ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা  নদী দখল ও দূষণে হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি  আতা ফলের ফল ছিদ্রকারি পোকা: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদার গাছ ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষয়ক্ষতি ও টেকসই সমাধান বাংলাদেশে আতা ফলের আগা মরা রোগ: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আনারসের হার্ট রট রোগ – কারণ, লক্ষণ ও টেকসই সমাধান আমলকির কান্ড ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত সমাধান আমলকির গল মাছি – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আমলকির স্কেল পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

দিনাজপুর সেচখালের পানিতে উৎপাদন হবে ২২ লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন চাল

  • কৃষককন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৫৬ বার পড়া হয়েছে

উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্পের (তিস্তা ব্যারাজ) কমান্ড এলাকার সেচ সক্ষমতা বাড়াতে এক হাজার ৪৫২ কোটি টাকার সংস্কার ও পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ শেষ হলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দিনাজপুর ক্যানেলের দুই ধারের কৃষকরা অতিরিক্ত এক লাখ চার হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাবেন। বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় পাঁচ লাখ আট হাজার ৯৭৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে পাউবো। এর মধ্যে রংপুরে এক লাখ ৩২ হাজার ৭৪৬ হেক্টর, গাইবান্ধায় এক লাখ ২৯ হাজার ১৫ হেক্টর, কুড়িগ্রামে এক লাখ ১৭ হাজার ৩৬০ হেক্টর, লালমনিরহাট ৪৮ হেক্টর ও নীলফামারী জেলায় ৮১ হাজার ৮৯৭ হেক্টর।

গত বছর পাঁচ লাখ সাত হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। এ বছর অতিরিক্ত এক হাজার ১৪৩ হেক্টর জমি সেচ ক্যানেলের আওতায় এসেছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বোরো আবাদ হলে পাঁচ জেলায় ২২ লাখ ৯৪ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে।

পাশাপাশি যেসব এলাকায় সেচ খালের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে, সেসব এলাকায় চলতি মৌসুমের ১৫ জানুয়ারি থেকে সেচ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে বোরো আবাদ শুরু হবে বলে জানান ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ সম্প্রসারণ বিভাগ। দিনাজপুর সেচ খালের দৈর্ঘ্য ৭৬৬ কিলোমিটার।

ব্রিটিশ আমলে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও মূল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় ১৯৫৩ সালে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা ও ডিজাইন প্রণয়ন করে তিস্তা ব্যারাজের স্থান নির্ধারণ করেন ডালিয়ায়। ব্যারাজের মোট নির্মাণ ব্যয় ছিল ১৫০০ কোটি টাকা।

এরপর ১৯৭৯ সালে ব্যারাজ নির্মাণ ও সেচ খালের কাজ ১৯৮৪-৮৫ সালে শুরু হয়। ব্যারাজের দৈর্ঘ্য ৬১৫ মিটার, জলকপাট ৪৪টি। ক্যানেল হেড রেগুলেটর ১১০ মিটারের মধ্যে গেট রয়েছে আটটি। এ নিয়ে সর্বমোট গেট ৫২টি।

সূত্র জানায়, ব্যারেজ প্রকল্প (ফেজ-১) সেচ সুবিধার আওতায় আনা হয় নীলফামারী সদর, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরীগঞ্জ, সৈয়দপুর, রংপুর সদর, গঙ্গাচড়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ ও দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, খানসামা। প্রধান খাল ৩৩ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার। প্রধান খালে পানি সরবরাহ ক্ষমতা ২৮৩ কিউসেক।

প্রথমের দিকে দিনাজপুর ক্যানেলের সেচযোগ্য এলাকা এক লাখ ১১ হাজার ৪০৬ হেক্টর ধরা হলেও বাস্তবায়িত হয়েছিল ৯১ হাজার ২২৬ হেক্টর। কিন্তু ক্যানেলের বুক ভরাট হওয়ার কারণে গড়ে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হতো। ২০২১ সালে জুলাই থেকে সেচের সক্ষমতা বাড়াতে নতুনভাবে সংস্কারের কাজ হাতে নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এতে মোট ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয় এক হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘তিস্তা সেচ প্রকল্প কমান্ড এলাকার পুনর্বাসন ও সংস্কার প্রকল্প’।

এদিকে, কমান্ড এলাকার কৃষকরা জানান, আমন ধান বৃষ্টি নির্ভর। আর বোরো ধান সেচ নির্ভর। ক্যানেলের পানি প্রতি বিঘায় সেচ খরচ মাত্র ১৫২.৩৯ টাকা। একর প্রতি ৪৮০ টাকা খরচ হয়। আর শ্যালো বা বিদ্যুৎ চালিত পাম্পে বিঘায় খরচ হয় ১১০০-১২০০ টাকা। ক্যানেলের সেচ পাঁচ জেলার কৃষকের জন্য আশীর্বাদ।

নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের মাঝাপাড়া গ্রামের কৃষক তনজিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর প্রথম পানিতে তিন বিঘা জমিতে আমনের চারা রোপণ করেছি। কিন্তু গত বছর বৃষ্টিপাতের সংকট হওয়ায় সমস্যায় পড়েছিলাম। পরে সেচ ক্যানেলের পানি পেয়ে চিন্তামুক্ত হই। ক্যানেলের পানি পেয়ে আমনের ফলনও হয়েছিল বাম্পার।’

একই উপজেলার কৃষক খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তা সেচ প্রকল্পের অধীন পুরাতন ও ক্ষতিগ্রস্ত সেচ নালা সংস্কার ও পুনর্বাসনের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে আগামীতে আরও বেশি পরিমাণ সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। এই মৌসুমে দেড় বিঘা জমি সেচের পানিতে বোরো লাগানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। অল্প খরচে অধিক ফলন ক্যানেলের পানির বিকল্প নাই।’

জেলার জলঢাকা উপজেলার খুটামারী ইউনিয়নের হরিশ্চন্দ্র পাঠ কমান্ড এলাকার সুবিধাভোগী পরেশ চন্দ্র রায় জানায়, পানি প্রবাহ ঠিকঠাক থাকলে বোরো আবাদে কোনও সমস্যা হবে না। অল্প খরচে বোরো আবাদে সেচের পানিতে বাম্পার ফলন হয়ে থাকে।

পাউবো রংপুর বিভাগীয় মুখ্য সেচ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অমলেশ চন্দ্র রায় বলেন, ক্যানেলে খনন কাজ চলমান থাকায় কিছুটা সেচ প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে। আশা করি, জানুয়ারি শেষ নাগাদ পুরোদমে বোরো চাষ শুরু হবে।

জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় পাঁচ লাখ আট হাজার ৯৭৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই প্রকল্পের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার ১২টি উপজেলায় সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। নতুন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে এর সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

তিনি জানান, এবার বোরো মৌসুমে ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা হবে। এ জন্য এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে বৈঠক করছি। কোন এলাকায় কী পরিমাণ সেচ প্রয়োজন সেটি জানার পর আমরা সেচ ব্যবস্থা পরিচালনা করবো। বাস্তবতার নিরিখে সংস্কার কাজ আরও দুই বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে।

অথরের তথ্য

Abrar Khan

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

দিনাজপুর সেচখালের পানিতে উৎপাদন হবে ২২ লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন চাল

আপডেট সময় ০৫:২০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫

উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্পের (তিস্তা ব্যারাজ) কমান্ড এলাকার সেচ সক্ষমতা বাড়াতে এক হাজার ৪৫২ কোটি টাকার সংস্কার ও পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ শেষ হলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দিনাজপুর ক্যানেলের দুই ধারের কৃষকরা অতিরিক্ত এক লাখ চার হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাবেন। বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় পাঁচ লাখ আট হাজার ৯৭৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে পাউবো। এর মধ্যে রংপুরে এক লাখ ৩২ হাজার ৭৪৬ হেক্টর, গাইবান্ধায় এক লাখ ২৯ হাজার ১৫ হেক্টর, কুড়িগ্রামে এক লাখ ১৭ হাজার ৩৬০ হেক্টর, লালমনিরহাট ৪৮ হেক্টর ও নীলফামারী জেলায় ৮১ হাজার ৮৯৭ হেক্টর।

গত বছর পাঁচ লাখ সাত হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। এ বছর অতিরিক্ত এক হাজার ১৪৩ হেক্টর জমি সেচ ক্যানেলের আওতায় এসেছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বোরো আবাদ হলে পাঁচ জেলায় ২২ লাখ ৯৪ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে।

পাশাপাশি যেসব এলাকায় সেচ খালের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে, সেসব এলাকায় চলতি মৌসুমের ১৫ জানুয়ারি থেকে সেচ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে বোরো আবাদ শুরু হবে বলে জানান ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ সম্প্রসারণ বিভাগ। দিনাজপুর সেচ খালের দৈর্ঘ্য ৭৬৬ কিলোমিটার।

ব্রিটিশ আমলে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও মূল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় ১৯৫৩ সালে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা ও ডিজাইন প্রণয়ন করে তিস্তা ব্যারাজের স্থান নির্ধারণ করেন ডালিয়ায়। ব্যারাজের মোট নির্মাণ ব্যয় ছিল ১৫০০ কোটি টাকা।

এরপর ১৯৭৯ সালে ব্যারাজ নির্মাণ ও সেচ খালের কাজ ১৯৮৪-৮৫ সালে শুরু হয়। ব্যারাজের দৈর্ঘ্য ৬১৫ মিটার, জলকপাট ৪৪টি। ক্যানেল হেড রেগুলেটর ১১০ মিটারের মধ্যে গেট রয়েছে আটটি। এ নিয়ে সর্বমোট গেট ৫২টি।

সূত্র জানায়, ব্যারেজ প্রকল্প (ফেজ-১) সেচ সুবিধার আওতায় আনা হয় নীলফামারী সদর, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরীগঞ্জ, সৈয়দপুর, রংপুর সদর, গঙ্গাচড়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ ও দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, খানসামা। প্রধান খাল ৩৩ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার। প্রধান খালে পানি সরবরাহ ক্ষমতা ২৮৩ কিউসেক।

প্রথমের দিকে দিনাজপুর ক্যানেলের সেচযোগ্য এলাকা এক লাখ ১১ হাজার ৪০৬ হেক্টর ধরা হলেও বাস্তবায়িত হয়েছিল ৯১ হাজার ২২৬ হেক্টর। কিন্তু ক্যানেলের বুক ভরাট হওয়ার কারণে গড়ে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হতো। ২০২১ সালে জুলাই থেকে সেচের সক্ষমতা বাড়াতে নতুনভাবে সংস্কারের কাজ হাতে নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এতে মোট ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয় এক হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘তিস্তা সেচ প্রকল্প কমান্ড এলাকার পুনর্বাসন ও সংস্কার প্রকল্প’।

এদিকে, কমান্ড এলাকার কৃষকরা জানান, আমন ধান বৃষ্টি নির্ভর। আর বোরো ধান সেচ নির্ভর। ক্যানেলের পানি প্রতি বিঘায় সেচ খরচ মাত্র ১৫২.৩৯ টাকা। একর প্রতি ৪৮০ টাকা খরচ হয়। আর শ্যালো বা বিদ্যুৎ চালিত পাম্পে বিঘায় খরচ হয় ১১০০-১২০০ টাকা। ক্যানেলের সেচ পাঁচ জেলার কৃষকের জন্য আশীর্বাদ।

নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের মাঝাপাড়া গ্রামের কৃষক তনজিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর প্রথম পানিতে তিন বিঘা জমিতে আমনের চারা রোপণ করেছি। কিন্তু গত বছর বৃষ্টিপাতের সংকট হওয়ায় সমস্যায় পড়েছিলাম। পরে সেচ ক্যানেলের পানি পেয়ে চিন্তামুক্ত হই। ক্যানেলের পানি পেয়ে আমনের ফলনও হয়েছিল বাম্পার।’

একই উপজেলার কৃষক খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তা সেচ প্রকল্পের অধীন পুরাতন ও ক্ষতিগ্রস্ত সেচ নালা সংস্কার ও পুনর্বাসনের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে আগামীতে আরও বেশি পরিমাণ সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। এই মৌসুমে দেড় বিঘা জমি সেচের পানিতে বোরো লাগানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। অল্প খরচে অধিক ফলন ক্যানেলের পানির বিকল্প নাই।’

জেলার জলঢাকা উপজেলার খুটামারী ইউনিয়নের হরিশ্চন্দ্র পাঠ কমান্ড এলাকার সুবিধাভোগী পরেশ চন্দ্র রায় জানায়, পানি প্রবাহ ঠিকঠাক থাকলে বোরো আবাদে কোনও সমস্যা হবে না। অল্প খরচে বোরো আবাদে সেচের পানিতে বাম্পার ফলন হয়ে থাকে।

পাউবো রংপুর বিভাগীয় মুখ্য সেচ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অমলেশ চন্দ্র রায় বলেন, ক্যানেলে খনন কাজ চলমান থাকায় কিছুটা সেচ প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে। আশা করি, জানুয়ারি শেষ নাগাদ পুরোদমে বোরো চাষ শুরু হবে।

জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় পাঁচ লাখ আট হাজার ৯৭৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই প্রকল্পের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার ১২টি উপজেলায় সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। নতুন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে এর সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

তিনি জানান, এবার বোরো মৌসুমে ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা হবে। এ জন্য এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে বৈঠক করছি। কোন এলাকায় কী পরিমাণ সেচ প্রয়োজন সেটি জানার পর আমরা সেচ ব্যবস্থা পরিচালনা করবো। বাস্তবতার নিরিখে সংস্কার কাজ আরও দুই বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে।