Category: ব্লগ

  • খেজুরের কাঁচা রস নিয়ে ফেসবুকে প্রচার, নিপাহ ভাইরাস নিয়ে কী বলছেন বিজ্ঞানীরা

    খেজুরের কাঁচা রস নিয়ে ফেসবুকে প্রচার, নিপাহ ভাইরাস নিয়ে কী বলছেন বিজ্ঞানীরা

    আমরা দিচ্ছি পুরো ঢাকা শহরে শতভাগ হোম ডেলিভারি। নেট দিয়ে ঢেকে রেখে রস সংগ্রহ করি, যে কারণে নিপাহ ভাইরাসের কোনো ঝুঁকি আমাদের খেজুরের রসে নেই। ফ্রোজেন করে পাঠানো হবে, যে কারণে স্বাদ থাকবে অক্ষুণ্ন।’

    এমন চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে খেজুরের রস বিক্রি করছে ফেসবুকভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। শুধু এই একটি পেজ নয়, এমন অনেক ফেসবুক পেজ আছে, যেগুলো থেকে খেজুরের কাঁচা রস বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। কেউ কেউ বাগান থেকে রস পান করতে করতে ভিডিও করে তা পেজে দিচ্ছেন।

    ভাইরাস বিশেষজ্ঞ, জনস্বাস্থ্যবিদ ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, এভাবে খেজুরের কাঁচা রসের প্রচারে বিজ্ঞাপন জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। খেজুরের কাঁচা রস খেলে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। তাই নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই বলে যেসব বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, তা পুরোপুরি অবৈজ্ঞানিক, মিথ্যা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করলেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন।

    আইইডিসিআর সম্প্রতি জানিয়েছে, গত বছর নিপাহ ভাইরাসে চার জেলায় (খুলনা, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ ও নওগাঁ) পাঁচজন আক্রান্ত হন। পরে ওই পাঁচজনই মারা গেছেন। এ নিয়ে দেশে ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৪৩ জন আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন, এর মধ্যে ৭১ শতাংশই মারা গেছেন।

    কাঁচা রসের বাধাহীন প্রচার

    শীত মৌসুম শুরুর পর থেকেই ফেসবুকে শুরু হয় খেজুরের কাঁচা রস বিক্রির বিজ্ঞাপন। অন্তত ১২টি ফেসবুক পেজের রস বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখেছেন এই প্রতিবেদক। এসব পেজের বক্তব্য প্রায় অভিন্ন। আর প্রায় প্রতিটি বিজ্ঞাপনেই জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, তাদের রস পান করলে নিপাহ ভাইরাস হবে না।

    ঢাকার মালিবাগের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে হিমায়িত রস সরবরাহ করা হয়। অর্ডার দিলে দুই দিন পর রস পাওয়া যায় রাজধানীর যেকোনো স্থানে।

    খেজুরের রস সরবরাহ করেন ফেসবুকভিত্তিক এমন একটি পেজের এক স্বত্বাধিকারী বলেন, ‘আমরা নেট দিয়ে পুরো বাগান ঢেকে ফেলি। আর আমরা তো খাচ্ছি, বিক্রি করছি। কেউ তো কোনো দিন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলেনি।’

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাস প্রাণী থেকে প্রথমে মানুষে ছড়ায়। এরপর আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে আরেকজন আক্রান্ত হতে পারেন। খাদ্যের মাধ্যমেও এটি ছড়ায়। নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের ধরন কিছুটা করোনাভাইরাসের মতো। তবে এতে মৃত্যুর হার করোনার চেয়ে অনেক বেশি। পেয়ারাসহ বিভিন্ন বাদুড়ে খাওয়া ফল থেকেও এ ভাইরাস ছড়াতে পারে।

    বিজ্ঞানীদের কথা

    নেট, জাল বা টিন, যা দিয়েই সুরক্ষার কথা বলা হোক না কেন, কোনোভাবেই বাদুড়ের হাত থেকে রসের সুরক্ষার উপায় নেই, এমন মন্তব্য গবেষকদের। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) জাতীয় নিপাহ ভাইরাস সার্ভিল্যান্সের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ মঈনউদ্দিন সাত্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাল বা টিন যা-ই হোক না কেন, এসব দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়ে। আমরা গবেষণায় দেখেছি, মূলত বাদুড়ের মূত্রই বেশি মেশে রসের সঙ্গে।’

    প্রকৃতিগতভাবেই বাদুড়ের প্রস্রাব করার প্রবণতা বেশি। এর কারণ প্রসঙ্গে মঈনউদ্দিন সাত্তার বলেন, বাদুড়ের মূত্রথলি অপেক্ষাকৃত অনেক ছোট। বাদুড় তাই রস খেতে খেতেই প্রস্রাব করে।

    জাল বা টিন দিয়ে সুরক্ষায় আরেকটি ক্ষতিকর দিক আছে। আর তা হলো, বাদুড় যদি রস খেতে বাধা পায়, তবে বিরক্ত হয়। আর বিরক্ত হলে বাদুড়ের প্রস্রাব করার প্রবণতা আরও বেড়ে যায় বলে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে

    সরকার যা বলছে

    আইইডিসিআর নিপাহ ভাইরাসের বিপদ থেকে বাঁচতে সতর্কবার্তা দিয়েছে, কিন্তু এর প্রচার তেমন নেই। এখন রসের যে ব্যাপক প্রচার হচ্ছে, তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তাহমিনা শিরীন। তাঁর কথা, এসব প্রচার বন্ধে আইনি ব্যবস্থা দরকার। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তা করতে পারে।

    খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি হয়। এ থেকে নানা পিঠা হয়। খেজুরের গুড়ের একটি বড় বাজার আছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জ্বাল দেওয়া রস বা খেজুড়ের গুড় খেলে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু কাঁচা রস পান অবশ্যই পরিহার করতে হবে।

    কাঁচা রসের প্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সরকার কতটুকু তৎপর, এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই রস যে ক্ষতিকর, এমন বৈজ্ঞানিক তথ্য সরকারের পক্ষ থেকে পেলে এবং আইন তৈরির নির্দেশ পেলে আমরা সচেষ্ট হব; কিন্তু এর নির্দেশ তো আসতে হবে।’

  • বাণিজ্যিকভাবে শামুক চাষ পদ্ধতি

    বাণিজ্যিকভাবে শামুক চাষ পদ্ধতি

    আপনার যদি পরিতক্ত্য পুকুর বা ডোবা থাকে, তবে আর দেরি না করে ঐ জলাশয়ে শামুক চাষে নেমে পড়ুন। যে জলাশয়েকে বাদের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন সেই জলাশয়ে থেকে আসতে পারে বড় অঙ্কের টাকা। কিন্তু কিভাবে ? শামুক চাষ অত্যন্ত সহজ পদ্ধতি। শামুকের প্রজনন ক্ষমতা বেশি হওয়ায় তা বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করা যায়।

    প্রতি ডেসিম্যাল পুকুরে এক কেজি গোবর, এক কেজি খোল (সরষে) ও ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া জলে ভালোভাবে মেশাতে হবে। এ মিশ্রণ সমান চার ভাগে ভাগ করে তিন দিন অন্তর জলে ছিটিয়ে দিতে হবে। পুকুরের জলের রং যখন গাঢ় সবুজ হবে, তখন বুঝতে হবে পুকুরটি শামুক চাষের উপযোগী হয়েছে। এরপর খালবিল বা পুকুর থেকে শামুক সংগ্রহ করে প্রতি ডেসিম্যাল হিসেবে ২৫০ গ্রাম শামুক পুকুরের চারদিকে ছিটিয়ে দিতে হবে। পরবর্তী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে শামুক ব্যাপকভাবে বংশবিস্তার করবে। এরপর ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ শামুক পাওয়া যাবে। চাষ পদ্ধতি শুরুর ৪০-৪৫ দিন পর শামুক সংগ্ৰহ করতে হবে। এজন্য বাঁশ বা কাঠের বড় লাঠি পুকুরে দিয়ে রাখতে হবে শামুক গুলো ঐ বাশের সাথে আটকে থাকবে । এবার বাঁশ গুলোকে তুলে এনে শামুক গুলো ছাড়াতে হবে।

    এই শামুককে মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহারের জন্য শামুক গুলো ভেঙ্গে রোদে শুকিয়ে পরবর্তীতে মেশিনের সাহায্যে গুঁড়ো করতে হবে। এবার অন্যান্য খাবারের উপাদানের সঙ্গে মেশানোর পর পিলেট মেশিন দিয়ে মাছের খাবার তৈরি করতে হবে। আগেই আলোচিত হয়েছে যে, এই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে একদিকে যেমন মাছের উৎপাদন খরচ কমবে, তেমনি মাছের প্রাকৃতিক স্বাদ অক্ষুন্ন থাকবে ও স্বাস্থ্যকর মাছ পাওয়া যাবে। বাজার সৃষ্টি করতে পারলে বাণিজ্যিকভাবে শামুক চাষ করে প্রচুর টাকা আয় করা সম্ভব। শামুক চাষে কম পুঁজি লাগে বলে সহজেই করা সম্ভব। পুকুর থেকে হেক্টরপ্রতি বছরে চারটি ধাপে চার থেকে ছয় মেট্রিক টন শামুক উৎপাদন করা সম্ভব।

  • বিজয়নগরের বিষ্ণুপুর গ্রামে ‘লালি’ উৎপাদন: ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

    বিজয়নগরের বিষ্ণুপুর গ্রামে ‘লালি’ উৎপাদন: ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

    আসিয়া আফরিন চৌধুরী   ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের লালি উৎপাদন একটি পুরনো ঐতিহ্য। প্রতি শীত মৌসুমে আখের রস থেকে তৈরি হয় এই সুস্বাদু তরল গুড়, যা স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ‘লালি’ নামের এই গুড়টি শুধুমাত্র খাবারের জন্য নয়, একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবেও পরিচিত। এখানকার আখ চাষি ও শ্রমিকরা এক সাথে কাজ করে এটি উৎপাদন করে, যা শুধু গ্রাম নয়, জেলার বাইরেও চাহিদা রয়েছে।

    প্রতিবছর শীত মৌসুমে (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) বিষ্ণুপুর ও আশপাশের গ্রামে আখ চাষের কার্যক্রম শুরু হয়। মহিষের ঘানি দিয়ে আখের রস সংগ্রহ করা হয় এবং তা চুল্লিতে দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বাল করে তরল গুড় বা লালি তৈরি করা হয়। লালির স্বাদ ও গুণমান এতটাই ভালো, যে, বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এখানে আসেন শুধুমাত্র এই তরল গুড় কিনতে।

