ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা  নদী দখল ও দূষণে হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি  আতা ফলের ফল ছিদ্রকারি পোকা: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদার গাছ ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষয়ক্ষতি ও টেকসই সমাধান বাংলাদেশে আতা ফলের আগা মরা রোগ: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আনারসের হার্ট রট রোগ – কারণ, লক্ষণ ও টেকসই সমাধান আমলকির কান্ড ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত সমাধান আমলকির গল মাছি – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আমলকির স্কেল পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

সিলেট জেলার অপার সম্ভাবনার ফসল হাইব্রিড ক্যাপসিকাম

  • কৃষককন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:১৯:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৪৬২ বার পড়া হয়েছে

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার বেশ কিছু গ্রামে হাইব্রিড ক্যাপসিকাম চাষ শুরু হয়েছে। বিগত ২-৩ বছর ধরে কৃষকগন ক্যাপসিকাম চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

তবে, বিগত কয়েক আগেও এই হাইব্রিড ক্যাপসিকাম মরিচ গুলো বিদেশ থেকে আমদানী করে চাহিদা মিটানো হতো। আমদানীর কারন ছিল, দেশে ভালো মানের হাইব্রিড ক্যাপসিকামের বীজ বাজারে ছিলো না। বিধায়- তাই কৃষকগন নিজেরা এই ক্যাপসিকাম গুলো চাইলেও নিজেরা চাষ করতে পারতেন না। বিগত ৩-৪ বছর ধরে ইউনাইটেড সীড কোম্পানী হাইব্রিড ক্যাপসিকাম বীজ বাজারজাত শুরু করেন।

বিশ্বনাথ উপজেলার রায়পুর গ্রামের কৃষক মো: ময়েন উদ্দিনের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, এই বছর তিনি প্রায় ১.৫ বিঘা জমিতে ইউনাইটেড সীডের হাইব্রিড ক্যাপসিকাম পাওয়ার, চয়েজ, মারিয়া, ব্যানানা এই জাত গুলো চাষ করেছেন। এই জাত গুলো চাষের কারন হিসাবে বলেন জাতগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, আগাম ফলন প্রদান করে ও ফলের সাইজ গড় ৩০০-৪০০ গ্রাম হয়ে থাকে, ফলন অন্য জাতের চেয়ে অনেক বেশি এবং দীর্ঘদিন ফলন দেয়। তাই তিনি কৃষকদের ভালো বীজ ব্যবহার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। অধিক ফলনে ভালো বীজের বিকল্প নেই। এ পর্যন্ত তাঁর খরচ হয়েছেন ৭০-৮০হাজার টাকা। ফসল সংগ্রহ শুরুতে বাজার মূল্য প্রতি কেজি ক্যাপসিকাম ১১০-১২০ টাকা দামে পাইকারি বিক্রি করেছেন। বর্তমানে ৬০-৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে পারছেন। এই রকম বাজার থাকলে আশা করা ২.৫-৩ লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। ক্যাপসিকাম চাষ করে এই জমি থেকে ১.৫ – ২ লক্ষ লাভের সম্ভাবনা দেখছেন। তবে, ক্যাপসিকাম চাষ অন্য ফসলের চেয়ে লাভজনক।।

ক্যাপসিকাম গুনাগুন: ক্যাপসিকাম মরিচে মানবদেহের উপকারী সম্পূর্ন অনেক ধরনের উপকারী ভিটামিন বিদ্যমান রয়েছে। ক্যাপসিকামে থাকা ভিটামিন এ এবং সি ত্বক ও চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি ত্বকের কোষ মেরামত করে এবং চুলের গ্রোথে সাহায্য করে। ক্যাপসিকামে থাকা ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং সেরোটোনিন উৎপাদন বাড়ায়, যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এটি বিষণ্নতা ও উদ্বেগ দূর করতে সহায়ক। যা মানব দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের খাবারে এই জাতীয় ক্যাপসিকাম মরিচের চাহিদা রয়েছে। রাজধানীসহ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও বিভিন্ন জেলার শহরের রেস্টুরেন্টে গুলোতে ক্যাপসিকাম ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে।

এলাকার অন্যান্য চাষীদের সাথে কথা বলে আরো জানা যায় যে, যদি সরকারীভাবে ক্যাপসিকাম রপ্তানী করার ব্যবস্থা করা হতো তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হতো। বাজার মূল্য ভালো পেলে আগামীতে আরো ব্যাপকভাবে হাইব্রিড ক্যাপসিকাম চাষ করতে চাষীগন আগ্রহ প্রকাশ করেন।।। এই উচ্চ মূল্যের ফসল চাষের সরকারের সহযোগীতা ও সুনজর কামনা করেন।।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, তাঁরা কৃষকদের কে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি সহযোগিতা ও ভালো বীজের ব্যবহার, বিভিন্ন বালাই দমনে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে এবং সেই সাথে ক্যাপসিকাম চাষে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করছেন।।

অথরের তথ্য

Abrar Khan

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

সিলেট জেলার অপার সম্ভাবনার ফসল হাইব্রিড ক্যাপসিকাম

আপডেট সময় ০৯:১৯:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার বেশ কিছু গ্রামে হাইব্রিড ক্যাপসিকাম চাষ শুরু হয়েছে। বিগত ২-৩ বছর ধরে কৃষকগন ক্যাপসিকাম চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

তবে, বিগত কয়েক আগেও এই হাইব্রিড ক্যাপসিকাম মরিচ গুলো বিদেশ থেকে আমদানী করে চাহিদা মিটানো হতো। আমদানীর কারন ছিল, দেশে ভালো মানের হাইব্রিড ক্যাপসিকামের বীজ বাজারে ছিলো না। বিধায়- তাই কৃষকগন নিজেরা এই ক্যাপসিকাম গুলো চাইলেও নিজেরা চাষ করতে পারতেন না। বিগত ৩-৪ বছর ধরে ইউনাইটেড সীড কোম্পানী হাইব্রিড ক্যাপসিকাম বীজ বাজারজাত শুরু করেন।

বিশ্বনাথ উপজেলার রায়পুর গ্রামের কৃষক মো: ময়েন উদ্দিনের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, এই বছর তিনি প্রায় ১.৫ বিঘা জমিতে ইউনাইটেড সীডের হাইব্রিড ক্যাপসিকাম পাওয়ার, চয়েজ, মারিয়া, ব্যানানা এই জাত গুলো চাষ করেছেন। এই জাত গুলো চাষের কারন হিসাবে বলেন জাতগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, আগাম ফলন প্রদান করে ও ফলের সাইজ গড় ৩০০-৪০০ গ্রাম হয়ে থাকে, ফলন অন্য জাতের চেয়ে অনেক বেশি এবং দীর্ঘদিন ফলন দেয়। তাই তিনি কৃষকদের ভালো বীজ ব্যবহার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। অধিক ফলনে ভালো বীজের বিকল্প নেই। এ পর্যন্ত তাঁর খরচ হয়েছেন ৭০-৮০হাজার টাকা। ফসল সংগ্রহ শুরুতে বাজার মূল্য প্রতি কেজি ক্যাপসিকাম ১১০-১২০ টাকা দামে পাইকারি বিক্রি করেছেন। বর্তমানে ৬০-৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে পারছেন। এই রকম বাজার থাকলে আশা করা ২.৫-৩ লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। ক্যাপসিকাম চাষ করে এই জমি থেকে ১.৫ – ২ লক্ষ লাভের সম্ভাবনা দেখছেন। তবে, ক্যাপসিকাম চাষ অন্য ফসলের চেয়ে লাভজনক।।

ক্যাপসিকাম গুনাগুন: ক্যাপসিকাম মরিচে মানবদেহের উপকারী সম্পূর্ন অনেক ধরনের উপকারী ভিটামিন বিদ্যমান রয়েছে। ক্যাপসিকামে থাকা ভিটামিন এ এবং সি ত্বক ও চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি ত্বকের কোষ মেরামত করে এবং চুলের গ্রোথে সাহায্য করে। ক্যাপসিকামে থাকা ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং সেরোটোনিন উৎপাদন বাড়ায়, যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এটি বিষণ্নতা ও উদ্বেগ দূর করতে সহায়ক। যা মানব দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের খাবারে এই জাতীয় ক্যাপসিকাম মরিচের চাহিদা রয়েছে। রাজধানীসহ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও বিভিন্ন জেলার শহরের রেস্টুরেন্টে গুলোতে ক্যাপসিকাম ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে।

এলাকার অন্যান্য চাষীদের সাথে কথা বলে আরো জানা যায় যে, যদি সরকারীভাবে ক্যাপসিকাম রপ্তানী করার ব্যবস্থা করা হতো তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হতো। বাজার মূল্য ভালো পেলে আগামীতে আরো ব্যাপকভাবে হাইব্রিড ক্যাপসিকাম চাষ করতে চাষীগন আগ্রহ প্রকাশ করেন।।। এই উচ্চ মূল্যের ফসল চাষের সরকারের সহযোগীতা ও সুনজর কামনা করেন।।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, তাঁরা কৃষকদের কে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি সহযোগিতা ও ভালো বীজের ব্যবহার, বিভিন্ন বালাই দমনে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে এবং সেই সাথে ক্যাপসিকাম চাষে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করছেন।।