Category: ব্লগ

  • বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পে নতুন উদ্যোগ 

    বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পে নতুন উদ্যোগ 

    বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প এক অপার সম্ভাবনার দেশ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, এবং আধ্যাত্মিক তীর্থস্থানের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক পর্যটন মানচিত্রে দেশটির অবস্থান এখনও প্রত্যাশার চেয়ে নিচে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ, ডিজিটাল রূপান্তর, এবং টেকসই পর্যটনের ধারণা এই শিল্পকে নতুন গতিশীলতা দিচ্ছে। সেন্ট মার্টিনের নীল জলরাশি থেকে শুরু করে সুন্দরবনের রহস্যময় ম্যানগ্রোভ, রাঙ্গামাটির পাহাড়ি নৈসর্গ থেকে কুয়াকাটার একলব্য সৈকত—বাংলাদেশের প্রতিটি কোণ যেন পর্যটকদের অপেক্ষায়। এই পরিবর্তনের মূলে আছে উদ্ভাবনী চিন্তা, আধুনিক অবকাঠামো, এবং বিশ্বস্ততার সাথে প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণের অঙ্গীকার।

    জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সচেতনতার যুগে বাংলাদেশে ইকো-ট্যুরিজম নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সুন্দরবন, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, এখন শুধু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল নয়—এটি হয়ে উঠেছে টেকসই পর্যটনের মডেল। সরকারি উদ্যোগে সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকাগুলোতে কমিউনিটি-ভিত্তিক ইকো-কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে পর্যটকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে থেকে ঐতিহ্যবাহী মধু সংগ্রহ বা নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। এছাড়া, বন বিভাগের সাথে যৌথভাবে চালু হয়েছে “গ্রিন সাফারি,” যেখানে ইলেকট্রিক ভেহিকেলে চড়ে বনের গহিনে প্রবেশ করা যায়, যা কার্বন নিঃসরণ কমায়।

    চট্টগ্রামের বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাথে যৌথভাবে গড়ে উঠেছে ইকো-ফ্রেন্ডলি রিসোর্ট। এখানে পর্যটকরা ম্রো বা মারমা সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি সরাসরি অনুভব করতে পারেন, হস্তশিল্প কেনেন, এবং জুম চাষের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি শেখেন। স্থানীয় যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গাইড হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যা বেকারত্ব কমাচ্ছে এবং আয় বৃদ্ধি করছে।

    তরুণ প্রজন্মের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের প্রসার ঘটেছে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপে স্কুবা ডাইভিং, কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং, এবং রাঙ্গামাটিতে রক ক্লাইম্বিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক উদ্যোগে বান্দরবানের নীলগিরি পাহাড়ে “জিপলাইন” চালু করা হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম। এছাড়া, কাপ্তাই লেকের জলরাশিতে জেট স্কিইং, কায়াকিং, এবং ফিশিং ট্যুরের আয়োজন করা হয়।

    বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে চলনবিল এলাকায় “হট এয়ার বেলুন” চালুর পরিকল্পনা চলছে, যা থেকে পর্যটকরা মাঠভরা সোনালি ধানের দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। এ ধরনের উদ্যোগ পর্যটনকে শুধু বিলাসবহুলই নয়, রোমাঞ্চকর করে তুলছে।

    ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পর্যটন খাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের “ভার্চুয়াল ট্যুর” প্ল্যাটফর্মে এখন ঘরে বসেই দেখা যায় সুন্দরবন, কক্সবাজার, বা মহাস্থানগড়ের ৩৬০-ডিগ্রি ভিউ। এছাড়া, “বাংলাদেশ ট্যুরিজম” মোবাইল অ্যাপ চালু হয়েছে, যেখানে পর্যটন স্পটের বিস্তারিত তথ্য, হোটেল বুকিং, এবং গাইড সার্ভিস পাওয়া যায়।

    স্মার্ট টিকিটিং সিস্টেমের মাধ্যমে এখন ঐতিহাসিক স্থান যেমন লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, বা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে অনলাইনে টিকিট কাটা যায়। ক্যাশলেস লেনদেনের জন্য পর্যটন স্পটগুলোতে ই-পেমেন্ট বুথ স্থাপন করা হয়েছে, যা বিদেশি পর্যটকদের জন্য সুবিধাজনক।

    বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাসকে পর্যটন শিল্পের সাথে যুক্ত করতে সাম্প্রতিক উদ্যোগে প্রাচীন স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের ইদ্রাকপুর কেল্লা, পঞ্চগড়ের ভিতরগড় দুর্গ, বা নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দা রাজবাড়ীকে পুনরুদ্ধার করে পর্যটন মানচিত্রে যুক্ত করা হয়েছে। “লিভিং হেরিটেজ” প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় গাইডদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যারা পর্যটকদের সামনে ইতিহাসের গল্পকে প্রাণবন্তভাবে উপস্থাপন করেন।

    ঢাকার পুরানো শহর এলাকায় “ওয়াকিং ট্যুর” চালু হয়েছে, যেখানে পর্যটকরা লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারীবাজার, বা বড় কাটরা ঘুরে দেখতে পারেন মোগল ও ব্রিটিশ স্থাপত্যের নিদর্শন। এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে “হেরিটেজ ট্রেইল” হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

    শহুরে জীবনের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে গ্রামীণ বাংলাদেশের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গ্রামীণ পর্যটন নতুন দিগন্ত খুলেছে। সিলেটের জাফলং, মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া, বা নেত্রকোনার চলনবিলে গড়ে উঠেছে হোমস্টে ব্যবস্থা। স্থানীয় পরিবারের সাথে থাকা, ঐতিহ্যবাহী খাবার খাওয়া, এবং কৃষিকাজে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা বিদেশি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

    কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে “নদীভিত্তিক পর্যটন” চালু করা হয়েছে, যেখানে নৌকায় চড়ে চর এলাকা ঘুরে দেখা যায় এবং স্থানীয় মাছ ধরার পদ্ধতি শেখা যায়। এছাড়া, রাজশাহীর বাঘা মসজিদের পাশে গড়ে উঠেছে কারুশিল্প গ্রাম, যেখানে পর্যটকরা মৃৎশিল্প, বুনন, এবং নকশিকাঁথা তৈরির সরাসরি অভিজ্ঞতা নেন।

    বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে মেডিকেল ট্যুরিজমের বিকাশ ঘটছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আয়ুর্বেদিক রিসোর্ট, কক্সবাজারে সমুদ্রের জলবায়ুকে ব্যবহার করে অ্যাস্থমা চিকিৎসা, এবং সিলেটের চা বাগানের পরিবেশে যোগা-মেডিটেশন সেন্টার গড়ে উঠেছে। সরকারি উদ্যোগে নেত্রকোনার খালিয়াজুরি হট স্প্রিংকে ওয়েলনেস ট্যুরিজম হাব হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে প্রাকৃতিক গরম পানির সুবিধা কাজে লাগানো হবে।

    যদিও পর্যটন শিল্পে উন্নতি হচ্ছে, কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যটন স্পটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি, এবং পরিবেশ দূষণ প্রধান অন্তরায়। এছাড়া, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ইমেজ এখনও অনেকের কাছেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হয়।

    তবে সম্ভাবনার আলোও কম নয়। সরকারের “ট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান ২০৪১” এ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—পর্যটন খাতকে অর্থনীতির দ্বিতীয় বৃহত্তম খাতে পরিণত করা। এজন্য হাইস্পিড রেল সংযোগ, নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ, এবং পর্যটন পলিসিতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা চলছে।

    বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আজ স্বপ্নের ক্যানভাসে রং লাগাচ্ছে। ইকো-ট্যুরিজম থেকে অ্যাডভেঞ্চার, গ্রামীণ জীবন থেকে হেরিটেজ—প্রতিটি উদ্যোগ দেশকে বিশ্বের দরবারে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে। এই যাত্রায় সরকার, বেসরকারি খাত, এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমন্বয়ই হলো সাফল্যের চাবিকাঠি। আসুন, আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলি পর্যটকের স্বপ্নের গন্তব্য—যেখানে প্রকৃতি, ইতিহাস, এবং আতিথেয়তা মিলে তৈরি করবে অনন্য এক অভিজ্ঞতা।

     

  • মোটিভেশনাল মিটিংয়ে প্রধান অতিথি রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি

    মোটিভেশনাল মিটিংয়ে প্রধান অতিথি রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি

    রনজিৎ সরকার রাজ ,দিনাজপুর প্রতিনিধি:
    গতকাল শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি’২০২৫ দুপুরে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানায় মোটিভেশনাল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ বিভাগ, রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ শরীফ উদ্দিন.

