Blog

  • বাউফলে পোল্ট্রি খামার: বেকারত্ব থেকে স্বাবলম্বীতার পথে

    বাউফলে পোল্ট্রি খামার: বেকারত্ব থেকে স্বাবলম্বীতার পথে

    সাইফুল ইসলাম ,পটুয়াখালী প্রতিনিধি   গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করতে বাউফলে পোল্ট্রি খামার এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। স্বল্প পুঁজি থেকে শুরু করে আজ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন অনেক খামারি। বাউফল উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি পোল্ট্রি খামার গড়ে উঠেছে, যা শুধু স্থানীয় চাহিদাই নয়, পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার চাহিদাও মেটাচ্ছে।

    সাইফুল ইসলাম রিপনের গল্প এই সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা তার যাত্রা আজ ৩০ লাখ টাকার সম্পদে রূপ নিয়েছে। খেজুরবাড়িয়া গ্রামে ৩ একর জমিতে তার ৮টি পোল্ট্রি ফার্ম, যেখানে প্রতিদিন ১৪শ নবাজন মুরগী থেকে পাচ্ছেন প্রায় ৭ হাজার টাকার আয়।

    বাউফলের পোল্ট্রি শিল্পের সাফল্যের পেছনে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ ও ঋণ সুবিধার সহজলভ্যতা। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে স্থানীয় অভিজ্ঞ খামারিদের পরামর্শ – সবই এই শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    বাউফল পোল্ট্রি ফার্ম সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সভাপতি বাচ্ছু সিকদারের মতে, সফল পোল্ট্রি খামারের জন্য স্থানীয় আবহাওয়া সম্পর্কে জ্ঞান, উপযুক্ত হাউজিং ব্যবস্থা, এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। এই খামারগুলো শুধু আর্থিক স্বাবলম্বীতাই নয়, দেশের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    গ্রাম বাংলার এই সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। বাউফলের পোল্ট্রি খামারগুলো আজ সেই সম্ভাবনার জীবন্ত উদাহরণ।

  • খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি

    খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি

    যশোরের যশ, খেজুরের রস’ আবহমানকাল ধরে চলে আসা এই প্রবাদটি যশোরের ক্ষেত্রে আজও প্রাসঙ্গিক। খেজুরের রসে গলা ভেজাননি এমন বাঙালি কমই আছেন। খেজুরের এই রস দিয়ে তৈরি গুড়-পাটালি ছাড়া শীতকালটা যেন জমে না। গুড়-পাটালি দিয়ে তৈরি পিঠাপুলি-পায়েসের নাম শুনলেই জিবে পানি আসে।

    এই খেজুরের গুড় উৎপাদন এখন বাণিজ্যিক রূপ পাচ্ছে। আবার সনাতন বাজারব্যবস্থার বাইরে খেজুরের গুড়ের অনলাইন বাণিজ্যও হচ্ছে।

    খেজুরের গুড়ের পিঠাপুলি-পায়েস দেশের শত বছরের ঐতিহ্য। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সতীশচন্দ্র মিত্রের যশোহর-খুলনার ইতিহাস গ্রন্থে (১৯১৪ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত) যশোরের খেজুরের গুড়ের উল্লেখ আছে। ওই বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯০০-০১ সালে পূর্ব বঙ্গে খেজুরের গুড় তৈরি হয়েছে প্রায় ২২ লাখ মণ, যা প্রায় ৮২ হাজার টনের সমান।

    বাণিজ্য ও ব্র্যান্ডিং

    যশোরে প্রাকৃতিকভাবেই খেজুরগাছ হয়। দিগন্তজোড়া মাঠে খেজুরগাছের দীর্ঘ সারি। অপরিকল্পিতভাবে সড়কের পাশে, খেতের আইলে, বাড়ির আঙিনায়, উঁচু জমিতে রয়েছে সারি সারি খেজুরগাছ।

    যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলার আট উপজেলায় মোট ১৬ লাখ ৪১ হাজার ১৫৫টি খেজুরগাছ আছে। এর মধ্যে রস হয়, এমন গাছ রয়েছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫৫টি। সবচেয়ে বেশি খেজুরগাছ রয়েছে যশোর সদর, মনিরামপুর, শার্শা, চৌগাছা ও বাঘারপাড়া উপজেলায়। একটি গাছ থেকে মৌসুমে গড়ে প্রায় ১৫০ লিটার রস পাওয়া যায়। ওই রস জ্বালিয়ে প্রায় ১৫ কেজি গুড় হয়। জেলায় বছরে গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার মেট্রিক টন গুড়-পাটালি উৎপাদন হয়। জেলায় মৌসুমে রস, গুড় ও পাটালির বাণিজ্য হয় ৬৩ কোটি টাকার বেশি।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, যশোরে খেজুরের গুড় ও পাটালির বাণিজ্য ক্রমে সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রচলিত বাজারব্যবস্থার বাইরে খেজুরের গুড়ের অনলাইন বাণিজ্যও হচ্ছে। জেলায় বিশুদ্ধ ও নিরাপদ গুড়-পাটালি উৎপাদন বেড়েছে। এতে গাছিরা লাভবান হচ্ছেন। বিশুদ্ধ ও নিরাপদ গুড়-পাটালি উৎপাদনে তাঁরা গাছিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

    খেজুরের গুড়কে জেলার ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, ‘নানান রঙের ফুলের মেলা, খেজুর গুড়ের যশোর জেলা।’

    জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, খেজুর গুড়ের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে এবং নতুন আঙ্গিকে বিশ্বদরবারে পরিচিতি করার লক্ষ্যে খেজুর গুড়কে যশোরের জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

    ‘গাছ তোলা’

    গাছিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে খেজুরের গাছ তোলা (গাছের উপরিভাগ চেঁছে পরিষ্কার করা) হয়। কয়েক দিন রেখে দিয়ে গাছের তোলা অংশ শুকানো হয়। অগ্রহায়ণের শেষে খেজুরগাছ চেঁছে ওপরের দিকে দুটি চোখ কাটা হয়। নিচের দিকে বাঁশের নল বা নলি পোঁতা হয়। দুই চোখের মাঝ থেকে কেটে নল বা নলি পর্যন্ত একটি সরু পথ তৈরি করা হয়। নল বা নলির নিচে দড়ি দিয়ে মাটির তৈরি ভাঁড় ঝোলানো হয়। প্রতিবার চোখ দুটি কাটা হয়। চোখ থেকে পথ দিয়ে বেয়ে রস মাটির ভাঁড়ে এসে জমা হয়।

    গাছিরা জানান, খেজুরের রস বিক্রি হয় ৭ থেকে ১০ কেজি ওজনের প্রতি মাটির ভাঁড় ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়, গুড় বিক্রি হয় ২০০ টাকা এবং পাটালি বিক্রি হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে।

    ২৫ বছর ধরে গুড়-পাটালি উৎপাদন করছেন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের গাছি ওয়াজেদ আলী (৫৮)। তিনি বলেন, ‘আমি এবার ৬০টি গাছ কাটছি। এর মধ্যে ৫৫টি গাছ আমার নিজের। পাঁচটি গাছ বর্গা নিয়েছি। প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে ২০টি করে গাছ কাটব। প্রতিদিন ১০-১২ ভাঁড় রস হবে। গত বছর কাঁচা রস ১৫০ টাকা করে বিক্রি করেছি। একদিন গাছ কাটলে যে রস পাওয়া যায়, তা দিয়ে আমার আট কেজি গুড়-পাটালি হয়। গুড় ২০০ টাকা করে বিক্রি করেছি। পাটালি প্রথমে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি।’

    রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি

    গাছ কাটার পরের দিন ভোরবেলায় খেজুরগাছ থেকে রসভর্তি মাটির ভাঁড় নামিয়ে আনেন গাছি। পাঁচ দিন বিরতি দিয়ে আবার গাছ কাটা হয়। একবার গাছ কাটলে তিন দিন রস পাওয়া যায়। প্রথম দিনের রসকে বলে ‘জিড়ানকাট’। এ রস জ্বাল (তাপ) দিয়ে তৈরি করা হয় ভালো পাটালি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে রসের পরিমাণ কমতে থাকে। দ্বিতীয় দিনের রসকে ‘দোকাট’ ও তৃতীয় দিনের রসকে ‘তেকাট’ বলে। এই রস দিয়ে ঝোল গুড় বা চিটাগুড় তৈরি হয়।

    মাটির তৈরি পাত্র ‘নানদা’ অথবা টিনের তৈরি ‘তাফালে’ রস রেখে জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়। তবে পাটালি তৈরি করতে রস অনেকক্ষণ জ্বাল দিতে হয়। গুড় গাঢ় হলে উনুন থেকে নামিয়ে নানদা বা তাফালের একপাশে কিছুটা গুড় নিয়ে ছোট করে কাটা খেজুরপাতার ডাঁটা দিয়ে গুড় ঘষে সাদা করা হয়। একে ‘বীজ মারা’ বলে। এরপর বীজ গুড় অবশিষ্ট গুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। শেষে পলিথিন অথবা কলার পাতার ওপর গুড় ঢেলে শুকিয়ে পাটালি তৈরি করা হয়।

    লুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য

    মনমাতানো ঘ্রাণ আর রসনা তৃপ্ত করা স্বাদের নলেন গুড়ের জুড়ি নেই। মৌসুমের শুরুতে খেজুরগাছ চেঁছে বাঁশের নল বা নলি পোতা হয়। নলি পোতার পর প্রথমবার সংগ্রহ করা রস থেকে তৈরি গুড়কে ‘নলেন গুড়’ বলে। এই রস কিছুটা নোনতা। অপূর্ব স্বাদ ও মনমাতানো গন্ধ এই নলেন গুড়ে। নলেন গুড় থেকে তৈরি হয় সুস্বাদু সন্দেশ, প্যাড়া সন্দেশ, ক্ষীর-পায়েস।

    অনলাইনে বেচাকেনা

    ২০১৮ সাল থেকে যশোরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অনলাইনে গুড়-পাটালি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বাজার কিছুটা সম্প্রসারণ হচ্ছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কেনারহাটের অন্যতম উদ্যোক্তা নাহিদুল ইসলাম বলেন, জেলার চারটি উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৫০০ জন প্রশিক্ষিত গাছির কাছ থেকে ভেজালমুক্ত গুড় ও পাটালি কেনা হচ্ছে। গত মৌসুমে তাঁরা প্রায় ২০ হাজার কেজি গুড় ও পাটালি অনলাইনে বিক্রি করেছেন। এ মৌসুমে তাঁদের ৩৭ হাজার কেজি গুড় ও পাটালি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘খেজুরের গুড় যশোর’ নামের একটি পেজ রয়েছে। এটির মালিক যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হেলাঞ্চি গ্রামের সাদ্দাম হোসেন। তিনি পেশায় একজন প্রকৌশলী। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে তিনি পেজটি খুলেছেন। ওই বছরই অনলাইনে তিনি ২০০ কেজি খেজুরের গুড় ও পাটালি বিক্রি করেন। গত মৌসুমে তাঁর গুড় ও পাটালি বিক্রি হয়েছে ৭৫০ কেজি। এ মৌসুমে তাঁর বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার কেজি। তাঁর চাচা আবুল গাজী খেজুরের গুড়-পাটালি তৈরি করেন।

    যশোরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে গুড়-পাটালি বিক্রি করে। তাদের মধ্যে রয়েছে ‘গ্রামের হাট’। এর উদ্যোক্তা এস এম আরিফুজ্জামান। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে কাজ করছে এবং ই-কমার্সগুলোর সেবা ভোক্তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে ‘যশোর হাট’।

    আসল পাটালি চিনতে

    ৩৬ বছর ধরে খেজুরের গাছ কাটছেন বাঘারপাড়া পৌরসভার মধ্যপাড়া এলাকার কৃষক শমসের আলী (৬৬)। তিনি বলেন, ভেজাল গুড়-পাটালি চকচক করে। গুড়ের সঙ্গে চিনি মেশালে পাটালি খুব শক্ত হয়। রসাল থাকে না। পাটালির রং কিছুটা সাদা হয়। গুড়ে হাইড্রোজ এবং ফিটকিরি ব্যবহার করলে পাটালির রং সাদা হয়। পাটালি ভীষণ শক্ত হয়। খেজুরের খাঁটি পাটালি চকচক করে না। রং কিছুটা লাল-কালচে হয়। পাটালি নরম এবং রসাল হয়। অনেক সময় পাটালির ওপরের অংশ কিছুটা শক্ত হতে পারে, কিন্তু ভেতরটা রসাল হয়।

  • রাশিয়ার কুরস্কে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন

    রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের কুরস্ক সীমান্তে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন। মস্কোর উদ্দেশে কিয়েভ বলেছে, রাশিয়ার যা প্রাপ্য, সেটিই তারা পাচ্ছে। আজ রোববার এক টেলিগ্রাম পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের প্রধান আন্দ্রে ইয়ারমাক এ দাবি করেন। তিনি বলেন, কুরস্ক অঞ্চল, শুভ সংবাদ। রাশিয়ার যা প্রাপ্য, তা-ই পাচ্ছে।

    এর আগে ইউক্রেনের হয়ে ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ সংস্থার প্রধান আন্দ্রে কোভালেঙ্কো বলেন, কুরস্কের বিভিন্ন স্থানে রুশ সেনাদের ওপর আকস্মিক হামলা শুরু করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।

    গত বছরের আগস্ট মাসে কুরস্কে হামলা চালিয়ে সেখানকার অনেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় ইউক্রেনীয় বাহিনী। এরপর সেখানে উত্তর কোরিয়ার বাহিনীর সহায়তায় পাল্টা হামলা শুরু করেছিলেন রুশ সেনারা।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাস জানায়, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ রোববার বলেছে, রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনীয় বাহিনী পাল্টা হামলা শুরু করেছে। সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার ভেতরে বারডেইন অঞ্চলে দুটি ট্যাংক ও সাতটি সাঁজোয়া যান প্রতিরোধ করা হয়েছে।

