Blog

  • দ্বিতীয় দফায় ১১৯ ভারতীয়কে ফেরত পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    দ্বিতীয় দফায় ১১৯ ভারতীয়কে ফেরত পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দফায় ১১৯ ভারতীয়কে ফেরত পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আজ শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে পাঞ্জাবের অমৃতসর বিমানবন্দরে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে অবতরণ করবে একটি মার্কিন সামরিক বিমান।

    এদের মধ্যে ৬৭ জন পাঞ্জাবের, ৩৩ জন হরিয়ানার, ৮ জন গুজরাটের, ৩ জন উত্তর প্রদেশের, ২ জন করে গোয়া, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানের এবং ১ জন করে হিমাচল প্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীরের নাগরিক। এ ছাড়া আগামীকাল আরও একটি ফ্লাইটে তৃতীয় দফার অবৈধ ভারতীয়দের দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর এই প্রক্রিয়া আগামী সপ্তাহগুলোতেও চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রত্যেক ১৫ দিন পর সামরিক বিমানের ফ্লাইটে ভারতীয় অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হবে, যত দিন পর্যন্ত না সবাই দেশে ফিরে আসে।

    পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে প্রায় ৭ লাখ ২৫ হাজার ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তাই আরও অনেককে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

    এর আগে, ৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক বিমান ১০৪ ভারতীয়কে নিয়ে অবতরণ করে। তাঁদের মধ্যে ৩৩ জন করে ছিলেন হরিয়ানা ও গুজরাটের, ৩০ জন পাঞ্জাবের, ৩ জন করে মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশের এবং ২ জন চণ্ডীগড়ের।

    তবে দেশে ফেরত পাঠানো ভারতীয়দের সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে দেশটিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার প্যাট্রল কর্মকর্তারা ভারতীয়দের হাতকড়া পরিয়ে এবং পা শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন। প্লেন থেকে নামানোর সময় দেখে মনে হচ্ছিল, কোনো কুখ্যাত অপরাধীকে আনা হচ্ছে।

    এই ঘটনার পর ভারতের বিরোধী দলগুলো কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। তারা প্রশ্ন তুলছে, কেন ভারত সরকার নিজস্ব উদ্যোগে একটি ফ্লাইট পাঠিয়ে নিজের নাগরিকদের সম্মানের সঙ্গে দেশে ফেরত আনতে পারেনি।

    কংগ্রেস নেতা পি. চিদাম্বরম বলেন, ‘আজ রাতে অমৃতসরে অবতরণ করা মার্কিন সামরিক বিমানের দিকে সবার দৃষ্টি থাকবে। এবারও কি তাঁরা হাতকড়া পরানো অবস্থায় থাকবেন? ভারতীয় কূটনীতির জন্য এটি একটি বড় পরীক্ষা।’

    বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে এবং এই সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তার জন্য বন্দীদের হাতকড়া পরানো হয়। তবে, নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাদের খাবার, চিকিৎসা ও টয়লেট ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়।’

    জয়শঙ্কর আরও জানান, এমন ঘটনা নতুন নয়। ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭৫৬ ভারতীয়কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪২ জন এবং ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৮৯ জন।

    এদিকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পিতভাবে পাঞ্জাবের ‘বদনাম’ করতে অমৃতসরকে অবতরণের স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে।

    ভগবন্ত মান বলেন, ‘দ্বিতীয় দফায় ফেরত আসা ভারতীয়দের বহনকারী বিমানটি আবারও অমৃতসরে নামানো হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন এই শহরকে বেছে নেওয়া হলো? এটি পাঞ্জাবকে অসম্মান করার একটি ষড়যন্ত্র। যখন প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ট্রাম্প বৈঠক করছিলেন, তখনই কি আমাদের লোকদের হাতকড়া পরানো হচ্ছিল?’

  • সংস্কারের সব ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাবে জামায়াত: নায়েবে আমির তাহের

    সংস্কারের সব ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাবে জামায়াত: নায়েবে আমির তাহের

    সংস্কারের সব ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে জামায়াতে ইসলামী সমর্থন জানাবে জানিয়ে দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘আমরা বলেছি এই সংস্কার কমিশন তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরে, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিতে হবে।’

    আজ শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠক থেকে বের হয়ে ফরেন সার্ভিস একাডেমির সামনে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

    আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছি এবং সব ইতিবাচক সিদ্ধান্তে জামায়াতে ইসলামী সমর্থন জানাবে। আমরা বলেছি এই সংস্কার কমিশন সিদ্ধান্তে পৌঁছার পরে যাতে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেই প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য।’

    আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আরও বলেন, ‘তাঁরা আমাদের সংস্কারের রিপোর্ট বই দেবেন, সেই বই পর্যালোচনা করে জামায়াত ইসলামী এবং সরকারের যে টিম রয়েছে তাঁদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক হবে। সেখানে আলোচনা করে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাব।’

    তাহের বলেন, ‘আমরা বলেছি, যে সংস্কার প্রয়োজন, সেই সংস্কারে আমরা ঐকমত্য হলে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে উনারা তা করবেন।’

  • সারা দেশে গ্রেপ্তার আরও ১৩৪৭, ‘ডেভিল’ ৪৭৭ জন

    সারা দেশে গ্রেপ্তার আরও ১৩৪৭, ‘ডেভিল’ ৪৭৭ জন

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক হাজার ৩৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এর মধ্যে বিভিন্ন মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে ৮৭০ জন। যৌথবাহিনীর সমন্ময় গঠিত ‘অপারেশন ডিভল হান্টে’ গ্রেপ্তার হয়েছে ৪৭৭ জন।

    আজ শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) ইনামুল হক সাগর এই তথ্য জানান।

    সহকারী মহাপরিদর্শক জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, তিনটি ছুরি, দুটি রামদা ও তিনটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

  • সস্তার আলু এখন অনেক চাষির গলার ফাঁস

    সস্তার আলু এখন অনেক চাষির গলার ফাঁস

    বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে সস্তা খাদ্যপণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আলু। কৃষকেরা চলতি মৌসুমে অধিক লাভের আশায় বিপুল পরিমাণে আলু চাষ করলেও এখন তারা লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না।

    রেকর্ড পরিমাণে চাষ ও ফলন

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে রেকর্ড ৫ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএসএ) মতে, এ বছর মোট আলু উৎপাদন এক কোটি ২০ লাখ টন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এক কোটি ছয় লাখ টন উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে। দেশের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৯০ লাখ টন হওয়ায় উৎপাদিত আলুর একটি বড় অংশ উদ্বৃত্ত থাকছে।

    কম দামে বিক্রির চাপে কৃষকরা

    টিসিবি’র হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় প্রতি কেজি আলুর খুচরা দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকেরা ১১ টাকারও কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

    দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া ও জয়পুরহাটের কৃষকেরা জানান, তারা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে ১৫ টাকা, যা গত বছরের ১৩ টাকা ছিল।

    কৃষকরা জানাচ্ছেন, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর আলুর বীজের দাম ছিল ৩৫-৪০ টাকা কেজি, যা এবার ৮০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে চাষের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

    আলু সংরক্ষণ ব্যয়ও বৃদ্ধি

    কৃষকরা বলছেন, হিমাগারে আলু সংরক্ষণের খরচ গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজিতে ৪ টাকা বেড়েছে। ফলে কৃষকেরা ন্যায্য দামে আলু বিক্রি করতে পারছেন না। জয়পুরহাটের কৃষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, চাষবাস চালিয়ে যাচ্ছি কারণ আমাদের লজ্জা নেই।’

    সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি

    কৃষকেরা আলুর দাম বাড়াতে এবং ক্ষতি পোষাতে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানাচ্ছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়া বলেছেন, ‘দেশের বাজার ব্যবস্থার প্রকৃতি বিবেচনায় পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জটিল কাজ।’ হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার নজরে রেখেছে এবং এ বিষয়ে মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বাণিজ্য ও বিপণন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কৃষকের ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মাসুদ করিম আশা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও করণীয়

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আলুর দাম কমার এই অবস্থা সাময়িক। তবে কৃষকেরা যাতে ভবিষ্যতে এমন ক্ষতির সম্মুখীন না হন, সে জন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তার পরিকল্পনা করছে। কৃষকদের জন্য হিমাগার সুবিধা সম্প্রসারণ, উৎপাদন পরিকল্পনা উন্নয়ন এবং ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেছেন।

     

  • বাউফলে নলেজ শেয়ারিং ও সম্পর্ক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত

    বাউফলে নলেজ শেয়ারিং ও সম্পর্ক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত

    বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
    বাউফলে স্পিড ট্রাস্ট-এর আয়োজনে এবং এএলআরডি (মিজেরিয়া)-এর সহযোগিতায় জন সমবায় দলীয় সদস্যদের নলেজ শেয়ারিং ও সম্পর্ক উন্নয়ন সভা এবং বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ সকালে আয়োজিত এই সভায় সহকারী যুব উন্নয়ন অফিসার মো: হানিফ খান আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাটি স্পিড ট্রাস্টের উজ্জীবক সাইফুল ইসলাম-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তব্য রাখেন এনিমেটর সালমা বেগম, ক্লাস্টার লিডার খাদিজা বেগম, পারভীন বেগম, সাহিদা বেগম প্রমুখ।