    আখের রস সংগ্রহের পর, এটি ৩-৩.৫ ঘণ্টা ধরে মাটির চুল্লিতে জ্বাল করা হয়, যাতে এর পানি ঝরতে থাকে এবং ঘন হয়ে আসে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো রঙ বা কৃত্রিম উপাদান মেশানো হয় না, ফলে এটি একেবারে প্রাকৃতিক গুড়। এক কেজি লালি তৈরি করতে ৪০০ কেজি আখ প্রয়োজন। স্থানীয় বাজারে ১ কেজি লালির মূল্য ১৫০ টাকা, এবং এক বছরেও প্রায় ৮০ থেকে ১০০ টন লালি উৎপাদিত হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা।

    উপজেলায় লালি উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে ৮০-৯০ জন ব্যবসায়ী ও ১৫০ জন কৃষক জড়িত। তাঁদের মধ্যে একজন, মো. শাহনেওয়াজ বলেন, “এ বছর আমরা ৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি, এবং আশা করছি ৩ লাখ টাকা লাভ হবে।” স্থানীয় কৃষকরা জানাচ্ছেন, তাঁদের ব্যবসা শুধু লাভজনক নয়, এটি তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

    বিষ্ণুপুর গ্রামের লালি অনেক জনপ্রিয়, এবং তা শুধু এলাকার মধ্যে নয়, বাইরের লোকজনও এ অঞ্চলে এসে লালি কিনতে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, “লালি দিয়ে রুটিসহ পিঠা খেতে অনেক স্বাদ পাওয়া যায়।” এই ঐতিহ্যবাহী তরল গুড়ের প্রতি সারা দেশের মানুষের আগ্রহ দিন দিন বেড়ে চলেছে, এবং এর উৎপাদন প্রক্রিয়াও একটি দর্শনীয় উপকরণ হয়ে উঠেছে।

    বিজয়নগর উপজেলায় প্রতিবছর প্রায় ৮০০-১,০০০ মেট্রিক টন আখ উৎপাদন করা হয়, যা ১৬-২০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়। কৃষি কর্মকর্তা আবদুল ওদুদ জানান, প্রতি হেক্টর জমিতে ৫০ টন আখ উৎপাদিত হয়। আখ চাষ ও লালি উৎপাদন শুধু কৃষকদের জন্য নয়, এটি একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে।

    বিজয়নগরের বিষ্ণুপুর গ্রামের লালি উৎপাদন শুধু একটি খাদ্য প্রক্রিয়া নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং এলাকার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য কৃষক, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় প্রশাসন একযোগে কাজ করছেন, যাতে এই সুস্বাদু তরল গুড় আরও বড় পরিসরে বিক্রি করা যায় এবং আরও লোকের কাছে পৌঁছানো যায়।

    এটি শুধু বিজয়নগর নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।

  • লেটুস পাতার বিভিন্ন রোগ এবং এর প্রতিকারের বিষয়ে জানা জরুরি।

    লেটুস পাতার বিভিন্ন রোগ এবং এর প্রতিকারের বিষয়ে জানা জরুরি।

    লেটুস পাতার বিভিন্ন রোগ এবং এর প্রতিকারের বিষয়ে জানা জরুরি। এখানে কিছু সাধারণ রোগ এবং তাদের চিকিৎসার উপায় দেওয়া হলো:

    1.ডাউনি মিলডিউ (Downy Mildew) – এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ যা লেটুসের পাতায় হলুদাভাব বা বাদামি দাগ তৈরি করে। প্রতিকারের জন্য ছত্রাকনাশক স্প্রে করা যেতে পারে এবং লেটুস চাষের স্থানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা উচিত।

    2.ব্যাকটেরিয়াল লিফ স্পট (Bacterial Leaf Spot) – এই রোগে পাতায় ক্ষুদ্র জলপাই রঙের দাগ দেখা যায়। প্রভাবিত পাতা অপসারণ এবং সংক্রমিত স্থানে ব্যাকটেরিয়ারোধী স্প্রে ব্যবহার করা হয়।

    3.ফিউজারিয়াম উইল্ট (Fusarium Wilt) – এই রোগ লেটুসের পাতা এবং ডালপালাকে শুকিয়ে ফেলে। এর জন্য রোগমুক্ত বীজ এবং মাটির সঠিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

    4.এফিডস (Aphids) – এটি এক ধরণের পোকা যা লেটুসের রস চুষে নেয়। পোকামাকড় দমনে নিম অয়েল বা অন্যান্য প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।

    এছাড়াও, লেটুস চাষে সঠিক পরিচর্যা এবং পুষ্টিমান সমৃদ্ধ মাটি ব্যবহার করা উচিত যাতে পাতাগুলো স্বাস্থ্যজনক থাকে এবং রোগপ্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়ে।

    লেটুস পাতার চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই?

    লেটুস পাতার চাষ একটি জনপ্রিয় কৃষি প্রক্রিয়া, যা সঠিক পদ্ধতি ও পরিচর্যার মাধ্যমে ভালো ফলন দিতে পারে। নিচে লেটুস পাতার চাষের কিছু পদ্ধতি তুলে ধরা হলো:

    1. বীজ বপন:

    •লেটুসের বীজ বোনার জন্য শীত মৌসুম আদর্শ।

    •বীজ সরাসরি মাটিতে বা ট্রেতে বপন করা যেতে পারে।

    •বীজ বপনের আগে বীজগুলোকে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে যাতে তারা সহজে অঙ্কুরিত হতে পারে।

    2. মাটি ও জলবায়ু:

    •লেটুস চাষের জন্য ভালো জলনিকাশী যুক্ত উর্বর মাটি প্রয়োজন। মাটির pH মান 6.0 থেকে 6.8 এর মধ্যে হওয়া উচিত।

