Blog

  • সিলেট তামাবিল মহাসড়ক যেন এক মৃত্যু ফাঁদ

    সিলেট তামাবিল মহাসড়ক যেন এক মৃত্যু ফাঁদ

    সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট তামাবিল মহাসড়ক যেন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই এই মহাসড়কে ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সিলেট জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার খবর আসে এই সড়ক থেকে। যানবাহনের দ্রুতগামী চলাচল, অপরিকল্পিত রাস্তার মোড় এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাব এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

    সর্বশেষ দুর্ঘটনাটি ঘটে সিলেট-জাফলং রোডের তামাবিল হাইওয়ে থানার কাছে কাটাগাং নামক স্থানে। একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় একটি মোটরসাইকেলের। মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী ছিলেন। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন আরেকজন।

    নিহতদের মধ্যে একজনের নাম জানা গেছে—তিনি হলেন ডিবির হাওর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন। বাকি দুইজনের নাম ও পরিচয় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। আহত ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এ দুর্ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানে কোনো ধরনের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা নিরাপত্তা বেষ্টনী বসানো হয়নি। এছাড়া, সড়কে পর্যাপ্ত সংখ্যক সাইনবোর্ড এবং গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজ উদ্দিন বলেন, “প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনার খবর শোনা যায়। কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা চাই, দ্রুত সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হোক।”

    এ বিষয়ে তামাবিল হাইওয়ে থানার ওসি জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে, সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

    সিলেট তামাবিল মহাসড়ক এখন শুধু একটি পরিবহন রুট নয়, বরং প্রতিদিন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা মানুষের এক অনিশ্চিত যাত্রাপথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

  • দুর্নীতির অভিযোগে ইউএনও ও মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

    দুর্নীতির অভিযোগে ইউএনও ও মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

    রনজিৎ সরকার রাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে এলাহী এবং মুরারীপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার নুর আহম্মদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।

    অভিযোগ উঠেছে, ইউএনও ফজলে এলাহী ও মাদ্রাসা সুপারের যোগসাজশে ৫০ লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে বিধি বহির্ভূতভাবে তিনটি পদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সহকারী সুপারিন্টেন্ডেন্ট, নিরাপত্তা প্রহরি এবং আয়া পদে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে, যার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩ মার্চ ২০২৫ ধার্য করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে মুরারীপুর বাজার মাদ্রাসা রোডে এলাকাবাসী ঘণ্টাব্যাপী এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভুয়া নিয়োগ বাতিল, ইউএনও এবং মাদ্রাসা সুপারের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং তাদের দ্রুত অপসারণ।

    আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। ইতোমধ্যেই উপজেলায় শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা, অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে।

    এর আগেও, গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে চলমান বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করে শিক্ষক, কর্মচারী এবং ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে সাড়ে চার ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউএনও ফজলে এলাহী এবং মাদ্রাসা সুপার নুর আহম্মদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফোনেও একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

  • বাউফলে ঐতিহ্যবাহী পটগান ও নাটক প্রদর্শনী: সহিংসতা প্রতিরোধে সাংস্কৃতিক উদ্যোগ

    বাউফলে ঐতিহ্যবাহী পটগান ও নাটক প্রদর্শনী: সহিংসতা প্রতিরোধে সাংস্কৃতিক উদ্যোগ

    সাইফুল ইসলাম , পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃপটুয়াখালীর বাউফলে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সংবেদনশীল সমাজ গঠনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী লোকমাধ্যম পটগান ও নাটক প্রদর্শনী। গতকাল স্থানীয় পাবলিক মাঠে আস্থা যুব ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এই মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তর।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অহিদুজ্জামান সুপন। সভাপতিত্ব করেন বাউফল যুব ফোরামের সাবেক আহ্বায়ক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক মুনতাসির তাসরিপ। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন আস্থা যুব ফোরামের আহ্বায়ক আয়েশাতুন্নেসা বর্ষা।

    মুনতাসির তাসরিপ বলেন, “সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সংবেদনশীল সমাজ গঠনে আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে। এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন সেই প্রচেষ্টারই একটি অংশ।”

    রূপান্তরের প্রজেক্ট অফিসার গোলাম মস্তফা বলেন, “সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি সম্ভব। এই উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে আমরা গর্বিত।”

    প্রধান অতিথি অহিদুজ্জামান সুপন বলেন, “শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অবদান অপরিসীম। পটগান ও নাটকের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।”

    স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানটি বিশেষভাবে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। রূপান্তরের কর্মীরা জানান, ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