    এর আগে গত শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, মাখনোভকা জেলায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে ১০০ জনের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা ও রুশ প্যারাট্রুপার নিহত হয়েছেন। রুশ সামরিক ব্লগারদের পক্ষ থেকেই ইউক্রেনের আকস্মিক হামলার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। একজন দাবি করেছেন, বারডেইনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে ইউক্রেনের বাহিনী। কেউ কেউ বলছেন, কুরস্কের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্য তাদের।

    ইউক্রেন ও পশ্চিমাদের ধারণা, ওই এলাকায় ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেন যে হামলা চালাচ্ছে, এর জবাব দেওয়া হবে।

  • সারা দেশে শিশুদের রোটাভাইরাস: শনাক্তের সুযোগ নেই হাসপাতালে

    আসিয়া আফরিন চৌধুরী  শীতের এই মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলা সদর ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভিড় বাড়ছে। চিকিৎসকরা লক্ষণ দেখে বলছেন, এর বেশিরভাগই রোটাভাইরাসজনিত। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব হাসপাতালে রোটাভাইরাস শনাক্তের কোনো ব্যবস্থা নেই।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ২ হাজার ১৯২ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। আইসিডিডিআরবি, মহাখালী ও মতলব হাসপাতালের তথ্য এই হিসাবের বাইরে রয়েছে।

    প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা বরিশাল, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহের সদর ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছেন, পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় কোনো কোনো হাসপাতালে তীব্র শীতেও মেঝেতে শুইয়ে শিশুদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ভুলভাবে তৈরি করা স্যালাইন শিশুদের খাওয়ানোর ঘটনাও ঘটেছে।

    চিকিৎসকদের মতে, রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া মূলত ছোট শিশুদের হয়ে থাকে। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে অল্প জ্বর ও বমি দেখা যায়। পরবর্তীতে বারবার হলুদ রঙের পাতলা পায়খানা হয়। অনেক ক্ষেত্রে পায়খানার জায়গার আশপাশে লালচে হয়ে যায় এবং শিশুরা ব্যথা অনুভব করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা নিয়ে রোটাভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    একজন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ জানান, “রোটাভাইরাস শনাক্তের ব্যবস্থা না থাকায় সঠিক চিকিৎসা নির্ধারণে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া অপর্যাপ্ত শয্যা সংখ্যা এবং অপরিকল্পিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।”

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা পর্যায়ে রোটাভাইরাস শনাক্তের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।”

  • দেশে ফিরলেন ৯০ বাংলাদেশি জেলে, ৯৫ ভারতীয় জেলেকে হস্তান্তর

    দেশে ফিরলেন ৯০ বাংলাদেশি জেলে, ৯৫ ভারতীয় জেলেকে হস্তান্তর

    ভারতে আটক ৯০ বাংলাদেশি জেলেকে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশে আটক ৯৫ ভারতীয় জেলেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

    আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে পশ্চিম আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার কাছে দুই দেশের জেলেদের মধ্যে পারস্পরিক প্রত্যাবাসন শুরু হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    অক্টোবরের প্রথম দিকে বাগেরহাট থেকে চার ট্রলারে থাকা ৬৪ ভারতীয় জেলেকে আটক করা হয়। পরে দুটি ট্রলারে থাকা আরও ৩১ ভারতীয় জেলেকে পটুয়াখালীতে আটক করা হয়।

    অন্যদিকে, ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ভারতীয় কোস্টগার্ড ওডিশার প্যারাদ্বীপের কাছে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করা ৭৮ বাংলাদেশি জেলেকে আটক করে।

    এর আগে, আরও ১২ বাংলাদেশি জেলেকে আটক করেছিল ভারতের কোস্টগার্ড।

    আজ বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে ৯০ জেলেকে এবং ভারতের কোস্টগার্ডের কাছে ৯৫ ভারতীয় জেলেকে হস্তান্তর করা হয়।

    একইসঙ্গে আটক জাহাজও বিনিময় হয়।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশি মাছ ধরা জাহাজ এফভি লায়লা-২ ও এফভি মেঘনা-৫ ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ছয়টি ভারতীয় মাছ ধরার নৌকা ফেরত পাঠানো হয়েছে।

    জেলেদের হস্তান্তরের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • রাজশাহীতে দশদিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা শুরু

    রাজশাহীতে দশদিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা শুরু

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

    রাজশাহী কলেজ মাঠে গতকাল রোববার শুরু হয়েছে দশদিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা। এতে ৭৫ জন উদ্যোক্তার মধ্যে ৩০ জন নারী উদ্যোক্তা প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছেন।

    বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) আয়োজনে ও রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলার উদ্বোধন করেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ।

    মেলায় বুটিক পণ্য, হস্তশিল্প, ঐতিহ্যবাহী পিঠা, কেক ও মিষ্টিসহ নানা ধরনের পণ্য স্থান পেয়েছে। মেলা প্রতিদিন বিকেল ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে মেলা।

