Category: দেশ

  • ঢাকার বাতাস আজ খুবই অস্বাস্থ্যকর, বিশ্বে অবস্থান পঞ্চম

    ঢাকার বাতাস আজ খুবই অস্বাস্থ্যকর, বিশ্বে অবস্থান পঞ্চম

    বায়ুদূষণে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্বের ১২৪টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান পঞ্চম। আজ সকাল ১০টার দিকে আইকিউ এয়ারের মানসূচকে ঢাকার বায়ুর মান ২১৭। বায়ুর এই মানকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়।

    বায়ুদূষণের পরিস্থিতি নিয়মিত তুলে ধরে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।

    সেই সতর্কবার্তায় ঢাকাবাসীর উদ্দেশে আইকিউ এয়ারের পরামর্শ, বাইরে বের হলে সুস্বাস্থ্যের জন্য অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। খোলা স্থানে ব্যায়াম করা যাবে না। আরও একটি পরামর্শ, ঘরের জানালা বন্ধ রাখতে হবে।

    ঢাকার সর্বোচ্চ দূষিত তিন এলাকার মধ্যে আছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এলাকা (২৬৯), আইসিডিডিআরবি (২৬৪) ও গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (২৫১)।

    আজ বিশ্বে বায়ুদূষণে প্রথম স্থানে আছে চীনের উহান। আইকিউ এয়ারের মানসূচকে শহরটির স্কোর ২৭৯।

    ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান হলো বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি। ঢাকার বাতাসে এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানমাত্রার চেয়ে প্রায় ২৮ দশমিক ৪ গুণ বেশি।

    গত ডিসেম্বরের একটি দিনও নির্মল বায়ু পায়নি রাজধানীবাসী। দূষণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাপসের এক জরিপে দেখা গেছে, ডিসেম্বরে যত বায়ুদূষণ ছিল, তা গত ৯ বছরে সর্বোচ্চ।

    এদিকে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে আইকিউ এয়ারের মানসূচকে ঢাকার সার্বিক বায়ুর মান ৫১৮। বায়ুদূষণের মান ৩০০ পার হলেই তাকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলা হয়। গতকাল বাতাসে যে ভয়াবহ দূষণ ছিল, তা সাম্প্রতিক অতীতে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন পরিবেশ-বিশেষজ্ঞরা।

  • বাদাম চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন চরের কৃষকদের

    বাদাম চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন চরের কৃষকদের

    দেশের বৃহৎ চরাঞ্চলখ্যাত কুড়িগ্রাম জেলায় বাদাম চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। চরের কৃষকরা বাদাম চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছেন।

    কুড়িগ্রামে দেশের বৃহৎ ব্রহ্মপুত্র নদের পানি শুকিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য বালুচর জেগে উঠেছে। জেগে ওঠা ধু-ধু বালুচরে বাদামের চাষ করেছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। বাদাম গাছের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে পুরো বালুচর। তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর, দুধকুমারসহ জেলার ১৬টি চরাঞ্চলে পাঁচশতাধিক চরাঞ্চলে বাদাম তোলার কর্মযজ্ঞ চলছে। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ দল বেঁধে বাদাম তোলার দৃশ্য চোখে পড়বে চরগুলোতে। চরাঞ্চলের বালু মাটি বাদাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের বালু মাটির জমিতে বাদাম চাষ করেছেন।

    রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, এবারে বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। ২০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। ইতোমধ্যে ওই জমি থেকে ৫/৭ মন বাজারে বিত্রিু করেছি। মন প্রতি ২ হাজার ৯শ টাকা। আরও অনেক বাদাম আছে, বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভ হবে।

    একই ইউনিয়নের আব্দুল জলিল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে নদীর ভাঙা-গড়ার খেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে চরের সংখ্যা। প্রতিবছর বন্যায় অনেক ক্ষতি হয়। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে বন্যা-পরবর্তী সময়ে জেগে ওঠা চরে বাদাম, কাউন, তিল, তিসিসহ হরেক রকম ফসল চাষ করে ক্ষতি পুষিয়ে নেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।

    চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের বজরা দিয়ার খাতা এলাকার মাহফুজার রহমান বলেন, বাদাম খেত থেকে আগাছা কেটে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হয়। এ ছাড়া অন্য ফসলের মতো বাদামের জমিতে তুলনামূলক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। তবে সার-বীজ, কীটনাশকসহ শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়া কৃষকরা লাভ কম পাচ্ছেন। বীজ রোপণের আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যেই বাদাম তুলে সংগ্রহ ও হাট-বাজারে বিক্রি করা যায়।

    রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের  শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম বলেন,  চরাঞ্চলে কৃষি কাজ ছাড়া হাতে তেমন কাজ না থাকায় বছরের অন্যান্য সময় জেলার বাইরে কাজের সন্ধানে যেতে হয় এই অঞ্চলের মানুষকে। দরিদ্র ও অসচ্ছল সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাজ করছেন চরাঞ্চলগুলোতে। এক মন বাদাম তুলে দিলে পারিশ্রমিক হিসেবে পাঁচ কেজি বাদাম দেন।

    একই ইউনিয়নের মোছা. আমেনা বেগম বলেন, বাদাম চাষ ভালো হয়েছে। সারাদিন বাদাম তুলে শুকাতে হচ্ছে।

    কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মুনাফা অর্জনের আশায় চরের কৃষকরা বাদাম চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছেন। কৃষি অফিস থেকে চাষিদের সব সময় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

    জেলায় এবার প্রায় সাড়ে ৫ শতাধিক চরাঞ্চলে বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ হাজার হেক্টর। যা অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ১১০ হেক্টর।

  • মেডিকেলে সুযোগ পেয়েছে হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে প্রান্তি, পড়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা

    মেডিকেলে সুযোগ পেয়েছে হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে প্রান্তি, পড়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা

    বাবা রমেন কুমার বিশ্বাস দিনমজুরের কাজ করেন। মা চঞ্চলা বিশ্বাস মুড়ি ভেজে বাজারের দোকানে দোকানে বিক্রি করেন। এই যৎসামান্য আয়ে কোনোরকমে চলছে পরিবারটির দিন। এই দম্পতির মেয়ে প্রান্তি বিশ্বাস সব বাধা জয় করে চলতি বছর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ খবরে খুশির সঙ্গে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত পরিবারটি। তাদের তাড়া করে ফিরছে মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার খরচ কীভাবে জোগাড় হবে, সে আতঙ্ক।

    ফরিদপুর সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের হাট গোবিন্দপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মেয়ে প্রান্তি। দুই ভাই-বোনের মধ্যে সে ছোট। তাঁর ভাই রাহুল বিশ্বাস একটি বেসরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ডিপ্লোমা পাস করে এখন চাকরি খুঁজছেন।

    হাট গোবিন্দপুর বাজার এলাকার পূর্বপাশে কানাইপুর-খলিলপুর গ্রামীণ সড়কের পাশে প্রান্তিদের বাড়িটি দুই শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত। বাড়িটি ইটের হলেও দরজা-জানালা পাটখড়ি দিয়ে আটকানো। মেঝে কাঁচা। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন কক্ষের এই ইটের বাড়ি প্রান্তির মাতামহ (নানা) তাঁদের করে দেন। তবে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু হওয়ায় বাড়ির কাজ শেষ হয়নি। এরপর আর ঘরের কাজ এগিয়ে নিতে পারেননি প্রান্তির বাবা রমেন বিশ্বাস। তখন থেকেই অসমাপ্ত এই ঘরে বসবাস করছেন পরিবারের সদস্যরা।

    আজ সোমবার বিকেলে ওই বাড়িতে গিয়ে কথা হয় প্রান্তির সঙ্গে। পাশে ছিলেন তাঁর মা ও ভাই। প্রান্তি জানান, ২০২২ সালে কানাইপুরের বেগম রোকেয়া কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। বিজ্ঞান বিভাগে পান গোল্ডেন জিপিএ-৫। ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করেন ফরিদপুর সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ থেকে। সেবারও পান জিপিএ-৫। প্রান্তি বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার। কিন্তু ফরিদপুরে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো কোচিংয়ের ব্যবস্থা নেই, এ জন্য মেডিকেলে পড়ার প্রস্তুতি শুরু করি।’

    মেয়ের এত বড় সাফল্যে একবার হাসছেন, একবার কাঁদছেন মা চঞ্চলা বিশ্বাস। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘মেয়ে ডাক্তারিতে সুযোগ পাইছে। শুনছি, এতে অনেক খরচ। কীভাবে এ খরচ জোগাব? সংসারের যে অবস্থা, তাতে তিনবেলা খেয়ে বেঁচে থাকা কষ্ট। সেখানে ওর জন্য প্রতিবছর ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করার ক্ষমতা তো আমাদের নাই। জানি না এ খরচ কীভাবে জোগাড় হবে।’

