Category: ব্লগ

  • মাশরুম চাষে সফল তরুণ উদ্যোক্তা সাদ্দাম

    মাশরুম চাষে সফল তরুণ উদ্যোক্তা সাদ্দাম

    মাশরুম চাষে সফল সাতক্ষীরার তরুণ উদ্যোক্তা সাদ্দাম হোসেন। ২০১৮ সালে যখন স্বল্প পরিসরে মাত্র ৪ হাজার টাকা পুঁজি খাটিয়ে যখন তিনি মাশরুম চাষ শুরু করনে তখন তার প্রতিবেশীরা তাকে বলতেন পাগল। টাকা পয়সা খরচ করে ব্যাঙের ছাতা চাষ করছে। মাত্র ৬ বছর পার হতে না হতেই তিনি এখন একজন সফল মাশরুম ব্যবসায়ী।

    তার মাশরুম ফার্মে বর্তমানে তিনি প্রায় ৭ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন। সেখানে সব সময় কাজ করছেন ৬-৭ জন শ্রমিক। স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় অনেকেই এটি চাষ করারও উদ্যোগও নিয়েছেন। তার এই মাশরুম দিয়ে তৈরি হচ্ছে মজাদার চপ, ফুচকা, চটপটিসহ নানা ধরনের খাবার। ব্যতিক্রমী এ খাবার খেতে দুরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অনেকে। অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ঔষধিগুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় পুষ্টিবিদরা নিয়মিত চাষের এই মাশরুম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

    কৃষি বিভাগ বলছে সবজির বিকল্প হিসাবে মাশরুম ব্যবহার করতে প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরি করা হচ্ছে। পুষ্টিকর ও ঔষধিগুণ সমৃদ্ধ এই মাশরুমের পরিচিতি বাড়াতে পারলে এটি সাদা সোনা হিসেবে গণ্যহবে বলে মনে করেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।

    জেলা শহরের পাকুখরালী কাঠালতলা গ্রামের মো. আব্দুল হাকিম ও নাছিমা খাতুন দম্পতির ছেলে মো. সাদ্দাম হোসেন (৩২)।

    মাশরুম চাষী সাদ্দাম হোসেন জানান, ২০১৮ সালে তৎকালীন সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আমজাদ হোসেনের কাছ থেকে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এরপর তার মাধ্যমে ঢাকার সাভার মাশরুম উন্নয়ন ইনষ্টিটিউট থেকে মাত্র ৪ হাজার টাকা খরচ করে ২০০ পিস মাশরুমের বীজ এনে সেটি নিয়ে পরিচর্যা শুরু করি। দিনে দুই থেকে তিন বার পানি দেয়া ছাড়া বাড়তি তেমন কোন কাজ করা লাগেনা এটি চাষে। এক সপ্তাহ’র পর থেকে ওই বীজ থেকে মাশরুম উৎপাদন শুরু হয়। এরপর তার আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি নিজেই পরবর্তী বছর থেকে বীজও উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে তার এই মাশরুম ফার্মে তার নিজের উৎপাদিত ৪ হাজার ৫০০ পিস বীজ রয়েছে। তিনি সেখানে বর্তমানে ৭ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন।

    তিনি এসময় বীজ উৎপাদন সম্পর্কে জানান, প্রথমে কাঠের গুড়া ও ধানের তুস ভালোভাবে মিশিয়ে জীবানু মুক্ত করে ৫’শ গ্রাম বা ১কেজি পলিথিনের ব্যাগের মধ্যে চা চামচের এক চামচ পরিমান মাশরুমের গুড়ো প্রদান করা হয়। এরপর দিনে ২-৩বার পানি দেয়াসহ এটি ঠিকমত পরিচর্যা করার পর ৩০ দিন পর এ প্যাকেটটি সাদা আকার ধারন করে বীজ উৎপাদন শুরু হয়। আর এই বীজ তৈরি হওয়ার এক সপ্তাহ পর থেকে মাশরুম সংগ্রহ শুরু করা হয়।

    তিনি বলেন, যখন মাশরুম চাষ শুরু করি তখন আমাকে আমার প্রতিবেশীরা পাগল বলতেন। আমি  টাকা পয়সা খরচ করে কেন ব্যাঙের ছাতা চাষ করছি। এমন নানা প্রশ্ন আর নানা কথা আমাকে শুনতে হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, প্রথম দিকে মাশরুম চাষ করে মাশরুম জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাধারন মানুষের মাঝে বিনা পয়সায় খাওয়ায়ে মার্কেট তৈরী করতে হয়েছে। বর্তমানে এই মাশরুম শহরের বড় বড় শপিং সেন্টার গুলোতে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি মাশরুম ৪ শ’ টাকায় বিক্রি করছি। সব খরচ বাদ দিয়ে এতে আমার লাভ হয় দেড় থেকে দু’শো টাকা। মাশরুম উৎপাদনের ফার্ম ছাড়াও আমার দুটি ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে।

    এতে কাজ করছেন ৬-৭ জন শ্রমিক। শহরের দুটি স্থানে আমার ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র থেকে মাশরুম ছাড়াও মাশরুমের তৈরী মজাদার চপ, ফুচকা, চটপটিসহ নানা ধরনের খাবারও বিক্রি হচ্ছে। ব্যতিক্রমী এ খাবার খেতে দুরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অনেকে। এটি অত্যান্ত পুষ্টিকর ও ঔষধিগুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় পুষ্টিবিদরা নিয়মিত চাষের এই মাশরুম খাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় আমার দেখাদেখি কেউ কেউ এটি চাষ করছেন, আবার অনেকেই এটি চাষ করার উদ্যোগও নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, মাশরুম ও মাশরুমের বীজ তৈরীতে আমার মাসে খরচ হয় প্রায় তিন লাখ টাকা। আর এ থেকে সব খরচ বাদে মাসে আমার ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ থাকে।

    ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের কর্মচারী হাবিবুল্লাহ জানান, এখানে সারা দিন কাজ করে ৫০০ টাকা মজুরি পাই। তা দিয়ে আমি আমার বাবা ও মাকে নিয়ে ভালো ভাবেই জীবন যাপন করতে পারি। এখানে আমি মাশরুম দিয়ে চপ, পাকুড়া, নুডুলস, ফুসকা, ছোলা, চটপটিসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য তৈরি করে থাকি। মাশরুমের এই চপ খেতে এখানে দূর দূরান্ত থেকে লোকজন আসেন। এটি খেতেও খুব সুস্বাদু। সুস্বাদু হওয়ায় অল্প দিনেই মাশরুমের চপ সাতক্ষীরা শহরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

    সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুল ইসলাম মনির জানান, মাশরুম চাষ সম্প্রসারনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেক ইউনিয়ন ও পৌরসভায় একজন করে উদোক্তা তৈরী করা হচ্ছে।

    তাদের ১০ দিনের প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষনের পাশাপশি কারিগরি সাপোর্টও দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মাশরুমে যে গুনাগুন সেটা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। মাশরুম সম্পূর্ণ একটি অর্গানিক খাবার। মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সবজির বিকল্প হিসাবে এটি ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে চাষাবাদ এবং বিক্রয় বাড়াতে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, খুব অল্প দিনেই সাতক্ষীরা শহরের পারকুখরালী কাঠালতলা গ্রামের সাদ্দাম হোসেন মাশরুম চাষাবাদে সফলতা অর্জন করেছেন। পরিচিতি লাভ করেছেন একজন সফল তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে।

  • বিনা নোটিশে চাকরি চলে গেছে, এখন কী করব

    বিনা নোটিশে চাকরি চলে গেছে, এখন কী করব

    অনিশ্চয়তাই জীবনের একমাত্র ধ্রুবক। নানা কারণে হুট করে চলে যেতে পারে চাকরি। অফিসের নীতিগত পরিবর্তন, মহামারি, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা কারণে যে কেউ হুট করে চাকরি হারাতে পারেন। ফলে বিনা নোটিশে বন্ধ হয়ে যেতে পারে একমাত্র আয়ের পথ। এমন অবস্থায় কী করতে পারেন? চলুন, জেনে নেওয়া যাক।

  • শিক্ষার্থীদের সংঘাতে সরকারের দায় দেখছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

    শিক্ষার্থীদের সংঘাতে সরকারের দায় দেখছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

    সম্প্রতি ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সংঘাত বেড়েছে। আকস্মিক সৃষ্টি হওয়া এসব সংঘাতের ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। এক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

    সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সেল সম্পাদক (দপ্তর সেল) জাহিদ আহসানের পাঠানো এক বার্তায় এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গতকাল ২৬ জানুয়ারি ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত উভয় প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর পাশাপাশি কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছেন।

    বার্তায় আরও বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ রাকিবসহ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ নির্মম হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারকে আরও বেশি সক্রিয় ও উদ্যোগী হতে হবে।

    এতে বলা হয়, ওই ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একাডেমিক পরিবেশ বিঘ্ন না ঘটার পাশাপাশি কোনোভাবেই যেন সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। সেজন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা কলেজের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

    একই সঙ্গে উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের প্রতি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে যাওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

  • বেতনে না পোষালে অন্য পেশায় চলে যান: প্রাথমিকের শিক্ষকদের উদ্দেশে উপদেষ্টা

    বেতনে না পোষালে অন্য পেশায় চলে যান: প্রাথমিকের শিক্ষকদের উদ্দেশে উপদেষ্টা

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, ‘আমি শিক্ষকদের বলবো, যদি সমাজে আপনাদের জন্য যে শ্রদ্ধার আসন আছে, সেটা অটুট রাখতে হয় বা ফিরিয়ে আনতে হয়, তাহলে শিক্ষকতা পেশাকে অর্থমূল্যে বিবেচনা করা যাবে না। অবশ্যই আপনাদের আর্থিক উন্নয়নের জন্য সরকারের উদ্যোগ আছে। কিন্তু যারা মনে করবেন যে, না আমার তো পোষাচ্ছে না, খুব ভালো, তাহলে আপনি প্রাথমিকে থাকবেন না, অন্য পেশায় চলে যান। আপনি একটা বিষয় ভেবে দেখেন, ভালো ভালো স্কুলে ভর্তির জন্য প্রতিযোগিতা হয়। তাহলে সরকারি প্রাইমারি স্কুলে হয় না কেন? মানুষ ভাবে, সরকারি প্রাইমারি স্কুল– এখানে তো পড়ালেখা হয় না। সুতরাং নিজেদের সম্পর্কে মানুষের এ নেতিবাচক ভাবনাটা পাল্টানোর জন্য হলেও কাজ করা দরকার।’

    রবিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর চট্টগ্রাম আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    উপদেষ্টা বলেন, ‘সব বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধনের আওতায় আনার কাজ চলছে। সব বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো নিবন্ধনের আওতায় আনতে আমরা সেগুলোকে নিবন্ধন করাচ্ছি। তবে নিবন্ধন না থাকলে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ বন্ধের মতো শর্ত আরোপ করা হবে। সরকারি-বেসরকারি সবগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আমরা পাঠ্যপুস্তক দিয়ে থাকি। তাহলে আমরা শর্ত আরোপ করতে পারি, রেজিস্ট্রেশন না থাকলে আপনি পাঠ্যপুস্তক পাবেন না।’

    বিধান রঞ্জন রায় বলেন, ‘প্রাইমারি এডুকেশন সেক্টরে আমরা অনেক ভালো ভালো শিক্ষক পাচ্ছি। তাদের সুন্দরভাবে ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নানা উদ্যোগ তাদের জন্য আছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, শ্রেণিকক্ষে আমরা সেটার ফলাফল পাচ্ছি না। তাহলে এত যে ভালো, মেধাবী লোকজন প্রাইমারি লেভেলে শিক্ষকতা পেশায় আসছেন, তারা কী শুধু কর্মসংস্থানের অভাবে আসছেন কি না, এ আলোচনাটা চলে আসে। এখানে একটা বিষয় হচ্ছে, শিক্ষকদের বেতন-ভাতার বিষয়টা। এটা নিয়ে অসন্তুষ্টি আছে।’

    তিনি বলেন, ‘আবার সহকারী শিক্ষক হিসেবে যিনি জয়েন করছেন, অনেক সময় দেখা যাচ্ছে তিনি এই পদ থেকেই অবসরে যাচ্ছেন। এটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। পদোন্নতি হবে না, বেতন-ভাতা বাড়বে না, এটা হতে পারে না। এখন এক্ষেত্রে বিগত সরকার কী করেছে? প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের চাকরিটাকে সেকেন্ড ক্লাস ঘোষণা করলো। কিন্তু ফাঁকটা রেখে দিল কোথায়- তাদের গ্রেডটা বাড়ানো হলো না। ফলে তারা সেকেন্ড ক্লাস অনুযায়ী যে বেতন-ভাতা পেতেন সেটা থেকে তারা বঞ্চিত হলেন।’

    উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষকতায় এসে আমি কী পেয়েছি, কী পাইনি সেটার জন্য আফসোস করে আমি আমার পেশায় ফাঁকি দিচ্ছি কি না, ক্লাসে ফাঁকি দিচ্ছি কি না, সেটা ভাবতে হবে। ফাঁকি দিয়ে কিন্তু কোনও মহৎ কাজ হয় না। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকের পদটার গুরুত্ব কিন্তু অনেক বেশি। অর্থমূল্যে এটার বিচার হবে না। কারণ, একটি শিশুর মানুষ হয়ে ওঠার প্রাথমিক পাঠটুকু সে পাচ্ছে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকের কাছ থেকে।’

    পদোন্নতি ও লোকবল সংকট নিরসনে তিনি বলেন, ‘শূন্য পদ পূরণে বা লোকবল সংকট নিরসনে আমরা উদ্যোগ নেবো। পদোন্নতিজনিত সমস্যা সমাধানেও আমরা কনসালটেন্ট কমিটি গঠন করেছি। কারণ অনেক ক্ষেত্রে আমাদের দাবিদাওয়াগুলো পরস্পর বিরোধী হয়ে যায় এবং এটার জন্য মামলা হয়। পরে মামলা হলে আমরা আটকে বসে থাকি। এই যে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি হচ্ছে না তা মামলার জন্য এবং সেটা তো আপনাদেরই আরেকজন কলিগ করেছেন। আমাদের অগ্রগতির ক্ষেত্রে অনেকক্ষেত্রে বাধা আমরাই।’

  • নামাজ বিশ্বাসীদের কাছে মিরাজ

    নামাজ বিশ্বাসীদের কাছে মিরাজ

    সিজদা না করে শয়তান আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত হয়েছিল। সিজদা আল্লাহর খুব প্রিয়। সিজদা দিয়ে আমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে পারি। সুরা আলাকের ১৯ নম্বর আয়াতে রয়েছে, ‘তুমি সিজদা করো আর আমার কাছে এসো।’

    ভ্রাতৃত্ববোধের চেতনায় ধনী ও দরিদ্র ব্যক্তি নামাজের এক কাতারে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে একসঙ্গে নিজেদের সমর্পণ করেন।

    নামাজ এমন এক ধ্যান ও নির্ভরতা; যার মাধ্যমে আল্লাহর দিদার লাভের সুযোগ হয়। নামাজকে বলা হয় বিশ্বাসীদের মিরাজ। নামাজে বিনয়, নম্রতা, একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও তন্ময়তার মাধ্যমে এ সুযোগ পাওয়া যায়। সিজদার পর প্রতি নামাজে তাশাহুদ বা আত্তাহিয়্যাতু পড়া হয়।

    নামাজের মাধ্যমে ধ্যান ও জ্ঞানের সমন্বয়ে আল্লাহর দরবারে নিজেকে উপস্থাপন করা যায়। মিরাজ মহান আল্লাহর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর সাক্ষাতের ঘটনা। নামাজ বিশ্বাসীদের কাছে মিরাজ। এর মাধ্যমে মানুষ সর্বশক্তিমান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ বা দিদারের সুযোগ পায়। নামাজ আল্লাহ ও তাঁর বান্দার মধ্যে সুনিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার সেতুবন্ধ।

