Category: ব্লগ

  • আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বিধিনিষেধ পরিবর্তন

    আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বিধিনিষেধ পরিবর্তন

    বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ইতিহাসে কোভিড-১৯ মহামারি এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। ২০২০ সালের শুরুতে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই দেশে দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, কোয়ারেন্টাইন নীতি, এবং স্বাস্থ্যবিধির কঠোর প্রয়োগ দেখা গেছে। তবে সময়ের সাথে সাথে টিকা উদ্ভাবন, ভাইরাসের প্রকৃতি বোঝা, এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে এই বিধিনিষেধগুলোর ধারায় পরিবর্তন এসেছে। আজকের বিশ্বে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ শুধু পাসপোর্ট ও ভিসার অধীনেই নয়, এটি এখন স্বাস্থ্য সনদ, টিকার ডোজ, এবং জৈবনিরাপত্তার গ্যারান্টির সাথে জড়িত। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি ভ্রমণকারী, পর্যটন শিল্প, এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।

    মহামারির শুরুর দিকে দেশগুলো প্রবল অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে গেছে। ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো যখন সংক্রমণের চূড়ায়, তখন সীমান্ত বন্ধ করা হয়েছিল জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও কঠোর লকডাউন এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সময়ে শুধু জরুরি ভিত্তিতে কূটনৈতিক ও মানবিক ফ্লাইট পরিচালিত হতো। তবে এই বিধিনিষেধের অর্থনৈতিক ফলাফল ছিল ভয়াবহ—পর্যটন শিল্প ধসে পড়া, হাজারো মানুষ কর্মহীন হওয়া, এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে ধস নামা।

    ২০২১ সালের মাঝামাঝি টিকা উদ্ভাবনের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) টিকার বৈশ্বিক বন্টনের ওপর জোর দিলেও ধনী দেশগুলোর টিকা মজুদদারি “ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ” এর জন্ম দেয়। এই সময়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে টিকার সনদ বাধ্যতামূলক করা শুরু হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন “ইইউ ডিজিটাল কোভিড সার্টিফিকেট” চালু করে, যা টিকা, টেস্ট, বা সুস্থতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। এশিয়ার অনেক দেশ, যেমন সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া, “ভ্যাকসিন ট্রাভেল লেন” চালু করে নির্বাচিত দেশগুলোর সাথে ভ্রমণ সুবিধা বাড়ায়। তবে টিকার বৈষম্য ছিল সুস্পষ্ট—আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ টিকা সংকটে থাকায় তাদের নাগরিকরা ভ্রমণে পিছিয়ে পড়ে।

    ২০২২ সালে ওমিক্রন ভেরিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব বিধিনিষেধের পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে। যদিও এই ভেরিয়েন্ট দ্রুত ছড়ালেও গুরুতর অসুস্থতার হার কম ছিল, ফলে অনেক দেশ স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, এবং অস্ট্রেলিয়া বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন তুলে নেয় এবং টিকার সনদ বাধ্যতামূলক করা বন্ধ করে। এই নীতির পেছনে যুক্তি ছিল—”কোভিড-১৯ এর সাথে বসবাস শেখা”। তবে চীন, জাপান, এবং নিউজিল্যান্ড কঠোর শূন্য কোভিড নীতি বজায় রাখে, যা পরবর্তীতে অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক অসন্তোষের কারণে প্রত্যাহার করা হয়।

    বর্তমানে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্রায় পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে, তবে কিছু রেশ রয়ে গেছে। বেশিরভাগ দেশ এখন আর আগের মতো কঠোর টেস্ট বা কোয়ারেন্টাইনের বিধি রাখছে না। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য টিকার প্রমাণ চায়, কিন্তু আগের মতো নেগেটিভ টেস্টের রিপোর্ট জমা দিতে হয় না। অন্যদিকে, ভারত “এয়ার সুভিধা” অ্যাপ চালু করেছে, যেখানে ভ্রমণকারীরা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সকল ডকুমেন্ট আপলোড করতে পারেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, যেমন থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম, পর্যটন পুনরুজ্জীবনে বিশেষ ভিসা সুবিধা দিচ্ছে—যেমন “স্যান্ডবক্স প্রোগ্রাম” বা দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল নোমাড ভিসা।

    এই পরিবর্তনের মূলে কাজ করেছে অর্থনৈতিক চাপ। পর্যটনশিল্প বৈশ্বিক জিডিপির ১০% এবং ৩৩০ মিলিয়ন কর্মসংস্থানের উৎস। থাইল্যান্ডের মতো দেশ, যেখানে পর্যটন জিডিপির ২০% অবদান রাখে, তারা দ্রুত ভ্রমণ নীতি শিথিল করে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। একইভাবে, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল এবং ট্যাক্স ছাড়ের মতো প্রণোদনা দিয়েছে।

    তবে স্বাস্থ্য ঝুঁকি এখনও অমীমাংসিত। নতুন ভেরিয়েন্টের উত্থান, যেমন ক্রোনাস বা এরিস, কিছু দেশকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য করেছে। চীন ২০২৩ সালের শুরুতে শূন্য কোভিড নীতি তুলে নিলেও হঠাৎ সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে আবারও ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এই অনিশ্চয়তা ভ্রমণ শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে বাধা দিচ্ছে।

    ডিজিটাল প্রযুক্তি ভ্রমণ বিধিনিষেধ ব্যবস্থাপনাকে সহজ করেছে। “কমনপাস” বা “ভেরিফ্লাই” এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম স্বাস্থ্য সনদ যাচাইকে দ্রুত ও স্বচ্ছ করেছে। এছাড়া, বায়োমেট্রিক সিস্টেম, যেমন ফেসিয়াল রিকগনিশন, বিমানবন্দরে ভিড় কমাতে সাহায্য করেছে। তবে ডিজিটাল বিভাজন এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ—অনুন্নত দেশগুলোর অনেক নাগরিকের কাছে স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট সুবিধা সীমিত।

    ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নীতিতে স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, স্বাস্থ্য ঝুঁকির স্তরভেদে নীতি প্রণয়ন করতে—যেমন, “লাল”, “হলুদ”, ও “সবুজ” তালিকা তৈরি। এছাড়া, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং টিকা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি, যাতে ভবিষ্যতের মহামারিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।

  • পাইলস, এনাল ফিসার নাকি ফিস্টুলা?

    পাইলস, এনাল ফিসার নাকি ফিস্টুলা?

    আমাদের পায়খানার রাস্তায় বা মলদ্বারে হওয়া একটা কমন রোগ হলো পাইলস (Piles)/অর্শ, যাকে চিকিৎসা ভাষায় হেমোরয়েডস (Hemorrhoids) বলা হয়। পাইলস (Piles) এর মতই আরো দুইটি রোগ আমাদের পায়খানার রাস্তায় বা মলদ্বারে হয়ে থাকে, সেটা হলো এনাল ফিসার এবং ফিশ্চুলা। তিনটা রোগেরই কমন কিছু লক্ষণ আছে । তাই বেশিরভাগ সাধারণ মানুষই বুঝতে পারে না তার কোন রোগ হয়েছে? মানুষ এই সমস্যাগুলো নিয়ে তেমন একটা খোলামেলা ভাবে কথা বলে না কারণ অনেকেই এটাকে লজ্জাজনক সমস্যা মনে করে।

    এই ভাবেই পুরো জীবন চলে যায় সে বুঝতেই পারে না যে তার কি আসলে কি হয়েছে আর কি ধরনের চিকিৎসা নেওয়া উচিত। আমাদের দেশে নিজে নিজে ঔষধ খাওয়ার একটা প্রবণতা আছে। বিশেষ করে এ ধরনের অসুস্থাতে টোটকা চিকিৎসাই বেশি নিয়ে থাকে। আপনি যদি এই সমস্যাগুলোর পার্থক্য সর্ম্পকে ভাল ভাবে জানেন তাহলে আরো ভাল ভাবে আপনার চিকিৎসা করাতে পারবেন। আজকে আমরা শুধুমাত্র পাইলস (Piles)/অর্শ বা হেমোরয়েডস (Hemorrhoids) নিয়ে জানবো।