    ‘ঘরকুনো’ নামের বুটিক হাউসের মালিক ফারজানা নাসরিন বলেন, “করোনার আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কেকের ব্যবসা দিয়ে শুরু করেছিলাম। তাতে তেমন সফল হতে পারিনি। করোনার সময় ছেলের পড়াশোনার জন্য রাজশাহীতে এসে মেয়েদের পোশাকে ব্লক প্রিন্টিং শুরু করি।”

    তিনি আরও বলেন, “প্রথমে আশপাশের মানুষের কাছে বিক্রি করতাম। ক্রমে বিক্রি বাড়তে থাকলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং গত ডিসেম্বরে ফেসবুক পেজ খুলি।”

    ‘ক্রাফট ওয়ার্কস’ নামের প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা জারিন তাসনিম জানান, তারা সাধারণত অনলাইনে পণ্য বিক্রি করেন। তবে মেলায় সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন।

    পিঠা, কেক ও মিষ্টির স্টল সাজিয়েছেন মহসিনা আখতার। অন্যদিকে পদ্মা পাতা বুটিকের মালিক মৌসুমী আক্তার বলেন, এই মেলা তাদের ক্রেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দিয়েছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহিনুল হাসান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ মু. যহুর আলী, বিসিকের আঞ্চলিক পরিচালক জাফর বায়েজীদ এবং বিসিকের জেলা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

  • গাজীপুরে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ, কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা

     

    গাজীপুর নগরের জিরানী এলাকার পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। আজ রোববার সকালে আইরিশ ফ্যাশন লিমিটেড নামক একটি পোশাক তৈরির কারখানার শ্রমিকেরা তাঁদের বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনকারীরা পরে আশপাশের অন্যান্য কারখানায় গিয়ে তাদের শ্রমিকদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এতে বেশ কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

    এ বিষয়ে শ্রমিকরা দাবি করেন, সরকার ঘোষণা করেছে যে, যাদের এক বছর চাকরি হয়নি তাদের বেতন বৃদ্ধি করা হবে না, কিন্তু অন্যান্য শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি হলে তাঁদেরও সমানভাবে বেতন বৃদ্ধি করা উচিত। বেতন বৃদ্ধির দাবি না মানলে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

    আইরিশ ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিক খাইরুল ইসলাম বলেন, “আমরা নতুন হলেও, অন্যদের মতো আমাদেরও বেতন বৃদ্ধি করা উচিত।” আরও একটি শ্রমিক আকবর আলী বলেন, “নতুন শ্রমিকদেরও বেতন বৃদ্ধি পাওয়ার অধিকার রয়েছে।”

    গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, বিক্ষোভের কারণে আশপাশের কারখানাগুলিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    এই বিক্ষোভের ফলে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের বেশ কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত রয়েছে।

  • ফলের বাগান করে আয় ৫০ লাখ টাকা: আব্দুল করিমের সফল কৃষি উদ্যোগ

    ফলের বাগান করে আয় ৫০ লাখ টাকা: আব্দুল করিমের সফল কৃষি উদ্যোগ

    আসিয়া আফরিন চৌধুরী   যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের মুজগুন্নী গ্রামে আব্দুল করিম, একজন সফল কৃষক হিসেবে পরিচিত। তিনি আজ একটি বড় কৃষি উদ্যোক্তা, যিনি বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশি আয় করছেন। তবে তার এই সফলতার পিছনে রয়েছে একদিকে পরিশ্রম ও অন্যদিকে নতুনত্বের অনুসন্ধান। আব্দুল করিমের কৃষির দুনিয়ায় প্রবেশের গল্পটি কেবলই অনুপ্রেরণা। শুরুটা ছিল খুবই ছোট, তবে এখন তার বাগান প্রায় ২৭ বিঘা জমি জুড়ে বিস্তৃত। মাল্টা, কমলা, ও বরই চাষ করে তার আয়ের পরিমাণ রীতিমত ঈর্ষণীয়।

    শুরু হয়েছিল পোলট্রি খামার দিয়ে

    আব্দুল করিমের জীবনের শুরুটা ছিল অন্য রকম। পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি শুরু করেছিলেন পোলট্রি খামার, যেখানে তিনি মুরগির খামার করে লাভের আশায় অনেক পরিশ্রম করেছিলেন। তবে প্রকৃতির নির্মমতা আর অপ্রত্যাশিত রোগের কারণে, তার খামারটি বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়, যা তাকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে। এই দুর্দিনেই তার জীবনে এক পরিবর্তন আসে।

    একদিন তার বন্ধু মৃত্যুঞ্জয় রায়, যিনি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ছিলেন, তাকে পরামর্শ দেন কৃষির দিকে মনোযোগ দিতে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে, আব্দুল করিম মাল্টা ও কমলার চাষ শুরু করেন। তিনি আশা করেছিলেন, এ চাষে হয়তো ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না। আর তাই, ২০১৩ সালের শেষের দিকে তিনি খুলনার কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে মাল্টা ও কমলার চারা কিনে আনেন। তার শুরু ছিল মোটেই বড় নয়। মাত্র ১২৫টি মাল্টা ও ২৫টি কমলার চারা লাগিয়ে তিনি তার কৃষি যাত্রা শুরু করেন।

    সফলতার প্রথম ধাপ

    অবশেষে, তার পরিশ্রম সফলতা পায়। আড়াই বছরের মধ্যে তার মাল্টা ও কমলার গাছগুলো ফল দিতে শুরু করে। প্রথম বছরে খরচ ও বিক্রির মধ্যে সমানটা ছিল, কিন্তু পরের বছর লাভের পরিমাণ ছিল আড়াই লাখ টাকা। এবং এরপর, প্রতি বছর তার লাভের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে থাকে। ২০২৪ সালে, তিনি মাল্টা ও কমলা বিক্রি করে ২৮ লাখ টাকার বেশি আয় করেছেন।

    বর্তমানে, তার বাগানটি সাড়ে পাঁচ বিঘা জমি জুড়ে বিস্তৃত এবং সেখানে প্রতি বছর মাল্টার ফলন হচ্ছে। মাল্টার ফলগুলো অন্যান্য বাগানের মাল্টার চেয়ে বড় এবং স্বাদে অনেক বেশি ভালো। তবে বিদেশি মাল্টার তুলনায় রঙটা কিছুটা কম হলেও আকারে এগুলো অনেক বড় হয়। এখানকার মাল্টা ও কমলা স্থানীয় বাজারে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা বাড়ছে।

    বরই চাষেও সাফল্য

    এছাড়া, মাল্টা ও কমলার পাশাপাশি আব্দুল করিম ২০ বিঘা জমিতে থাই প্রজাতির বরই চাষ করছেন। গত বছর বরই বিক্রি থেকে তিনি ২০ লাখ টাকার বেশি আয় করেছেন। যদিও এ বছর বরইয়ের ফলন কিছুটা কম, তবে তার দাম বেশি হওয়ায়, তিনি আশা করছেন যে, লাভের পরিমাণ গত বছরের মতোই হবে। বরই চাষের এই সফলতা তার কৃষি উদ্যোগকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।

    খরচ ও লাভের হিসাব

    আব্দুল করিম জানান, এক বিঘা জমিতে মাল্টা ও কমলা চাষ করতে খরচ হয় প্রায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। প্রতি বছর এই দুই ফল বিক্রি করে প্রায় চার লাখ টাকার লাভ হয়। তিনি আরও বলেন, তার বাগানে নিয়মিত পরিচর্যা করা হয়, যার মধ্যে জৈব সার, কীটনাশক, ছত্রাকনাশক এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়। এই ব্যাকটেরিয়া গাছের পক্ষে সহায়ক, কারণ এটি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো মেরে ফেলে এবং গাছের রোগ-ব্যাধি রোধ করে।

    এছাড়া, মাল্টা ও কমলার ফলন হতে শুরু করে, তার খামারে নিয়মিত ১৫ জন কর্মী কাজ করেন। যারা জমির নিড়ানি, স্প্রে, সার প্রয়োগ এবং ফল আহরণের কাজ করেন। পাশাপাশি, আব্দুল করিম তার নার্সারির মাধ্যমে চারা বিক্রি করেন, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যায়। এই ছয় বছরে, তার চারা বিক্রি থেকে ১২ লাখ টাকার বেশি আয় হয়েছে।

    কৃষি বিভাগের দৃষ্টি

    আব্দুল করিমের এই সফল কৃষি উদ্যোগে মণিরামপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা খুবই আশাবাদী। ঋতুরাজ সরকার, মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, জানান, আব্দুল করিমের মতো সফল কৃষকদের দেখাদেখি মণিরামপুরের আরও অনেক কৃষক এখন মাল্টা, কমলা ও বরই চাষ শুরু করেছেন। তার সফলতা দেখে স্থানীয় কৃষকরা এখন এই কৃষি উদ্যোগে আগ্রহী হয়ে উঠেছে এবং তাদের মধ্যে অনেকেই তার বাগানে গিয়ে চারা কিনছেন।

    সফলতার মূল রহস্য

    আব্দুল করিমের সফলতার মূল রহস্য হলো তার কঠোর পরিশ্রম, নতুনত্বের প্রতি আগ্রহ এবং কৃষির প্রতি তার নিখুঁত দৃষ্টি। তিনি বলেন, “কৃষি ক্ষেত্রে সফল হতে হলে, নিয়মিত পরিচর্যা এবং সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করতে হবে। প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল হলেও, সঠিক পরিকল্পনা এবং শ্রমের মাধ্যমে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।”

    তবে তার এই সফলতা কেবল ব্যক্তিগত নয়, এটি এলাকার কৃষকদের জন্যও একটি বড় প্রেরণা। তার সংগ্রাম এবং সফলতা অনেক কৃষককে নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার পথে উৎসাহিত করছে। মণিরামপুরের শ্যামকুড় ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় এখন মাল্টা, কমলা এবং বরই চাষের প্রতি আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

    এখন আব্দুল করিমের গল্প শুধুমাত্র তার নিজস্ব নয়, বরং একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যিনি একসময় পোলট্রি খামারে বিপর্যস্ত হয়ে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা দেখেছেন। তার পরিশ্রম, পরিকল্পনা এবং সঠিক পদক্ষেপের কারণে আজ তিনি ৫০ লাখ টাকার বেশি আয় করছেন। আর তার সফলতা অনেক কৃষককে অনুপ্রাণিত করেছে, যারা এখন তার পথ অনুসরণ করে নিজেদের কৃষি উদ্যোগ শুরু করেছেন।

  • বিনিয়োগে মন্দা, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে

    বিনিয়োগে মন্দা, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে

    বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি তলানিতে নেমেছে। গত নভেম্বর মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বেনামি-জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ বিতরণ কমে আসায় এবং দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত ও পর্ষদে পরিবর্তন হয়েছে এমন ১১টি ব্যাংকের নতুন ঋণ প্রদান বন্ধ থাকায় এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এই ব্যাংকগুলো অবশ্য আমানতকারীদের টাকার চাহিদা মেটাতেই এখন হিমশিম খাচ্ছে।

    বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে আসায় অনেক ব্যাংক সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এতে ঋণের চেয়ে বেশি মুনাফা মিলছে। কারণ, ঋণ দিলে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি থাকে আর বিল ও বন্ডে মুনাফা নিশ্চিত হয়। ফলে বিদায়ী ২০২৪ সালের কিছু ব্যাংকের পরিচালন মুনাফায় অনেক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ হয়েছিল, যা ২০২১ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন। ওই বছরের মে মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। গত নভেম্বরে অর্জিত প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে নিচে রয়েছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে জুলাই-ডিসেম্বরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ দশমিক ৮ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল।

    কমেছে আমদানি

    বিনিয়োগের জন্য প্রধান উপাদান ধরা হয় মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিকে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস জুলাই-নভেম্বরে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলা ২০২৩–২৪ অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় ২৬ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ। মূলধনি যন্ত্রপাতির ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তি কমার অর্থ দেশে নতুন বিনিয়োগ কমেছে।

    একইভাবে মধ্যবর্তী পণ্য আমদানিও কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে মধ্যবর্তী পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা কমেছে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। একই ময়ে মধ্যবর্তী পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। তবে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে ঋণপত্র খোলা আগের চেয়ে ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ ও ঋণপত্র নিষ্পত্তি ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়েছে।

    সাধারণত এসব পণ্য আমদানিতে ব্যাংক ঋণ দিয়ে থাকে। প্রথমে নন–ফান্ডেড ঋণ তৈরি হয়, যা ফান্ডেড হয়ে অনেক সময় মেয়াদি ঋণে রূপ নেয়। ফলে নতুন বিনিয়োগ বা সম্প্রসারণ কমে আসার কারণেও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে।

    সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী

    এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। এ জন্য দফায় দফায় নীতি সুদহার বাড়ানো হয়েছে। ফলে ব্যাংক ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এ কারণে অনেকে বিনিয়োগ থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শ্রম অসন্তোষের কারণে বিনিয়োগ কমেছে। বিনিয়োগ কমার আরও কারণ আছে। বছরের পর বছর বিভিন্ন সমস্যার কারণে আগে থেকেই বিনিয়োগে গতি কম ছিল। বেসরকারি বিনিয়োগ তিন বছর ধরে কমছিল।

    গত মাসে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) প্রকাশিত এক জরিপের ফলাফলে বলা হয়, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল চ্যালেঞ্জ দুর্নীতি। চলতি বছরও প্রায় ১৭ শতাংশ ব্যবসায়ী দুর্নীতিকেই ব্যবসায়ের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দুর্নীতিসহ অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অদক্ষ আমলাতন্ত্র, উচ্চ করহারসহ ব্যবসা-বাণিজ্যে ১৭টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেন ব্যবসায়ীরা।

    এখন অনেকেই বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও কমেছে। ফলে ঋণের চাহিদা কমে গেছে। এতে কর্মসংস্থান ও কর আদায় দুটোই বাধাগ্রস্ত হবে, যা অর্থনীতি ও দেশের জন্য ভালো না

