Tag: মালয়েশিয়া

  • মালয়েশিয়ায় বন্ধ হচ্ছে এমআরপি পাসপোর্ট সেবা

    মালয়েশিয়ায় বন্ধ হচ্ছে এমআরপি পাসপোর্ট সেবা

    মো:নুরুল ইসলাম সুজন,মালয়েশিয়া প্রতিনিধিঃ   মালয়েশিয়ায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হতে যাচ্ছে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) সেবা প্রদান। এর পরিবর্তে পূর্বের ভিসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য এমআরপির বিদ্যমান তথ্য অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন ইংরেজি জন্মসনদের তথ্য সংশোধন করে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার অনুরোধ জানিয়েছে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন।

    মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (পাসপোর্ট ও ভিসা) মিয়া মোহাম্মাদ কেয়ামউদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, ঢাকার নির্দেশনা মোতাবেক ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়ায় মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এর রিইস্যু আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এমতাবস্থায়, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে ই-পাসপোর্ট গ্রহণ করতে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বর্তমান পাসপোর্টে ভিসা নবায়নের জটিলতা এড়ানোর লক্ষ্যে পূর্বের ভিসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে (এমআরপি) বিদ্যমান তথ্য অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র/অনলাইন ইংরেজি জন্মসনদের তথ্য সংশোধন করে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার জন্য অনুরোধ জানান।

    এছাড়া যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র/অনলাইন ইংরেজি জন্মসনদের তথ্য সংশোধনে জটিলতা দেখা দেবে, শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, ঢাকা থেকে ইস্যুকরণ সাপেক্ষে বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়লালামপুর, মালয়েশিয়া থেকে বিতরণ করবে।

    অন্যদিকে, পোস মালয়েশিয়ার (পোস্ট অফিস) মাধ্যমে কোনো অবস্থাতেই এমআরপি আবেদন হাইকমিশনে গ্রহণ করা হবে না বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এর বিপরীতে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধও বলে জানায়।

  • মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে শীর্ষে বাংলাদেশিরা: একটি বড় সাফল্য

    মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে শীর্ষে বাংলাদেশিরা: একটি বড় সাফল্য

    মোঃ নুরুল ইসলাম সুজনঃ মালয়েশিয়ায় বর্তমানে বিদেশি কর্মী নিয়োগের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশি কর্মীরা। এই সাফল্য বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন এবং দেশের শ্রমবাজারের শক্তিশালী অবস্থানকেও প্রতিফলিত করে। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী স্টিভেন সিম  সংসদে একটি লিখিত জবাবে এই তথ্য জানান।

    মালয়েশিয়ায় বর্তমানে ৮ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭০ বাংলাদেশি কর্মী বৈধভাবে কর্মরত। এটি দেশের উৎপাদন, নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ, কৃষি এবং খাদ্য ও পানীয় খাতসহ বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীদের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে বাংলাদেশের কর্মীদের রেখেছে। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শিল্পে তাদের কার্যকর ভূমিকা এবং দক্ষতা বাংলাদেশের কর্মশক্তির আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করেছে।

    এদিকে, মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, যেখানে ৫ লাখ ৮২ হাজার ১০৮ জন কর্মী কর্মরত। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নেপাল, যাদের সংখ্যা ৩ লাখ ৭০ হাজার ১২৭ জন।

    মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের (কেসুমা) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় মোট কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৬৭ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে ২৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪২২ জন বিদেশি শ্রমিক, যা দেশের মোট কর্মক্ষম জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ।

    এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সাফল্য, কারণ বিদেশি শ্রম বাজারে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বাংলাদেশের কর্মীরা।

  • মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের দুর্নীতি: পাসপোর্ট সেবা সংকট ও তথ্য চুরির অভিযোগ

    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের দুর্নীতি: পাসপোর্ট সেবা সংকট ও তথ্য চুরির অভিযোগ

    মালয়েশিয়া প্রতিনিধিঃ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীরের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তার নেতৃত্বে পাসপোর্ট সেবা ব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছে, যার ফলে হাজার হাজার প্রবাসী অবৈধ অবস্থায় পড়েছেন। পাসপোর্ট নিয়ে দেরি হওয়া প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ এটি তাদের আইনগত অবস্থান এবং নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

    খাস্তগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি প্রবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য বেসরকারি আউটসোর্সিং কোম্পানি ‘এক্সপ্যাট সার্ভিসেস কুয়ালালামপুর’ (ইএসকেএল)-এর কাছে অনৈতিকভাবে হস্তান্তর করেছেন, যার ফলে প্রবাসীদের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়া, ইএসকেএল কোম্পানির সাথে কোনো প্রকার চুক্তি ছাড়াই অনৈতিক সুবিধা প্রদান করার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি খাস্তগীরের বিরুদ্ধে কলিং ভিসা বাণিজ্যের সাথে যুক্ত থাকারও অভিযোগ উঠেছে।

    আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো, ইএসকেএলের মালিক গিয়াসউদ্দিন, যিনি এক সময় বাংলাদেশে গরু ব্যবসা করতেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পরও খাস্তগীর পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য ইএসকেএলের চুক্তি নবায়নের সুপারিশ করেছিলেন। এ ছাড়া, খাস্তগীরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালানোর অভিযোগও রয়েছে, যা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে করা হয়েছিল।

    এছাড়া, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেমন অ্যাপয়েন্টমেন্টের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা এবং অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে সেবা প্রদান। বিশেষ করে, নতুন অফিস স্থাপনে ব্যর্থতার অভিযোগও উঠেছে।

    এমনকি, ২০ এবং ২১ এপ্রিল, এক সপ্তাহে ইএসকেএল কোম্পানির কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দূতাবাসের পাসপোর্ট সেন্টার থেকে পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত ডেটা সার্ভার অবৈধভাবে চুরি করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সার্ভারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চুরি করার পর, দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সম্পর্কিত হয়ে এই কাজটি করা হয়। ফলস্বরূপ, রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    এমন পরিস্থিতির পর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, খাস্তগীরের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু হলেও, এখনও তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।