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বীরগঞ্জ সার্কেলের দায়িত্বে দিনাজপুর সদরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ জিন্নাহ আল মামুন।উপস্থাপনা সহ সার্বিক পরিচালনা করেন বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল গফুর।

    সে সময় উপস্থিত ছিলেন থানায় কর্মরত এসআই জাহাঙ্গীর বাদশা রনি, আশরাফুল ইসলাম, সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) সিরাজুল ইসলাম, দেবাশীষ চন্দ্র বর্মন, সুমন দেবনাথ, শরিফুল ইসলাম।এ্যাসিস্টেন্ট সাব ইন্সপেক্টর নিরস্ত্র সিরাজুল আওলাদ সুমন, মোহাম্মদ আলী, হাকিকুল ইসলাম, নির্মল চন্দ্র রায়, দীনেশ চন্দ্র রায়, শিবু রায়, জাহাঙ্গীর কবিরসহ সকল অফিসার ও ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।

    বীরগঞ্জের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বীরগঞ্জ থানার চলমান কর্মকান্ডে প্রধান অতিথি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

  • পবিত্র রমজান মাসে সুস্থ থাকতে যেসব খাবার খেতে পারেন

    পবিত্র রমজান মাসে সুস্থ থাকতে যেসব খাবার খেতে পারেন

    বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মাস পবিত্র রমজান। ইফতার রোজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইফতারে আমরা সাধারণত প্রথমে পানি বা শরবত পান করি। এরপর খেজুর বা সহজপাচ্য শর্করা, যেমন দই-চিড়া, গুড়ের পায়েস, ওটমিল, চিয়া পুডিং (এসব খাবারের সঙ্গে চাইলে পছন্দমতো বিভিন্ন বাদাম, ফল মিশিয়ে) দিয়ে ইফতার করা যেতে পারে। এসব খাবার শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং পেট ঠান্ডা রাখে।

    আমরা অনেকেই ইফতারে পানি খেয়েই ভাজাভুজি, যেমন ছোলা, পিঁয়াজি, বেগুনি খেতে ভালোবাসি। সারা দিন রোজা রাখার পর এসব খাবারে বুকজ্বালা, পেটব্যথা, বুক ধড়ফড় করতে পারে; রক্তে ক্ষতিকর চর্বি বাড়তে পারে। আর ওজন তো বাড়বেই। কারণ, এসব তৈলাক্ত, চর্বিযুক্ত খাবারে প্রচুর ক্যালরি থাকে।

    ইফতারে পুষ্টি উপাদানগুলো যেন সহজেই পাওয়া যায়, তেমন খাবার খেতে হবে। নমুনা হিসেবে এনার্জি বুস্ট করে এমন কিছু খাবারের কথা বলা যায়। যেমন ইফতারের শুরুতেই খেতে হবে দই, লাল চিড়া, কলা, বাদাম, খেজুর—সবকিছু একসঙ্গে মিশিয়ে অথবা গ্রহণ করতে হবে সহজে হজমযোগ্য, যেমন তরলজাতীয় খাবার বা ফলের জুস বা স্মুদি।

    মাগরিবের নামাজের পর বা এক-দুই ঘণ্টা পর

    ● হালিম খুব পুষ্টিকর খাবার। এটি খাওয়া যায়। কারণ, হালিম কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাটের ভালো উৎস।

    ● সেদ্ধ ছোলা, মুড়ি, টমেটো, শসার পাশাপাশি পছন্দের ভাজাপোড়ার মধ্যে একটি-দুটি সিলেক্টিভ আইটেম, যেমন পিঁয়াজু, আলুর চপ কম তেলে ভেজে খাওয়া যায়।

    ● সবজি ও ডিম বা চিকেন স্যুপ খুব স্বাস্থ্যকর। এমন খাবার থেকে প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলস পাওয়া যায়।

