ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা  নদী দখল ও দূষণে হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি  আতা ফলের ফল ছিদ্রকারি পোকা: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদার গাছ ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষয়ক্ষতি ও টেকসই সমাধান বাংলাদেশে আতা ফলের আগা মরা রোগ: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আনারসের হার্ট রট রোগ – কারণ, লক্ষণ ও টেকসই সমাধান আমলকির কান্ড ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত সমাধান আমলকির গল মাছি – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আমলকির স্কেল পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

বাকৃবির গবেষকদলের ইউরোপিয়ান স্যাভয় ক্যাবেজ উৎপাদন

  • কৃষককন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:১৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৩৪৭ বার পড়া হয়েছে

দেশীয় আবহাওয়ায় ইউরোপিয়ান স্যাভয় ক্যাবেজ উৎপাদন করলেন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশিদ এবং তার গবেষকদল। অধ্যাপক হারুনের এই গবেষণা দলে সহযোগী হিসেবে আছেন বাকৃবির মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাদিয়া রহমান মাইশা।

অধ্যাপক হারুন বলেন, ‘স্যাভয় ক্যাবেজ বাংলাদেশে একদম নতুন একটি শীতকালীন সবজি। এটি বাঁধাকপির একটি জাত। যার বিশেষ গুণ হলো- এটি খুব মচমচে ও ভিন্ন ধরনের। সাধারণ বাঁধাকপি যেমন পরিপক্ক হলে শক্ত হয় কিন্তু স্যাভয় ক্যাবেজের পাতাগুলো মচমচে হওয়ায় রান্না করে খাওয়ার পাশাপাশি কাঁচা অবস্থায় ও স্যুপ করে খেলেও অত্যন্ত সুস্বাদু লাগে। বিভিন্ন ফাস্ট ফুড, যেমন- বার্গার, স্যান্ডউইচ ইত্যাদির সঙ্গে খাওয়া যায়।’

তিনি বলেন, ‘জৈব মালচিং পদ্ধতিতে আমরা এই স্যাভয় ক্যাবেজ চাষ করেছি। এটি আমরা ইংল্যান্ড থেকে নিয়ে এসেছি। এর নামটি এসেছে ফ্রান্সের একটি জায়গার নাম থেকে। ইতালিতে একে মিলান ক্যাবেজ বলা হয়।’

বাকৃবির গবেষকদলের ইউরোপিয়ান স্যাভয় ক্যাবেজ উৎপাদন

ফলন সম্পর্কে অধ্যাপক বলেন, ‘স্যাভয় ক্যাবেজের আরেকটি বিশেষত্ব হলো এর মাথার ওজনই দেড় থেকে দুই কেজি এবং পাতাসহ ওজন প্রায় তিন কেজি।’

পুষ্টিগুণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভিটামিন সির পাশাপাশি এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন কে থাকে, যা মানুষের স্বাভাবিক হার্টবিট বজায় রাখতে এবং কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ও স্ট্রোক কমাতে সাহায্য করে। এতে বিদ্যমান ফোলেট ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বাচ্চাদের মস্তিষ্ক গঠনে সাহায্য করে।’

গবেষণায় দেখা গেছে, স্যাভয় ক্যাবেজে আইসোথায়োসায়ানাইড থাকে। যেটি ফুসফুসের ক্যান্সার ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত কমায়। তাছাড়া ওয়েটলস ড্রিংকস হিসেবে খাওয়া যায়। যা শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। এটি একই সাথে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্যও সহায়ক।

বিদ্যমান ভিটামিন সম্পর্কে অধ্যাপক বলেন, ‘সাধারণত সবুজ শাক-সবজিতে বিটা ক্যারোটিন থাকে কিন্তু স্যাভয় ক্যাবেজে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন থাকে এবং এটি ভিটামিন-এ’র অন্যতম উৎস।’শিক্ষার্থী সাদিয়া রহমান মাইশা বলেন, ‘এর চাষাবাদ পদ্ধতি অন্য ক্যাবেজের মতোই। গবেষণা প্লটে ২৫ দিনের চারা চাষ করেছি। চারা লাগানো থেকে হারভেস্টিং পর্যন্ত সময় লেগেছে ২ মাস। সাধারণ ক্যাভেজের তুলনায় এর ফলন বেশি। ম্যাচিউর হওয়ার পরও সতেজ ও মচমচে থাকায় এর পাতাও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।’

