০৭২৯৯৮, ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম- ০১৩২০-০৭১২৯৮।

    র‍্যাব: র‍্যাব-১ কন্ট্রোল রুম- ০১৭৭৭৭১০১৯৯, র‍্যাব সদরদপ্তর কন্ট্রোল রুম- ০১৭৭৭৭২০০২৯

    প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যাবে।

  • নোয়াখালীতে মাটির ট্রাক্টর উল্টে কিশোর চালকের মৃত্যু: কোম্পানীগঞ্জে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

    নোয়াখালীতে মাটির ট্রাক্টর উল্টে কিশোর চালকের মৃত্যু: কোম্পানীগঞ্জে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

    নোয়াখালী প্রতিনিধি

    নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে একটি মাটিবাহী ট্রাক্টর উল্টে ১৬ বছর বয়সী কিশোর চালক ইসমাইল হোসেন (শাহিন) নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে শনিবার সকালে, চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রয়েল ব্রিক ফিল্ডে।

    নিহত ইসমাইল হোসেন স্থানীয় মোহাম্মদ আবুল হাশেমের ছেলে এবং চর ফকিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ইটভাটায় মাটিভর্তি ট্রাক্টর নিয়ে নিচে থেকে ওপরের দিকে উঠছিলেন। তবে, অসাবধানতাবশত ট্রাক্টরটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে চালক ইসমাইল ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

    কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি জানান, চালক ট্রাক্টরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে মারা যান। তবে, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশের তদন্ত ছাড়া দাফন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

    এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ট্রাক্টর চালকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব যানবাহনের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এ দুর্ঘটনা আমাদের সতর্ক করে দেয় যে, আমাদের সকলের সুরক্ষিত পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে নজর দিতে হবে।

  • খাগড়াছড়িতে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

    খাগড়াছড়িতে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

    বাসস

    খাগড়াছড়ি জেলার প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরিষা একটি মধ্যবর্তী ফসল, যার উৎপাদন খরচ কম এবং ভোজ্যতেল হিসেবে এর চাহিদা বাড়ছে, ফলে কৃষকরা এখন সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ফসলের মাঠে সরিষা ফুলের হলুদ আভা সাড়া ফেলেছে।

    এ বছর খাগড়াছড়ি জেলার কৃষকরা সরিষা চাষে বেশ সফলতা অর্জন করেছেন। তারা বলছেন, ধানের তুলনায় সরিষার উৎপাদন খরচ কম এবং লাভও বেশি। সরিষা চাষের মাধ্যমে কৃষকরা একদিকে যেমন লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে এখানকার পরিবেশও সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়ে উঠছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর খাগড়াছড়িতে ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। কৃষকরা বলছেন, প্রণোদনা এবং সহযোগিতা পেলে তারা আরও বেশি জমিতে সরিষা চাষ করবেন।

    কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী বছর যদি সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকে, তবে সরিষা চাষের লক্ষ্য ১ হাজার হেক্টরে পৌঁছাবে। এই বছর ৮ হাজার ৮৮০ টন সরিষা উৎপাদিত হয়েছে, এবং আগামী ২০২৫-২৬ মৌসুমের মধ্যে ৫০% বেশি জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। খাগড়াছড়ির কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগে উপ-পরিচালক মোহাম্মদ বাছিরুল আলম বলেন, কৃষকদের জন্য আগামী দিনে আরও সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে তারা সরিষার ফুল ও ফল থেকে মধু আহরণ করতে পারেন এবং উৎপাদন বাড়াতে পারেন।

    খাগড়াছড়ির কৃষকরা জানিয়েছেন, বোরো চাষের তুলনায় সরিষা চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি। জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এখন সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। উদাহরণস্বরূপ, মানিকছড়ি উপজেলার কৃষক আফসার হোসেন বলেন, বোরো চাষের খরচ ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা হলেও, সরিষা চাষে খরচ মাত্র ৫ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। একর প্রতি লাভ ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকার মতো।