    •লেটুস ঠান্ডা জলবায়ু পছন্দ করে, তাপমাত্রা 16°C থেকে 22°C এর মধ্যে ভালো বেড়ে ওঠে।

    3. পরিচর্যা:

    •নিয়মিত পানি দেওয়া আবশ্যক যাতে মাটি সবসময় আর্দ্র থাকে। অতিরিক্ত জল দেওয়া উচিত নয় যা মূল পচন ঘটাতে পারে।

    •অপ্রয়োজনীয় ঘাস ও আগাছা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

    •সার হিসেবে কম্পোস্ট বা নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার দিতে পারেন।

    4. রোগ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ:

    •রোগ প্রতিরোধ করার জন্য সঠিক জলবায়ু এবং মাটির পরিচর্যা জরুরি।

    •পোকামাকড় যেমন এফিডস ও স্লাগের জন্য বায়োলজিকাল কীটনাশক বা নিম তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

    5. ফসল তোলা:

    •বীজ বপনের 30 থেকে 60 দিনের মধ্যে লেটুস সংগ্রহ করা যেতে পারে।

    •পাতা যখন মোটা এবং সজীব দেখায়, তখনই তোলা উচিত।

    লেটুস চাষ করতে গেলে উপরোক্ত নির্দেশাবলী মেনে চলা উচিত, এতে করে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হবে।

    facebook page

  • কাজুবাদাম কোথায় কখন ও কিভাবে চাষ করবেন?

    কাজুবাদাম কোথায় কখন ও কিভাবে চাষ করবেন?

    কাজুবাদাম কোথায় কখন ও কিভাবে চাষ করবেন?

    কাজুবাদাম চাষের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও জলবায়ু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাজুবাদাম চাষ করা ও গাছের যত্ন নেওয়ার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ রয়েছে, যা গাছের সুস্থ বৃদ্ধি ও উচ্চ ফলন নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। আমরা নিম্নে কিছু কিছু প্রধান বিষয়ে আলোচনার করার চেষ্টা করবো।

    উপযুক্ত পরিবেশ:

    কাজুবাদাম চাষের জন্য উষ্ণ এবং আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন, যেখানে বছরের মধ্যে অন্তত ৫-৬ মাস বৃষ্টিপাত হয়। তাপমাত্রা যদি ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে তাহলে আদর্শ। গভীর এবং ভালো জলনিষ্কাশন সম্পন্ন বেলে মাটি কাজুবাদাম চাষের জন্য আদর্শ। pH মান ৫.০ থেকে ৬.৫ এর মধ্যে হওয়া উচিত।

    চাষের সময়:

    কাজুবাদামের চারা রোপণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো বর্ষাকালের শুরু বা শেষে। বাংলাদেশে,  এটি জুলাই থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে করা হয়। কাজুবাদাম গাছ প্রথম ফল দিতে শুরু করে রোপণের ৩-৫ বছর পরে। ফল পাকার পরে, সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফসল সংগ্রহ  করা হয়।

    যত্ন ও পরিচর্যা:

    গাছ সজীব রাখার জন্য নিয়মিত পানি দেওয়া আবশ্যক, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে। উর্বরতা বাড়াতে  নিয়মিত জৈব সার প্রয়োগ করা ভালো। পোটাশিয়াম ও ফসফরাস সার গাছের বৃদ্ধি ও ফলন বাড়াতে  সাহায্য করে।

    পোকামাকড় ও রোগ নিয়ন্ত্রণ:

    কাজুবাদাম গাছে ফাঙ্গাল ইনফেকশন এবং বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। নিয়মিত মনিটরিং এবং প্রয়োজনে ফাঙ্গিসাইড প্রয়োগ করা উচিত। পাতা খেকো পোকা, মাকড় ইত্যাদি দ্বারা গাছ  আক্রান্ত হতে পারে। এদের নিয়ন্ত্রণের জন্য বিষাক্ত নয়, বরং জৈবিক কীটনাশকের ব্যবহার করা উত্তম। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে কাজুবাদাম চাষ সফল হতে পারে। বাংলাদেশে বর্তমানে কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনা বাড়ছে, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের উষ্ণ এবং শুষ্ক জলবায়ুতে। কাজুবাদাম গাছে বিভিন্ন ধরনের রোগ ও পোকামাকড় আক্রমণ করতে পারে। ফাঙ্গাল ইনফেকশন, পাতা খেকো পোকা, মাইটস ইত্যাদি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত স্প্রে করা উচিত। জৈবিক কীটনাশক এবং ফাঙ্গিসাইড ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।

    পানি প্রদান:

    কাজুবাদাম গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত পানি দেওয়া প্রয়োজন। বৃষ্টি না হলে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৫-২৫ লিটার পানি প্রতি গাছে দিতে হবে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানির প্রয়োজন হয় না, কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে পানির পরিমাণ বাড়াতে হবে।

    সার প্রয়োগ:

    গাছের পুষ্টি নিশ্চিত করতে জৈব সার যেমন গোবর বা কম্পোস্ট এবং রাসায়নিক সার যেমন এনপিকে (নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম) ব্যবহার করা ভালো। বছরে অন্তত দুই বার সার প্রয়োগ করা উচিত।

    ছাঁটাই:

    গাছের নিয়মিত ছাঁটাই করে আলো ও বাতাসের প্রবাহ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। মৃত ও রোগাক্রান্ত ডালপালা অপসারণ করতে হবে। ছাঁটাই শীতকালে করা ভালো, যখন গাছ প্রায় নিষ্ক্রিয় থাকে।

