ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা  নদী দখল ও দূষণে হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি  আতা ফলের ফল ছিদ্রকারি পোকা: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদার গাছ ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষয়ক্ষতি ও টেকসই সমাধান বাংলাদেশে আতা ফলের আগা মরা রোগ: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আনারসের হার্ট রট রোগ – কারণ, লক্ষণ ও টেকসই সমাধান আমলকির কান্ড ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত সমাধান আমলকির গল মাছি – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আমলকির স্কেল পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

নড়াইলে বিষমুক্ত সবজি চাষে রমজানসহ তিন ভাইয়ের সাফল্য

  • কৃষককন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৩৬৯ বার পড়া হয়েছে

জেলার কালিয়া উপজেলা সদরের ঘোষপাড়ায় বিষমুক্ত সবজি চাষে তিন ভাইয়ের সাফল্য এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছে কৃষি বিভাগসহ কৃষকরা।

চাকরির পেছনে না ছুটে তিন ভাই তাদের বাড়ির পাশের ক্ষেতে গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার।মাসে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় করে আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন তারা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কালিয়া পৌরসভাধীন ঘোষপাড়ার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রমজান খান (২৬) বিষমুক্ত সবজি চাষ করে কৃষি কাজে চমক দেখিয়েছেন।প্রায় সাত বছর আগে কৃষি খামার গড়ে তোলেন তিনি।প্রথমে শশা চাষাবাদের মধ্যদিয়ে কৃষি কাজে যুক্ত হন রমজান। এ কাজে কোনো অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ না থাকায় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে পরবর্তীতে মালচিং পদ্ধতিতে শশার পাশাপাশি আগাম জাতের টমেটো, বেগুন, মরিচ ও বাঁধাকপির চাষাবাদ শুরু করেন। এরপর এই কৃষি খামারের সাথে যুক্ত হন রমজানের বড় দুই ভাই  এলাহী খান ও ওয়ায়েস খান। এই কৃষি খামার থেকে এখন খরচ বাদে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে ৫০-৬০ হাজার টাকা।

রমজান জানান, আগাম জাতের টমেটো  প্রথম দিকে ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এছাড়া ‘সাথী ফসল’ হিসেবে টমেটোর পাশাপাশি বাঁধাকপির চাষ করে সাফল্য পেয়েছি।টমেটো ক্ষেতের পাশের দু’টি জমিতে বেগুন ও মরিচ আবাদ করেছি। তিনটি জমি মিলে বর্তমানে ৫০ শতকে সবজি চাষাবাদ করছি। আমাদের সবজি সম্পূর্ন বিষমুক্ত। তাই আমাদের সবজির চাহিদা বেশি। আমরা আধুনিক পদ্ধতিতে টমেটো, বেগুন, মরিচ ও বাঁধাকপির চাষ করে লাভবান হয়েছি। আমাদের ক্ষেতে উৎপাদিত টাটকা সবজিগুলো বাজারে নিলে আগেভাগে বিক্রি হয়ে যায়।আমাদের তিন ভাইয়ের এই কৃষি খামারে আরো কিছু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ভালো ফলন পেতে কৃষি কর্মকর্তারা সার্বিক সহযোগিতা করছেন।’কৃষি একটি ভালো বিজনেস’ হিসেবে উল্লেখ করেন সফল কৃষি উদ্যোক্তা রমজান।

কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষে রমজানসহ তাদের তিন ভাইয়ের সাফল্য এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে নিয়মিত বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষাবাদে গুরুত্বারোপ করা হয়। মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ করায় সার ও পানির অপচয় রোধ হয় এবং আগাছাও দূরীভূত হয়। রমজানদের সবজিক্ষেতসহ আরও অনেক ক্ষেতে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষাবাদে কৃষি বিভাগ পরামর্শ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কালিয়া তথা নড়াইল জেলায় উৎপাদিত সবজি হোক শতভাগ বিষমুক্ত, কৃষি বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিক-নির্দেশনায় আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদে ফলন ভালো হওয়ায় এলাকার কৃষকেরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি বেকারত্ব দূর হচ্ছে বলে তিনি জানান।

