Blog

  • ফয়জুল উলুম তাহফিজুল কোরআন নুরানী মাদরাসায় অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

    ফয়জুল উলুম তাহফিজুল কোরআন নুরানী মাদরাসায় অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

    রনজিৎ সরকার রাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি:দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ফয়জুল উলুম তাহফিজুল কোরআন নুরানী মাদরাসা-এ ২৬শে ফেব্রুয়ারি, বুধবার সকালে অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফয়জুল উলুম তাহফিজুল কোরআন নুরানী মাদরাসার সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক।

    প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের ১নং সদস্য, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন,
    “শিক্ষা শুধু বই-পুস্তক মুখস্থ করার বিষয় নয়, এটি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আত্মউন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম। নুরানী মাদরাসা আমাদের শিশুদের কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের যথাযথ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ মাদরাসা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলছে। আমরা চাই এই প্রতিষ্ঠান আরও এগিয়ে যাক।”

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল বিএনপির বীরগঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্য সচিব তানভির চৌধুরী, বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য দুলাল ইসলাম, ৭নং মাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহসিন আলী, ৮নং ভোগনগর ইউনিয়নের বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাদিকুল ইসলাম সাদেক ও ৮নং ভোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য নূর ইসলাম।

    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফয়জুল উলুম তাহফিজুল কোরআন নুরানী মাদরাসার মহতামিম হাফেজ মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, অভিভাবক, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীগণ উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে ছাত্রদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে এবং তাদের শিক্ষাজীবনকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • পবিত্র রমজান মাসে সুস্থ থাকতে যেসব খাবার খেতে পারেন

    পবিত্র রমজান মাসে সুস্থ থাকতে যেসব খাবার খেতে পারেন

    বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মাস পবিত্র রমজান। ইফতার রোজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইফতারে আমরা সাধারণত প্রথমে পানি বা শরবত পান করি। এরপর খেজুর বা সহজপাচ্য শর্করা, যেমন দই-চিড়া, গুড়ের পায়েস, ওটমিল, চিয়া পুডিং (এসব খাবারের সঙ্গে চাইলে পছন্দমতো বিভিন্ন বাদাম, ফল মিশিয়ে) দিয়ে ইফতার করা যেতে পারে। এসব খাবার শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং পেট ঠান্ডা রাখে।

    আমরা অনেকেই ইফতারে পানি খেয়েই ভাজাভুজি, যেমন ছোলা, পিঁয়াজি, বেগুনি খেতে ভালোবাসি। সারা দিন রোজা রাখার পর এসব খাবারে বুকজ্বালা, পেটব্যথা, বুক ধড়ফড় করতে পারে; রক্তে ক্ষতিকর চর্বি বাড়তে পারে। আর ওজন তো বাড়বেই। কারণ, এসব তৈলাক্ত, চর্বিযুক্ত খাবারে প্রচুর ক্যালরি থাকে।

    ইফতারে পুষ্টি উপাদানগুলো যেন সহজেই পাওয়া যায়, তেমন খাবার খেতে হবে। নমুনা হিসেবে এনার্জি বুস্ট করে এমন কিছু খাবারের কথা বলা যায়। যেমন ইফতারের শুরুতেই খেতে হবে দই, লাল চিড়া, কলা, বাদাম, খেজুর—সবকিছু একসঙ্গে মিশিয়ে অথবা গ্রহণ করতে হবে সহজে হজমযোগ্য, যেমন তরলজাতীয় খাবার বা ফলের জুস বা স্মুদি।

    মাগরিবের নামাজের পর বা এক-দুই ঘণ্টা পর

    ● হালিম খুব পুষ্টিকর খাবার। এটি খাওয়া যায়। কারণ, হালিম কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাটের ভালো উৎস।

    ● সেদ্ধ ছোলা, মুড়ি, টমেটো, শসার পাশাপাশি পছন্দের ভাজাপোড়ার মধ্যে একটি-দুটি সিলেক্টিভ আইটেম, যেমন পিঁয়াজু, আলুর চপ কম তেলে ভেজে খাওয়া যায়।

    ● সবজি ও ডিম বা চিকেন স্যুপ খুব স্বাস্থ্যকর। এমন খাবার থেকে প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলস পাওয়া যায়।

    ● বিভিন্ন ফল দিয়ে তৈরি ‘সালাদ’ পুষ্টিকর খাবার। এটি শরীরকে হাইড্রেট রাখে।

    অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয়। পেটের সমস্যা এড়াতে তোকমা, ইসবগুল ও তাজা ফলের রস এ সমস্যায় সাহায্য করে। শরীরকে যথাসম্ভব হাইড্রেট রাখা দরকার, যেন পানিশূন্যতা না হয়। সারা দিন রোজা রেখে অতিরিক্ত না খেয়ে খেতে হবে ধীরে ধীরে ও ভালোমতো চিবিয়ে। এতে শরীর সুস্থ থাকবে ও পরের দিনের রোজা রাখার জন্য নিজেকে সুস্থভাবে তৈরি করা যাবে।

  • ন্যানো প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিপ্লব মৎস্য চাষে, বাড়ছে উৎপাদন ও লাভ

    ন্যানো প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিপ্লব মৎস্য চাষে, বাড়ছে উৎপাদন ও লাভ

    বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অপরিসীম। দেশজুড়ে লাখো মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতের সঙ্গে জড়িত। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, রোগবালাই ও প্রাকৃতিক উৎসের মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে традиিক মাছ চাষ পদ্ধতিতে চাপ বাড়ছে। এই সংকট উত্তরণে এখন আশার আলো দেখাচ্ছে ন্যানো টেকনোলজি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ন্যানো প্রযুক্তির ব্যবহারে মাছ চাষে আসতে যাচ্ছে আমূল পরিবর্তন। উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি লাভের পরিমাণও বাড়বে কয়েক গুণ।

    মৎস্য চাষের সঙ্গে ন্যানো টেকনোলজির সমন্বয় কীভাবে সম্ভব? বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করছেন, ন্যানো প্রযুক্তি হলো অতি ক্ষুদ্র কণার ব্যবহার, যা মানবচোখে দেখা যায় না। এই কণাগুলোকে বিশেষভাবে ডিজাইন করে মাছের খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ, রোগ প্রতিরোধ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগানো যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ন্যানো পার্টিকেল সমৃদ্ধ ফিড মাছের দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। আবার ন্যানো ফিল্টার ব্যবহার করে পুকুরের পানি দূষণমুক্ত রাখা যায়, যা মাছের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ন্যানো টেকনোলজি ব্যবহার করে মাছ চাষের একটি মডেল তৈরি করেছেন। তাদের মতে, ন্যানো সিলভার পার্টিকেল যুক্ত করা ফিড মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে করে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমে যায়, যা মানব স্বাস্থ্যের জন্যও নিরাপদ। পাশাপাশি ন্যানো ক্যাপসুলের মাধ্যমে মাছের ভ্যাকসিন সরবরাহ করা যায়, যা প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অধিক কার্যকর। এতে করে মাছ মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে।

    ন্যানো টেকনোলজির আরেকটি যুগান্তকারী ব্যবহার হলো পানি ব্যবস্থাপনা। মাছ চাষের জন্য পানির গুণগত মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যানো বাবল টেকনোলজির মাধ্যমে পুকুরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ানো যায়। এ ছাড়া ন্যানো ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি ফিল্টার ব্যবহার করে পানিতে থাকা বিষাক্ত রাসায়নিক, ভারী ধাতু ও ব্যাকটেরিয়া দূর করা সম্ভব। এর ফলে মাছের আবাসস্থল হয়ে ওঠে আরও স্বাস্থ্যকর, যা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

    খাবার সংকট সমাধানেও ন্যানো প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষকরা ন্যানো এনক্যাপসুলেশন পদ্ধতিতে মাছের খাবারে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল ও প্রোবায়োটিক যুক্ত করছেন। এই প্রযুক্তি নিশ্চিত করে যে মাছ তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি সঠিকভাবে গ্রহণ করবে। ফলে মাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয় এবং খাবারের অপচয় রোধ করা যায়। এতে করে চাষিদের খরচ কমে যায়, লাভের পরিমাণ বাড়ে।

    বাংলাদেশে ইতিমধ্যে কিছু প্রগতিশীল মাছ চাষি ন্যানো টেকনোলজি ব্যবহার শুরু করেছেন। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মৎস্য চাষি মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর তিনি ন্যানো ফিল্টার ও বিশেষ ফিড ব্যবহার করে তার পুকুরে তেলাপিয়া চাষ করেছেন। ফলাফল ছিল চমকপ্রদ—গতবারের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪০%। মাছের রোগও কম হয়েছে। তিনি বলছেন, প্রাথমিক খরচ কিছুটা বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি লাভজনক।

    তবে এই প্রযুক্তি সবার কাছে পৌঁছাতে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ন্যানো টেকনোলজি সম্পর্কে চাষিদের সচেতনতা কম। অনেকেই এই প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে সংশয়ে থাকেন। এ ছাড়া ন্যানো উপকরণের মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় ক্ষুদ্র চাষিদের পক্ষে এটি ব্যবহার কঠিন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়া গেলে এই সমস্যা কাটানো সম্ভব।

    বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ন্যানো টেকনোলজিকে অগ্রাধিকার দেওয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশ ন্যানো টেকনোলজি কাউন্সিলের উদ্যোগে কৃষি ও মৎস্য খাতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০% মাছ চাষি যেন ন্যানো প্রযুক্তির সুবিধা পায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। এ জন্য দেশীয় গবেষকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

    ন্যানো টেকনোলজির সম্ভাবনা শুধু উৎপাদন বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখছে। উদাহরণস্বরূপ, ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুকুরের তলদেশে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করা যায়। এতে করে জলাশয়ের আয়ু বাড়ে এবং পার্শ্ববর্তী পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকে। এই প্রক্রিয়া গতানুগতিক চাষ পদ্ধতির তুলনায় অধিক পরিবেশবান্ধব।

    মাছ চাষে ন্যানো টেকনোলজির ব্যবহার বাড়াতে হলে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা এই প্রযুক্তি জনপ্রিয় করতে পারে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল যৌথভাবে ন্যানো-বেসড মৎস্য চাষ মডেল নিয়ে কাজ করছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করা, যা সহজলভ্য এবং কম খরচে বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগ করা যাবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ন্যানো টেকনোলজি মৎস্য খাতে একটি বড় ধরনের রূপান্তর আনতে যাচ্ছে। আগামী দশকে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ চাষ হবে আরও বিজ্ঞানভিত্তিক ও লাভজনক। তবে এর জন্য চাষিদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা জরুরি। ন্যানো উপকরণের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি না থাকে।

