ঢাকা ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা  নদী দখল ও দূষণে হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি  আতা ফলের ফল ছিদ্রকারি পোকা: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদার গাছ ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষয়ক্ষতি ও টেকসই সমাধান বাংলাদেশে আতা ফলের আগা মরা রোগ: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আনারসের হার্ট রট রোগ – কারণ, লক্ষণ ও টেকসই সমাধান আমলকির কান্ড ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত সমাধান আমলকির গল মাছি – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আমলকির স্কেল পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন-শুরু থেকে সফল

  • কৃষককন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪
  • ২৩৬ বার পড়া হয়েছে

খামারিদের কাছে অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন অপরিচিত বিষয় নয়। তবে এখনো আমাদের দেশে অনেকেই আছেন যারা মুরগী পালন করতে চাচ্ছেন কিন্তু এই বিষয়টি সম্পর্কে তেমন জানেন না। তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে আমরা নিয়ে এসেছি এই পদ্ধতির বিশ্লেষণ। 

অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন

প্রথমেই জেনে নিতে হবে অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন বিষয়টা কী। এটি মূলত একটি প্রক্রিয়া যেখানে আপনি মুরগীকে কোনো রকম এন্টিবায়োটিক, রাসায়নিক কোনো খাবার বা ঔষধ দিতে পারবেন না।অর্গানিক খামার শুরু করতে হলে আপনাকে মুরগীর সব ধরণের প্রাকৃতিক খাদ্য এবং প্রাকৃতিক ব্যবস্থাপনা নিতে হবে। রাসায়নিক কোনো বিষয় এখানে থাকে না বলেই একে অর্গানিক পোলট্রি ব্যবস্থাপনা বলা হয়।

এটি একটি স্বাস্থ্যকত এবং পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়া কেননা মুরগীকে রাসায়নিক সব প্রকার বস্তু থেকে আলাদা রাখা হয়। এতে মুরগীর স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের বিষয়টিও নিশ্চিত থাকে। তাই বিজ্ঞানীরা অর্গানিক পোলট্রি খামার নিয়ে বেশ ইতিবাচক মত পোষণ করেছেন।

অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালনের গুরুত্ব এবং সুবিধা 

অর্গানিক মুরগী পালন পদ্ধতি সম্পর্কে জানার আগে আমরা জেনে নেবো এ পদ্ধতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এর বাজার চাহিদা কেমন। কারণ আমরা সবসময়ই বলে থাকি, বাজার চাহিদা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। অন্যথায়, ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।এই পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো-

  • মানুষের স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় এই পদ্ধতি বেশ উপকারী। কেননা অর্গানিক মুরগীর ডিম এবং মাংসতে কোনো রাসায়নিক বস্তুর অবশিষ্টাংশ থাকে না। এতে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের মান উন্নত হয়।

 

  • রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করার কারণে এটি একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। এতে পরিবেশের ভারসাম্য সুরক্ষিত থাকে।

 

  • অর্গানিক পোলট্রি খামার এর মুরগীর বাজার চাহিদা অনেক। তাই পোলট্রি খামারের সাফল্যের কৌশল হিসেবে অন্যতম ধরা হয় অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন। 

 

  • প্রাকৃতিক অবস্থায় পালিত হয় বিধায় মুরগী খোলামেলা জায়গায় স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে পারে যা তার জন্য স্বাস্থ্যকর।

 

  • স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের উপায় হিসেবেও এ পদ্ধতির বেশ মূল্যায়ণ রয়েছে।

 

  • বিশেষত নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অর্গানিক পোলট্রি খামার বেশ লাভজনক।

 

তাই পোলট্রি সফলতা নিশ্চিত করতে অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালনের জুড়ি নেই। এ খামারের মাধ্যমে বেশ ভালো সুবিধা আপনি পেতে পারেন।

অর্গানিক পোলট্রি খামার শুরু করার ধাপ

অর্গানিক পোলট্রি খামার শুরু করার প্রাথমিক ধাপ হলো খামারের পরিকল্পনা। পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কিছু শুরু করলে তাতে লাভের সম্ভাবনা এবং পরিমাণ দুটোই কম থাকে। তাই ভেবেচিন্তে শুরু করতে হবে।খামার তৈরী করার জন্য একটি নির্দিষ্ট জমি ঠিক করতে হবে যেখানে মুরগী নিরাপদে চলাফেরা করতে হবে। জমি অবশ্যই উঁচু জায়গায় হতে হবে যেনো পানি জমে না থাকে। পাশাপাশি পরিমিত রৌদ্রজ্বল স্থান হতে হবে। স্যাতসেতে জায়গায় মুরগীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেশি।

