শুল্ক-কর বাড়ল যেসব পণ্যে

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাঝপথে এসে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার। ফলে মোবাইল ফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোসহ খরচ বেড়েছে শতাধিক পণ্য ও সেবায়। গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

চলতি অর্থ বছরের শেষ ৬ মাসে রাজস্ব আদায় বাড়াতে ভ্যাট বসানোর এই উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।রেস্তোরাঁর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে বন্ধ করে দেওয়া হবে খাবার রেস্তোরাঁ। বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এমন হুঁশিয়ারি দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইনে ব্যাপক পরিবর্তন এনে অধ্যাদেশ জারি করে জানিয়ে দেয়া হয় শতাধিক পণ্য ও সেবায় ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পাকা করেছে সরকার। রেস্তোরাঁতেও থাকছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট।

এতে মোবাইল ফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৩ শতাংশ করা হয়েছে।প্রথমবারের মতো ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে ব্রডব্যান্ড সেবায়।অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সিগারেট, আম, কমলালেবু, আঙ্গুর, পেঁপে, তরমুজ, আপেল ও নাশপাতি, ফলের রস, সাবান ও সাবান জাতীয় পণ্য, ডিটারজেন্ট, ফ্রুট ড্রিংকসের ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকসের সম্পূরক শুল্ক ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বাদাম আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ঠেকানো হয়েছে ৪৫ শতাংশে।

নতুন আইনে ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে বিস্কুট, আচার, চাটনি, টমেটো কেচাপ, এলপি গ্যাস, বিআরটিএ থেকে নেওয়া লেমিনেটেড ড্রাইভিং লাইসেন্স, চশমার ফ্রেম, রিডিং গ্লাসের ভ্যাট।টিস্যু, সানগ্লাস, মিষ্টি, প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা, নিজস্ব ব্রান্ডের তৈরি পোশাকের ভ্যাট সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। ওষুধের ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। তবে এলপি গ্যাসের স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট ২ শতাংশ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেন ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা হলেই টার্নওভার কর দিতে হবে। বর্তমানে ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে কর দিতে হয়।

নতুন প্রস্তাবে, বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকা পার হলে পণ্য ও সেবা বেচাকেনায় ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট বসবে। আমদানি পর্যায়ে ফলের রসে সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ; তামাকে ৬০ থেকে ১০০ শতাংশ; সুপারিতে ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে।

বিমানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রুটে আবগারি শুল্ক ২০০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা ও সার্কভুক্ত দেশে ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ হাজার টাকা। এছাড়া এশিয়ার দেশগুলোতে দুই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে আড়াই হাজার টাকা এবং ইউরোপের দেশগুলোতে তিন হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে চার হাজার টাকা করা হচ্ছে। 

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *