আসিয়া আফরিন চৌধুরী
চীনের সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সম্প্রতি একটি নতুন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে, যা “এইচএমপিভি” (HMPV) নামে পরিচিত। দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় চরম ভিড় তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাসটি বছরের পুরো সময় ধরে ছড়ায় না, বরং শীতকাল ও বসন্তকালে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
এইচএমপিভি ভাইরাসের উপসর্গ:
এইচএমপিভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যেসব প্রধান উপসর্গ দেখা যায়, তা হলো:
- তীব্র শ্বাসকষ্ট
- জ্বর
- সর্দি
- কাশি
- মাথাব্যাথা
বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা এই ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
করোনা বিধিনিষেধ ও এইচএমপিভি ভাইরাসের বিস্তার:
একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, চীনের সেই সব এলাকায় এইচএমপিভি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেছে যেখানে দীর্ঘদিন করোনার কঠোর বিধিনিষেধ চলেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার বিরুদ্ধে লকডাউনের ফলে ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলেও, এটি মানুষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর ফলস্বরূপ, এইচএমপিভি ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য গুরুতর উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে শীতকাল ও বসন্তকালে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং শিশু-বয়স্কদের বিশেষ যত্নের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব।
চীনে এইচএমপিভি ভাইরাসের প্রকোপ:
এইচএমপিভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা চীনের বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে দ্রুত বাড়ছে, যা করোনার পরবর্তী সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আরও সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।
এইচএমপিভি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে মুক্তি পেতে, শীতকাল এবং বসন্তে শ্বাসকষ্টের লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কৃষককন্ঠ ডেস্ক 