    সর্বোপরি, ন্যানো টেকনোলজি মৎস্য চাষকে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছে। এই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ不仅 মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখতে পারবে, বরং রপ্তানির ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত открыতে সক্ষম হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের সমন্বয়ে মৎস্য খাতের ভবিষ্যৎ এখন আরও উজ্জ্বল।

  • উন্নয়ন কাজে ইউপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করায় কচুয়ায় জামায়াত নেতৃবৃন্দদের প্রতিবাদ লিপি

    কচুয়া(বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ স্বৈরাচারের দোসর পলাতক ইউপি সদস্যের নামে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজ ও সই অব্যাহত রাখার প্রতিবাদ।বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী কচুয়া উপজেলার বাধাল ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদ লিপি কচুয়া উপজেলা প্রশাসন বরাবর প্রদান করা হয়েছে।

    ২৫ শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী ৭ নং বাধাল ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও রাজনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক এর যৌথ স্বাক্ষরিত এই প্রতিবাদ লিপি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গ্রহণ করেন।

    প্রতিবাদ লিপিতে উল্লেখ করা হয়, নতুন উন্নয়নমূলক কাজে পলাতক স্বৈরাচারীর দোসর ইউপি সদস্যের নামে ছাড়া কাজ করা অসম্ভব এবং ইউনিয়ন পরিষদের চারিত্রিক সনদে সই অব্যাহত রয়েছে এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী ৭ নং বাধাল ইউনিয়ন সমর্থন করে না।
    অতি শীঘ্রই স্বৈরাচারের দোসর থেকে ইউনিয়ন পরিষদকে রক্ষা এবং বিকল্পভাবে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজ করার দাবি জানানো হয়।আওয়ামীলীগ এর সকল মেম্বাররা এখনও ওপেনে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।এদেরকে বিচারের আওতায় আনা হোক ।সাধারণ জনগণের দাবি এরা অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি করছে।

  • রোগী শিং মাছ খেলে শক্তি ও রক্ত বাড়ে, সত্যি নাকি মিথ

    রোগী শিং মাছ খেলে শক্তি ও রক্ত বাড়ে, সত্যি নাকি মিথ

    জ্বর বা অসুস্থতার সময় শিং মাছ খেলে কি সত্যিই শরীরে শক্তি বাড়ে বা কোনো উপকারিতা আছে, নাকি এটা মিথ? জেনে নিন এএমজেড হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের পুষ্টি, ওবেসিটি, ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক ডিজিজ কনসালটেন্ট ডা. মো. জয়নুল আবেদীন দীপুর কাছ থেকে।

    মিথ? নাকি নয়?

    ডা. জয়নুল আবেদীন দীপু বলেন, জ্বরের সময় বা অসুস্থতার সময় অন্যান্য যেকোনো মাছের মতোই শিং মাছ খেলেও শক্তি বাড়ে। কারণ শিং মাছ অন্যান্য মাছের মতোই প্রোটিন ও মিনারেলের ভালো উৎস। তবে অন্যান্য মাছের তুলনায় শিং মাছের বিশেষ বা অনন্য কোনো শক্তির উপাদান আছে, বিষয়টা এমন নয়।

    আরেকটি কথা প্রচলিত আছে। সেটা হলো শিং মাছ খেলে শরীরে বেশি রক্ত (লোহিত কনিকা) উৎপন্ন হয়। কিন্তু শিং মাছে রক্তের লোহিত কণিকা উৎপাদনের উপকরণ যেমন- আয়রন, ফলিক এসিড ইত্যাদি অনেক বেশি পরিমাণে থাকে এমন নয়। বরং লাল শাক, কচু শাক, কচুর লতি, প্রাণীর কলিজাতে বেশি পরিমাণে আয়রন থাকে, যা রক্তের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য খাওয়া যেতে পারে। সেই হিসেবে শিং মাছকে শক্তির কিংবা লোহিত কণিকা উৎপাদনের বিশেষ উৎস হিসেবে ধরাকে মিথই বলা যায়।

    শিং মাছের পুষ্টিগুণ

    ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন,’ প্রতি ১০০ গ্রাম শিং মাছে উল্লেখযোগ্য পুষ্টিগুণের মধ্যে ক্যালরির পরিমাণ থাকে ১২০ কিলোক্যালরি।  ২৮ কিলোক্যালরি ফ্যাট, ৯১ দশমিক ৫০ কিলোক্যালরি প্রোটিন পাওয়া যায়। এ ছাড়া ভিটামিন এ থাকে ৪৯ দশমিক ৬০ আইইউ এবং ভিটামিন ডি এর পরিমাণ  ১৯৭ আইইউ।

    ২২১ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৮৬ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ২০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ১১৪ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম এবং ২ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম আয়রন পাওয়া যায় শিং মাছে। ম্যাঙ্গানিজের পরিমাণ ০ দশমিক ৩০ মিলিগ্রাম। কার্বহাইড্রেট নেই বললেই চলে শিং মাছে।

    শিং মাছের উপকারিতা

    ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, শিং মাছ খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর মাছ। প্রোটিন, ভালো ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেলস এ ভরপুর এই মাছ। দৈনন্দিন প্রোটিনের চাহিদা পূরণে এই মাছ আমাদের খাবার তালিকায় থাকা উচিত।

