ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা  নদী দখল ও দূষণে হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি  আতা ফলের ফল ছিদ্রকারি পোকা: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদার গাছ ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষয়ক্ষতি ও টেকসই সমাধান বাংলাদেশে আতা ফলের আগা মরা রোগ: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আনারসের হার্ট রট রোগ – কারণ, লক্ষণ ও টেকসই সমাধান আমলকির কান্ড ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত সমাধান আমলকির গল মাছি – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আমলকির স্কেল পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

আসছে মৌসুমে করুন ডাল চাষ

  • কৃষককন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:২৭:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ অক্টোবর ২০২৪
  • ৩৭৬ বার পড়া হয়েছে

নাজনীন নাহার অনন্যা: আমাদের দেশে ডাল একটি অতি পরিচিত খাদ্য। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন হিসেবে পরিচিত এই ডাল চাষ বিভিন্নভাবে আমাদের ক্ষেতে ফলন হয়ে থাকে। মুগ, মসুর, মাসকলাই, খেসারি, অড়হর ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের ডাল আমাদের আশপাশে প্রচলিত।

মূলত ডালজাতীয় ফসল আমাদের মাটিকে উর্বর করে। ডাল এমন একটি ফসল যা রবি, খরিফ-১ এবং খরিফ-২ এই তিন মৌসুমেই চাষ করা যায়। কৃষি গবেষকদের মতে, ১ হেক্টর জমি থেকে ৮-১০ টন বায়োমাস পাওয়া যায় যা উর্বরতা রক্ষায় অত্যন্ত উপকারী। 

কিন্তু ডাল চাষে আমাদের কৃষক ভাইদের এখনো অনেক অবহেলা দেখা যায়। যা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। তাই ডাল চাষে অধিক ফলন পেতে কী কী করণীয় এমন কিছু টিপস নিয়ে আমাদের এই আর্টিকেল।

ডালচাষে আরও বেশি ফলন লাভের উপায়:

-ডালচাষের প্রধান সমস্যা হলো একই সময়ে সম্পূর্ণ ফসল তোলা যায় না। ডালের ফুল থেকে বীজ পর্যায়ক্রমে পরিপক্ব হয় এবং একারণেই পুরো মৌসুমে ২-৩ বারে ফসল তুলতে হয়। তাই পরিপক্বতা অনুযায়ী সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে ফল তুলতে হবে।

-যে জমিতে ডালচাষ করবেন সেখানে অবশ্যই পানি জমতে পারবে না। বৃষ্টি বা সেচের কারণে যদি পানি জমে যায় তাহলে তা অতি দ্রুত নিষ্কাশন করে ফেলতে হবে। মাটি জমে থাকা অবস্থায় ডালজাতীয় ফসল হতে পারে না।

-সবচেয়ে ভালো ফসল পেতে রবি কিংবা খরিফ-১ মৌসুমে (যেটাকে আউশ ধানের মৌসুম হিসেবে বলা হয়) ডালচাষ করুন। কারণ এসময় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম থাকে এবং তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা কম থাকে। এ পরিবেশ ডালচাষের জন্য আদর্শ।

-জমি প্রস্তুতের সময় সার পরিমিত উপাদানে দিতে হবে যেনো পরবর্তীতে কোনো ঘাটতির সৃষ্টি না হয়। তবে এতে ইউরিয়া প্রয়োজন হয় না। কারণ ডালজাতীয় ফসলের মূলে যে স্ফীত গুটির সৃষ্টি হয় তা পরিবেশ থেকে নাইট্রোজেন সংবদ্ধ করতে পারে। মূলত রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া এ কাজে সাহায্য করে। এতে একদিকে যেমন ফসলের পুষ্টির যোগান হয় তেমনি মাটিতেও উর্বরতা বাড়ে। তাই ইউরিয়া সার দিয়ে খরচ বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই।

-ডালচাষের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার ফল তোলার পরেই গাছ মাটিতে মিশিয়ে দেয়া উচিৎ।  কারণ ২ বার ফল তোলার পর তেমন ফল আর পাওয়া যায় না। ফলে ঐ সামান্য ফলসহ গাছ মাটিতে মিশিয়ে দিলে জমির উর্বরতা বেশ ভালো পরিমাণে বেড়ে যায়। তাই, আসছে মৌসুমে ডাল চাষের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো আপনারা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