    সভায় জন সমবায় দলীয় কার্যক্রম, ভূমিস্বত্ব, সরকারি সেবা, কৃষি চর্চা, যৌথ পুঁজি বিনিয়োগ এবং জাতীয় প্লাটফর্ম কর্মশালা নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

    আয়োজনের শুরুতেই জন সমবায় গ্রুপের কিশোরী দল বসন্তের ঋতুকে কেন্দ্র করে একটি জারীগান পরিবেশন করে, যা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে।

  • পাবনায় বানিজ্যিক ভিত্তিক গোলাপ চাষে তিন ভাইয়ের সাফল্য

    পাবনায় বানিজ্যিক ভিত্তিক গোলাপ চাষে তিন ভাইয়ের সাফল্য

    নোমান আহম্মেদ :ফুল কার না পছন্দ, ফুলকে পছন্দ করে না এমন মানুষের দেখা মেলা ভার। হাজার বছর ধরেই মানুষের পরিবেশের সৌন্দর্যে ব্যবহার করা হয়ে থাকে নানান রঙের ফুল। তাই তো কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তার কবিতায় লিখেছেন। জোটে যদি মোটে একটি পয়সা খাদ্য কিনিয়ো ক্ষুধার লাগি’ দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী !

    ফুল ভালোবাসা, পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক। তবে ফুল এখন আর সৌখিনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফুলকে এখন বাণিজ্যিক ফসল হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। বর্তমানে দেশে ফুল চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন অনেক কৃষক, পিছিয়ে নেই পাবনার কৃষকেরাও।

    যেখানে সবজি চাষের খরচ তুলতে কৃষক বেসামাল, ঠিক সেখানেই বাণিজ্যিক ভাবে গোলাপ চাষে সফলতা পেয়েছেন পাবনা সদর মালিগাছা ইউনিয়নের ভজেন্দ্রপুর এলাকার কৃষক খন্দকার শরিফুল আলম রানা, খন্দকার আশরাফুল বারী শাহীন ও খন্দকার জাফর উল্লাহ নামের তিন ভাই। ২০২১ সালে তিন বিঘা জমিতে গড়ে তোলা বাণিজ্যিক গোলাপ বাগানে এখন তাদের মাসিক গড় আয় তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা। এমন সাফল্যে জেলায় গোলাপ চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছেন কৃষিবিভাগও।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঘের শীতের বিদায় বেলায়, ঘন কুয়াশা ভেদ করে ভোরের আলো ফুটতেই গাছ থেকে ফুল তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমীকেরা। লাল, সাদা, হলুদ, গোলাপীসহ বাহারি নানা রঙের গোলাপ বাগান থেকে সংগ্রহ ও বাছাই করে চলছে বাজারের নির্ধারিত দোকানে পৌঁছানোর প্রস্তুতি। সুবাসিত গোলাপের এই রঙিন বাগানটি দেখে, বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নতুন আশা জাগাচ্ছে অন্যান্য কৃষকের মনেও।

    জানা যায়, বাগান মালিক ভজেন্দ্রপুর গ্রামের তিন ভাই। ৪ বছর আগে পৈত্রিক তিন বিঘা জমিতে ভারত, যশোর ও গাজীপুর থেকে প্রায় ৩৬ হাজার চারা সংগ্রহ করে গড়ে তোলেন গোলাপ বাগান। প্রথম বছরেই চারা থেকে আসে ফুল। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ভালো লাভ হওয়ায় সবজি চাষের নির্ভরতা কমিয়ে প্রতি বছরই বাড়াচ্ছেন তাদের বাগানের পরিধি।

    কথা হয় বাগান মালিক খন্দকার আশরাফুল বারী শাহীন’র সাথে তিনি জানান, এক সময় বাঁশঝারে পরে থাকা এই বাগানটিতে এখন চায়না, হাইব্রিড জুমুলিয়া, বিউটি, ভারগো ও বমবম এই চার জাতের সাতটি পৃথক রঙের গোলাপ চাষ করছেন তিনি। তিনি জানান, দুজন কর্মচারী নিয়ে কাজ শুরু করা এই বাগানে এখন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ছয় জনের। তাঁদের মাসিক বেতন বাবদ খরচ প্রায় ৭০ হাজার টাকা। শীত মৌসুমে বিয়ে ও উৎসব পার্বনে ফুলের চাহিদা বাড়ায় দামও পান ভালো। এছাড়া ফুল কিনতে ক্রেতাও সরাসরি বাগানে আসেন বলে জানান তিনি।

