Blog

  • সিলেট বিশ্বনাথে হাইব্রিড কাজলা জাতের বেগুন চাষে লাভবান চাষী

    সিলেট বিশ্বনাথে হাইব্রিড কাজলা জাতের বেগুন চাষে লাভবান চাষী

    মোঃ শহিদুল ইসলাম, সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার রায়পুর গ্রাম ও পাশাপাশি অনেক গ্রামে তাল বেগুন বা কেজি বেগুন নামে লোকাল ভাষায় বলে, বড় সাইজের বেগুন চাষ হয়ে থাকে।

    তবে, স্থানীয় যে জাত টি চাষ করা হয়ে থাকে, এই জাতটির ফলন দেরিতে পাওয়া যায়, রোগ-প্রতিরোধ অনেক কম, ফলন ভালো হলেও গাছ মারা যায় অনেক বেশি এবং পোকার আক্রমন খুব মারাত্নক। এই সমস্যা সমাধানে কৃষি অফিস থেকে কোন প্রকার ভালো পরামর্শ পান নাই। এলাকার বেশির ভাগ জমি পরিদর্শনে দেখা যায়, স্থানীয় জাত যে সকল চাষীগন করেছেন, তাদের খরচের টাকা উঠবে না, তাঁদের অনেক লোকসান হবে।

    পাশাপাশি উক্ত এলাকার একজন চাষী মো: নজির মিয়ার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, ইউনাইটেড সিডের মার্কেটিং অফিসার মো: আব্দুস সাত্তারের সাথে পরিচয় হয় এবং তাঁর পরামর্শে এই বছর তাঁর জমিতে ইউনাইটেড সিডের হাইব্রিড বড় সাইজের কাজলা জাতের বেগুন চাষ করেন। কাজলা জাতের বেগুন চাষ করে তিনি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছেন।

    কাজলা জাতের বেগুন টি চারা রোপনের মাত্র ৬৫-৭০ দিনে ফসল তোলা যায়, গড় ওজন ৮০০গ্রাম ১২০০গ্রাম ওজন হয়ে থাকে, খেতে সুস্বাদু ও মজাদার, ভিতরে বীজের পরিমান কম থাকে, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি, একটা গাছে ১৫-২০ টি ফল তোলা যায়। তিনি এই জাতটি চাষ করে অনেক লাভবান হবেন- ইনশাআল্লাহ । তিনি কাজলা জাতের বেগুন চাষ করতে এলাকার চাষীদের উৎসাহ দিচ্ছেন।। প্রথম তোলায় তিনি ৫০-৬০টাকা কেজি দরে পাইকারী বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বাজারে ৩০-৪০ টাকা কেজিতে পাইকারী বিক্রি করতে পারতেছেন।

    সামনে রমজানে সময় কেজি বা তাল বেগুনের চপ বা বেগুনীর চাহিদা অনেক বেশি থাকে। খেতে সুস্বাদু ও সিলেট জনপ্রিয় বড় বেগুন বেশি চলে। বেগুন মানব দেহের অনেক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বাড়ায় ও ভিটামিন চাহিদা পুরন করে। সামনের রজমানের চাহিদা অনুসারে আশা করা যায় তাঁর এই জমি থেকে তিনি ২-২.৫ লক্ষ টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারবেন।।।। তাঁর খরচ বাদে প্রায় ১-১.৫ লক্ষ লাভ করতে পারবেন। কাজলা জাতের বেগুন চাষ করে তিনি লাভবান, ভালো বীজ দেয়ার জন্য তিনি ইউনাইটেড সীড কোম্পানী কে ধন্যবাদ প্রদান করেন।

  • বাউফলে ইয়াবাসহ একজন গ্রেফতার

    বাউফলে ইয়াবাসহ একজন গ্রেফতার

    সাইফুল ইসলাম বাউফল প্রতিনিধিঃপটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় মো. আলাউদ্দিন হাওলাদার (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে উপজেলার ১৪নং নওমালা ইউনিয়নের বটকাজল বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।

