Tag: উন্নত প্রযুক্তি

  • ফসলের রোগ-বালাই: সচেতনতা ও প্রতিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিপস

    ফসলের রোগ-বালাই: সচেতনতা ও প্রতিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিপস

    ফসলের রোগ-বালাই দূর করতে হলে সচেতনা, প্রতিকার ও প্রতিরোধ পদ্ধতির সম্মিলন ঘটাতে হবে। তাহলেই আমরা একটি সাফল্যমন্ডিত কৃষি যাত্রার দিকে অগ্রসর হতে পারব।ফসলের রোগ-বালাই দিন দিন ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। তাই কৃষকদের রোগ প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের আধুনিক পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে জানা এবং প্রয়োগ করা আবশ্যক।

    একারণেই এই প্রতিকার এবং প্রতিরোধ পদ্ধতিগুলো নিয়ে আমরা আমাদের এই আলোচনা সাজিয়েছি।

    ফসলের রোগ-বালাই নিধনে সচেতনতা কেনো প্রয়োজন?

    ফসলের রোগ-বালাই প্রতিকারের উপায় হিসেবে কৃষক ভাইয়েরা নিয়মিত মাঠে কীটনাশক এবং ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেন। কিন্তু ফসলের রোগ-বালাই হওয়ার কারণ এবং সেগুলো কীটনাশক ছাড়া সমাধান করা যায় কিনা এসব পদ্ধতি অবলম্বন করতে দেখা যায় না তেমন।

    এর ফলে একদিকে যেমন কৃষকের খরচের পরিমাণ বাড়ছে। তেমনি খাদ্য রাসায়নিক ক্রিয়া বেশি থাকায় আমাদের জন্য খাদ্য বিষাক্ত হয়ে পড়ছে। একারণে রোগ-প্রতিকারে সব ধরণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানা আবশ্যক।

    কৃষকদের জন্য রোগ প্রতিকার টিপস

    ফসলের রোগ হলে যত দ্রুত সম্ভব প্রতিকার পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। তবে শুধু রাসায়নিক বস্তু ব্যবহারই একমাত্র প্রতিকার নয়। আর কিছু বিষয় মেনে চলা আবশ্যক। এগুলো নিচে দেয়া হলো-

    • কৃষকদের অবশ্যই রোগ প্রতিরোধ করার চেষ্টা করতে হবে।
    • রোগ হলে রোগের লক্ষণ চিহ্নিত করে তার জন্য প্রাকৃতিক প্রতিকার কৌশল যেমন নিম বীজের দ্রবণ ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
    • মাঠে পোকামাকড় নিধনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিভিন্ন ফাঁদ, নেট জাল, শিকারী পোকা ইত্যাদির দ্বারা এগুলো করা যায়।
    • জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে।

    এগুলো ব্যবহারের পাশাপাশি যদি প্রয়োজন হয় তাহলে পরিমিত হারে কীটনাশক এবং ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে। 

    ফসলের রোগ প্রতিরোধ করার কৌশল

    ফসলের রোগ-বালাই দূর করার জন্য প্রতিকারের চেয়েও বেশি উপযোগী হলো প্রতিরোধ পদ্ধতি। কারণ কোনো ফসলের ক্ষতি ৫-১৫% কমানো সম্ভব শুধুবেই প্রতিরোধ পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে।

    জমির যথাযথ যত্ন 

    প্রতিরোধ কৌশলের প্রথমেই খেয়াল রাখতে হবে জমির দিকে। এখানে জমি বলতে মূলত মাটির গুণাগুণ রক্ষাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এ সম্পর্কিত করণীয়গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-

    • জমির পিএইচ এবং ফসলের রোগ পরস্পর সম্পর্কিত। অম্লীয় মাটিতে জীবাণুর পরিমাণ বেশি থাকে। তাই এক্ষেত্রে চুনাপাথর প্রয়োগ করে অম্লত্ব কমাতে হবে।
    • মাটির পুষ্টিগুণ বিচার করতে হবে। মাটির রঙ গাঢ় হলে বোঝা যাবে তাতে অর্গানিক বা জৈব উপাদান বেশি। এই মাটিতে সার লাগে কম।
    • মাটি দো-আঁশ হলে মূল গভীরে যেতে পারে, ফলে অনেক গভীর থেকে খাদ্য নিতে পারে। একারণে এই মাটির ফসলের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে।
    • ফসল বোনার নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। একই ফসল বারবার না করে ভিন্নতা আনতে হবে।
    • জমিতে নিয়মিত ডালজাতীয় ফসল চাষ করতে হবে। এতে নাইট্রোজেন এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। 
    • জমিতে জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। এতে রাসায়নিক উপাদানের সংস্পর্শ থাকে না বলে জমিতে স্বাস্থ্যকর উপায়ে বেশি উর্বর হয়।