পাশাপাশি জায়গাটি এমন হতে হবে যেনো তা খোলামেলা হয়৷ কেননা পরিমিত আলো-বাতাস থাকলে সেখানে মুরগীর গঠন ভালো হয় এবং ওজনেও ঠিকভাবে বাড়ে। এভাবে জায়গা নির্বাচন করে মুরগীর প্রয়োজনীয় অর্গানিক খাদ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করে অর্গানিক পোলট্রি খামার শুরু করতে হবে।

অর্গানিক পোলট্রি খামারের ব্যবস্থাপনা 

আপনি একটি সফল অর্গানিক পোলট্রি খামার গড়ে তুলতে পারবেন কিনা তা নির্ভর করছে আপনার খামারের ব্যবস্থাপনার উপর। তাই অর্গানিক পোলট্রি খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বেশ ভালোভাবে জানতে হবে আপনাকে।খামারের প্রাথমিক ধাপে এর পরিকল্পনা সম্পর্কে আমরা জেনে গেছি। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর মূল কাজ হলো এর ব্যবস্থাপনা। সেক্ষেত্রে আপনাকে যেগুলো দেখতে হবে তা হলো- 

অর্গানিক পোলট্রি খামারের ব্যবস্থাপনা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে গঠিত। এখানে কিছু মূল দিক তুলে ধরা হলো:

খাদ্য ব্যবস্থাপনা 

ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেই প্রথমেই আসবে খাদ্যের বিষয়টি। কেননা অন্যান্য মুরগী ফার্ম অপেক্ষা আপনার অর্গানিক পোলট্রি খামার আলাদা হওয়ার প্রধান কারণ এই খাদ্যের পার্থক্য।তাহলে কী কী খাদ্য দিতে হবে মুরগীকে? জেনে নেই এই সম্পর্কিত কিছু তথ্য-

  • জৈব দানা (মসুরের ডাল, সরিষা দানা, তিসি বীজ ইত্যাদি)
  • শাকসবজি (পালং শাক, ব্রকোলি, গাজর ইত্যাদি)
  • ফলমূল (আমলকি) 
  • ভিটামিন এবং মিনারেল সমৃদ্ধ খাদ্য
  • গম, ভূট্টা ইত্যাদি শস্য
  • পরিমিত পানি

 

অর্গানিক ফার্ম স্থাপন করতে হলে এসব খাদদ্য অবশ্যই দিতে হবে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা

খাদ্যের পর এবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভাবতে হবে। যেহেতু এখানে রাসায়নিক কিছু আপনি ব্যবহার করছেন না। তাই স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে।নিয়মিত মুরগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে এবং নজরদারিতে রাখতে হবে। সামান্য অস্বাভাবিকতা দেখা গেলেও সাথে সাথে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগের জন্য প্রাকৃতিক প্রতিকার ব্যবহার করতে হবে যেমন আদা, তেজপাতা, নিমপাতা ইত্যাদি। 

তাছাড়াও মুরগীর অসুখ হলে কী করণীয় তা পশু চিকিৎসকের মাধ্যমে সঠিকভাবে জেনে নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্রাকৃতিক জিনিস ব্যবহার করতে হবে।

পরিবেশগত সুরক্ষা

পরিবেশগত সুরক্ষা বলতে মুরগীর চারপাশ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। মুরগীর আবাসস্থল এবং আশপাশের সব জায়গায় নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। মুরগীর অপসারিত জিনিস যেমন প্রতিদিনের উচ্ছিষ্ট খাদ্য, বিষ্ঠা, আবর্জনা ইত্যাদি নিয়মিত ভাবে পরিষ্কার করতে হবে। কারণ এগুলো থাকলে তা দ্বারা বিভিন্ন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি ছড়ায় যা রোগ-ব্যাধির মূল কারণ।

দক্ষতাপূর্ণ তদারকি

পোলট্রি খামারের জন্য দক্ষ লোক নিয়োগ আবশ্যক। পোলট্রি মুরগীর খাদ্য, রক্ষণাবেক্ষণ, সঠিক প্রজনন ব্যবস্থা গড়ে তোলা ইত্যাদি কাজের জন্য অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ লোক লাগবে। নাহলে একটি অর্গানিক ফার্ম গড়ে তোলা বেশ কঠিন। কোন সময়ে কোন জিনিস দিতে হবে এবং কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে এসব বিষয় নিয়ে তাকে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে। অর্গানিক পোলট্রি ফার্মের মূল বিষয়ই হলো এই তদারকি।

 

আমাদের দেশে ইদানীং পোলট্রি ব্যবসা বেশ জনপ্রিয় উঠছে। তাই আপনিও যদি এমন কোনো ব্যবসার কথা চিন্তা করে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য উত্তম নির্দেশনা হলো অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন। তবে সেক্ষেত্রে এখানে উল্লেখ্য বিষয়গুলো মেনে চললে ব্যবসায় বেশি লাভ করা সম্ভব।

অথরের তথ্য

Abrar Khan

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন-শুরু থেকে সফল

আপডেট সময় ০৯:৫৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪

খামারিদের কাছে অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন অপরিচিত বিষয় নয়। তবে এখনো আমাদের দেশে অনেকেই আছেন যারা মুরগী পালন করতে চাচ্ছেন কিন্তু এই বিষয়টি সম্পর্কে তেমন জানেন না। তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে আমরা নিয়ে এসেছি এই পদ্ধতির বিশ্লেষণ। 

অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন

প্রথমেই জেনে নিতে হবে অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন বিষয়টা কী। এটি মূলত একটি প্রক্রিয়া যেখানে আপনি মুরগীকে কোনো রকম এন্টিবায়োটিক, রাসায়নিক কোনো খাবার বা ঔষধ দিতে পারবেন না।অর্গানিক খামার শুরু করতে হলে আপনাকে মুরগীর সব ধরণের প্রাকৃতিক খাদ্য এবং প্রাকৃতিক ব্যবস্থাপনা নিতে হবে। রাসায়নিক কোনো বিষয় এখানে থাকে না বলেই একে অর্গানিক পোলট্রি ব্যবস্থাপনা বলা হয়।

এটি একটি স্বাস্থ্যকত এবং পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়া কেননা মুরগীকে রাসায়নিক সব প্রকার বস্তু থেকে আলাদা রাখা হয়। এতে মুরগীর স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের বিষয়টিও নিশ্চিত থাকে। তাই বিজ্ঞানীরা অর্গানিক পোলট্রি খামার নিয়ে বেশ ইতিবাচক মত পোষণ করেছেন।

অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালনের গুরুত্ব এবং সুবিধা 

অর্গানিক মুরগী পালন পদ্ধতি সম্পর্কে জানার আগে আমরা জেনে নেবো এ পদ্ধতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এর বাজার চাহিদা কেমন। কারণ আমরা সবসময়ই বলে থাকি, বাজার চাহিদা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। অন্যথায়, ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।এই পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো-

  • মানুষের স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় এই পদ্ধতি বেশ উপকারী। কেননা অর্গানিক মুরগীর ডিম এবং মাংসতে কোনো রাসায়নিক বস্তুর অবশিষ্টাংশ থাকে না। এতে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের মান উন্নত হয়।

 

  • রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করার কারণে এটি একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। এতে পরিবেশের ভারসাম্য সুরক্ষিত থাকে।

 

  • অর্গানিক পোলট্রি খামার এর মুরগীর বাজার চাহিদা অনেক। তাই পোলট্রি খামারের সাফল্যের কৌশল হিসেবে অন্যতম ধরা হয় অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন। 

 

  • প্রাকৃতিক অবস্থায় পালিত হয় বিধায় মুরগী খোলামেলা জায়গায় স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে পারে যা তার জন্য স্বাস্থ্যকর।

 

  • স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের উপায় হিসেবেও এ পদ্ধতির বেশ মূল্যায়ণ রয়েছে।

 

  • বিশেষত নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অর্গানিক পোলট্রি খামার বেশ লাভজনক।

 

তাই পোলট্রি সফলতা নিশ্চিত করতে অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালনের জুড়ি নেই। এ খামারের মাধ্যমে বেশ ভালো সুবিধা আপনি পেতে পারেন।

অর্গানিক পোলট্রি খামার শুরু করার ধাপ

অর্গানিক পোলট্রি খামার শুরু করার প্রাথমিক ধাপ হলো খামারের পরিকল্পনা। পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কিছু শুরু করলে তাতে লাভের সম্ভাবনা এবং পরিমাণ দুটোই কম থাকে। তাই ভেবেচিন্তে শুরু করতে হবে।খামার তৈরী করার জন্য একটি নির্দিষ্ট জমি ঠিক করতে হবে যেখানে মুরগী নিরাপদে চলাফেরা করতে হবে। জমি অবশ্যই উঁচু জায়গায় হতে হবে যেনো পানি জমে না থাকে। পাশাপাশি পরিমিত রৌদ্রজ্বল স্থান হতে হবে। স্যাতসেতে জায়গায় মুরগীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেশি।

পাশাপাশি জায়গাটি এমন হতে হবে যেনো তা খোলামেলা হয়৷ কেননা পরিমিত আলো-বাতাস থাকলে সেখানে মুরগীর গঠন ভালো হয় এবং ওজনেও ঠিকভাবে বাড়ে। এভাবে জায়গা নির্বাচন করে মুরগীর প্রয়োজনীয় অর্গানিক খাদ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করে অর্গানিক পোলট্রি খামার শুরু করতে হবে।