    সরিষা চাষের সুবিধা শুধু লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। সরিষার ফুল ও ফল মাটিতে পড়ে গিয়ে মাটির পুষ্টি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, যা পরবর্তী ফসলের উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া, সরিষার ফুল মৌমাছিদের জন্য আকর্ষণীয়, যা পরাগায়ন বৃদ্ধি করে এবং ফলনের উন্নতি ঘ

    খাগড়াছড়ি জেলার কৃষকরা এখন সরিষা চাষে ব্যাপক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় তারা আরও বেশি জমিতে সরিষা চাষ করবেন বলে আশা করছেন। প্রাথমিক ফলন ও লাভের ভিত্তিতে আগামী বছর সরিষার চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং খাগড়াছড়ি সরিষা উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

  • সুন্দরবনের ছইলা ফল: এক বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক উপহার

    সুন্দরবনের ছইলা ফল: এক বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক উপহার

    আসিয়া আফরিন চৌধুরী

    গহিন সুন্দরবনের শিবসা নদীতে আমাদের নৌকা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে। উজান থাকা সত্ত্বেও স্রোতের ধারা কম থাকায় নৌকার বইঠা বেয়ে চলা খুব কষ্টকর হচ্ছে না। সূর্যদেব তখন তার কোমলতা ঝেড়ে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিচ্ছিল। নদীজুড়ে সূর্যের লাল আভা প্রতিফলিত হয়ে সোনালি রঙ ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। হালকা কুয়াশা গায়ে মেখে একদল চিত্রা হরিণ নদীপাড়ে বিচরণ করছে। এই সময় চোখে পড়ল একটি অদ্ভুত ফল, যা দেখতে কেওড়া বা ডুমুরের মতো হলেও আকারে বড় এবং গাঢ় সবুজ ডিম্বাকার পাতার মধ্যে ঝুলে ছিল।

    এই ফলটি সম্পর্কে স্থানীয় জেলে লিয়াকত আলী বললেন, ‘‘এটি ছইলা ফল। এর স্বাদ কেওড়ার মতো টক। আমাদের মতোই সুন্দরবনের হরিণ ও বানররা এই ফল খুব পছন্দ করে। বানরের দল গাছ থেকে ফল ও পাতা ফেলে আর হরিণ সেগুলো খেয়ে নেয়।’’ ছইলা ফলটি সুন্দরবনের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের একটি অমূল্য উপহার হিসেবে পরিচিত।

    ছইলা গাছের বৈশিষ্ট্য:

    ছইলা গাছটি সুন্দরবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের একটি। এটি লবণাক্ত জল ও মাটি সহ্য করতে সক্ষম। নরম কাদার উপর দাঁড়িয়ে থাকা এই গাছটি প্রবল হাওয়া ও স্রোতে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, কারণ এর শিকড়গুলো একে মজবুতভাবে মাটির সাথে সংযুক্ত রাখে। ছইলাগাছের গোড়ায় শ্বাসমূল থাকে, যা বাতাস থেকে অক্সিজেন ও জলীয়বাষ্প গ্রহণ করতে সহায়তা করে। এটি সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিটার উচ্চতায় বেড়ে উঠে এবং চিরসবুজ হয়ে থাকে।

    ছইলা ফল ও ফুল:

    ছইলা গাছের ফলের আকার কেওড়ার চেয়ে বড় এবং টক স্বাদের। ফল পাকলে হলদে রঙ ধারণ করে। সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ছইলা ফল পাওয়া যায়, যা প্রায় এক কেজি ওজনের হয়ে থাকে। ছইলা গাছের ফুলের মধ্যে অনেকটা লোমশ কলি থাকে, যা সাদা ও গোলাপি রঙের মধ্যে ফুটে থাকে। ছইলা ফুল রাতের বেলায় সুন্দরবনের জোনাকি পোকার অন্যতম আশ্রয়স্থল।

    ছইলা ফলের ব্যবহার:

    ছইলা ফল সুন্দরবনের মানুষের কাছে অতি জনপ্রিয়। কাঁচা ছইলা ফল চিংড়ি বা মসুর ডাল দিয়ে রান্না করা হয়। এছাড়াও, এটি আচার ও চাটনি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ভর্তা করেও খাওয়ার রীতি রয়েছে। ছইলা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়, যা সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।

    এছাড়াও, এই ফলটি সুন্দরবনের হরিণ, বানর, এবং পাঙাশ মাছের খাদ্য হিসেবে পরিচিত। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় ছইলা গাছ ও তার ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    সুন্দরবনের এই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের কাছে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দেয়, যেখানে মানুষের সাথে প্রকৃতি ও জীবজন্তুর এক নিবিড় সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়।

  • চীনে করোনার পর নতুন আতঙ্ক: এইচএমপিভি ভাইরাস

    চীনে করোনার পর নতুন আতঙ্ক: এইচএমপিভি ভাইরাস

    আসিয়া আফরিন চৌধুরী

    চীনের সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সম্প্রতি একটি নতুন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে, যা “এইচএমপিভি” (HMPV) নামে পরিচিত। দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় চরম ভিড় তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাসটি বছরের পুরো সময় ধরে ছড়ায় না, বরং শীতকাল ও বসন্তকালে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

    এইচএমপিভি ভাইরাসের উপসর্গ:

    এইচএমপিভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যেসব প্রধান উপসর্গ দেখা যায়, তা হলো:

    • তীব্র শ্বাসকষ্ট
    • জ্বর
    • সর্দি
    • কাশি
    • মাথাব্যাথা

    বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা এই ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

    করোনা বিধিনিষেধ ও এইচএমপিভি ভাইরাসের বিস্তার:

    একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, চীনের সেই সব এলাকায় এইচএমপিভি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেছে যেখানে দীর্ঘদিন করোনার কঠোর বিধিনিষেধ চলেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার বিরুদ্ধে লকডাউনের ফলে ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলেও, এটি মানুষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর ফলস্বরূপ, এইচএমপিভি ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য গুরুতর উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

    বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে শীতকাল ও বসন্তকালে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং শিশু-বয়স্কদের বিশেষ যত্নের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব।

    চীনে এইচএমপিভি ভাইরাসের প্রকোপ:

    এইচএমপিভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা চীনের বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে দ্রুত বাড়ছে, যা করোনার পরবর্তী সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আরও সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।

    এইচএমপিভি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে মুক্তি পেতে, শীতকাল এবং বসন্তে শ্বাসকষ্টের লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • চরাঞ্চলে গরু-মহিষ পালনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা: লক্ষ লক্ষ টাকার আয়ের সম্ভাবনা

    চরাঞ্চলে গরু-মহিষ পালনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা: লক্ষ লক্ষ টাকার আয়ের সম্ভাবনা

    সাইফুল ইসলাম, পটুয়াখালী প্রতিনিধি

    পটুয়াখালী জেলার চরাঞ্চলে গরু ও মহিষ পালনের মাধ্যমে দুধ, দধি, ঘি এবং ছানা উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। এখানকার চরাঞ্চলে প্রচুর গাভী গরু ও মহিষ রয়েছে, যেগুলি গড়ে দৈনিক ৩ কেজি দুধ উৎপাদন করে। এই দুধের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ঘি, দধি, এবং ছানা উৎপাদন করলে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকার আয় হতে পারে।

    বাউফল উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৬ হাজার পরিবার গাভী পালন করে, এবং প্রতিদিন ১২ হাজার কেজি দুধ উৎপাদন হয়। দক্ষিণাঞ্চলের মহিষ পালনকারীরা, সাধারণত জমি চাষের পর ঘাস খাওয়ার জন্য চরাঞ্চলে তাদের মহিষ রাখে, এবং এই অঞ্চলগুলিতে গরু-মহিষ পালনের কাজ চলে। এর মধ্যে বাউফল উপজেলার চরব্যারেট, বাসুদেবপাশা, দশমিনা উপজেলার চরহাদি, শাহজালাল ও চরবোরহান, গলাচিপা উপজেলার চরকাজল, চরবিশ্বাস, আমতলী থানার চর দোয়ানী, পদ্যাচর, এবং বরগুনা সদর থানার বালিয়াতলী উল্লেখযোগ্য।

