ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা  নদী দখল ও দূষণে হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি  আতা ফলের ফল ছিদ্রকারি পোকা: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদার গাছ ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষয়ক্ষতি ও টেকসই সমাধান বাংলাদেশে আতা ফলের আগা মরা রোগ: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আনারসের হার্ট রট রোগ – কারণ, লক্ষণ ও টেকসই সমাধান আমলকির কান্ড ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত সমাধান আমলকির গল মাছি – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আমলকির স্কেল পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালকে বরণ: নানা রঙের আয়োজন এবং শোকের ছায়া

  • কৃষককন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৩১২ বার পড়া হয়েছে

২০২৫ সালকে বরণ করতে বিশ্বব্যাপী শুরু হয়েছে নানা রঙের আলো এবং বর্ণিল আয়োজন। একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে কিছু দেশের মধ্যে শোকের ছায়া, পুরো বিশ্ব উত্সাহ-উদ্দীপনায় পালন করছে নতুন বছরের সূচনা। তবে যেখানেই নতুন বছরের আগমন, সেখানে মানুষের এককথার আকাঙ্ক্ষা—নতুন বছর যেন পুরোনো কষ্ট, দুঃখ এবং সংকটকে পিছনে ফেলে নিয়ে আসে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ভালোবাসা। আসুন, ২০২৫ সালের বর্ষবরণের নানা আয়োজনে ভ্রমণ করি।

সিডনির অপেরা হাউসে এক দুর্দান্ত দৃশ্য

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের অপেরা হাউস এলাকায় ২০২৫ সালের সূচনা হয়েছিল এক আশ্চর্য দৃশ্যে। ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটা যখন ১২টা ছুঁয়েছিল, রাতের আকাশ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল নানা রঙের আলোকচ্ছটায়। সেখানকার বাতাসে ছিল আনন্দের জোয়ার, আর পানিতে অপেরা হাউসের প্রতিচ্ছবি যেন আরও এক শোভা যোগ করছিল। সিডনির রাস্তার প্রতিটি কোণায় মানুষ উদযাপন করছিল নতুন বছরকে। সিডনির আতশবাজি প্রতিটি দর্শককে বিস্মিত করেছিল, এই সুন্দর দৃশ্য বিশ্বের মানুষের কাছে আবারও প্রমাণ করেছে, তারা কীভাবে উল্লাসের মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।

নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে আতশবাজির দৃশ্য

বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে প্রথম নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে শুরু হয়েছিল ২০২৫ সাল। স্কাই টাওয়ারে আতশবাজি প্রদর্শনীর মাধ্যমে শহরটি আলোকিত হয়ে ওঠে। সেখান থেকে আকাশে উঠে চলে একধরনের রঙিন খেলা, যা পুরো শহরকে ছড়িয়ে দেয় এক নতুন অনুভূতি। নিউজিল্যান্ডে বর্ষবরণের সময় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে উদযাপন করেন। এটি ছিল এক অনুপ্রেরণামূলক দৃশ্য, যা সারা বিশ্বের কাছে নতুন বছরের আগমনের আনন্দ পৌঁছে দেয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার শোকের মূহূর্ত

যেখানে একদিকে পৃথিবীজুড়ে নতুন বছরকে নিয়ে আনন্দ উদযাপন হচ্ছিল, সেখানে দক্ষিণ কোরিয়া ছিল এক ভিন্ন অবস্থায়। উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ১৭৯ জনের মৃত্যুর কারণে দেশটি গভীর শোক পালন করছে। এ কারণে এবারের বর্ষবরণ ছিল একেবারে ভিন্ন, শোকের মধ্যে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শহরের পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, সাধারণত শহরটি বর্ষবরণের জন্য খ্যাত, তবে এবারে তারা এক নিরব শোক অনুষ্ঠানে এটি পালন করেছে। শোকের ছায়ায় থেকেও তারা নতুন বছরের আগমনের প্রতিটি মুহূর্তে নিজেদের দেশের জন্য আশা এবং সমৃদ্ধির কামনা করেছে।