  • তিস্তা ব্যারেজ কমান্ড এলাকায় সেচের পানি দেওয়া শুরু

    তিস্তা ব্যারেজ কমান্ড এলাকায় সেচের পানি দেওয়া শুরু

    বাসস: তিস্তা ব্যারেজ কমান্ড এলাকায় চলতি বোরো মৌসুমে ক্যানেলগুলোতে সেচের পানি দেওয়া শুরু হয়েছে। ফলে কমান্ড এলাকায় কৃষকরা বোরো চাষে মাঠে নেমে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার থেকে মাঠে নেমেছেন তিস্তার সুবিধাভোগী চাষীরা। তারা বলছেন, যদি পানি সঠিকভাবে পাওয়া যায় তাহলে লাখো কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে। ফলাবে সোনালী ফসল।

    তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি স্লুইস গেইট বন্ধ রেখে সেচ ক্যানেলে নদীর পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে। পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে এবার ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে।

    রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ পর্যন্ত সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহ শুরু করা হয়। তিস্তা সেচ কমান্ড এলাকার সেচ খালে পানি পেয়ে কৃষকরা বোরো চারা রোপণে নেমে মাঠে নেমে পড়ছে।

    গংগাচড়ার চাষী সুজন বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে জমিতে পানি পেয়েছি, এবার ৪ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করছি, যদি পানি সঠিকমত পাই তাহলে ভালো ফলন হবে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের মুখ্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অমলেশ চন্দ্র রায় বাসসকে জানান, এবার ২০২৫ সালে তিস্তা সেচ প্রকল্পের রবি মৌসুমের বোরো ধান উৎপাদনে সেচ লক্ষ্যমাত্র ৫৫ হাজার ৭০০ হেক্টর।

    তিনি জানান, রংপুর জেলায় ১২ হাজার হেক্টরের মধ্যে তারাগঞ্জ উপজেলায় তিন হাজার হেক্টর, বদরগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার হেক্টর, গঙ্গাচরা উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টর ও রংপুর সদরে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে বৃহস্পতিবার থেকে পানি সরবরাহ শুরু করা হয়েছে।

    সূত্র জানায়, তিস্তা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রবাহিত অন্যতম একটি অভিন্ন নদী।

    বাপাউবোর উত্তরাঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বাসসকে জানান, এ প্রকল্পটি বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতার আংশিক ব্যবহার করে রংপুরের ৪টি উপজেলায় সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। নতুন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে এর সক্ষমতা বহুলাংশে বাড়বে।

  • কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে সফল উচ্চ শিক্ষিত সোহেল রানা

    কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে সফল উচ্চ শিক্ষিত সোহেল রানা

    (বাসস) : নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলায় উচ্চ শিক্ষিত সোহেল রানা একজন যুব কৃষি উদ্যোক্তা। প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আম এবং প্রচলিত অপ্রচলিত অন্যান্য ফলের বাগান করে অসামান্য সফলতা অর্জন করেছেন। তাঁর প্রকল্পের নাম ‘বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’।

    সাপাহার উপজেলা সদরের জয়পুর এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এরপর সরকারি বা বেসরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়েছেন।

    ২০১৮ সালে আম বাগান সৃজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি সোহেল রানা । প্রথমে নিজের জমিতে এবং পরবর্তীতে সাপাহার সরকারি কলেজের অনাবাদী পতিত জমি ২৫ বছরের জন্য লিজ নেন। এ ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানাধীন কিছু জমি একই শর্তে লিজ নিয়েছেন।

    এসব জমিতে ৫ হাজার আম্রপালি জাতের আম, ৪ হাজার বারী-৪ জাতের , ৪ হাজার গৌরমতী জাতের, আড়াই হাজার ব্যানানা জাতের এবং দেড় হাজার কাটিমন জাতের আম গাছ লাগিয়েছেন।

    এ ছাড়াও বিদশি জাতের জাপানি মিয়াজাকা, আমেরিকার আস্টিন ও কেইট ও অস্ট্রেলিয়ার ক্যাসিনটন প্রাইড আমগাছ লাগিয়েছেন। সব মিলিয়ে ২৫ জাতের প্রায় ২৫ হাজার গাছ লাগিয়েছেন সোহেল রানা।

    এ ছাড়া এই পার্কে কমলা, মাল্টা, এ্যাভোক্যাডো ও গ্লাডিওয়ালস ফুলের চাষ করেও সাফলতা পেয়েছেন তিনি।