    বাগান মালিকের ছেলে সাকিবের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার বাবা-চাচা মিলে এই ফুলের বাগান শুরু করে। আমি পড়াশোনার পাশাপাশি বাগানে পরিচর্যার কাজ করে থাকি। তিনি জানান, বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। তিনি জানান, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিতে বসন্তবরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস এবং মার্চে মহান স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে

    বেড়ে যায় ফুলের চাহিদা। তাই এই সময়টাতে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করে থাকেন তারা। তিনি জানান, শুধু পাবনা, চাটমোহর, সুজানগর, সাঁথিয়া, কাশিনাথপুর ও বেড়া নয় ঢাকাতেও ফুল বিক্রি করে থাকেন তারা।
    গোলাপ বাগানের ম্যানেজার ইউনুফ সরদার জানান, চারা রোপনের দুই মাস পরেই বাগানে প্রচুর ফুল আসতে শুরু করে। বাজারে চাহিদা থাকায়, ভালো দামও পান তারা। তিনি জানান, আগে ফুলের দোকানিরা যশোর থেকে ফুল আনতো। এতে করে তাদের খরচও হতো বেশি। এখন আমাদের বাগান থেকে ফুল নেওয়ায়, তাদের খরচ ও সময় দুইটিই বেঁচে যায়। তিনি আরও জানান, এখন বিভিন্ন সবজি চাষে দাম না পেয়ে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক। তাই সবজি চাষে নির্ভরতা না বাড়িয়ে কৃষকদের ফুল বাগান গড়ার পরামর্শ দেন এই চাষি।

    কথা হয় বাগান শ্রমিক শাহীন প্রামানিকের সাথে তিনি জানান, আগে ক্ষেত-খামারে কৃষি কাজ করে কোনরকমে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। পরে মাসিক ১৩ হাজার টাকা বেতনে গাছ পরিচর্যার চাকরি নেন । বর্তমানে মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন পেয়ে সচ্ছলতা ফেরান সংসারে।

    কথা হয় টেবুনিয়া থেকে ফুল কিনতে আসা তিথী’র সাথে তিনি জানান, ফুল তার খুব পছন্দের, তাই সকালে গাছ থেকে উঠানো সতেজ ফুল কিনতে ও দেখতে বাগানে ছুটে এসেছেন তিনি।

    এবিষয়ে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক, কৃষিবিদ মো. রোকনুজ্জামান বলেন, আগে পাবনায় গোলাপ ফুলের বাজার পুরোটাই ছিলো আমদানি নির্ভর। তবে সতেজ ও মানসম্পন্ন ফুল পাওয়ায়, এখন তার অনেকটাই তিন ভাইয়ের দখলে। তিনি জানান, এখন তাদের বাগানে সপ্তাহে ২- ৩ দিন, দুই থেকে আড়াই হাজার পিস গোলাপ সংগ্রহ করেন কর্মীরা। প্রতিটি ফুল পাইকারি ২০ টাকায় বিক্রি করেন তারা। তিনি বলেন, শুধু তারাই নয় এখন পাবনা সদর, চাটমোহর, সুজানগর, ঈশ্বরদী, বেড়া থেকে শুরু করে প্রায় উপজেলাতেই বাণিজ্যিক ভাবে ফুলের চাষ করা হচ্ছে। গোলাপের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারিত হলে এ জেলা থেকে ফুল রপ্তানি সম্ভব বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

  • হাইপ্রোফাইল বৈঠকে দুধের বাচ্চা নিয়ে হাজির ইলন মাস্ক, কী বোঝাতে চান তিনি

    হাইপ্রোফাইল বৈঠকে দুধের বাচ্চা সঙ্গে নিয়ে হাজির হন ইলন মাস্ক। তিনি শুধু শীর্ষ ধনীই নন, এখন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রধানও।

    সর্ব সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ব্রিফিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে শিশুসন্তানসহ ইলন মাস্কের উপস্থিতি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।এটি নতুন নয়। ইলন মাস্কের সন্তানেরা এমন অনেক জায়গায় গেছে, যা অনেকে কখনো দেখারও সুযোগ পাবে না। বিদেশি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক থেকে শুরু করে স্পেসএক্সের রকেট উৎক্ষেপণের কন্ট্রোলরুম পর্যন্ত, মাস্কের সন্তানেরা তাদের বাবার প্রযুক্তি, ব্যবসা এবং এখন রাজনীতির সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই টেক বিলিয়নিয়ার ও টেসলার মালিককে নবগঠিত সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফলে প্রায়ই তাঁর সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে দেখা যাচ্ছে।

    মাস্কের চার বছরের সন্তান ‘লিল এক্স’। গত বুধবার ওভাল অফিসে একটি ট্যান পি কোট ও কলারযুক্ত শার্ট পরা অবস্থায় প্রেসিডেন্টের রেজোলিউট ডেস্কের কোনা ধরে ঝুলতে দেখা গেছে তাকে। গত বৃহস্পতিবার এক্স ও তার দুই ভাই–বোন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে উপহার নিয়েছে। ওই সময় তাদের বাবা মোদির সঙ্গে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা করছিলেন। সঙ্গে দুই নারীকেও দেখা যায়।

    ওয়াশিংটনে সরকারি দায়িত্ব নেওয়ার আগেও মাস্ককে প্রায়ই তার সন্তানদের সঙ্গে নিতে দেখা গেছে—তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক, অশউইৎস কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে একটি স্মারক অনুষ্ঠান এবং টাইম ম্যাগাজিনের একটি অনুষ্ঠানেও তাঁকে সন্তানসহ দেখা গেছে। টাইম ম্যাগাজিন ইলন মাস্ককে ২০২১ সালের ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রচ্ছদ করে

    কিন্তু দুধের বাচ্চাদের নিয়ে সবখানে কেন হাজির হন ইলন মাস্ক? যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগের অধ্যাপক কার্ট ব্র্যাডক বলেন, ‘জনসমক্ষে উপস্থিতিতে সন্তানদের সঙ্গে রাখা খুবই রাজনৈতিক পদক্ষেপ, এতে নিজেকে আরেকটু বেশি ব্যক্তিত্বপূর্ণ বা হাসিখুশি হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। সেই সঙ্গে জনসাধারণের কাছে নিজের প্রতিচ্ছবি আরও মানবিক হিসেবে তুলে ধরা যায়।’ তবে ব্র্যাডক এও মনে করেন যে, ইলন মাস্কের এতটুকু বাচ্চাকে ওভাল অফিসে আনার সিদ্ধান্তটি অস্বাভাবিক।

    ইলন মাস্কের ৩০ মিনিটের প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় এক্সকে বিরক্ত মনে হচ্ছিল। সে তার বাবাকে অনুকরণ করছিল, একবার মেঝেতে বসে পড়ে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার দিকে ঘাড় বাঁকিয়ে তাকাতে দেখা যায়, আবার একটু হাসছিলেনও তিনি। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, এক্স ওই ঘরে থাকা কাউকে ‘চুপ’ করতে বলছে।

    ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইলন মাস্কের বৈঠক। ছবি: নরেন্দ্র মোদির এক্স হ্যান্ডল

    অধ্যাপক ব্র্যাডক বলেন, তিনি মনে করেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানে ইলন মাস্কের শিশুসন্তানদের আনাটা ইচ্ছাকৃত। এটা একধরনের চিত্তবিক্ষেপ বা মনোযোগ সরানোর একটি কৌশল, যা মাস্ক ও ট্রাম্প উভয়ের জন্যই উপকারী!

    অধ্যাপক ব্র্যাডক আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, এখানে কিছুটা কৌশল রয়েছে—কিছু বিষয়ের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করা, যার মাধ্যমে অন্য বিষয়গুলোর দিক থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

    পাঁচটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচার–প্রচারণা নিয়ে কাজ করেছেন কৌশলগত যোগাযোগ পরামর্শক জন হ্যাবার। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন। হ্যাবারের মতে, ইলন মাস্কের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সন্তানদের প্রায়ই উপস্থিত হওয়া এবং ভাইরাল মুহূর্ত তৈরি করা ট্রাম্পের জন্য উপকারী। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের জন্য, যত বেশি বিশৃঙ্খলা, যত বেশি আয়োজন, তত কম কেউ নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারে। বিশৃঙ্খলা ট্রাম্পের পক্ষেই কাজ করে।’

    এদিকে ইলন মাস্কের প্রাক্তন এবং এক্সের মা গ্রাইমস ওভাল অফিসে তাঁর ছেলের উপস্থিতির সমালোচনা করেছেন। তিনি এক্সে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘তাকে এভাবে প্রকাশ্যে আনা উচিত নয়। আমি এটি দেখিনি…তবে আমি খুশি যে সে (এক্স) ভদ্র ছিল। হায়!’