    আমাদের মলদ্বারে অনেক গুলো রক্তনালীর গুচ্ছ থাকে (Blood vessel bunch)। যদি কোনো কারণে পায়খানা করার সময় অনেক বেশি চাপ দেওয়া লাগে, আর্শ জাতীয় খাবার কম খেলে, পায়খানা কষা হলে, অনেক কাশি হলে, মলদ্বারে চাপ বেশি লাগলে রক্তনালীর গুচ্ছ গুলো বড় হযে যায় এবং সেখান থেকে রক্ত বের হয়। এটাই পাইলস। এটা কম হতে পারে আবার বেশিও হতে পারে। এটার উপর নির্ভর করে পাইলসকে চারটা গ্রেডে ভাগ করা হয়।

    গ্রেডঃ ১

    আপনার পাইলস আছে কিন্ত আপনি বুঝতে পারেন না। আপনার পায়খানা শক্ত হচ্ছে, পরিষ্কার হচ্ছে না। আপনি চিকিৎসকের কাছে গেলে উনি মলদ্বার পরিক্ষা করে বললেন আপনার পাইলস হয়েছে।

    গ্রেডঃ ২

    এই ক্ষেত্রে আপনি যখন পায়খানায় করে বাহিরে আসেন তখন বলেন কিছু একটা মলদ্বার থেকে বের হচ্ছে তবে সেটা আবার ভেতরে চলে যাচ্ছে।

    গ্রেডঃ ৩

    এই ক্ষেত্রে কিছু একটা মলদ্বার থেকে বের হচ্ছে তবে সেটা আপনাআপনি ভেতরে যায়না আপনাকে হাত দিয়ে ঠেলে ভেতরে ঢুকাতে হয়।

    গ্রেডঃ ৪

    এই ক্ষেত্রে কিছু একটা মলদ্বার থেকে বের হচ্ছে আপনি হাত দিয়ে ঠেলে ভেতরে ঢুকাতে পারবেন না।

    পাইলস দুই ধরনের হয়

    ১. ইন্টারনাল পাইলস (Internal Hemorrhoids): মলদ্বারের ভিতরে হয়।

    ২. এক্সটারনাল পাইলস (External Hemorrhoids): মলদ্বারের বাইরের দিকে হয়।

    কেন পাইলস হয়?

    পাইলস হওয়ার কিছু সাধারণ কারণ:

    • দীর্ঘসময় ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য
    • অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মল ত্যাগ করা
    • গর্ভাবস্থা
    • মোটা হওয়া (ওজন বেশি হওয়া)
    • দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা বা বসে থাকা
    • লো ফাইবার (তন্তুযুক্ত) খাদ্যাভ্যাস
    • বারবার ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা

    পাইলসের লক্ষণগুলো কী কী?

    • পায়খানার সময় রক্ত যাওয়া (সাধারণত টাটকা লাল রক্ত)
    • মলদ্বারে ব্যথা বা জ্বালা
    • মলদ্বারের বাইরে চাকা বা গাঁট দেখা যাওয়া
    • চুলকানি বা অস্বস্তি
    • বসার সময় অস্বস্তি লাগা

    পাইলস হলে কী খাওয়া যাবে?

    যা খাওয়া উচিত:
    ফাইবারযুক্ত খাবার যেমন:

    • শাকসবজি (লাউ, পুঁইশাক, মিষ্টিকুমড়া ইত্যাদি)
    • ফল (পেঁপে, কলা, আমড়া, বেল)
    • দানাশস্য (লাল চাল, ওটস, ব্রাউন রাইস)
    • পানি বেশি করে পান করা (দিনে অন্তত ২.৫-৩ লিটার)
    • ইসবগুলের ভুসি (কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে উপকারী)

    যা খাওয়া এড়ানো উচিত:
    ❌ অতিরিক্ত ঝাল বা মসলা জাতীয় খাবার
    ❌ ভাজাপোড়া খাবার
    ❌ ফাস্টফুড
    ❌ মদ্যপান
    ❌ বেশি চা বা কফি

     

    লেখকঃ

    ডাঃ মুরাদ আলী

    এমডি (হোমিওপ্যাথি), ভারত।

    লেকচারার ইন মেডিসিন (এস.এইচ.এম.সি.এইচ)

    ফাউন্ডার: ইনফো হোমিও।

    মোবাইল: ০১৭৩৩-১৯৩০৬১

  • সৌদি আরবকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব আমিরাত

    সৌদি আরবকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব আমিরাত

    চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের প্রধান উৎস ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে—এ সময়ে শীর্ষ ৩০ দেশ থেকে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৫ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।

    গত ডিসেম্বরে এই রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ বেড়ে গেলেও জানুয়ারিতে তা কমতে শুরু করে। সম্ভবত উৎসব-পরবর্তী মন্দা ও অর্থনৈতিক সমন্বয়ের কারণে এমনটি হয়েছে।

    ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স এসেছে দুই দশমিক নয় বিলিয়ন ডলার। গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ৫৬৫ দশমিক শূন্য চার মিলিয়ন ডলার। জানুয়ারিতে তা কমে হয় ৪০৭ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার।

    দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল এক দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। গত ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্য থেকে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৪৮ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলার। গত জানুয়ারিতে তা বেড়ে হয় ২৭৩ দশমিক চার মিলিয়ন ডলার।একই সময়ে সৌদি আরব থেকে এসেছে এক দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। গত ডিসেম্বর এই দেশ থেকে এসেছে ২৯০ মিলিয়ন ডলার, যা জানুয়ারিতে কমে যায় ৩০ শতাংশ।

    রেমিট্যান্স আয়ের দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে থাকা আরব আমিরাত থেকে এসেছে দুই দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। এই দেশ থেকে গত ডিসেম্বরে এসেছিল ৩৭০ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার, যা জানুয়ারিতে কমে হয় ২৪৯ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার।

    শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে এসেছিল ৮৭৬ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলার ও কুয়েত থেকে ৮৬৭ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলার। রেমিট্যান্স আয়ের প্রেক্ষাপটে ইতালি, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    গত জানুয়ারিতে ইতালি থেকে এসেছিল ১৩১ মিলিয়ন ডলার। গত সাত মাসের মধ্যে তা সর্বোচ্চ।

    দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে মোট রেমিট্যান্স এসেছে যথাক্রমে ১৭৫ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলার, ৯৯ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার ও ৯৩ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার।

    ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স প্রেরণকারী দেশ। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ডিশটিংগুইশড ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রেমিট্যান্স আয়ের দিক থেকে আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র প্রধান উৎস হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ডলার ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের কাছ থেকে বেশি দামে ডলার কিনে তা আরও বেশি দামে অন্য ব্যাংকের কাছে বিক্রি করেছে।’

    এই সময়ে বিশেষ করে দুবাই এ ধরনের কাজের মূল কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে বলে জানান তিনি।

    ‘হঠাৎ সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স আসা কমে গেছে। অন্যদিকে, আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে। রেমিট্যান্সের উৎসের এই পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার।’

    পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী থাকায় এই দেশগুলো বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে থেকে গেছে।’

    তার মতে, ‘ঈদ, পূজা ও শীতকালে বিয়ের ধুম পড়লে তখন অভিবাসীরা দেশে টাকা পাঠান বলে সেই সময় রেমিট্যান্স আসা বেড়ে যায়।’

