ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা  নদী দখল ও দূষণে হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি  আতা ফলের ফল ছিদ্রকারি পোকা: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদার গাছ ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষয়ক্ষতি ও টেকসই সমাধান বাংলাদেশে আতা ফলের আগা মরা রোগ: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আনারসের হার্ট রট রোগ – কারণ, লক্ষণ ও টেকসই সমাধান আমলকির কান্ড ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত সমাধান আমলকির গল মাছি – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আমলকির স্কেল পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ

  • কৃষককন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:০৯:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪
  • ২৭০ বার পড়া হয়েছে

পোলট্রি ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে প্রথম করণীয় কাজটি হলো একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জেনে নেয়া। কারণ খামার শুরু করার পূর্বে আপনাকে পরিকল্পনা করে নিতে হবে। আর এই পরিকল্পনার জন্য সহায়ক হবে উক্ত সফল উদ্যোক্তার গাইডলাইন।আপনি কি জানেন একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে কেনো জানা প্রয়োজন? একটি পোলট্রি খামার শুরু করা তুলনামূলক সহজ মনে হলেও এর ধাপে ধাপে রয়েছে নানা প্রতিকূলতাপ্রতিটি পদক্ষেপে এমন কিছু সমস্যার সৃষ্টি হবে যা আপনি অন্য কোনো মাধ্যমে সমাধান করতে পারবেন না। এমনও হতে পারে আপনি প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকলেও হয়ত সেই সমাধান করতে পারবেন না। তখন আপনার প্রয়োজন হবে একজন অভিজ্ঞ খামারীর পরামর্শ। 

পোলট্রি উদ্যোক্তার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 

উপর্যুক্ত ব্যাখ্যা অনুসারে আমরা বুঝতে পারছি যে একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তার পরামর্শ আপনার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে এবার জেনে নেই একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তা সম্পর্কে-

তিনি হলেন গাইবান্ধা জেলার বোয়ালী ইউনিয়নের উদ্যোক্তা শহীদুল ইসলাম বাবু। এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েই পড়াশোনার পাট চুকিয়েছেন তিনি।

এরপর যদিও চাকরির আশায় ঢাকায় এসেছিলেন এবং প্রায় দেড় মাস কাজও করেছিলেন। তবে এখানে স্থায়ী হতে পারেননি। তাই ঢাকার সাথে লেনদেন শেষ করে তিনি চলে যান গ্রাম্র এবং গড়ে তোলেন পোলট্রি খামার।

আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। সংসার চালানোর সমস্ত খরচসহ যা উন্নতি করেছেন সবকিছুর মূলেই রয়েছে এই খামার থেকে অর্জিত আয়।

প্রথম পর্যায়ে উদ্যোক্তা হিসেবে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন?

ইতোমধ্যে, আমরা আমাদের আদর্শ উদ্যোক্তাকে পেয়ে গেছি যিনি একটি সফল পোলট্রি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এবার তার থেকেই জেনে নেবো যে তার পোলট্রি উদ্যোক্তা হওয়ার পথ কেমন ছিল।তিনি জানান, শুরুর দিকে তাকে বেশ প্রতিকূল সময়ই পার করতে হয়েছে। অনেক চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়েছে নতুন এই উদ্যোগকে সফল করতে। সেগুলোকে পার হতে তার মানসিকতা ছিল অনেকটা এমন-

  • সফলতার মূল মন্ত্র পরিশ্রম। যেহেতু তিনি একজন ব্যবসায়ী, তাই লাভ কিংবা লস যেটাই হোক তিনি তা মেনে নিতেন। হাজার সমস্যার মাঝেও পরিশ্রম কখনো ছেড়ে দেননি। রাত দিন খামার নিয়ে ভেবেছেন, কাজ করেছেন যে কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়।
  • শহীদুল কখনো হাল ছাড়েননি। তার লাভ না হলেও তিনি লেগে থেকেছিলেন এই কাজের সাথে।
  • তার পোলট্রি ব্যবসার উদ্যোগ ত্বরান্বিত করতে তিনি দুজন কর্মচারীও রেখেছিলেন। আর তাদেরকে এমনভাবে শিখিয়ে নিয়েছিলেন যেনো তারা দুজন মুরগীগুলোকে নিজের সন্তানের মত ভালোবাসা দিয়ে লালন পালন করেন। বেলাল এবং হেলালও তার কথা মতই পরিচালনা করছেন খামার। 
  • তিনি মানুষের কাছে বসতেন, গল্প করতেন এবং বোঝার চেষ্টা করতেন মানুষের চাহিদা সম্পর্কে। আর এ চাহিদা কীভাবে তার ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারে সেই চেষ্টা করতেন।

