Blog

  • বাড়ির উঠানে ৪ খাটিয়া, ছোট্ট ফাহিমের কেউ রইলো না

    বাড়ির উঠানে ৪ খাটিয়া, ছোট্ট ফাহিমের কেউ রইলো না

    টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ভবনদত্ত গ্রামে স্কুলশিক্ষক ফারুক সিদ্দিকীর বাড়ির সামনে সকাল থেকে স্বজন ও গ্রামবাসীর ভিড়। থামছে না কান্না।

    আজ বৃহস্পতিবার ভোর রাতে সাভার উপজেলার ফুলবাড়িয়া পুলিশ টাউন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ভবনদত্ত গ্রামের বাসিন্দা ফারুক হোসেন সিদ্দিকী (৫০), তার স্ত্রী মহসিনা সিদ্দিকী (৩৮) ও ছেলে ফুয়াদ সিদ্দিকী (১৪) এবং মহসিনার বড় বোন সীমা আক্তার (৪০)।

    ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে একটি অ্যাম্বুলেন্স সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে থেমে গেলে পেছন থেকে আসা একটি বাস তাতে ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সের সিলিন্ডারের গ্যাসে আগুন লেগে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে আগুন লাগা বাসটিতে পেছন থেকে আরেকটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে সেই বাসটিতেও আগুন লেগে যায়।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে অ্যাম্বুলেন্সসহ তিনটি যানবাহন পুরোপুরি পুড়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা চারজনের মৃত্যু হয়। আহত হন বাসের সাতজন যাত্রী।

    ফারুকের ছোট ভাই মামুন সিদ্দিকী আমাদের  জানান, তার ভাই ভবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

    ‘আমার ভাইয়ের ছোট ছেলে ফাহিম সিদ্দিকী পাশের উপজেলা গোপালপুরের এক আবাসিক মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে। লোক পাঠিয়ে দুপুরে তাকে নিয়ে আসা হয়েছে। সন্ধ্যার পরে জানিয়েছি, তার বাবা-মা, ভাই ও খালা কেউ বেঁচে নেই,’ বলেন মামুন।

    আইন প্রক্রিয়া শেষে চারজনের মরদেহ নেওয়া হচ্ছে ভবনদত্ত গ্রামে।

    মামুন আরও জানান, ফারুকের বড় ছেলে ফুয়াদ সিদ্দিকী স্থানীয় ভবনদত্ত গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার চিকিৎসার জন্য গত রাতে তারা ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমীন হেপলু জানান, রাতে তিনি ফারুক ও তার পরিবারের সদস্যদের অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে বাড়ি ফেরেন। সকালে তাদের মৃত্যু সংবাদ পান।

    ‘ছোট্ট ফাহিমের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না,’ বলেন রুহুল।

    ফারুকের চাচাতো ভাই শহীদুল ইসলাম রুমি বলেন, ‘দেশের বিপজ্জনক সড়কে দুর্ঘটনার বলি হলো আমাদের পরিবার। সবার শরীর পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে।’

  • ঘন কুয়াশা ও দুর্ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৪ কিলোমিটারে যানজট

    কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। ঘন কুয়াশা ও একাধিক সড়ক দুর্ঘটনার কারণে মেঘনা-গোমতী সেতু এলাকা থেকে ধীতপুর পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে চালক ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

    দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার পুলিশ ও যানবাহনের চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ শুক্রবার ভোর চারটার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার কানড়া এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী পণ্যবাহী একটি কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার ধীতপুর নামক স্থানে ঢাকাগামী দুটি ট্রাকের সংঘর্ষে মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    এরপর ঢাকাগামী যানবাহনের চালকেরা উল্টো পথে চট্টগ্রামগামী লেনে ঢাকায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে মহাসড়কের বানিয়াপাড়া এলাকায় ভোর সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের গিয়ার ফেঁসে বিকল হয়ে যায়। পরে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী লেনে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বিপাকে পড়েন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা। অনেকে হেঁটে-দৌড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছার চেষ্টা করেন। এ সময় রাতভর জেগে থাকা অনেক চালক গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসে ঘুমিয়ে পড়েন।