    মালচিং:

    মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং আগাছা নিয়ন্ত্রণে গাছের গোড়ায় মুলচিং করা উচিত। এর জন্য খড়, পাতা বা অন্যান্য জৈব উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে।

    পানি নিষ্কাশন:

    অতিরিক্ত পানি জমে যাওয়া এড়াতে ভালো জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। জলজট কাজুবাদাম গাছের মূলের পচন ঘটাতে পারে।

    এই পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করে, আপনি আপনার কাজুবাদাম গাছের সুস্থ বৃদ্ধি ও উচ্চ ফলন নিশ্চিত করতে পারবেন।

    facebook page

  • কৃষকের নিকট থেকে পিসে কেনা তরমুজ কেন ওজনে কিনবো?

    কৃষকের নিকট থেকে পিসে কেনা তরমুজ কেন ওজনে কিনবো?

    বয়কট!!!!                   বয়কট!!!                                 বয়কট!!!  তরমুজ কেন ওজনে কিনবো????

    বয়কট শব্দটি নিয়ে কিছুদিন ধরেই বাক বিতন্ডাসহ সকলের মাঝেই চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। বয়কট করলে কি শুধু কৃষকেরই ক্ষতি, নাকি অন্যান্য কিছু অসহায় দুর্বল পেশার লোকজনও জড়িত। মানতেই হবে আমরা হুজুগে বাঙ্গালি। কোন কিছুর হুজুগ উঠলেই আমরা না বুঝে শুনেই সবার কাছেই ভাইরাল নামক শব্দকে প্রাধান্য দিয়ে প্রচার শুরু করি।

    আমরা কৃষি নিয়ে কাজ করি তাই কৃষি পণ্য নিয়ে বয়কটের কিছু বাস্তবতা নিয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করছি। গত সিজনের ড্রাগন ফল থেকে শুরু করে বর্তমান তরমুজ পর্যন্ত যে বয়কট আমরা করেছি, তাতে আসলে কে লাভবান হয়েছে, একটু খতিয়ে দেখতে হবে। ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে সমাজে ইউটিউবারদের বড় একটি প্রভাব সমাজে দেখা দিয়েছে।

    যাদের আমরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে জানি। এই কনটেন্টের যাত্রা ভালোভাবে শুরু প্রায় ২০ বছর পূর্বে। যখন সোহাগ ৩৬০ ডিগ্রি চ্যানেল বিভিন্ন কম্পিউটার কোর্স ও মোবাইলের ফাংশন নিয়ে ভিডিও প্রচার করেন। সেই সময় থেকে আস্তে আস্তে আবাল, বৃদ্ধ বনিতা সকলেই ইউটিউবার হয়ে ডলার ইনকামের দিতে ঝুকতে শুরু করেছে। কিন্তু আসলে কতজন সফল হয়েছে, আর কতজন সমাজের কি পরিমাণ ক্ষতি করেছে তা, বাংলার জনগণ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

    কিছু কিছু শিক্ষনীয় চ্যানেল এখনও স্বমহিমায় উজ্জল দৃষ্টান্ত রেখে যাচ্ছেন আমাদের কাছে, আমরা তাদের ঋণ কখনও শোধ করতে পারবোনা। আবার কিছু কিছু অশিক্ষিত মূর্খ মানব যে বিষয়ে কোন জ্ঞান নেই, পেটে বোমা মারলে দু-চার কলম লিখতে পারবে না, তাঁরা কৃষকের উৎপাদন ব্যবস্থা, কৃষি পণ্যের বাজারজাত ব্যবস্থা, কৃষিতে অর্থনৈতিক প্রভাব, মুদ্রাস্ফিতি, কৃষকের কলা ফুলে বড়লোক হওয়া (বানোয়াট ও মিথ্যা গল্প) নিয়ে ভিডিও করে রাতারাতি ভাইরাল হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত।

    তাঁরা জানেনা ড্রাগন ফলে হরমোন ব্যবহার করা বৈধ কিনা, এতে কৃষি অফিস অনুমোদন দিয়েছে কিনা, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক স্বাস্থ্য ঝুকি সংক্রান্ত কোন প্রতিবাদ লিপি আছে কিনা, কৃষক এটা না বুঝে শুনে করছে কিনা। না জেনে না বুঝে ভিডিও করা হলো ড্রাগন ফলে হরমোন ব্যবহার করে এটা বড় করা হয়েছে, এটা খাওয়া যাবেনা, ব্যাস রাতারাতি ইউটিউবে, ফেসবুক ও টিকটকে ভাইরাল, বাংলার সুবোধ ও সহজ সরল জনগণ তাতে সায় দিয়ে ড্রাগন কেনা বন্ধ করে দিলো। ফলাফল দুস্থ, অসহায় কৃষকের লক্ষ, লক্ষ, কোটি টাকা লস। ব্যাংকের দেনা, এনজিও কিস্তি, সারের দোকানের হালখাতা ইত্যাদির চাপে কৃষক প্রায় দিশেহারা।

    আমরা এখন এমন ইউটিউবার ও ফেকবুকার দেখতে পাই দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে, পাশের মানুষগুলো তাঁকে সেবা শুশ্রষা করা বাদ দিয়ে ভিডিও করতে শুরু করেন। অথচ এমন হতে পারতো উনাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে হয়ত উনি বেঁচে যেতে পারতেন। দেখে মনে হয় উনারা নোবেল জয়ী বিশ্বসেরা সাংবাদিক, এখনই মানুষ কিভাবে মারা যাচ্ছে সেই ভিডিও না দিলে উনার বিশ্বনন্দিত পদ হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সামনের দু-চারজন মানুষ মারা গেলেও উনাকে ভিডিও করতেই হবে।