    ভিটামিন এ এবং ডি সমৃদ্ধ হওয়ায় হাড় এর গঠন, দৃষ্টি ও ত্বকের ওপর ইতিবাচক প্রভাব রাখে শিং মাছ।

    এ ছাড়া ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম ও পটাসিয়ামে সমৃদ্ধ হওয়ায় মিনারেলের চাহিদা পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

    শিং মাছ কারা খাবেন না

    শিং মাছের কোনো ক্ষতিকর দিক নেই। তবে প্রচুর পরিমাণ ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ ও পটাসিয়াম থাকায় কিডনি রোগীদের শিং মাছ কম খাওয়ার কথা বলেন ডা. জয়নুল আবেদীন।

    চাষের শিং মাছ প্রসঙ্গে চিকিৎসক বলেন, এটি সাধারণত আকারে বড় হয়। পুষ্টিতে খুব একটা বেশি পার্থক্য নেই। তবে আকারে বড় হওয়ায় প্রোটিন ও ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে চাষের শিং মাছে। এ ছাড়া দামে কম হওয়ায় চাষের শিং মাছই মানুষের কাছে বেশি সহজলভ্য।

    বাজারে যে চাষের শিং মাছ পাওয়া যায় তা খাওয়া যেতে পারে। তবে চাষের শিং মাছের বৃদ্ধির জন্য মাছের খাবারে ম্যাঙ্গানিজ ব্যবহার করা হয়, যা কিডনির জন্য ক্ষতিকর। তাই কিডনিজনিত জটিলতা যাদের আছে তাদের চাষের শিং মাছ না খাওয়ার পরামর্শ দেন ডা. জয়নুল আবেদীন।

     

  • শিং মাছের পোনা উৎপাদন পদ্ধতি

    শিং মাছের পোনা উৎপাদন পদ্ধতি

    শিং মাছ একটি বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ। এই মাছটি অত্যন- সুস্বাদু এবং জনপ্রিয়। আমাদের দেশে বেশ আগে হাওড়-বাঁওড়ে মাছটির প্রাচুর্যতা ছিল। কালের বির্বতনে প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে মাছটি আমাদের দেশ থেকে বিলুপ্ত হতে চলেছে। আমরা মাছটিকে ব্যাপকভাবে উৎপাদনের জন্য ১৯৯৮-৯৯ সালে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ‘৯৯ সালে ব্যাপকভাবে পোনা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছি। এই মাছটি উৎপাদন করতে গিয়ে বিভিন্ন হাওড়-বাঁওড় থেকে জীবিত ব্রুড মাছ সংগ্রহ থেকে শুরু করে, ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলা দক্ষ জনবল তৈরি করাসহ অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পোনা উৎপাদন ছিল অত্যন্ত- ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল একটি কাজ। আমার সমসাময়িক সময়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকেও শিং মাছের প্রজনন পদ্ধতি আবিষ্কারের কথা বলা হয়েছিল। এই প্রযুক্তিতে পুরুষ শিং মাছের টেস্টিজ কেটে স্টিপিং পদ্ধতিতে ডিম সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে। বাস-বে এই পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভিত্তিতে কখনই সফলতা বয়ে আনবে না। কারণ-

     চাপ প্রয়োগ পদ্ধতিতে শিং মাছের ডিমের নিষিক্তের হার সাধারণত ৫% এর বেশি হয় না যা কখনই একজন খামারি বাণিজ্যিকভাবে সফলতা পাবে না।

    বাণিজ্যিকভাবে শিং মাছের পোনা উৎপাদনের জন্য যে পরিমাণ শিং মাছের স্ট্রিপিং এর প্রয়োজন সে পরিমাণ শিং মাছকে স্ট্রিপিং করাও এক দুঃসাধ্য ব্যাপার। তা ছাড়া ওই প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিকভাবে কেউ পোনা উৎপাদন করতে পারবে না। কিছু কিছু হ্যাচারি মালিকদের টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়ে ওই প্রযুক্তিটিকে টিকিয়ে রাখার প্রানান- চেষ্টা কিছুদিন লক্ষ্য করেছি। বাস-বে সেইসব হ্যাচারি মালিকরাও কিন্তু ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে না। শুধু টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারের লোভে এই অনৈতিক সাক্ষাতকার দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা বাস-বে অনুসরণ করছে আমার প্রযুক্তি। প্রযুক্তি এমনই একটা জিনিস যা কোনদিন স্থায়ীভাবে ধরে রাখা সম্ভব হয় না। আমার ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই। আমার এই প্রযুক্তিটি ১৯৯৯ সাল থেকে ব্যবহার করছি। ধীরে ধীরে এই প্রযুক্তিটি ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে।

    শিং মাছের প্রজননে আমার নিম্নলিখিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প বা বিশাল পরিসরে কৃত্রিম

    প্রজননের মাধ্যমে খুব সহজেই চাহিদা মাফিক যে কেউ শিং মাছের পোনা উৎপাদন করতে সক্ষম হবেন।

