ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা  নদী দখল ও দূষণে হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি  আতা ফলের ফল ছিদ্রকারি পোকা: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদার গাছ ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষয়ক্ষতি ও টেকসই সমাধান বাংলাদেশে আতা ফলের আগা মরা রোগ: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আনারসের হার্ট রট রোগ – কারণ, লক্ষণ ও টেকসই সমাধান আমলকির কান্ড ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত সমাধান আমলকির গল মাছি – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আমলকির স্কেল পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

  • কৃষককন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • ৩৭১ বার পড়া হয়েছে

জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ লতিরাজ কচু ০১

জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

লতিরাজ কচু আমাদের দেশে অনেকগুলো জনপ্রিয় সবজির মধ্যে একটি। এই লতি কচু বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে, যা থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ খুলেছে। অনেকে মূলত পানি কচুকেই কচুর লতি বলেন। অনেক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ এই লতিরাজ কচু। মুখীকচু বেশ জনপ্রিয় একটি কচু আর এর পরই কচুর লতির স্থান।

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি লতির মূল্য ৭০-৮০ কেজি। খুব সহজেই লতিরাজ কচু চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি কি তা জেনে নেয়া যাক।

সাধারণত উষ্ণ জলবায়ুতে কচুর লতি ভালো জন্মে। কচুর লতি প্রায় সব ধরনের মাটিতে চাষ করা যায় তবে পলি দোআঁশ ও এটেল মাটি পানি কচু চাষের জন্য উপযুক্ত। কচুর লতি জন্য মাঝারি নিচু শ্রেণির জমি প্রয়োজন যেখানে বৃষ্টির পানি জমে বা জমির পানি ধারণ ক্ষমতা আছে এমন। অল্প আলো বা ছায়াযুক্ত জমিতে লতি কচু ভালো জন্মাতে পারে। প্রখর রোদেও  ভালো ফলন দেখা যায়।

জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ লতিরাজ কচু ০৩

আমদের দেশে বেশ কিছু কচুর লতির জাত রয়েছে। দেশী জাতের গাছ ছোট, পাতা ছোট ও চিকন সরু ও লম্বা হয়। আর উন্নত জাতের লতি লম্বা ও মোটা এবং গিটযুক্ত হয়। আবার খাটো ও মোটা, শাসাল ও মাংসল যা দ্রুত গলে যায় এমন জাতেরও রয়েছে।

এ দেশে উদ্ভাবিত পানি কচুর দুটি উন্নত জাত যেমন বারি পানি কচু ১ ও বারি পানি কচু-২। আমাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত দুটি জাত লতি উৎপাদনের জন্য ভালো জাত হিসেবে পরিচিত। উন্নত জাতের ভালো চারা বাছাই করতে হবে এবং চারাগুলি বোনার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। চারা বপন করতে সমান দূরত্ব রাখতে হবে এবং প্রতি লাইনে চারা গুলি সঠিকভাবে লাগাতে হবে।

সেপ্টেম্বর মাসে জমির লতি হারভেস্ট করার আগেই লতির আগায় জন্মানো চারা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। তারপরে কচুর লতি চাষ করার জন্য সংরক্ষিত চারাগুলোকে আলাদা কোনো জায়গায় পুঁতে রাখতে হবে। জমিতে এসকল চারা পুনরায় শীতের আগেই লাগিয়ে ফেলতে হবে। লাগানো লতির চারা থেকে ফেব্রুয়ারি – মার্চ মাসে লতি আসা শুরু হয়।

কচুর লতি চাষের জন্য জমিতে ৩ থেকে ৪টি চাষ দিয়ে মাটি সমান করে জমি তৈরি করে নিতে হবে। কচুর লতির চারা জমিতে সারি সারি করে লাগাতে হবে। সারিবদ্ধভাবে চারা লাগালে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩৮, ০০০ চারা প্রয়োজন হবে। গুড়িচারা কচুর লতির চারা হিসেবে লাগানো হয়।

জমি থেকে ভালো ও বেশি ফলন পেতে হলে জমিতে অবশ্যই সুষম সার দিতে হবে। প্রতি বিঘাতে কচুর লতি চাষের জন্য ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২৫ কেজি এমওপি, ১৮ কেজি টিএসপি ও ৫০০ কেজি গোবর সার দিতে হবে। লতি চাষে সব সার একত্রে দেয়া উচিত নয়। প্রথম পর্যায়ে ইউরিয়া ব্যতিত অন্যান্য সব সার জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে।

চারা লাগানোর প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন পরেই জমিতে ইউরিয়া ব্যবহার করা যায়। অবশ্যই জমিতে সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা থাকতে হবে। চারা লাগানোর সময় জমিতে পানি না থাকলে অতিরিক্ত সেচের মাধ্যমে জমি কাদা করতে হবে। লতির জমি শুকিয়ে গেলে কচু গাছের ক্ষতি হয়। তাই বৃষ্টির অপেক্ষা না করে জমিতে প্রবাহমান পানি নিশ্চিত করতে হবে।

লতি কচুর গোড়ায় সব সময় পানি থাকা প্রয়োজন। আর দাঁড়ানো পানি মাঝে মাঝে নাড়াচাড়া ব্যবস্থা করতে হবে। সবসময় পানি থাকলে জমিতে আগাছার উপদ্রব কম হয়। জমিতে আগাছা থাকলে শামুক আশ্রয় নেয় ও কচুর লতি গাছে উঠে পাতা খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। জমির এসব আগাছা হাতে টেনে সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে।

জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ লতিরাজ কচু ০১

ক্ষুদ্র লাল মাকড় বা রেড স্পাইডার মাইট আগাম কচুর লতি চাষে ক্ষতি করে। কচুর লতির ক্ষেতে মাকড়ের আক্রমণ থাকলে পাতার সবুজ রং নষ্ট হয়ে বিন্দু বিন্দু শুকনো দাগ দেখা যায়। মাকড় পোকা দূরীকরণে মাকড়নাশক ব্যবহার করতে হবে। আবার এমনভাবে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে যাতে পাতার উল্টো পাশও ভিজে যায়।

লেদা পোকার আক্রমণও কচুর লতির ক্ষেতে দেখা যায়। ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি স্প্রে করে লেদা পোকা দমন করা যায়।

চারা রোপণের প্রায় ২ মাস পর থেকে ৭ মাস পর্যন্ত লতি হয়ে থাকে। যে কোন বয়সেই গাছ থেকে কচুর লতি তুলে খাওয়া যায়। তবে জরুরী বিষয় হচ্ছে, ছোট সাইজের লতি গাছ থেকে তুললে লতির ফলন কমে যেতে পারে। গাছের সবচাইতে বড় আর মোটা লতিগুলো প্রথমে তুলতে হবে।

অথরের তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

আপডেট সময় ০৮:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

লতিরাজ কচু আমাদের দেশে অনেকগুলো জনপ্রিয় সবজির মধ্যে একটি। এই লতি কচু বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে, যা থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ খুলেছে। অনেকে মূলত পানি কচুকেই কচুর লতি বলেন। অনেক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ এই লতিরাজ কচু। মুখীকচু বেশ জনপ্রিয় একটি কচু আর এর পরই কচুর লতির স্থান।

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি লতির মূল্য ৭০-৮০ কেজি। খুব সহজেই লতিরাজ কচু চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি কি তা জেনে নেয়া যাক।

সাধারণত উষ্ণ জলবায়ুতে কচুর লতি ভালো জন্মে। কচুর লতি প্রায় সব ধরনের মাটিতে চাষ করা যায় তবে পলি দোআঁশ ও এটেল মাটি পানি কচু চাষের জন্য উপযুক্ত। কচুর লতি জন্য মাঝারি নিচু শ্রেণির জমি প্রয়োজন যেখানে বৃষ্টির পানি জমে বা জমির পানি ধারণ ক্ষমতা আছে এমন। অল্প আলো বা ছায়াযুক্ত জমিতে লতি কচু ভালো জন্মাতে পারে। প্রখর রোদেও  ভালো ফলন দেখা যায়।

জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ লতিরাজ কচু ০৩

আমদের দেশে বেশ কিছু কচুর লতির জাত রয়েছে। দেশী জাতের গাছ ছোট, পাতা ছোট ও চিকন সরু ও লম্বা হয়। আর উন্নত জাতের লতি লম্বা ও মোটা এবং গিটযুক্ত হয়। আবার খাটো ও মোটা, শাসাল ও মাংসল যা দ্রুত গলে যায় এমন জাতেরও রয়েছে।