    রেমিট্যান্স প্রবণতা

    বাংলাদেশের অর্থনীতি রেমিট্যান্সের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত কয়েকটি দেশ মূল ভূমিকা পালন করে।

    ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, অভিবাসন নীতি ও শ্রমবাজারের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে দেশের রেমিট্যান্স আয়ের উৎসে পরিবর্তন দেখা গেছে।

    আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে প্রধান রেমিট্যান্স উৎস হিসেবে রয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে সেসব দেশ থেকে রেমিট্যান্স আসা বাড়ছে।

    ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স এসেছে দুই দশমিক শূন্য নয় বিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা তিন দশমিক শূন্য এক বিলিয়ন ডলার হয়।

    সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দুই দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা তিন দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার হয়।

    ২০২২-২৩ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স আসা বেড়ে দুই দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

    কয়েকটি দেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। আবার কয়েকটি দেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা কমবেশি হয়েছে।

    ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কুয়েত থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল এক দশমিক শূন্য তিন বিলিয়ন ডলার যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে বেড়ে হয় এক দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় এক দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার ধরে রেখেছে।

    যুক্তরাজ্য ও ইতালিসহ ইউরোপীয় দেশগুলো রেমিট্যান্সের শক্তিশালী উৎস হিসেবে আছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৮০৮ দশমিক দুই মিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় দুই দশমিক শূন্য আট বিলিয়ন ডলার।

    একই সময়ে ইতালি থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি, ৫১০ দশমিক শূন্য আট মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে এক দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার।

    রেমিট্যান্সের উদীয়মান ও ক্রমহ্রাসমান উৎস

    দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া থেকে রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আয় হয়েছে ৮০ দশমিক সাত মিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ১১৬ দশমিক চার মিলিয়ন ডলার।

    জাপান থেকে রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী।

    বিপরীতে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে রেমিট্যান্স আয় কমবেশি হচ্ছে। কাতার থেকে প্রথমে রেমিট্যান্স বাড়লেও পরে তা কমে যায়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ওমান থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৯৭ দশমিক দুই মিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে হয় ৭৬৬ দশমিক তিন মিলিয়ন ডলার।

    পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী এই বিষয়ে বলেন, ‘করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় রেমিট্যান্স এগ্রিগেটরের সংখ্যা বেড়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কাতার বা ওমানের মানি চেঞ্জাররা বাংলাদেশে ডলার পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রেমিট্যান্স এগ্রিগেটরের চ্যানেল ব্যবহার করে থাকতে পারে। এর ফলে কাতার ও ওমান থেকে রেমিট্যান্স কমেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেড়েছে।’

  • উপসাগরীয় ছয় দেশে এক ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ

    উপসাগরীয় ছয় দেশে এক ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ

    আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জগতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC) ভুক্ত ছয় দেশে একক ভিসার প্রবর্তন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন—এই ছয়টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত জিসিসি অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চল। সম্প্রতি এই দেশগুলোর মধ্যে একটি “ইউনিফাইড ট্যুরিস্ট ভিসা” চালুর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যা শেঙ্গেন ভিসার আদলে তৈরি হতে পারে। এই উদ্যোগ সফল হলে বিশ্বব্যাপী পর্যটক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের জন্য ভ্রমণ সহজ হবে, পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সমন্বয়ও শক্তিশালী হবে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিগত, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

    ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ওমানে অনুষ্ঠিত জিসিসি শীর্ষ সম্মেলনে ছয় দেশের নেতারা একক ভিসা ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেন। এই ভিসার মূল উদ্দেশ্য হলো পর্যটন শিল্পকে গতিশীল করা এবং জিসিসি অঞ্চলকে বৈশ্বিক ভ্রমণ বাজারে একটি সমন্বিত গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। বর্তমানে এই দেশগুলো পৃথকভাবে ভিসা ইস্যু করে থাকে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরব ২০১৯ সাল থেকে নির্বাচিত দেশের জন্য ই-ভিসা চালু করলেও কুয়েত এখনও প্রচলিত পদ্ধতিতে ভিসা দিয়ে থাকে। ইউনিফাইড ভিসা চালু হলে একজন পর্যটক একবার আবেদন করেই ছয় দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন, যা ভ্রমণ খরচ ৩০-৪০% কমিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, ব্যবসায়িক ভ্রমণ ও আন্তঃদেশীয় বিনিয়োগও বৃদ্ধি পাবে।

    একক ভিসা ব্যবস্থা জিসিসি অঞ্চলকে বৈশ্বিক পর্যটন মানচিত্রে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। এই দেশগুলোর রয়েছে বৈচিত্র্যময় আকর্ষণ—সংযুক্ত আরব আমিরাতের অত্যাধুনিক শহর দুবাই ও আবুধাবি, সৌদি আরবের ঐতিহাসিক মদিনা ও মক্কা, ওমানের প্রাকৃতিক নৈসর্গ, কাতারের বিশ্বকাপ-বিপ্লবী অবকাঠামো, বাহরাইনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং কুয়েতের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র। বর্তমানে এই দেশগুলো বছরে প্রায় ৫ কোটি পর্যটক গ্রহণ করে, যা একক ভিসার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ১২ কোটিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার ভ্রমণপিপাসুদের জন্য জিসিসি হয়ে উঠতে পারে একটি অখণ্ড ভ্রমণ সার্কিট, যেখানে মরুভূমির সাফারি, সমুদ্রসৈকতের বিলাসিতা ও ঐতিহ্যের সম্মিলন ঘটবে।

    এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে জিসিসি দেশগুলো একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে, যেখানে ভিসা আবেদন, অনুমোদন ও ট্র্যাকিং করা যাবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের “স্মার্ট গভর্ন্যান্স” মডেল এবং সৌদি আরবের “Vision 2030” প্রযুক্তিগত রূপান্তরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে। বায়োমেট্রিক ডেটা শেয়ারিং (যেমন ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেসিয়াল রিকগনিশন) এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে রিয়েল-টাইম ডেটা বিনিময়ের জন্য একটি কমন ডাটাবেস তৈরি করা হবে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

    যদিও অর্থনৈতিক সুবিধা স্পষ্ট, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতা এই উদ্যোগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে কাতার অবরোধ (২০১৭-২০২১), ইয়েমেন সংকট ও তেল নীতিকে কেন্দ্র করে মতপার্থক্য রয়েছে। একক ভিসা চালু করতে গেলে সীমান্ত নিরাপত্তা নীতিতে সমঝোতা প্রয়োজন, যা অর্জন সহজ নয়। এছাড়া, ভিসা রেভেনিউ বণ্টন নিয়েও দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব পর্যটন থেকে সর্বোচ্চ আয় করে; ছোট দেশগুলো (যেমন বাহরাইন) ভিসা আয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারে।

    জিসিসি দেশগুলোতে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বিপুল। একক ভিসা চালু হলে শ্রমিক পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এজন্য শ্রম ভিসার জন্য পৃথক নিয়ম প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এছাড়া, স্থানীয় সংস্কৃতি রক্ষায় পর্যটকদের জন্য গাইডলাইন তৈরি করতে হবে—যেমন সৌদি আরবের রক্ষণশীল পোশাক নীতি বা ওমানের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন মেনে চলা।

    জিসিসি ভিসা চালু হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রায় ২৫ লক্ষ বাংলাদেশি এই অঞ্চলে কাজ করেন; একক ভিসার মাধ্যমে তাদের জন্য আন্তঃদেশীয় চলাচল সহজ হতে পারে। এছাড়া, বাংলাদেশি পর্যটকরা কম খরচে উপসাগরীয় দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে এজন্য বাংলাদেশকে ডিজিটাল পাসপোর্ট সিস্টেম আপগ্রেড করতে হবে এবং ভিসা প্রক্রিয়ায় দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।