    ফসল বোনার আগের পদক্ষেপ

    জমির যত্ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত হলে মানতে হবে ফসল বোনার আগের পদক্ষেপগুলো। সেগুলো হলো-

    • জমিতে ফসল বোনার আগে ভালোভাবে চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। গভীর চাষ দিলে উপরের স্তরে থাকা জীবাণুগুলো মাটির বেশি নিচে চলে যাহ, ফলে ফসলের সংস্পর্শে আসতে পারে না।
    • পূর্বের ফসল তোলার ৭-১০ দিন পর নতুন ফসল বোনা উচিৎ। 
    • ফসল বোনার আগে ভালোভাবে জৈব সার মিশিয়ে নিতে হবে।
    • ফসল বোনার ক্ষেত্রে গাছের মধ্যে যে দূরত্ব রাখা উচিত তা মেনে চলতে হবে।
    • ফসল ঐ সময়ের জন্য উপযোগী কিনা তা বিবেচনা করে বুনতে হবে।

    ফসল মাঠে থাকাকালীন যত্ন

    ফ.স.ল মাঠে থাকাকালীন সবচেয়ে বেশি যত্নের প্রয়োজন হয়। তাই ফসলের স্বাস্থ্য রক্ষার কৌশল হিসেবে এগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মানতে হবে। 

    • ফসলে নিয়মিত আগাছা নিড়াতে হবে।
    • নিয়মিত সেচ দিতে হবে, তবে অবশ্যই পানি জমে থাকতে দেয়া যাবে না।
    • ফসলে পোকামাকড় যেনো প্রবেশ না করে তার জন্য দূরীকরণ গাছ যেমন গাদা, বেসিল এগুলো আইলের পাশ দিয়ে লাগানো যায়।
    • ফসল নিয়মিত ফোরকাস্টিং বা পূর্বানুমান করতে হবে। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা নিয়ে বিচার করতে হবে যে ফসল ভালো হবে কিনা। 
    • ফসলে ভার্মিকম্পোস্ট জাতীয় জৈব সার ব্যবহার করতে হবে।
    • যতটা সম্ভব রাসায়নিক বস্তু পরিহার করার চেষ্টা করতে হবে।

    ফসল তোলার পর করণীয়

    ফ.স.ল তোলার পর এর অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে দিতে হবে বা মাটির সাথে খুব ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। এতে দু’রকম উপকার পাওয়া যাবে।

    • প্রথমত, ফসলের পোকা-মাকড় এবং রোগের জীবণু দূর হবে।
    • দ্বিতীয়ত, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে।

    এভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ করে অনেকাংশে ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব। 

    পরিশেষে বলা যায়, ফসলের রোগ ব্যবস্থাপনা ও টিপস অতি সহজেই আপনি ক্ষেতে প্রয়োগ করতে পারবেন। তাই অতিরিক্ত খরচ করে রাসায়নিক উপায় অবলম্বন না করে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা আবশ্যক।

    Facebook page

  • ফসলের প্রধান রোগ ও তাদের মোকাবেলার পদ্ধতি

    ফসলের প্রধান রোগ ও তাদের মোকাবেলার পদ্ধতি

     বর্তমানে বাংলাদেশে রোগ-ব্যাধি জনিত ফসলের ক্ষতি অত্যন্ত গুরুতর আকার ধারণ করেছে। একারণে ফসলের প্রধান রোগ ও তাদের মোকাবেলার পদ্ধতি সম্পর্কে জানা আবশ্যক।কৃষক ভাইদের সমস্যাগুলোর মধ্যে প্রধান সমস্যা হিসেবে পাওয়া যায় ফসলের রোগ-ব্যাধি। একারণেই ফসলের প্রধান রোগ ও তাদের মোকাবেলার পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা আলোচনা করব। 

    কেননা এই বিষয়টির কারণে এত আধুনিক প্রযুক্তি আসার পর বাংলাদেশে খাদ্য অভাব নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না

    ফসলের উপর বিভিন্ন রোগের প্রভাব

    বাংলাদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় এখানে বিভিন্ন ধরণের ফসল করা সম্ভব। যেমন, ডালজাতীয়, তেলজাতীয়, শস্যজাতীয়, ফল, বাদামসহ ইত্যাদি বিভিন্ন ফসলে গ্রাম-বাংলার মাঠ সর্বদা সবুজ থাকে।তারপরেও আমাদের খাদ্য আমদানি করতে হয় প্রচুর পরিমাণে। আর তার অন্যতম প্রধান কারণই হলো ফসলের রোগ-ব্যাধি। 

    ফ স লে র চারা বের হওয়া থেকে শুরু করে যতদিন মাঠে থাকে, প্রতিটি ধাপেই কোনো না কোনো রোগের আক্রমণ হয়। যার ফলে ফ স ল তোলার সময় উৎপাদন পাওয়া যায় খুবই কম।

     

    ফসলের প্রধান রোগগুলির পরিচিতি

    ফ.স.লে র রোগসমূহ যে আমাদের জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ তা আমরা দেখেছি। এখন আমরা জানব ফসলের প্রধান রোগ সম্পর্কে। কারণ রোগের প্রতিকার করতে হলে প্রথমে এ সম্পর্কে জানা আবশ্যক।

    ছত্রাকজনিত রোগ

    ফসলের রোগের কারণসমূহের মধ্যে ছত্রাকজনিত রোগের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে রয়েছে ফসলের পাতা পোড়া রোগ, ফসলের পাতায় দাগ, পাওডারি মিলডিউ বা পাতার উপর সাদা আস্তরণ ইত্যাদি।ছত্রাকজনিত রোগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো ধানের ব্লাস্ট রোগ যা প্রত্যেক বছর আমাদের প্রচুর পরিমাণ ধান নষ্ট করে দেয়। ফসলের বিভিন্ন পর্যায়ে এ রোগগুলো আক্রমণ করে।

    ভাইরাসজনিত রোগ

    ভাইরাসজনিত ফসলের রোগ এর মধ্যে রয়েছে পাতা কুঁচকানো রোগ, মোজাইক বা পাতায় হলদে-সবুজ রঙ হওয়া, গাছ নেতিয়ে পড়া বা মারা যাওয়া ইত্যাদি।ভাইরাসজনিত রোগগুলো মূলত কীটপতঙ্গের মাধ্যমে ছড়ায়। ভাইরাসের স্পোর বহনকারী এসব পোকা সুস্থ ফসলে বসলেই সেখানে আক্রমণ শুরু হয়।

     

    ব্যাকটেরিয়াল রোগ

    ব্যাকটেরিয়াল রোগগুলো মূলত ধানের পাতা এবং কান্ড উভয়কেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই জীবাণুর আক্রমণে পাতায় বাদামি দাগ পড়ে যা ক্রমান্বয়ে কালো হয়ে ঐ জায়গায় পঁচে যায়।প্রত্যেক ফসলেই কিছু না কিছু ব্যাকটেরিয়াল রোগ আছে যেগুলো ফসলের ক্ষতি করে সবচেয়ে বেশি। একারণেই ব্যাকটেরিয়াল রোগগুলো প্রতিরোধ করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 

    এছাড়াও এসকল রোগের লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে এজাতীয় বিস্তারিত বর্ণনা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিতে পারেন।

     

    ফসলের রোগ চিহ্নিতকরণ এবং সময়মত প্রতিকার

    ফসলের রোগ সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য আমরা জানলাম। এবার প্রয়োজন রোগের প্রতিরোধ এবং প্রতিকার। কৃষি প্রযুক্তি এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণে ফসলের ক্ষতি কমানো অনেকাংশে সম্ভব।কিন্তু রোগ হলে তার প্রতিকারস্বরূপ এবং রোগ যেনো বৃদ্ধি না পায় তার প্রতিরোধ স্বরূপ ফসলের কিছু পরিচর্যা প্রয়োজন। এখন আমরা সেগুলো নিয়েই আলোচনা করব-

