ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা  নদী দখল ও দূষণে হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি  আতা ফলের ফল ছিদ্রকারি পোকা: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদার গাছ ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষয়ক্ষতি ও টেকসই সমাধান বাংলাদেশে আতা ফলের আগা মরা রোগ: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আনারসের হার্ট রট রোগ – কারণ, লক্ষণ ও টেকসই সমাধান আমলকির কান্ড ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত সমাধান আমলকির গল মাছি – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আমলকির স্কেল পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের দুর্নীতি: পাসপোর্ট সেবা সংকট ও তথ্য চুরির অভিযোগ

  • কৃষককন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৫৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৬৩৯ বার পড়া হয়েছে

মালয়েশিয়া প্রতিনিধিঃ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীরের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তার নেতৃত্বে পাসপোর্ট সেবা ব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছে, যার ফলে হাজার হাজার প্রবাসী অবৈধ অবস্থায় পড়েছেন। পাসপোর্ট নিয়ে দেরি হওয়া প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ এটি তাদের আইনগত অবস্থান এবং নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

খাস্তগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি প্রবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য বেসরকারি আউটসোর্সিং কোম্পানি ‘এক্সপ্যাট সার্ভিসেস কুয়ালালামপুর’ (ইএসকেএল)-এর কাছে অনৈতিকভাবে হস্তান্তর করেছেন, যার ফলে প্রবাসীদের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়া, ইএসকেএল কোম্পানির সাথে কোনো প্রকার চুক্তি ছাড়াই অনৈতিক সুবিধা প্রদান করার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি খাস্তগীরের বিরুদ্ধে কলিং ভিসা বাণিজ্যের সাথে যুক্ত থাকারও অভিযোগ উঠেছে।

আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো, ইএসকেএলের মালিক গিয়াসউদ্দিন, যিনি এক সময় বাংলাদেশে গরু ব্যবসা করতেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পরও খাস্তগীর পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য ইএসকেএলের চুক্তি নবায়নের সুপারিশ করেছিলেন। এ ছাড়া, খাস্তগীরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালানোর অভিযোগও রয়েছে, যা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে করা হয়েছিল।

এছাড়া, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেমন অ্যাপয়েন্টমেন্টের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা এবং অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে সেবা প্রদান। বিশেষ করে, নতুন অফিস স্থাপনে ব্যর্থতার অভিযোগও উঠেছে।

এমনকি, ২০ এবং ২১ এপ্রিল, এক সপ্তাহে ইএসকেএল কোম্পানির কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দূতাবাসের পাসপোর্ট সেন্টার থেকে পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত ডেটা সার্ভার অবৈধভাবে চুরি করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সার্ভারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চুরি করার পর, দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সম্পর্কিত হয়ে এই কাজটি করা হয়। ফলস্বরূপ, রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতির পর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, খাস্তগীরের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু হলেও, এখনও তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অথরের তথ্য

Abrar Khan

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের দুর্নীতি: পাসপোর্ট সেবা সংকট ও তথ্য চুরির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:৫৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

মালয়েশিয়া প্রতিনিধিঃ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীরের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তার নেতৃত্বে পাসপোর্ট সেবা ব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছে, যার ফলে হাজার হাজার প্রবাসী অবৈধ অবস্থায় পড়েছেন। পাসপোর্ট নিয়ে দেরি হওয়া প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ এটি তাদের আইনগত অবস্থান এবং নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

খাস্তগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি প্রবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য বেসরকারি আউটসোর্সিং কোম্পানি ‘এক্সপ্যাট সার্ভিসেস কুয়ালালামপুর’ (ইএসকেএল)-এর কাছে অনৈতিকভাবে হস্তান্তর করেছেন, যার ফলে প্রবাসীদের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়া, ইএসকেএল কোম্পানির সাথে কোনো প্রকার চুক্তি ছাড়াই অনৈতিক সুবিধা প্রদান করার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি খাস্তগীরের বিরুদ্ধে কলিং ভিসা বাণিজ্যের সাথে যুক্ত থাকারও অভিযোগ উঠেছে।

আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো, ইএসকেএলের মালিক গিয়াসউদ্দিন, যিনি এক সময় বাংলাদেশে গরু ব্যবসা করতেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পরও খাস্তগীর পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য ইএসকেএলের চুক্তি নবায়নের সুপারিশ করেছিলেন। এ ছাড়া, খাস্তগীরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালানোর অভিযোগও রয়েছে, যা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে করা হয়েছিল।

এছাড়া, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেমন অ্যাপয়েন্টমেন্টের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা এবং অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে সেবা প্রদান। বিশেষ করে, নতুন অফিস স্থাপনে ব্যর্থতার অভিযোগও উঠেছে।

এমনকি, ২০ এবং ২১ এপ্রিল, এক সপ্তাহে ইএসকেএল কোম্পানির কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দূতাবাসের পাসপোর্ট সেন্টার থেকে পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত ডেটা সার্ভার অবৈধভাবে চুরি করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সার্ভারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চুরি করার পর, দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সম্পর্কিত হয়ে এই কাজটি করা হয়। ফলস্বরূপ, রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতির পর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, খাস্তগীরের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু হলেও, এখনও তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।