ধান চাষ বিস্তারিত

Tag :
অথরের তথ্য

Abrar Khan

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

আসছে মৌসুমে করুন ডাল চাষ

আপডেট সময় ০৪:২৭:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ অক্টোবর ২০২৪

নাজনীন নাহার অনন্যা: আমাদের দেশে ডাল একটি অতি পরিচিত খাদ্য। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন হিসেবে পরিচিত এই ডাল চাষ বিভিন্নভাবে আমাদের ক্ষেতে ফলন হয়ে থাকে। মুগ, মসুর, মাসকলাই, খেসারি, অড়হর ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের ডাল আমাদের আশপাশে প্রচলিত।

মূলত ডালজাতীয় ফসল আমাদের মাটিকে উর্বর করে। ডাল এমন একটি ফসল যা রবি, খরিফ-১ এবং খরিফ-২ এই তিন মৌসুমেই চাষ করা যায়। কৃষি গবেষকদের মতে, ১ হেক্টর জমি থেকে ৮-১০ টন বায়োমাস পাওয়া যায় যা উর্বরতা রক্ষায় অত্যন্ত উপকারী। 

কিন্তু ডাল চাষে আমাদের কৃষক ভাইদের এখনো অনেক অবহেলা দেখা যায়। যা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। তাই ডাল চাষে অধিক ফলন পেতে কী কী করণীয় এমন কিছু টিপস নিয়ে আমাদের এই আর্টিকেল।

ডালচাষে আরও বেশি ফলন লাভের উপায়:

-ডালচাষের প্রধান সমস্যা হলো একই সময়ে সম্পূর্ণ ফসল তোলা যায় না। ডালের ফুল থেকে বীজ পর্যায়ক্রমে পরিপক্ব হয় এবং একারণেই পুরো মৌসুমে ২-৩ বারে ফসল তুলতে হয়। তাই পরিপক্বতা অনুযায়ী সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে ফল তুলতে হবে।

-যে জমিতে ডালচাষ করবেন সেখানে অবশ্যই পানি জমতে পারবে না। বৃষ্টি বা সেচের কারণে যদি পানি জমে যায় তাহলে তা অতি দ্রুত নিষ্কাশন করে ফেলতে হবে। মাটি জমে থাকা অবস্থায় ডালজাতীয় ফসল হতে পারে না।

-সবচেয়ে ভালো ফসল পেতে রবি কিংবা খরিফ-১ মৌসুমে (যেটাকে আউশ ধানের মৌসুম হিসেবে বলা হয়) ডালচাষ করুন। কারণ এসময় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম থাকে এবং তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা কম থাকে। এ পরিবেশ ডালচাষের জন্য আদর্শ।

-জমি প্রস্তুতের সময় সার পরিমিত উপাদানে দিতে হবে যেনো পরবর্তীতে কোনো ঘাটতির সৃষ্টি না হয়। তবে এতে ইউরিয়া প্রয়োজন হয় না। কারণ ডালজাতীয় ফসলের মূলে যে স্ফীত গুটির সৃষ্টি হয় তা পরিবেশ থেকে নাইট্রোজেন সংবদ্ধ করতে পারে। মূলত রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া এ কাজে সাহায্য করে। এতে একদিকে যেমন ফসলের পুষ্টির যোগান হয় তেমনি মাটিতেও উর্বরতা বাড়ে। তাই ইউরিয়া সার দিয়ে খরচ বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই।

-ডালচাষের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার ফল তোলার পরেই গাছ মাটিতে মিশিয়ে দেয়া উচিৎ।  কারণ ২ বার ফল তোলার পর তেমন ফল আর পাওয়া যায় না। ফলে ঐ সামান্য ফলসহ গাছ মাটিতে মিশিয়ে দিলে জমির উর্বরতা বেশ ভালো পরিমাণে বেড়ে যায়। তাই, আসছে মৌসুমে ডাল চাষের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো আপনারা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

ধান চাষ বিস্তারিত