    শিং মাছ

    প্রজননক্ষম মাছ সংগ্রহ ও পরিচর্যা:
    পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, ১০/১১ মাস বয়সে একটি শিং মাছ প্রজননে সক্ষম হয়। সুস্থ ও সবল মাছ শতাংশ প্রতি পুরুষ স্ত্রী মাছ ৫০ : ৫০ অনুপাতে ২০০টি ব্রুড মাছ মজুদ করে নিয়মিতভাবে দেহের ওজনের ৫% হারে সম্পূরক খাবার দিতে হয়। ৩০% ফিস মিল, ২০% সরিষার খৈল, ৩০% অটোকুড়া, ১০% মিটবোন, ১০% ভূষি ও ভিটামিন প্রিমিক্স সহকারে সম্পূরক খাবার তৈরি করা যায়।

    প্রজননের জন্য উপযোগী স্ত্রী ও পুরুষ মাছ বাছাই:
    সাধারণত এপ্রিলের প্রথম থেকে অক্টোবর মাস পর্যন- শিং মাছের প্রজননকাল। এই সময়ে স্ত্রী মাছের পেটে ডিম ভর্তি থাকে। পুরুষ মাছ স্ত্রী মাছ থেকে অপেক্ষাকৃত ছোট থাকে এবং পেট স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যায়। প্রজনন করার জন্য পুরুষ মাছ স্বাভাবিক উদর ও স্ত্রী মাছের উদরে ডিম ভর্তি দেখে পরিপক্কতা সম্পন্ন মাছ বাছাই করে নিতে হয়।

    শিং মাছের ইঞ্জেকশন পদ্ধতি:
    দুটি হরমোননের মাধ্যমে শিং মাছকে ইঞ্জেকশন করা যায়। যথা : পি. জি. দ্রবণ দিয়ে ইঞ্জেকশন : পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে একটি করে ডোজ দিতে হয়। স্ত্রী মাছকে ৩০ মি. গ্রা. হারে অর্থাৎ ১ কেজি মাছের জন্য ৩০ মি. গ্রা. পি. জি. এর দ্রবণ প্রয়োগ করতে হয়। এরপর প্রতি কেজি পুরুষ মাছকে ৫/১০ মি. গ্রা. পি. জি. এর দ্রবণ দিয়ে ইঞ্জেকশন করা যায়।

    এইচ.সি.জি. দ্রবণ দিয়ে:
    স্ত্রী শিং মাছকে এইচ.সি.জি. দিয়ে ইঞ্জেকশন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ৫০০০ আই.ইউ এর এইচ. সি.জি. এর একটি অ্যাম্পল দিয়ে ২/৩ কেজি স্ত্রী মাছের ইঞ্জেকশন করা যায়।

    এছাড়া কৃত্রিম প্রজননের জন্য প্রথমে মাছ বাছাই করতে হয়। এক্ষেত্রে সমপরিমাণ পুরুষ ও স্ত্রী মাছ বাছাইয়ের পর পি.জি. দ্রবণের ইঞ্জেকশন দিতে হয়। অন্য একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, পুরুষ মাছের সংক্রান- স্ত্রী মাছের চেয়ে দেড়গুণ দিলে শিং মাছ বেশি ডিম দেয়।

    প্রথমে প্রজননক্ষম উপযোগী স্ত্রী ও পুরুষ শিং মাছ সমান অনুপাতে প্রজনানঙ্গ বরাবর উপরের মাংশল স্থানে ইঞ্জেকশন করে পানির হাউজে ছেড়ে দিলে চলবে। তবে পুরুষ মাছ স্ত্রী মাছের তুলনায় কিছু বেশি দিলে সব স্ত্রী শিং মাছই ডিম ছাড়ে এবং ডিম নিষিক্তের হার ভাল হয়। ইঞ্জেকশন করে প্রাকৃতিক উপায়ে ২ ভাবে ডিম সংগ্রহ করা হয়।

    ১. হাঁপা পদ্ধতি এবং
    ২. সিস্টার্ণ পদ্ধতি।

    হাঁপা পদ্ধতি :
    প্রথমে দৈর্ঘ্যে ১২ ফুট, প্রস্থে ৮ ফুট এবং ১ সে.মি. ফাঁক বিশিষ্ট পলিথিন জাতীয় একটি হাঁপা তৈরি করতে হবে। তারপর এই হাঁপাটিকে হাউজে এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যেন হাঁপার তলদেশ হাউজের তলা থেকে কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি উপরে থাকে। এরপর হাউজের পানি ৩ ফুট উচ্চতায় ভরে কৃত্রিম ঝর্ণার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে স্রোতের সৃষ্টি হয়। এরপর মাছগুলোকে ইঞ্জেকশন দিয়ে হাঁপাতে ছাড়তে হবে। ইঞ্জেকশনের ১০/১২ ঘন্টা পরে প্রাকৃতিকভাবে শিং মাছ প্রজনন করবে। শিং মাছের ডিম হালকা আঠালো। ডিম দেয়ার পর ডিমগুলো হাঁপার ফাঁক দিয়ে সিস্টার্ণের তলায় পড়ে যাবে। ভোর বেলায় ডিম পারা শেষ হলে সেখান থেকে চিকন পাইপ দিয়ে সাইফন করে ডিমগুলো সংগ্রহ করতে হবে।