এ দেশে উদ্ভাবিত পানি কচুর দুটি উন্নত জাত যেমন বারি পানি কচু ১ ও বারি পানি কচু-২। আমাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত দুটি জাত লতি উৎপাদনের জন্য ভালো জাত হিসেবে পরিচিত। উন্নত জাতের ভালো চারা বাছাই করতে হবে এবং চারাগুলি বোনার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। চারা বপন করতে সমান দূরত্ব রাখতে হবে এবং প্রতি লাইনে চারা গুলি সঠিকভাবে লাগাতে হবে।

সেপ্টেম্বর মাসে জমির লতি হারভেস্ট করার আগেই লতির আগায় জন্মানো চারা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। তারপরে কচুর লতি চাষ করার জন্য সংরক্ষিত চারাগুলোকে আলাদা কোনো জায়গায় পুঁতে রাখতে হবে। জমিতে এসকল চারা পুনরায় শীতের আগেই লাগিয়ে ফেলতে হবে। লাগানো লতির চারা থেকে ফেব্রুয়ারি – মার্চ মাসে লতি আসা শুরু হয়।

কচুর লতি চাষের জন্য জমিতে ৩ থেকে ৪টি চাষ দিয়ে মাটি সমান করে জমি তৈরি করে নিতে হবে। কচুর লতির চারা জমিতে সারি সারি করে লাগাতে হবে। সারিবদ্ধভাবে চারা লাগালে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩৮, ০০০ চারা প্রয়োজন হবে। গুড়িচারা কচুর লতির চারা হিসেবে লাগানো হয়।

জমি থেকে ভালো ও বেশি ফলন পেতে হলে জমিতে অবশ্যই সুষম সার দিতে হবে। প্রতি বিঘাতে কচুর লতি চাষের জন্য ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২৫ কেজি এমওপি, ১৮ কেজি টিএসপি ও ৫০০ কেজি গোবর সার দিতে হবে। লতি চাষে সব সার একত্রে দেয়া উচিত নয়। প্রথম পর্যায়ে ইউরিয়া ব্যতিত অন্যান্য সব সার জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে।

চারা লাগানোর প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন পরেই জমিতে ইউরিয়া ব্যবহার করা যায়। অবশ্যই জমিতে সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা থাকতে হবে। চারা লাগানোর সময় জমিতে পানি না থাকলে অতিরিক্ত সেচের মাধ্যমে জমি কাদা করতে হবে। লতির জমি শুকিয়ে গেলে কচু গাছের ক্ষতি হয়। তাই বৃষ্টির অপেক্ষা না করে জমিতে প্রবাহমান পানি নিশ্চিত করতে হবে।

লতি কচুর গোড়ায় সব সময় পানি থাকা প্রয়োজন। আর দাঁড়ানো পানি মাঝে মাঝে নাড়াচাড়া ব্যবস্থা করতে হবে। সবসময় পানি থাকলে জমিতে আগাছার উপদ্রব কম হয়। জমিতে আগাছা থাকলে শামুক আশ্রয় নেয় ও কচুর লতি গাছে উঠে পাতা খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। জমির এসব আগাছা হাতে টেনে সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে।

জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ লতিরাজ কচু ০১

ক্ষুদ্র লাল মাকড় বা রেড স্পাইডার মাইট আগাম কচুর লতি চাষে ক্ষতি করে। কচুর লতির ক্ষেতে মাকড়ের আক্রমণ থাকলে পাতার সবুজ রং নষ্ট হয়ে বিন্দু বিন্দু শুকনো দাগ দেখা যায়। মাকড় পোকা দূরীকরণে মাকড়নাশক ব্যবহার করতে হবে। আবার এমনভাবে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে যাতে পাতার উল্টো পাশও ভিজে যায়।

লেদা পোকার আক্রমণও কচুর লতির ক্ষেতে দেখা যায়। ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি স্প্রে করে লেদা পোকা দমন করা যায়।

চারা রোপণের প্রায় ২ মাস পর থেকে ৭ মাস পর্যন্ত লতি হয়ে থাকে। যে কোন বয়সেই গাছ থেকে কচুর লতি তুলে খাওয়া যায়। তবে জরুরী বিষয় হচ্ছে, ছোট সাইজের লতি গাছ থেকে তুললে লতির ফলন কমে যেতে পারে। গাছের সবচাইতে বড় আর মোটা লতিগুলো প্রথমে তুলতে হবে।