  • এ বছরই বিএনপি ক্ষমতায় আসবে: শামসুজ্জামান দুদু

    এ বছরই বিএনপি ক্ষমতায় আসবে: শামসুজ্জামান দুদু

    আবু শাহীন ,দৈনিক কৃষক কণ্ঠ ,ঠাকুরগাঁ জেলা প্রতিনিধি

    বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, “এ বছরই নির্বাচন হবে এবং এ বছরই বিএনপি ক্ষমতায় আসবে।” তিনি আরও জানান, “আগামী সরকার হবে বেগম জিয়া, তারেক রহমান এবং জনতার সরকার। ধানের শীষ বিজয়ী হবে এই বছরেই।”

    রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    সমাবেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মন্তব্যের সমালোচনা করে দুদু বলেন, “তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের একটি দল থাকা দরকার। তাহলে কি তিনি শিক্ষার্থীদের পক্ষেই? নাকি কোনো অনৈতিক কাজেও যুক্ত হতে পারেন? যদিও বিএনপি এখনো তার পদত্যাগ দাবি করেনি। একজন নোবেল বিজয়ীর কাছে এমন আচরণ কাম্য নয়।”

    তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, “বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেকোনো সময়ের চেয়ে খারাপ। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা, যা ১৬ বছরেও আওয়ামী লীগ দিতে পারেনি।”

    ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা বলছে তারা জনপ্রিয়। ভালো কথা, ইলেকশনে আসুন। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, আমরাও আন্দোলন করেছি। গণঅভ্যুত্থানে বিএনপিও ছিলো।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, “রূপায়ন টাওয়ারে ফ্ল্যাট নিয়েছেন, গাড়ি ব্যবহার করছেন—এই টাকা কোথা থেকে এলো? চাকরি বা ব্যবসা তো করেন না।”

    বিএনপির চ্যালেঞ্জ নেয়ার ক্ষমতা নিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি চ্যালেঞ্জ নেওয়া দল। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া বিএনপি পিছু হাটবে না। তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দল ঐক্যবদ্ধ থাকবে।”

    সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সহ-সভাপতি নূর করিম, ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েস এবং জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফোরাতুন নাহার প্যারিস।

  • শেরপুরে প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার ব্যবসা

    শেরপুরে প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার ব্যবসা

    শেরপুরের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কলা চাষের ব্যাপক ভাবে বেড়েছে। এখানকার পাহাড়ি ও উর্বর মাটি কলা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এককালীন ফলন হলেও কৃষকেরা কলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে শ্রীবরদী উপজেলায় কলা চাষ ব্যাপকহারে বেড়েছে।

    উপজেলার কলাকান্দা চৌকিদার বাড়ি বাজারে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার বেচাকেনা হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব কলা দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। যা এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

    বাজারে প্রতিদিনই পাইকারি ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকে। দেশের অন্তত ২০ জেলার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে কলা নিয়ে যান। স্থানীয় ব্যবসায়ী রশিদ মিয়া বলেন, ‘শেরপুরের কলার চাহিদা অনেক বেশি। এখানকার কলার স্বাদ ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় পাইকারি ক্রেতারা নিয়মিত আসছেন।’

    সীমান্তে কলা চাষে বিপ্লব, শেরপুরে প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার ব্যবসা

     

    অন্য ফসলের তুলনায় কলা চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। জমি তৈরির পর প্রথম দফায় চারা রোপণ করলেই কয়েক মাসের মধ্যে ফলন আসে। এরপর নিয়মিত পরিচর্যা করলে একই জমিতে একাধিকবার ফলন পাওয়া যায়। এ কারণেই ধান কিংবা অন্য শস্য বাদ দিয়ে সীমান্তের অনেক কৃষক এখন কলা চাষে মনোযোগ দিচ্ছেন।

    স্থানীয় কৃষক পারভেজ বলেন, ‘আগে ধান চাষ করতাম কিন্তু এতে লাভ কম হতো। কলার ফলন দ্রুত আসে। বাজারও ভালো। তাই এখন পুরো জমিতেই কলার আবাদ করছি।’

    কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর শ্রীবরদী উপজেলায় প্রায় ৩২০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালে এ অঞ্চলে কলা চাষ হয়েছিল প্রায় ১৭০ হেক্টর। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন বাড়ার মূল কারণ হলো কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি, লাভজনক বাজার ব্যবস্থা এবং কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি একরে প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কলা গাছ লাগানো সম্ভব। যা থেকে গড়ে আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকা লাভ করা যায়। আধুনিক চাষপদ্ধতি ও ভালো পরিচর্যার মাধ্যমে একজন কৃষক একরপ্রতি ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

