ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা  নদী দখল ও দূষণে হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি  আতা ফলের ফল ছিদ্রকারি পোকা: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদার গাছ ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষয়ক্ষতি ও টেকসই সমাধান বাংলাদেশে আতা ফলের আগা মরা রোগ: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আনারসের হার্ট রট রোগ – কারণ, লক্ষণ ও টেকসই সমাধান আমলকির কান্ড ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত সমাধান আমলকির গল মাছি – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আমলকির স্কেল পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

পোলট্রি ব্যবসায় শূন্য থেকে শীর্ষে: খামারীরা এখন সাফল্যের পথে

  • কৃষককন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪
  • ২৭৭ বার পড়া হয়েছে

পোলট্রি ব্যবসায় শূণ্য থেকে শীর্ষে  উঠতে চাইলে আপনাকে খামার পরিচালনার পরিকল্পনা এবং কৌশল সঠিকভাবে জানতে হবে। নয়ত লাভের থেকে লসের সম্ভাবনাই বেশি থেকে যায়। পোলট্রি খামার শুরু করার পর সকলেরই স্বপ্ন থাকে কীভাবে শূণ্য থেকে শীর্ষে ওঠা যায়। তাই পোলট্রি বিষয়ক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কীভাবে আপনি সর্বদা লাভবান হতে পারেন সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব আমরা আজ।

পোলট্রি খামারের উপযোগীতা এবং পরিশ্রমের গুরুত্ব 

“৭০ হাজার টাকায় শুরু, এখন আয় ১০ লাখ।”সংবাদটি দিনাজপুরের একজন খামারিকে নিয়ে করা যার পোলট্রি ব্যবসায় লাভের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার এই সাফল্য কিন্তু একদিনের নয়, বরং দিনের পর দিন পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনার মিশ্রণ ঘটিয়ে এটি তিনি অর্জন করেছেন এই খামারী সফলতার গল্প। অতএব বুঝতেই পারছেন খামার ব্যবসায় লাভ করার জন্য প্রথম ধাপই হলো পরিকল্পনা। যদিও সেই খামারী পোলট্রি মুরগীর সাথে গাভী এবং মাছও চাষ করেছেন। তবে লাভের জন্য আপনাকে যে একসাথে সব করতে হবে তার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।

কারণ এমন অনেক উদাহরণ আছে যারা নিজেদের পোলট্রি ফার্মের লাভ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করে দোতলা ফার্ম তৈরী করেছেনে এবং বার্ষিক আয়ের লক্ষ্য ৫০ লাখ টাকা।উদাহরণগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরার কারণ একটিই। আর তা হলো পোলট্রি খামার থেকে উচ্চ লাভ পাওয়া সম্ভব এ ধারণা প্রদান করা। তবে অবশ্যই আপনাকে পরিশ্রমী হতে হবে।

পরিশ্রম না করলে কখনোই আপনি এমন উদাহরণ নিজের ক্ষেত্রে তৈরী করতে পারবেন না। কিন্তু পরিশ্রম করার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন পরিকল্পনা তৈরী করা। কারণ পরিকল্পনা সঠিক না হলে অর্থ অপচয় হয় যা ক্ষতির সম্মুখীন করে।

তাই এবিষয়টি নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক। পোলট্রি খামারে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ এর মাধ্যমে আমরা পেয়ে যাব।

খামার পরিচালনার জন্য সঠিক পরিকল্পনা এবং পদক্ষেপ

ইতোমধ্যে, আমরা বুঝতে পেরেছি যে পোলট্রি খামারে বেশ ভালো পরিমাণ আয় করা সম্ভব। তবে তার জন্য চাই সঠিক পদক্ষেপ। পোলট্রি খামারের পরিকল্পনার মধ্যে অর্থ বা বাজেট সংক্রান্ত বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

কারণ বাজেট কম হলে পুরো বিষয়টি এমনভাবে সাজাতে হবে যেনো অল্প খরচে সব মেলানো যায়। আবার বাজেট বেশি হলে জিনিসের বৈচিত্র্য বাড়ানো সম্ভব।যেমন ধরুন আপনার মুরগীর জাত কোনটা নেয়া উচিৎ তা অনেকাংশে নির্ভর করবে আপনার বাজেটের উপর। তাই একটি ফার্ম করতে হলে জমি নির্বাচন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত কত খরচ হবে এই হিসেব বা পরিকল্পনা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী যেসকল জিনিস যে পরিমাণে প্রয়োজন, সেই পরিমাণ জিনিস আনতে হবে। অর্থাৎ, প্রথমেই খামার তৈরীর সকল উপাদান এনে খামার প্রস্তুত করে ফেলতে হবে।