    জিসিসি নেতারা ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এর জন্য প্রয়োজন পর্যায়ক্রমিক পদক্ষেপ:

    ১. ফেজ ১ (২০২৪-২০২৬): প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো তৈরি ও ট্রায়াল রান।

    ২. ফেজ ২ (২০২৬-২০২৮): নির্বাচিত দেশে পাইলট প্রকল্প চালু (যেমন UAE-সৌদি-কাতার ট্রায়াঙ্গেল)।

    ৩. ফেজ ৩ (২০২৮-২০৩০): সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং।

    উপসাগরীয় একক ভিসা কেবল একটি ভ্রমণ নীতি নয়—এটি জিসিসি অঞ্চলের রাজনৈতিক ঐক্য, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের প্রতীক। এই উদ্যোগ সফল হলে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বায়নের নতুন মডেল হিসেবে আবির্ভূত হবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন আন্তরিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের উচিত এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতের সুযোগগুলো কাজে লাগানো যায়।

  • দেশে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসের ক্লাস্টার শনাক্ত: আইসিডিডিআরবি

    দেশে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসের ক্লাস্টার শনাক্ত: আইসিডিডিআরবি

    দেশে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসের ক্লাস্টার শনাক্ত করা হয়েছে। ঢাকায় আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় পাঁচজন জিকা-পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

    গবেষণা দলের প্রধান শফিউল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘জিকা শনাক্ত হওয়া পাঁচ জন মহাখালী এলাকার বাসিন্দা এবং তাদের ঠিকানা এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধ্যের মধ্যে। এ কারণেই এটাকে জিকা ভাইরাসের ক্লাস্টার বলা হচ্ছে।’

    নিবন্ধে বলা হয়, ‘নমুনাগুলোর মধ্যে পাঁচজনের জিকা ভাইরাস সংক্রমণের প্রমাণ এই ইঙ্গিত দেয় যে বাংলাদেশে এ রোগের প্রকৃত সংক্রমণ জানতে দেশব্যাপী স্ক্রিনিং প্রয়োজন।’যাদের জিকা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে দুই বছরের মধ্যে তারা বিদেশ ভ্রমণ করেননি।

    পাঁচ রোগীর মধ্যে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন, যা দেশে জিকা-ডেঙ্গু যৌথ সংক্রমণের প্রথম রেকর্ড।২০১৬ সালে আইইডিসিআরের এক গবেষণায় ২০১৪ সালে সংগ্রহ করা রোগীর নমুনায় দেশে প্রথম জিকা-পজিটিভ রোগী শনাক্ত করা হয়েছিল।

    ওই রোগীর বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস না থাকায়, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্রাজিলে ২০১৫ সালে জিকা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের আগেই বাংলাদেশে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে।জিকা ভাইরাস শুধু মশার মাধ্যমেই নয়, যৌন মিলন, রক্ত সঞ্চালন, মা থেকে শিশুতে সংক্রমণ এবং শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে বলে জানিয়েছে আইসিডিডিআরবি।

  • দাদ নাকি রিংওয়ার্ম? ছত্রাকের সংক্রমণে ত্বকের যত সমস্যা

    দাদ নাকি রিংওয়ার্ম? ছত্রাকের সংক্রমণে ত্বকের যত সমস্যা

    দাদ রোগ একটি পরিচিত চর্মরোগ। এই রোগটি ছত্রাক বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের কারণে ঘটে। একে মেডিকেল ভাষায় টিনিয়া কর্পোরিস (Tinea Corporis )বা রিং ওয়ার্ম(Ring worm) বলা হয় তবে আমরা একে দাউদ বা দাদ নামে চিনি। এটিকে Ring worm বলা হয় কারণ এটি একটি বৃত্তাকার ফুসকুড়ি (রিংয়ের মতো আকৃতির) হয় যা সাধারণত দেখতে লাল হয় এবং চুলকায়।

    দাদ এক ধরনের ছোঁয়াচে রোগ।

    তাই পরিবারের কেউ এমন রোগে আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করা উচিত। না হলে অল্পদিনেই কিন্তু বাকিদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশে দাদ এর প্রাদুর্ভাব থাকলেও আমাদের দেশের মতো গরম ও ঘামপ্রবণ দেশে বেশি দেখা দেয়। সব বয়সের মানুষই এতে আক্রান্ত হতে পারে এবং একবার আক্রান্ত হলে বারবার আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। মনে রাখবেন, এ রোগের চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিতে খুবই সহজ এবং দ্রুত আরোগ্য হওয়া সম্ভব, তবে দেরি করলে অনেক সময় জটিলতা সৃষ্টি হয়ে থাকে। তাই দাদ হলে যথাসম্ভব দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। এজন্য নিজে ভালো থাকতে এবং পরিবারের সদস্যদেরও দাদ থেকে ভালো রাখতে হলে দাদ সর্ম্পকে সাধারণ কিছু তথ্য আপনার জানা থাকা একান্ত প্রয়োজন। যেমন:

    দাদ কেন হয়?

    দাদের লক্ষণ কি কি?

    দাদ রোগ কীভাবে ছড়ায়?

    দাদ প্রতিরোধে আপনার করণীয় কি?

    দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা কি?

    দাদ কেন হয়?

    ডার্মাটোফাইট (Dermatophyte) নামক ছত্রাকের সংক্রমণে এ রোগ হয়।

     দাদ রোগের লক্ষণসমূহঃ

    ১. দাদের প্রধান উপসর্গ হলো ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ। এই র‍্যাশ দেখতে সাধারণত আংটির মতো গোল হয়ে থাকে। রঙ হয় লালচে। তবে রোগীর ত্বকের বর্ণভেদে এটি রূপালি দেখাতে পারে। আবার আশেপাশের ত্বকের চেয়ে গাঢ় বর্ণও ধারণ করতে পারে।

    ২. আক্রান্ত স্থানটি বৃত্তাকার (গোলাকার চাকার ন্যায়) ধারন করে যার কিনারাগুলো সামান্য উঁচু হয়। দিনদিন চাকার আকৃতি বাড়তে থাকে আর কেন্দ্রের বা মাঝখানের দিকে ভালো হয়ে যেতে থাকে।

    ৩. ক্ষতস্থান থেকে খুঁশকির মত চামড়া উঠতে থাকে।

    ৪. কখনো কখনো পানি বা পুঁজ ভর্তি গোঁটা দেখা যায়।

    ৫. ক্ষতস্থান অত্যন্ত চুলকায়।

    ৬. ত্বক কিছুটা খসখসে বা শুকনো হয়ে যাওয়া।

    ৭. আক্রান্ত ত্বকের ওপরে চুল অথবা লোম থাকলে সেগুলো পড়ে যায়।

    দাদ বা রিংওয়ার্ম হওয়ার কারণ কি কি?

    ১) সাধারণত ভেঁজা, স্যাঁতস্যাঁতে ও আদ্র জায়গা ও আবহাওয়াতে, যেখানে পর্যাপ্ত আলোবাতাস পৌছায় না, এ ধরনের জায়গায় দাদ বা রিংওয়ার্ম সৃষ্টিকারী ছত্রাক জন্ম নেয়।

    ২) একই কাপড় না ধুঁয়ে দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে, নোংরা, অপরিস্কার কাপড়চোপড় পরিধান করলে।

    ৩) আক্রান্ত রোগীর জামা-কাপড়, গামছা, তোয়ালে, চিড়ুনি ইত্যাদি ব্যবহারেও দাঁদ হয়ে থাকে।

    ৪) আঁটসাঁট কাপড়চোপড় ও আঁটসাঁট অন্তর্বাস ব্যবহার করলে।

    ৫) পায়ের পুরনো মোজা দ্বারা সংক্রমণ হতে পারে।

    ৬) যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা সহজেই আক্রান্ত হতে পারেন।

    ৭) যারা বেশী ঘামেন।

    ৮) পোষ্য প্রাণী থেকেও ছড়াতে পারে।

    শরীরের কোন কোন স্থানে দাদ রোগ হয়?

    আমাদের শরীরের যেকোনো অংশে দাদ দেখা দিতে পারে। যেমন: কুঁচকি, মাথার ত্বক, হাত, পা, পায়ের পাতা, এমনকি হাত-পায়ের নখ। আক্রান্ত স্থানভেদে দাদের লক্ষণেও ভিন্নতা আসতে পারে। যেমন, র‍্যাশের আকারে ভিন্নতা থাকতে পারে। দাদের র‍্যাশ আস্তে আস্তে বড় হয়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। আবার কখনো কখনো একাধিক র‍্যাশ দেখা দিতে পারে।

    নিচে শরীরের বিশেষ কিছু স্থানের দাদ রোগ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হয়েছে—

    মাথার ত্বক: মাথার ত্বকে দাদ দেখা দিলে সাধারণত আক্রান্ত অংশের চুল পড়ে টাক সৃষ্টি হয়। টাক পড়া অংশে লালচে, গোলাকার ও ছোটো ছোটো আঁইশযুক্ত র‍্যাশ তৈরি হয়। এতে চুলকানি থাকতে পারে।

    ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়লে টাক পড়া অংশের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে এবং মাথার ত্বকে দাদ রোগের একাধিক র‍্যাশ তৈরি হতে পারে।

    মাথার ত্বকের দাদ রোগ প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

    পা ও পায়ের আংগুলের ফাঁকে

    এক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানটি লাল হয়ে ফুলে ওঠে এবং সেখান থেকে চামড়া উঠে যেতে থাকে। সেই সাথে পায়ের আঙ্গুলগুলোর ফাঁকে ফাঁকে চুলকানি হয়। বিশেষ করে পায়ের সবচেয়ে ছোটো আঙুল দুটির মাঝখানের অংশে চুলকানি হয়ে থাকে।

    পায়ে দাদ হলে পায়ের পাতা ও গোড়ালিও আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি গুরতর ক্ষেত্রে পায়ের ত্বকে ফোস্কা পড়তে পারে।

    (ছবি: পা ও পায়ের আংগুলের ফাঁকে দাদ রোগ)

    কুঁচকি

    কুঁচকিতে দাদ হলে সেটি সাধারণত ঊরুর ভেতরের দিকের ভাঁজে লাল লাল র‍্যাশ হিসেবে দেখা যায়। র‍্যাশে আঁইশ থাকে এবং চুলকানি হয়।

    দাঁড়ি

    গাল, চিবুক ও গলার ওপরের অংশে এই ধরনের দাদ দেখা দেয়। এটিও লাল লাল র‍্যাশ হিসেবে দেখা যায়, যাতে আঁইশ থাকে এবং চুলকানি হয়। দাঁড়িতে দাদ হলে অনেক সময় র‍্যাশের ওপরে চলটা পড়ে।আবার ভেতরে পুঁজও জমতে পারে। একই সাথে আক্রান্ত অংশের চুল পড়ে যেতে পারে।)

    চামড়ার যে জায়গায় সংক্রমণ হয় সেই জায়গার নামানুসারে দাঁদের নামকরণ করা হয়। উদাহরণ স্বরুপঃ

    ১)টিনিয়া কর্পোরিসঃশরীরের যেকোন জায়গায় ছত্রাকের  সংক্রমণ হলে তাকে সাধারণত টিনিয়া কর্পোরিস বলা হয়।

    ২)টিনিয়া ক্যাপিটিসঃ মাথার তালুতে ছত্রাক সংক্রমণ।

    ৩)টিনিয়া ক্রুরিসঃকুঁচকিতে ছত্রাকের সংক্রমণ।

    ৪)টিনিয়া আঙ্গুইয়ামঃ নখের ছত্রাক সংক্রমণ।

    ৫)টিনিয়া ম্যানুমঃ হাতের ছত্রাক সংক্রমণ।

    ৫)টিনিয়া পেডিস(অ্যাথলেটস ফুট):পায়ের ছত্রাক সংক্রমণ।

    দাদ রোগ কীভাবে ছড়ায়?

    এটি মূলত তিনভাবে ছড়ায়—

    ১. আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা তার ব্যবহার্য জিনিসের সংস্পর্শ থেকে। যেমন: চিরুনি, তোয়ালে ও বিছানার চাদর।

    ২. দাদ আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শ থেকে। যেমন: কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল ও ঘোড়া।

    ৩. দাদ রোগের জীবাণু আছে এমন পরিবেশ, বিশেষ করে স্যাঁতস্যাঁতে স্থান থেকে।

    প্রতিরোধঃ

    জীবন ধারা বা লাইফস্টাইলের পরিবর্তনের মাধ্যমে দাঁদ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস এবং দৈনন্দিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে দাঁদ সংক্রমণ রোধ করা যায়ঃ

    ১) ত্বক সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শুষ্ক রাখুন।

    ২)পরিস্কার,ঢিলেঢালা এবং শুষ্ক কাপড় (বিশেষত সুতি কাপড়) এবং অন্তর্বাস পড়িধান করুন।

    ৩) আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার্য জিনিস ব্যবহার করলেও দাদ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই দাদ আছে এমন কারও সাথে পোশাক, তোয়ালে, চাদর বা অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিস শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

    ৪) খুব আঁটসাঁট জুতা পরলে এবং অতিরিক্ত ঘাম হলে দাদ রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এমন জুতো ব্যবহার করুন যা আপনার পায়ের চারপাশে অবাধে বাতাস চলাচল করতে দেয়।

    ৫)আক্রান্ত স্থান স্পর্শ করার পর সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন,যাতে সংক্রমণ দেহের অন্যত্র না ছড়ায়।

    ৭) প্রতিদিনের পরিহিত কাপড়চোপড়, গেঞ্জি, মোজা, আণ্ডারওয়্যার প্রতিদিন ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

    ৯) পোষ্য-প্রাণীর সংস্পর্শে আসার পর হাত ধুয়ে ফেলুন।

    ১১) স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে দাদ রোগের ঝুঁকি বেশি। তাই জিম কিংবা চেঞ্জিং রুম ও পাবলিক গোসলখানা এর মতো স্থানে খালি পায়ে হাঁটা থেকে বিরত থাকা উচিত।

    দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

    যা করবেন

    ১.যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করুন।

    ২.ত্বক সবসময় শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন। আক্রান্ত ত্বক স্পর্শ করলে সাথে সাথে হাত ধুয়ে ফেলুন।

    ৩. দৈনন্দিন ব্যবহারের কাপড় (যেমন: তোয়ালে ও বিছানার চাদর) নিয়মিত ফুটন্ত পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

    যা করবেন না

    ১.দাদ হয়েছে এমন কারও ব্যবহার্য জিনিস (যেমন: তোয়ালে, চিরুনি ও বিছানার চাদর) ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

    ২.আক্রান্ত ত্বক স্পর্শ করা অথবা চুলকানো থেকে বিরত থাকুন। নাহলে দাদ শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি চুলকানোর কারণে ত্বকে ভিন্ন আরেকটি জীবাণু আক্রমণ করে ইনফেকশন ঘটাতে পারে, যা দাদের চিকিৎসাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    লেখকঃ

    ডাঃ মুরাদ আলী

    এমডি (হোমিওপ্যাথি), ভারত।

    লেকচারার ইন মেডিসিন (এস.এইচ.এম.সি.এইচ)

    ফাউন্ডার: ইনফো হোমিও।

    মোবাইল: ০১৭৩৩-১৯৩০৬১

  • নারীদের সবচেয়ে কমন সমস্যা ইউরিন ইনফেকশন

    নারীদের সবচেয়ে কমন সমস্যা ইউরিন ইনফেকশন

    ইউরিন ইনফেকশনের বা Urinary tract infections (UTIs) খুবই কমন একটা রোগ, যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে নারীদের এই রোগ সবথেকে বেশি হয়।

    পরিসংখ্যান মতে প্রতি ২ জন মেয়ের মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ২০ জন ছেলের মধ্যে ১ জন ছেলে  জীবনে কোন না কোন সময় এই রোগে আক্রান্ত হয়।

    ইউরিন ইনফেকশন থেকে বাঁচতে হলে ইউরিন ইনফেকশন সর্ম্পকে কিছু তথ্য আপনাদের জানতে হবে। তাহলে সহজেই ইউরিন ইনফেকশন হওয়া থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারবেন।

    ইউরিন ইনফেকশন কী?

