Blog

  • তেজগাঁওয়ের ট্রাকস্ট্যান্ডে আগুন, পুড়ল ৬ ট্রাক

    তেজগাঁওয়ের ট্রাকস্ট্যান্ডে আগুন, পুড়ল ৬ ট্রাক

    রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ট্রাকস্ট্যান্ডে আজ রোববার সকালে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় এ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে অন্তত ছয়টি ট্রাক পুড়ে গেছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে।

    আজ সকাল আটটার দিকে আগুন লাগে তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের একটি গ্যারেজে। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, আগুন লাগার ঘটনা জানার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সেখানে প্রথম দুটি, পরে আরও একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে সকাল সাড়ে আটটার পর সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

    ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম আজ সকালে  বলেন, ট্রাকস্ট্যান্ডের কাছে একটি গ্যারেজে আগুন লাগে। এটি আসলে একটি দোকান। আগুন লাগার পর সেখানে থাকা ছয়টি ট্রাক পুড়ে গেছে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

  • রিওভাইরাস কীভাবে ছড়ায়, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

    রিওভাইরাস কীভাবে ছড়ায়, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

    দেশে প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয়েছে রিওভাইরাস। এটি বিরল প্রকৃতির একটি রোগ, যা এনকেফালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহ ঘটায়। রিওভাইরাস সম্পর্কে জানিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন।

    রিওভাইরাস কী

    ডা. মুশতাক বলেন, Respiratory Enteric Orphan Virus সংক্ষেপে রিওভাইরাস নামে পরিচিত। এটিকে ‘অরফান’ বলা হয় এই কারণে যে, এটা রোগ সৃষ্টি করে না। কিন্তু অন্যান্য রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে।

    সম্প্রতি বাংলাদেশে ৫ জনের দেহে রিওভাইরাস শনাক্ত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর)। এটি খুবই বিরল, যা মস্তিষ্কের প্রদাহ ঘটায় বা মস্তিষ্কের সংক্রমণ ঘটায়। খেজুরের কাঁচা রস খেয়েছেন এবং নিপাস ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে এসেছেন এমন রোগীদের দেহে পরীক্ষা করে যখন নিপাহ ভাইরাস পাওয়া যায়নি, বিকল্প হিসেবে অন্য ভাইরাস আছে কি না তা পরীক্ষা করতে গেলে রিওভাইরাস শনাক্ত হয়।

    নিপাহ ভাইরাসের প্রধান সমস্যা হচ্ছে এটি মস্তিষ্কে প্রদাহ ঘটায়। খেজুরের কাঁচা রস খাওয়ার কারণে নিপাহ ভাইরাসের পাশাপাশি দেশের মানুষ রিওভাইরাসেও আক্রান্ত হচ্ছে তা প্রথমবারের মত শনাক্ত হলো।

    রিওভাইরাস কীভাবে ছড়ায়

    ডা. মুশতাক বলেন, রিওভাইরাস অনেক আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছে, যা শ্বাসতন্ত্রের রোগের সঙ্গে এবং পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণ বা পেটের অসুস্থতার সঙ্গে যুক্ত থাকে। এটা সচরাচরই পাওয়া যায় কিন্তু মস্তিষ্কের প্রদাহ পাওয়া গেছে খুব বিরল।

    বাংলাদেশে যে রিওভাইরাস পাওয়া গেছে সেটা বাদুড় থেকে এসেছে। অর্থাৎ বাদুড়ের রিওভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে।

    রিওভাইরাসের অনেকগুলো ধরন রয়েছে, যা বিভিন্ন প্রাণী ও মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। সংক্রমিত প্রাণীর লালা, মল-মূত্রের মাধ্যমে দূষিত খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে অন্যের শরীরের প্রবেশ করতে পারে রিওভাইরাস।

    শ্বাসতন্ত্রের সঙ্গে থাকা, বিভিন্ন রোগ, পেটের পীড়ার সঙ্গে থাকা রিওভাইরাসের সংক্রামকতা বা সংক্রমণ ঘটানোর ক্ষমতা নেই। মস্তিষ্কের প্রদাহ ঘটায় যে রিওভাইরাস, তার সংক্রমণ ঘটানোর ক্ষমতা আছে।

    লক্ষণ

    মস্তিষ্কের প্রদাহ ঘটায় যে রিওভাইরাস তাতে নিপাহ ভাইরাসের মতোই লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, মুখ দিয়ে লালা ঝরা, তীব্র মাথা ব্যথা, প্রচণ্ড জ্বর, আবোলতাবোল কথা বলা, জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটালে হাঁচি-কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, জ্বর এবং পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণে বমি, ডায়রিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়। আলাদাভাবে রিওভাইরাস পাওয়া যায় না, অন্যান্য রোগের সঙ্গে থাকে।