    এবার আসি তরমুজের ঘটনা নিয়ে। কৃষক কত কস্ট করে তরমুজের জমি চাষ করা থেকে শুরু করে তরমুজ কাটা পর্যন্ত কি পরিমাণ শ্রম আর পয়সা খরচ করেছেন, তা একমাত্র কৃষকই জানে। হুট করে একদল হলুদ সাংবাদিক প্রচার শুরু করলেন আমরা কেজিতে তরমুজ কিনবো না, আমাদের কাছে পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি করতে হবে। ব্যাস কম্ম সারা, তরমুজ বিক্রিতে ধস। বিক্রি কমে যাওয়াও বেপারি আর ক্ষেতে যায় না তরমুজ কিনতে, তরমুজ পেঁকে ফেটে নস্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকের রক্তের প্রবাহ বেড়ে সে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, তাঁর গত কয়েক মাসের পরিশ্রম জলে ভাসিয়ে দিয়ে মার্ক জুকারবাগের বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকাভূক্ত হতে সহায়তা করছে।

    একটি কৃষি পণ্য কৃষকের ক্ষেত থেকে ভোক্তা পর্যন্ত আসতে কতটি হাত বদল হয় ও কত খরচ হয়? এ সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছি। কৃষক যে হাটে বিক্রি করে সেখান থেকে বেপারী কেনে। লেবার দিয়ে বেপারী তার গোডাউনে নিয়ে আসে, কোন সময় ক্ষেত থেকে ট্রাকে লোড হয়, আবার জমিতে ট্রাক না পৌছালে গোডাউন থেকে ট্রাকে লোড হয়। ট্রাক বরিশাল বিভাগ থেকে কারওয়ান বাজার সহ দেশের অন্যান্য জায়গায় পৌছাতে কতগুলো ব্রীজের টোল, আর রাস্তা খরচ দিতে হয় তা আমরা সবাই জানি।

    এরপর ট্রাক পৌছালে সেখান থেকে আড়তের গোডাউনে আনলোডিং, সেখান থেকে পাইকারি বিক্রেতা এরপর খুচরা বিক্রেতা, সবশেষে ভোক্তা। মাঝে আড়তের অ্যাডভান্স ও ভাড়া, পাইকারি বিক্রেতার গোডাউন ও মাসিক ভাড়া, খুচরা দোকানদারের এডভান্স ও দোকান ভাড়া, ভ্যানওয়ালার ভ্যান বানানো খরচ ও যেখানে বিক্রি করবে সেই জায়গার মাস্তানি ট্যাক্স। সব মিলিয়ে তরমুজ, শসা, ও ড্রাগন পেয়ারা বেচারারা কতবার যে নিজেদের ভ্যালু এ্যাড করেছে, তা তাঁরা নিজেরাও জানেনা।

    এখন আমরা যারা ভোক্তা তাঁরা প্রশ্ন করি ১০ টাকার শসা কেন আমরা ৪০ টাকায় কিনবো, কৃষকের নিকট থেকে পিসে কেনা তরমুজ কেন ওজনে কিনবো? কিন্তু এই প্রশ্নগুলো আসলে কার কাছে করছি? এই দাম বৃদ্ধির দায়ভার কার? কে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে? প্রশ্ন সবার, জবাব কারোও কাছে নেই। আমরা জানি অফিস আদালতে বা বাড়িতে ব্যবহৃত কাঁচ ওজনে বিক্রি হয় পাইককিরি ভাবে আর

    আমরা কিনে আনি স্কয়ার ফিট হিসেবে, কিন্তু এটা নিয়ে কোন দিনও কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখিনি, আবার কেউ বয়কটের ডাক দিয়েছে এমন প্রমাণও নেই। তাহলে শুধুমাত্র কৃষকের উপর কেন এত ক্ষোভ ও রাগ যে কিছু হলেই কৃষি পণ্য বয়কট করতে হবে।

    কৃষক যদি সংগঠিত হয়ে কৃষি পণ্য উৎপাদন বয়কট করে তখন কি হবে? অতিরিক্ত টাকা কি শহরে যে ভ্যানওয়ালা বা দোকানদার খুচরা বিক্রি করছে সে একাই নিচ্ছে, নাকি এই টাকা ট্রাকের ড্রাইভার, ভ্যানচালক, লোড ও আনলোডের লেবার, প্যাকিং লেবার, টোল গ্রহিতা আরোও কতজনের পকেটে গিয়ে তাঁদের সংসার চলে?