    সিজদা না করে শয়তান আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত হয়েছিল। সিজদা আল্লাহর খুব প্রিয়। সিজদা দিয়ে আমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে পারি। সুরা আলাকের ১৯ নম্বর আয়াতে রয়েছে, ‘তুমি সিজদা করো, আর আমার কাছে এসো।’

    আগে থেকেই বিভিন্ন সময় নামাজের প্রচলন থাকলেও মিরাজের সময় থেকে ফরজ পূর্ণতা পায়। নবী করিম (সা.) সব মানুষের জন্য একটি নিয়মতান্ত্রিক ইবাদতের ব্যবস্থা উপহার পেয়েছিলেন। পবিত্র মক্কা থেকে পবিত্র মদিনায় হিজরতের আগের বছর নবুয়তের একাদশ বছরে তিনি মিরাজের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। সেই সময় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত হয়। পরবর্তী সময়ে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) হজরত মুহাম্মদ (সা.)–কে নামাজের সময় ও পদ্ধতি শিখিয়ে দেন।

    নামাজ কয়েক প্রকার। যিনি যত নামাজ পড়বেন, তিনি তত বেশি লাভবান হবেন।

    মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পবিত্র মক্কা থেকে পবিত্র মদিনায় হিজরত করার পর ইবাদতের জন্য মদিনায় মসজিদে নববি নির্মিত হলো। মানুষকে নামাজের জন্য আহ্বান জানাতে আজানের ব্যবস্থা করা হলো। বলা হলো, নামাজের জন্য হাজির হও। কল্যাণের জন্য এসো। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নেই।

    ভ্রাতৃত্ববোধের চেতনায় ধনী ও দরিদ্র ব্যক্তি নামাজের এক কাতারে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে একসঙ্গে নিজেদের সমর্পণ করেন।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে থাকছে না সাত কলেজ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের সম্মানজনক পৃথকীকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সোমবার দুপুরে ঢাবি উপাচার্যের কার্যালয়ের সভাকক্ষে সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের জরুরি বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

    উপাচার্য জানান, অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এক বছর এগিয়ে এনে এ বছর থেকেই অর্থাৎ ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি না নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

    উপাচার্য আরও জানান, শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সভায় জোর সুপারিশ করা হয়।

    এছাড়া, ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী আসন সংখ্যা ও ভর্তি ফি নির্ধারণসহ যাবতীয় বিষয়ে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

    সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শিক্ষা কার্যক্রমের অধীনে রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্বশীল থাকবে, যেন তাদের শিক্ষাজীবন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

    শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার জন্য সভা সকলকে ঐক্যবদ্ধ ও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান।

    ঢাবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ এনে রোববার সন্ধ্যায় সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    পরে রাত ১০টার দিকে তারা উপ-উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করতে গেলে নীলক্ষেত এলাকায় ঢাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

    এরপর, ঢাবি উপাচার্য সোমবার সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানান।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ‘চাপ’ কমাতে ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়।

  • মেডিকেলে সুযোগ পেয়েছে হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে প্রান্তি, পড়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা

    মেডিকেলে সুযোগ পেয়েছে হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে প্রান্তি, পড়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা

    বাবা রমেন কুমার বিশ্বাস দিনমজুরের কাজ করেন। মা চঞ্চলা বিশ্বাস মুড়ি ভেজে বাজারের দোকানে দোকানে বিক্রি করেন। এই যৎসামান্য আয়ে কোনোরকমে চলছে পরিবারটির দিন। এই দম্পতির মেয়ে প্রান্তি বিশ্বাস সব বাধা জয় করে চলতি বছর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ খবরে খুশির সঙ্গে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত পরিবারটি। তাদের তাড়া করে ফিরছে মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার খরচ কীভাবে জোগাড় হবে, সে আতঙ্ক।

    ফরিদপুর সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের হাট গোবিন্দপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মেয়ে প্রান্তি। দুই ভাই-বোনের মধ্যে সে ছোট। তাঁর ভাই রাহুল বিশ্বাস একটি বেসরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ডিপ্লোমা পাস করে এখন চাকরি খুঁজছেন।

    হাট গোবিন্দপুর বাজার এলাকার পূর্বপাশে কানাইপুর-খলিলপুর গ্রামীণ সড়কের পাশে প্রান্তিদের বাড়িটি দুই শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত। বাড়িটি ইটের হলেও দরজা-জানালা পাটখড়ি দিয়ে আটকানো। মেঝে কাঁচা। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন কক্ষের এই ইটের বাড়ি প্রান্তির মাতামহ (নানা) তাঁদের করে দেন। তবে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু হওয়ায় বাড়ির কাজ শেষ হয়নি। এরপর আর ঘরের কাজ এগিয়ে নিতে পারেননি প্রান্তির বাবা রমেন বিশ্বাস। তখন থেকেই অসমাপ্ত এই ঘরে বসবাস করছেন পরিবারের সদস্যরা।