    ● বিভিন্ন ফল দিয়ে তৈরি ‘সালাদ’ পুষ্টিকর খাবার। এটি শরীরকে হাইড্রেট রাখে।

    অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয়। পেটের সমস্যা এড়াতে তোকমা, ইসবগুল ও তাজা ফলের রস এ সমস্যায় সাহায্য করে। শরীরকে যথাসম্ভব হাইড্রেট রাখা দরকার, যেন পানিশূন্যতা না হয়। সারা দিন রোজা রেখে অতিরিক্ত না খেয়ে খেতে হবে ধীরে ধীরে ও ভালোমতো চিবিয়ে। এতে শরীর সুস্থ থাকবে ও পরের দিনের রোজা রাখার জন্য নিজেকে সুস্থভাবে তৈরি করা যাবে।

  • সুপারফুড’ কিনোয়ার উপকারিতা, কীভাবে ও কতটুকু খাবেন

    সুপারফুড’ কিনোয়ার উপকারিতা, কীভাবে ও কতটুকু খাবেন

    সুপারফুড হিসেবে পরিচিত কিনোয়া এখন দেশের অনেকের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে এখনও অনেকে এটির উপকারিতা এবং খাওয়ার পরিমাণ ও নিয়ম জানেন না।

    চলুন জেনে নিই এএমজেড হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের পুষ্টি, ওবেসিটি, ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক ডিজিজ কনসালটেন্ট ডা. মো. জয়নুল আবেদীন দীপুর কাছ থেকে।

    কিনোয়া কী

    ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, কিনোয়া হলো এক ধরনের ছদ্মশস্য। এগুলো এক ধরনের বীজ হলেও শস্যের মতো ব্যবহার করা যায়। এই শস্য দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিয়ান অঞ্চলে হাজার বছর ধরে খাওয়া হচ্ছে। কিনোয়া গ্লুটেনমুক্ত, প্রোটিন সমৃদ্ধ এবং অত্যন্ত পুষ্টিকর।

    কিনোয়ার বেশ কয়েকটি ধরন আছে। যেমন-

    সাদা কিনোয়া: সবচেয়ে নরম ও হালকা স্বাদের। এটি রান্না করা সহজ।

    লাল কিনোয়া: সালাদ ও বেকিংয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। কারণ এটি শক্ত থাকে।

    কালো কিনোয়া: সবচেয়ে বেশি চিবানোর মতো এবং হালকা মিষ্টি স্বাদের।

     কিনোয়ার পুষ্টিগুণ

    কিনোয়াকে ‘সুপারফুড’ বলা হয় কারণ এতে প্রচুর প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে। প্রতি ১ কাপ রান্না করা কিনোয়ায় ৮ থেকে ৯ গ্রাম প্রোটিন, ৫ গ্রাম ফাইবার থাকে। এছাড়া ভিটামিন ও মিনারেল আছে যেমন- ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন বি ও ই। এছাড়াও আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট:  কোয়েরসেটিন ও কেমফেরল।

    কিনোয়া কীভাবে এবং কতটুকু খাবেন

    ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, কিনোয়া বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। যেমন- ভাতের বিকল্প হিসেবে, সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে, সকালের নাশতায় ওটমিল বা স্মুদি বোলের সঙ্গে, স্যুপে ব্যবহার করে। এছাড়া রান্না করা কিনোয়া দই বা দুধের সঙ্গে খেতে পারেন।

    পরিমাণ

    প্রতিদিন ১/২ থেকে ১ কাপ রান্না করা কিনোয়া খাওয়া ভালো। যারা প্রথমবার খাচ্ছেন, তারা কম পরিমাণে শুরু করতে পারেন (১/৪ কাপ)।

    কিনোয়ার উপকারিতা

    ১. কিনোয়া উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ। এতে ৯টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড আছে, যা শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    ২. যেহেতু কিনোয়া গ্লুটেনমুক্ত, যারা গ্লুটেন সেনসিটিভ বা সিলিয়াক রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য কিনোয়া উপযুক্ত।

    ৩. কিনোয়া ওজন কমাতে সহায়তা করে। ফাইবার ও প্রোটিন থাকার কারণে এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

    ৪. এটি হৃদযন্ত্রের জন্যও ভালো। কিনোয়াতে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষা করে।

    ৫.  কিনোয়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো।

    ৬. কিনোয়া হজমে সহায়ক। উচ্চ ফাইবার থাকার কারণে এটি হজম ভালো রাখে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