    সোহেল রানা জানান এ পর্যন্ত ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি। এই প্রকল্পে আমের মওসুমে ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক কাজ করে। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক কাজ করে ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক।

    ইতিমধ্যে গাছগুলো বড় হয়েছে। এখন প্রত্যেক গাছে আম ধরে। বর্তমানে প্রতি বছর ৮০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেন বলে জানিয়েছেন এই উদ্যোক্তা। খরচ বাদ দিয়ে তিনি নিট ৪০ শতাংশ অর্থাৎ কমপক্ষে ৩২ লাখ টাকা লাভ করে থাকেন। তাঁর এই সফলতা এলাকার অনেক শিক্ষিত বেকার যুবককে আকৃষ্ট করেছে।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, সোহেল রানার বরেন্দ্র এগ্রো ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। এই উদ্যোগ অভাবনীয় সাফলতা অর্জন করেছে। কেউ যদি এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করবে অধিদপ্তর।

  • নড়াইলে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে রিলে পদ্ধতিতে সরিষা চাষ

    নড়াইলে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে রিলে পদ্ধতিতে সরিষা চাষ

    নড়াইল,  (বাসস) : জেলার ৩টি উপজেলায় জনপ্রিয়তা পাচ্ছে রিলে পদ্ধতিতে সরিষা চাষ।বিদ্যমান শস্য বিন্যাসের এ পদ্ধতিতে সরিষা চাষ অর্ন্তভূক্ত করার ফলে দুই ফসলী জমিতে তিন ফসলী আবাদে রুপান্তরিত হয়েছে।

    জেলা সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বাসসকে জানান, সদর উপজেলার ১৩টি  ইউনিয়নে চলতি মওসুমে ২হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে রিলে পদ্ধতিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার হেক্টর বেশি। সদর উপজেলার বীড়গ্রাম, দেভোগ, চাঁচড়া, আফরা, বাঁশগ্রাম, শাহাবাদ এলাকাসহ প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে রিলে পদ্ধতিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। বারি সরিষা-১৪,১৭ জাত এবং বিনা সরিষা ৪ ও ৯ জাতের চাষ বেশি হচ্ছে রিলে পদ্ধতিতে। রিলে পদ্ধতি হলো রোপা আমন ধান কাটার ১০-১৫ দিন পূর্বে পাকা  ধানের জমিতে সরিষার বীজ ছিটিয়ে সরিষার চাষ শুরু করা। এক্ষেত্রে পাকা ধান কাটার পর ওই ক্ষেত্রে সরিষার বীজ গজিয়ে কিছুটা বড় হয়ে যায় এবং সরিষার পরিচর্যা শুরু  হয়। ৮০ থেকে ৮৪ দিনের মধ্যে রিলে পদ্ধতির সরিষা কাটার উপযোগী হয় বলে তিনি জানান।

    সদর উপজেলার বীড়গ্রামের কৃষক রেবন্ত বিশ্বাস জানান, তিনি চলতি মওসুমে ৩ একর জমিতে রিলে পদ্ধতিতে সরিষার চাষ করেছেন। তার জমিতে সরিষার আবাদ ভালো হয়েছে। ফলনও ভালো হবে তিনি আশাবাদী।

    গোপালপুর গ্রামের কৃষক টুকু মিয়া জানান, দুই ফসলী জমিতে তিন ফসল চাষ করতে গত দুই বছর তিনি রিলে পদ্ধতিতে সরিষার চাষ করে আসছেন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ জুড়ে বাতাসে দোল খাচ্ছে রিলে পদ্ধতিতে চাষ হওয়া হলুদ সরিষা ফুল। হলুদের আভায় ছড়িয়ে থাকা সরিষার ক্ষেতগুলো দেখতে প্রকৃতি প্রেমীরা সকাল-বিকাল ভিড় করছেন। কৃষি প্রণোদনা পাওয়ায় এবং এ বছর বীজ বপনের সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার আবাদ ভালো হয়েছে। তাই কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি মওসুমে সরিষার চাষ বেড়েছে। জেলার ৩টি উপজেলায় ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ৩৪৮ হেক্টর জমিতে। তবে বিগত বছরের তুলনায় এবার ৪৬২ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষ বেড়েছে। গত বছর সরিষার আবাদ হয়েছিল ১২ হাজার ৮৮৮ হেক্টর জমিতে।

    চলতি মওসুমে উপজেলাওয়ারী সরিষার চাষ হয়েছে, নড়াইল সদর উপজেলায় ৪হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে, লোহাগড়া উপজেলায় ৫হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে এবং কালিয়া উপজেলায় ৩ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে। চাষ হওয়া জমিতে ১৭ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভবনা রয়েছে বলে বাসস’কে জানান উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা নিপু মজুমদার।  এদিকে, সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে মাঠ।