 

এরপর মুরগীর বাচ্চা, খাবার, ওষুধসহ সবকিছু কিনতে হবে। পাশাপাশি মুরগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কী কী করা প্রয়োজন সেসব কিছুও জানতে হবে। মুরগীর ভ্যাক্সিনেশন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিকল্পনাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

পোলট্রি খামারে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ

এবার তাহলে আপনার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ। আপনি কখন কী করবেন কীভাবে করবেন এই সবকিছু আপনি জানেন এবং খামারও স্থাপন করে ফেলেছেন। তবে এরপরেও খামার পরিচালনার সময় আপনাকে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে বা হতে পারে।আমরা চাই আপনি আগাম সেগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখুন যেনো এসব সমস্যার মোকাবেল সহজেই করতে পারেন। তাহলে আসুন দেখি কী সেসকল চ্যালেঞ্জ। সঠিক বিকাশ এবং ডিমের জন্য তাপমাত্রা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনারা জানেন শীতকালে মুরগীর ডিম দেওয়ার পরিমাণ কমে যায় কারণ এটি তার জন্য প্রতিকূল অবস্থা।

আবার একইভাবে অতিরিক্ত গরমও মুরগী সহ্য করতে পারেন না। এ বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম থাকায় অনেক মুরগী মারা যায়। 

উদাহরণস্বরূপ দিনাজপুরের একজন খামারি মো. শাহ আলমের কথা ধরা যাক। তার খামারে ২৫০০ ব্রয়লার মুরগী ছিল যার মধ্যে ২০০০ টিই মারা যায় মাত্র ২ দিনে। দিনের ১২ টা থেকে প্রায় ৪ টার মধ্যে প্রায় সব মুরগী মারা গেছে যখন তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেশি।

অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন এ পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।মুরগীর রোগ-ব্যাধি ছড়ানোর যেসকল ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া আছে তারা অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে মুরগীর বিষ্ঠার মাধ্যমে। যার কারণে যেকোনো ভাবে যদি একটি মুরগীও এদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যায় তবে সেই রোগ অতির দ্রুত পুরো খামারে ছড়িয়ে পড়ে।

মুরগীর খাবারে যদি সঠিক অনুপাতে ক্যালসিয়াম না থাকে তাহলে ডিমের খোলস ভালোভাবে গঠন হয় না। এছাড়াও শারীরিক সমস্যা তো আছেই। তাই আপনি পরিমিত খাবার দিলেও কোনো খাবার বা পুষ্টি যদি একটু কম হয়, তাহলে লস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

পোলট্রি খামারগুলোতে একটি বড় অংকের পরিমাণ খরচ করতে হয় খাবারের জন্য। শুধু এই সমস্যার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে যশোরে গত দুই বছরে প্রায় ১৫৭৯ টি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। কেননা বর্তমানে মুরগীর খাবারের দাম দ্রুত বর্ধমান।

 পোলট্রি খামারে সাধারণত এসব বড় বড় সমস্যা হতে দেখা যায়। তবে সঠিক পরিচর্যায় এসব সমস্যা অনেকাংশেই মোকাবেলা করা সম্ভব। তাই সমস্যা জানার পাশাপাশি সমাধানগুলোও জেনে নেবো আমরা।

পোলট্রি খামারের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কৌশল

পূর্বানুসারে, এখন আমাদের জেনে নিতে হবে পোলট্রি খামারের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলার কৌশল। তাহলে ভূমিকা না করে সরাসরি চলে যাই উপায় এ।

মুরগীর খামারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। শীতের দিনে বাইরের ঠান্ডা বাতাস যেনো ঢুকতে না পারে সেজন্য ভালোভাবে চারদিক ঘিরে রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

এছাড়াও গাদাগাদি করে মুরগী না রেখে পরিমিত জায়গা সংকুলান হলে এবং ফ্যান বা ঘর ঠান্ডা রাখার অন্য উপায় অবলম্বন করলে গরমের দিনে মুরগীকে অনুকূল অবস্থা দেওয়া সম্ভব।