    প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ প্রতিরোধের কৌশল

    কৃষকদের জন্য রোগ প্রতিরোধের কৌশল বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রথমেই বেছে নেয়া উচিৎ প্রাকৃতিক উপায়ে ফসলের রোগ-বালাই প্রতিরোধ।কারণ কীটনাশক ব্যবহার জমির স্বাস্থ্য এবং ফসলের রোগ দুটোকেই প্রভাবিত করে। আর অতিরিক্ত কীটনাশক বা রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহারে এক পর্যায়্র ঐ জীবাণু ঐ ঔষধের প্রতি সহনশীল হয়ে ওঠে।ফলস্বরূপ ঐ ঔষধ আর কাজ করে না তেমন। একারণে জমির পুষ্টি ঠিক রাখতে হবে সবার আগে। পাশাপাশি, ফসলে পরিমিত জৈব সার প্রয়োগ কর‍তে হবে যেনো প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি পায়।

    মিশ্র ফসল চাষ এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা

    ফসলের রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ করার একটি উত্তম উপায় হলো মিশ্র ফসল চাষ। একই জমিতে দুই বা তিনটি ফসল থাকলে তা বেশ উপকারী হয়। যেমন পেয়াজ চাষের সময় এর সাথে সরিষা বা কালোজিরা জাতীয় ফসল অল্প পরিমাণে চাষ করা যায়। এর ফলে হোস্ট বা জীবাণুর নির্দিষ্ট ফসলের সাথে মিশ্রণ থাকায় এরা বেশি সুবিধা করতে পারে না। ফলে রোগ কম হয়।

    জৈবিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং তাদের প্রয়োগ

    ফসলের রোগের জৈবিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে অনেক কৃষক ভাই জানেন না। তাই তাদের জন্য এ পদ্ধতি এবং জৈব বালাইনাশক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি আবশ্যক।জৈব বালাইনাশক মূলত প্রস্তুত করা হয় উদ্ভিদ বা প্রাণির অংশ থেকে। একইসাথে, যেসকল শিকারী পোকামাকড় আছে যারা ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে শেষ করে এদের ব্যবহারও আবশ্যক।

    ফ.স.লে.র রোগসমূহ আমাদের জন্য কতটা ক্ষতিকর এ সম্পর্কে আমরা ইতোমধ্যে জেনে গেছি। কৃষক ভাইয়েরা এ বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন তাদের ফসলের মাঠে। 

     

    তাই ফসলের রোগ মোকাবেলা করতে উপর্যুক্ত পদ্ধতিগুলো অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে। এতে আমাদের খাদ্য আমদানির প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশেই কমে যাবে। 

    Facebook page

  • আমাদের কৃষি হবে জগৎ সেরা

    আমাদের কৃষি হবে জগৎ সেরা

    কৃষি, মানব সভ্যতার সবচেয়ে প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্ষেত্রের একটি। মানব সমাজের উত্থান-পতনে কৃষির ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশ, একটি অত্যন্ত সংগ্রহশীল দেশ, যেখানে প্রায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জীবনযাপনের বেশিরভাগ অংশ কৃষিতে নির্ভর করে। এই মহান ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কৃষির উন্নতির দিকে অগ্রগতি হচ্ছে নতুন এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে।

    বাংলাদেশের কৃষি সেই অংশ যেখানে অনেক ক্ষেত্রে এখন আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মিলিত হচ্ছে। নতুন জাতের বীজ, সুষম খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত পোকা বিনামূল্যের দ্রব্য এবং বার্ষিক ফসলের সুখে সহায়তা নিতে সহায়ক সরঞ্জাম ব্যবহার হচ্ছে কৃষি প্রযুক্তিতে। এছাড়াও, সংস্থাগুলি ব্যবহার করে কৃষকদের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের উন্নতির পথে সাহায্য করে।

    বাংলাদেশের কৃষি ও তার আধুনিকায়নের সফলতার গতি দেখে বোঝা যায় আমাদের কৃষি হবে জগৎ সেরা। এই সাফল্যের মূল চেষ্টা হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে এবং কৃষকদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ সৃষ্টি করা। এ ক্ষেত্রে সরকার, বিশেষভাবে কৃষি মন্ত্রণালয়, যে অনেকগুলি উন্নত প্রযুক্তি এবং সুবিধা ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করেছে, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    একজন কৃষকের জীবনযাপন ও উন্নতির সাথে সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতেও কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। সুতরাং, বাংলাদেশের কৃষি হবে জগৎ সেরা এমন একটি স্বপ্ন আমরা সকলের অধিকারিতা।

  • বাংলাদেশের কৃষি তে হবে অর্থনৈতিক মুক্তি

    বাংলাদেশের কৃষি তে হবে অর্থনৈতিক মুক্তি

    বাংলাদেশ, একটি দেশ যেখানে অনেক মানুষ কৃষি করে আবার অনেকে কৃষিতে নিজেদের আয় বাড়াতে চান। এই সময়ে বাংলাদেশের কৃষি র ক্ষেত্রে একটি নতুন দিশায় মুখ তুলতে হচ্ছে – অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে।

    অর্থনৈতিক মুক্তি অর্থাৎ মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং স্বায়ত্তশাসিত অর্থনীতির অবসানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে আয় উৎপাদন করা। বাংলাদেশের প্রাথমিক অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যের মধ্যে বিপুল মানুষের সমৃদ্ধি এবং প্রত্যাশা থাকে। এই সমৃদ্ধির এবং অর্থনীতির স্বাধীনতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বাংলাদেশের কৃষিতে।

    বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রতি অত্যন্ত উন্নতি হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে। এই দেশে নতুন জাতের বীজ, সুষম খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত পোকা বিনামূল্যের দ্রব্য এবং বার্ষিক ফসলের সুখে সহায়তা নিতে সহায়ক সরঞ্জাম ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়াও, কৃষকদের প্রশিক্ষণের এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে তাদের উন্নতি হচ্ছে।

    কৃষির উন্নতির মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক মুক্তি লক্ষ্য সাধার। এই দেশের কৃষিকাজের প্রতিষ্ঠানগুলি এবং সরকার একত্রে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, এবং সুযোগ সৃষ্টি করেছে যাতে কৃষকদের জীবনযাপন এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বৃদ্ধি পায়।

    এই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই ক্ষেত্রে আরও প্রয়োজন এবং সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি বৃদ্ধি পায় যা বাংলাদেশের কৃষি প্রয়োজন এবং এটির প্রয়োজনীয় উন্নতির লক্ষ্যে পরিবর্তন করতে সাহায্য করবে।

    অতএব, বাংলাদেশের কৃষি হবে অর্থনৈতিক মুক্তির উপায়।.

  • জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

    লতিরাজ কচু আমাদের দেশে অনেকগুলো জনপ্রিয় সবজির মধ্যে একটি। এই লতি কচু বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে, যা থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ খুলেছে। অনেকে মূলত পানি কচুকেই কচুর লতি বলেন। অনেক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ এই লতিরাজ কচু। মুখীকচু বেশ জনপ্রিয় একটি কচু আর এর পরই কচুর লতির স্থান।

    বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি লতির মূল্য ৭০-৮০ কেজি। খুব সহজেই লতিরাজ কচু চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি কি তা জেনে নেয়া যাক।

    সাধারণত উষ্ণ জলবায়ুতে কচুর লতি ভালো জন্মে। কচুর লতি প্রায় সব ধরনের মাটিতে চাষ করা যায় তবে পলি দোআঁশ ও এটেল মাটি পানি কচু চাষের জন্য উপযুক্ত। কচুর লতি জন্য মাঝারি নিচু শ্রেণির জমি প্রয়োজন যেখানে বৃষ্টির পানি জমে বা জমির পানি ধারণ ক্ষমতা আছে এমন। অল্প আলো বা ছায়াযুক্ত জমিতে লতি কচু ভালো জন্মাতে পারে। প্রখর রোদেও  ভালো ফলন দেখা যায়।

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ লতিরাজ কচু ০৩

    আমদের দেশে বেশ কিছু কচুর লতির জাত রয়েছে। দেশী জাতের গাছ ছোট, পাতা ছোট ও চিকন সরু ও লম্বা হয়। আর উন্নত জাতের লতি লম্বা ও মোটা এবং গিটযুক্ত হয়। আবার খাটো ও মোটা, শাসাল ও মাংসল যা দ্রুত গলে যায় এমন জাতেরও রয়েছে।