    ২০২২ সালের ভ্যানিটি ফেয়ার লেখা একটি নিবন্ধে গ্রাইমস বলেছিলেন, তিনি তাঁর ছেলেকে মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রে রাখার পক্ষপাতি নন। তিনি বলেন, ‘পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে যা কিছুই চলুক না কেন, আমি মনে করি, বাচ্চাদের এসবের বাইরে থাকা দরকার, আর এক্স এসবের বাইরেই। আমার মনে হয়, ই (ইলন মাস্ক) তাকে সত্যিই একজন প্রোটিজি (অভিভাবকত্বের অধীন) হিসেবে দেখছে এবং তাকে সবকিছুতেই নিয়ে যাচ্ছে।…এক্সের অবস্থা এমন। আচ্ছা, হ্যাঁ, আমি জানি না।’

    রাজনীতির অনেক আগে থেকেই মাস্ক তাঁর সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে ঘোরেন। এক দশক আগে, যখন ইলন মাস্ক নানা প্রকল্প নিয়ে দিনরাত খাটছেন, প্রোফাইল তৈরি করছেন এবং তাঁর বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানি টেসলার দিকে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে মরিয়া, তখন বিভিন্ন ইভেন্টে সন্তানদের উপস্থিতি অস্বাভাবিক ছিল না।

    ২০১৫ সালে সিলিকন ভ্যালিতে টেসলার একটি কারখানা উদ্বোধনের আগে বিশ্লেষক এবং সাংবাদিকেরা অপেক্ষা করছিলেন, তখন মাস্কের পাঁচ সন্তানকে করিডর দিয়ে একে অপরের পেছনে দৌড়াতে এবং হাসতে দেখা গিয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে মাস্কের সন্তানদের এই উচ্ছ্বাসপূর্ণ উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে একটি শিথিল এবং আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করেছিল। অন্য কোনো কোম্পানির পক্ষে এমনটি করা কিন্তু বেশ কঠিন কাজই। কারণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর ছোট সন্তানদের উপস্থিতি অদ্ভুতই মনে হতো। এমনকি এটিকে মনোযোগ বিচ্যুতি হিসেবেও দেখা হতো।

    তিনজন নারীর গর্ভে ইলন মাস্কের ১২টি সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় পুত্র বলা যেতে পারে—এক্স A-Xii, ‘লিল এক্স’ নামেই বেশি পরিচিত সে। এই ‘এক্স’ অক্ষর নিয়ে ইলন মাস্কের একধরনের আবেশ বা সংস্কার আছে বলা চলে। টুইটার কেনার পর এই নামই দিয়েছেন তিনি।

    চার বছরের এক্সকে মাস্ক নিজেই ‘ইমোশনাল সাপোর্ট হিউম্যান’ বলে অভিহিত করেছেন। মাস্কের জীবনীকার ওয়াল্টার আইজ্যাকসন ‘দ্য ডায়েরি অব অ্যা সিইও’ পডকাস্টে বলেছেন, মাস্ক তাঁর সন্তানদের প্রতি ‘গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ এবং ‘তাদের প্রতি প্রায় মোহাচ্ছন্ন’।

    তিনি বলেন, ‘সন্তান, প্রেমিকা, স্ত্রীদের সঙ্গে সবকিছুতেই একই তীব্র আবেগ কাজ করে মাস্কের। তিনি সব সময় কিছু সন্তানকে তাঁর চারপাশে রাখতে পছন্দ করেন। তিনি সব সময় একজন সঙ্গী রাখতে পছন্দ করেন, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, তিনি প্রশান্তি পছন্দ করেন।’

  • ইউএসএআইডির তহবিল স্থগিতে বন্ধ হচ্ছে কৃষি গবেষণা ল্যাব, নতুন সংকটে কৃষকেরা

    ইউএসএআইডির তহবিল স্থগিতে বন্ধ হচ্ছে কৃষি গবেষণা ল্যাব, নতুন সংকটে কৃষকেরা

    ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে। এর ফলে ১৩টি অঙ্গরাজ্যের ল্যান্ড–গ্রান্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবস্থিত কৃষি গবেষণা ল্যাবরেটরিগুলোর কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এই ল্যাবগুলো কৃষিপ্রযুক্তি, বীজ উন্নয়ন এবং বিদেশে মার্কিন পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের জন্য গবেষণা করছিল। এই বন্ধ হওয়া ল্যাবগুলো কৃষকদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে, বিশেষ করে এনজিওটির কার্যক্রম বন্ধ করায় সরকারি খাদ্য ক্রয়, কৃষি অনুদান এবং ঋণ কর্মসূচিগুলোও ব্যাহত হচ্ছে।