    মস্তিষ্কের প্রদাহ একটি গুরুতর অসুস্থতা। রিওভাইরাস মস্তিষ্কের প্রদাহ ঘটায় আর যে কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলে এটা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

    ডা. মুশতাক বলেন, রিওভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসায় সরাসরি অ্যান্টিভাইরাল কোনো ওষুধ নেই, লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হবে রোগীকে। রিওভাইরাস যদি গুরুতর সংক্রমণ ঘটায় বিশেষ করে এনকেফালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহ হয় তাহলে সে অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে, অক্সিজেন থেরাপি বা প্রয়োজনে লাইফ সাপোর্ট দিতে হবে।

    শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের কোনো সমস্যায় সে অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে রোগীকে। ভাইরাসের চরিত্রই হচ্ছে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যেতে পারে বা খারাপও হয়ে যেতে পারে। রিওভাইরাসের মৃদু সংক্রমণ এমনিতেই ভালো হয়ে যায়, তবে গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

    যেহেতু বাদুড় থেকে রিওভাইরাস সংক্রমণ পাওয়া গেছে, সেহেতু নিপাহ ভাইরাসের পাশাপাশি রিওভাইরাস প্রতিরোধে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া যাবে না, গাছের নিচের পড়ে থাকা ফল, ফাটা বা আধা খাওয়া ফল খাওয়া যাবে না। যেকোনো ফল, সবজি খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

  • গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের উন্নতির পথে কলা চাষের অগ্রযাত্রা

    গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের উন্নতির পথে কলা চাষের অগ্রযাত্রা

     সাইফুল ইসলাম, পটুয়াখালী প্রতিনিধি  পটুয়াখালী জেলার বাউফল, গলাচিপা, দশমিনা ও দুমকি এলাকার কৃষকদের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিয়েছে কলা চাষ। ১০ বছর আগে যেখানে কলা চাষের বিস্তার ছিল একেবারে কম, সেখানে এখন এসব অঞ্চলে এক নতুন কৃষি বিপ্লব ঘটেছে। বর্তমানে কলার চাষের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে গেছে, আর গ্রামের প্রতিটি বাড়ির পাশের জমি থেকেও শুরু করে উচু ভিটের জমিতেও কলার চাষ দেখা যাচ্ছে। এই চাষের অভ্যন্তরে কৃষকদের মধ্যে এমন আগ্রহ বেড়েছে যে, কলা এখন শুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণের জন্য নয়, বরং বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করাও হচ্ছে ব্যাপকভাবে।

    কলা চাষের বিস্তার ও প্রকারভেদ

    বাউফল, গলাচিপা, দশমিনা, দুমকি, এমনকি পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রতিটি গ্রামে কলা চাষের ধারা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিররহাট, নাজিরপুর ইউনিয়নের ধান্দী বন্দরের বিলবিলাস, চরমিয়াজান এলাকায় কলা চাষ ব্যাপক আকারে পরিচালিত হচ্ছে। এসব এলাকার কৃষকরা এখন জানাচ্ছেন, বিভিন্ন ধরণের কলা চাষ করছেন, যার মধ্যে কাঠালী, আনাচ, ও সবরী কলার প্রাধান্য বেশি। তবে কাঠালী এবং আনাচ কলা চাষই সবচেয়ে বেশি হচ্ছে।

    বাউফল উপজেলার কৃষক জালাল জানান, “এখন বিভিন্ন ধরনের জমিতে শাক-সবজি, কাঁচা তরিতরকারী ফসলের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ কলা চাষ হচ্ছে। কলা চাষে এখন কৃষকেরা বাণিজ্যিকভাবে ঝুঁকছেন এবং এটি তাদের আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে উঠেছে।”

    স্থানীয় চাহিদা ও বাজারে কলার জনপ্রিয়তা

    এমনকি স্থানীয় বাজারেও কলার চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাউফল উপজেলা সদর বাজারে দেখা গেছে, সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আনাচ কলা। কৃষকরা এখন তাদের উৎপাদিত কলা খুচরা ও পাইকারিভাবে বিক্রি করছেন। গোসিংগা গ্রামের কৃষক মতলেব গাজী জানান, “৪-৫ বছর আগেও বাউফল, গলাচিপা, দশমিনা, দুমকি অঞ্চলে কলা আমদানি করা হতো যশোর, খালিশপুর, পিরোজপুর, বানারীপাড়া এলাকা থেকে। কিন্তু বর্তমানে এখানকার কৃষকরা নিজেদের জমিতেই কলা উৎপাদন করছেন এবং স্থানীয় চাহিদা পূরণ হয়ে যাচ্ছে।”

    কলা চাষের সহজতা ও মুনাফা

    পটুয়াখালী জেলার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কলা চাষের জন্য উপযুক্ত সময় সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস। জমিতে কলার চারা লাগানোর ৯ থেকে ১০ মাসের মধ্যে ফলন শুরু হয়ে যায়, এবং ১১-১২ মাসে তা বিক্রির উপযুক্ত হয়। প্রতিটি কলা গাছ থেকে এক ছড়ি কলা বের হয়, যা কৃষকরা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কলা চাষে কৃষককে কিটনাশক বা অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করতে হয় না, তবে সামান্য পরিচর্যা করলেই গাছ ভালভাবে বেড়ে ওঠে এবং ফলনও ভালো হয়।

    কলা চাষে সম্ভাবনা

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনছার উদ্দিন জানান, উপজেলায় কলার চাষের জন্য জনপ্রিয় তিনটি জাত রয়েছে। এগুলি হলো সাগর, নেপালী, মেঘসাগর এবং মালভোগ জাত। এসব জাতের কলার চাহিদা অনেক বেশি এবং বাজারে তাদের মূল্যও ভালো। কলা চাষে অতিরিক্ত খরচ না থাকায় কৃষকরা লাভজনকভাবে এটি চাষ করছেন এবং উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

    বাউফলসহ পটুয়াখালী জেলার গ্রামাঞ্চলের কৃষকরা কলা চাষের মাধ্যমে একটি নতুন কৃষি শিল্পের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। উন্নত প্রযুক্তি ও কৃষি জ্ঞানের মাধ্যমে তারা তাদের কৃষি জমিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করে তুলছেন। বর্তমানে কলা চাষ শুধু কৃষকদের জন্য লাভজনক একটি ফসল নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

  • শীতকালে কেন আগুনে পুড়ছে ক্যালিফোর্নিয়া?

    শীতকালে কেন আগুনে পুড়ছে ক্যালিফোর্নিয়া?

    অন্তত ১১ জনের প্রাণহানি, এক লাখ ৮০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত, ১০ হাজারেরও বেশি স্থাপনা ধ্বংস এবং প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা; স্মরণকালের সবচেয়ে বিধ্বংসী দাবানলগুলোর একটিতে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া।

    কাঠামোগত ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির ভিত্তিতে এটি আধুনিক ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন আকুওয়েদারের প্রধান আবহাওয়াবিদ জোনাথন পোর্টার।

    জানুয়ারি মাসে সাধারণত শীত ও বর্ষাকাল থাকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায়। তাই দাবানল-প্রবণ এলাকা হলেও বছরের এই সময়ে সাধারণত এমন দুর্যোগ হয় না। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮৪ সাল থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় বড় আকারের দাবানল হয়েছে ৪২৩টি, এর মধ্যে মাত্র চারটি হয়েছে শীতকালে।

    এবারের শীতে এমন ভয়ংকর দাবানল ভাবিয়ে তুলেছে বিশেষজ্ঞদের।

    অনাবৃষ্টি ও খরা

    এপি জানায়, গত দুই শীতে ভালো বৃষ্টিপাত হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। যার ফলে এ অঞ্চলে গাছপালাও বেড়েছে বহুগুণ।

    তবে গত আট মাসে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি বললেই চলে। সংবাদমাধ্যম এনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসে সর্বশেষ এক ইঞ্চির দশ ভাগের এক ভাগ বৃষ্টি দেখেছে লস অ্যাঞ্জেলস।

    এই অনাবৃষ্টিই ডেকে এনেছে খরা। মার্কিন ড্রট মনিটর জানাচ্ছে, ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল মাঝারি থেকে গুরুতর খরার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

    ‘শয়তান বাতাস’

    প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলঘেঁষা ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘ পাহাড়ি অঞ্চল এবং মরুভূমি রয়েছে। মরু থেকে এক ধরনের গরম বাতাস দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার পাহাড়ি অঞ্চল পেরিয়ে সাগরের দিকে যায়। এই বাতাসকে ‘সান্তা আনা বাতাস’ বা ‘শয়তান বাতাস’ (ডেভিল উইন্ডস) বলা হয়।

    বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণত ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ মাইল গতিতে প্রবাহিত হয় এই বাতাস। দাবানল শুরু হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ায় সান্তা আনা বাতাসের পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

    এই বাতাসের ফলে একটি অঞ্চলের আর্দ্রতা কমে যায়, সব গাছপালা শুকিয়ে যায়। যে কারণে ঘরের বাইরে যে কোনো আগুনই মিনিটের মধ্যে বড় অগ্নিকাণ্ডে রূপ নিতে পারে।

    কীভাবে দাবানল শুরু হয়েছে, তা এখনো বের করতে পারেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এর পেছনে একাধিক কারণও থাকতে পারে। তবে এই দাবানল এত বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে এই সান্তা আনা বাতাসের বড় ভূমিকা আছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    জলবায়ু পরিবর্তন