Tag :
অথরের তথ্য

Abrar Khan

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

বাকৃবির গবেষকদলের ইউরোপিয়ান স্যাভয় ক্যাবেজ উৎপাদন

আপডেট সময় ০৬:১৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

দেশীয় আবহাওয়ায় ইউরোপিয়ান স্যাভয় ক্যাবেজ উৎপাদন করলেন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশিদ এবং তার গবেষকদল। অধ্যাপক হারুনের এই গবেষণা দলে সহযোগী হিসেবে আছেন বাকৃবির মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাদিয়া রহমান মাইশা।

অধ্যাপক হারুন বলেন, ‘স্যাভয় ক্যাবেজ বাংলাদেশে একদম নতুন একটি শীতকালীন সবজি। এটি বাঁধাকপির একটি জাত। যার বিশেষ গুণ হলো- এটি খুব মচমচে ও ভিন্ন ধরনের। সাধারণ বাঁধাকপি যেমন পরিপক্ক হলে শক্ত হয় কিন্তু স্যাভয় ক্যাবেজের পাতাগুলো মচমচে হওয়ায় রান্না করে খাওয়ার পাশাপাশি কাঁচা অবস্থায় ও স্যুপ করে খেলেও অত্যন্ত সুস্বাদু লাগে। বিভিন্ন ফাস্ট ফুড, যেমন- বার্গার, স্যান্ডউইচ ইত্যাদির সঙ্গে খাওয়া যায়।’

তিনি বলেন, ‘জৈব মালচিং পদ্ধতিতে আমরা এই স্যাভয় ক্যাবেজ চাষ করেছি। এটি আমরা ইংল্যান্ড থেকে নিয়ে এসেছি। এর নামটি এসেছে ফ্রান্সের একটি জায়গার নাম থেকে। ইতালিতে একে মিলান ক্যাবেজ বলা হয়।’

বাকৃবির গবেষকদলের ইউরোপিয়ান স্যাভয় ক্যাবেজ উৎপাদন

ফলন সম্পর্কে অধ্যাপক বলেন, ‘স্যাভয় ক্যাবেজের আরেকটি বিশেষত্ব হলো এর মাথার ওজনই দেড় থেকে দুই কেজি এবং পাতাসহ ওজন প্রায় তিন কেজি।’

পুষ্টিগুণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভিটামিন সির পাশাপাশি এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন কে থাকে, যা মানুষের স্বাভাবিক হার্টবিট বজায় রাখতে এবং কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ও স্ট্রোক কমাতে সাহায্য করে। এতে বিদ্যমান ফোলেট ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বাচ্চাদের মস্তিষ্ক গঠনে সাহায্য করে।’

গবেষণায় দেখা গেছে, স্যাভয় ক্যাবেজে আইসোথায়োসায়ানাইড থাকে। যেটি ফুসফুসের ক্যান্সার ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত কমায়। তাছাড়া ওয়েটলস ড্রিংকস হিসেবে খাওয়া যায়। যা শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। এটি একই সাথে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্যও সহায়ক।

বিদ্যমান ভিটামিন সম্পর্কে অধ্যাপক বলেন, ‘সাধারণত সবুজ শাক-সবজিতে বিটা ক্যারোটিন থাকে কিন্তু স্যাভয় ক্যাবেজে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন থাকে এবং এটি ভিটামিন-এ’র অন্যতম উৎস।’শিক্ষার্থী সাদিয়া রহমান মাইশা বলেন, ‘এর চাষাবাদ পদ্ধতি অন্য ক্যাবেজের মতোই। গবেষণা প্লটে ২৫ দিনের চারা চাষ করেছি। চারা লাগানো থেকে হারভেস্টিং পর্যন্ত সময় লেগেছে ২ মাস। সাধারণ ক্যাভেজের তুলনায় এর ফলন বেশি। ম্যাচিউর হওয়ার পরও সতেজ ও মচমচে থাকায় এর পাতাও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।’