    সিস্টার্ণ পদ্ধতি:
    মাছকে ইঞ্জেকশন করে সিস্টার্ণে ছেড়ে দিতে হবে। ১০/১২ ঘন্টা পর শিং মাছ প্রাকৃতিকভাবে ডিম দেয়া শেষ করবে। পরে ডিমগুলোকে সাইফন পদ্ধতিতে সংগ্রহ করতে হবে। সংগৃহীত ডিমগুলো ছোট ছোট সিস্টার্ণে (২/৩ ইঞ্চি উচ্চতায় পানিতে) ছড়িয়ে দিতে হবে। পরে ওই সিস্টার্ণে ০.৫ ইঞ্চি পিভিসি পাইপকে ছিদ্র করে ঝর্ণার ব্যবস্থা করতে হবে। এভাবে ১৮ থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ডিম থেকে বাচ্চা বের হবে। বাচ্চা হওয়ার ৩ দিনের মধ্যে ডিম্বথলী শোষিত হয়ে রেনু পোনায় পরিণত হয়। বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার ৪৮ ঘন্টা পর ডিম্বথলী থাকা অবস্থাই খাবার খেতে পারে। এরা স্বগ্রোত্রভোজী হয়ে থাকে। তাই প্রতি ৩ ঘন্টা অন-র অন-র খাবার দিতে হয়। খাদ্য হিসেবে এদের ছোট লাল কেঁচো ব্লেন্ডারে মিহি করে সপ্তাহ দেড়েক খাওয়াতে হয় অথবা আটিমিয়া ফুটিয়ে খাওয়ালে সবচেয়ে ভাল হয়। আবার সিদ্ধ ডিমের কুসুম ভাল করে ছেকে রেনুকে খাওয়ালে চলবে। রেনুর বয়স ৪/৫ দিন হলে নার্সারি পুকুরে ছাড়তে হবে। অনেকেই শিং মাছকে চাপ প্রয়োগ পদ্ধতিতে রেনু উৎপাদনের কথা বলে থাকেন। আমার মতে চাপ প্রয়োগে শিং মাছের ডিম সংগ্রহ করে কোনদিনই বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়া যায় না।

    আতুর পুকুর পোনা পালন প্রযুক্তি:
    ৫ দিন বয়সের পোনা সিস্টার্ণ বা সিমেন্টের ট্যাংক থেকে চিকন রাবার নল দিয়ে সাইফন করে রেনু পোনা বের করে নার্সারিতে ছাড়তে হবে। নার্সারি পুকুরের আয়তন ১৫/২০ শতাংশ হলে ভাল হয়। প্রথমে নার্সারি পুকুরটির তলা শুকিয়ে হালচাষ করে শতাংশ প্রতি ৫-১০ কেজি গোবর ছিটিয়ে পুকুরে শ্যালো মেশিনের স্বচ্ছ পানি দিয়ে রেনু ছাড়তে হবে।

    আতুর পুকুর প্রস্তুতির উল্লেখযোগ্য দিক:
    ১. আতুর পুকুর বা নার্সারি পুকুরে যাতে কোন প্রকার ব্যাঙ, সাপ বা অবাঞ্ছিত কোন প্রাণী না ঢুকতে পারে সে জন্য পুকুরের চারপাশ জাল দিয়ে ভালভাবে ঘের দিতে হবে।
    ২. নার্সারি পুকুরে অতিরিক্ত খাদ্য প্রয়োগ করা যাবে না।
    ৩. নার্সারি পুকুরের খাদ্য হিসেবে ৫০% কুড়া এবং ৫০% শুটকি মাছের গুঁড়া একত্রে মিশ্রিত করে প্রতিদিন রেনুর ওজনের ২০০% প্রয়োগ করতে হবে।
    ৪. এরা সাধারণত রাতে খেতে পছন্দ করে। তাই খাবার রাতে ২বার প্রয়োগ করা যেতে পারে।

     

  • নাহিদ ইসলামের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি

    নাহিদ ইসলামের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি

    অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গতকাল মঙ্গলবারই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলামের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন।

    গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর যমুনার সামনে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে কথা বলেন তিনি।

    ব্রিফিংয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বেলা একটায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। বৈঠকে তিনি তাঁর একটি ব্যক্তিগত বিষয় আলোচনা করেছেন এবং আলোচনা সাপেক্ষে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। এ ছাড়া জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনসহ সরকারের যেসব কমিটিতে তিনি ছিলেন, সেসব কমিটি থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন হবে। এই দলের নেতৃত্ব দেবেন নাহিদ ইসলাম। সে কারণে তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল।

    আগামী শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নতুন এই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে।

  • মালয়েশিয়ায় বন্ধ হচ্ছে এমআরপি পাসপোর্ট সেবা

    মালয়েশিয়ায় বন্ধ হচ্ছে এমআরপি পাসপোর্ট সেবা

    মো:নুরুল ইসলাম সুজন,মালয়েশিয়া প্রতিনিধিঃ   মালয়েশিয়ায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হতে যাচ্ছে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) সেবা প্রদান। এর পরিবর্তে পূর্বের ভিসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য এমআরপির বিদ্যমান তথ্য অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন ইংরেজি জন্মসনদের তথ্য সংশোধন করে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার অনুরোধ জানিয়েছে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন।

    মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (পাসপোর্ট ও ভিসা) মিয়া মোহাম্মাদ কেয়ামউদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, ঢাকার নির্দেশনা মোতাবেক ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়ায় মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এর রিইস্যু আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এমতাবস্থায়, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে ই-পাসপোর্ট গ্রহণ করতে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বর্তমান পাসপোর্টে ভিসা নবায়নের জটিলতা এড়ানোর লক্ষ্যে পূর্বের ভিসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে (এমআরপি) বিদ্যমান তথ্য অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র/অনলাইন ইংরেজি জন্মসনদের তথ্য সংশোধন করে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার জন্য অনুরোধ জানান।