    ‘জলবায়ু পরিবর্তন খরা এবং উচ্চ তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে তুলেছে। দুটিই দাবানলের পক্ষে যায়’, ফরাসি পত্রিকা লা মনকে বলেন জলবায়ুবিদ ডেভিড ফারান্ডা।

    এ ছাড়া, সান্তা আনা বাতাস আসার সময়কালও প্রতিবছর পেছাচ্ছে। এটি হেমন্ত (ফল) থেকে শীতের দিকে যাচ্ছে বলে এপিকে জানান মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের অগ্নিবিজ্ঞানী জন কিলি।

    বর্ষার সময় বৃষ্টি না পড়া এবং এর ফলে সৃষ্ট খরা সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব।

    বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খরার মাত্রা এমনিতেও বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে। দুই বছর আগে শেষ হওয়া গোটা একটি দশক খরায় ভুগেছে ক্যালিফোর্নিয়া।

    যুক্তরাষ্ট্রের সাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসন তাদের গবেষণায় স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে বড় ও গুরুতর দাবানলের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

    সাধারণত মে থেকে অক্টোবরকে দাবানলের মৌসুম বলা হয় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন আর সেই হিসাবও মিলছে না।
    ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের কণ্ঠেও তাই একই হতাশা।

    ‘এখন আর দাবানলের মৌসুম বলতে কিছু নেই। এখন আসে দাবানলের বছর’, বলেন নিউসম।

  • সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

    সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

    (বাসস) : হাওর বেষ্টিত বোরো প্রধান চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো  আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত গড়ে ৮৫ ভাগ রোপণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ভাল থাকায় কৃষকরা ভাল ফলনের আশা করছেন।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় চার লাখ কৃষক পরিবার বোরো চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। চার লাখ পরিবারে প্রায় ১০ লাখ কৃষক চাষাবাদের যুক্ত রয়েছেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে জেলার সদর উপজেলয় মোট ১৬ হাজার ১৮৫ হেক্টরে, বিশ্বম্ভরপুর ১০ হাজার ৫৮৩ হেক্টরে, দোয়রাবাজার ১২ হাজার ৯০১ হেক্টরে, ছাতক ১৪ হাজার ৯৭৯ হেক্টরে, দিরাই ৩০ হাজার ১৭৭ হেক্টরে, শাল্লা ২১ হাজার ৬৯৯ হেক্টরে, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ২২ হাজার ৬১২ হেক্টরে, জগন্নাথপুর ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টরে, জামালগঞ্জ ২৪ হাজার ৫০৫ হেক্টরে, তাহিরপুর ১৭ হাজার ৪৩৯ হেক্টরে, ধর্মপাশা ৩১ হাজার ৯০৭ হেক্টরে বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। চাষ করা ধানের মধ্যে হাইব্রিড ৬৫ হাজার ২’শ হেক্টরে, উফশি ১ লাখ ৫৭ হাজার ২১০ হেক্টরে, স্থানীয় ধান এক হাজার হেক্টর জমিতে  চাষ করা হয়েছে।

    প্রতি বিঘা জমিতে উফশি ১৯ মণ, হাইব্রিড ২২ মণ ও স্থানীয় ৮ মণ ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসেবে প্রতি হেক্টর জমিতে উফশি ১৪৩ মণ , হাইব্রিড ১৬৭ মণ এবং স্থানীয় ৬০ মণ ধান উৎপাদন করা হবে। যা গড়ে হেক্টর প্রতি ১২৩ দশমিক ৩৩৩ মণ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট জেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৭৮ হাজার  মেট্রিক টন ধান।

    তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের রামজীবনপুর গ্রামের স্বাবলম্বী কৃষক ও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ বাসসেেক জানান, এবার তিনি ৪৪ একরে বোরো ধান চাষ করছেন। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি ৩২ একর জমি রোপণ করেছেন।

    তিনি বাসসকে আরো জানান, তাহিরপুর উপজেলার বৃহত্তর শনির হাওরে জলাবদ্ধতার কারণে ১২ একর জমি রোপণের উপযোগী হয়নি। পানি নেমে গেলেই রোপণ করা হবে।

    ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামের কৃষক গোলাম রেজা বাসসকে জানান, এবার তিনি ৮ কেদার জমিতে বোরো চাষাবাদ করেছেন। গত বছরও তিনি এ ৮ কেদার জমি চাষাবাদ করে প্রায় ২৫০ মণ ধান পেয়েছেন। এবার আল্লাহ চাহে তো আবহাওয়া ভাল থাকলে ফলন আরো বেশি  হাওয়ার আশা করছেন তিনি। চারজন সদস্যের পরিবার তার। যে ফসল পেয়েছেন তা দিয়েই সংসার চলে যাচ্ছে তার।

    তিনি বাসসকে আরো জানান, কৃষি বিভাগ বোরো ধান ফলাতে এবার তাকে তিন প্রকারের  সার দিয়েছে এবং ১ কেজি বীজ দিয়েছে। যে পরিমান সার কৃষি বিভাগ তাকে দিয়েছে এই পরিমান সার তাকে কিনতে হলে অন্তত ৮০ হাজার টাকা লাগতো। তিনি আরো জানান, স্কিমের (গভীর নলকূপে পানি সেচ) জমি হওয়ায় কৃষি বিভাগ তাকে সার ও বীজ দিয়ে উৎসাহ দিয়েছে।

    দিরাই উপজেলার কলিয়ার কাপন গ্রামের স্বাবলম্বী কৃষক গোলাম জিলানী চৌধুরী বাসসকে জানান, গত বছর তিনি দেড়শত কেদার মানে ৫০ একর জমিতে বোরো ধান চাষ করে প্রায় ২ হাজার মণ ধান পেয়েছেন। এবছর তিনি ২০০ কেদার মানে ৬৭ একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। তিনি গ্রামের পাশে উপজেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম চাপতির হাওরে এসব বোরো জমি চাষাবাদ করেছেন। চারদিন আগে বোরো ধান রোপণ করা শেষ হয়েছে।

    জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার নয়াহালট গ্রামের কৃষক মো. সেরুল আলম বাসসকে জানান, এবার তিনি উপজেলার বৃহত্তম পাকনার হাওরে ৪৫ কেদার বোরো জমি রোপন করেছেন। তিনি আরো জানান, গতকাল শুক্রবার তার বোরো জমি রোপণ শেষ হয়েছে।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বাসসকে জানান, চলতি  মৌসুমে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে। আজ শনিবার পর্যন্ত হাওরে ৮৫ ভাগ জমিতে বোরো ধান রোপন করা হয়েছে। বাকি ১৫ ভাগ জমি এক সপ্তাহের মধ্যে রোপন শেষ হবে বলেও বাসসকে জানান তিনি।

  • যারা নিবন্ধিত থাকবে তাদের নিয়ে জাতীয় নির্বাচন: সিইসি

    আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আজ শনিবার সকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    সিলেট সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এ মতবিনিময় সভায় সিইসি বলেন, ‘আমাদের সংস্কার কমিশন হয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন এখনো পাইনি। প্রতিবেদন পেলে তারা কী কী সুপারিশ দেয় তা পর্যালোচনা করে আমরা সিদ্ধান্তে আসতে পারবো।’

    তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার পাঁচ ধাপের ব্যবস্থা। একদিনে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুপারিশ অনেকে করছেন। কিন্তু এটা বাস্তবসম্মত নয়। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গেও সম্ভব নয়। এটা থিওরিটিক্যালি সম্ভব হলেও বাস্তবায়নযোগ্য বা গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে এটা নিয়ে মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

    সিইসির ভাষ্য, ‘১৬ ডিসেম্বরের ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় নির্বাচনের যে টাইমফ্রেম দিয়েছেন, তা মাথায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী নির্বাচন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আর জাতীয় নির্বাচন ইভিএমে হবে না। এমন কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।

    তিনি বলেন, ‘ভোটার তালিকা হালনাগাদে মানুষের ভোগান্তি যাতে কমে, আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, সেগুলো এড্রেস করছি। যারা দুর্নীতিতে জড়িত ছিল, প্রমাণ পেলে কাউকে ছাড় দিচ্ছি না, দিবো না। কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হলে ছাড় দিবো না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় শতভাগ বিশ্বাসী। কিন্তু একটা বুথে অনেক সাংবাদিক ঢুকে গেলে একটু সমস্যা হয়। আমরা একটা নীতিমালা ঠিক করে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবো। আমাদের সব কাজ স্বচ্ছ এবং এটা স্বচ্ছই রাখতে চাই।’

    ‘প্রবাসীদের ভোটাধিকার দিতে হবে তফশিল ঘোষণার আগেই তাদের ভোটার তালিকাভুক্ত করতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি। অনেকেই ইতোমধ্যে ভোটার হয়েছেন, বাকিদেরও নিবন্ধনের উদ্যোগ নিচ্ছি। প্রথম বছরে শতভাগ সম্ভব না হলেও আমরা যাত্রা শুরু করতে চাই’, যোগ করেন এ এম এম নাসির উদ্দীন।

  • মালয়েশিয়ার পাম বাগানে প্রয়োজন দুই লাখ কর্মী

    মালয়েশিয়ার পাম বাগানে প্রয়োজন দুই লাখ কর্মী

    মালয়েশিয়া প্রতিনিধি-মো:নুরুল ইসলাম সুজন    মালয়েশিয়ার দ্বীপরাজ্য সারওয়াকের পাম বাগানে প্রয়োজন দুই লাখ কর্মী। পাম বাগানের শ্রমের ঘাটতির কারণে বিদেশি শ্রমিকদের অনুমোদনের সময় ৯০ দিন থেকে কমিয়ে ৪৫ দিন করেছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দৈনিক নিউ স্ট্রিট টাইমস।

