ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা  নদী দখল ও দূষণে হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি  আতা ফলের ফল ছিদ্রকারি পোকা: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদার গাছ ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষয়ক্ষতি ও টেকসই সমাধান বাংলাদেশে আতা ফলের আগা মরা রোগ: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আনারসের হার্ট রট রোগ – কারণ, লক্ষণ ও টেকসই সমাধান আমলকির কান্ড ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত সমাধান আমলকির গল মাছি – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আমলকির স্কেল পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

ছাগলের সংকর জাত

  • কৃষককন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৪২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৬৫ বার পড়া হয়েছে

গ্রামবাংলার বহু খামারি ভাবেন, ছাগলগুলো যদি আরেকটু বেশি মাংস দিত! সংসারটা একটু ভালো চলত।

অন্যদিকে নারকেলবাগানের মালিকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। ‘গাছগুলো ঠিকমতো ফল দিচ্ছে না। কী যেন এক পোকা সব ফলন নষ্ট করে দিচ্ছে। কী করি?’

কৃষকের এমন সব সমস্যারই সমাধান খোঁজেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকেরা। দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে সারা বছর কাজ করে ময়মনসিংহে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের দল। সম্প্রতি দুটি গবেষণায় তাঁরা ছাগলের একটি উচ্চ উৎপাদনশীল সংকর জাত উদ্ভাবন করেছেন।

বাড়বে মাংসের উৎপাদন

দেশীয় ব্ল্যাক বেঙ্গল ও দক্ষিণ আফ্রিকার বোয়ার জাতের ছাগলের সংকরায়ন করে ছাগলের নতুন একটি জাত উদ্ভাবন করেছেন পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে বাকৃবির একদল গবেষক। গবেষক জানান, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, জাতটি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মতো সহজেই লালন-পালন করা যায়। লালনপালন খরচ সমান হলেও নতুন এই জাতের বৃদ্ধি ব্ল্যাক বেঙ্গলের প্রায় দ্বিগুণ—পুরুষ ছাগল বছরে ২৬ কেজি ও স্ত্রী ছাগল ২৩ কেজি মাংস উৎপাদনে সক্ষম।

বছরে গড়ে পাঁচটি বাচ্চা দেয় একটি ব্ল্যাক বেঙ্গল। নতুন জাতেও এই বৈশিষ্ট্য বজায় থাকবে। প্রতিটি বাচ্চা প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা যাবে। এতে এক বছরে একজন খামারি পাঁচটি বাচ্চা থেকে আয় করতে পারবেন প্রায় এক লাখ টাকা। অন্যদিকে, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চা থেকে বছরে সর্বোচ্চ আয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে। পাঁচটি বাচ্চা থেকে বছরে আয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। ফলে নতুন জাতটি খামারিদের জন্য বছরে ৪০ হাজার টাকা অতিরিক্ত লাভের সুযোগ তৈরি করবে।

গবেষক আরও জানান, সংকর জাতের বাচ্চার ওজন ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের বাচ্চার ওজনের দ্বিগুণেরও বেশি। চামড়ার রং সাদা, কালো, বাদামি হওয়ায় এ জাতের ছাগল দেখতেও সুন্দর। সংকর জাতটির জিনে ৫০ শতাংশ ব্ল্যাক বেঙ্গল ও ৫০ শতাংশ বোয়ার জাতের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের তুলনায় এগুলোর প্রজনন ক্ষমতা বেশি, মাংসের স্বাদও ভালো।

তবে একটি বিষয়ে সতর্কও করলেন গবেষক রুহুল আমিন, এই সংকর জাতকে প্রথম প্রজন্মেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মে ব্ল্যাক বেঙ্গলের বৈশিষ্ট্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। ব্ল্যাক বেঙ্গলের বৈশিষ্ট্য কমে গেলে জাতটি আর দেশের আবহাওয়া উপযোগী থাকবে না। তা-ও এই সংকর প্রজাতিকে ব্রয়লার মুরগির মতো টার্মিনাল প্রোডাক্ট (শুধু মাংস উৎপাদনের জন্য পালিত প্রাণী) হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। প্রজননের জন্য ব্ল্যাক বেঙ্গল ও বোয়ার জাতের ক্রস ব্রিডিং পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক হলেই সংকর ছাগলকে মাংস সরবরাহের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে।

