বাউফল উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৬ হাজার পরিবার গাভী পালন করে, এবং প্রতিদিন ১২ হাজার কেজি দুধ উৎপাদন হয়। দক্ষিণাঞ্চলের মহিষ পালনকারীরা, সাধারণত জমি চাষের পর ঘাস খাওয়ার জন্য চরাঞ্চলে তাদের মহিষ রাখে, এবং এই অঞ্চলগুলিতে গরু-মহিষ পালনের কাজ চলে। এর মধ্যে বাউফল উপজেলার চরব্যারেট, বাসুদেবপাশা, দশমিনা উপজেলার চরহাদি, শাহজালাল ও চরবোরহান, গলাচিপা উপজেলার চরকাজল, চরবিশ্বাস, আমতলী থানার চর দোয়ানী, পদ্যাচর, এবং বরগুনা সদর থানার বালিয়াতলী উল্লেখযোগ্য।
তবে, মহিষের দুধের বাজার খুবই সীমিত, কারণ দেশের মানুষের মধ্যে মহিষের দুধের চাহিদা কম। কিন্তু, যদি পরিকল্পিতভাবে মহিষের দুধ সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ এবং ঘি উৎপাদনের ব্যবস্থা করা যায়, তবে হাজার হাজার মহিষের দুধ থেকে ঘি উৎপাদন করা সম্ভব, যা বছরে ১ কোটি টাকারও বেশি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
চরমিয়াজান এলাকা থেকে আ: খালেক প্রতিদিন ৩০-৪০ কেজি দুধ কালাইয়া ও বাউফল বাজারে বিক্রি করেন। বর্তমানে ১ কেজি দুধের মূল্য ৮০ টাকা। একইভাবে, শাহ আলম হাওলাদার ৪টি গাভী পালন করে প্রতিদিন ৮ কেজি দুধ বিক্রি করছেন। এসব উদাহরণ স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, গাভী পালন করে সংসার চালানো এবং কিছুটা আয় করা সম্ভব। এছাড়া, বাউফল ও কালাইয়া, বগা, কালিশুরী বন্দরে প্রতিদিন ৩ হাজার কেজি দুধ বিক্রি হয়।
দুধের প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ছানা, দধি এবং ঘি তৈরি করা সম্ভব। বাউফল উপজেলার মিষ্টান্ন মালিক বাসুদেব জানান, ৬ কেজি দুধে ১ কেজি ছানা তৈরি হয় যার বাজার মূল্য ৬০০ টাকা। আর ৮০ কেজি দুধ দিয়ে ১ কেজি ঘি তৈরি হয়, যার বাজার মূল্য ২ হাজার টাকা কেজি। ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলে দধি রপ্তানি করে বেশ ভালো আয় করা সম্ভব। এজন্য কাচামাল উপকরণ এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন এবং পশুসম্পদ অফিসের কম্পাউন্ডার ফারক হোসেন জানান, চরাঞ্চলের পরিবারগুলি উন্নত মানের গাভী পালন করে, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব। নদী পথে ঢাকায় দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্য রপ্তানি করে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার আয় হতে পারে।
এভাবে, চরাঞ্চলের মহিষ ও গাভী পালনে পরিকল্পনা ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে স্থানীয় পরিবারগুলির জীবনে অর্থনৈতিক সাফল্য আনা সম্ভব, যা তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথকে আরো প্রসারিত করবে।

কৃষককন্ঠ ডেস্ক 