    সীমান্তে কলা চাষে বিপ্লব, শেরপুরে প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার ব্যবসা

    শ্রীবরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন বলেন, ‘কলা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা ব্যাপক ভাবে আগ্রহী হচ্ছেন। আমরা তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি। যাতে উৎপাদন আরও বাড়ানো যায়।’

    সীমান্তবর্তী এসব অঞ্চলে কলা চাষ স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একদিকে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে; অন্যদিকে বাজারকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। পরিবহন, পাইকারি বেচাকেনা, শ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    তবে কলা চাষের অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে সরকারের কিছু পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, রোগবালাই দমনের কার্যকর ব্যবস্থা এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হলে কলা চাষ আরও প্রসারিত হবে।

    স্থানীয়দের মতে, সরকারি সহায়তা ও উন্নত চাষ পদ্ধতি নিশ্চিত করা গেলে শেরপুরের সীমান্তবর্তী অঞ্চল দেশের অন্যতম প্রধান কলা উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ককে কুপিয়ে জখম

    ঠাকুরগাঁওয়ে কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ককে কুপিয়ে জখম

    আবু শাহীন, ঠাকুরগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
    ঠাকুরগাঁওয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক কবিরুল ইসলাম জয় (২৮) দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে জেলার ভুল্লী থানার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চোখের চিকিৎসার জন্য কবিরুল ইসলাম জয় ঢাকায় গিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে ঠাকুরগাঁও বাস টার্মিনালে পৌঁছান তিনি। সেখান থেকে অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

    ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাকিবুল ইসলাম চয়ন জানান, জয়-এর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুরুতর জখমের কারণে তার শরীরে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার জন্য তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    গুরুতর আহত অবস্থায় কবিরুল ইসলাম জয় সাংবাদিকদের জানান, ১৯ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন। ফেরার পথে ভোর ৫টার দিকে ভুল্লী এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত পরিচয়ধারী দুই ব্যক্তি ফোন করে জানতে চায় তিনি কোথায় আছেন। কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। জয় দাবি করেন, হামলাকারীদের তিনি চিনতে পারেননি, তবে তাদের উদ্দেশ্য ছিল তাকে হত্যা করা। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

    এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান জনাব দেলাওয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের নৃশংস হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

    ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের শনাক্ত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    জয়-এর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার সময় তার সঙ্গে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে, তা খুঁজে বের করতে পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।

    এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলনকারীরা এবং সাধারণ জনগণও সোচ্চার হয়েছে।

  • দৈনিক কৃষক কণ্ঠের খুলনা বিভাগীয় সম্মেলন

    দৈনিক কৃষক কণ্ঠের খুলনা বিভাগীয় সম্মেলন

    গতকাল যশোরে অনুষ্ঠিত হলো দৈনিক কৃষক কণ্ঠ-এর খুলনা বিভাগীয় সম্মেলন। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলা থেকে আগত জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের কৃষি সংবাদ প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি ছিল কৃষি খাতের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিয়ে একটি গভীর আলোচনা এবং মতবিনিময়ের সুযোগ।

    সম্মেলনের শুরুতেই প্রতিনিধিরা তাঁদের নিজ নিজ জেলার স্থানীয় কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া একটি বড় ইস্যু হিসেবে উঠে আসে। কৃষকরা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাঁদের জীবিকা এবং উৎপাদনশীলতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সম্মেলনে সবাই একমত হন যে, নীতিগত পর্যায়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

    কৃষি সংবাদ প্রতিনিধিদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রতিটি জেলায় কৃষক কণ্ঠ পাঠক ফোরাম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই ফোরামের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের সমস্যা সরাসরি উর্ধ্বতন মহলে পৌঁছানো সহজ হবে এবং কৃষকেরা তাদের অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারবেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. এ.কে.এম খায়রুল বাশার, যিনি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। তিনি বলেন, “এটিকে কেবল একটি সম্মেলন বলা ঠিক হবে না, বরং এটি একটি মতবিনিময় সভা যেখানে কৃষকেরা সরাসরি তাঁদের অভিজ্ঞতা, সমস্যার কথা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাচ্ছেন।”

    বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জনাব আবু জাফর মুহাম্মদ সালেহ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পিওর ক্রাফট লিমিটেড; জনাব মোঃ হামিদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিপিসি এগ্রো; জনাব মোঃ সুলতান মাহমুদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পদ্মা এগ্রিকেয়ার এবং জনাব মোঃ রাজু আহমেদ, মার্কেটিং অফিসার, গোল্ডেন এগ্রো কেমিক্যালস লিমিটেড। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জনাব আক্তার হোসেন, রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার, টিম এগ্রি সায়েন্স।