অথরের তথ্য

Abrar Khan

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

ছাগলের সংকর জাত

আপডেট সময় ০৫:৪২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫

গ্রামবাংলার বহু খামারি ভাবেন, ছাগলগুলো যদি আরেকটু বেশি মাংস দিত! সংসারটা একটু ভালো চলত।

অন্যদিকে নারকেলবাগানের মালিকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। ‘গাছগুলো ঠিকমতো ফল দিচ্ছে না। কী যেন এক পোকা সব ফলন নষ্ট করে দিচ্ছে। কী করি?’

কৃষকের এমন সব সমস্যারই সমাধান খোঁজেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকেরা। দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে সারা বছর কাজ করে ময়মনসিংহে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের দল। সম্প্রতি দুটি গবেষণায় তাঁরা ছাগলের একটি উচ্চ উৎপাদনশীল সংকর জাত উদ্ভাবন করেছেন।

বাড়বে মাংসের উৎপাদন

দেশীয় ব্ল্যাক বেঙ্গল ও দক্ষিণ আফ্রিকার বোয়ার জাতের ছাগলের সংকরায়ন করে ছাগলের নতুন একটি জাত উদ্ভাবন করেছেন পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে বাকৃবির একদল গবেষক। গবেষক জানান, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, জাতটি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মতো সহজেই লালন-পালন করা যায়। লালনপালন খরচ সমান হলেও নতুন এই জাতের বৃদ্ধি ব্ল্যাক বেঙ্গলের প্রায় দ্বিগুণ—পুরুষ ছাগল বছরে ২৬ কেজি ও স্ত্রী ছাগল ২৩ কেজি মাংস উৎপাদনে সক্ষম।

বছরে গড়ে পাঁচটি বাচ্চা দেয় একটি ব্ল্যাক বেঙ্গল। নতুন জাতেও এই বৈশিষ্ট্য বজায় থাকবে। প্রতিটি বাচ্চা প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা যাবে। এতে এক বছরে একজন খামারি পাঁচটি বাচ্চা থেকে আয় করতে পারবেন প্রায় এক লাখ টাকা। অন্যদিকে, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চা থেকে বছরে সর্বোচ্চ আয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে। পাঁচটি বাচ্চা থেকে বছরে আয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। ফলে নতুন জাতটি খামারিদের জন্য বছরে ৪০ হাজার টাকা অতিরিক্ত লাভের সুযোগ তৈরি করবে।

গবেষক আরও জানান, সংকর জাতের বাচ্চার ওজন ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের বাচ্চার ওজনের দ্বিগুণেরও বেশি। চামড়ার রং সাদা, কালো, বাদামি হওয়ায় এ জাতের ছাগল দেখতেও সুন্দর। সংকর জাতটির জিনে ৫০ শতাংশ ব্ল্যাক বেঙ্গল ও ৫০ শতাংশ বোয়ার জাতের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের তুলনায় এগুলোর প্রজনন ক্ষমতা বেশি, মাংসের স্বাদও ভালো।

তবে একটি বিষয়ে সতর্কও করলেন গবেষক রুহুল আমিন, এই সংকর জাতকে প্রথম প্রজন্মেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মে ব্ল্যাক বেঙ্গলের বৈশিষ্ট্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। ব্ল্যাক বেঙ্গলের বৈশিষ্ট্য কমে গেলে জাতটি আর দেশের আবহাওয়া উপযোগী থাকবে না। তা-ও এই সংকর প্রজাতিকে ব্রয়লার মুরগির মতো টার্মিনাল প্রোডাক্ট (শুধু মাংস উৎপাদনের জন্য পালিত প্রাণী) হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। প্রজননের জন্য ব্ল্যাক বেঙ্গল ও বোয়ার জাতের ক্রস ব্রিডিং পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক হলেই সংকর ছাগলকে মাংস সরবরাহের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে।