ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা  নদী দখল ও দূষণে হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি  আতা ফলের ফল ছিদ্রকারি পোকা: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদার গাছ ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষয়ক্ষতি ও টেকসই সমাধান বাংলাদেশে আতা ফলের আগা মরা রোগ: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আনারসের হার্ট রট রোগ – কারণ, লক্ষণ ও টেকসই সমাধান আমলকির কান্ড ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত সমাধান আমলকির গল মাছি – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আমলকির স্কেল পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে সফল উচ্চ শিক্ষিত সোহেল রানা

  • কৃষককন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৯৫ বার পড়া হয়েছে

(বাসস) : নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলায় উচ্চ শিক্ষিত সোহেল রানা একজন যুব কৃষি উদ্যোক্তা। প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আম এবং প্রচলিত অপ্রচলিত অন্যান্য ফলের বাগান করে অসামান্য সফলতা অর্জন করেছেন। তাঁর প্রকল্পের নাম ‘বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’।

সাপাহার উপজেলা সদরের জয়পুর এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এরপর সরকারি বা বেসরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়েছেন।

২০১৮ সালে আম বাগান সৃজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি সোহেল রানা । প্রথমে নিজের জমিতে এবং পরবর্তীতে সাপাহার সরকারি কলেজের অনাবাদী পতিত জমি ২৫ বছরের জন্য লিজ নেন। এ ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানাধীন কিছু জমি একই শর্তে লিজ নিয়েছেন।

এসব জমিতে ৫ হাজার আম্রপালি জাতের আম, ৪ হাজার বারী-৪ জাতের , ৪ হাজার গৌরমতী জাতের, আড়াই হাজার ব্যানানা জাতের এবং দেড় হাজার কাটিমন জাতের আম গাছ লাগিয়েছেন।

এ ছাড়াও বিদশি জাতের জাপানি মিয়াজাকা, আমেরিকার আস্টিন ও কেইট ও অস্ট্রেলিয়ার ক্যাসিনটন প্রাইড আমগাছ লাগিয়েছেন। সব মিলিয়ে ২৫ জাতের প্রায় ২৫ হাজার গাছ লাগিয়েছেন সোহেল রানা।

এ ছাড়া এই পার্কে কমলা, মাল্টা, এ্যাভোক্যাডো ও গ্লাডিওয়ালস ফুলের চাষ করেও সাফলতা পেয়েছেন তিনি।

সোহেল রানা জানান এ পর্যন্ত ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি। এই প্রকল্পে আমের মওসুমে ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক কাজ করে। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক কাজ করে ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক।

ইতিমধ্যে গাছগুলো বড় হয়েছে। এখন প্রত্যেক গাছে আম ধরে। বর্তমানে প্রতি বছর ৮০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেন বলে জানিয়েছেন এই উদ্যোক্তা। খরচ বাদ দিয়ে তিনি নিট ৪০ শতাংশ অর্থাৎ কমপক্ষে ৩২ লাখ টাকা লাভ করে থাকেন। তাঁর এই সফলতা এলাকার অনেক শিক্ষিত বেকার যুবককে আকৃষ্ট করেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, সোহেল রানার বরেন্দ্র এগ্রো ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। এই উদ্যোগ অভাবনীয় সাফলতা অর্জন করেছে। কেউ যদি এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করবে অধিদপ্তর।

অথরের তথ্য

Abrar Khan

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে সফল উচ্চ শিক্ষিত সোহেল রানা

আপডেট সময় ০৫:২২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৫

(বাসস) : নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলায় উচ্চ শিক্ষিত সোহেল রানা একজন যুব কৃষি উদ্যোক্তা। প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আম এবং প্রচলিত অপ্রচলিত অন্যান্য ফলের বাগান করে অসামান্য সফলতা অর্জন করেছেন। তাঁর প্রকল্পের নাম ‘বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’।

সাপাহার উপজেলা সদরের জয়পুর এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এরপর সরকারি বা বেসরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়েছেন।

২০১৮ সালে আম বাগান সৃজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি সোহেল রানা । প্রথমে নিজের জমিতে এবং পরবর্তীতে সাপাহার সরকারি কলেজের অনাবাদী পতিত জমি ২৫ বছরের জন্য লিজ নেন। এ ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানাধীন কিছু জমি একই শর্তে লিজ নিয়েছেন।

এসব জমিতে ৫ হাজার আম্রপালি জাতের আম, ৪ হাজার বারী-৪ জাতের , ৪ হাজার গৌরমতী জাতের, আড়াই হাজার ব্যানানা জাতের এবং দেড় হাজার কাটিমন জাতের আম গাছ লাগিয়েছেন।

এ ছাড়াও বিদশি জাতের জাপানি মিয়াজাকা, আমেরিকার আস্টিন ও কেইট ও অস্ট্রেলিয়ার ক্যাসিনটন প্রাইড আমগাছ লাগিয়েছেন। সব মিলিয়ে ২৫ জাতের প্রায় ২৫ হাজার গাছ লাগিয়েছেন সোহেল রানা।

এ ছাড়া এই পার্কে কমলা, মাল্টা, এ্যাভোক্যাডো ও গ্লাডিওয়ালস ফুলের চাষ করেও সাফলতা পেয়েছেন তিনি।

সোহেল রানা জানান এ পর্যন্ত ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি। এই প্রকল্পে আমের মওসুমে ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক কাজ করে। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক কাজ করে ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক।

ইতিমধ্যে গাছগুলো বড় হয়েছে। এখন প্রত্যেক গাছে আম ধরে। বর্তমানে প্রতি বছর ৮০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেন বলে জানিয়েছেন এই উদ্যোক্তা। খরচ বাদ দিয়ে তিনি নিট ৪০ শতাংশ অর্থাৎ কমপক্ষে ৩২ লাখ টাকা লাভ করে থাকেন। তাঁর এই সফলতা এলাকার অনেক শিক্ষিত বেকার যুবককে আকৃষ্ট করেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, সোহেল রানার বরেন্দ্র এগ্রো ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। এই উদ্যোগ অভাবনীয় সাফলতা অর্জন করেছে। কেউ যদি এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করবে অধিদপ্তর।