    আজ সোমবার বিকেলে ওই বাড়িতে গিয়ে কথা হয় প্রান্তির সঙ্গে। পাশে ছিলেন তাঁর মা ও ভাই। প্রান্তি জানান, ২০২২ সালে কানাইপুরের বেগম রোকেয়া কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। বিজ্ঞান বিভাগে পান গোল্ডেন জিপিএ-৫। ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করেন ফরিদপুর সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ থেকে। সেবারও পান জিপিএ-৫। প্রান্তি বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার। কিন্তু ফরিদপুরে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো কোচিংয়ের ব্যবস্থা নেই, এ জন্য মেডিকেলে পড়ার প্রস্তুতি শুরু করি।’

    মেয়ের এত বড় সাফল্যে একবার হাসছেন, একবার কাঁদছেন মা চঞ্চলা বিশ্বাস। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘মেয়ে ডাক্তারিতে সুযোগ পাইছে। শুনছি, এতে অনেক খরচ। কীভাবে এ খরচ জোগাব? সংসারের যে অবস্থা, তাতে তিনবেলা খেয়ে বেঁচে থাকা কষ্ট। সেখানে ওর জন্য প্রতিবছর ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করার ক্ষমতা তো আমাদের নাই। জানি না এ খরচ কীভাবে জোগাড় হবে।’

  • ছাগলকাণ্ড : মতিউরের স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড চায় দুদক

    ছাগলকাণ্ড : মতিউরের স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড চায় দুদক

  • বাম চোখের বদলে চিকিৎসা ডান চোখে, দুঃখ প্রকাশ করে ফের অস্ত্রোপচার

    বাম চোখের বদলে চিকিৎসা ডান চোখে, দুঃখ প্রকাশ করে ফের অস্ত্রোপচার

    চোখে ময়লা জাতীয় কোনো বস্তুর অস্তিত্ব টের পেয়ে হাসপাতালে শিশুর চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন বাবা-মা। কিন্তু অস্ত্রপচারের সময় ঘটে বিপত্তি। দেড় বছর বয়সি শিশু ইর্তিজা আরিজ হাসানের বাম চোখের বদলে ডান চোখে অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক। পরবর্তীতে ‘দুঃখ প্রকাশ’ করে আবারও বাম চোখে অস্ত্রোপচার করেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং স্ট্র্যাবিসমাস সার্জন ডা. শাহেদারা বেগম।

    চিকিৎসকের এমন গাফিলতির ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর ধানমন্ডির বাংলাদেশ আই হসপিটাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটে।

    মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ আই হসপিটাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটে চিকিৎসকের খামখেয়ালির বলি হয় শিশু ইর্তিজা। ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিশুর চাচা মাহফুজ নাফি। পরে হাসপাতালটিতে খোঁজ নিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায় ঢাকা পোস্ট।

    কটা চোখ আগেই লাল ও ফোলা ছিল, তারপরও কেন ভুল?

    পরিবারের সদস্যরা জানান, গত মঙ্গলবার বিকেলে দেড় বছরের ইর্তিজার চোখের সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ আই হসপিটালে যান তারা। বাম চোখের মধ্যে ময়লা জাতীয় কোনো একটি জিনিসের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন চিকিৎসক। পরে অপারেশনের জন্য এনেসথেসিয়া দিয়ে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে নেওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। কিন্তু অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করার পর পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান বাম চোখের জায়গায় অপারেশন করা হয়েছে ডান চোখে।

    শিশুর চাচা মাহফুজ নাফি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আরিজকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়েই বাম চোখটি তুলনামূলক ফোলা এবং ভেতরে লাল হয়েছিল। সেখানে নেওয়ার পরও তারা আমাদের জানিয়েছে বাম চোখের ভেতরে বাগ্স আছে। তারপরও কেন শুধু শুধু ডান চোখে অপারেশনটি করা হলো? অথচ ডান চোখে তার কোনো সমস্যাই ছিল না। এখন তারা বলছে ডান চোখেও সমস্যা ছিল। বিষয়টি কি তাহলে তাদের চোখেই পড়েছিল? আর পড়লেই কেনই বা আমাদের না জানিয়ে ডান চোখে অপারেশনে করা হলো?

    তিনি আরও বলেন, এখন যেহেতু তারা ডান চোখে অপারেশন করেই ফেলেছে, তাই বলছে ডান চোখেও ছিল। এটা অবশ্যই তাদের মারাত্মক ভুল। এজন্য আমরা আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চায় শিশুর মা-বাবা

    শিশু আরিজের মা ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, অপারেশন থিয়েটারের বাইরে আমি আর আমার স্বামী অপেক্ষায় ছিলাম। আরিজকে যখন ওখান বের করল, তখন জ্ঞান ফিরবে ফিরবে এমন এমন ভাব ছিল। তার একটু পরে ওর বাবা কোলে নিয়ে বলছে, ওর তো ডান চোখে অপারেশন করেছে কিন্তু বাম চোখ অপারেশন করার কথা ছিল। এমন তো হতে পারে না। আজকে আমার শিশুর বড় কিছু হয়ে গেলে কি তারা বাবুকে বা চোখ ফেরত দিতে পারত?

    এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে শিশুটির বাবা মাহমুদ হাসান বলেন, আজ আমাদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটে গেল। কিন্তু এটা যদি বড় কোনো অপারেশন হতো তাহলে আমাদের হয়ত এখন ছেলেকে নিয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দৌড়াদৌড়ি করতে হতো। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

    অন্যান্য স্টাফদের ওপর দায় চাপিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি

    অভিযুক্ত চিকিৎসক শুরুতে অন্যান্য স্টাফদের ওপর দায় চাপিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত ঘটনার দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।  ডা. শাহেদারা বেগম বলেন, ভুলটা আসলে অন্যান্য স্টাফদের জন্য হয়েছে। বাচ্চাটিকে তারা অপারেশন টেবিলে যেভাবে তুলেছে, আমিও সেভাবে বসে গিয়েছি। তারপর চোখের পাতাটি উল্টাতেই দেখি একটা আইল্যাশ (পাপড়ি) আছে। কিন্তু যদি আমি ডান চোখে সেটি না পেতাম, তাহলে তো অবশ্যই বাম চোখ উল্টিয়ে দেখতাম। যেহেতু ওটাতেও পেয়েছি তাই সেটি বের করে দিয়েছি।

    তিনি আরও বলেন, শিশুটির দুটি চোখেই চুল পাওয়া গেছে। প্রথমে ডান চোখ থেকে চুল বের করে আনার পর রোগী স্বজনরা বলছে যে বাম চোখে সমস্যা ছিল। তখন আমি আবার বাম চোখ পরিষ্কার করে দিয়েছি। এটি আমাদের কাছে খুবই ছোট একটি অপারেশন। তারপরও আমি ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে বলছি এটা আমার ভুল।

    অস্ত্রোপচারের সময় শরীরে সারাদিনের ক্লান্তি ছিল উল্লেখ করে অভিযুক্ত চিকিৎসক আরও বলেন, আমি সকাল থেকেই কাজ করছি তো, যে কারণে তারাও যেভাবে আমার সামনে দিয়েছে, আমিও সেভাবেই কাজ করে দিয়েছি। এ ক্ষেত্রে আমার আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। এখন তো আসলে অন্য স্টাফদের দোষ দিয়েও কোনো লাভ নেই।

    ‘ছোট অপারেশন’, ভুল বোঝাবুঝি বললেন হসপিটাল ডিরেক্টর

    হাসপাতালটির অন্যতম ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে আমি বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু বিষয়টিকে যত বড় করা হয়েছে আসলে তেমনটি নয়। চোখের এই অপারেশনটি খুবই ছোট, যেখানে চোখের ভেতরে কোন কাঁটাছেড়ারও প্রয়োজন হয় না।

    তিনি আরও বলেন, আসলে গতকাল (মঙ্গলবার) ওই বাবুর বড় কোনো অপারেশন হয়নি। শিশুর বাম চোখে কিছু একটা চুলের মতো ময়লা পড়েছিল, বাম চোখ থেকে সেটি আনতে গিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তার দেখেন যে ডান চোখেও আছে, তারপর ডান চোখ পরিষ্কার করে বাম চোখটি না করেই ব্যান্ডেজ করে দিয়েছিল। পরে আবার বাম চোখও পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। এটি অবশ্যই একটি ভুল বোঝাবুঝি। এটা কোনো অপারেশনই না। আমরা এটিকে অপারেশনের পর্যায়ে ফেলি না।

    তদন্ত কমিটি গঠন, রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা

    এদিকে শিশু আরিজ হাসানের চোখে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে একটি বোর্ড মিটিং করেছি। যদিও বিষয়টি খুবই ছোট, তারপরও আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।

    তিনি বলেন, অপারেশনে শিশুটির চোখে কোনো ক্ষতি হয়নি, এমনকি তার শারীরিক অন্য কোনো ক্ষতিও হয়নি। বরং দুই চোখই পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় তাদের আরো ভালো হয়েছে। মানুষের চোখে ময়লা-আবর্জনা প্রায় সময়ই পড়ে, কিন্তু পরিষ্কার করা হয় না। এতে করে চোখের ক্ষতি হয়। সে হিসেবে রোগীর পরিবার বরং লাভবান হয়েছে।

    ‘তবে এখানে অবশ্যই কর্তব্যরত চিকিৎসকের ভুল আছে। তার উচিত ছিল ডান চোখের ময়লা পরিষ্কারের আগে স্বজনদের জানানো। এমনকি বাম চোখ না করে শুধু ডান চোখ পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দেওয়াটাও বড় ভুল’, উল্লেখ করেন হসপিটাল ডিরেক্টর।

    অভিযোগ পেলে কোনো ধরনের ছাড় নয় : পুলিশ

    ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহমেদ মাসুদ বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ দায়ের করলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। অপরাধী যেই হোক না কেন অভিযোগ পেলে কোন ছাড় দেওয়া হবে না।

    তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসপাতালটির প্রধান নির্বাহী জানান, ঘটনার তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ওভারটাইম আর নাইট বিলের টাকায় গড়া একটি আলোকিত ভবিষ্যতের পাঠাগার”

    ওভারটাইম আর নাইট বিলের টাকায় গড়া একটি আলোকিত ভবিষ্যতের পাঠাগার”

    আমার আজও মনে পড়ে, ছোটবেলা থেকে নতুন বইয়ের গন্ধ প্রচণ্ড ভালোবাসতাম, যা আজও বিন্দুমাত্র কমেনি। গাছ ও পানির অপর নাম যদি হয় জীবন, তাহলে চোখের অপর নাম দৃষ্টি। আমার কাছে বইয়ের অপর নাম আলো। জীবনের পদে পদে ঘন কুয়াশা ভেদ করে আলোর ছটা ছড়ায় যে সূর্য, তার নাম বই। বইয়ের জগতে যে একবার প্রবেশ করে একনিষ্ঠভাবে, সেই কুড়িয়েছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মণিমুক্তা। আমি একজন বইয়ের ক্ষুদ্র গ্রাহক, পাঠক ও সংকলক।