এগুলোই ছিল শহীদুলের পোলট্রি খামারে উদ্ভাবন।

পোলট্রি উদ্যোক্তার মুখোমুখি হওয়া সাধারণ চ্যালেঞ্জ

পোলট্রি ফার্ম পরিচালনা করতে শহীদুল যেসকল পদক্ষেপ নিয়েছিলেন রা নি:সন্দেহে বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। কিন্তু একারণে যে তাকে পোলট্রি ব্যবসায়ের চ্যালেঞ্জ এর মুখে পড়তে হয়নি এমন হয়। এই পোলট্রি উদ্যোক্তার কঠিন সময় গিয়েছে প্রথম পর্যায়ে।

এবার আমরা জেনে নিব কী কী চ্যালেঞ্জ তাকে পার করতে হয়েছে। 

  • প্রথমত তাকে অর্থ যোগান নিয়ে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। পোলট্রি খামারে বেশ বড় অংকের অর্থ দরকার খাদ্য ব্যবস্থাপনায়। তাই এ অর্থ যোগাতে তাকে কিছুটা কঠিন সময় পার করতে হয়েছে।
  • মুরগীর রোগ-ব্যাধি সম্পর্কে প্রথমে তিনি খুব বেশি জানতেন না। ফলে আক্রান্ত মুরগীর চিকিৎসায় তার বেশ ভালো খরচ হয়েছিল এবং এ কারণে প্রথমদিকে তিনি তেমন লাভ করতে পারেননি।
  • মুরগীর জন্য সুষম খাদ্য বণ্টন করতে না পারায় মুরগীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি। এতে মাংস এবং ডিম উৎপাদন তুলনামূলক কম হত।
  • সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল বাজারজাতকরণ নিয়ে। তার উৎপাদিত ডিম এবং মাংস কীভাবে ক্রেতা কিংবা দোকানীদের কাছে পৌঁছে দেবেন এ নিয়ে বেশ ভালো বেগ পেতে হয়েছে তাকে।

কীভাবে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে সফল হয়েছেন?

কিন্তু, এত এত সমস্যার মাঝেও শহীদুল থেমে থাকেননি। একারণেই তিনি উদ্যোক্তার প্রেরণা হয়ে উঠেছেন অনেকের কাছে। ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পোলট্রি খামারে সাফল্য অর্জন করতে এবং পোলট্রি খামারের উন্নতি সাধন করতে তিনি যেসকল পদক্ষেপ নেন সেগুলো নিচে বিশ্লেষিত হলো-

  • শহীদুল মুরগীর খাবার নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছিলেন।  তাই দানা জাতীয় খাবারগুলো তিনি নিজ জমিতে উৎপাদন করতে শুরু করেন। সরিষা, তিসি জাতীয় বীজ গুলো নিজের জমি থেকেই পেতেন।
  • তিনি এলাকায় কর্মরত পশু ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেন মুরগীর রোগ-ব্যাধি সম্পর্কে। পরবর্তী বছর থেকে নিয়মিত ভ্যাক্সিনেশন এর ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।
  • তিনি তার খামারের কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন যাতে তারা মুরগীর খাদ্য এবং স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকতে পারেন। 
  • পোলট্রি উদ্যোক্তার কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল অর্গানিকভাবে মুরগী পালনের ব্যবস্থা করা এবং তাতে তিনি সফলও হন। যদিও পুরোপুরি অর্গানিক খামার তিনি গড়তে পারেননি, তবুও যতটুকু উদ্যোগ নিয়েছেন তা মুরগীর মাংস এবং ডিমের পুষ্টি বৃদ্ধির জন্য উল্লেখযোগ্য। 

সফলতা অর্জনের পরের গল্প

যাই হোক, এতক্ষণ তো আমরা এই পোলট্রি উদ্যোক্তার সফলতার গল্প শুনলাম। কিন্তু সাফল্য অর্জনের পরের গল্পটা শুনবেন না? 

