আমাদের দেশের অনেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে কৃষি ফার্ম কিংবা পোল্ট্রি ফার্ম দেওয়ার কথা চিন্তা করে থাকেন। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ফার্ম দাঁড় করাতে পারেন না।তাই আপনাদের কথা চিন্তা করেই কৃষিবিদগণের সাথে কথা বলে আমরা জেনেছি কীভাবে একটি ফার্ম সঠিকভাবে গড়ে তোলা যায়। এখানে আমরা আলোচনা করব কীভাবে ধাপে ধাপে আপনি একটি পুরো ফার্ম গড়ে তুলতে পারেন।
ফার্ম এর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ৬ টি প্রাথমিক ধাপ আছে যা আপনাদের মেনে চলা আবশ্যক। আসুন তাহলে এগুলো জেনে নেই-
১. কৃষি বা পোল্ট্রি ফার্মের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের সঠিক তালিকা
আপনি যখন একটি ফার্ম করতে চাইবেন তখন আপনাকে প্রথমেই দেখতে হবে যে আপনার কাছে কী কী সম্পদ আছে বা কোন কোন জিনিস সহজলভ্য। এসব ক্ষেত্রে আপনার প্রথমেই প্রয়োজন হবে জমি। জমির আশপাশের পরিবেশ, যদি কৃষি ফার্ম করতে চান তাহলে জমির উর্বরতা, সেচ সুবিধা, মাটির ধরণ ইত্যাদিও বিবেচনায় আনতে হবে।
এগুলো ছাড়াও শ্রমিকের সহজলভ্যতা, মূলধনের পরিমাণ, প্রয়োজনীয় মেশিনের সহজলভ্যতা, স্টোরহাউজ, পরিচালনার দক্ষতা, প্রয়োজনীয় জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ইত্যাদিও এই সম্পদের তালিকার মধ্যেই পড়ে। এগুলো আপনার কাছে কেমন পরিমাণে আছে তা প্রথমেই একটি তালিকা তৈরী করতে হবে।
২. সফল কৃষি বা পোল্ট্রি ফার্মের জন্য সঠিক এন্টারপ্রাইজ নির্বাচন
আপনার সম্পদের তালিকা তৈরী করার পর ঠিক করতে হবে যে আপনার কাছে যা যা আছে তা নিয়ে আপনি কোম ধরণের ফার্ম তৈরী করতে চান। পোল্ট্রি ফার্ম, নাকি মাছের খাবার, নাকি কৃষি ফার্ম? কোনটি আপনার জন্য অধিক সুবিধাজনক হবে।
৩. প্রতি এন্টারপ্রাইজের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ
এন্টারপ্রাইজ নির্বাচন করার পর আপনার সম্পদ নিয়ে আবারও হিসেবে বসতে হবে। অর্থাৎ এক একর বা এক হেক্টর জমি প্রতি কতটুকু ফসল ফলানোর সম্পদ আপনার কাছে আছে তা জানতে হবে। অথবা যদি গবাদি পশু নিয়ে কাজ করে থাকেন তাহলে পশু প্রতি কী পরিমাণ সম্পদ আপনার কাছে আছে তা দেখে নিতে হবে।
৪. সম্পূর্ণ এন্টারপ্রাইজের হিসাব
৩ নং ধাপে আপনি একটি ইউনিটের জন্য সম্পদের পরিমাণ হিসাব করেছেন। এবার করতে হবে সমগ্র। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার কাছে ৫ হেক্টর জমি থাকে সর্বমোট, তাহলে সম্পূর্ণ জমিতে ফসল ফলাতে কী পরিমাণ সম্পদ প্রয়োজন এবং তা আপনার কাছে আছে কিনা এটা দেখতে হবে। আপনার ফলন সম্পর্কে ধারণা দিতে এই ধাপ কাজে আসবে।
৫. SWOT analysis বা মূল্যায়ণ
SWOT বিষয়টি প্রথমে একটু বুঝিয়ে বলি। S= strength বা শক্তি; W= Weakness বা দুর্বলতা; O=Opportunity বা সুযোগ এবং T=Threats বা ঝুঁকি।
অর্থাৎ এই ফার্মটি যদি আপনি করেন তবে তার কতটুকু সুবিধা বা ঝুঁকি রয়েছে এবং এগুলো করতে কী কী সমস্যা আপনার হতে পারে তা বের করতে হবে। কোন জিনিস থাকার কারণে আপনি মনে করছেন ফার্মটি চলবে এবং কোন জিনিস না থাকার কারণে মনে হচ্ছে আপনি কিছুটা ঝামেলায় পরতে পারেন, সেসব বিবেচনা করতে হবে।
৬.পুরো ফার্মের পরিকল্পনা
পুরো ফার্মটির নিয়ে এবার পরিকল্পনা করুন। কোন জায়গায় কী চাষ করবেন কিংবা গবাদি পশুর ফার্ম হলে কোন প্রাণির ফার্ম করবেন, কোথায় কী স্থাপন করবেন, কতটুকু জনবল আপনার লাগবে এই সব বিস্তারিত পরিকল্পনা করে ফেলুন।
যেকোনো ফার্ম পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই ৬ টি ধাপে যদি আগান এবং ধাপগুলো সঠিকভাবে সম্পূর্ণ করেন, তাহলে নিশ্চিত থাকুন আপনার ফার্ম অবশ্যই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি লাভ এনে দিবে।