  • মুরগীর রোগ-ব্যাধি যেনো ছড়াতে না পারে সেজন্য খামার পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করতে হবে৷ একইসাথে, আপনি যখন খামারে প্রবেশ করবেন তখন আপনিও যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করবেন যেনো জীবাণু প্রবেশ না করে। নিয়মিত ভ্যাক্সিনেশন এর ব্যবস্থা এ সমস্যার সমাধান করতে পারে।
  • মুরগীর খাদ্য হতে হবে সুষম। সেখানে প্রোটিন,ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট, খনিজ ইত্যাদি সকল উপাদান থাকতে হবে। 
  • মুরগীর খাদ্যের দাম বাড়তি হওয়ায় যদি সংকুলান করা সম্ভব না হয়, তাহলে মুরগীর খাদ্য বাড়ি থেকে উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন সরিষা বীজ মুরগীর জন্য অনেক উপকারী। সরিষা চাষ করলে সহজেই এ বীজ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এমন বিকল্প ব্যবস্থা আনতে হবে।

সাফল্য ধরে রাখার জন্য নিয়মিত পরিবর্তন 

পোলট্রি খামারের সফলতা অর্জন কখনো একদিনে সম্ভব নয়। তাই পোলট্রি খামারে উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে সর্বদাই কাজ করতে হবে।

আপনি ইতোমধ্যে পোলট্রি ব্যবসায়ের টিপস গুলো সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। তবে প্রত্যেকটি ব্যবসাকেই সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। তেমনি পোলট্রি খামারে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যও আপনাকে পোলট্রি খামারের উন্নতির কৌশলগুলো খুঁজে বের করতে হবে।

আপনার আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে কীভাবে পোলট্রি ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন সেটাই হলো আপনার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যা আপনি উপর্যুক্ত আলোচনার সাহায্যে সহজেই পেতে পারেন।অতএব বুঝতেই পারছেন, পোলট্রি খামারের উন্নতি করতে চাইলে এবং পোলট্রি খামারে সাফল্য পেতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে পোলট্রি খামারে ব্যবসায়িক কৌশল অবলম্বন করতে হবে।আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি পোলট্রি খামারের সঠিক পরিকল্পনা আপনাদের সামনে তুলে ধরার যেনো সফল পোলট্রি খামারী হিসেবে আপনিও একদিন নিজেকে তুলে ধরতে পারেন। তাই আজ থেকেই মেনে চলুন খামারে সাফল্য অর্জনের উপায়

 

অথরের তথ্য

Abrar Khan

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

পোলট্রি ব্যবসায় শূন্য থেকে শীর্ষে: খামারীরা এখন সাফল্যের পথে

আপডেট সময় ০৬:০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪

পোলট্রি ব্যবসায় শূণ্য থেকে শীর্ষে  উঠতে চাইলে আপনাকে খামার পরিচালনার পরিকল্পনা এবং কৌশল সঠিকভাবে জানতে হবে। নয়ত লাভের থেকে লসের সম্ভাবনাই বেশি থেকে যায়। পোলট্রি খামার শুরু করার পর সকলেরই স্বপ্ন থাকে কীভাবে শূণ্য থেকে শীর্ষে ওঠা যায়। তাই পোলট্রি বিষয়ক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কীভাবে আপনি সর্বদা লাভবান হতে পারেন সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব আমরা আজ।

পোলট্রি খামারের উপযোগীতা এবং পরিশ্রমের গুরুত্ব 

“৭০ হাজার টাকায় শুরু, এখন আয় ১০ লাখ।”সংবাদটি দিনাজপুরের একজন খামারিকে নিয়ে করা যার পোলট্রি ব্যবসায় লাভের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার এই সাফল্য কিন্তু একদিনের নয়, বরং দিনের পর দিন পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনার মিশ্রণ ঘটিয়ে এটি তিনি অর্জন করেছেন এই খামারী সফলতার গল্প। অতএব বুঝতেই পারছেন খামার ব্যবসায় লাভ করার জন্য প্রথম ধাপই হলো পরিকল্পনা। যদিও সেই খামারী পোলট্রি মুরগীর সাথে গাভী এবং মাছও চাষ করেছেন। তবে লাভের জন্য আপনাকে যে একসাথে সব করতে হবে তার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।