অর্গানিক পোলট্রি খামারের ব্যবস্থাপনা 

আপনি একটি সফল অর্গানিক পোলট্রি খামার গড়ে তুলতে পারবেন কিনা তা নির্ভর করছে আপনার খামারের ব্যবস্থাপনার উপর। তাই অর্গানিক পোলট্রি খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বেশ ভালোভাবে জানতে হবে আপনাকে।খামারের প্রাথমিক ধাপে এর পরিকল্পনা সম্পর্কে আমরা জেনে গেছি। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর মূল কাজ হলো এর ব্যবস্থাপনা। সেক্ষেত্রে আপনাকে যেগুলো দেখতে হবে তা হলো- 

অর্গানিক পোলট্রি খামারের ব্যবস্থাপনা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে গঠিত। এখানে কিছু মূল দিক তুলে ধরা হলো:

খাদ্য ব্যবস্থাপনা 

ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেই প্রথমেই আসবে খাদ্যের বিষয়টি। কেননা অন্যান্য মুরগী ফার্ম অপেক্ষা আপনার অর্গানিক পোলট্রি খামার আলাদা হওয়ার প্রধান কারণ এই খাদ্যের পার্থক্য।তাহলে কী কী খাদ্য দিতে হবে মুরগীকে? জেনে নেই এই সম্পর্কিত কিছু তথ্য-

  • জৈব দানা (মসুরের ডাল, সরিষা দানা, তিসি বীজ ইত্যাদি)
  • শাকসবজি (পালং শাক, ব্রকোলি, গাজর ইত্যাদি)
  • ফলমূল (আমলকি) 
  • ভিটামিন এবং মিনারেল সমৃদ্ধ খাদ্য
  • গম, ভূট্টা ইত্যাদি শস্য
  • পরিমিত পানি

 

অর্গানিক ফার্ম স্থাপন করতে হলে এসব খাদদ্য অবশ্যই দিতে হবে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা

খাদ্যের পর এবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভাবতে হবে। যেহেতু এখানে রাসায়নিক কিছু আপনি ব্যবহার করছেন না। তাই স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে।নিয়মিত মুরগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে এবং নজরদারিতে রাখতে হবে। সামান্য অস্বাভাবিকতা দেখা গেলেও সাথে সাথে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগের জন্য প্রাকৃতিক প্রতিকার ব্যবহার করতে হবে যেমন আদা, তেজপাতা, নিমপাতা ইত্যাদি। 

তাছাড়াও মুরগীর অসুখ হলে কী করণীয় তা পশু চিকিৎসকের মাধ্যমে সঠিকভাবে জেনে নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্রাকৃতিক জিনিস ব্যবহার করতে হবে।

পরিবেশগত সুরক্ষা

পরিবেশগত সুরক্ষা বলতে মুরগীর চারপাশ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। মুরগীর আবাসস্থল এবং আশপাশের সব জায়গায় নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। মুরগীর অপসারিত জিনিস যেমন প্রতিদিনের উচ্ছিষ্ট খাদ্য, বিষ্ঠা, আবর্জনা ইত্যাদি নিয়মিত ভাবে পরিষ্কার করতে হবে। কারণ এগুলো থাকলে তা দ্বারা বিভিন্ন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি ছড়ায় যা রোগ-ব্যাধির মূল কারণ।

দক্ষতাপূর্ণ তদারকি

পোলট্রি খামারের জন্য দক্ষ লোক নিয়োগ আবশ্যক। পোলট্রি মুরগীর খাদ্য, রক্ষণাবেক্ষণ, সঠিক প্রজনন ব্যবস্থা গড়ে তোলা ইত্যাদি কাজের জন্য অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ লোক লাগবে। নাহলে একটি অর্গানিক ফার্ম গড়ে তোলা বেশ কঠিন। কোন সময়ে কোন জিনিস দিতে হবে এবং কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে এসব বিষয় নিয়ে তাকে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে। অর্গানিক পোলট্রি ফার্মের মূল বিষয়ই হলো এই তদারকি।

 

আমাদের দেশে ইদানীং পোলট্রি ব্যবসা বেশ জনপ্রিয় উঠছে। তাই আপনিও যদি এমন কোনো ব্যবসার কথা চিন্তা করে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য উত্তম নির্দেশনা হলো অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগী পালন। তবে সেক্ষেত্রে এখানে উল্লেখ্য বিষয়গুলো মেনে চললে ব্যবসায় বেশি লাভ করা সম্ভব।