    হাইওয়ে পুলিশ জানায়, সকাল আটটার দিকে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা-পুলিশের সদস্যরা রেকার এনে উল্টো পথে যাওয়া কাভার্ড ভ্যান এবং গিয়ার ফেঁসে বিকল হওয়া বাসটি দুই লেন থেকে এক লেনে আনেন। তাঁরা ঘুমিয়ে পড়া যানবাহনের চালকদের জাগান। সকাল আটটার পর থেকে ঢাকাগামী ও চট্টগ্রামগামী মহাসড়কের চার লেনের পরিবর্তে দুই লেনে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। তবে ১৪ কিলোমিটার এলাকায় বেলা ১১টার দিকেও যানজট অব্যাহত ছিল।

    ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী কাভার্ড ভ্যানের চালক কাওসার আজ সকাল ৯টায় মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার পেন্নাই এলাকায় যানজটে বসেছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ভোর চারটায় মহাসড়কের দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতু এলাকায় পৌঁছে যানজটে আটকে পড়েন তিনি। ধীরে ধীরে ১০ কিলোমিটার মহাসড়ক অতিক্রম করতে ৫ ঘণ্টা সময় লেগেছে।

    একই স্থানে নীলফামারীর জলঢাকার লক্ষ্মীমারাই গ্রামের বাসিন্দা কমল চন্দ্র রায় এবং নীলফামারী সদরের বাসিন্দা বাদল চন্দ্র রায় বলেন, কাজের সন্ধানে তাঁরা কুমিল্লার কাবিল এলাকায় পৌঁছার উদ্দেশ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় আহসান পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে ওঠেন। ভোর চারটায় দাউদকান্দির মেঘনা গোমতী সেতু এলাকায় যানজটে আটকে পড়েন। তাঁরা ৫ ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন। অবশিষ্ট ৪০ কিলোমিটার মহাসড়কের ৪ কিলোমিটার হাঁটার পর পুনরায় বাসে ওঠার চেষ্টা করবেন।

    কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী তিশা পরিবহনের বাসের চালক কাউছার আলম সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়কের আমিরাবাদে দাঁড়িয়ে বলেন, ঘনকুয়াশা আর সড়ক দুর্ঘটনার কারণে যানজটে মহাসড়কে সাড়ে তিন ঘণ্টা আটকে আছেন।

    ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক উপজেলার ইটাখোলা গ্রামের জয়নাল আবেদীন বলেন, যানজটের অবস্থা এতটাই বেশি ছিল যে যাত্রী নিয়ে রিকশা পর্যন্ত চালানোর সুযোগ ছিল না।

    দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফয়সাল বলেন, রেকার এনে মহাসড়কের চার লেনের মধ্যে দুই লেনে যানবাহন চলাচল চালু করা হয়েছে। দুপুরের আগেই দুর্ঘটনাকবলিত ও বিকল যানবাহন দুটি অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা।

  • ক্ষমতায় বসার আগেই হামাসকে হুমকি দিলেন ট্রাম্প

    ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বললেন, ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া না হলে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

    স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে আবার সুর চড়ালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেবেন।

    তার আগেই তিনি হামাসকে নিশ্চিহ্ণ করার হুমকি দিয়েছেন।

    ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে হামাসকে নিজের শপথগ্রহণের তারিখ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলেন ট্রাম্প।

    তিনি জানান, ২০ জানুয়ারির মধ্যে হামাস যদি জিম্মিদের মুক্তি দিতে ব্যর্থ হয়, তবে পশ্চিম এশিয়ায় ‘ধ্বংসলীলা’ চলবে।

    স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে জিম্মিদের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়। সেই প্রশ্নের উত্তরেই ট্রাম্প হামাসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন।

    ট্রাম্প বলেছেন, আমি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্যে যদি তারা (হামাসের হাতে জিম্মি আমেরিকার নাগরিক) ফিরে না আসেন, তবে পশ্চিম এশিয়ায় ধ্বংসলীলা চলবে। যা হামাসের জন্য তো বটেই, কারও জন্যই ভাল হবে না।