    মৌচাষীরা সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। হলুদ আবরণে ঢাকা সরিষার ক্ষেত প্রকৃতির মাঝে অপরূপ সৌন্দর্যে শোভা ছড়াচ্ছে।

    একাধিক সরিষা চাষী বাসসকে জানান, গত বছর আশানুরূপ দাম পাওয়ায় এবং কৃষি বিভাগ সরিষা চাষে প্রণোদনা দেওয়ায় চলতি মওসুমে কৃষকেরা সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। এ বছর জেলায় গত বছরের তুলনায় বেশি জমিতে সরিষার চাষ করেছেন তারা। প্রতি মণ সরিষার বাজার দর ৩ হাজার ২শ টাকা থেকে ৩হাজার ৩শ টাকা।

    কৃষি কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান আরও জানান, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা সরিষা চাষীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। উন্নত জাতের সরিষার চাষ ও আবাদ বাড়াতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।রিলে পদ্ধতিতে রোপা আমন ধানের সাথে সরিষার চাষ অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি।ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলনা কৃষি অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন প্রকল্পের আওতায় রোপা আমন ধানের সাথে সরিষার রিলে চাষ প্রযুক্তিটি ব্যাপকভাবে প্রসারিত হচ্ছে। কম খরচ ও কম পরিশ্রমে সরিষা চাষ করতে পারেন কৃষকেরা।

    বর্তমানে সরিষা চাষ কৃষকের কাছে লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। সরিষা চাষে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি পায়।এখানকার উৎপাদিত সরিষার তেল দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।

  • অবৈধভাবে বালু তুলে বেড়িবাঁধ সংস্কার, ঝুঁকিতে সুন্দরবন

    পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের শাকবাড়িয়া নদীতে কয়েকটি খননযন্ত্র দিয়ে দিনরাত অবৈধভাবে বালু তুলছে একটি চক্র। নদীর সুন্দরবনের পাশ থেকে বালু তুলে অপর প্রান্তে কয়রা উপজেলার বেড়িবাঁধের সংস্কারকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার সেই বালু বস্তায় ভরে ভাঙন ঠেকাতে নদীতীরে ফেলছেন শ্রমিকেরা। অব্যাহতভাবে বালু তোলায় একদিকে বিলীন হচ্ছে নদীপাড়ের বনের অংশ, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে নির্মাণাধীন বাঁধ। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, বারবার বাধা দিয়েও বালু উত্তোলনকারী ব্যক্তিদের ঠেকানো যাচ্ছে না।

    বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনিম্ন এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু তোলা যাবে না। এ ছাড়া বালু বা মাটি উত্তোলন বা বিক্রির জন্য খননের ফলে কোনো নদীর তীর ভাঙনের শিকার হলেও বালু তোলা যাবে না। আইন অমান্যকারী দুই বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    গত ২৭ ডিসেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, শাকবাড়িয়া নদীর পূর্ব পাশে সুন্দরবন ও পশ্চিমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ। বন বিভাগের শাকবাড়িয়া টহল ফাঁড়ি-সংলগ্ন এলাকা থেকে সুন্দরবনের খাসিটানা বন টহল ফাঁড়ির মধ্যবর্তী শাকবাড়িয়া নদীর ছয় কিলোমিটার এলাকার মধ্যে পাঁচটি খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। বালু তোলায় ইতিমধ্যে সুন্দরবনের গাছগাছালি ভেঙে নদীতে পড়তে শুরু করেছে। কয়েকটি স্থানে ভাঙনের পরিধি বেড়েছে।

    পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের শাকবাড়িয়া নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। সম্প্রতি শাকবাড়িয়া নদীর তীর থেকে তোলা
    পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের শাকবাড়িয়া নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। সম্প্রতি শাকবাড়িয়া নদীর তীর থেকে তোলাছবি: ইমতিয়াজ উদ্দীন