    আমার আব্বাজান এবং মরহুম দাদাজানও ছিলেন বইয়ের পোকা। গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের জন্য করেছেন জমি দানসহ আরও অনেক অনেক মহৎ কাজ। যে কাজের জন্য গ্রামের মানুষের মাঝে আমার বাবা ও দাদার নাম শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় উঠে আসে। তাদের সন্তান ও নাতি হিসেবে অন্ধকারে আলো ছড়িয়ে দিতে লড়াই শুরু করেছিলাম ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি, দিনটি ছিল মঙ্গলবার। একটি ক্ষুদ্র পরিসর থেকে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম। আমাদের যাত্রা ক্ষুদ্র পরিসর থেকে হলেও আশা ছিল অনেক বড়। স্বপ্ন বুনেছিলাম বিশাল হৃদয় দিয়ে। আমাদের আশা ও স্বপ্ন জুড়ে ছিল অন্ধকারে আলো ছড়ানোর মতো। সেই আশাকে ধারণ করেই এক অজপাড়া গাঁয়ের ইছামতি নদী ও নজরুল সড়কের পাশে জরাজীর্ণ একটি বাঁশের মাঁচালে গ্রামের কিছু মুরুব্বির সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হয় পাঠাগারের নাম ও মেধা বিকাশে সোনালী স্লোগান।

    পড়িলে বই আলোকিত হই, না পড়িলে বই অন্ধকারে রই। এই স্লোগানের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা করি পাঠাগারটি। দিনের অনেকটা সময় এখন পাঠাগারে ব্যয় করি আমি। নিজ বাড়ির উঠানে ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের একটি ঘরের ভেতরে ১টি টেবিল ও ১২টি চেয়ার বসে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। তবে কোনোটা পাঠ্যবই নয়। কেউ ইতিহাস, কেউ সাহিত্য, কেউ ইসলামিক বই, কোরআনের মানচিত্র, আল-কোরআনের ভাষা, কেউ মিনার, মুনছুর স্যারের কবিতার বই, কেউ কালবেলা, মধুময় পাল স্যারের লেখা বই, কেউ পড়ছে আলোকিত মানুষ, কেউ পড়ছে উপন্যাস, কেউ গল্পের বই, আবার কেউ মনীষীদের জীবনীগ্রন্থ। আর কাঠের একটি বড় বুক-সেল্ফে থরে থরে সাজানো ১,০০০-১,২০০ এর অধিক বই। পাঠাগারের নাম ‘সবার জন্য পড়া উন্মুক্ত পাঠাগার’। একজন চাকরি জীবীর নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলা। বর্তমানে পাঠাগারটি পরিচালিত হচ্ছে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল ও কলেজ পড়ুয়া এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী শিক্ষার্থীর তত্ত্বাবধানে। তাদের সহযোগিতায় সদস্য হওয়া, বই নেওয়া, বই ফেরত দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন কার্যক্রম তারা পাঠাগারের রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে রাখেন।

    পাবনা জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাঁথিয়া উপজেলার ১০ কিলোমিটার দূরে ধুলাউড়ি ইউনিয়ন এর ধুলাউড়ি গ্রাম। সেই গ্রামে বাড়ি আমার। বিকেএসপিতে চাকরি করার সময় আমিনুল হক বুলবুলের ক্রিকেট খেলা শিক্ষা বই পড়ার মাধ্যমে বই পড়ার জগতে প্রথম প্রবেশ শুরু হয় ২০০৭ সালে এবং বিকেএসপির চাকরি ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ মেগনার ঘাট মেঘনা গ্রুপে জয়েন্ট করি ইনিঃ মোঃ আওসান হাবিব স্যারের মাধ্যমে ২য় বই বেসিক ইলেকট্রিক্যাল ইন্টারভিউ নোট বই পড়ার মাধ্যমে কর্ম জীবনে যেমন সফলতা আসে বই পড়ার প্রতি আরো বেশি আসক্তি হয়ে পড়ি। এইভাবে দু’একটি করে বই কিনে পড়তে পড়তে একসময় আমার কাছে ৪০০-৫০০ বই জমা হয়ে যায়। এই সব বই যে পড়েছি তা কিন্তু নয়। যাই হোক, ২৫০-৩০০ বই রয়ে যায় উত্তরাতে এবং ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি নিজের গ্রামে ২৫০ বই নিয়ে যখন পাঠাগারটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করি। পরে বন্ধু, সহপাঠী, পাড়া–প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে সহায়তা চাইলে তাঁরা ব্যাপক সাড়া দেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বর্তমানে বই সংখ্যা এখন ২,২৬৩। চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে আছি। এবিএফ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া প্রতিষ্ঠাতা- বয়লার অপারেটর গ্রুপ, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে দুই-চার পাট জন্য চাকরির ব্যবস্থা করে থাকি।

