পোলট্রি ব্যবসা লাভ জনক করা কঠিন না হলেও বেশ কৌশলী একটি কাজ। নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে আপনি অতি এই সহজেই ব্যবসা থেকে বেশ ভালো একটি আয় করতে পারবেন। আপনি কি বেশ লাভজনক একটি ব্যবসার আইডিয়া খুঁজছেন? সেক্ষেত্রে আপনার পছন্দের লিস্টে অবশ্যই পোল্ট্রি ব্যবসা রাখতে পারেন কেননা পোলট্রি ব্যবসা লাভ করার জন্য একটি বেশ উদ্যোগ।
তবে পাশাপাশি যদি আপনি পোলট্রি ব্যবসায় লাভের কৌশল বুঝতে পারেন তাহলে তা আপনার জন্য হবে গুপ্তধন। তাই পোলট্রি ব্যবসা খরচ এবং পোলট্রি ব্যবসায় লাভের হার সম্পর্কে আমরা এখানে বিষদ আলোচনা করব যেনো আপনার পোলট্রি পালনের আয় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
কেনো পোলট্রি ব্যবসা একটি লাভজনক উদ্যোগ
পোলট্রি ব্যবসার লাভজনকতা কিছু বিশেষ কারণে হয়ে থাকে। তাহলে চলুন এবার জেনে নেই এ বিষয়গুলো যে কারণে পোলট্রি পালনের আয় এত বেশি।
বর্তমান যুগে মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন। আর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এই বাজারে বেশিরভাগ মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর একমাত্র উৎস বলো মুরগীর মাংস এবং ডিম। তাই এর চাহিদা কতটা সেটা নিশ্চয়ই আলাদা করে বলতে হবে না। এছাড়া বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, হোটেল ইত্যাদি স্থানেও বিভিন্ন রেসিপিতে মুরগীর প্রয়োজন হয়।
তাই এসব স্থানে সাপ্লাই দেওয়ার মাধ্যমেও বেশ ভালো পরিমাণ লাভ করা সম্ভব।দ্রুত বর্ধনশীল ব্যবসা এটি।পোলট্রি ব্যবসায় সবচেয়ে বড় লাভ হলো এটি বেশ দ্রুত বাড়ানো যায়। মুরগী সাধারণত ৪-৫ মাসের মধ্যেই ডিম উৎপাদন শুরু করে। ফলে আপনাকে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না লাভের জন্য।পোলট্রি ফিডের ব্যবসা করার মাধ্যমেও আপনি বেশ ভালো লাভ করতে পারেন।
অতএব বুঝতেই পারছেন পোলট্রি ব্যবসায় আয় কত দ্রুত করা সম্ভব।
পোলট্রি ব্যবসার শুরুতে প্রয়োজনীয় খরচ
একটি পোলট্রি ফার্ম শুরু করতে হলে ব্যবসার শুরুতেই কিছু প্রয়োজনীয় খরচে আপনার মূলধন বিনিয়োগ করতে হবে। এগুলো নিয়ে এখানে আলোচনা করা হলো-
- প্রথমেই আপনাকে খরচ করতে হবে খামার স্থাপনে। খামার তৈরী করতে চাইলে বাঁশ, খাঁচা, ডিম রাখার বাক্স, ফিডার ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে খামার স্থাপনে বেশ ভালো পরিমাণ খরচ করতে হবে।
- খামার স্থাপনের পর মুরগীর বাচ্চা কেনার জন্য খরচ করতে হবে।
- মুরগীর খাদ্য কিনতে হবে। আপনি যদি অর্গানিক পোলট্রি খামার করতে চান তবে শাক,সব্জি, বিভিন্ন বীজ ইত্যাদি কিনতে হবে। সাধারণ মুরগী খামার করতে চাইলে ফিড সহ অন্যান্য দানা কিনতে হবে।
- পানি সরবরাহের ব্যবস্থার জন্য খরচ লাগবে
- মুরগীর ঔষধ, ভ্যাক্সিনেশন ইত্যাদি কাজের জন্য খরচ করতে হবে।
- বিদ্যুৎ ও পানি বিল দিতে হবে।
- দক্ষ জনবল নিয়োগের জন্য খরচ করতে হবে।
- ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রচারণা করতে চাইলে তার খরচ থাকবে।
এসকল বিভিন্নমুখী খরচের জন্য আপনাকে অর্থ ব্যয় করতে হবে।
পোলট্রি ব্যবসায় আয়ের সম্ভাবনা
পোলট্রি ব্যবসা হলো এমন একটি ব্যবসা যা যদি আপনি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেন, তাহলে আয়ের সম্ভাবনা শতভাগ। একটু আগেই আমরা পোলট্রি ব্যবসা কেনো লাভজনক এ সম্পর্কে জেনেছি। এসকল গুরুত্ব জানার পর অবশ্যই আপনার মনে আর কোনো সন্দেহ নেই যে এই ব্যবসা কতটা লাভজনক। কিন্তু আপনাকে এ ব্যবসা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। অর্থাৎ মুরগীর রক্ষণাবেক্ষণ থেকে শুরু করে খামারের যাবতীয় কার্যক্রম সঠিকভাবে করতে হবে।