    রাজ্যের খাদ্য শিল্প, পণ্য ও আঞ্চলিক উন্নয়ন মন্ত্রী দাতুক সেরি ডা. স্টিফেন রুন্ডি এক বিবৃতিতে বলেছেন, এমন কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদন পেতে দুই বছর সময়ও লেগেছে। ইন্দোনেশিয়ার পাঁচ দিনের কর্ম সফর শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাদের আবেদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা দরকার।

    রুন্ডি বলেন, সারাওয়াকের ১.৬২ মিলিয়ন হেক্টর তেল পাম বাগানের জমির জন্য দুই লাখেরও বেশি শ্রমিক প্রয়োজন। ইন্দোনেশিয়ায়, রুন্ডি সারাওয়াক ল্যান্ড কনসোলিডেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন অথরিটি (সালক্রা) নিয়োগ এজেন্টদের সাথে আলোচনা করেছেন। তাদের এই বছরের নিয়োগের পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্রিফ করেন।

    তিনি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করতে ইন্দোনেশিয়ার আন্তর্জাতিক কর্মীবাহিনী পরিচালনার জন্য নিবেদিত একটি সমিতি Asosiasi Perusahaan Jasa Tenaga Kerja Indonesia (APJATI) এর প্রতিনিধিদের সাথেও দেখা করেন।

    গতকাল রুন্ডি ৬৫ জন ইন্দোনেশিয়ান শ্রমিকের প্রথম ব্যাচকে স্বাগত জানিয়েছেন। যারা শ্রী আমান এবং সারাটোকের সালক্রা বাগানে ফসল কাটার কাজ করবে। আগামী মাসের শুরুতে আরও এক হাজার শ্রমিক আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    রুন্ডি বলেছেন, স্যালক্রার শ্রমিক ঘাটতি, যার জন্য ১,০০০ জনেরও বেশি শ্রমিকের প্রয়োজন। সারাওয়াকের সমস্ত তেল পাম বাগানকে প্রভাবিত করে এমন বিস্তৃত সমস্যাগুলি প্রতিফলিত করে। তিনি বলেন, ‘আমাদের তেল পাম বাগানে শ্রমিকদের সত্যিই প্রয়োজন।’

    ২০১৪ সালে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো সারাওয়াক প্রদেশে কৃষিখাতে পাঠানোর জন্য পাঁচ হাজার বাংলাদেশিকে চূড়ান্ত করেছিল। কিন্তু তখন দুই সরকারের মধ্যকার G2G চুক্তিতে মালয়েশিয়া সরকারের আগ্রহের অভাবে শেষ পর্যন্ত পাঠানো যায়নি।

    মালয়েশিয়ার সারাওয়াকে বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগে চলে কূটনৈতিক তৎপরতা। ২০২৩ সালের ১২ জুলাই বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার রাজ্যের প্রিমিয়ার (রাজ্য সরকার প্রধান) দাতুক পাটিঙ্গি তান শ্রী আবাং জোহারি তুন ওপেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দক্ষ কর্মী নিয়োগে রাজ্য সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

    সারাওয়াক রাজ্যকে সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। এক্ষেত্রে হাইকমিশন তথা বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার বিষয়ে আশ্বাস দেয় বলে জানান হাইকমিশনার।

    এসময় বাংলাদেশ থেকে পেশাভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ নিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণসহ অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক সব বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সারাওয়াক রাজ্যের সরকারপ্রধান তার দফতরের কর্মকর্তাদের তাৎক্ষনিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়।

     

    একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দ্বীপ রাজ্য সারওয়াকে পাম বাগানে বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ চলমান রয়েছে। হাইকমিশন থেকে কয়েকটি কোম্পানীর এপ্রোভাল সত্যায়নও করেছে। এ পর্যন্ত কতজন বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বা সারাওয়াক প্রদেশে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন— এ বিষয়ে দূতাবাস বা মন্ত্রণালয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

    অভিবাসন বিশ্লেষকরা বলছেন, সারাওয়াক মালয়েশিয়ার একটি আলাদা স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ। এটি পাহাড়ি এলাকা। ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকরা সেখানে অধিকার সংক্রান্ত সমস্যায় পড়তে পারেন।

    তারা আরও বলছেন, সারাওয়াক প্রদেশে বাংলাদেশ মিশনের কোনো কার্যালয় নেই। ফলে সেখানে শ্রমিকরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে দূতাবাসকে জানানো কঠিন হয়। ফলে শ্রমিকদের চাকরি এবং তাদের জন্য সম্পূর্ণ সমস্যা সমাধান নিশ্চিত করার পরই কাউকে সারাওয়াক প্রদেশে পাঠানো উচিত।

    এদিকে গত বছর মালয়েশিয়ায় প্ল্যান্টেশন সেক্টরে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করে। সত্যায়নের মেয়াদ শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র নেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০২৫।

    দেশটির সরকার প্ল্যান্টেশন সেক্টরের জন্য নির্বাচিত বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়া প্রবেশের সর্বশেষ সময়সীমা চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

    গত বছরের ৪ নভেম্বর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রিক্রুটিং এজেন্টরা কর্মীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার অতিরিক্ত অর্থ নেবেন না। সব লেনদেন উপযুক্ত লিখিত দলিল রসিদ বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন করবেন এবং অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্ট ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মীদের লেনদেন না করার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

  • সবজির দরে ধস: স্বস্তিতে ভোক্তারা, হাহাকার কৃষকের

    সবজির দরে ধস: স্বস্তিতে ভোক্তারা, হাহাকার কৃষকের

    একটি ফুলকপির উৎপাদন খরচ ৫ টাকার বেশি, কিন্তু কৃষককে বেচতে হচ্ছে দুই টাকায়। চলতি সপ্তাহে ফুলকপিসহ অন্যান্য সবজির দর গ্রামীণ এলাকায় অস্বাভাবিক কমেছে। রাজধানীতেও অনেকটা তলানিতে। এতে ভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও কৃষকদের মধ্যে হাহাকার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    কৃষকরা জানান, বাজারে সবজির স্তূপ। ক্রেতা নেই। সার, বীজ, কীটনাশকের খরচ বেড়েছে অনেক। লাভ তো দূরের কথা, খরচের টাকা উঠছে না। ঋণ নিয়ে ফসল উৎপাদন করলেও সেই টাকা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার মৌসুমের শুরুতে শীতকালীন সবজির ফলন ও দাম দুটিই ভালো পেয়েছেন কৃষকরা। এখন কিছুটা কমলেও উৎপাদন খরচ উঠে যাবে।

    সবজির দামে ধস
    বাজারে এখন বেশ সস্তায় মিলছে সবজি। গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার ঢাকার কয়েকটি খুচরা বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি শিম ২৫ থেকে ৫০, বেগুন ৪০ থেকে ৫০, ঢ্যাঁড়শ ৩৫ থেকে ৪০, মুলা ২০ থেকে ৩০, ধুন্দল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, পটোল ৩০ থেকে ৪০, গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ থেকে ৭০, টমেটো ৬০ থেকে ৭০ এবং নতুন-পুরোনো আলু ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বেচা হয়েছে। প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি ১৫ থেকে ২০ এবং আকারভেদে লাউ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা পিস বেচা হয়েছে।

  • শুল্ক-কর বাড়ল যেসব পণ্যে

    শুল্ক-কর বাড়ল যেসব পণ্যে

    চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাঝপথে এসে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার। ফলে মোবাইল ফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোসহ খরচ বেড়েছে শতাধিক পণ্য ও সেবায়। গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

    চলতি অর্থ বছরের শেষ ৬ মাসে রাজস্ব আদায় বাড়াতে ভ্যাট বসানোর এই উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।রেস্তোরাঁর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে বন্ধ করে দেওয়া হবে খাবার রেস্তোরাঁ। বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এমন হুঁশিয়ারি দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইনে ব্যাপক পরিবর্তন এনে অধ্যাদেশ জারি করে জানিয়ে দেয়া হয় শতাধিক পণ্য ও সেবায় ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পাকা করেছে সরকার। রেস্তোরাঁতেও থাকছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট।

    এতে মোবাইল ফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৩ শতাংশ করা হয়েছে।প্রথমবারের মতো ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে ব্রডব্যান্ড সেবায়।অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সিগারেট, আম, কমলালেবু, আঙ্গুর, পেঁপে, তরমুজ, আপেল ও নাশপাতি, ফলের রস, সাবান ও সাবান জাতীয় পণ্য, ডিটারজেন্ট, ফ্রুট ড্রিংকসের ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকসের সম্পূরক শুল্ক ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বাদাম আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ঠেকানো হয়েছে ৪৫ শতাংশে।

    নতুন আইনে ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে বিস্কুট, আচার, চাটনি, টমেটো কেচাপ, এলপি গ্যাস, বিআরটিএ থেকে নেওয়া লেমিনেটেড ড্রাইভিং লাইসেন্স, চশমার ফ্রেম, রিডিং গ্লাসের ভ্যাট।টিস্যু, সানগ্লাস, মিষ্টি, প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা, নিজস্ব ব্রান্ডের তৈরি পোশাকের ভ্যাট সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। ওষুধের ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। তবে এলপি গ্যাসের স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট ২ শতাংশ বাতিল করা হয়েছে।