বর্তমানে প্রায় ১০০ শতাংশ জমির উপর রয়েছে তার বিশাল খামার। আর এই বিশাল খামারে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি লেয়ার মুরগী রয়েছে। খামার শুরুর সময় তার বিনিয়োগ ছিল ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু, বর্তমানে তার মাসিক ইনকাম প্রায় লাখ টাকা। এছাড়াও তিনি তার এই ব্যবসা আরও বর্ধিত করতে চান এবং এর মাধ্যমে অনেক বেকার যুবকের কর্ম-সংস্থানের ব্যবস্থা করতে চান।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ

এই হলো গাইবান্ধা জেলার একজন সফল খামারী উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক চিন্তা। তবে আমরা আপনাদের কথাও ভেবেছি। সেকারণেই তার অভিজ্ঞতা জানার পাশাপাশি আমরা আরও জানতে চেয়েছি কিছু খামার পরিচালনার টিপস।শহীদুল জানান, তিনি সবসময়ই যুবকদের বেকার না থেকে পোলট্রি উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন প্রত্যেক খামারী উদ্যোক্তার কৌশল আলাদা হয়। তবে পোলট্রি ব্যবসা লাভজনক হলেও সঠিক ভাবে পরিচালনা না করতে পারলে তাতে ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই তিনি পরামর্শ হিসেবে বলেন-

  • উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা হতে হবে সহজ এবং সাশ্রয়ী। অর্থ ব্যবস্থাপনা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর মুরগীর খাদ্য এবং চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ চলে যায়। 

তাই কীভাবে খামার পরিচালনা করলে কম অর্থে বেশি লাভ করা যায় তা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জানতে হবে। পাশাপাশি নিজের উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার কৌশল জানতে হবে।

  • নিয়মিত পশু ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে।
  • উদ্দেশ্য ঠিক করতে হবে। ডিম নাকি মাংস নাকি উভয়ই কোনটি উৎপাদন করতে চান এটা ঠিক করতে হবে। সেই অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে যেকোনো এক জাতের মুরগী আনতে হবে। 
  •  ধৈর্য হারানো যাবে না। লস হলেও লেগে থাকতে হবে।
  • মুরগীর ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

এই হলো সফল পোলট্রি খামারের কৌশল। আপনিও যদি খামার তৈরীর কথা ভাবেন তবে আপনার এলাকার যেকোনো পোলট্রি উদ্যোক্তার সাথে পরামর্শ করুন। অথবা বিভিন্ন সংবাদের মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তাদের কৌশলগুলো জানুন। এতে আপনার কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।

 

 

অথরের তথ্য

Abrar Khan

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় ০৯:০৯:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪

পোলট্রি ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে প্রথম করণীয় কাজটি হলো একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জেনে নেয়া। কারণ খামার শুরু করার পূর্বে আপনাকে পরিকল্পনা করে নিতে হবে। আর এই পরিকল্পনার জন্য সহায়ক হবে উক্ত সফল উদ্যোক্তার গাইডলাইন।আপনি কি জানেন একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে কেনো জানা প্রয়োজন? একটি পোলট্রি খামার শুরু করা তুলনামূলক সহজ মনে হলেও এর ধাপে ধাপে রয়েছে নানা প্রতিকূলতাপ্রতিটি পদক্ষেপে এমন কিছু সমস্যার সৃষ্টি হবে যা আপনি অন্য কোনো মাধ্যমে সমাধান করতে পারবেন না। এমনও হতে পারে আপনি প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকলেও হয়ত সেই সমাধান করতে পারবেন না। তখন আপনার প্রয়োজন হবে একজন অভিজ্ঞ খামারীর পরামর্শ। 

পোলট্রি উদ্যোক্তার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 

উপর্যুক্ত ব্যাখ্যা অনুসারে আমরা বুঝতে পারছি যে একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তার পরামর্শ আপনার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে এবার জেনে নেই একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তা সম্পর্কে-

তিনি হলেন গাইবান্ধা জেলার বোয়ালী ইউনিয়নের উদ্যোক্তা শহীদুল ইসলাম বাবু। এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েই পড়াশোনার পাট চুকিয়েছেন তিনি।

এরপর যদিও চাকরির আশায় ঢাকায় এসেছিলেন এবং প্রায় দেড় মাস কাজও করেছিলেন। তবে এখানে স্থায়ী হতে পারেননি। তাই ঢাকার সাথে লেনদেন শেষ করে তিনি চলে যান গ্রাম্র এবং গড়ে তোলেন পোলট্রি খামার।

আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। সংসার চালানোর সমস্ত খরচসহ যা উন্নতি করেছেন সবকিছুর মূলেই রয়েছে এই খামার থেকে অর্জিত আয়।

প্রথম পর্যায়ে উদ্যোক্তা হিসেবে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন?