    কয়রার কাটকাটা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর অন্য প্রান্তে সুন্দরবনের গা ঘেঁষে দুটি খননযন্ত্র চলছে। সেখান থেকে বার্জে করে বালু নদীর কিনারে এনে বস্তায় ভরছেন শ্রমিকেরা। বস্তা গণনা শেষে সেখানেই ফেলা হচ্ছে। কাজ তদারকির জন্য পাউবোর কোনো কর্মকর্তাকেও দেখা যায়নি। শ্রমিকেরা জানালেন, কয়েক দিন ধরে দিনের বেলায় বালু তোলা হচ্ছে। আগে রাতের বেলা সুন্দরবনের খাসিটানা এলাকার নদী থেকে বালু তোলা হতো। প্রতিদিন ১৫–২০ হাজার ঘনফুট বালু তুলে নদীর কিনারে এনে বস্তায় ভরা হয়। সুন্দরবনের পাশে যে খননযন্ত্র চলছে, সেটার মালিকের নাম হারুন গাজী।

    পাউবোর কর্মী, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাউবোর বাঁধ পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কয়রার দুটি পোল্ডারে ৩২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। এ কাজে বালু সরবরাহ করছেন স্থানীয় খননযন্ত্রের মালিক হারুন গাজীসহ কয়েকজন। সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া নদী থেকে বালু উত্তোলনের বৈধ অনুমতি না থাকলেও দেদার বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে।

    সুন্দরবন–সংলগ্ন কাটকাটা গ্রামের বাসিন্দা রিপন হোসেন বলেন, প্রতিদিন সুন্দরবন ও নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে বালু তোলায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। অথচ বন বিভাগ কিংবা উপজেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দুই মাস আগে একবার খননযন্ত্রের মালিক হারুন গাজীসহ কয়েকজনকে জরিমানা করেছিল প্রশাসন। এর দুই দিন পর আবার বালু তোলা শুরু হয়। দিনের চেয়ে রাতের বেলা বেশি বালু তোলা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী উত্তর বেদকাশি এলাকার আসাদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের নদী থেকে অবৈধ বালু তোলার পেছনে একটি শক্তিশালী চক্র আছে। পাউবোর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেই চক্রের সঙ্গে চুক্তি করে বালু তুলছে। নদীর যেখানে ভাঙনের তীব্রতা বেশি, সেখান থেকেই বালু তুলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনকেও ঝুঁকিতে ফেলছে।

    খননযন্ত্রের মালিক হারুন গাজী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাকে পাউবোর বাঁধ মেরামত কাজের ঠিকাদার খলিলুর রহমান সেখান থেকে বালু তুলতে বলেছে। আমি প্রথমে রাজি না হওয়ায় ইউএনওর (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) একটি লিখিত অনুমতির কাগজ দেখিয়েছে।’

    জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ দেখাশোনা করি। কয়রার ইউএনও শাকবাড়িয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে কি না, নিরীক্ষা করতে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদারকি কমিটি করেছেন। সেই কাগজে সুন্দরবনের নদীর নাম দেখে, আমি ভেবেছি বালু তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমার ভুল হয়েছে। আমি এখনই বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিচ্ছি।’

    শাকবাড়িয়া নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলে বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে। সম্প্রতি শাকবাড়িয়া নদীর তীর থেকে তোলা
    শাকবাড়িয়া নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলে বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে। সম্প্রতি শাকবাড়িয়া নদীর তীর থেকে তোলাছবি: ইমতিয়াজ উদ্দীন

    সুন্দরবনের যে এলাকা থেকে বালু তোলা হচ্ছে, সেটি বন বিভাগের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের আওতাধীন। সেখানকার বন কর্মকর্তা সাদিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরবনের পাশের নদী থেকে বালু তোলা বনের জন্য হুমকি। বিষয়টি জানতে পেরে আগেও কয়েকবার খননযন্ত্রের মালিকদের নিষেধ করা হয়। তবে তাঁরা প্রশাসন অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। তিনি কয়রার ইউএনওকে মৌখিকভাবে এ ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন। দ্রুত লিখিতভাবে সংরক্ষিত বন ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কার বিষয়টি জানানো হবে।

    কয়রার ইউএনও রুলী বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, শাকবাড়িয়া নদী থেকে কাউকে বালু তোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি যেসব জায়গায় বালু আছে, সেখান থেকে বালু তোলা যাবে কি না, দেখার জন্য একটি কমিটি করে দিয়েছেন। ওই কমিটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখবে। পরে তাঁদের লিখিত মতামত তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠাবেন। তারপর বালু তোলার বিষয়টি সিদ্ধান্ত হবে। এমনিতেই এলাকাটি নদীভাঙন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। তিনি আগেও এলাকার বালুদস্যুদের জরিমানা করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • তেজগাঁওয়ের ট্রাকস্ট্যান্ডে আগুন, পুড়ল ৬ ট্রাক