    ল্যান্ড–গ্রান্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফেডারেল সরকারের দেওয়া জমিতে প্রতিষ্ঠিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ল্যাবগুলো ইউএসএআইডির ‘ফিড দ্য ফিউচার ইনোভেশন ল্যাবস’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে অর্থায়িত হতো। এই ল্যাবগুলো মালাবি, তানজানিয়া, বাংলাদেশ ও রুয়ান্ডার মতো দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বে গবেষণা চালায়। এই গবেষণাগুলো মার্কিন কৃষকদের জন্য উপকারী ছিল। কারণ, বিদেশে পরিচালিত প্রোগ্রামগুলো উৎপাদন পদ্ধতি উন্নত করতে বা কীটপতঙ্গের আগাম সতর্কতা দিতে পারে।

    ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়াবিন ইনোভেশন ল্যাবের প্রধান পিটার গোল্ডস্মিথ বলেছেন, ‘মার্কিন কৃষকদের জন্য এটি ভালো নয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, তাঁর ল্যাবের ৩০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে এবং ল্যাবটি ১৫ এপ্রিল বন্ধ হয়ে যাবে। এই ল্যাবটি আফ্রিকার দেশগুলোতে সয়াবিন চাষের জন্য কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছিল এবং সয়া প্রক্রিয়াকরণ কারখানা নির্মাণকারী কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করছিল।

    পেন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ইউএসএআইডি ইনোভেশন ল্যাবের পরিচালক ডেভিড হিউজ বলেছেন, ‘এটি কৃষকদের কীটপতঙ্গ এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং মার্কিন কৃষকদের রোগবালাই প্রতিরোধে সাহায্য করার আমাদের সক্ষমতা সত্যিই কমিয়ে দেবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, তানজানিয়ায় একটি ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য চলমান একটি গবেষণা বন্ধ হয়ে গেছে। এই রোগ একটি জাবপোকার মাধ্যমে ছড়াচ্ছিল এবং কলা ফসলের ক্ষতি করছিল।

    মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ডেভিড টসচিরলি। যিনি ফিড দ্য ফিউচার ইনোভেশন ল্যাব কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, বলেছেন, এই ল্যাব নেটওয়ার্কে প্রায় ৩০০ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন এবং তাঁদের বিদেশে চার হাজারেরও বেশি সহযোগী রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি বিশ্বের কাছে আমেরিকার একটি ভাবমূর্তি তুলে ধরে যা খুবই প্রশংসিত।’ তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরনের কাজ জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও উপকারী।

    গত জানুয়ারির শেষ নাগাদ ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি সহায়তা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পরে ১৭টি ল্যাবেরই ওয়ার্ক অর্ডার বন্ধ হয়ে গেছে। টসচিরলি বলেন, ইউএসএআইডির তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে কোনো নির্দেশনা বা প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়নি। কিছু ল্যাব তাদের হোস্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কিছু খরচ বহন করার জন্য আবেদন করছে, তবে সাফল্য আশানুরূপ নয়।

    মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি টসচিরলির ল্যাবকে কর্মীদের রাখার অনুমতি দিয়েছে, এই আশায় যে ইউএসএআইডি শেষ পর্যন্ত ব্যয় অনুমোদন করবে। তবে গোল্ডস্মিথ বলেছেন, তিনি তাঁর ল্যাবের সমস্ত কর্মীকে ছাঁটাই করেছেন এবং ল্যাবটি বন্ধ করার পরিকল্পনা করছেন।

    ট্রাম্প প্রশাসনের অন্য কর্মকাণ্ডও মার্কিন কৃষকদের প্রভাবিত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২৪ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশি সহায়তা স্থগিত করার আদেশের পরে কয়েক মিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য ক্রয় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দেশজুড়ে কৃষকেরাও বলছেন, তাঁরা ট্রাম্পের ফেডারেল ঋণ এবং অনুদান স্থগিত করার নির্দেশনার কারণে বিভিন্ন ফেডারেল কৃষি কর্মসূচি থেকে অর্থ পাচ্ছেন না। আদালত এসব অর্থ ছাড় ঠেকিয়ে রেখেছে।

    এই অবস্থায় মার্কিন কৃষকেরা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। কৃষি গবেষণা ল্যাবগুলো বন্ধ হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে কৃষিপ্রযুক্তি এবং উৎপাদন পদ্ধতির উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • বাম্পার ফলনেও হতাশ পেঁয়াজ চাষিরা

    মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও হতাশায় দিন কাটছে মানিকগঞ্জ জেলার পেঁয়াজ চাষিদের। এ বছর পেঁয়াজের দাম আশানুরূপ না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকের।