    বাউফল থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আলাউদ্দিনকে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি নওমালা গ্রামের বাসিন্দা মো. জুলহাস হাওলাদারের ছেলে।

    বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “আটক আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সকালে তাকে পটুয়াখালী আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

    পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • প্রতিদিন ২ কোয়া কাঁচা রসুন খেলে এই উপকারগুলো পাবেন

    প্রতিদিন ২ কোয়া কাঁচা রসুন খেলে এই উপকারগুলো পাবেন

    কাঁচা রসুনের অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে। প্রাকৃতিক এই সুপারফুড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা থেকে শুরু করে হৃদরোগের ঝুঁকি পর্যন্ত কমাতে পারে। রান্না রসুনের উপকারিতা তো রয়েছেই, তবে কাঁচা অবস্থায় খেলে এটি আরও বেশি পুষ্টি প্রদান করে। জেনে নিন প্রতিদিন ২ কোয়া কাঁচা রসুন খেলে কোন কোন উপকার পাবেন।

    ১। ঘন ঘন সর্দি ও সংক্রমণ নিয়ে চিন্তিত? কাঁচা রসুনের শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শরীরকে অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। ২০১৫ সালের একটি গবেষণা বলছে,  রসুনে থাকা অ্যালিসিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াকে দূরে রাখে। নিয়মিত এটি খেলে সর্দি, ফ্লু এবং সংক্রমণের তীব্রতা এবং প্রবণতা কমে।

    ২। উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক। গবেষণা বলছে, কাঁচা রসুন এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। রসুন রক্তনালীকে শিথিল করতে এবং রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ২০২০ সালের একটি গবেষণা বলছে, রসুন খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল স্থিতিশীল রাখে। ফলে কমে হৃদরোগের ঝুঁকি।

    ৩। আমাদের শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে বিষমুক্ত করে রসুন। কাঁচা রসুন ক্ষতিকারক পদার্থ বের করে দিয়ে লিভার পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এতে সালফার যৌগও রয়েছে যা ভারী ধাতুর বিষাক্ততা থেকে রক্ষা করে, লিভার এবং কিডনির মতো অঙ্গগুলোর ক্ষতি কমায়।

    ৪। হজমে সাহায্য করে রসুন। এটি পাচক এনজাইম উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে এবং শরীরকে আরও দক্ষতার সাথে খাবার ভাঙতে সাহায্য করে। তাছাড়া এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য ক্ষতিকারক অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

    ৫। রসুনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা কোষের ক্ষতি এবং বার্ধক্যের জন্য দায়ী ফ্রি র‍্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে কাঁচা রসুন নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কোষের মিউটেশন রোধ করে এবং টিউমারের বৃদ্ধি ধীর করে পাকস্থলী এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসারসহ কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে।

    তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া 

  • বিশ্ববাজারে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের সানসাইন আলু, বেড়েছে আবাদ

    বিশ্ববাজারে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের সানসাইন আলু, বেড়েছে আবাদ

    দেশের কৃষিনির্ভর জেলা ঠাকুরগাঁও বরাবরই ধান, গম, পাট, আখ, আম উৎপাদনে সমৃদ্ধ। এবার এই জেলার কৃষকদের আলু দেশের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্ববাজারে। কৃষকদের পরিশ্রম আর আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে মানসম্মত আলু উৎপাদিত হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের নজর কেড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের এই কৃষিপণ্য।

    ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশে এখানকার আলু রফতানি শুরু হয়েছে। প্রতিনিয়ত চেষ্টা চলছে তাকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার। জেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখন উচ্চমানের আলু উৎপাদনে আরও বেশি উৎসাহী হয়ে উঠছেন।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, গত মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে ২৬ হাজার ১৬৮ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছিল। অধিক লাভ হওয়ায় চলতি মৌসুমে আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৫০০ হেক্টরে। এর মধ্যে আগাম আলু চাষ হয়েছে ১৫৫৫ হেক্টরে।