    তবে, মহিষের দুধের বাজার খুবই সীমিত, কারণ দেশের মানুষের মধ্যে মহিষের দুধের চাহিদা কম। কিন্তু, যদি পরিকল্পিতভাবে মহিষের দুধ সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ এবং ঘি উৎপাদনের ব্যবস্থা করা যায়, তবে হাজার হাজার মহিষের দুধ থেকে ঘি উৎপাদন করা সম্ভব, যা বছরে ১ কোটি টাকারও বেশি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    চরমিয়াজান এলাকা থেকে আ: খালেক প্রতিদিন ৩০-৪০ কেজি দুধ কালাইয়া ও বাউফল বাজারে বিক্রি করেন। বর্তমানে ১ কেজি দুধের মূল্য ৮০ টাকা। একইভাবে, শাহ আলম হাওলাদার ৪টি গাভী পালন করে প্রতিদিন ৮ কেজি দুধ বিক্রি করছেন। এসব উদাহরণ স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, গাভী পালন করে সংসার চালানো এবং কিছুটা আয় করা সম্ভব। এছাড়া, বাউফল ও কালাইয়া, বগা, কালিশুরী বন্দরে প্রতিদিন ৩ হাজার কেজি দুধ বিক্রি হয়।

    দুধের প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ছানা, দধি এবং ঘি তৈরি করা সম্ভব। বাউফল উপজেলার মিষ্টান্ন মালিক বাসুদেব জানান, ৬ কেজি দুধে ১ কেজি ছানা তৈরি হয় যার বাজার মূল্য ৬০০ টাকা। আর ৮০ কেজি দুধ দিয়ে ১ কেজি ঘি তৈরি হয়, যার বাজার মূল্য ২ হাজার টাকা কেজি। ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলে দধি রপ্তানি করে বেশ ভালো আয় করা সম্ভব। এজন্য কাচামাল উপকরণ এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

    পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন এবং পশুসম্পদ অফিসের কম্পাউন্ডার ফারক হোসেন জানান, চরাঞ্চলের পরিবারগুলি উন্নত মানের গাভী পালন করে, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব। নদী পথে ঢাকায় দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্য রপ্তানি করে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার আয় হতে পারে।

    এভাবে, চরাঞ্চলের মহিষ ও গাভী পালনে পরিকল্পনা ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে স্থানীয় পরিবারগুলির জীবনে অর্থনৈতিক সাফল্য আনা সম্ভব, যা তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথকে আরো প্রসারিত করবে।

  • টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়লেন নাজমুল হোসেন শান্ত

     

    বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিকেটবিষয়ক গণমাধ্যম ক্রিকবাজ তাদের এক খবরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    শান্ত জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকেই তিনি অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তা তখন বাস্তবায়িত হয়নি। তবে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নিজের ব্যাটিংয়ে আরও মনোযোগী হতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই দফায় আপাতত টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব থেকে সরে আসছেন শান্ত, তবে টেস্ট এবং ওয়ানডে অধিনায়কত্ব চালিয়ে যাবেন।

    ক্রিকবাজ বিসিবির শীর্ষ এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানায়, “শান্ত শেষ পর্যন্ত আমাদের জানিয়ে দিয়েছে, সে আর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অধিনায়ক থাকবে না। আমরা সেটি মেনে নিয়েছি, কারণ আমাদের এই মুহূর্তে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নেই। তবে যদি কোনো ইনজুরি সমস্যা না থাকে, তাহলে নাজমুল টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে থাকবে।”

    বর্তমানে বিপিএল দল ফরচুন বরিশালের হয়ে ব্যস্ত আছেন শান্ত। নভেম্বরে আফগানিস্তান সিরিজে কুঁচকির ইনজুরির পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ মিস করেছেন তিনি। এনসিএল টি-টোয়েন্টি আর বিপিএল দিয়েই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য নিজেকে ফিট করার মিশনে রয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচে বাংলাদেশ দলের হয়ে টস করার সম্ভাবনা রয়েছে শান্তর।