    সতর্কতা

    কিনোয়া খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে। কিনোয়াতে স্যাপোনিন থাকার কারণে কিছু মানুষের জন্য হজমে সমস্যা হতে পারে। রান্নার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিলে এটি এড়ানো যায়। বেশি পরিমাণে খেলে পেটে গ্যাস বা ফোলাভাব হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। অতিরিক্ত কিনোয়া খেলে কিডনির সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যদি শরীরে অক্সালেট সংবেদনশীলতা থাকে।

    ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, এসব সমস্যা এড়ানোর জন্য যদি নতুন করে কিনোয়া খেতে শুরু করেন, তবে অল্প পরিমাণে শুরু করুন এবং শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখুন। তারপর চাইলে বেশি পরিমাণ খেতে পারেন।

  • বীরগঞ্জে ইকো ভিলেজ ডিজাইন শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

    বীরগঞ্জে ইকো ভিলেজ ডিজাইন শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

    রনজিৎ সরকার রাজ, দিনাজপুর সংবাদদাতা:
    দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ১০ নং মোহনপুর ইউনিয়নের আরাজি গোবিন্দপুর গ্রামে বীরগঞ্জ এরিয়া প্রোগ্রাম ওর্য়াল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর আয়োজনে ইকো-ভিলেজ ডিজাইন শিক্ষা বিষয়ক তিন দিনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

    গত মঙ্গলবার থেকে আজ বৃহস্পতিবার এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইকো-ভিলেজের ৩০ জন সদস্য অংশ গ্রহন করেন। প্রশিক্ষন প্রদান করেন ইকো-ভিলেজের প্রশিক্ষক শাহিনা বেগম ও দেলোয়ার হোসেন ।
    এ উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবী সমাজ কল্যান পরিষদের প্রধান উপদেষ্ঠা উত্তম শর্মা।

    এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাটির গুনাগুন পরিক্ষা, জৈব বালাইনাশক সার তৈরি, মাছের টনিক,বজ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরন,জৈব সার ব্যবস্থপনায় বাড়ির আঙ্গিনায় শতভাগ ব্যবহার করে বিষমুক্ত শাক সবজি উৎপাদন,সমতল বাগান,বেইজ বেড,চৌক্
    াপাঠালি, গর্ত পদ্ধতি,ঝুলন্ত বাগান,কেঁচোকমপোষ্ট,ভার্মিকম্পপোস্ট সার তৈরি ও ব্যবহার,মাছের টনিক,সবুজ সার তৈরির এ পদ্ধতি গুলো অংশগ্রহনকারীদের মাঠ পর্যায়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়।

  • প্রতিদিন ২ কোয়া কাঁচা রসুন খেলে এই উপকারগুলো পাবেন

    প্রতিদিন ২ কোয়া কাঁচা রসুন খেলে এই উপকারগুলো পাবেন

    কাঁচা রসুনের অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে। প্রাকৃতিক এই সুপারফুড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা থেকে শুরু করে হৃদরোগের ঝুঁকি পর্যন্ত কমাতে পারে। রান্না রসুনের উপকারিতা তো রয়েছেই, তবে কাঁচা অবস্থায় খেলে এটি আরও বেশি পুষ্টি প্রদান করে। জেনে নিন প্রতিদিন ২ কোয়া কাঁচা রসুন খেলে কোন কোন উপকার পাবেন।

    ১। ঘন ঘন সর্দি ও সংক্রমণ নিয়ে চিন্তিত? কাঁচা রসুনের শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শরীরকে অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। ২০১৫ সালের একটি গবেষণা বলছে,  রসুনে থাকা অ্যালিসিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াকে দূরে রাখে। নিয়মিত এটি খেলে সর্দি, ফ্লু এবং সংক্রমণের তীব্রতা এবং প্রবণতা কমে।

    ২। উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক। গবেষণা বলছে, কাঁচা রসুন এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। রসুন রক্তনালীকে শিথিল করতে এবং রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ২০২০ সালের একটি গবেষণা বলছে, রসুন খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল স্থিতিশীল রাখে। ফলে কমে হৃদরোগের ঝুঁকি।

    ৩। আমাদের শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে বিষমুক্ত করে রসুন। কাঁচা রসুন ক্ষতিকারক পদার্থ বের করে দিয়ে লিভার পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এতে সালফার যৌগও রয়েছে যা ভারী ধাতুর বিষাক্ততা থেকে রক্ষা করে, লিভার এবং কিডনির মতো অঙ্গগুলোর ক্ষতি কমায়।