    সদর উপজেলায় গত বছর আলুর আবাদ ছিল ১৪ হাজার ২৭০ হেক্টর। এ বছর আলুর আবাদ ১৭ হাজার ১৭৫ হেক্টর।

    সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, শুধু এই উপজেলা থেকেই নেপালে গেছে গ্র্যানোলা জাতের আলু। যার এ যাবৎ রফতানির পরিমাণ ১১৫ মেট্রিক টন। মালয়েশিয়াতে সানশাইন জাতের আলু রফতানি হয়েছে ৪৫ মেট্রিক টন।

    মালয়েশিয়াতে রফতানি করছে নাঈম অ্যাগ্রো নামের কোম্পানি। এই কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আল ইমরান জানান, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার আলুচাষিদের সানশাইন জাতীয় আলু চাষের উদ্যোগ সফল হয়েছে। এর গুণগতমান আন্তর্জাতিক বাজারে সমাদৃত হচ্ছে।

    বর্তমানে স্থানীয় বাজারে আলুর দাম প্রতিকেজি ১০ থেকে ১২ টাকার মধ্যে থাকলেও বিদেশে রফতানির ফলে প্রতিকেজিতে ১৫ থেকে ১৭ টাকা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কৃষকরা কিছুটা হলেও লাভবান হচ্ছেন। তবে প্রতিকেজি আলু উৎপাদনে গড়ে ২০ টাকা খরচ হচ্ছে, যা এখনও কৃষকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

    ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কৃষক শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমরা এতদিন শুধু দেশীয় বাজারে আলু বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন বিদেশেও রফতানি হচ্ছে শুনে আমরা খুবই খুশি। এতে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে, আর আমাদের উৎপাদনও বাড়বে।’

    পীরগঞ্জের কৃষক আবু সালেক বলেন, ‘আমাদের উৎপাদিত আলু যদি ভালো দামে বিদেশে যায় তাহলে আমরা আরও বেশি আলু চাষে আগ্রহী হবো। তবে উৎপাদন খরচ যদি কমানো যায় তাহলে লাভ আরও বেশি হবে।’

    দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও থেকে আলু রফতানির কাজে যুক্ত নাঈম অ্যাগ্রোর সিইও আল ইমরান বলেন, ‘আমাদের কৃষকদের উৎপাদিত আলুর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য বড় সুখবর। আমরা কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছি যাতে তারা ভালো দাম পায় এবং রফতানির জন্য মানসম্মত আলু সরবরাহ নিশ্চিত হয়।’

    ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসিরুল আলম বলেন, ‘জেলার কৃষকরা এখন আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আলু উৎপাদন করছেন। এতে মান বজায় থাকছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। কৃষকরা যাতে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ পান, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে।’

    ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এটা আমাদের কৃষিক্ষেত্রে বিরাট সসম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। জেলার কৃষি বিভাগ নিবিড়ভাবে এই বিশেষ জাতের আলুগুলোর উৎপাদনসহ আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করে প্যাকেটিং করার সব কাজে কৃষকের পাশে আছে। এই আলু চাষের সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের জন্য কৃষকদের উৎসাহ ও বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি আমরা, যা আরও বাড়ছে। কৃষকরাও এ ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে উঠছেন। যদিও এবারের আলুর বাজারে দাম কম নিয়ে কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন বলে আমাদের জানাচ্ছেন। তবে সার্বিকভাবে এটা ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য অত্যন্ত বড় সুখবর।’

  • তেঁতুলিয়ায় মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে টিউলিপ, দেখতে পর্যটকদের ভিড়

    পঞ্চগড়ে সূর্যের আলো আর তাপ নিয়ন্ত্রণ করা বিশেষ শেডের নিচে সারি সারি ফুটেছে রাজসিক সৌন্দর্যের ফুল টিউলিপ। ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা। টিউলিপের বাগানে এসে কেউ ছুঁয়ে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ফুলের সঙ্গে সেলফি নিচ্ছেন। আবার কেউবা ভিডিও কলে দূরে থাকা স্বজনদের দেখাচ্ছেন টিউলিপের সৌন্দর্য। কেউ কেউ ফুল কিনে ফিরছেন বাড়িতে। সব মিলিয়ে টিউলিপের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ সবাই।

    গত মঙ্গলবার বিকালে তেঁতুলিয়ার চোখজুড়ানো এই টিউলিপ বাগানে গিয়ে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে। মনোমুগ্ধকর এই ফুল চতুর্থবারের মতো তেঁতুলিয়ায় ফুটেছে শুনে নেমেছে দর্শনার্থীদের ঢল। দর্শনার্থীরা জনপ্রতি ৫০ টাকার টিকিট কেটে বাগানে ঢুকে উপভোগ করছেন এই ফুলের সৌন্দর্য।

    এবার চতুর্থবারের মতো উপজেলার ক্ষুদ্র চাষিদের মাধ্যমে প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে খামার পর্যায়ে করা হয়েছে শীতের দেশের ফুল টিউলিপের চাষ। টিউলিপ উৎপাদনের এই উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। প্রকল্পটিতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে টিউলিপ বাগান। সচ্ছলতা ফিরেছে নারী উদ্যোক্তাদের পরিবারে।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শীতপ্রধান দেশে টিউলিপ ফুল ভালো হয়। এই ফুল চাষের ক্ষেত্রে দিনের বেলা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহনশীল ধরা হয়। এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রা হলে ফুল যথাযথভাবে না-ও ফুটতে পারে। স্বাভাবিকভাবে রোপণের ১৮ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কলি আসতে শুরু করে। ২৫ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত ফুল স্থায়ী হয়।

    ইএসডিও ও নারী উদ্যোক্তারা জানান, নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় টিউলিপ চাষে এগিয়ে এসেছে ইএসডিও। তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের দর্জিপাড়া গ্রামে এবার ১৩ জন নারী উদ্যোক্তা এক একর জমিতে চতুর্থবারের মতো এই ফুল চাষ করেছেন। এ বছর সানি রাজকুমার, পিংক আর্ডোর, প্যারেড, অক্সফোর্ড, কমলা ভ্যাব বরলশ, ফেরডেক্স, অ্যাপেলডুম, ব্লাশিং এলিট ও মেস্টিক ভ্যান ইউজক নামের ৯ প্রজাতির ফুল চাষ হয়েছে। সম্প্রতি ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ জামান এবং ইএসডিওর পরিচালক (প্রশাসন) ড. সেলিমা আখতার ফিতা কেটে টিউলিপ বাগানে পর্যটকদের প্রবেশ উন্মুক্ত করেন।

    নারী উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে নানা রঙের টিউলিপে ভরে উঠেছে বাগান। বাগান ঘিরে গড়ে উঠেছে ইকোট্যুরিজম। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি রোপণ করা হয়েছিল। মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে চারা গজিয়ে কয়েক সারিতে ফুল ছড়িয়ে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। আগামী দুই মাস এই ফুল তার রাজসিক সৌন্দর্য ও সৌরভ ছড়াবে। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন হাজারো পর্যটক।

    সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে টিউলিপ বাগান দেখতে এসেছেন। কেউ ফুল ছুঁয়ে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ফুলের সঙ্গে সেলফি নিচ্ছেন। কেউ ১৫০ টাকা দিয়ে ফুল কিনছেন।

    রাজশাহী থেকে টিউলিপ বাগান দেখতে আসা শিক্ষার্থী আসিফুজ্জামান আসিফ বলেন, ‘শুনেছি টিউলিপ নেদারল্যান্ডসে হয়। এবার ইউটিউবেও দেখলাম তেঁতুলিয়ায় ফুটেছে। তাই দেখতে এলাম। বাগান দেখে মন ভরে গেছে। অনেক ছবি তুললাম। দেশের মাটিতে বিদেশি ফুল দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে।’

    ঠাকুরগাঁও থেকে আসা স্কুলশিক্ষক তামান্না আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জীবনে প্রথম টিউলিপ ফুল দেখলাম। দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আমাকে যদি কেউ বলে তোমার প্রিয় ফুল কী, এখন থেকে বলবো টিউলিপ।’