    এ দেশে উদ্ভাবিত পানি কচুর দুটি উন্নত জাত যেমন বারি পানি কচু ১ ও বারি পানি কচু-২। আমাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত দুটি জাত লতি উৎপাদনের জন্য ভালো জাত হিসেবে পরিচিত। উন্নত জাতের ভালো চারা বাছাই করতে হবে এবং চারাগুলি বোনার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। চারা বপন করতে সমান দূরত্ব রাখতে হবে এবং প্রতি লাইনে চারা গুলি সঠিকভাবে লাগাতে হবে।

    সেপ্টেম্বর মাসে জমির লতি হারভেস্ট করার আগেই লতির আগায় জন্মানো চারা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। তারপরে কচুর লতি চাষ করার জন্য সংরক্ষিত চারাগুলোকে আলাদা কোনো জায়গায় পুঁতে রাখতে হবে। জমিতে এসকল চারা পুনরায় শীতের আগেই লাগিয়ে ফেলতে হবে। লাগানো লতির চারা থেকে ফেব্রুয়ারি – মার্চ মাসে লতি আসা শুরু হয়।

    কচুর লতি চাষের জন্য জমিতে ৩ থেকে ৪টি চাষ দিয়ে মাটি সমান করে জমি তৈরি করে নিতে হবে। কচুর লতির চারা জমিতে সারি সারি করে লাগাতে হবে। সারিবদ্ধভাবে চারা লাগালে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩৮, ০০০ চারা প্রয়োজন হবে। গুড়িচারা কচুর লতির চারা হিসেবে লাগানো হয়।

    জমি থেকে ভালো ও বেশি ফলন পেতে হলে জমিতে অবশ্যই সুষম সার দিতে হবে। প্রতি বিঘাতে কচুর লতি চাষের জন্য ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২৫ কেজি এমওপি, ১৮ কেজি টিএসপি ও ৫০০ কেজি গোবর সার দিতে হবে। লতি চাষে সব সার একত্রে দেয়া উচিত নয়। প্রথম পর্যায়ে ইউরিয়া ব্যতিত অন্যান্য সব সার জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে।

    চারা লাগানোর প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন পরেই জমিতে ইউরিয়া ব্যবহার করা যায়। অবশ্যই জমিতে সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা থাকতে হবে। চারা লাগানোর সময় জমিতে পানি না থাকলে অতিরিক্ত সেচের মাধ্যমে জমি কাদা করতে হবে। লতির জমি শুকিয়ে গেলে কচু গাছের ক্ষতি হয়। তাই বৃষ্টির অপেক্ষা না করে জমিতে প্রবাহমান পানি নিশ্চিত করতে হবে।

    লতি কচুর গোড়ায় সব সময় পানি থাকা প্রয়োজন। আর দাঁড়ানো পানি মাঝে মাঝে নাড়াচাড়া ব্যবস্থা করতে হবে। সবসময় পানি থাকলে জমিতে আগাছার উপদ্রব কম হয়। জমিতে আগাছা থাকলে শামুক আশ্রয় নেয় ও কচুর লতি গাছে উঠে পাতা খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। জমির এসব আগাছা হাতে টেনে সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে।

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ লতিরাজ কচু ০১

    ক্ষুদ্র লাল মাকড় বা রেড স্পাইডার মাইট আগাম কচুর লতি চাষে ক্ষতি করে। কচুর লতির ক্ষেতে মাকড়ের আক্রমণ থাকলে পাতার সবুজ রং নষ্ট হয়ে বিন্দু বিন্দু শুকনো দাগ দেখা যায়। মাকড় পোকা দূরীকরণে মাকড়নাশক ব্যবহার করতে হবে। আবার এমনভাবে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে যাতে পাতার উল্টো পাশও ভিজে যায়।

    লেদা পোকার আক্রমণও কচুর লতির ক্ষেতে দেখা যায়। ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি স্প্রে করে লেদা পোকা দমন করা যায়।

    চারা রোপণের প্রায় ২ মাস পর থেকে ৭ মাস পর্যন্ত লতি হয়ে থাকে। যে কোন বয়সেই গাছ থেকে কচুর লতি তুলে খাওয়া যায়। তবে জরুরী বিষয় হচ্ছে, ছোট সাইজের লতি গাছ থেকে তুললে লতির ফলন কমে যেতে পারে। গাছের সবচাইতে বড় আর মোটা লতিগুলো প্রথমে তুলতে হবে।