    ৪। হজমে সাহায্য করে রসুন। এটি পাচক এনজাইম উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে এবং শরীরকে আরও দক্ষতার সাথে খাবার ভাঙতে সাহায্য করে। তাছাড়া এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য ক্ষতিকারক অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

    ৫। রসুনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা কোষের ক্ষতি এবং বার্ধক্যের জন্য দায়ী ফ্রি র‍্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে কাঁচা রসুন নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কোষের মিউটেশন রোধ করে এবং টিউমারের বৃদ্ধি ধীর করে পাকস্থলী এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসারসহ কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে।

    তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া 

  • বসন্তবরণে প্রাণের ছোঁয়া

    বসন্তবরণে প্রাণের ছোঁয়া

    শীতের কাঁপনে নির্জীব প্রকৃতিতে আগমনী সুর নিয়ে আসছে বসন্ত উৎসব। দখিনা বাতাস, নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় দরজায় কড়া নাড়ছে বসন্ত। বসন্তকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
    এদিকে আগামীকাল ঋতুরাজ বসন্ত বরণের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। পহেলা ফাল্গুন বসন্তবরণ উৎসব। ২২৫ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বসন্তবরণের আয়োজন করেছে একাডেমি। রাজধানী রমনায় বিকাল সাড়ে তিনটায় শতায়ু অঙ্গনের পাশে মঞ্চে পরিবেশিত হবে শিশু-নৃত্যদল এবং শিশু সঙ্গীত দলের এই পরিবেশনা।
    অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বিকাল সাড়ে ৪টায় বসন্তের রঙিন শোভাযাত্রা শুরু হবে। শোভাযাত্রাটি রমনা পার্ক থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সমবেত হবে। বিকাল সাড়ে ৫টায় একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে আয়োজন করা হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
    শিল্পকলার বসন্তবরণের এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী র.আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।
    শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি সচিব খলিল আহমদ। স্বাগত বক্তৃতা করবেন একাডেমির সচিব সালাহউদ্দিন আহাম্মদ।
    উন্মুক্ত মঞ্চের এ আয়োজনে শুরুতেই পরিবেশিত হবে দলীয় ‘ঢাক নৃত্য’। পরিবেশন করবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যদল। পরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি নৃত্যদল পরিবেশন করবে দলীয় নৃত্য ‘শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা’। এরপর দলীয় সংগীত ‘আনন্দ লোকে’ পরিবেশন করবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি শিশু সংগীত দল। দ্বৈত আবৃত্তি ‘রুমঝুম কে বাজায়’ পরিবেশন করবেন ডালিয়া আহমেদ ও জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। একক সংগীত ‘যেথা রামধনু উঠে হেসে’ পরিবেশন করবেন মেহরিন মাহমুদ।
    এরপর দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করবেন নওশিন তাবাসসুম স্মরণ এবং মোমিন বিশ্বাস। ধারাবাহিক পরিবেশনায় দলীয় নৃত্য ‘সুন্দরের অতন্দ্র প্রহরী’ পরিবেশন করবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি শিশু নৃত্য দল। এরপর দ্বৈত নৃত্য ‘আজি দক্ষিণ পবনে’ পরিবেশন করবে আবু নাইম এবং আনন্দিতা খান। দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করবেন শারমিন সাথী ইসলাম এবং বুলবুল ইসলাম। এরপর আবার দলীয় সংগীত ‘মন শুধু মন ছুয়েছে’ পরিবেশন করবে ঢাকা সাংস্কৃতিক দল। দ্বৈত আবৃত্তি করবেন তামান্না তিথি ও মাহিদূল ইসলাম। দলীয় নৃত্য ‘বসন্ত মুখর আজি’/‘নীল দিগন্তে’ পরিবেশন করবে রেওয়াজ পারফর্মার্স স্কুল। নৃত্য পরিচালনা করেছেন মুনমুন আহমেদ। দ্বৈত নৃত্য ‘বিশ্ববীণা রবে/আজ সখি’ পরিবেশন করবেন সামিনা হোসেন এবং মাহতাব মেহেদী। এরপর একক সংগীত ‘চেনা চেনা লাগে’ পরিবেশন করবেন মো: ইউসুফ আহমেদ খান। দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করবেন কিরণ চন্দ্র রায় এবং চন্দনা মজুমদার। দ্বৈত নৃত্য ‘ফাগুন লেগেছে শাখে শাখে’ পরিবেশন করবেন জুয়েইরিয়াহ মৌলি এবং মারিয়া ফারিহ উপমা। এরপর দলীয় ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠী নৃত্য পরিবেশন করবে তপস্যা নৃত্যদল। পরিচালনা করেছেন নৃত্য পরিচালক- ফিফা চাকমা। এরপর দ্বৈত আবৃত্তি করবেন শিমুল মোস্তফা এবং রূপা চক্রবর্তী। দ্বৈত নৃত্য ‘একটুকু ছোঁয়া লাগে’ পরিবেশন করবেন অনিক বোস এবং কস্তুরী মুখার্জী। এরপর দলীয় নৃত্য ‘অবাক চোখে’ পরিবেশন করবে কত্থক নৃত্য সম্প্রদায়। নৃত্য পরিচালনা করেছেন নৃত্য পরিচালক সাজু আহমেদ। পরে, পরিবেশিত হবে দ্বৈত নৃত্য ‘বাগিচায় বুলবুলি’, পরিবেশন করবেন আরোহী ইসলাম (আরিফুল ইসলাম অর্ণব) এবং হেনা হোসেন। সবশেষ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যদলের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে ফ্যাশন ডান্স প্যারেড।
    এদিকে ঢাকা রির্পোটার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এবছর বসন্তবরণ উৎসব ও ভালোবাসা দিবস উদযাপন উপলক্ষে ‘ভালোবাসার দিনে বসন্ত উৎসব’ শিরোনামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বেলা ১২টায় ডিআরইউ বাগানে বাউল গানের আসর অনুষ্ঠিত হবে। ফকির লালন সাঁই, বাউলসাধক শাহ আব্দুল করিমসহ বাংলার লোককবিদের বাউল গান শোনাবেন শিল্পকলা একাডেমির বাউলদল।