    অর্থাৎ, হামাসের সঙ্গে সম্মুখসমরে নামতে পারে আমেরিকার সেনাবাহিনী। বিভিন্ন দিক থেকে হামাসকে আক্রমণ করা হতে পারে- এমন ইঙ্গিত দিলেন নব নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি শহরে হামলা চালিয়েছিল হামাস। এই হামলার জেরে নিহত হয়েছিল প্রায় ১২০০ জন। ২৫০ জন ইসরায়েলি নাগরিককে গাজায় ধরে এনে জিম্মি করেছিল হামাস। শুধু ইসরায়েলি নাগরিক নন, হামাসের হাতে জিম্মি আমেরিকার অনেক বাসিন্দাও।

    এদের মধ্যে অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই আবহে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে যুদ্ধ ঘোষণার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন অনেকে।

  • খলিলুর রহমানের চায়না কমলা বাগান: কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে এক নতুন দৃষ্টান্ত

    খলিলুর রহমানের চায়না কমলা বাগান: কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে এক নতুন দৃষ্টান্ত

    আসিয়া আফরিন চৌধুরী     লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা পশ্চিম সারডুবী গ্রামে শিক্ষকের বাগান হয়ে উঠেছে এক অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু। শিক্ষক খলিলুর রহমান, যিনি একই সাথে মিলন বাজার মোজাম্মেল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কৃষির প্রতি তার গভীর ভালোবাসা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলভাবে চায়না কমলার চাষ শুরু করেছেন। তার উদ্ভাবনী উদ্যোগ আজ এলাকাবাসীকে প্রেরণা যোগাচ্ছে, এবং তার বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।

    চায়না কমলার সফল চাষের গল্প

    ২০১১ সালে খলিলুর রহমান প্রথম দার্জিলিং জাতের কমলা চাষ শুরু করেন, ১ বিঘা জমিতে। শুরুতে গাছের সংখ্যা ছিল ১৫২টি, এবং ৪ বছরের মধ্যে ফল আসা শুরু হয়। এর পর, ২০২০ সালে তিনি ১ একর জমিতে চায়না জাতের ৪০০ কমলা গাছের বাগান স্থাপন করেন। কমলার গাছগুলো অতি যত্নে পরিচর্যা করার ফলে, ২০২৪ সালের শেষে প্রতিটি গাছে আশানুরূপ ফল এসেছে। বর্তমানে গাছগুলোতে হলুদ রঙের সুস্বাদু কমলা ঝুলছে, যা এলাকাবাসীর চোখে এক নতুন প্রেরণার সৃষ্টি করেছে।

    প্রকৃতির শোভা ও কৃষির সাফল্য

    খলিলুর রহমানের চায়না কমলার বাগান শুধু কৃষি সাফল্যই নয়, প্রকৃতির শোভাও। তার বাগানে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট গাছের মধ্যে কমলা থোকায় থোকায় ঝুলছে। সবুজ পাতার ফাঁকে হলুদ কমলার এই দৃশ্য যেন এক স্বর্গীয় সৌন্দর্য। গাছগুলোর ডালগুলো ভারী হয়ে মাটির দিকে নুয়ে পড়েছে, যা দেখার মতো। এটি শুধু একটি কমলা বাগান নয়, বরং এক ধরনের শিল্প সৃষ্টি, যেখানে কৃষির সৌন্দর্য এবং বাণিজ্যিক সাফল্য মিলেমিশে একত্রিত হয়েছে।

    অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

    খলিলুর রহমানের কমলা বাগান একটি ব্যবসায়িক সফলতার চিত্র। ২০২৪ সালে তার বাগান থেকে কমলা বিক্রি করেছেন প্রায় লক্ষাধিক টাকার। এই সফলতার পেছনে রয়েছে তার কঠোর পরিশ্রম, কৃষি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান এবং বাগানের প্রতি নিবিড় মমতা। তার এই উদ্দীপনা শুধু একাধিক ব্যক্তি ও পরিবারের জীবন পরিবর্তন করেছে, বরং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতেও কমলা চাষে আগ্রহী লোকের সংখ্যা বাড়িয়েছে। খলিলুর রহমানের বাগান দেখে অনেকেই কৃষির দিকে মনোযোগী হয়েছেন এবং চায়না কমলার চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

    জাতীয় পুরস্কার ও সম্মাননা

    নিজের খামারে কৃষির উন্নয়ন ঘটিয়ে সফলতার জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন, যা তার পরিশ্রমের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এই পুরস্কার তার জন্য এক বড় ধরনের সম্মান এবং একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা এলাকাবাসী এবং দেশের অন্যান্য কৃষকদের জন্যও এক অনুপ্রেরণা।

    ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং দৃষ্টিভঙ্গি

    এখন খলিলুর রহমানের পরিকল্পনা আরও বড় পরিসরে চাষাবাদ চালানো এবং কমলার বাগানকে আরও সম্প্রসারিত করা। তার লক্ষ্য কমলা চাষের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের আরো উপার্জনবান্ধব করার পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন ঘটানো।

    খলিলুর রহমানের চায়না কমলা বাগান শুধুমাত্র কৃষির সফলতা নয়, একটি নৈতিক শিক্ষা ও উৎসাহের উৎস হিসেবে কাজ করছে। তার উদ্যোগ শুধুমাত্র একান্ত কৃষি চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের যুবকরা যাতে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি ঘটায় এবং তা থেকে লাভবান হয়, সেই দিকে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

  • আবারও ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের চেষ্টা বিএসএফের, পতাকা বৈঠকে বিজিবির প্রতিবাদ

    আবারও ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের চেষ্টা বিএসএফের, পতাকা বৈঠকে বিজিবির প্রতিবাদ

    লালমনিরহাটের পাটগ্রামের ধবলসুতি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আবারও শূন্যরেখার কাছে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের চেষ্টা করেছে। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধা দেওয়ায় তারা ল্যাম্পপোস্টের স্থাপনা সরিয়ে নেয়। পরে দুই পক্ষের পতাকা বৈঠকে ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি।

    পজেলার পাটগ্রাম সদর ইউনিয়নের গাটিয়ারভিটা সীমান্তের প্রধান পিলার ৮২৯ নম্বরের ২ নম্বর উপপিলার ওপারে শূন্যরেখার ৫০ গজ অভ্যন্তরে গত মঙ্গলবার রাতে ভারতের কোচবিহার ৯৮ বিএসএফের ব্যাটালিয়নের ফুলকাডাবরী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা নির্মাণশ্রমিকদের নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও যন্ত্র স্থাপনের কাজ শুরু করেন। গতকাল বুধবার সকালে জমিতে কাজ করতে গিয়ে বিষয়টি দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে রংপুর ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সেখানে লোহার বিদ্যুতের খুঁটি এবং এর সঙ্গে স্থাপিত যন্ত্র দেখতে পান।

    ওই ঘটনায় বিজিবি পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয়। গতকাল সন্ধ্যায় বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২০ মিনিটের বৈঠকে ছয় সদস্যের বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইন্সপেক্টর জিতেন্দ্র সিং। বাংলাদেশের পক্ষে ছয় সদস্যের নেতৃত্ব দেন সুবেদার মাহবুবর রহমান। বৈঠকে কোনো কিছু না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে শূন্যরেখার মধ্যে খুঁটি ও যন্ত্র স্থাপন করার প্রতিবাদ জানায় বিজিবি এবং শূন্যরেখার মধ্যে নির্মাণ বা স্থাপনে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন মেনে চলার আহ্বান জানায়। পরে ল্যাম্পপোস্টের খুঁটি ও যন্ত্র সরিয়ে নেয় বিএসএফ।

    বিজিবি রংপুর ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মুহাম্মদ মুসাহিদ মাসুম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএসএফ সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁদের চা–বাগানে নাকি বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হয়, এ জন্য যন্ত্র ও খুঁটি স্থাপন করেছিলেন। আমরা স্পষ্ট জানিয়েছি, শূন্যরেখার মধ্যে আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি অনুযায়ী কোনো কিছু স্থাপনা করার সুযোগ নেই; না জানিয়ে করা যাবে না। এ নিয়ে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। তারা স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে। চুপিসারে আর যেন (স্থাপনা) না করতে পারে, সে জন্য সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে।’

    এর আগে ১ ডিসেম্বর উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের সরকারপাড়া সীমান্তে শূন্যরেখা বরাবর কাঁটাতারের বেড়া ও ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে বিজিবির প্রতিবাদ ও বাধার মুখে বিএসএফ সদস্য ও নির্মাণশ্রমিকেরা সেখান থেকে চলে যান।

  • কেন্দুয়ায় বস্তায় আদা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা

    কেন্দুয়ায় বস্তায় আদা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা

    বাসস জেলার কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি অফিসের সামনে পতিত জায়গায় বস্তায় আদা চাষ করা হয়েছে। এখানে যারা আসেন সবারই দৃষ্টি কাড়ে আদা গাছগুলো। বর্তমানে প্রতিটি বস্তায় একাধিক আদা গাছ সবুজে বেড়ে উঠেছে। আদা চাষের এমন পদ্ধতি দেখে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয় কৃষকরা।

    স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার প্রচেষ্টায় ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলা কৃষি অফিসের সামনে সামান্য পতিত জায়গায় ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে ৮০টি বস্তায় প্রদর্শনী হিসেবে আদা চাষ করা হয়েছে। প্রতিটি বস্তায় ৬০ গ্রাম করে আদা বীজ রোপণ করা হয়েছে। এতে মোট ৪ কেজি ৮০০ গ্রাম আদা বীজ রোপণ করা হয়েছে। বীজ রোপণের ৯ মাসের মধ্যেই আদার ফলন পাওয়া যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

    উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মাসুদ মিয়া জানান, প্রতি বস্তায় ৩ কেজি করে জৈব সার ব্যবহার করা হয়েছে। বস্তা, বীজ, সার, নেটসহ সব মিলিয়ে ৭ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। নয় মাসের মধ্যেই এসব বস্তায় কম করে হলেও প্রতি বস্তায় ১ কেজি করে অন্তত ৮০ কেজি আদা উৎপাদন হবে। যদি ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়, তবে উৎপাদিত আদার বিক্রয় মূল্য হবে ১৬ হাজার টাকা।

    তিনি আরও বলেন, প্রতি বছরের মার্চ-এপ্রিলে আদা চাষ করতে হয়। আদা চাষে তেমন কোনো পরিচর্যা করতে হয় না। খরচও কম। লাভ বেশি। পতিত যেকোনো জায়গাতেই আদা চাষ করা যায়। তবে আধো আলো আধো ছায়া বা ছায়াযুক্ত জায়গা আদা চাষের জন্য উত্তম। বস্তায় আর কোনো ফসল চাষ করে আদার মতো এতো উৎপাদন সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

    উপজেলা কৃষি অফিসের সামনে বস্তায় আদা চাষ দেখে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়ন ব্রহ্মণজাত গ্রামের কৃষক আনোয়ার জাহিদ মল্লিক ওয়াসীম। তিনিও তার বাড়িতে প্রায় ৬০০ বস্তায় আদা চাষ করেছেন।

    তিনি বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় আমার বাড়িতে ৬০০ বস্তায় আদা চাষ প্রদর্শনী করেছি। এতে স্থানীয় কৃষি অফিস সার্বিকভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আদা চাষে উৎপাদন ব্যয় কম এবং খুব একটা পরিচর্যাও করতে হয় না। আশা করছি, লাভবান হবো।

    এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ূন দিলদার বলেন, কৃষকদের মনযোগ বাড়াতে এবং সবাই যাতে বাড়িতে বা যেকোনো পতিত জায়গায় বস্তায় আদা চাষ করতে উদ্বুদ্ধ হয়, মূলত সে জন্যই আমাদের অফিসের সামনে বস্তায় আদা চাষের এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমাদের আদা চাষ দেখে এ উপজেলার মানুষ বস্তায় আদা চাষ করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আর সবাই যদি আদা চাষ করে তাহলে সাড়া পড়ে যাবে এবং একপর্যায়ে সকলেই লাভবান হবেন। এতে এখানকার কৃষকরা স্থানীয় আদার চাহিদা মিটিয়েও অন্যান্য স্থানে তা বিক্রি করতে পারবেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দাবানল, পালাচ্ছে মানুষ

    যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দাবানল, পালাচ্ছে মানুষ

    ক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্চেলসে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ঘরবাড়িসহ সবকিছু। আগুনের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে সেখান থেকে পালাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সংবাদমাধ্যম লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ১০০ কিলোমিটার গতিতে বাতাস বইতে থাকে। এতে তিনটি বড় দাবানলের শক্তি বৃদ্ধি পায়। আগুনে দগ্ধ হয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

    এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে পালিসাদেস দাবানলটি। এটির আগুনে ১৫ হাজার ৮০০ একর জমি পুড়ে গেছে। এ থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি কোনো কিছু বাদ যায়নি।