    আমাদের শরীর থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি প্রস্রাব হিসেবে বেরিয়ে যায়। প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়ার এই ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত অঙ্গগুলো নিয়ে আমাদের মূত্রতন্ত্র গঠিত। মূত্রতন্ত্রের মধ্যে থাকে দুটি কিডনি, দুটি ইউরেটার, একটি মূত্রথলি বা ব্লাডার ও একটি মূত্রনালী।

    মূত্রতন্ত্রের কোনো অংশে ব্যাকটেরিয়া সংক্ৰমণ হলে সেটিকে ইউরিন ইনফেকশন বা প্রস্রাবের সংক্ৰমণ বলে। ডাক্তারি ভাষায় একে ‘ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন’ বা ‘ইউটিআই’ বলা হয়।

    ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ

    ইউরিন ইনফেকশনের সবচেয়ে কমন লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

    ১. প্রস্রাবের সময়ে ব্যথা অথবা জ্বালাপোড়া হওয়া

    ২. স্বাভাবিকের চেয়ে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া

    ৩. রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা

    ৪. অস্বাভাবিক গন্ধযুক্ত অথবা ঘোলাটে প্রস্রাব হওয়া

    ৫. হঠাৎ প্রস্রাবের বেগ আসা অথবা বেগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া

    ৬. তলপেটে ব্যথা হওয়া

    ৭. প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া

    ৮. কোমরের পেছনে পাঁজরের ঠিক নিচের অংশে ব্যথা হওয়া

    ৯. জ্বর আসা কিংবা গা গরম লাগা এবং শরীরে কাঁপুনি হওয়া

    ১০. শরীরের তাপমাত্রা ৩৬° সেলসিয়াস বা ৯৬.৮° ফারেনহাইট এর চেয়ে কমে যাওয়া

    ১১. ক্লান্তি ও বমি বমি লাগা

    ১২. কোমর ও তলপেটে ব্যথা করতে পারে

    ওপরের লক্ষণগুলোর পাশাপাশি বয়সভেদে প্রস্রাবের ইনফেকশনের লক্ষণগুলোতে কিছুটা ভিন্নতা দেখা দিতে পারে।

    বয়স্ক ও প্রস্রাবের নল (ক্যাথেটার) দেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় পরিবর্তনগুলো হলো—

    • অস্বাভাবিক আচরণ
    • মানসিক বিভ্রান্তি অথবা ক্ষোভ
    • নতুন করে শরীরে কাঁপুনি অথবা ঝাঁকুনি হওয়া
    • প্রস্রাব করে জামাকাপড় নষ্ট করে ফেলা

    আবার বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সাধারণ লক্ষণগুলোর পাশাপাশি ভিন্ন ধরনের কিছু লক্ষণ দেখা দেয়।

    যেমন—

    • মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
    • ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করা বন্ধ করে দেওয়া
    • জ্বর আসা বা শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া
    • ঘন ঘন প্রস্রাব করা কিংবা হঠাৎ বিছানায় প্ৰস্রাব করতে শুরু করা
    • বমি হওয়া

    জ্বর আসা ও বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে

    ইউরিন ইনফেকশনের কারণ

    বেশিরভাগ ইউরিন ইনফেকশন এশেরিকিয়া কোলাই বা ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া কারণে হয়।

    সাধারণত মলদ্বার থেকে  বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া মূত্রতন্ত্রে প্রবেশ করে ইউরিন ইনফেকশন ঘটায়। প্রস্রাবের রাস্তা বা মূত্রনালী দিয়ে এসব ব্যাকটেরিয়া মূত্রতন্ত্রে প্রবেশ করে।

    মেয়েদের ইউরিন ইনফেকশন বেশি হবার কারণ

    মেয়েদের মূত্রনালী পুরুষদের মূত্রনালীর তুলনায় দৈর্ঘ্যে অনেক ছোটো।

    এ ছাড়া নারীদের মূত্রনালী পায়ুপথের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই পায়ুপথ থেকে মূত্রনালীতে প্রবেশ করে ইউরিন ইনফেকশন সৃষ্টি করে।

    যেসব কারণে ইউরিন ইনফেকশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়—

    ১. পর্যাপ্ত পানি পান না করলে

    ২. মূত্রতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এমন রোগ হলে। যেমন: কিডনিতে পাথর হওয়া

    ৩. যৌনাঙ্গ পরিষ্কার ও শুকনো না রাখলে

    ৪. যেকোনো কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে। যেমন—

    ৫. টাইপ ২ ডায়াবেটিস অথবা এইচআইভি আক্রান্ত হলে

    ৬. কেমোথেরাপি অথবা দীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ সেবনকালে

    ৭. গর্ভবতী হলে

    ৮. মূত্রথলি পুরোপুরি খালি করতে বাধা সৃষ্টি করে এমন রোগ হলে। যেমন: পুরুষদের ‘প্রস্টেট গ্রন্থি’ বড় হয়ে যাওয়া, শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা স্নায়ুতন্ত্রের কোনো অসুখ

    ৯. মাসিক চিরতরে বন্ধ হয়ে গেলে। এই ঘটনাকে ‘মেনোপজ’ বলা হয়। এক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন নামক হরমোন কমে যাওয়ায় সংক্ৰমণ প্রবণতা বেড়ে যায়

    ১০. যৌন সহবাস করলে

    ১১. প্রস্রাবের রাস্তায় নল বা ক্যাথেটার পরানো থাকলে

    ১২. ইতঃপূর্বে প্রস্রাবের ইনফেকশন হয়ে থাকলে

    উল্লেখ্য, ইউরিন ইনফেকশন ছোঁয়াচে নয়। এটি যৌন সহবাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। কিন্তু সহবাসের সময়ে ঘর্ষণের কারণে জীবাণু মূত্রনালীতে প্রবেশ করতে পারে কিংবা ইতোমধ্যে মূত্রনালীতে থাকা জীবাণু আরও ভেতরে চলে যেতে পারে।

    ইউরিন ইনফেকশনের প্রকারভেদ

    1. Urethritis (ইউরেথ্রাইটিস):

    ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করলে মূত্রনালীর সংক্রমণ হয়। যখন এটি মূত্রনালীতে ছড়িয়ে পড়ে তখন তাকে ইউরেথ্রাইটিস বলে।

    1. Cystitis (সিসটাইটিস):

    ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করার পর যদি  মূত্রনালির নিম্নাংশ আক্রান্ত হয়, তখন তাকে ব্লাডার /মূত্রথলির সংক্রমণ বা সিস্টাইটিস বলে

    1. Pyelonephritis (পায়েলোনেফ্রাইটিস):

    ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করার পর যদি  মূত্রনালির ঊর্ধ্বাংশ আক্রান্ত হয়, তখন তাকে কিডনির সংক্রমণ বা পায়েলোনেফ্রাইটিস বলে।