    সম্মেলনের মূল আলোচনায় উঠে আসে কৃষি খাতের উন্নয়ন, কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো। প্রতিনিধিদের মতে, কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও প্রসারিত করতে হবে, যাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যায়। এছাড়াও, সরকারি সহযোগিতা এবং প্রণোদনা আরও স্বচ্ছ এবং সহজলভ্য করতে হবে যাতে কৃষকরা সরাসরি এর সুবিধা পান।

    সমাপনী পর্বে, উপস্থিত প্রতিনিধিরা কৃষি উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য প্রতিশ্রুতি দেন। সকলেই একমত হন যে, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রের নানা সমস্যার সমাধান করা সম্ভব এবং এতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যাবে।

    এই সম্মেলন শুধু একটি আলোচনা সভা নয়; বরং এটি ছিল একটি প্রতিজ্ঞা—যেখানে দেশের কৃষি উন্নয়নের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কৃষকেরা এবং সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। এটি নিঃসন্দেহে দেশের কৃষি খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

  • সুপারফুড’ কিনোয়ার উপকারিতা, কীভাবে ও কতটুকু খাবেন

    সুপারফুড’ কিনোয়ার উপকারিতা, কীভাবে ও কতটুকু খাবেন

    সুপারফুড হিসেবে পরিচিত কিনোয়া এখন দেশের অনেকের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে এখনও অনেকে এটির উপকারিতা এবং খাওয়ার পরিমাণ ও নিয়ম জানেন না।

    চলুন জেনে নিই এএমজেড হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের পুষ্টি, ওবেসিটি, ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক ডিজিজ কনসালটেন্ট ডা. মো. জয়নুল আবেদীন দীপুর কাছ থেকে।

    কিনোয়া কী

    ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, কিনোয়া হলো এক ধরনের ছদ্মশস্য। এগুলো এক ধরনের বীজ হলেও শস্যের মতো ব্যবহার করা যায়। এই শস্য দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিয়ান অঞ্চলে হাজার বছর ধরে খাওয়া হচ্ছে। কিনোয়া গ্লুটেনমুক্ত, প্রোটিন সমৃদ্ধ এবং অত্যন্ত পুষ্টিকর।

    কিনোয়ার বেশ কয়েকটি ধরন আছে। যেমন-

    সাদা কিনোয়া: সবচেয়ে নরম ও হালকা স্বাদের। এটি রান্না করা সহজ।

    লাল কিনোয়া: সালাদ ও বেকিংয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। কারণ এটি শক্ত থাকে।

    কালো কিনোয়া: সবচেয়ে বেশি চিবানোর মতো এবং হালকা মিষ্টি স্বাদের।

     কিনোয়ার পুষ্টিগুণ

    কিনোয়াকে ‘সুপারফুড’ বলা হয় কারণ এতে প্রচুর প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে। প্রতি ১ কাপ রান্না করা কিনোয়ায় ৮ থেকে ৯ গ্রাম প্রোটিন, ৫ গ্রাম ফাইবার থাকে। এছাড়া ভিটামিন ও মিনারেল আছে যেমন- ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন বি ও ই। এছাড়াও আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট:  কোয়েরসেটিন ও কেমফেরল।

    কিনোয়া কীভাবে এবং কতটুকু খাবেন

    ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, কিনোয়া বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। যেমন- ভাতের বিকল্প হিসেবে, সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে, সকালের নাশতায় ওটমিল বা স্মুদি বোলের সঙ্গে, স্যুপে ব্যবহার করে। এছাড়া রান্না করা কিনোয়া দই বা দুধের সঙ্গে খেতে পারেন।

    পরিমাণ

    প্রতিদিন ১/২ থেকে ১ কাপ রান্না করা কিনোয়া খাওয়া ভালো। যারা প্রথমবার খাচ্ছেন, তারা কম পরিমাণে শুরু করতে পারেন (১/৪ কাপ)।

    কিনোয়ার উপকারিতা

    ১. কিনোয়া উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ। এতে ৯টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড আছে, যা শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    ২. যেহেতু কিনোয়া গ্লুটেনমুক্ত, যারা গ্লুটেন সেনসিটিভ বা সিলিয়াক রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য কিনোয়া উপযুক্ত।

    ৩. কিনোয়া ওজন কমাতে সহায়তা করে। ফাইবার ও প্রোটিন থাকার কারণে এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