    এদিকে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেন ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা হলেই টার্নওভার কর দিতে হবে। বর্তমানে ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে কর দিতে হয়।

    নতুন প্রস্তাবে, বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকা পার হলে পণ্য ও সেবা বেচাকেনায় ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট বসবে। আমদানি পর্যায়ে ফলের রসে সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ; তামাকে ৬০ থেকে ১০০ শতাংশ; সুপারিতে ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে।

    বিমানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রুটে আবগারি শুল্ক ২০০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা ও সার্কভুক্ত দেশে ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ হাজার টাকা। এছাড়া এশিয়ার দেশগুলোতে দুই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে আড়াই হাজার টাকা এবং ইউরোপের দেশগুলোতে তিন হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে চার হাজার টাকা করা হচ্ছে। 

  • ক্রেতা বিক্রেতার হাঁক ডাকে সরগরম হয়ে উঠে হাতিয়ার চরঈশ্বর সবজি বাজার

    ক্রেতা বিক্রেতার হাঁক ডাকে সরগরম হয়ে উঠে হাতিয়ার চরঈশ্বর সবজি বাজার

    ভোরের আলো ফোটার আগেই ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁক-ডাকে সরগরম হয়ে উঠে হাতিয়ার চর ঈশ্বর ইউনিয়নের নিরাপদ সবজি বাজার। কৃষকদের পরম যত্নে আবাদ করা সবজি বিক্রি হয় এ বাজারে ।

    সূর্য ওঠার আগেই কৃষকরা তাদের জমিতে উৎপাদিত তরতাজা সবজি নিয়ে হাতিয়ার চর ইশ্বর ইউনিয়নের সবজি বাজারে আসেন। কেনা-বেচা চলে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ মিনিট, বিক্রি হয় লাখ লাখ টাকার সবজি। ভ্রাম্যমাণ দোকানের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া এসব সবজি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে চলে যায়। ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় খুচরা বিক্রেতারাও পাইকারি দামে সবজি কিনে নিয়ে যান।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্য ওঠার আগেই হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কৃষকরা পুঁইশাক, কলমি শাক, লাল শাক, পালংশাক, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, বরবটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, শালগম, নতুন আলু, বেগুন, গাজর, মুলা, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, ধনেপাতাসহ নানা রকমের টাটকা সবজি বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন।

    চাষী মো. আবু হোসেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি এ বাজারে সবজি বিক্রি করি। বাড়ির আঙিনায় উৎপাদন করা কীটনাশকমুক্ত সবজিই এ হাটের মূল আকর্ষণ। খুব ভোরেই আমাদের বিক্রি শেষ হয়। প্রায় ৩০ মিনিটে লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয়। তবে উৎপাদন হিসেবে সবজির দাম কম পাই।

    আহসান হাবিব বেলাল নামের আরেক চাষী বলেন, এখানে সব নিরাপদ সবজি বিক্রি হয়। আমরা যা খাই তাই আমরা বিক্রি করি। আমাদের সবজিতে কোনো ক্ষতিকর কিছু ব্যবহার করা হয় না। আমরা চাই সরকার আমাদের সবজির বিষয়ে গুরুত্ব দিক, তাহলে আমরা আরও ভালো করতে পারবো।

    মোশাররফ হোসেন নামের আরেক চাষী বলেন, আমাদের উৎপাদিত সবজি পুরো হাতিয়ায় যায়। আমরা এতে খুশি। তবে সরকারি কোনো সুবিধা আমরা পাই না। যদি পাইতাম তাহলে আরও ভালো করতাম। বর্তমানে সবজির দাম কম তাই ন্যায্য মূল্য পাই না। তবে হাতিয়ার সবজিগুলো যদি হাতিয়ার বাইরেও পাঠানো যেতো তাহলে কৃষকরা লাভবান হতো।

    মো. ফিরোজ হোসেন নামের আরেক চাষী বলেন, এক একর জমিতে শীতকালীন সব ধরনের সবজি আমি চাষাবাদ করছি। আমাদের এখানে নিরাপদ ও ফরমালিনমুক্ত শাক-সবজি পাওয়া যায়। বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতারা আসেন নিরাপদ সবজি কেনার জন্য। অনেক সাধারণ মানুষ এখান থেকে সবজি কেনেন। নিরাপদ সবজি বাজার হিসেবে এর সুনাম রয়েছে।

    হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, চরঈশ্বর ইউনিয়নের সবজির বাজারটি একটি প্রাচীন বাজার। বাজারটিতে নিরাপদ সবজির ভালো চাহিদা রয়েছে। এখানে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত এসব সবজি বিক্রি করেন। নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করনে আমরা আগামীতে পরিকল্পনা নেবো।