কারণ এমন অনেক উদাহরণ আছে যারা নিজেদের পোলট্রি ফার্মের লাভ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করে দোতলা ফার্ম তৈরী করেছেনে এবং বার্ষিক আয়ের লক্ষ্য ৫০ লাখ টাকা।উদাহরণগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরার কারণ একটিই। আর তা হলো পোলট্রি খামার থেকে উচ্চ লাভ পাওয়া সম্ভব এ ধারণা প্রদান করা। তবে অবশ্যই আপনাকে পরিশ্রমী হতে হবে।

পরিশ্রম না করলে কখনোই আপনি এমন উদাহরণ নিজের ক্ষেত্রে তৈরী করতে পারবেন না। কিন্তু পরিশ্রম করার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন পরিকল্পনা তৈরী করা। কারণ পরিকল্পনা সঠিক না হলে অর্থ অপচয় হয় যা ক্ষতির সম্মুখীন করে।

তাই এবিষয়টি নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক। পোলট্রি খামারে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ এর মাধ্যমে আমরা পেয়ে যাব।

খামার পরিচালনার জন্য সঠিক পরিকল্পনা এবং পদক্ষেপ

ইতোমধ্যে, আমরা বুঝতে পেরেছি যে পোলট্রি খামারে বেশ ভালো পরিমাণ আয় করা সম্ভব। তবে তার জন্য চাই সঠিক পদক্ষেপ। পোলট্রি খামারের পরিকল্পনার মধ্যে অর্থ বা বাজেট সংক্রান্ত বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

কারণ বাজেট কম হলে পুরো বিষয়টি এমনভাবে সাজাতে হবে যেনো অল্প খরচে সব মেলানো যায়। আবার বাজেট বেশি হলে জিনিসের বৈচিত্র্য বাড়ানো সম্ভব।যেমন ধরুন আপনার মুরগীর জাত কোনটা নেয়া উচিৎ তা অনেকাংশে নির্ভর করবে আপনার বাজেটের উপর। তাই একটি ফার্ম করতে হলে জমি নির্বাচন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত কত খরচ হবে এই হিসেব বা পরিকল্পনা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী যেসকল জিনিস যে পরিমাণে প্রয়োজন, সেই পরিমাণ জিনিস আনতে হবে। অর্থাৎ, প্রথমেই খামার তৈরীর সকল উপাদান এনে খামার প্রস্তুত করে ফেলতে হবে।

 

এরপর মুরগীর বাচ্চা, খাবার, ওষুধসহ সবকিছু কিনতে হবে। পাশাপাশি মুরগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কী কী করা প্রয়োজন সেসব কিছুও জানতে হবে। মুরগীর ভ্যাক্সিনেশন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিকল্পনাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

পোলট্রি খামারে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ

এবার তাহলে আপনার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ। আপনি কখন কী করবেন কীভাবে করবেন এই সবকিছু আপনি জানেন এবং খামারও স্থাপন করে ফেলেছেন। তবে এরপরেও খামার পরিচালনার সময় আপনাকে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে বা হতে পারে।আমরা চাই আপনি আগাম সেগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখুন যেনো এসব সমস্যার মোকাবেল সহজেই করতে পারেন। তাহলে আসুন দেখি কী সেসকল চ্যালেঞ্জ। সঠিক বিকাশ এবং ডিমের জন্য তাপমাত্রা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনারা জানেন শীতকালে মুরগীর ডিম দেওয়ার পরিমাণ কমে যায় কারণ এটি তার জন্য প্রতিকূল অবস্থা।

আবার একইভাবে অতিরিক্ত গরমও মুরগী সহ্য করতে পারেন না। এ বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম থাকায় অনেক মুরগী মারা যায়। 

উদাহরণস্বরূপ দিনাজপুরের একজন খামারি মো. শাহ আলমের কথা ধরা যাক। তার খামারে ২৫০০ ব্রয়লার মুরগী ছিল যার মধ্যে ২০০০ টিই মারা যায় মাত্র ২ দিনে। দিনের ১২ টা থেকে প্রায় ৪ টার মধ্যে প্রায় সব মুরগী মারা গেছে যখন তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেশি।

অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন এ পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।মুরগীর রোগ-ব্যাধি ছড়ানোর যেসকল ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া আছে তারা অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে মুরগীর বিষ্ঠার মাধ্যমে। যার কারণে যেকোনো ভাবে যদি একটি মুরগীও এদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যায় তবে সেই রোগ অতির দ্রুত পুরো খামারে ছড়িয়ে পড়ে।