    জানা গেছে, গত কয়েক বছর পেঁয়াজের দাম ভালো পাওয়ায় এ বছরও জেলার চাষিরা লাভের আশায় ঋণ করে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। উৎপাদনও ভালো হয়েছে। তবে বাজারে দাম কম থাকায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এখন ঋণের টাকা পরিশোধ করার দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন তারা।

     

    বাম্পার ফলনেও হতাশ পেঁয়াজ চাষিরা

    কৃষকেরা বলছেন, চলতি বছরে বিঘাপ্রতি পেঁয়াজ চাষে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। রোপণের জন্য গুটি পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকা মণ দরে। এখন সেই উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১১০০-১২০০ টাকা মণে। এতে উৎপাদন খরচের অর্ধেক টাকা ওঠানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

    জেলার পেঁয়াজের হাট ঝিটকা ও বাঠইমুড়ী ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা মুড়িকাটা পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি করছেন ১১০০-১২৫০ টাকা মণ। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এ দাম ছিল ১৬০০-১৭০০ টাকা।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ৩৫ হেক্টর জমিতে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে জেলায় পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে ৭ হাজার ৫৬৪ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হালি পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে ৪ হাজার ১৪৯ হেক্টর জমিতে। মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে। জেলার হরিরামপুর, শিবালয় ও ঘিওর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ চাষ করা হয়।

    বাঠইমুড়ী গ্রামের কৃষক তুরাব আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত বছর ৪০ শতাংশ জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করে আমার উৎপাদন খরচ উঠে লাভ হয়েছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা। এ বছর বেশি লাভের আশায় ৮০ শতাংশ জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করেছি। তাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। ক্ষেতের অর্ধেক পেঁয়াজ ওঠানো হয়েছে। বাকি পেঁয়াজ উঠিয়ে বাজারে বিক্রি করে ১ লাখ টাকা হাতে পাবো কি না বুঝতে পারছি না। এ বছর পেঁয়াজ চাষে অনেক লোকসান হয়ে গেলো।’

    উভাজানী গ্রামের কৃষক রতন জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত বছর পেঁয়াজের দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর ঋণ করে ৪ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। যেভাবে বাজারে পেঁয়াজের দাম কমছে, মনে হয় ২ লাখ টাকাও আসবে না। এখন ঋণের টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো সেই চিন্তায় আছি। এ বছর পেঁয়াজে যে ধরাটা খেলাম, আগামী ৫ বছর এর জের টানতে হবে।’

    বাম্পার ফলনেও হতাশ পেঁয়াজ চাষিরা

    পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা বাল্লা গ্রামের কৃষক আজমত উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত বছর মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম ভালো ছিল। এ আশায় এবার পেঁয়াজ লাগিয়েছিলাম। হাটে পেঁয়াজ এনে হতাশ। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাজারদর কমিয়েছে। এই পেঁয়াজ কিনে ঢাকায় নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করছেন। আমাদের মতো কৃষকদের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ।’

    পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শরিফ সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত কয়েকদিনে মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম ব্যাপকভাবে কমে গেছে। কিছুদিন আগেও ১৭০০-১৮০০ টাকা মণে যে পেঁয়াজ কিনেছিলাম; বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এখন ১১০০-১২০০ টাকা মণে নেমে এসেছে।’

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. রবীআহ নূর আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন জেলার কৃষকেরা। তবে মুড়িকাটা পেঁয়াজে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এ জাতের পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। তাই সব পেঁয়াজ একসাথে বাজারে আসায় দাম কম পাচ্ছেন কৃষক।’

  • সরকারের প্রথম অধ্যায় শেষ, দ্বিতীয় পর্ব শুরু: ড. ইউনূস

    সরকারের প্রথম অধ্যায় শেষ, দ্বিতীয় পর্ব শুরু: ড. ইউনূস

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম অধ্যায় শেষ হয়ে রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    সরকারের দ্বিতীয় পর্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা যেন এমন একটি দেশ গড়তে পারি, যেটা সুশৃঙ্খলভাবে চলবে। যে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে, যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকার সুযোগ পেয়েছিল, সেই কাঠামো থেকে যেন আমরা পূর্ণরূপে বেরিয়ে চলে আসতে পারি।’

    ‘যারা আত্মত্যাগ করেছে, তারা আমাদের নির্দেশ করে গেছে, আমরা যেন সেসব আইন-কানুন পাল্টে ফেলে নতুন বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুত হই,’ যোগ করেন তিনি।