    এদিকে শান্তর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে এগিয়ে আছেন লিটন কুমার দাস। যদিও ব্যাট হাতে কিছুটা ধুঁকছেন, তবে উইকেটের পেছনে এবং অধিনায়কত্বে বেশ ছন্দে আছেন লিটন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার নেতৃত্বে ক্রিকেটভক্তরা মুগ্ধ হয়েছিলেন। সিরিজ শেষে তিনি জানিয়েছেন, বিসিবি চাইলে তিনি জাতীয় দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

    শান্তর এমন সিদ্ধান্তের পর আবারও বাংলাদেশ ক্রিকেটে একাধিক অধিনায়কের যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের আগে সাকিব আল হাসান ছিলেন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক, তামিম ইকবাল ছিলেন ওয়ানডে অধিনায়ক। তামিমের নেতৃত্ব ছাড়ার পর সাকিবকে তিন ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে সাকিবও গত বছর শুরুতে অধিনায়কত্ব ছাড়েন, এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শান্ত তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক হন। এক বছরও পূর্ণ না হতেই শান্ত এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন।

  • নোয়াখালী জেলার ঠান্ডা প্রবাহ এবং শীতের পোশাকের চাহিদা

    নোয়াখালী জেলার ঠান্ডা প্রবাহ এবং শীতের পোশাকের চাহিদা

    নোয়াখালীর জেলা জজ আদালত সড়কের পাশে ফুটপাতে শীতের কাপড় সংগ্রহ করতে আসা রিকশাচালক আবদুর রহিম জানান, এই মৌসুমে শীতের প্রস্তুতি ছিল না তাঁর। তীব্র শীত অনুভব করছেন, আর তাই শীতের কাপড় কিনতে ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘‘শীতের কাপড় নাই। এবার অনো কেউ কম্বল দেয় ন। হোলাহাইনের ঠান্ডা লাগের। তাই টেয়া ধার করি গরম কাপড় কিনতাম আইসি।’’

    আজ সকাল থেকে নোয়াখালীর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। সূর্য ওঠেনি, আর চারপাশে কুয়াশাচ্ছন্ন অবস্থা বিরাজ করছে। জেলা শহর মাইজদীতে তাপমাত্রা ১৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও শৈত্যপ্রবাহের জন্য তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামতে হয়, তবে এখানকার শীতের তীব্রতা অনেকের জন্যই কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

    আজকের দিনে, নোয়াখালীর সুপারমার্কেট, হকার্স মার্কেটসহ বেশ কিছু বিপণিবিতানে শীতের কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে ফুটপাতে এবং ছোট দোকানগুলিতে তুলনামূলক কম মূল্যে শীতের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে, যার কারণে ক্রেতাদের ভিড় সেখানে বেশি।

    শীতের তীব্রতা অনুভব করে, তিন বছরের ছেলে জাহিদকে কোলে নিয়ে হকার্স মার্কেটে এসেছেন সুলতানা আক্তার। তিনি জানান, মৌসুমের শুরুতে শীত খুব একটা অনুভূত হয়নি, তাই পুরোনো শীতের কাপড় দিয়েই বাচ্চাদের কাজ চালিয়েছেন। তবে এখন শীত অনেক বেশি, আর বাড়ির ভেতরও গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। নতুন শীতের কাপড় কিনতে এসে তিনি জানান, এবছর কাপড়ের দাম আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হওয়ায় বাড়তি চাপ পড়ছে।

    এদিকে, জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ জানান, নোয়াখালী জেলার জন্য প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে ১০ হাজার কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব কম্বল ইতিমধ্যেই নয়টি উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে এগুলি পৌঁছানো হবে।

    এভাবে, শীতের তীব্রতা ও শীতবস্ত্রের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়, স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে, যা অনেক মানুষকে সহায়তা করবে।

  • শীতকালীন সবজি ও ফলের অনেক গুণ

    শীতকালীন সবজি ও ফলের অনেক গুণ

    খাদ্যের উপাদানের মধ্যে ভিটামিন ও মিনারেলসের অন্যতম উৎস হল শাক-সবজি ও ফলমূল। মূলত ভিটামিন ও মিনারেলস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে এবং আমাদের শরীরকে খাদ্যের শর্করা, আমিষ ও চর্বির ব্যবহারে সাহায্য করে। অর্থাৎ আমাদের শরীর রক্ষায় শাক-সবজি ও ফলমূলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