    তেজগাঁওয়ের ট্রাকস্ট্যান্ডে আগুন, পুড়ল ৬ ট্রাক

    রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ট্রাকস্ট্যান্ডে আজ রোববার সকালে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় এ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে অন্তত ছয়টি ট্রাক পুড়ে গেছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে।

    আজ সকাল আটটার দিকে আগুন লাগে তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের একটি গ্যারেজে। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, আগুন লাগার ঘটনা জানার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সেখানে প্রথম দুটি, পরে আরও একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে সকাল সাড়ে আটটার পর সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

    ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম আজ সকালে  বলেন, ট্রাকস্ট্যান্ডের কাছে একটি গ্যারেজে আগুন লাগে। এটি আসলে একটি দোকান। আগুন লাগার পর সেখানে থাকা ছয়টি ট্রাক পুড়ে গেছে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

  • রিওভাইরাস কীভাবে ছড়ায়, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

    রিওভাইরাস কীভাবে ছড়ায়, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

    দেশে প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয়েছে রিওভাইরাস। এটি বিরল প্রকৃতির একটি রোগ, যা এনকেফালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহ ঘটায়। রিওভাইরাস সম্পর্কে জানিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন।

    রিওভাইরাস কী

    ডা. মুশতাক বলেন, Respiratory Enteric Orphan Virus সংক্ষেপে রিওভাইরাস নামে পরিচিত। এটিকে ‘অরফান’ বলা হয় এই কারণে যে, এটা রোগ সৃষ্টি করে না। কিন্তু অন্যান্য রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে।

    সম্প্রতি বাংলাদেশে ৫ জনের দেহে রিওভাইরাস শনাক্ত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর)। এটি খুবই বিরল, যা মস্তিষ্কের প্রদাহ ঘটায় বা মস্তিষ্কের সংক্রমণ ঘটায়। খেজুরের কাঁচা রস খেয়েছেন এবং নিপাস ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে এসেছেন এমন রোগীদের দেহে পরীক্ষা করে যখন নিপাহ ভাইরাস পাওয়া যায়নি, বিকল্প হিসেবে অন্য ভাইরাস আছে কি না তা পরীক্ষা করতে গেলে রিওভাইরাস শনাক্ত হয়।

    নিপাহ ভাইরাসের প্রধান সমস্যা হচ্ছে এটি মস্তিষ্কে প্রদাহ ঘটায়। খেজুরের কাঁচা রস খাওয়ার কারণে নিপাহ ভাইরাসের পাশাপাশি দেশের মানুষ রিওভাইরাসেও আক্রান্ত হচ্ছে তা প্রথমবারের মত শনাক্ত হলো।

    রিওভাইরাস কীভাবে ছড়ায়

    ডা. মুশতাক বলেন, রিওভাইরাস অনেক আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছে, যা শ্বাসতন্ত্রের রোগের সঙ্গে এবং পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণ বা পেটের অসুস্থতার সঙ্গে যুক্ত থাকে। এটা সচরাচরই পাওয়া যায় কিন্তু মস্তিষ্কের প্রদাহ পাওয়া গেছে খুব বিরল।

    বাংলাদেশে যে রিওভাইরাস পাওয়া গেছে সেটা বাদুড় থেকে এসেছে। অর্থাৎ বাদুড়ের রিওভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে।

    রিওভাইরাসের অনেকগুলো ধরন রয়েছে, যা বিভিন্ন প্রাণী ও মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। সংক্রমিত প্রাণীর লালা, মল-মূত্রের মাধ্যমে দূষিত খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে অন্যের শরীরের প্রবেশ করতে পারে রিওভাইরাস।

    শ্বাসতন্ত্রের সঙ্গে থাকা, বিভিন্ন রোগ, পেটের পীড়ার সঙ্গে থাকা রিওভাইরাসের সংক্রামকতা বা সংক্রমণ ঘটানোর ক্ষমতা নেই। মস্তিষ্কের প্রদাহ ঘটায় যে রিওভাইরাস, তার সংক্রমণ ঘটানোর ক্ষমতা আছে।

    লক্ষণ

    মস্তিষ্কের প্রদাহ ঘটায় যে রিওভাইরাস তাতে নিপাহ ভাইরাসের মতোই লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, মুখ দিয়ে লালা ঝরা, তীব্র মাথা ব্যথা, প্রচণ্ড জ্বর, আবোলতাবোল কথা বলা, জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটালে হাঁচি-কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, জ্বর এবং পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণে বমি, ডায়রিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়। আলাদাভাবে রিওভাইরাস পাওয়া যায় না, অন্যান্য রোগের সঙ্গে থাকে।