Tag :
অথরের তথ্য

Abrar Khan

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

নড়াইলে বিষমুক্ত সবজি চাষে রমজানসহ তিন ভাইয়ের সাফল্য

আপডেট সময় ১০:৩৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

জেলার কালিয়া উপজেলা সদরের ঘোষপাড়ায় বিষমুক্ত সবজি চাষে তিন ভাইয়ের সাফল্য এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছে কৃষি বিভাগসহ কৃষকরা।

চাকরির পেছনে না ছুটে তিন ভাই তাদের বাড়ির পাশের ক্ষেতে গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার।মাসে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় করে আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন তারা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কালিয়া পৌরসভাধীন ঘোষপাড়ার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রমজান খান (২৬) বিষমুক্ত সবজি চাষ করে কৃষি কাজে চমক দেখিয়েছেন।প্রায় সাত বছর আগে কৃষি খামার গড়ে তোলেন তিনি।প্রথমে শশা চাষাবাদের মধ্যদিয়ে কৃষি কাজে যুক্ত হন রমজান। এ কাজে কোনো অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ না থাকায় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে পরবর্তীতে মালচিং পদ্ধতিতে শশার পাশাপাশি আগাম জাতের টমেটো, বেগুন, মরিচ ও বাঁধাকপির চাষাবাদ শুরু করেন। এরপর এই কৃষি খামারের সাথে যুক্ত হন রমজানের বড় দুই ভাই  এলাহী খান ও ওয়ায়েস খান। এই কৃষি খামার থেকে এখন খরচ বাদে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে ৫০-৬০ হাজার টাকা।

রমজান জানান, আগাম জাতের টমেটো  প্রথম দিকে ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এছাড়া ‘সাথী ফসল’ হিসেবে টমেটোর পাশাপাশি বাঁধাকপির চাষ করে সাফল্য পেয়েছি।টমেটো ক্ষেতের পাশের দু’টি জমিতে বেগুন ও মরিচ আবাদ করেছি। তিনটি জমি মিলে বর্তমানে ৫০ শতকে সবজি চাষাবাদ করছি। আমাদের সবজি সম্পূর্ন বিষমুক্ত। তাই আমাদের সবজির চাহিদা বেশি। আমরা আধুনিক পদ্ধতিতে টমেটো, বেগুন, মরিচ ও বাঁধাকপির চাষ করে লাভবান হয়েছি। আমাদের ক্ষেতে উৎপাদিত টাটকা সবজিগুলো বাজারে নিলে আগেভাগে বিক্রি হয়ে যায়।আমাদের তিন ভাইয়ের এই কৃষি খামারে আরো কিছু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ভালো ফলন পেতে কৃষি কর্মকর্তারা সার্বিক সহযোগিতা করছেন।’কৃষি একটি ভালো বিজনেস’ হিসেবে উল্লেখ করেন সফল কৃষি উদ্যোক্তা রমজান।

কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষে রমজানসহ তাদের তিন ভাইয়ের সাফল্য এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে নিয়মিত বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষাবাদে গুরুত্বারোপ করা হয়। মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ করায় সার ও পানির অপচয় রোধ হয় এবং আগাছাও দূরীভূত হয়। রমজানদের সবজিক্ষেতসহ আরও অনেক ক্ষেতে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষাবাদে কৃষি বিভাগ পরামর্শ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কালিয়া তথা নড়াইল জেলায় উৎপাদিত সবজি হোক শতভাগ বিষমুক্ত, কৃষি বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিক-নির্দেশনায় আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদে ফলন ভালো হওয়ায় এলাকার কৃষকেরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি বেকারত্ব দূর হচ্ছে বলে তিনি জানান।