    এছাড়া যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র/অনলাইন ইংরেজি জন্মসনদের তথ্য সংশোধনে জটিলতা দেখা দেবে, শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, ঢাকা থেকে ইস্যুকরণ সাপেক্ষে বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়লালামপুর, মালয়েশিয়া থেকে বিতরণ করবে।

    অন্যদিকে, পোস মালয়েশিয়ার (পোস্ট অফিস) মাধ্যমে কোনো অবস্থাতেই এমআরপি আবেদন হাইকমিশনে গ্রহণ করা হবে না বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এর বিপরীতে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধও বলে জানায়।

  • নারীর হাতে গড়ে উঠছে মাছ চাষের নতুন ইতিহাস

    নারীর হাতে গড়ে উঠছে মাছ চাষের নতুন ইতিহাস

    গ্রামীণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ দিনদিন বাড়ছে। কৃষি, পশুপালন ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের পাশাপাশি এখন মাছ চাষেও নারীরা লেখা শুরু করেছেন সাফল্যের নতুন অধ্যায়। বিশেষ করে ফিশমিল বা মাছ চাষের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের পথ সুগম হচ্ছে, যা সমাজে তাদের মর্যাদা ও ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখছে। সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির সুবিধা পেয়ে নারীরা এখন শুধু পারিবারিক আয়ই বাড়াচ্ছেন না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও যোগ করছেন গতিশীলতা।

    বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে মাছ চাষ ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষদের কাজ হিসেবে বিবেচিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধারা ভাঙতে শুরু করেছে। নারীরা এখন পুকুর লিজ নেওয়া থেকে শুরু করে মাছের পোনা ছাড়া, খাবার দেওয়া, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও বিপণনের মতো প্রতিটি ধাপে সরবরহমাণ ভূমিকা রাখছেন। এতে করে বাড়ির চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার বদলে নারীরা হয়ে উঠছেন পরিবারের আয়ের মূল স্তম্ভ। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মৎস্য চাষি শেফালী বেগম বলেন, “স্বামী বিদেশে থাকেন। নিজেই পুকুর পরিচালনা করি। মাছ বিক্রি করে সন্তানের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ চালাই। আগে গাঁয়ে নারীদের এভাবে কাজ করতে দেখলে লোকজন কথা বলত, এখন সবাই সম্মান দেয়।”

    নারীর এই অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করছে ফিশমিল বা মাছ চাষের আধুনিক পদ্ধতির সম্প্রসারণ। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে নারী মৎস্য চাষির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৫%। বিশেষ করে হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা, বায়োফ্লক প্রযুক্তি ও প্লাস্টিকের ট্যাংকে মাছ চাষের মতো আধুনিক পদ্ধতিগুলো নারীদের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে। এসব পদ্ধতিতে কম জায়গায় বেশি উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় বাড়ির আঙিনায়ও চাষ করা যায়, যা নারীদের জন্য সুবিধাজনক। এ ছাড়া মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মাছের রোগ নির্ণয় ও বাজারজাতকরণের সুবিধা নারীর কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছে।

    নারীর ক্ষমতায়নে ফিশমিলের ভূমিকা শুধু আর্থিকই নয়, সামাজিক স্বীকৃতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির গ্রামীণ নারী সমিতির সদস্যরা যৌথভাবে ১০টি পুকুরে মাছ চাষ করছেন। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় যুব নেত্রী সুমি আক্তার। তিনি বলেন, “গ্রামের লোকজন প্রথমে আমাদের হাসাহাসি করত। এখন আমাদের সাফল্য দেখে অনেক পরিবার তাদের মেয়েদের এই কাজে উৎসাহিত করছে।” এ ধরনের উদ্যোগ নারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করছে এবং গ্রামীণ সমাজে নেতৃত্বের সুযোগ বাড়াচ্ছে।

    সরকারি নীতিমালা ও প্রণোদনাও নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা করছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের “নারী উন্নয়ন through ফিশারিজ” প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ২০ হাজারের বেশি নারীকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও প্রাথমিক মূলধন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নারীদের জন্য আলাদা কোটা রাখা হয়েছে মৎস্য হ্যাচারি লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে। মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “মৎস্য খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে আমরা বিশেষ ফোকাস দিচ্ছি। নারীরা যদি একবার আত্মনির্ভর হয়ে ওঠেন, তবে পুরো পরিবারটিই সচ্ছল হয়।”

    বেসরকারি সংস্থাগুলোও এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্র্যাকের “আquaatech for women” প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে প্লাস্টিকের ট্যাংক ও হোম-বেসড মাছ চাষের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির কৌশল সম্পর্কে। প্রকল্পের সমন্বয়কারী তানজিনা হোসেন বলেন, “গ্রামীণ নারীরা প্রায়ই জমি বা বড় পুকুরের মালিকানা পায় না। তাই আমরা ছোট স্কেলে, কম খরচে মাছ চাষের পদ্ধতি শিখিয়েছি, যা তারা বাড়ির ছাদ বা উঠোনে করতে পারেন।”