    বছরের প্রায় সবসময় কমবেশি শাক-সবজি ও ফলমূল হয়ে থাকে। তবে ষড়ঋতুর আবর্তে বাংলাদেশে শীতকালই শাক-সবজি ও ফলমূলের জন্য উপযুক্ত সময়। শীতকালে এসব মৌসুমি শাক-সবজি বা ফল গ্রহণের মাধ্যমে সহজেই শরীরের চাহিদা মোতাবেক পুষ্টি উপাদান, বিশেষ করে ভিটামিন ও মিনারেলসের চাহিদা পূরণ সম্ভব।

    তাছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় শীতকালের শাক-সবজি এবং ফলের স্বাদ ও পুষ্টি বেশি থাকে।

    প্রায় সব শাক-সবজিতেই থাকে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান, যা ত্বকের বার্ধক্যরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে এবং ত্বকের সজীবতা ধরে রাখে। এ ছাড়া প্রায় সব শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যা দেহের পানির ঘাটতি পূরণে সক্ষম।

    শাক-সবজির এন্টিঅক্সিডেন্ট হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক এবং মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে। শাক-সবজির আঁশ ও এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান খাদ্যনালির ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

    শীতকালীন শাক-সবজি

    শীতের সময় বাজারে বেশি দেখা যায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, লালশাক, পালংশাক, মুলা, শালগম, শিম, টমেটো, পেঁয়াজ পাতা, লউ, ব্রোকলি, মটরশুঁটি, গাজর, ধনিয়াপাতা ইত্যাদি। পুষ্টিবিদদের মতে, শীতকালীন সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফলিক এসিড, এন্টিঅক্সিডেন্ট, আঁশ ও ভিটামিন।

    অস্থিক্ষয় রোধে ও শরীরে রক্তকণিকা বা প্লাটিলেট গঠনে শীতকালীন শাকসবজির ভূমিকা অপরিসীম। ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ই এর ঘাটতি পূরণে খেতে হবে বেশি বেশি শীতকালীন শাক-সবজি। শীতকালীন শাক-সবজিতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-ই; যা মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে রক্ষা করে আনে এবং চুলপড়া রোধ করে।

    শীতকালীন সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রায় সবারই পছন্দের। ফুলকপিতে রয়েছে ভিটমিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, ফলিক এসিড ও পানি। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও সালফার রয়েছে।

    ফুলকপিতে এমন কিছু উপাদান আছে, যা কিডনির পাথর গলায় ও ক্যান্সার নিরাময়ে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। ফুলকপিতে কোনো চর্বির মাত্রা নেই। ফুলকপি তাই কোলেস্টরোলমুক্ত, যা কিনা শরীরের বৃদ্ধি ও বর্ধনে বিশেষ উপযোগী।

    পাশাপাশি বাঁধাকপিতে রয়েছে ভিটামিন-সি ও প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। শরীরের হাড় শক্ত ও মজবুত রাখতে এবং ওজন কমাতে বাঁধাকপির জুড়ি নেই। তাছাড়া বাঁধাকপি আলসার প্রতিরোধে সক্ষম।

    পুষ্টিগুণে লালশাক ও পালংশাক অন্য শাকগুলোর তুলনায় একটু এগিয়ে। প্রতি ১০০ গ্রাম লালশাকে রয়েছে প্রায় ৩৮০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম; অন্যান্য পুষ্টিগুণও অন্য শাকের তুলনায় লালশাকে বেশি। আর পালংশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, আয়রন ও ফলিক এসিড, যা আমাদের দেহের জন্য জরুরি। পালংশাক আমাদের শরীরে আর্থ্রাইটিস, অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ ছাড়াও হৃদরোগ এবং কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

    শীতকালীন সবজি মটরশুঁটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি; প্রতি ১০০ গ্রামে পাওয়া যায় ১২৫ কিলোক্যালরি। উদ্ভিজ আমিষের বড় ভাণ্ডার হল শিম। শিমে আমিষ ছাড়াও স্নেহ ও ফাইবারজাতীয় খাবার অংশ থাকে। শিমের আঁশ খাবার পরিপাকে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য অনেকাংশে দূর করে। রক্তে কোলেস্টরোলের মাত্রা কমায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করে পাকস্থলী ও প্লিহার শক্তি বাড়ায়। লিউকোরিয়াসহ মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে, শিশুদের অপুষ্টি দূর করে এবং পুষ্টি প্রদান করে থাকে।

    রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে উন্নত দেশের লোকজন টমেটো ও টমেটোজাত খাদ্য, পালংশাক, মিষ্টি আলু ইত্যাদি খাবার প্রচুর পরিমাণে খেয়ে থাকে। ক্যালরিতে ভরপুর টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, যা মানবদেহের হাড় ও দাঁত গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

    তাছাড়া ভিটামিন-সি এর অভাবজনিত স্কার্ভি ও চর্মরোগ প্রতিরোধে টমেটো বেশ কার্যকরী। টমেটোতে বিদ্যমান অন্য এক উপাদান হল লাইকোপেন, যা ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। এ জন্য টমেটোকে অনেকে Intestinal antiseptic বলে থাকেন। টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট, যা কিনা প্রকৃতির আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির বিরুদ্ধে কাজ করে।

    গাজর স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। চোখ ও দাঁতের সুরক্ষায়, লিভার সুস্থ রাখতে ও ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে খেতে পারেন শীতকালীন সবজি গাজর। এতে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, থায়ামিন, নিয়াসিন, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-কে, ফাইবার, ম্যাংগানিজ ও পটাশিয়াম।

    গাজরে বিদ্যমান বিটাক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং গাজরে প্রয়োজনীয় ক্যারোটিনয়েড ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। বেশি বেশি গাজর খেলে পেট ভরবে কিন্তু বেশি ক্যালরি যোগ হবে না। তাই শরীরের ওজন কমাতে ও সুস্থ ত্বক পেতে বেশি বেশি গাজর খান।

    ব্রোকলি আমাদের দেশের শীতকালীন নতুন একটি সবজি, যা দেখতে অনেকটা সবুজ ফুলকপির মতো। ব্রোকলিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়ামসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। এ সবজিটি চোখের রোগ ও অস্থিবিকৃতিসহ প্রভৃতি উপসর্গ দূর করে ও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

    ধনিয়াপাতা এখন সারা বছর পাওয়া গেলেও মূলত এটি শীতকালীন সবজি। ধনিয়াপাতা সরাসরি সালাদ হিসেবে এবং রান্না করে উভয়ভাবে খাওয়া হয়। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-কে ও ফলিক এসিড রয়েছে, যা আমাদের ত্বকের জন্য যথেষ্ট প্রয়োজনীয়। ধনিয়াপাতার ভিটামিনগুলো আমাদের ত্বকে প্রতিদিনের পুষ্টি জোগায়, চুলের ক্ষয়রোধ করে, হাড়ের ভঙ্গুরতা দূর করে এবং মুখের ভেতরের নরম অংশগুলোকে রক্ষা করে।

    শীতকালীন ফলমূল

    বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং মিনারেলসের সহজ ও সস্তা উৎস হল ফল। ফল রান্না ছাড়াই খাওয়া যায় বলে এসবের উপাদান অবিকৃত অবস্থায় দেহ কর্তৃক গৃহীত হয়, যা আমাদের বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। ফলে বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের মিনারেলস যেমন- ক্যালসিয়াম, লৌহ, ফসফরাস এসব দেহের বিপাকীয় কার্যাবলি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়াও ফল অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যেমন- শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন, পানি এসব দেহে সরবরাহ করে দেহকে সুস্থ রাখে।

    শীত মৌসুমে বাজারে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন জাতের কুল বা বরই, কমলালেবু, জলপাই, আমলকি, আপেল, সফেদা, ডালিম ইত্যাদি পাওয়া যায়। শীতের সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে নানা জাতের কুল বা বরই। বরই হরেক রকম হয়ে থাকে যেমন- নারকেলি কুল, আপেল কুল, বাউকুল ইত্যাদি। শীতকালীন এই ফলটি বেশ উপকারী ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন।