জাপানের পয়লা জানুয়ারির ঐতিহ্য

জাপানে খ্রিষ্টীয় বর্ষবরণের বিশেষ কিছু ঐতিহ্য রয়েছে। পয়লা জানুয়ারির দিনটি জাপানে জাতীয় ছুটির দিন, যেখানে দেশের ঘরবাড়ি ও মন্দিরগুলো পরিষ্কার করা হয়। নতুন বছরের শুরুতে, টোকিওর তোকুদাই-জি মন্দিরে রাতের অন্ধকারে জনসমাবেশ হয়। সেখানে একসঙ্গে প্রার্থনা করা হয় এবং মধ্যরাতে ঘণ্টার শব্দের মধ্যে নতুন বছরকে বরণ করা হয়। এটি জাপানি সংস্কৃতির একটি অমূল্য অংশ, যা প্রতিবছর আরও গভীর আধ্যাত্মিকতায় উদযাপিত হয়।

চীন ও সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক বার্তা

চীন, হংকং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে বর্ষবরণের সময় রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তার ভাষণে বলেছেন, দেশের অর্থনীতি এখন ঊর্ধ্বগামী। এ সময়ে তিনি তাইওয়ান নিয়ে চলমান উত্তেজনা সম্পর্কেও কথা বলেছেন। সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়াতে বর্ষবরণ যথাযথভাবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে উদযাপিত হয়েছে, যেখানে দেশটির মানুষের মধ্যে একতা এবং অগ্রগতির আশা দেখা গেছে।

বাংলাদেশেও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নতুন বছর শুরু

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নতুন বর্ষবরণ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আতশবাজি এবং নানা রকম আয়োজন। মিষ্টি, খাবারের আয়োজন ছিল ঘরবাড়ি এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে। সারা দেশে উৎসবের পরিবেশে নতুন বছরের আগমনের আনন্দ উদযাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সমাজিক সংগঠনও এই সময় একত্রিত হয়ে দেশের সমৃদ্ধি কামনা করেছে।

একটুকু শোক, অনেকটা আনন্দ

বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালকে বরণ করার সময় একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে কিছু দেশে শোকের ছায়া ছিল। তবে, বর্ষবরণের মূল বিষয় ছিল একটাই—বিশ্ববাসী যেন নতুন বছরকে উদযাপন করে এক নতুন দিনের অপেক্ষায়। বহু মানুষের জীবনে বহু ধরণের ঘটনা ঘটে থাকে, কিন্তু বর্ষবরণের এই সময়ে পুরোনো কষ্টের বাইরে নতুন আশা, আনন্দ এবং সমৃদ্ধি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়কে অক্ষুণ্ণ রাখা হয়। এবার বিশ্ব আরও এক বার প্রমাণ করল যে, তার সবাই এক কাতারে, এক সঙ্গে, নতুন বছরের আগমনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

 

অথরের তথ্য

Abrar Khan

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালকে বরণ: নানা রঙের আয়োজন এবং শোকের ছায়া

আপডেট সময় ০৬:০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫

২০২৫ সালকে বরণ করতে বিশ্বব্যাপী শুরু হয়েছে নানা রঙের আলো এবং বর্ণিল আয়োজন। একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে কিছু দেশের মধ্যে শোকের ছায়া, পুরো বিশ্ব উত্সাহ-উদ্দীপনায় পালন করছে নতুন বছরের সূচনা। তবে যেখানেই নতুন বছরের আগমন, সেখানে মানুষের এককথার আকাঙ্ক্ষা—নতুন বছর যেন পুরোনো কষ্ট, দুঃখ এবং সংকটকে পিছনে ফেলে নিয়ে আসে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ভালোবাসা। আসুন, ২০২৫ সালের বর্ষবরণের নানা আয়োজনে ভ্রমণ করি।

সিডনির অপেরা হাউসে এক দুর্দান্ত দৃশ্য

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের অপেরা হাউস এলাকায় ২০২৫ সালের সূচনা হয়েছিল এক আশ্চর্য দৃশ্যে। ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটা যখন ১২টা ছুঁয়েছিল, রাতের আকাশ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল নানা রঙের আলোকচ্ছটায়। সেখানকার বাতাসে ছিল আনন্দের জোয়ার, আর পানিতে অপেরা হাউসের প্রতিচ্ছবি যেন আরও এক শোভা যোগ করছিল। সিডনির রাস্তার প্রতিটি কোণায় মানুষ উদযাপন করছিল নতুন বছরকে। সিডনির আতশবাজি প্রতিটি দর্শককে বিস্মিত করেছিল, এই সুন্দর দৃশ্য বিশ্বের মানুষের কাছে আবারও প্রমাণ করেছে, তারা কীভাবে উল্লাসের মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।

নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে আতশবাজির দৃশ্য

বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে প্রথম নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে শুরু হয়েছিল ২০২৫ সাল। স্কাই টাওয়ারে আতশবাজি প্রদর্শনীর মাধ্যমে শহরটি আলোকিত হয়ে ওঠে। সেখান থেকে আকাশে উঠে চলে একধরনের রঙিন খেলা, যা পুরো শহরকে ছড়িয়ে দেয় এক নতুন অনুভূতি। নিউজিল্যান্ডে বর্ষবরণের সময় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে উদযাপন করেন। এটি ছিল এক অনুপ্রেরণামূলক দৃশ্য, যা সারা বিশ্বের কাছে নতুন বছরের আগমনের আনন্দ পৌঁছে দেয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার শোকের মূহূর্ত

যেখানে একদিকে পৃথিবীজুড়ে নতুন বছরকে নিয়ে আনন্দ উদযাপন হচ্ছিল, সেখানে দক্ষিণ কোরিয়া ছিল এক ভিন্ন অবস্থায়। উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ১৭৯ জনের মৃত্যুর কারণে দেশটি গভীর শোক পালন করছে। এ কারণে এবারের বর্ষবরণ ছিল একেবারে ভিন্ন, শোকের মধ্যে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শহরের পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, সাধারণত শহরটি বর্ষবরণের জন্য খ্যাত, তবে এবারে তারা এক নিরব শোক অনুষ্ঠানে এটি পালন করেছে। শোকের ছায়ায় থেকেও তারা নতুন বছরের আগমনের প্রতিটি মুহূর্তে নিজেদের দেশের জন্য আশা এবং সমৃদ্ধির কামনা করেছে।

জাপানের পয়লা জানুয়ারির ঐতিহ্য

জাপানে খ্রিষ্টীয় বর্ষবরণের বিশেষ কিছু ঐতিহ্য রয়েছে। পয়লা জানুয়ারির দিনটি জাপানে জাতীয় ছুটির দিন, যেখানে দেশের ঘরবাড়ি ও মন্দিরগুলো পরিষ্কার করা হয়। নতুন বছরের শুরুতে, টোকিওর তোকুদাই-জি মন্দিরে রাতের অন্ধকারে জনসমাবেশ হয়। সেখানে একসঙ্গে প্রার্থনা করা হয় এবং মধ্যরাতে ঘণ্টার শব্দের মধ্যে নতুন বছরকে বরণ করা হয়। এটি জাপানি সংস্কৃতির একটি অমূল্য অংশ, যা প্রতিবছর আরও গভীর আধ্যাত্মিকতায় উদযাপিত হয়।

চীন ও সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক বার্তা

চীন, হংকং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে বর্ষবরণের সময় রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তার ভাষণে বলেছেন, দেশের অর্থনীতি এখন ঊর্ধ্বগামী। এ সময়ে তিনি তাইওয়ান নিয়ে চলমান উত্তেজনা সম্পর্কেও কথা বলেছেন। সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়াতে বর্ষবরণ যথাযথভাবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে উদযাপিত হয়েছে, যেখানে দেশটির মানুষের মধ্যে একতা এবং অগ্রগতির আশা দেখা গেছে।

বাংলাদেশেও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নতুন বছর শুরু

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নতুন বর্ষবরণ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আতশবাজি এবং নানা রকম আয়োজন। মিষ্টি, খাবারের আয়োজন ছিল ঘরবাড়ি এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে। সারা দেশে উৎসবের পরিবেশে নতুন বছরের আগমনের আনন্দ উদযাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সমাজিক সংগঠনও এই সময় একত্রিত হয়ে দেশের সমৃদ্ধি কামনা করেছে।

একটুকু শোক, অনেকটা আনন্দ

বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালকে বরণ করার সময় একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে কিছু দেশে শোকের ছায়া ছিল। তবে, বর্ষবরণের মূল বিষয় ছিল একটাই—বিশ্ববাসী যেন নতুন বছরকে উদযাপন করে এক নতুন দিনের অপেক্ষায়। বহু মানুষের জীবনে বহু ধরণের ঘটনা ঘটে থাকে, কিন্তু বর্ষবরণের এই সময়ে পুরোনো কষ্টের বাইরে নতুন আশা, আনন্দ এবং সমৃদ্ধি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়কে অক্ষুণ্ণ রাখা হয়। এবার বিশ্ব আরও এক বার প্রমাণ করল যে, তার সবাই এক কাতারে, এক সঙ্গে, নতুন বছরের আগমনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।