ইতোমধ্যে, আমরা আমাদের আদর্শ উদ্যোক্তাকে পেয়ে গেছি যিনি একটি সফল পোলট্রি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এবার তার থেকেই জেনে নেবো যে তার পোলট্রি উদ্যোক্তা হওয়ার পথ কেমন ছিল।তিনি জানান, শুরুর দিকে তাকে বেশ প্রতিকূল সময়ই পার করতে হয়েছে। অনেক চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়েছে নতুন এই উদ্যোগকে সফল করতে। সেগুলোকে পার হতে তার মানসিকতা ছিল অনেকটা এমন-

  • সফলতার মূল মন্ত্র পরিশ্রম। যেহেতু তিনি একজন ব্যবসায়ী, তাই লাভ কিংবা লস যেটাই হোক তিনি তা মেনে নিতেন। হাজার সমস্যার মাঝেও পরিশ্রম কখনো ছেড়ে দেননি। রাত দিন খামার নিয়ে ভেবেছেন, কাজ করেছেন যে কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়।
  • শহীদুল কখনো হাল ছাড়েননি। তার লাভ না হলেও তিনি লেগে থেকেছিলেন এই কাজের সাথে।
  • তার পোলট্রি ব্যবসার উদ্যোগ ত্বরান্বিত করতে তিনি দুজন কর্মচারীও রেখেছিলেন। আর তাদেরকে এমনভাবে শিখিয়ে নিয়েছিলেন যেনো তারা দুজন মুরগীগুলোকে নিজের সন্তানের মত ভালোবাসা দিয়ে লালন পালন করেন। বেলাল এবং হেলালও তার কথা মতই পরিচালনা করছেন খামার। 
  • তিনি মানুষের কাছে বসতেন, গল্প করতেন এবং বোঝার চেষ্টা করতেন মানুষের চাহিদা সম্পর্কে। আর এ চাহিদা কীভাবে তার ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারে সেই চেষ্টা করতেন।

এগুলোই ছিল শহীদুলের পোলট্রি খামারে উদ্ভাবন।

পোলট্রি উদ্যোক্তার মুখোমুখি হওয়া সাধারণ চ্যালেঞ্জ

পোলট্রি ফার্ম পরিচালনা করতে শহীদুল যেসকল পদক্ষেপ নিয়েছিলেন রা নি:সন্দেহে বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। কিন্তু একারণে যে তাকে পোলট্রি ব্যবসায়ের চ্যালেঞ্জ এর মুখে পড়তে হয়নি এমন হয়। এই পোলট্রি উদ্যোক্তার কঠিন সময় গিয়েছে প্রথম পর্যায়ে।

এবার আমরা জেনে নিব কী কী চ্যালেঞ্জ তাকে পার করতে হয়েছে। 

  • প্রথমত তাকে অর্থ যোগান নিয়ে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। পোলট্রি খামারে বেশ বড় অংকের অর্থ দরকার খাদ্য ব্যবস্থাপনায়। তাই এ অর্থ যোগাতে তাকে কিছুটা কঠিন সময় পার করতে হয়েছে।
  • মুরগীর রোগ-ব্যাধি সম্পর্কে প্রথমে তিনি খুব বেশি জানতেন না। ফলে আক্রান্ত মুরগীর চিকিৎসায় তার বেশ ভালো খরচ হয়েছিল এবং এ কারণে প্রথমদিকে তিনি তেমন লাভ করতে পারেননি।
  • মুরগীর জন্য সুষম খাদ্য বণ্টন করতে না পারায় মুরগীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি। এতে মাংস এবং ডিম উৎপাদন তুলনামূলক কম হত।
  • সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল বাজারজাতকরণ নিয়ে। তার উৎপাদিত ডিম এবং মাংস কীভাবে ক্রেতা কিংবা দোকানীদের কাছে পৌঁছে দেবেন এ নিয়ে বেশ ভালো বেগ পেতে হয়েছে তাকে।

কীভাবে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে সফল হয়েছেন?