    অপরদিকে ইটন দাবানলে ১০ একর জায়গা ভষ্মিভূত হয়ে গেছে। ছাই হয়েছে আলটাডেনা এবং পাসাডেনার বহু ঘরবাড়ি। এ দুটির পাশাপাশি তাণ্ডব চালাচ্ছে সানসেট এবং হার্স্ট দাবানল। এরমধ্যে নতুন করে হলিউড হিলে আগুন ছড়িয়েছে।

    ভয়াবহ আগুনে বেশ কয়েকজন হলিউড তারকার ঘর পুড়ে গেছে। তারা নিজেরাই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন।

    আগুনের কারণে সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দাবানলের আগুনের তীব্রতা এতই বেশি যে অনেকে তাদের গাড়ি রেখেই পালাতে বাধ্য হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সাংবাদিক অ্যান্ডারসন কুপার আলটাডেনা থেকে জানিয়েছেন, সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে আলটাডেনার এমন কিছু নেই যা দাবানলের আগুনে পুড়েনি।

    দাবানলের কারণে অনেক জায়গার মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া অনেকে খাবার পানির অভাবে পড়েছেন। সিএনএন জানিয়েছে, অন্তত দুটি জায়গার মানুষকে আপাতত কলের পানি না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, এ মুহূর্তে যেন শুধুমাত্র বোতলজাত পানি পান করেন তারা।

  • শৈত্যপ্রবাহ ৫ জেলায়, রাজধানীতে এক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা কমল ২ ডিগ্রি

    শৈত্যপ্রবাহ ৫ জেলায়, রাজধানীতে এক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা কমল ২ ডিগ্রি

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী ঢাকায় গতকালের মতো কুয়াশা নেই, বরং সকাল থেকেই রোদ উঠেছে। দেশের অনেক স্থানে কুয়াশা অপেক্ষাকৃত কম হলেও শীতের তীব্রতা বেড়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে খড়কুটো জ্বালিয়ে তাপ নিতে দেখা গেছে।

    আজ এত শীতের কারণ, গতকাল বুধবার রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়া। আজ দেশের অন্তত পাঁচ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এর মধ্যে চারটি জেলা উত্তরবঙ্গের। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, পঞ্চগড় এবং চুয়াডাঙ্গা।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, কোনো অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যদি ৮.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, তবে সেই স্থানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। আজ নওগাঁর বদলগাছী ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, রাজশাহী, পাবনা এবং চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ৫১টি স্টেশনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে, অর্থাৎ শীতের তীব্রতা দেশের বেশিরভাগ স্থানে রয়ে গেছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আজ রাতের তাপমাত্রা আরও কমে যাবে। এর ফলে আগামীকাল শুক্রবার শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

  • নতুন হিসাবে দেশে বেকার বেড়েছে, সংখ্যা ২৬ লাখ ৬০ হাজার

    নতুন হিসাবে দেশে বেকার বেড়েছে, সংখ্যা ২৬ লাখ ৬০ হাজার

    দেশে বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে শ্রমশক্তির ২৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বেকার ছিলেন।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ের ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আজ রোববার ওই জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

    বেকারের এই নতুন হিসাবটি ১৯তম আইসিএলএস (পরিসংখ্যানবিদদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন) অনুযায়ী প্রস্তুত করেছে বিবিএস। এই পদ্ধতি অনুসারে যাঁরা উৎপাদনমূলক কাজে নিয়োজিত থাকেন, কিন্তু বাজারে পণ্য বা সেবা বিক্রি করেন না, তাঁরা কর্মে নিয়োজিত নন হিসেবে ধরা হয়। তাঁরা বেকার জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত হন। এবারই প্রথমবারের মতো এভাবে হিসাব করেছে বিবিএস।

    এত দিন ১৩তম আইসিএলএস অনুসারে বেকারত্ব ও শ্রমশক্তির হিসাব করা হতো। নতুন হিসাবের পাশাপাশি এবার পুরোনো হিসাবটিও দেওয়া হয়েছে। সেই হিসাব অনুসারে, গত সেপ্টেম্বর মাস শেষে দেশের বেকারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ লাখ ৫০ হাজার। এর আগের প্রান্তিকে এই সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ ৪০ হাজার, তাঁরা বেকার ছিলেন। এর মানে হলো পুরোনো হিসাবে বেকারের সংখ্যা কমেছে। তবে নতুন হিসাবে বেকার বেড়েছে ২০ হাজার।

    বিবিএসের জরিপে বলা হয়েছে, সার্বিকভাবে বেকার জনগোষ্ঠী মূলত তারাই, যারা জরিপের আগের সাত দিন সময়ে এক ঘণ্টাও কোনো কাজ করেনি, কিন্তু কাজ করার জন্য প্রস্তুত ছিল। একই সঙ্গে তারা জরিপের পরের দুই সপ্তাহেও কাজের জন্য প্রস্তুত ছিল। এ ছাড়া বিগত ৩০ দিনে বেতন বা মজুরি অথবা মুনাফার বিনিময়ে করার জন্য কোনো না কোনো কাজ খুঁজেছেন, এমন ব্যক্তিরা বেকার হিসেবে বিবেচিত হন।

    এ বিষয়ে বিবিএসের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, এবারই প্রথমবারের মতো ১৯তম আইসিএলএস অনুসারে বেকারত্ব ও শ্রমশক্তি জরিপ করা হয়েছে। ফলে পরিসংখ্যানে কিছুটা তারতম্য রয়েছে।

    ১৩তম আইসিএলএসের ভিত্তিতে বিবিএসের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক জরিপ অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাস শেষে দেশের শ্রমশক্তি ছিল ৭ কোটি ৬ লাখ নারী-পুরুষ। এর মধ্যে পুরুষ ৪ কোটি ৭৪ লাখ ৯০ হাজার এবং নারী ২ কোটি ২৫ লাখ ৭০ হাজার।

    এবার দেখা যাক, কতজন কর্মে নিয়োজিত আছেন। জরিপের সময় দেশে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার নারী-পুরুষ আগের সাত দিনে এক ঘণ্টা মজুরির বিনিময়ে কাজ করেছেন। অর্থাৎ এঁরা কর্মে নিয়োজিত হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৪ কোটি ৫৭ লাখ ৭০ হাজার এবং নারী ২ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার।

    যারা কর্মে নিয়োজিত নয় কিন্তু বেকার হিসেবেও বিবেচিত নয়, তারাই মূলত শ্রমশক্তির বাইরের জনগোষ্ঠী। এই জনগোষ্ঠীতে আছেন শিক্ষার্থী, অসুস্থ ব্যক্তি, বয়স্ক, কাজ করতে অক্ষম, অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মে নিয়োজিত নন বা নিয়োজিত হতে অনিচ্ছুক এমন গৃহিণীরা। গত সেপ্টেম্বর মাস শেষে দেশে এমন ৫ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার নারী-পুরুষ ছিলেন।

    প্রতিবছর কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন। তাঁদের মধ্যে ১৩-১৪ লাখ মানুষের দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থান হয়। বাকিরা কাজের জন্য প্রবাসে যান। তাই দুই দশক ধরে বেকারের সংখ্যা মোটামুটি ২৪-২৮ লাখের মধ্যেই রয়েছে।

  • লন্ডনে পৌঁছেছেন খালেদা জিয়া

    বুধবার (৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৯ মিনিটে তাকে বহন করা এয়ারবাসটি অবতরণ করে। হিথ্রো বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে ভিআইপি প্রটোকল দেয়।

    এসময় বিমানবন্দরে তাকে বরণ করতে তার বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন

    উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে কাতার আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি।

    বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে খালেদা জিয়াকে বিদায় জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, সেলিম রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমুখ।

    সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।

    খালেদা জিয়াকে লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হবে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসার পর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় হসপিটালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নেওয়ার কথা রয়েছে।

    খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডনে যারা গেলেন

    সফরে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ তার চিকিৎসক, পরিবার ও তার কাজের সহকারী রয়েছেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডনে গেছেন তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান। দীর্ঘদিনের গৃহকর্মী ফাতিমা বেগম। চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের ছয়জন সদস্য, তারা হলেন- মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিক, অধ্যাপক নরুদ্দিন আহমেদ, জাফর ইকবাল, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও মোহাম্মদ আল মামুন।

    এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার ও প্রটোকল অফিসার এস এম পারভেজ।