    কমলায় রয়েছে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ফাইবার ও মিনারেলস, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। কমলালেবুকে ক্যান্সার প্রতিরোধক বলা হয়ে থাকে। শীতকালীন ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল হচ্ছে জলপাই। উচ্চরক্তচাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাকস্থলীর কোলন ক্যান্সার দূর করতে জলপাইয়ের জুড়ি নেই। এন্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এ ফলে আরও রয়েছে ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ই।

    ভিটামিন-সি’র রাজা হিসেবে খ্যাত শীতকালীন ফল আমলকি। ত্বক সুরক্ষা, মাড়ি মজবুত করতে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আমলকি। সারা বছর পাওয়া গেলেও শীতকালে বেশি পাওয়া যায় প্রচুর আঁশযুক্ত ফল আপেল। এতে রয়েছে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি১, ভিটামিন-বি১২, ভিটামিন-বি৬ ও এন্টিঅক্সিডেন্ট।

    আপেল কোষ্ঠকাঠিন্য ও বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে থাকে। শীতকালীন আর একটি ফল হল সফেদা। আমাদের দেশে এই ফলটি একসময় তেমন একটা পরিচিত ছিল না। কিন্তু এখন এই ফলটি প্রিয় ফলের তালিকায় চলে এসেছে এর পুষ্টিগুণের কারণে। ক্যান্সার প্রতিরোধক, কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর, কিডনি সুরক্ষা ও সতেজ ত্বক ছাড়াও সফেদা কোলোস্টরোল ও ব্লাডসুগার নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। সফেদায় রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, কপার, আয়রন ও ফাইবার।

    শীতকালীন অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও রসালো ফলের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেদানা বা আনার; অনেকে এটিকে ডালিমও বলে থাকে। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-সি। বেদানার রস কুষ্ঠরোগ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হার্ট ভালো রাখতে বেশ উপকারী। তাই সবার উচিত, সহজপ্রাপ্য শীতকালীন শাকসবজি ও ফলমূল গ্রহণ করে শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা এবং নিজেকে সুস্থ-সবল রাখা। পরিশেষে একটি কথাই বলতে হয়- সুস্থ দেহে সুস্থ মন; থাকুক সর্বক্ষণ।

  • ইউনাইটেড সীড কোম্পানির আয়োজনে হাইব্রিড টমেটো জিকো-১০ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

    ইউনাইটেড সীড কোম্পানির আয়োজনে হাইব্রিড টমেটো জিকো-১০ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

     সিলেট প্রতিনিধি

    সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তুরুকবাগ গ্রামে ইউনাইটেড সীড কোম্পানি কর্তৃক আয়োজিত হাইব্রিড টমেটো জিকো-১০ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে এলাকার মডেল চাষীরা অংশগ্রহণ করেন এবং হাইব্রিড টমেটো জিকো-১০ এর বিভিন্ন গুণাগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন।

    এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টমেটো চাষী মো: রাফি হোসেন, যিনি তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “টমেটো চাষের বহু বছর পরেও আমি এর আগে কখনো এত ভালো জাতের টমেটো চাষ করিনি। জিকো-১০ জাতটি রোগ-বালাই, উইল্ট রোগের প্রতি অত্যন্ত সহনশীল, যা চাষীদের জন্য একটি বড় সুবিধা।” তিনি আরও বলেন, “এই জাতের টমেটো একটি গড় ওজন ১৫০-২০০ গ্রাম হয় এবং প্রতিটি গাছ থেকে ৮-১০ কেজি ফলন পাওয়া যায়, যা চাষীদের জন্য লাভজনক হবে।”

    এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা উক্ত জিকো-১০ জাতের টমেটো চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তারা আশা করছেন এই জাতটি তাদের কৃষিকাজে ব্যাপক সফলতা নিয়ে আসবে। ইউনাইটেড সীড কোম্পানির পক্ষ থেকে কৃষকদের উপদেশ দেয়া হয়, যাতে তারা এই নতুন এবং উন্নত জাতের টমেটো চাষ করে লাভবান হন।

    উল্লেখযোগ্য যে, জিকো-১০ জাতের টমেটো চাষে উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।