কিন্তু, এত এত সমস্যার মাঝেও শহীদুল থেমে থাকেননি। একারণেই তিনি উদ্যোক্তার প্রেরণা হয়ে উঠেছেন অনেকের কাছে। ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পোলট্রি খামারে সাফল্য অর্জন করতে এবং পোলট্রি খামারের উন্নতি সাধন করতে তিনি যেসকল পদক্ষেপ নেন সেগুলো নিচে বিশ্লেষিত হলো-

  • শহীদুল মুরগীর খাবার নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছিলেন।  তাই দানা জাতীয় খাবারগুলো তিনি নিজ জমিতে উৎপাদন করতে শুরু করেন। সরিষা, তিসি জাতীয় বীজ গুলো নিজের জমি থেকেই পেতেন।
  • তিনি এলাকায় কর্মরত পশু ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেন মুরগীর রোগ-ব্যাধি সম্পর্কে। পরবর্তী বছর থেকে নিয়মিত ভ্যাক্সিনেশন এর ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।
  • তিনি তার খামারের কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন যাতে তারা মুরগীর খাদ্য এবং স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকতে পারেন। 
  • পোলট্রি উদ্যোক্তার কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল অর্গানিকভাবে মুরগী পালনের ব্যবস্থা করা এবং তাতে তিনি সফলও হন। যদিও পুরোপুরি অর্গানিক খামার তিনি গড়তে পারেননি, তবুও যতটুকু উদ্যোগ নিয়েছেন তা মুরগীর মাংস এবং ডিমের পুষ্টি বৃদ্ধির জন্য উল্লেখযোগ্য। 

সফলতা অর্জনের পরের গল্প

যাই হোক, এতক্ষণ তো আমরা এই পোলট্রি উদ্যোক্তার সফলতার গল্প শুনলাম। কিন্তু সাফল্য অর্জনের পরের গল্পটা শুনবেন না? 

বর্তমানে প্রায় ১০০ শতাংশ জমির উপর রয়েছে তার বিশাল খামার। আর এই বিশাল খামারে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি লেয়ার মুরগী রয়েছে। খামার শুরুর সময় তার বিনিয়োগ ছিল ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু, বর্তমানে তার মাসিক ইনকাম প্রায় লাখ টাকা। এছাড়াও তিনি তার এই ব্যবসা আরও বর্ধিত করতে চান এবং এর মাধ্যমে অনেক বেকার যুবকের কর্ম-সংস্থানের ব্যবস্থা করতে চান।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ

এই হলো গাইবান্ধা জেলার একজন সফল খামারী উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক চিন্তা। তবে আমরা আপনাদের কথাও ভেবেছি। সেকারণেই তার অভিজ্ঞতা জানার পাশাপাশি আমরা আরও জানতে চেয়েছি কিছু খামার পরিচালনার টিপস।শহীদুল জানান, তিনি সবসময়ই যুবকদের বেকার না থেকে পোলট্রি উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন প্রত্যেক খামারী উদ্যোক্তার কৌশল আলাদা হয়। তবে পোলট্রি ব্যবসা লাভজনক হলেও সঠিক ভাবে পরিচালনা না করতে পারলে তাতে ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই তিনি পরামর্শ হিসেবে বলেন-

  • উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা হতে হবে সহজ এবং সাশ্রয়ী। অর্থ ব্যবস্থাপনা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর মুরগীর খাদ্য এবং চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ চলে যায়। 

তাই কীভাবে খামার পরিচালনা করলে কম অর্থে বেশি লাভ করা যায় তা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জানতে হবে। পাশাপাশি নিজের উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার কৌশল জানতে হবে।

  • নিয়মিত পশু ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে।
  • উদ্দেশ্য ঠিক করতে হবে। ডিম নাকি মাংস নাকি উভয়ই কোনটি উৎপাদন করতে চান এটা ঠিক করতে হবে। সেই অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে যেকোনো এক জাতের মুরগী আনতে হবে। 
  •  ধৈর্য হারানো যাবে না। লস হলেও লেগে থাকতে হবে।
  • মুরগীর ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

এই হলো সফল পোলট্রি খামারের কৌশল। আপনিও যদি খামার তৈরীর কথা ভাবেন তবে আপনার এলাকার যেকোনো পোলট্রি উদ্যোক্তার সাথে পরামর্শ করুন। অথবা বিভিন্ন সংবাদের মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তাদের কৌশলগুলো জানুন। এতে আপনার কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।