    ইউরিন ইনফেকশনের ঘরোয়া চিকিৎসা

    ইউরিন ইনফেকশন তেমন গুরুতর না হলে রোগী কয়েকদিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠে। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি ঘরোয়াভাবে নিচের উপদেশগুলো মেনে চলতে পারেন—

    • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রচুর পানি পান করতে হবে। এমন পরিমাণে পানি পান করা উচিত যেন নিয়মিত স্বচ্ছ ও হালকা হলুদ রঙের প্রস্রাব হয়। নিয়মিত প্রস্রাব করলে সেটি শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া বের করে দিতে সাহায্য করে।
    • পেটে, পিঠে ও দুই উরুর মাঝে গরম সেঁক নেওয়া যায়। এটি অস্বস্তি উপশমে সাহায্য করতে পারে।
    • সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত যৌন সহবাস থেকে বিরত থাকা ভালো। ইউরিন ইনফেকশন ছোঁয়াচে না হলেও ইনফেকশন থাকা অবস্থায় যৌন সহবাস অস্বস্তিকর হতে পারে।
    • কিডনি রোগ, হৃদরোগ অথবা প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মতো বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে দৈনিক কতটুকু পানি পান করা নিরাপদ সেটি ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।

    ইউরিন ইনফেকশনের জটিলতা

    • ইউরিনের ইনফেকশনের চিকিৎসা না করা হলে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। ইনফেকশন কিডনিতে পৌঁছে গেলে কিডনির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
    • এ ছাড়া ইনফেকশন রক্তে ছড়িয়ে পড়লে ‘সেপসিস’ নামক মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে।
    • পুরুষদের ক্ষেত্রে বারবার সংক্ৰমণ হলে মূত্রনালি সরু হয়ে যেতে পারে। এতে মূত্রতন্ত্রের জটিলতার পাশাপাশি যৌন ও প্রজনন সংক্রান্ত সমস্যা হতে পারে।
    • গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে কিডনির ইনফেকশনসহ নানান জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন: জন্মের সময়ে শিশুর ওজন কম হওয়া ও নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বাচ্চা প্রসব (প্রিম্যাচুর বেবি) হয়ে যাওয়া।

    ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধ

    প্রস্রাবের ইনফেকশন সবসময় প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও কিছু নিয়ম মেনে চললে ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনা যায়।

    যা করবেন

    • টয়লেটে টিস্যু ব্যবহারের সময়ে সামনে থেকে পেছনে পরিষ্কার করুন।
    • যৌনাঙ্গ শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন।
    • প্রচুর পানি পান করুন। দৈনিক কমপক্ষে ছয় থেকে আট গ্লাস পানি পান করা উচিত।
    • বাথটাব বা পুকুরে গোসল করার পরিবর্তে শাওয়ার কিংবা বালতির সাহায্যে গোসল করুন।
    • প্রস্রাব করার সময়ে মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি করার চেষ্টা করুন।
    • সহবাসের আগে ও পরে যৌনাঙ্গ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
    • সহবাসের পরে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রস্রাব করুন।
    • সুতি কাপড়ের ঢিলেঢালা অন্তর্বাস ব্যবহার করুন।
    • এক থেকে তিন বছর বয়সী বাচ্চার ডায়পার বা কাপড়ের ন্যাপি নিয়মিত পরিবর্তন করুন।

    যা করবেন না

    • প্রস্রাবের বেগ আসলে তা ধরে রাখবেন না।
    • প্রস্রাব করার সময়ে তাড়াহুড়ো করবেন না।
    • যৌনাঙ্গে সুগন্ধি সাবান অথবা ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করবেন না।
    • সিনথেটিক কাপড় (যেমন: নাইলন) এর তৈরি আঁটসাঁট অন্তর্বাস ব্যবহার করবেন না।
    • আঁটসাঁট পায়জামা পরবেন না।
    • চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় খাবেন না। এগুলো জীবাণু বেড়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে।
    • যেসব কনডম অথবা ডায়াফ্রামে শুক্রাণু ধ্বংস করার পিচ্ছিলকারক থাকে সেগুলো ব্যবহার করবেন না। এর পরিবর্তে ভিন্ন ধরনের কনডম ও লুব্রিকেন্ট কিংবা জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করুন।

    লেখকঃ

    ডাঃ মুরাদ আলী

    এমডি (হোমিওপ্যাথি), ভারত।

    লেকচারার ইন মেডিসিন (এস.এইচ.এম.সি.এইচ)

    ফাউন্ডার: ইনফো হোমিও।

    মোবাইল: ০১৭৩৩-১৯৩০৬১

  • রিকশাচালক থেকে সফল মাশরুম চাষী,বছরে আয় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা

    রিকশাচালক থেকে সফল মাশরুম চাষী,বছরে আয় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা

    বাসস : আরও লেখাপড়ার সাধ ছিল। কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি। এসএসসির পরপরই ধরতে হয় পরিবারের হাল। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে রিকশা চালানো শুরু করেন মোহাম্মদ হাসিব (২৬)। রিকশা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করলেও মনের বাসনা পূরণ হচ্ছিল না তার।

    রিকশা চালাতে চালাতেই ভাবতে থাকেন ভিন্নধর্মী কাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। কিন্তু কি করবেন? বন্ধুদের সাথে আলাপ করেন। বন্ধুদের পরামর্শেই পেয়ে যান দিন বদলের চাবি। এক বন্ধুর পরামর্শে মাত্র এক হাজার টাকার মাশরুমের স্পন কিনে শুরু করেন মাশরুম চাষ৷ সেই শুরু । প্রথমে সফল হতে না পারলেও আন্তরিক চেষ্টা আর পরিশ্রমের ফলে একসময় সব বাঁধাই কাটিয়ে উঠেছেন। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি হাসিবকে। বর্তমানে তিনি মাশরুম চাষ করেই বছরে ৭-৮ লক্ষ টাকা আয় করছেন।

    পাশাপাশি অন্যদের মাশরুম চাষের পরামর্শ দিয়ে গড়ে তুলছেন নতুন উদ্যোক্তা।

    জেলার বন্দর উপজেলায় তিনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসান ও শিল্পী বেগম দম্পতির পুত্র মোহাম্মদ হাসিব। দুই ভাইয়ের মধ্যে হাসিব বড়। ছোট ভাই মোহাম্মদ রিফাত (১৪)।

    হাসিবের সাথে আলাপকালে জানা যায় তার সাফল্য ও চ্যালেঞ্জের গল্প। খুব সহজেই মাশরুম চাষে সাফল্য পাননি তিনি। এজন্য তাকে অনেক পরিশ্রম ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়েছে। পাশাপাশি সঠিকভাবে মাশরুম চাষের জন্য তিনি প্রশিক্ষণও নিয়েছেন।

    বাসসের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, রিকশা চালাতে ভালো লাগত না। ভিন্ন কিছু করার ইচ্ছা ছিল। ২০২০ সালে আমার এক বন্ধু আমাকে মাশরুম চাষ করার কথা বলে। কিন্তু কিভাবে কি করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। ঘন্টার পর ঘন্টা ইউটিউবে মাশরুম চাষ সংক্রান্ত ভিডিও দেখেছি। স্পন বানানোর বিষয়গুলো ভালো করে বুঝতে পারতাম না। কিছু বিষয় বুঝলেও মনে রাখতে পারতাম না। পরে সাভারের মাশরুম উন্নয়ন  ইন্সটিটিউট থেকে মাশরুমের স্পন কিনে আনি। মানুষের কাছে বিক্রি করার আগে নিজে খাই। খেয়ে ভালো লাগে। পরে প্রতিবেশীকে, নিজের আত্মীয়-স্বজনকে ফ্রীতেই মাশরুম খেতে দেই। সবাইকে মাশরুমের গুণাগুণ জানাতে থাকি। কিছুদিন পর অল্প অল্প বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু ঢাকা থেকে স্পন এনে বিক্রি করে আমার কোন লাভ থাকত না। পরে সাভার মাশরুম ইন্সটিটিউট থেকে ট্রেনিং নিয়ে নিজেই শুরু করি মাশরুমের স্পন উৎপাদন। প্রথমবার চেষ্টায় আমার সব স্পন নষ্ট হয়ে যায়। পরে কয়েকবার চেষ্টা করে করে এখন আমি নিজেই মাশরুমের স্পন তৈরি করতে পারি।