মুরগীর খাবারে যদি সঠিক অনুপাতে ক্যালসিয়াম না থাকে তাহলে ডিমের খোলস ভালোভাবে গঠন হয় না। এছাড়াও শারীরিক সমস্যা তো আছেই। তাই আপনি পরিমিত খাবার দিলেও কোনো খাবার বা পুষ্টি যদি একটু কম হয়, তাহলে লস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

পোলট্রি খামারগুলোতে একটি বড় অংকের পরিমাণ খরচ করতে হয় খাবারের জন্য। শুধু এই সমস্যার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে যশোরে গত দুই বছরে প্রায় ১৫৭৯ টি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। কেননা বর্তমানে মুরগীর খাবারের দাম দ্রুত বর্ধমান।

 পোলট্রি খামারে সাধারণত এসব বড় বড় সমস্যা হতে দেখা যায়। তবে সঠিক পরিচর্যায় এসব সমস্যা অনেকাংশেই মোকাবেলা করা সম্ভব। তাই সমস্যা জানার পাশাপাশি সমাধানগুলোও জেনে নেবো আমরা।

পোলট্রি খামারের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কৌশল

পূর্বানুসারে, এখন আমাদের জেনে নিতে হবে পোলট্রি খামারের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলার কৌশল। তাহলে ভূমিকা না করে সরাসরি চলে যাই উপায় এ।

মুরগীর খামারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। শীতের দিনে বাইরের ঠান্ডা বাতাস যেনো ঢুকতে না পারে সেজন্য ভালোভাবে চারদিক ঘিরে রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

এছাড়াও গাদাগাদি করে মুরগী না রেখে পরিমিত জায়গা সংকুলান হলে এবং ফ্যান বা ঘর ঠান্ডা রাখার অন্য উপায় অবলম্বন করলে গরমের দিনে মুরগীকে অনুকূল অবস্থা দেওয়া সম্ভব।

  • মুরগীর রোগ-ব্যাধি যেনো ছড়াতে না পারে সেজন্য খামার পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করতে হবে৷ একইসাথে, আপনি যখন খামারে প্রবেশ করবেন তখন আপনিও যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করবেন যেনো জীবাণু প্রবেশ না করে। নিয়মিত ভ্যাক্সিনেশন এর ব্যবস্থা এ সমস্যার সমাধান করতে পারে।
  • মুরগীর খাদ্য হতে হবে সুষম। সেখানে প্রোটিন,ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট, খনিজ ইত্যাদি সকল উপাদান থাকতে হবে। 
  • মুরগীর খাদ্যের দাম বাড়তি হওয়ায় যদি সংকুলান করা সম্ভব না হয়, তাহলে মুরগীর খাদ্য বাড়ি থেকে উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন সরিষা বীজ মুরগীর জন্য অনেক উপকারী। সরিষা চাষ করলে সহজেই এ বীজ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এমন বিকল্প ব্যবস্থা আনতে হবে।

সাফল্য ধরে রাখার জন্য নিয়মিত পরিবর্তন 

পোলট্রি খামারের সফলতা অর্জন কখনো একদিনে সম্ভব নয়। তাই পোলট্রি খামারে উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে সর্বদাই কাজ করতে হবে।

আপনি ইতোমধ্যে পোলট্রি ব্যবসায়ের টিপস গুলো সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। তবে প্রত্যেকটি ব্যবসাকেই সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। তেমনি পোলট্রি খামারে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যও আপনাকে পোলট্রি খামারের উন্নতির কৌশলগুলো খুঁজে বের করতে হবে।

আপনার আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে কীভাবে পোলট্রি ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন সেটাই হলো আপনার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যা আপনি উপর্যুক্ত আলোচনার সাহায্যে সহজেই পেতে পারেন।অতএব বুঝতেই পারছেন, পোলট্রি খামারের উন্নতি করতে চাইলে এবং পোলট্রি খামারে সাফল্য পেতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে পোলট্রি খামারে ব্যবসায়িক কৌশল অবলম্বন করতে হবে।আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি পোলট্রি খামারের সঠিক পরিকল্পনা আপনাদের সামনে তুলে ধরার যেনো সফল পোলট্রি খামারী হিসেবে আপনিও একদিন নিজেকে তুলে ধরতে পারেন। তাই আজ থেকেই মেনে চলুন খামারে সাফল্য অর্জনের উপায়