  • কাঁচা হলুদের চা পানের যত উপকার

    কাঁচা হলুদের চা পানের যত উপকার

    কাটা-ছেঁড়া হোক বা ত্বকের যত্ন, কিংবা পেটের অসুখ সারানো, কাঁচা হলুদের কোনো তুলনা হয় না। রক্ত পরিষ্কার করতেও এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা হলুদে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন বি-৬, পটাশিয়াম, ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন সি। এতে আরও রয়েছে কারকিউমিন যৌগ। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই যৌগ বেশ উপকারী। কাঁচা হলুদে রয়েছে জীবাণুনাশক ক্ষমতা। তাই এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবেও কাজ করে।

    কাঁচা হলুদের গুণাগুণ

    • কাঁচা হলুদ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
    • কাঁচা হলুদে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকে, যা আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমায়।
    • ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য কাঁচা হলুদ বেশ উপকারী। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে সহায়তা করে।
    • কাঁচা হলুদ হজমশক্তি বাড়িয়ে দেয়। ফলে সহজেই খাবার পরিপাক হতে সাহায্য করে।
    • গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে আয়রনের ঘাটতি তৈরি হলে কাঁচা হলুদ খেলে উপকার মেলে।
    • বিশেষজ্ঞদের দাবি, কারকিউমিন এলডিএল এবং টোটাল কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করে। ফলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
    • কাঁচা হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিনে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য। যা বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে খাদ্যনালিকে সুরক্ষিত রাখে।
    • কাঁচা হলুদ বাত ও জয়েন্টে ব্যথা, কোলাইটিজ়, অ্যালার্জি এবং সংক্রমণের মতো জ্বালাপোড়া দূর করতে পারে।
    • ক্যান্সা‌র প্রতিরোধেও এই ভেষজ দারুণ উপকারী।

    হলুদ চায়ের উপকার

    • বিশেষজ্ঞদের দাবি, হলুদ চা ক্যান্সা‌র প্রতিরোধে সক্ষম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যান্সা‌র ইনস্টিটিউট কাঁচা হলুদে উপস্থিত কারকিউমিন যৌগকে কার্যকর অ্যান্টিকার্সিনোজেন পদার্থ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা ক্যান্সা‌র প্রতিরোধে সহায়তা করে।
    • দীর্ঘদিন ধরে আলসারেটিভ কোলাইটিজ (ইউসি) রোগে ভুগলে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের নীচের অংশে আলসার হতে পারে। কাঁচা হলুদ এই রোগ সৃষ্টিতে বাধা দেয়।
  • বায়ুদূষণে অধুমপায়ীরাও ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন

    বায়ুদূষণে অধুমপায়ীরাও ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন

    বায়ুদূষণের প্রভাবে অধূমপায়ীরাও নিয়মিত ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। নারী ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাসিন্দাদের মাঝে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।  

    আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রবন্ধের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    ক্যানসারে আক্রান্তদের বেশিরভাগই ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হন। গবেষণা প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালে সারা বিশ্বে ২৫ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

    বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে আজ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেটে এই গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ পেয়েছে।

    আক্রান্তদের বেশিরভাগই পুরুষ। তবে নারীদের মাঝেও এই রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। ২০২২ সালে আক্রান্ত ২৫ লাখ রোগীর মধ্যে প্রায় ১০ লাখই নারী।গবেষকরা উল্লেখ করেন, ১৮৫ দেশে ফুসফুসের ক্যানসারের উপ-ধরন অ্যাডিনোকার্সিনোমা নারীদের মধ্যে বেশি দেখা দিয়েছে। চীনের অর্থায়নে পরিচালিত হয় এই গবেষণা।

    প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ‘বায়ুদূষণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এতে অ্যাডিনোকার্সিনোমার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়া যায়। বিশ্বজুড়ে “কখনো ধূমপান করেননি” এমন অসংখ্য মানুষ ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের ৫৩ থেকে ৭০ শতাংশই অ্যাডিনোকার্সিনোমায় আক্রান্ত।’

    ২০২০ থেকে ২০২২ সালে নারী ও পুরুষ, উভয়ের মাঝেই আক্রান্তের হার বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে নারীদের মাঝে—ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে ৬ জনই অ্যাডিনোকার্সিনোমায় আক্রান্ত হন।গবেষকরা জানান, ‘একদিকে যেমন বিশ্বজুড়ে ধূমপানের প্রবণতা কমছে, অপরদিকে, যারা কখনো ধূমপান করেননি, তাদের মাঝে ক্যানসারের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।’

    ‘বিশ্বজুড়ে ক্যানসার সংক্রান্ত মৃত্যুর শীর্ষ কারণের পাঁচ নম্বরে আছে অধূমপায়ীদের ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া। এবং এ ক্ষেত্রে প্রায় সবাই অ্যাডিনোকার্সিনোমায় আক্রান্ত হয়েছেন। নারী ও এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি’। এই সমীক্ষায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরিসংখ্যানগত গবেষণা চালানো হয়েছে।

    গবেষকরা উল্লেখ করেন, বায়ু দূষণের কারণে অ্যাডিনোকার্সিনোমায় আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে পূর্ব এশিয়ায়। একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন চীনের বাসিন্দারা।

    তারা জানান, ‘চীনে ঘর উষ্ণ রাখা ও রান্নার প্রয়োজনে কাঠ ও অন্যান্য তরল নয় এমন জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট বায়ু দূষণ ফুসফুসের ক্যানসারের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে

  • ঈশ্বরদী থানায় আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার: শহিদুল ইসলামের সাফল্য

    স্টাফ রিপোর্টারঃ  পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানা গত কয়েক মাসে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে থানার কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আসে।

    অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত জটিল। ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানের পরে বিভিন্ন থানার পুলিশ পালিয়ে যাওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটেছিল। এই পরিস্থিতিতে শহিদুল ইসলাম কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে থানার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হন।

    ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে ঈশ্বরদী থানা অত্যন্ত সফল হয়। অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণে তাঁর কার্যক্রম ছিল অসাধারণ। মাদক ব্যবসায়ীর হাতে গাঁজা, ফেন্সিডিল, হেরোইন, ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় ব্যাপক সংখ্যক অপরাধীকে আটক করা হয়।

    থানার পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম শুধু অপরাধ দমন করেননি, বরং নিখোজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই কার্যক্রম এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।

    মোট গ্রেফতার ১৮৬ জন, মামলা ১৮৭টি, মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধার- এসব তথ্য প্রমাণ করে ঈশ্বরদী থানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে শহিদুল ইসলামের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।