    পাঠাগার তৈরির ইচ্ছাটা আমার ছোটবেলা থেকেই। চাকরি সুবাদে হাবিব সাহেবের উপহার দেওয়া বই ‘বেসিক ইলেকট্রিক্যাল ইন্টারভিউ নোট’ পড়েই জানতে পারি পাঠ্যবইয়ের বাইরে যে জ্ঞানের বিশাল ভান্ডার রয়েছে, তা সেদিনই তাঁর সামনে উন্মোচিত হয়। তিনি বলেন, ‘অফিস ছুটির পর প্রায় দিনই বাসায় গিয়ে বই পড়তাম। এভাবেই অভ্যাস গড়ে ওঠে। কিন্তু গ্রামে ছেলেমেয়েদের জন্য বই পড়ার তেমন কোনো সুযোগ–সুবিধা নেই। তখন থেকেই মনে হতো গ্রামে একটি পাঠাগার করতে পারলে সবাই বই পড়ার সুযোগ পাবে।’

    প্রতিদিন অফিস যাওয়া-আসা ও টিফিন বিল জমা করে ও মাস শেষে বেতন তুলে আরো নতুন নতুন বই কেনা ও পড়া শুরু করি। অন্যদিকে মাস শেষে বাকি টাকা বাবাকে পাঠাই। গ্রামের কৃষক পরিবার আমাদের। বাবা নিজ জমিতে কৃষি কাজ করে যা আয় হত তা দিয়েই মা ও চার বোন ও আমাদের সংসার চলে। আমি যখন ৫ম শ্রেণীর ছাত্র, তখন হঠাৎ করেই মা অসুস্থ হয়ে মারা যান। তখন পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে জমিতে কাজ শুরু করি। এইভাবে চলছিলো, কিন্তু বাবা আবার ২য় বিবাহ করলেন। তখনও ভালোই চলছিলো তবে যখন ৭ম শ্রেণীর ছাত্র, তখন থেকে বাবা ও সৎ মায়ের আচার-আচরণ কেমন যেন পরিবর্তন হতে শুরু করে। আমি যখন ৮ম শ্রেণীতে পড়ি, তখন বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হই। এরপর পরিচিত এক ভাইয়ের মাধ্যমে প্রথম চাকরি শুরু করি বিকেএসপিতে, সেখান থেকে কিছু অর্থ জমিয়ে বইয়ের পেছনে ব্যয় করা শুরু করি। এভাবেই ধীরে ধীরে নিজের সংগ্রহে অসংখ্য বই জমা হতে থাকে। পাঠাগারের জন্য আসবাব, বই রাখার বুক-সেল্ফ ও প্রয়োজনীয় সবই কিনেছি নিজের টাকায়। ‘করোনার সময় শুরুর দিকে কর্মস্থল বন্ধ হয়ে গেলে গ্রামের চলে আসি। গ্রামের সকল মানুষ, ছাত্র-ছাত্রী ও সকল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ মানুষ ফেসবুক, ইমু, টিকটক, লাইকি, ভিডিও গেইমসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রযুক্তিকে যেমন বাদ দেওয়া যাবে না, তেমনি বই পড়াকে ত্যাগ করা যাবে না। কারণ বই আপনার অজ্ঞাতার প্রাচীর ডিঙিয়ে জ্ঞানের আলোয় আপনাকে করবে আলোকিত মানুষ। তাই এ কথা মাথায় রেখে চিন্তা করতে থাকি কীভাবে সবাইকে আবারও বইমুখী করা যায়। একদিন মনে হলো আমার কাছে যত বই আছে, সেগুলো দিয়ে একটি পাঠাগার শুরু করা সম্ভব। সবার সঙ্গে কথা বললাম, মোঃ মোনাইম খাঁন কাকা তাতে সায়ও দিয়েছেন। তারপর পাড়ার সবাইকে নিয়ে বসে পাঠাগারের নাম ঠিক করা হয়। তারপর আমার পরিচিত অনেকে বই দিয়েছেন। এভাবেই পথচলা শুরু ও এখনো চলছে।

    পাঠাগারের শিশুতোষ গ্রন্থ থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সাহিত্য, বিনোদন, রাজনীতি, অর্থনীতি, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রচনাসমগ্র, জীবনী, ছোটগল্প, কবিতা, ভাষাতত্ত্বসহ সাহিত্যের সব ধারার বই রয়েছে। প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০-১৫ জন পাঠক এসে নিয়মিত বই পড়েন ও নিজ বাড়িতে বই নিয়ে পড়ার সুযোগ পান।

    পাঠাগারের আরেক সদস্য তেজগাঁও কলেজের ছাত্র সুমন বলেন, আমাদের গ্রামের মানুষের জন্য কিংবা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আশেপাশে তেমন কোনো পাঠাগার না থাকায় বই পড়তে হলে আমাদের ৩৫-৪০ কিলোমিটার দূরে পথ পাড়ি দিয়ে জেলা সরকারি গ্রন্থগারে যেতে হয়। যা আমাদের জন্য অনেক কষ্টসাধ্যও দুরহ ব্যাপার। কিন্তু “সবার জন্য পড়া উন্মুক্ত পাঠাগার” থাকায় আমরা যখন খুশি তখন যে কোনো ধরণের বই পড়ে আনন্দিত হতে পারি ও জ্ঞান আরোহণ করতে পারি।

    পাঠাগারের সহযোগিতায় থাকা Alif Boiler Company-এর এমডি জি এম ইলিয়াস হাসান বলেন, পাঠাগারটি ধুলাউড়ি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে পাঠ্যভ্যাস তৈরীতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়েন শিক্ষার্থীরা। পাঠাগারটি জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করছে, যা তাদের ভবিষ্যতে আলোকিত মানুষ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তাই পাঠাগারটির উন্নয়নে সমাজের শিক্ষানুরাগী ও বিত্তবানদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানাচ্ছি।