    ৪. এটি হৃদযন্ত্রের জন্যও ভালো। কিনোয়াতে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষা করে।

    ৫.  কিনোয়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো।

    ৬. কিনোয়া হজমে সহায়ক। উচ্চ ফাইবার থাকার কারণে এটি হজম ভালো রাখে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

    সতর্কতা

    কিনোয়া খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে। কিনোয়াতে স্যাপোনিন থাকার কারণে কিছু মানুষের জন্য হজমে সমস্যা হতে পারে। রান্নার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিলে এটি এড়ানো যায়। বেশি পরিমাণে খেলে পেটে গ্যাস বা ফোলাভাব হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। অতিরিক্ত কিনোয়া খেলে কিডনির সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যদি শরীরে অক্সালেট সংবেদনশীলতা থাকে।

    ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, এসব সমস্যা এড়ানোর জন্য যদি নতুন করে কিনোয়া খেতে শুরু করেন, তবে অল্প পরিমাণে শুরু করুন এবং শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখুন। তারপর চাইলে বেশি পরিমাণ খেতে পারেন।

  • মসজিদ থেকে গলায় গামছা প্যাঁচানো লাশ উদ্ধার

    মসজিদ থেকে গলায় গামছা প্যাঁচানো লাশ উদ্ধার

    সাইফুল ইসলাম, পটুয়াখালী প্রতিনিধি, পটুয়াখালীর বাউফলে মসজিদ থেকে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় মো. আসাদুল রাঢ়ী (৫০) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার কেশবপুর গ্রামের রাঢ়ী বাড়ির মসজিদ থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। আসাদুল রাঢ়ী ওই গ্রামের মজিদ রাঢ়ীর ছেলে।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা যাওয়ার কথা বলে আসাদুল তার ভাই বাবুল রাঢ়ীর কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর সারাদিনে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি বাড়ির সামনের মসজিদে প্রবেশ করেন। মসজিদের ইমাম তার উদ্দেশ্য জানতে চাইলে আসাদুল জানান, তিনি নামাজ পড়ে চলে যাবেন। কিছুক্ষণ পর ইমাম বাড়ি ফিরে যান।

    ভোর রাতে ফজরের আজান দিতে আসা আসাদুলের চাচাতো ভাই দুলাল রাঢ়ী মসজিদের ভেতরে আসাদুলকে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় মৃত দেখতে পান। তখনই তিনি চিৎকার করে স্থানীয়দের ডেকে আনেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    আসাদুলের ভাই বাবুল রাঢ়ী জানান, ‘আমার ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তান ঢাকায় থাকেন। তিনি প্রায় এক বছর ধরে বাড়িতে একা থাকতেন। গতকাল সকালে তিনি ঢাকা যাওয়ার কথা বলে বের হন, কিন্তু সকালে তার লাশ মসজিদে পাওয়া যায়। এটি আত্মহত্যা না অন্য কোনো ঘটনা, আমরা এখনো বুঝতে পারছি না।’

    বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য তদন্ত চলছে।

  • বিমানবন্দর থেকে ৪৫ বাংলাদেশিকে ফেরত মালয়েশিয়ার

    বিমানবন্দর থেকে ৪৫ বাংলাদেশিকে ফেরত মালয়েশিয়ার

    মো:নুরুল ইসলাম সুজন ,মালয়েশিয়া :মালয়েশিয়ার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা (একেপিএস) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার অভিযোগে ৪৫ বাংলাদেশিসহ ৬৮ বিদেশিকে আটক করেছে। আটকদের মধ্যে ১৬ জন পাকিস্তানি ও ৭ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময়ে এই ঘটনা ঘটে।

    একেপিএস-এর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিরা পর্যটক হিসেবে প্রবেশের দাবি করলেও ইমিগ্রেশন কাউন্টারের দিকে না গিয়ে বিমানবন্দরের খাবারের দোকান ও অন্যান্য স্থানে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা বিশেষ কারও জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

    পরে তাদের কেএলআইএ ইমিগ্রেশন অপারেশন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৪৫ বাংলাদেশিসহ সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে ‘নোটিশ টু লিভ’ (এনটিএল) প্রদান করা হয়, অর্থাৎ তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

    একেপিএস জানিয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সংখ্যক এনটিএল রেকর্ড করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কেএলআইএর নজরদারি দল ২,৬৫৪ বিদেশিকে পরীক্ষা করেছে, যার মধ্যে ৯০০ জন প্রকৃত পর্যটক না হওয়ায় তাদের প্রবেশের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।

    সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় প্রবেশের জন্য নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে, অন্যথায় বিদেশিদের ফেরত পাঠানো হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।