    ঢাকা থেকে আসা আইনজীবী আব্দুল মজিদ বলেন, ‘অনেকবার তেঁতুলিয়ায় এসেছি তবে টিউলিপ বাগানের কথা এর আগে শুনিনি। এবার শুনে দেখতে এসেছি। সত্যিই অনেক সুন্দর বাগান। চোখ জুড়িয়ে গেলো।’

    দিনাজপুর থেকে আসা রাজিউদ্দিন চৌধুরী ডাবলু বলেন, ‘এবার তেঁতুলিয়ায় ভ্রমণে আসা নতুন একটি মাত্রা যোগ হয়েছে। সেটি হলো টিউলিপ বাগান। এর আগে যখনই এসেছি চা বাগান, নদী থেকে পাথর উত্তোলন এগুলো দেখেছি। এবার টিউলিপ বাগান দেখে খুব ভালো লাগলো আমার। তবে টিউলিপ বাগানে প্রবেশমূল্য যে ৫০ টাকা করা হয়েছে, সেটা আরেকটু কমালে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো হতো।’

    টিউলিপচাষি ও উদ্যোক্তা সুমি আক্তার এবং মুর্শিদা খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পিকেএসএফ ও ইএসডিওর সহযোগিতায় এবার আমরা ১৩ জন নারী উদ্যোক্তা নয় প্রজাতির টিউলিপ চাষ করেছি। ফুল ফোটার পর থেকে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে ভিড় করছেন। নেদারল্যান্ডস থেকে টিউলিপের একেকটি বাল্ব আনতে এবার ৮০ টাকা করে খরচ হয়েছে। বর্তমানে বাগান থেকেই একেকটি ফুলের স্টিক ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া একেকটি টবসহ ফুল ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    মুর্শিদা খাতুন বলেন, ‘প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০টি ফুল বিক্রি হচ্ছে। গত তিন মৌসুম শেষে প্রত্যেক উদ্যোক্তা ৪০-৫০ হাজার টাকা করে পেয়েছি। এবারও আশা করছি লাভবান হবো। লাভের টাকা দিয়ে  আমাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে। আমি স্বাবলম্বী হয়েছি। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারছি।’

     

    ইএসডিওর প্রকল্প ব্যবস্থাপক কল্যাণ মোহন্ত বলেন, ‘পিকেএসএফ ও ইএসডিওর সহযোগিতায় ২০২২ সালে তেঁতুলিয়ায় প্রথমবার পাইলট প্রকল্প হিসেবে আট নারী উদ্যোক্তার মাধ্যমে ৪০ শতাংশ জমিতে ছয় প্রজাতির ৪০ হাজার টিউলিপ চাষ করা হয়েছিল। তৃতীয় ও চতুর্থবার ইএসডিওর নিজস্ব অর্থায়নে চাষ করা হয়। এবার এক একর জমিতে ৯টি প্রজাতির ফুল চাষ হয়েছে। ১৩ জন নারী উদ্যোক্তা চাষ করেছেন। নেদারল্যান্ডস থেকে টিউলিপের একেকটি বাল্ব আনতে এবার ৮০ টাকা খরচ হয়েছে। গত তিন মৌসুমে আমরা নানাভাবে বাল্ব সংরক্ষণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু সফল হইনি। গাছ হলেও ফুল হচ্ছে না। সরকারিভাবে কোয়ারেন্টাইন ফি ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে টিউলিপ চাষের পরিমাণ বাড়বে। তেঁতুলিয়াসহ আশপাশের এলাকা ভরে যাবে।’

    তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফজলে রাব্বী বলেন, ‌‘টিউলিপ বাগান পর্যটনের ক্ষেত্রে তেঁতুলিয়াকে সমৃদ্ধ করেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও দারুণ ভূমিকা রাখছে এই বাগান।’

    রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে টিউলিপ বাগান দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘ইউটিউবে দেখেছি তেঁতুলিয়ার টিউলিপ বাগান। এখন বাস্তবে দেখলাম। খুবই সুন্দর। পর্যটকদের অনুপ্রাণিত করছে। পর্যটনকে এগিয়ে নিতে উদ্যোক্তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’

    ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, ‘এবার চতুর্থবারের মতো তেঁতুলিয়ায় নারী উদ্যোক্তারা টিউলিপ চাষ করেছেন। গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি তেঁতুলিয়াকে ইকোট্যুরিজমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পটি লাভের মুখ না দেখলেও পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। তারা মুগ্ধ হচ্ছেন, এটাই আমাদের স্বার্থকতা।’

    পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টিউলিপ বাগান, চা বাগান আর কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ঘিরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য করতোয়া নদী সংলগ্ন এলাকায় দেশের সবচেয়ে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার, ইকো পার্ক নির্মাণে আর্কিটেকচার ডিজাইন ও প্রজেক্ট প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পর্যটন মোটেল নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান আছে। পর্যটকদের জন্য একটি ট্যুর গাইড অ্যাপস তৈরি করছি আমরা। ইতোমধ্যে মহাসড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সবকিছু তৈরি হয়ে গেলে পর্যটকদের নতুন গন্তব্য হবে পঞ্চগড়।’

  • যুদ্ধবিরতির মাঝেও গাজায় চলছে ইসরায়েলের ধ্বংসযজ্ঞ

    গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চল রাফাহতে কয়েক ডজন বাড়িঘর ধ্বংস করেছে ইসরায়েল, যা ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।সোমবার আলজাজিরার নিজস্ব তথ্য যাচাই সংস্থা সানাদের স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে আসে।

    মিশর সীমান্তে অবস্থিত রাফাহ ক্রসিং দিয়ে দীর্ঘদিন ত্রাণ সহায়তা এসেছে গাজায়। গত মে মাসে এই ক্রসিংটি বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল।১৯৭৯ সালের মিশর-ইসরায়েল শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করে এই সীমান্ত এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ইসরায়েল সেখানে ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি করিডোর খনন করছে।

    সানাদ প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, জানুয়ারির ১৯ থেকে ২১ তারিখের মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রাফাহ ক্রসিংয়ের চারপাশে বালির দুর্গ তৈরি করে। ক্রসিংয়ের উত্তর দিকে একটি নতুন সামরিক চৌকিও স্থাপন করে।ক্রসিংয়ের বালির দুর্গের সঙ্গে সমান্তরালভাবে এক দশমিক সাত কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তা নির্মাণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

    এদিকে, রাফাহ শহরের হাজারো বাসিন্দা এখনো তাদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি। আলজাজিরা জানায়, বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করলে তাদের ওপর গুলি চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। এতে যুদ্ধবিরতির মাঝেই অনেক ফিলিস্তিনি আহত ও নিহত হয়েছেন।

    যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জানুয়ারি ১৯ থেকে রাফাহ অঞ্চল থেকে সামরিক উপস্থিতি কমানোর কথা ইসরায়েলের। যুদ্ধবিরতির ৫০তম দিনের মধ্যে সেখান থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করার কথা।

    কিন্তু ১৯ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেখানে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল সেনারা। যুদ্ধবিরতির মাঝেই রাফাহ শহরের আস-সালাম, ইদারি ও তেল জারাব এলাকায় ৬৪টি ভবন ধ্বংস করেছে তারা।

    এই ধ্বংসযজ্ঞ মিশরীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৭০০ মিটার দূরে ঘটেছে। একইসঙ্গে তাল আস-সুলতান এলাকাতেও অন্তত ছয়টি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা মিশরীয় সীমান্ত থেকে ৭৫০ মিটার দূরে।ফিলিস্তিনি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজা আত্তার বলেন, চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন অনুসারে এটি একটি যুদ্ধাপরাধ।গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সহিংসতায় গাজায় অন্তত ১১৮ জন নিহত হয়েছেন।

  • কুয়েট সংঘর্ষ: রামদা হাতের যুবদল নেতাকে বহিষ্কার

    কুয়েট সংঘর্ষ: রামদা হাতের যুবদল নেতাকে বহিষ্কার

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় রামদা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমানকে বহিষ্কার করেছে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।মাহবুবুর রহমান দৌলতপুর থানা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন।গতকাল মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেলের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে মাহবুবুর রহমানকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বহিষ্কৃত নেতাদের অপকর্মের দায়দায়িত্ব সংগঠন নেবে না এবং যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাহবুবের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

    মঙ্গলবার কুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হন, যাদের বেশিরভাগই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম হন। সংঘর্ষ চলাকালে মুখে গামছা বাঁধা, হাফ হাতা শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তিকে রামদা হাতে অবস্থান নিতে দেখা যায়, যাকে স্থানীয়রা যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান হিসেবে শনাক্ত করেন।

    খুলনা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, কুয়েট এলাকায় মাহবুবের উপস্থিতি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ছিল। এটি সংগঠনের কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

  • নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালাস পেলেন খালেদা জিয়া

    নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালাস পেলেন খালেদা জিয়া

    দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

    আজ বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম চার আসামির উপস্থিতিতে এই রায় দেন।চিকিৎসার জন্য বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন তার আইনজীবী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন জিয়া।রায়ে বিচারক বলেন, খালেদা জিয়া এবং অন্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। তাই তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    এর মধ্য দিয়ে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাসহ সব মামলা থেকে খালাস পেলেন খালেদা জিয়া।এছাড়াও মামলার অপর সাত জনকেও অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

    তারা হলেন- বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউসুফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর মইনুল হক এবং নাইকো রিসোর্সেস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সাবেক সভাপতি কাশেম শরীফ।

    তাদের মধ্যে কামাল, মইনুল এবং কাশেম পলাতক এবং রায়ের সময় অন্য চারজন উপস্থিত ছিলেন।

    খালাসের আদেশের পর, খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, অবশেষে তারা আদালত থেকে ন্যায়বিচার পেয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনকে কেবল রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

  • কবর থেকে জুলাই বিপ্লবে শহীদ আল আমিনের লাশ উত্তোলন স্থগিত।

    কবর থেকে জুলাই বিপ্লবে শহীদ আল আমিনের লাশ উত্তোলন স্থগিত।

    রনজিৎ সরকার রাজ,দিনাজপুর প্রতিনিধি   গত বছর জুলাই’২০২৪ বিপ্লব আন্দোলনে ৫ আগস্ট বিকেলে ঢাকাস্থ সাভারে বিজয় উল্লাসে আনন্দ মিছিল চলা কালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ডাবরা জিনেশ্বরী গ্রামের আল আমিন ইসলাম শহীদ হন।
    এ ঘটনায় শহীদ আল আমিনের পিতা ওয়াজেদ আলী বাদী হয়ে সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাবেক সেতু মন্ত্রী সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ১১৯ জনের নামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০/১৫০ জনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় অভিযোগ করলে ১৫(৮)২৪ নম্বর হত্যা মামলা রুজু হয়।

    ঘটনার বিবরণে জানা যায় ঐ দিন বিকেলে সাভার শহরে বিজয় মিছিল চলাকালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আল আমিনকে তার বন্ধুরা এনাম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যায়, কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

    সংবাদ পেয়ে বাবা-মা-ভাই-বোন সেখানে গিয়ে শহীদ আল আমিনকে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় দেখতে পান। তারা সপরিবারে সাভারে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করত।
    তারা মৃত্যুর সনদ নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শহীদের লাশ গ্রামের বাড়ী ডাবরা জিনেশ্বরীতে এনে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করেন এবং পরবর্তীতে সাভার মডেল থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।

    রেকর্ডকৃত মামলার সঠিক তদন্তের স্বার্থে লাশের ময়না তদন্ত প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে বিজ্ঞ আদালত সংশ্লিষ্টদের কে কবর থেকে শহীদের লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের নির্দেশ দেন।

    নির্দেশ মোতাবেকগত ১৭ ফেব্রুয়ারি’২০২৫ দুপুরে মামলার তদন্তকারী অফিসার ইমরান হোসেন সাভার থেকে ঘটনাস্থলে এসে বীরগঞ্জের এসিল্যান্ড ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন এবং থানা পুলিশের সহায়তায় লাশ উত্তোলনের জন্য উপস্থিত হলে শহীদ আল আমিনের পিতা বাদী ওয়াজেদ আলী এবং তাদের পরিবারের লোকজন লিখিত আবেদনে অসম্মতি জানান। ফলে লাশ উত্তোলন স্থগিত করা হয়।

    সে সময় বীরগঞ্জ থানার এএসআই মোহাম্মদ আলী, স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তাহের আইয়ুব, গোয়েন্দা পুলিশ হাবিবুর রহমান হাবিব, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
    এ ব্যাপারে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন সাংবাদিকদের জানান বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে ঘটনাস্থলে আসি কিন্তু মামলার বাদী শহীদ আল আমিনের পিতা এবং পরিবারের লোকজন লিখিতভাবে অসম্মতি জানান, পরবর্তী নির্দেশের জন্য তিনি প্রতিবেদন আকারে আদালতে রিপোর্ট পেশ করবেন।

    তিনিসহ উপস্থিত সকলে শহীদ আল আমিনের কবরের পাশে দাড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

  • মালয়েশিয়ার জোহর বাহারুতে ইমিগ্রেশনের অভিযানে ৭৭ অবৈধ বাংলাদেশি গ্রেফতার

    মালয়েশিয়ার জোহর বাহারুতে ইমিগ্রেশনের অভিযানে ৭৭ অবৈধ বাংলাদেশি গ্রেফতার

    মো:নুরুল ইসলাম সুজন :মালয়েশিয়া  মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসী দমন অভিযানে ৭৭ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) একটি শ্রমিক আবাসন কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়ে ৭৭ বাংলাদেশিসহ মোট ১০৫ জন অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়।

    জোহর রাজ্যের ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের (জেআইএম) পরিচালক দাতুক মোহাম্মদ রুশদি মোহাম্মদ দারুস সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, রোববার রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বাতু পাহাত, মুয়ার এবং সেগামাত শাখার জেআইএম এনফোর্সমেন্ট ইউনিট এবং জোহর জেআইএমের সুলতান ইস্কান্দার ভবনের কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করেন।

    বৈধ পাস বা পারমিট ছাড়াই শেয়ার্ড হাউস বন্দোবস্তে বসবাসকারী বিদেশিদের সম্পর্কে জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে চালিত অভিযানে মোট ৩২৯ জন অভিবাসীর কাগজপত্র পরীক্ষার পর এদের মধ্য থেকে ৭৭ জন বাংলাদেশি, ১৬ জন ইন্দোনেশিয়ান পুরুষ এবং সাতজন ইন্দোনেশিয়ান নারী, দুইজন মিয়ানমারের পুরুষ, দুইজন পাকিস্তানি পুরুষ এবং একজন ভারতীয় পুরুষসহ মোট ১০৫ জন অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের বয়স ১৮ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে

    পরিচালক জানান, গ্রেফতার অভিবাসীরা মালয়েশিয়ায় থাকার জন্য কোনো বৈধ পাস বা পারমিট না থাকার কারণে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ (আইন ১৫৫) এর ধারা ৬(১)(সি) এর অধীনে অপরাধ করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ (আইন ১৫৫) এর ১৫ (১) (গ) ধারার অধীনে অতিরিক্ত সময় ধরে থাকার জন্য তাদের গ্রেফতার করা হয়, আরও তদন্ত এবং ব্যবস্থা নিতে পন্টিয়ানের পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।

    পরিচালক বলেন, বৈধ ভ্রমণ নথি, পাস বা ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী নিয়োগকর্তা এবং প্রাঙ্গণের মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি এ বিষয়ে জিআইএম জোহর কোনো আপস করবেন না বলেও জানিয়েছেন পরিচালক।