    মাশরুমের পাশাপাশি স্পন বিক্রি করছি নিয়মিত। এছাড়াও মাশরুমের তৈরি খাবার বিক্রিরও পরিকল্পনা রয়েছে।

    হাসিব জানান, মাশরুমের স্পন প্যাকেট থেকে ২৫ – ৩০ দিনের মধ্যে ফলন আসে। ১ কেজির একটি স্পন প্যাকেট থেকে প্রায় ১ কেজি মাশরুম পাওয়া যায়। তিনি প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কেজি মাশরুম বিক্রি করেন। প্রতি কেজি কাঁচা মাশরুমে ৮০-৯০ টাকা খরচ করে  ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করা যায়। এছাড়া শুকানো মাশরুম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫’শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে থাকে। ৩২ টাকা খরচে একটি স্পন প্যাকেট  ৪০ টাকা মূল্যে বিক্রি করেন। মাশরুম চাষ করে বছরে সাত থেকে আট লক্ষ টাকা উপার্জন করা যায়। হাসিব বলেন, প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা পেলে এ বছর দ্বিগুণ আয় করতে পারবো।

    হাসিবের গ্রাম তিনগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাসিবের নিজস্ব জায়গা জমি নেই। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে দুই কক্ষের একটি টিনশেড ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। এক কক্ষে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন, অন্যটিকে বানিয়েছেন মাশরুম চাষের ল্যাবরেটরি কক্ষ। এখানেই তিনি মাশরুমের স্পন (বীজ) উৎপাদন করেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি জমি ইজারা নিয়ে দুটি টিনের কক্ষে মাশরুম চাষ করছেন হাসিব। মাশরুমের মৌসুমে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মী দিয়ে কাজ করলেও মৌসুম ছাড়া স্ত্রী-সন্তানদের নিয়েই এই কাজ করেন তিনি।

    হাসিবের মা শিল্পী বেগম বাসসকে বলেন, ‘আমার ছেলের বউ, নাতি-নাতীন সবাই মিলে মাশরুমের কাজে ছেলেকে সহয়তা করে। বউ দিনে সংসারের সব কাজ শেষ করে আবার মাশরুমের কাজ শুরু করে। প্রায় প্রতিদিন রাত একটা-দেড়টা পর্যন্ত কাজ করে।’

    হাসিবের এই কাজে তাকে সহয়তা করেন তার স্ত্রী সাদিয়া। তারা নিজেদের মধ্যে কাজের দায়িত্ব  ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। হাসিবের স্ত্রী সাদিয়া বলেন,  ‘আমার স্বামী যেভাবে শিখায় দিছে সেভাবেই কাজ করি। আমি পরিশ্রম করি যেন তার স্বপ্ন পূরণ হয়। তার স্বপ্ন, মাশরুমের মতো পুষ্টিকর খাবার সকলের খাবার তালিকায় থাকবে। মাশরুমকে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতায় আনার চেষ্টায় তিনি কাজ করছেন।’

    হাসিবের মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা তাবাসসুম। নিজের মেয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হাসিব বলেন, আমার মেয়ে আমার কাজে অনেক সহায়তা করে। সকালে মক্তব থেকে আরবি পড়ে এসে কাজ শুরু করে। ১১টার দিকে স্কুলে যায়। ঘড়ির দিকে তাকায় আর কাজ করে। স্কুলে যাওয়ার আগে চেষ্টা করে তার কাজগুলো সব গুছিয়ে শেষ করার। মাঝে মধ্যে শেষ না হলে সেটা তার মা করে দেয়। বিকেলে স্কুল থেকে এসেও কাজ থাকলে খেলতে যায়না। ওর মায়ের সাথে সহায়তা করে। আমার সন্তান এবং স্ত্রী সহায়তা না করলে আমি একা সফল হতে পারতাম না।

    নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে হাসিব বলেন, আমি বিসমিল্লাহ মাশরুম সেন্টার নামে একটি পেজ খুলেছি (https://www.facebook.com/share/15jnLrdfvW/। সেটার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় মাশরুম বিক্রি করি। তারা আমার রিপিট ক্রেতা হয়ে গেছে। কিন্তু আমি এখানেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। আমার কাছ থেকে অনেক উদ্যোক্তা মাশরুমের স্পন নিয়ে বাজারে মাশরুম বিক্রি করে সফল হয়েছেন। কিন্তু তারা নিজেরাও স্পন তৈরি করতে আগ্রহী।  আমি নিজে যতটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, আমি চাই না অন্য কেও এগুলোর সম্মুখীন হোক। তাই মাশরুম উৎপাদন বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ সেন্টার খুলতে চাই আমি। পাশাপাশি মাশরুমের একটা ফ্যাক্টরি দিতে চাই, যেন সকলেই পুষ্টিকর মাশরুম কিনতে পারেন।

    বন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার তাসলিমা আক্তার এ বিষয়ে বলেন, মাশরুম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর উপজেলার ২ জন মাশরুম চাষিকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাসিবকে মাশরুম চাষে দুই লক্ষ সত্তর হাজার টাকা মূল্যের চাষঘর তৈরি করে দেওয়াসহ অন্যান্য সহায়তা  করা হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সেলিমা খাতুন বলেন, মাশরুমের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ থাকায় সারা দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবকদের মাঝে মাশরুম চাষে আগ্রহ বাড়ছে। মাশরুম চাষ বেকার সমস্যার সমাধান ও বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    মাশরুম চাষে কোনো আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না। চাষের জমি না থাকলেও বসত ঘরের পাশে অব্যবহৃত জায়গা ও ঘরের বারান্দা ব্যবহার করে অধিক পরিমাণ মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব। মাশরুম বীজ উৎপাদনের জন্য যেসব কাঁচামাল প্রয়োজন তা আমাদের দেশে সহজলভ্য ও সস্তা। এজন্য বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষে আমরা চাষিদের উৎসাহিত ও আর্থিক সহযোগিতা করছি। এই ধারাবাহিকতায় মাশরুম চাষি হাসিবকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে

  • বাবা চালাচ্ছিলেন ট্রলি, চাকার নিচে পড়ে শিশুসন্তানের মৃত্যু

     নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের লালপুরে বাবার চালিত ট্রলির নিচে পড়ে মুরসালিন হোসেন (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার কাজিপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মুরসালিন হোসেন ওই গ্রামের পিন্টু মণ্ডলের ছেলে। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে মুরসালিন ট্রলির শব্দ শুনে বাবাকে দেখার জন্য বাড়ির সামনে যায়। এ সময় ট্রলির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। আজ মঙ্গলবার সকালে জানাজা শেষে শিশুটিকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

  • মইনুদ্দিন হত্যা বিচার দাবিতে মানববন্ধন

    মইনুদ্দিন হত্যা বিচার দাবিতে মানববন্ধন

    কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার মিরপুর থানাধীন ছাতিয়ান ইউনিয়নের ধলসা গ্রামে মইনুদ্দিন হত্যা মামলার দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    গত সোমবার সকাল ১১টায় ধলসা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে নিহত মইনুদ্দিনের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেন। তারা দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “নিরীহ মইনুদ্দিনকে নির্মমভাবে হত্যার পরও এখন পর্যন্ত মূল অপরাধীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আমরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।”

    স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু বিচারের আশায় রয়েছেন।