    আনিস এ খান, সাবেক চেয়ারম্যান, এবিবি

    তবে ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, সুদহারের সঙ্গে বিনিয়োগের সম্পর্ক খুব কম। ২০২০ সালে সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার পরও বিনিয়োগ বাড়েনি। পরিবেশ ঠিক ও চাহিদা থাকলেই উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করবেন। সুদহারের কারণে কেউ বসে থাকবেন না।

    অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে

    গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেকের ব্যবসা সীমিত হয়ে পড়েছে বা বন্ধ হয়ে গেছে। আবার পর্ষদে পরিবর্তন আনা ১১টি ব্যাংকও তাদের ঋণ বিতরণ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ করে রেখেছে। কারণ, এসব ব্যাংক গ্রাহকের জমা টাকা তোলার চাহিদা মেটাত গিয়েই হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যে ৯টি ব্যাংক ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সাইফুল আলমের (এস আলম) নিয়ন্ত্রণে। বাকি একটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও অন্যটি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণে।

    সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপের পোশাক ও বস্ত্র খাতের ১৬টি কারখানা গত ডিসেম্বরে বন্ধ হয়ে যায়। এতে ৩০ হাজার শ্রমিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণসুবিধা বন্ধ করা হয়েছে। তাতে তাদের কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। আবার পণ্য রপ্তানি হওয়া ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বিদেশ থেকে আনছে না গ্রুপটি। দেশের ১৬টি ব্যাংক ও ৭টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বেক্সিমকো গ্রুপের ৭৮টি প্রতিষ্ঠানের দায়ের পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা। এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রুলের শুনানিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী এ তথ্য জানান।

    এ ছাড়া সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন আটটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এস আলমের ছেলে আহসানুল আলমের ইনফিনিয়া গ্রুপ ও জামাতা বেলাল আহমাদের ইউনিটেক্স গ্রুপের অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন ব্যাংকে এস আলম–সংশ্লিষ্ট ঋণের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি।

    গত বছরের শুরুতে জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে মোটাদাগে অর্থনীতিতে তিনটি সমস্যা ছিল। সেগুলো হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যহীনতা ও আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা অর্থনীতিকে টেনে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা এখনো সন্তুষ্ট না। বেড়েছে ব্যাংকঋণের সুদের হার ও খেলাপি ঋণ।

    জানতে চাইলে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান প্রথম আলোকে বলেন, এখন অনেকেই বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও কমেছে। ফলে ঋণের চাহিদা কমে গেছে। এতে কর্মসংস্থান ও কর আদায় দুটোই বাধাগ্রস্ত হবে, যা অর্থনীতি ও দেশের জন্য ভালো না। সে জন্য বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি করতে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

  • তারেক রহমানের ৪ মামলার কার্যক্রম বাতিলের রায় বহাল বিএনপির

    তারেক রহমানের ৪ মামলার কার্যক্রম বাতিলের রায় বহাল বিএনপির

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে করা চারটি মামলার কার্যক্রম বাতিলের যে রায় হাইকোর্ট দিয়েছিল, তা বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

    আজ রোববার, আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ, যার নেতৃত্বে ছিলেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, এই রায় দেন। এর আগে ২৩ অক্টোবর হাইকোর্ট চাঁদাবাজির অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে গুলশান এবং ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা চারটি মামলার কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।

    এর পর, রাষ্ট্রপক্ষ গত ডিসেম্বরে পৃথক লিভ টু আপিল করে, যা ৯ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে উঠেছিল। ওই দিনই আদালত লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে নির্ধারণ করেন। আজ শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেয়। এর ফলে হাইকোর্টের রায়, যা মামলাগুলোর কার্যক্রম বাতিল করেছিল, তা কার্যকর থাকল।

    আইনজীবী কায়সার কামাল সাংবাদিকদের জানান, ‘‘হাইকোর্টের রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ হওয়ায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এসব মামলার কার্যক্রম বাতিলের রায় বজায় থাকল।’’

    তবে, ২০০৭ সালে গুলশান থানায় তিনটি এবং ধানমন্ডি থানায় একটি মামলাসহ মোট চারটি চাঁদাবাজির অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এসব মামলা হাইকোর্টে বাতিলের জন্য তারেক রহমান আবেদনের পর ২৩ অক্টোবর রায় প্রদান করা হয়েছিল।

    রেজা কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফতাব উদ্দিন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল আমিন কনস্ট্রাকশনের কর্মকর্তা সৈয়দ আবু শাহেদ সোহেল, মীর জাহির হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে গুলশান ও ধানমন্ডি থানায় এসব মামলা করা হয়েছিল।