    মস্তিষ্কের প্রদাহ একটি গুরুতর অসুস্থতা। রিওভাইরাস মস্তিষ্কের প্রদাহ ঘটায় আর যে কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলে এটা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

    ডা. মুশতাক বলেন, রিওভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসায় সরাসরি অ্যান্টিভাইরাল কোনো ওষুধ নেই, লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হবে রোগীকে। রিওভাইরাস যদি গুরুতর সংক্রমণ ঘটায় বিশেষ করে এনকেফালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহ হয় তাহলে সে অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে, অক্সিজেন থেরাপি বা প্রয়োজনে লাইফ সাপোর্ট দিতে হবে।

    শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের কোনো সমস্যায় সে অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে রোগীকে। ভাইরাসের চরিত্রই হচ্ছে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যেতে পারে বা খারাপও হয়ে যেতে পারে। রিওভাইরাসের মৃদু সংক্রমণ এমনিতেই ভালো হয়ে যায়, তবে গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

    যেহেতু বাদুড় থেকে রিওভাইরাস সংক্রমণ পাওয়া গেছে, সেহেতু নিপাহ ভাইরাসের পাশাপাশি রিওভাইরাস প্রতিরোধে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া যাবে না, গাছের নিচের পড়ে থাকা ফল, ফাটা বা আধা খাওয়া ফল খাওয়া যাবে না। যেকোনো ফল, সবজি খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

  • বাড়ির উঠানে ৪ খাটিয়া, ছোট্ট ফাহিমের কেউ রইলো না

    বাড়ির উঠানে ৪ খাটিয়া, ছোট্ট ফাহিমের কেউ রইলো না

    টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ভবনদত্ত গ্রামে স্কুলশিক্ষক ফারুক সিদ্দিকীর বাড়ির সামনে সকাল থেকে স্বজন ও গ্রামবাসীর ভিড়। থামছে না কান্না।

    আজ বৃহস্পতিবার ভোর রাতে সাভার উপজেলার ফুলবাড়িয়া পুলিশ টাউন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ভবনদত্ত গ্রামের বাসিন্দা ফারুক হোসেন সিদ্দিকী (৫০), তার স্ত্রী মহসিনা সিদ্দিকী (৩৮) ও ছেলে ফুয়াদ সিদ্দিকী (১৪) এবং মহসিনার বড় বোন সীমা আক্তার (৪০)।

    ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে একটি অ্যাম্বুলেন্স সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে থেমে গেলে পেছন থেকে আসা একটি বাস তাতে ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সের সিলিন্ডারের গ্যাসে আগুন লেগে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে আগুন লাগা বাসটিতে পেছন থেকে আরেকটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে সেই বাসটিতেও আগুন লেগে যায়।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে অ্যাম্বুলেন্সসহ তিনটি যানবাহন পুরোপুরি পুড়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা চারজনের মৃত্যু হয়। আহত হন বাসের সাতজন যাত্রী।

    ফারুকের ছোট ভাই মামুন সিদ্দিকী আমাদের  জানান, তার ভাই ভবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

    ‘আমার ভাইয়ের ছোট ছেলে ফাহিম সিদ্দিকী পাশের উপজেলা গোপালপুরের এক আবাসিক মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে। লোক পাঠিয়ে দুপুরে তাকে নিয়ে আসা হয়েছে। সন্ধ্যার পরে জানিয়েছি, তার বাবা-মা, ভাই ও খালা কেউ বেঁচে নেই,’ বলেন মামুন।

    আইন প্রক্রিয়া শেষে চারজনের মরদেহ নেওয়া হচ্ছে ভবনদত্ত গ্রামে।

    মামুন আরও জানান, ফারুকের বড় ছেলে ফুয়াদ সিদ্দিকী স্থানীয় ভবনদত্ত গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার চিকিৎসার জন্য গত রাতে তারা ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমীন হেপলু জানান, রাতে তিনি ফারুক ও তার পরিবারের সদস্যদের অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে বাড়ি ফেরেন। সকালে তাদের মৃত্যু সংবাদ পান।

    ‘ছোট্ট ফাহিমের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না,’ বলেন রুহুল।

    ফারুকের চাচাতো ভাই শহীদুল ইসলাম রুমি বলেন, ‘দেশের বিপজ্জনক সড়কে দুর্ঘটনার বলি হলো আমাদের পরিবার। সবার শরীর পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে।’