    তবে নারীর মৎস্য চাষে এগিয়ে আসার পথে এখনো কিছু বাধা রয়ে গেছে। সমাজের রক্ষণশীল অংশের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, জমি বা পুকুর লিজ নেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পাওয়ার অসুবিধা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে। কুমিল্লার লালমাই উপজেলার মৎস্য চাষি জেবুন্নেছা বেগম বলেন, “পুকুর লিজ নেওয়ার সময় মালিকরা নারী দেখলে ভাড়া বেশি চান। অনেক সময় পুরুষ সহযোগী না থাকলে ব্যাংক ঋণও দেওয়া হয় না।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন ও সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা গেলে এসব সমস্যা কাটানো সম্ভব।

    নারীর ক্ষমতায়নের এই অভিযাত্রায় স্থানীয় সরকারও এগিয়ে আসছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নারীদের জন্য মৎস্য চাষের বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় নারীদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে “মৎস্য কৃষাণী সমবায় সমিতি”। এই সমিতির সদস্যরা যৌথভাবে মাছ চাষ করেন এবং উৎপাদিত পণ্য সরাসরি শহরের বাজারে বিক্রি করেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে তাদের লাভের পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণ।

    শিক্ষা ও ডিজিটালাইজেশনের প্রসারও নারী মৎস্য চাষিদের সাহায্য করছে। এখন অনেক নারীই ইন্টারনেট থেকে মাছ চাষের আধুনিক পদ্ধতি শিখছেন, ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন এবং অনলাইনে তাদের পণ্য বিপণন করছেন। নেত্রকোনার মদন উপজেলার রুবিনা আক্তার তার ইউটিউব চ্যানেলে মাছ চাষের ভিডিও টিউটোরিয়াল পোস্ট করে ইতিমধ্যে হাজারো অনুসারী পেয়েছেন। তিনি বলেন, “অনলাইনে শেখার পর বাড়িতে ছোট ট্যাংক বানিয়ে শিং-মাগুর চাষ শুরু করি। এখন সপ্তাহে ১০-১২ হাজার টাকা আয় হয়।”

    এই পরিবর্তন শুধু অর্থনীতিতে নয়, সামাজিক কাঠামোতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নারীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার ফলে বাল্যবিবাহের হার কমছে, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ছে এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর কণ্ঠস্বর শক্তিশালী হচ্ছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার এক গবেষণায় দেখা গেছে, মৎস্য চাষের সঙ্গে জড়িত নারীদের ৭২% পরিবারে এখন মেয়েশিশুদের উচ্চশিক্ষার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়, যা আগে ছিল মাত্র ৩৫%।

    ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, নারীদের জন্য সহজ শর্তে মাইক্রোক্রেডিটের ব্যবস্থা করা, জেন্ডার-সেনসিটিভ ট্রেনিং মডিউল তৈরি করা এবং নারী উদ্যোক্তাদের নেটওয়ার্কিং সুবিধা বাড়ানো। এ ছাড়া নারী মৎস্য চাষিদের উৎপাদিত পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে বিশেষ সহায়তা দেওয়া গেলে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে পারবেন।

    ইতিমধ্যে সাফল্যের গল্পগুলো আশার আলো দেখাচ্ছে। নারীরা প্রমাণ করছেন, মাছ চাষ শুধু পুরুষের পেশা নয়—এটি সামাজিক বৈষম্য ভাঙার হাতিয়ারও বটে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নারী-led মৎস্য খামারগুলোর উৎপাদনশীলতা পুরুষদের চেয়ে গড়ে ১৫-২০% বেশি, কারণ নারীরা সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বেশি যত্নবান ও উদ্ভাবনী।

    মৎস্য খাতে নারীর এই জাগরণ কৃষিনির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতিতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, বিশেষ করে লিঙ্গ সমতা ও ক্ষুধামুক্তি অর্জনের পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নারী যখন অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হন, তখন তার প্রভাব পড়ে পুরো সমাজে। ফিশমিলের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন তাই শুধু একটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, এটি সামাজিক বিপ্লবেরও সূচনা।

  • চুয়াডাঙ্গায় বীজ উৎপাদকদের জন্য মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও বাজার মনিটরিং বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    চুয়াডাঙ্গায় বীজ উৎপাদকদের জন্য মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও বাজার মনিটরিং বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসের উদ্যোগে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য বীজ উৎপাদক ও স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে এক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল মানসম্মত বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং বাজার মনিটরিং বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

    প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর বীজ প্রত্যয়ন অফিসের কর্মকর্তাগন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা ডিডি (উপপরিচালক) মহোদয় এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা।

    প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন জেলার বিভিন্ন এসএমই কৃষক, কোম্পানির প্রতিনিধি এবং সাধারণ বীজ বিক্রেতারা। বক্তারা বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার মান বজায় রাখা, আধুনিক সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং বাজারে বীজের গুণগত মান পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন।

    গাজীপুর বীজ প্রত্যয়ন অফিসার জানান, “মানসম্মত বীজ উৎপাদন আমাদের দেশের কৃষিখাতকে সমৃদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সঠিকভাবে বীজ সংরক্ষণ এবং বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।”

    চুয়াডাঙ্গা ডিডি মহোদয় তার বক্তব্যে বীজ উৎপাদন খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি নীতিমালা অনুসরণের ওপর জোর দেন।

    প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। আয়োজনকারীরা জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে, যাতে কৃষি খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।