দক্ষ হাতে পুরো খামার নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই কেবল পোলট্রি ব্যবসা আয় দিয়ে আপনি উন্নতি করতে পারবেন। আর এজন্য আপনাকে জানতে হবে পোলট্রি লাভ কৌশল।
মূলত পোলট্রি খামারের মাসিক খরচ এবং মুনাফার হিসাব সঠিকভাবে আয়ত্তে আনতে পারলে এ সম্ভাবনা বেড়ে যাবে বহুগুণে।
পোলট্রি ব্যবসায় লাভ বাড়ানোর কৌশল
পোলট্রি ব্যবসায় লাভের জন্য সঠিক খরচ নিয়ন্ত্রণ কৌশল আপনাকে জানতে হবে। কেননা পোলট্রি ব্যবসায় খরচ কমানোর উপায় এবং লাভ বৃদ্ধির কৌশল পরস্পর সমানুপাতিক।অর্থাৎ পোলট্রি ব্যবসায় লাভের হার বাড়াতে হলে পোলট্রি খামারের খরচ কমানোর উপায় জানতে হবে।
পোলট্রি খামারে খাবার, চিকিৎসা এবং পরিচর্যার খরচ নিয়ে আপনাকে বেশ কৌশলী হতে হবে। কারণ খামার তৈরীর খরচে আপনি খুব বেশি বাঁচাতে পারবেন না। কিন্তু মুরগীর খাবারে কিছুটা খরচ কমাতে পারবেন।
যেমন মুরগীর জন্য সরিষা দানা, মসুর ডাল এগুলো বেশ উপকারী। এসব যদি আপনি নিজ ক্ষেতেই ফলান তাহলে খরচ কমে যায়। তাছাড়াও বাড়ির আশপাশে নিমগাছ লাগিয়ে মুরগীর প্রাথমিক ঔষধের ব্যবস্থা করা যায়।
পোলট্রি খামারে খরচ নিয়ন্ত্রণের আরেকটি উপায় হলো নিজেকে দক্ষ করে তোলা। আপনি যদি নিজে এ কাজে দক্ষ হোন এবং আপনার পরিবারের সদস্যদের দক্ষ করে তোলেন, তাহলে বাইরে থেকে আপনাকে অতিরিক্ত খরচে লোক নিয়োগ করতে হবে না।
এছাড়াও মুরগীর যত্ন সঠিকভাবে নিলে ঔষধের খরচ অনেকাংশে কমানো যায়। এতে তুলনামূলক ভাবে হিসেবের অনুপাতে খরচ কম হয়।
আবার, মুরগীর ডিম পাড়ার সময় খোলা জায়গায় ডিম পাড়া অপেক্ষা বক্সে ডিম পাড়লে ডিমের সুরক্ষ এবং মুরগীর সুরক্ষা দুটোই নিশ্চিত হয়। যা লাভ বাড়াতে সক্ষম।
এভাবেই কিছু কৌশল অবলম্বন করে খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং লাভ বাড়ানোর কাজ আপনি করতে পারেন।
ব্যবসার লাভজনকতা ধরে রাখার জন্য নিয়মিত কৌশল
পোলট্রি ব্যবসায় লাভজনকতা ধরে রাখা বেশ নিয়মতান্ত্রিক একটি ব্যাপার। ইতিমধ্যে পোলট্রি ব্যবসার লাভজনকতা নিশ্চিত করার জন্য খরচ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আমরা জেনেছি।
লাভজনকতা ধরে রাখতে এই প্রত্যেকটি বিষয় মেনে চলতে হবে। তার সাথে আরও একটি বিষয় সংযুক্ত হবে আর তা হলো নেটওয়ার্কিং। অর্থাৎ কীভাবে স্থানীয় বাজারে আরও বেশি ডিম এবং মুরগী সরবরাহ করতে পারেন, আপনাকে সেই উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
নতুন নতুন হোটেল ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। ফলস্বরূপ অতি অল্প সময়েই আপনার ব্যবসার লাভের প্রসার হবে এবং লাভের স্থায়ীত্ব লাভ হবে। মুরগী পালনে প্রাথমিক বিনিয়োগ যেমনই হোক না কেনো মুরগী পালনের আয়ের হিসাব তার থেকে বেশি হবে।
উপর্যুক্ত বিষয়গুলো থেকে আমরা জেনে নিলাম পোলট্রি খামার লাভজনক করার উপায়। পোলট্রি ব্যবসায় খরচ বিশ্লেষণ করলেই পোলট্রি ফার্মের খরচ এবং মুনাফা সম্পর্কে একই সাথে ধারণা পাওয়া সম্ভব।
তবে পোলট্রি খরচ হিসাব করতে আপনাকে পোলট্রি খামার বিনিয়োগ থেকে শুরু করে মুরগী পালন খরচ পর্যন্ত যাবতীয় হিসাব করতে হবে। আর এটাই হলো লাভজনক পোলট্রি ব্যবসা শুরুর এবং লাভের মূল উপাদান।

কৃষককন্ঠ ডেস্ক 