    আমি ভোক্তা যদি ১০ টাকায় শসা ও পিস হিসেবে তরমুজ খেতে চাই, তাহলে সরাসরি টাকা খরচ করে কৃষকের নিকট গিয়ে কিনে নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু সে সময় তো আমাদের কাছে নেই, তাহলে কেন আমরা বারে বারেই কৃষকের ক্ষতি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছি, তথাকথিত ইউটিউবার ও ফেসবুকিংদের কথায়। আমাদের নাচা বন্ধ করতে হবে, যতদিন না আমরা বুঝবো যে, আমার নাচানাচির কারণে কতটি সংসার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, ততদিন এ সমস্যার সুরাহা হবেনা।

    আমি কাউকে কটাক্ষ বা ছোট করার জন্য কথাগুলো বলিনি, বাস্তবতা তুলে ধরেছি মাত্র। অযথা কেউ কস্ট পাবেন না, কস্ট পেলে জোড় হাতে ক্ষমা চাইছি।

    ধন্যবাদ, প্রকাশক ও সম্পাদক, দৈনিক কৃষক কণ্ঠ।

  • জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

    লতিরাজ কচু আমাদের দেশে অনেকগুলো জনপ্রিয় সবজির মধ্যে একটি। এই লতি কচু বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে, যা থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ খুলেছে। অনেকে মূলত পানি কচুকেই কচুর লতি বলেন। অনেক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ এই লতিরাজ কচু। মুখীকচু বেশ জনপ্রিয় একটি কচু আর এর পরই কচুর লতির স্থান।

    বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি লতির মূল্য ৭০-৮০ কেজি। খুব সহজেই লতিরাজ কচু চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি কি তা জেনে নেয়া যাক।

    সাধারণত উষ্ণ জলবায়ুতে কচুর লতি ভালো জন্মে। কচুর লতি প্রায় সব ধরনের মাটিতে চাষ করা যায় তবে পলি দোআঁশ ও এটেল মাটি পানি কচু চাষের জন্য উপযুক্ত। কচুর লতি জন্য মাঝারি নিচু শ্রেণির জমি প্রয়োজন যেখানে বৃষ্টির পানি জমে বা জমির পানি ধারণ ক্ষমতা আছে এমন। অল্প আলো বা ছায়াযুক্ত জমিতে লতি কচু ভালো জন্মাতে পারে। প্রখর রোদেও  ভালো ফলন দেখা যায়।

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ লতিরাজ কচু ০৩

    আমদের দেশে বেশ কিছু কচুর লতির জাত রয়েছে। দেশী জাতের গাছ ছোট, পাতা ছোট ও চিকন সরু ও লম্বা হয়। আর উন্নত জাতের লতি লম্বা ও মোটা এবং গিটযুক্ত হয়। আবার খাটো ও মোটা, শাসাল ও মাংসল যা দ্রুত গলে যায় এমন জাতেরও রয়েছে।

    এ দেশে উদ্ভাবিত পানি কচুর দুটি উন্নত জাত যেমন বারি পানি কচু ১ ও বারি পানি কচু-২। আমাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত দুটি জাত লতি উৎপাদনের জন্য ভালো জাত হিসেবে পরিচিত। উন্নত জাতের ভালো চারা বাছাই করতে হবে এবং চারাগুলি বোনার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। চারা বপন করতে সমান দূরত্ব রাখতে হবে এবং প্রতি লাইনে চারা গুলি সঠিকভাবে লাগাতে হবে।

    সেপ্টেম্বর মাসে জমির লতি হারভেস্ট করার আগেই লতির আগায় জন্মানো চারা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। তারপরে কচুর লতি চাষ করার জন্য সংরক্ষিত চারাগুলোকে আলাদা কোনো জায়গায় পুঁতে রাখতে হবে। জমিতে এসকল চারা পুনরায় শীতের আগেই লাগিয়ে ফেলতে হবে। লাগানো লতির চারা থেকে ফেব্রুয়ারি – মার্চ মাসে লতি আসা শুরু হয়।

    কচুর লতি চাষের জন্য জমিতে ৩ থেকে ৪টি চাষ দিয়ে মাটি সমান করে জমি তৈরি করে নিতে হবে। কচুর লতির চারা জমিতে সারি সারি করে লাগাতে হবে। সারিবদ্ধভাবে চারা লাগালে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩৮, ০০০ চারা প্রয়োজন হবে। গুড়িচারা কচুর লতির চারা হিসেবে লাগানো হয়।

    জমি থেকে ভালো ও বেশি ফলন পেতে হলে জমিতে অবশ্যই সুষম সার দিতে হবে। প্রতি বিঘাতে কচুর লতি চাষের জন্য ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২৫ কেজি এমওপি, ১৮ কেজি টিএসপি ও ৫০০ কেজি গোবর সার দিতে হবে। লতি চাষে সব সার একত্রে দেয়া উচিত নয়। প্রথম পর্যায়ে ইউরিয়া ব্যতিত অন্যান্য সব সার জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে।

    চারা লাগানোর প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন পরেই জমিতে ইউরিয়া ব্যবহার করা যায়। অবশ্যই জমিতে সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা থাকতে হবে। চারা লাগানোর সময় জমিতে পানি না থাকলে অতিরিক্ত সেচের মাধ্যমে জমি কাদা করতে হবে। লতির জমি শুকিয়ে গেলে কচু গাছের ক্ষতি হয়। তাই বৃষ্টির অপেক্ষা না করে জমিতে প্রবাহমান পানি নিশ্চিত করতে হবে।

    লতি কচুর গোড়ায় সব সময় পানি থাকা প্রয়োজন। আর দাঁড়ানো পানি মাঝে মাঝে নাড়াচাড়া ব্যবস্থা করতে হবে। সবসময় পানি থাকলে জমিতে আগাছার উপদ্রব কম হয়। জমিতে আগাছা থাকলে শামুক আশ্রয় নেয় ও কচুর লতি গাছে উঠে পাতা খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। জমির এসব আগাছা হাতে টেনে সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে।

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ লতিরাজ কচু ০১

    ক্ষুদ্র লাল মাকড় বা রেড স্পাইডার মাইট আগাম কচুর লতি চাষে ক্ষতি করে। কচুর লতির ক্ষেতে মাকড়ের আক্রমণ থাকলে পাতার সবুজ রং নষ্ট হয়ে বিন্দু বিন্দু শুকনো দাগ দেখা যায়। মাকড় পোকা দূরীকরণে মাকড়নাশক ব্যবহার করতে হবে। আবার এমনভাবে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে যাতে পাতার উল্টো পাশও ভিজে যায়।

    লেদা পোকার আক্রমণও কচুর লতির ক্ষেতে দেখা যায়। ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি স্প্রে করে লেদা পোকা দমন করা যায়।

    চারা রোপণের প্রায় ২ মাস পর থেকে ৭ মাস পর্যন্ত লতি হয়ে থাকে। যে কোন বয়সেই গাছ থেকে কচুর লতি তুলে খাওয়া যায়। তবে জরুরী বিষয় হচ্ছে, ছোট সাইজের লতি গাছ থেকে তুললে লতির ফলন কমে যেতে পারে। গাছের সবচাইতে বড় আর মোটা লতিগুলো প্রথমে তুলতে হবে।

  • সালফার কি মাকড়কে ফসলের কাছ থেকে দূরে রাখে?

    সালফার কি মাকড়কে ফসলের কাছ থেকে দূরে রাখে?

    সালফার কি মাকড়কে ফসলের কাছ থেকে দূরে রাখে?

    সালফার হল একটি উপাদান, যে কয়েকটি উপাদানের মধ্যে একটি বিশুদ্ধ আকারে প্রকৃতিতে অন্য উপাদানের সাথে মিলিত না হয়েই পাওয়া যায়। এটি একটি প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন কীটনাশক যা কয়েকশত বিভিন্ন কীটনাশক পণ্যের উপাদান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অবশ্য, এটিকে সরাসরিও ব্যবহার করা যেতে পারে।

    যদিও সালফারের গন্ধ অপ্রীতিকর, সাধারণত পচা ডিমের সাথে যুক্ত, সালফার শুধুমাত্র আপনার গাছপালা থেকে মাকড়কে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি এটি একটি ছত্রাকনাশক হিসাবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। ফলিয়ার স্প্রে হিসাবে সালফার ব্যবহার করার পাশাপাশি, এটি বাষ্পীভূত বা পোড়ানোও যেতে পারে। এটি পোকামাকড় বা ছত্রাক নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত সবচেয়ে সাধারণ  উপায়।

    আপনি বিভিন্ন ধরণের শোভাকর, শাকসবজি, ফল, গুল্ম, ফুল, গোলাপ ইত্যাদি সহ প্রায় যে কোনও  ধরণের উদ্ভিদে সালফার ব্যবহার করতে পারেন।

     

    facebook page

  • স্ট্রবেরি গোড়া পচা রোগ: কারণ, প্রতিরোধ এবং সঠিক পরিচর্যা

    স্ট্রবেরি গোড়া পচা রোগ: কারণ, প্রতিরোধ এবং সঠিক পরিচর্যা

    স্ট্রবেরি গোড়া পচা রোগ হলো একটি প্রচলিত ফুলফলের রোগ, যা পুষ্টি অভাব, পোকা বা কীট আক্রমণ, বা অশুদ্ধ পানি পরিবেশের কারণে স্ট্রবেরি গাছের লিজার্ড অংশের উপর আক্রমণ করে। এই রোগের ফলে স্ট্রবেরি গাছের গোড়া পচা হয়ে যায়, যা ফলে স্ট্রবেরি ফলের মান ও রঙে ক্ষতি হয়ে থাকে।

    এই রোগের কারণে অনেক সময় স্ট্রবেরি ফলের উপর ছালা পড়ে যা সাদা বা হলুদ রং হয়ে যায় এবং তা ফ্যাকেরিয়া পোকা বা অন্যান্য ফাংগাস জনিত রোগের চেহারা দেখাতে পারে। আরও অন্যান্য উপাদানের প্রভাবে স্ট্রবেরি ফলের গোড়া পচা হতে পারে।

    এই রোগের প্রধান লক্ষণগুলি হলো:

    ১. স্ট্রবেরি ফলের গোড়া মেলা অথবা ধুসর রঙের হয়ে যাওয়া। ২. গোড়ার উপর ছালা পড়ে থাকা যা সাদা বা হলুদ রঙের হয়ে যায়। ৩. ফলের আকার অস্বাভাবিক হয়ে যাওয়া। ৪. ফলের গন্ধ অথবা স্বাদ পরিবর্তন হওয়া।

    স্ট্রবেরি গোড়া পচা রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিষ্ঠান বিষয়ে কিছু পরামর্শ নিম্নে দেওয়া হলো:

    ১. সুস্থ ফলজাত বেছে নেওয়া। ২. গাছের দেখার মধ্যে পরিষ্কারতা বজায় রাখা। ৩. নিয়মিত ফসল বিস্তার নিশ্চিত করা। ৪. ফলে অভাবগ্রস্থ ফলগুলি বেছে নেওয়া। ৫. স্ট্রবেরি গাছে পরিমিত রোগনিরোধক প্রস্তুতি করা যেমন ফুংসিডাইড বা পরিস্কারক।

    স্ট্রবেরি গোড়া পচা রোগের প্রতিরোধ এবং প্রতিষ্ঠান উপায়ে মূলত এই সময় যে অনুসন্ধান চলছে তা অধিক করে প্রযুক্তির মাধ্যমে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে এই রোগের প্রতিরোধ করা হয়।

    Facebook Page