Tag: দিনাজপুর

  • আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নির্দেশিকা হালনাগাদ

    আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নির্দেশিকা হালনাগাদ

    বৈশ্বিক মহামারি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নির্দেশিকা ক্রমাগত হালনাগাদ হচ্ছে। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে প্রতিটি দেশই নিজেদের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জনস্বাস্থ্যের ভারসাম্য রক্ষায় নতুন নীতি প্রণয়ন করছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি ভ্রমণপিপাসু, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী শ্রমিকের জন্য এই হালনাগাদকৃত নির্দেশিকা জানা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই প্রবন্ধে আমরা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট সর্বশেষ নীতিমালা, ডিজিটাল রূপান্তর, স্বাস্থ্যবিধি ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করব।

    কোভিড-১৯ মহামারি আন্তর্জাতিক ভ্রমণে আমূল পরিবর্তন এনেছে। যদিও ২০২৩ সালে এসে অনেক দেশ কোয়ারেন্টাইন নীতি শিথিল করেছে, তবুও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত শর্তাবলি এখনও প্রাসঙ্গিক। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা বিদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য পূর্ণ ডোজ টিকার প্রমাণ চেয়ে থাকে। অন্যদিকে, জাপান ও চীন মতো দেশগুলো নেগেটিভ PCR টেস্ট রিপোর্ট বাধ্যতামূলক রেখেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের “ইইউ ডিজিটাল কোভিড সার্টিফিকেট” একটি মডেল হিসেবে কাজ করছে, যা টিকা, টেস্ট বা সুস্থতার সার্টিফিকেট একীভূত করে। বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য এই সার্টিফিকেট অপরিহার্য, বিশেষত স্কেংজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে।

    আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অভূতপূর্ব গতি পেয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ভারতের মতো দেশগুলো ই-ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করেছে, যেখানে অনলাইনে আবেদন করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভিসা মিলছে। বাংলাদেশ সরকারও ২০২৩ সালে ৪০টি দেশের জন্য “অন অ্যারাইভাল ভিসা” চালু করেছে, যা পর্যটনকে উদ্দীপিত করছে। এছাড়া, বিমানবন্দরগুলোতে বায়োমেট্রিক স্ক্রিনিং (চেহারা ও আঙুলের ছাপ শনাক্তকরণ) চালু হয়েছে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করছে। তবে এই প্রযুক্তির প্রসারে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ডিজিটাল বিভাজন একটি চ্যালেঞ্জ।

    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অনেক দেশ পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ নীতি গ্রহণ করেছে। ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ড স্থানীয় ফ্লাইটের বিকল্প হিসেবে রেলভ্রমণকে প্রণোদনা দিচ্ছে। এছাড়া, কার্বন অফসেট ফি (যেমন—জার্মানির বিমান ভাড়ায় অতিরিক্ত পরিবেশ কর) চালু হয়েছে। বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য এই নীতিগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভবিষ্যতে এয়ারলাইন্সগুলো “গ্রিন ফ্লাইট” সার্টিফিকেট চালু করতে পারে, যা পরিবেশ-সচেতন ভ্রমণকে অগ্রাধিকার দেবে।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মিয়ানমার সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নির্দেশিকাকে প্রভাবিত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ান নাগরিকদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবের শ্রম ভিসা নীতিতে পরিবর্তন এসেছে—যেমন, দক্ষতার স্বীকৃতির জন্য নতুন সার্টিফিকেশন প্রয়োজন। এ ধরনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভ্রমণ পূর্বাভাস ও ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি মনিটরিং জরুরি।

    বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সহজীকরণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন “স্মার্ট পাসপোর্ট” চালু করা হয়েছে, যা বায়োমেট্রিক ডেটা সমৃদ্ধ। এছাড়া, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বয়ংক্রিয় ইমিগ্রেশন সিস্টেম (e-gate) চালু হয়েছে, যা ভ্রমণ সময় কমিয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে—যেমন, ভিসা প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, স্বাস্থ্য সার্টিফিকেট জালিয়াতি ও সীমান্তে স্বচ্ছতার অভাব। বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য পরামর্শ হলো—যেকোনো দেশে ভ্রমণের আগে ঐ দেশের দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে হালনাগাদ তথ্য নেওয়া।

    ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নির্দেশিকা আরও প্রযুক্তিনির্ভর হবে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) মাধ্যমে ভার্চুয়াল ভিসা ইন্টারভিউ, মেটাভার্সে ডিজিটাল ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন—এসব ধারণা বাস্তবায়নের পথে। এছাড়া, AI-চালিত কাস্টমস চেক ও ব্লকচেইনভিত্তিক স্বাস্থ্য রেকর্ড শেয়ারিং সিস্টেম আসতে পারে। তবে এসব উদ্ভাবন নিয়ে গোপনীয়তা ও ডেটা সুরক্ষার প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

    হালনাগাদকৃত ভ্রমণ নির্দেশিকা শুধু ব্যক্তি পর্যায়েই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। পর্যটন-নির্ভর দেশগুলো (যেমন—থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ) তাদের জিডিপি পুনরুদ্ধারে ভিসা শিথিল করেছে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য নীতি কঠোর থাকায় চীনের মতো দেশগুলো পর্যটন আয় হারাচ্ছে। সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ভ্রমণ নীতির উদারতা মানুষে মানুষে সংযোগ বাড়াচ্ছে, যা শান্তি ও সমঝোতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

    আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নির্দেশিকা এখন আর স্থির নয়—এটি গতিশীল ও পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তনশীল। এই প্রেক্ষাপটে ভ্রমণকারী, নীতিনির্ধারক ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অভিযোজনশীলতা ও সচেতনতা ключ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। ভবিষ্যতের ভ্রমণ হবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও ডিজিটাল—এই লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।

  • ফুলে ভরপুর লিচু বাগান, রেকর্ড ফলনের আশা

    ফুলে ভরপুর লিচু বাগান, রেকর্ড ফলনের আশা

    লিচুর দেশ’ হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর। জেলাজুড়ে হাজার হাজার লিচু গাছ সেজেছে সোনালি ফুলে। অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত চাষাবাদের কারণে এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।

    বসন্তে ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে দিনাজপুরের ১৩ উপজেলার পাঁচ হাজার ৪১৮ বাগান লিচু ফুলের মিষ্টি সুবাসে মৌ মৌ করছে। এদের অধিকাংশই দিনাজপুর সদর, চিরিরবন্দর, খানসামা ও বীরগঞ্জ উপজেলায়।

    দিনাজপুরের লিচু বাগানে সোনালি ফুলে ভরপুর।

    চায়না-১, ২ ও ৩, বেদানা, বোম্বে, মাদ্রাজি ও কাথালির মতো জাতগুলো এসব বাগানে আধিপত্য করছে। কৃষকরা ফসল রক্ষায় সেচ, কীটনাশক ও সারে বিনিয়োগ করছেন।দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নুরুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে। আগামীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে প্রচুর ফলনের আশা করছি।’

    বাজারে দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা বেশি হওয়ায় রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে ব্যবসায়ীরা বাগানে গিয়ে চাষিদের আগাম টাকা দিচ্ছেন।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর দিনাজপুরে পাঁচ হাজার ৭৮৭ হেক্টর জমিতে ৪২ হাজার টন লিচু পাওয়া গেছে। বাজার দাম ছিল ৮০০ কোটি টাকা।

    লিচু দিনাজপুরের অন্যতম মৌসুমি অর্থকরী ফসল। যদিও এর ব্যতিক্রমী স্বাদ রপ্তানির সুযোগ তৈরি করেছে। তবে ফলটির পচনশীল প্রকৃতি ও যথাযথ প্রক্রিয়াকরণ সুবিধার অভাব রপ্তানি বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে।

    হিমাগার ও প্রক্রিয়াকরণ কারখানা গড়তে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কৃষকরা।চিরিরবন্দর উপজেলার লিচু চাষি বাবলু মিয়া অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে আমরা লিচুর জুস রপ্তানি করতে পারছি।’

    গত বছর প্রতি পিস লিচুর দাম ছিল তিন থেকে ১৮ টাকা। কৃষকরা দামের ওঠানামা সম্পর্কে সতর্ক আছেন। কারণ বাজারের পরিস্থিতি ও পরিবহন খরচ তাদের মুনাফাকে প্রভাবিত করে।

    খানসামা উপজেলার লিচু চাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কীটপতঙ্গের প্রাদুর্ভাব কিংবা একটা ঝড়ের কারণে কয়েক মাসের প্রচেষ্টা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের আবহাওয়া সম্পর্কে জানতে ও সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।’

  • বার্ষিক পুষ্টি কর্ম পরিকল্পনা ইউনিয়ন মাল্টি-স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্ম অনুষ্ঠিত

    বার্ষিক পুষ্টি কর্ম পরিকল্পনা ইউনিয়ন মাল্টি-স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্ম অনুষ্ঠিত

    রনজিৎ সরকার রাজ,দিনাজপুর প্রতিনিধি:

    দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ইউনিয়ন বার্ষিক পুষ্টি কর্ম পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় উপজেলার শালবন মিলনায়তনে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম। ওঋঅউ/ এঅঋঝচ এবং বাংলাদেশ গভর্মেন্ট (জঅওঘঝ)-এর যৌথ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফজলে এলাহী।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও আফরোজা সুলতানা লুনা, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার, প্রজেক্ট এসিস্টেন্ট জেইন সামিহা ইসরাত সিলভিয়া এবং কনসালটেন্ট নিহার কুমার প্রমাণিক।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষক, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, পুষ্টি কমিটির ইউপি সদস্যরা, স্বাস্থ্য সহকারীবৃন্দ, ইমাম, পুরোহিত, নারী উদ্যোক্তারা, সমবায়ী সদস্য ও বাজার কমিটির সভাপতিবৃন্দ।

    এই কর্মপরিকল্পনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা ইউনিয়ন পর্যায়ে পুষ্টি উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং সমন্বিতভাবে পুষ্টি কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • বীরগঞ্জে ৩৯৫ কেজি ওজনের কষ্টি পাথরসহ ১ জন গ্রেফতার।

    বীরগঞ্জে ৩৯৫ কেজি ওজনের কষ্টি পাথরসহ ১ জন গ্রেফতার।

    রনজিৎ সরকার রাজ  দিনাজপুর প্রতিনিধি: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ০৪ ফ্রেব্রুয়ারী’২০২৫ ইং রাত ১০টার দিকে র‍্যাব-১৩ সিপিসি-২ নীলফামারি মেজর ইসতিয়াকের নেতৃত্বে থানা পুলিশের সহযোগিতায় যৌথ অভিযানে বীরগঞ্জের ৩ নম্বর শতগ্রাম ইউনিয়নের অর্জুনাহার এলাকার কৃষক মৃত ছমির আলীর ছেলে গোলাম মোর্শেদের বাড়ীর গোয়াল ঘরের পিছনে গর্তে পাটি দিয়ে মোড়ানো পলিথিন প‍্যাচানো মুর্তিটি মাটি খুড়ে উদ্ধার করা হয়।

    ঘটনার সাথে জড়িতদের মধ্যে ঐ এলাকার আবেদ আলীর পুত্র আক্কাস (৪০) কে গ্রেফতার করেছে যৌথ বাহিনী।জানা গেছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের ঐ কষ্টি পাথরটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র আত্মসাত করতে চেয়েছিল কিন্তু প্রশাসন সজাগ থাকায় তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সফল হয়নি।বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল গফুর ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন মামলার প্রস্তুতি চলছে ।

  • দিনাজপুর সেচখালের পানিতে উৎপাদন হবে ২২ লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন চাল

    দিনাজপুর সেচখালের পানিতে উৎপাদন হবে ২২ লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন চাল

    উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্পের (তিস্তা ব্যারাজ) কমান্ড এলাকার সেচ সক্ষমতা বাড়াতে এক হাজার ৪৫২ কোটি টাকার সংস্কার ও পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ শেষ হলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দিনাজপুর ক্যানেলের দুই ধারের কৃষকরা অতিরিক্ত এক লাখ চার হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাবেন। বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় পাঁচ লাখ আট হাজার ৯৭৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে পাউবো। এর মধ্যে রংপুরে এক লাখ ৩২ হাজার ৭৪৬ হেক্টর, গাইবান্ধায় এক লাখ ২৯ হাজার ১৫ হেক্টর, কুড়িগ্রামে এক লাখ ১৭ হাজার ৩৬০ হেক্টর, লালমনিরহাট ৪৮ হেক্টর ও নীলফামারী জেলায় ৮১ হাজার ৮৯৭ হেক্টর।

    গত বছর পাঁচ লাখ সাত হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। এ বছর অতিরিক্ত এক হাজার ১৪৩ হেক্টর জমি সেচ ক্যানেলের আওতায় এসেছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বোরো আবাদ হলে পাঁচ জেলায় ২২ লাখ ৯৪ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে।

    পাশাপাশি যেসব এলাকায় সেচ খালের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে, সেসব এলাকায় চলতি মৌসুমের ১৫ জানুয়ারি থেকে সেচ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে বোরো আবাদ শুরু হবে বলে জানান ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ সম্প্রসারণ বিভাগ। দিনাজপুর সেচ খালের দৈর্ঘ্য ৭৬৬ কিলোমিটার।

    ব্রিটিশ আমলে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও মূল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় ১৯৫৩ সালে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা ও ডিজাইন প্রণয়ন করে তিস্তা ব্যারাজের স্থান নির্ধারণ করেন ডালিয়ায়। ব্যারাজের মোট নির্মাণ ব্যয় ছিল ১৫০০ কোটি টাকা।

    এরপর ১৯৭৯ সালে ব্যারাজ নির্মাণ ও সেচ খালের কাজ ১৯৮৪-৮৫ সালে শুরু হয়। ব্যারাজের দৈর্ঘ্য ৬১৫ মিটার, জলকপাট ৪৪টি। ক্যানেল হেড রেগুলেটর ১১০ মিটারের মধ্যে গেট রয়েছে আটটি। এ নিয়ে সর্বমোট গেট ৫২টি।

    সূত্র জানায়, ব্যারেজ প্রকল্প (ফেজ-১) সেচ সুবিধার আওতায় আনা হয় নীলফামারী সদর, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরীগঞ্জ, সৈয়দপুর, রংপুর সদর, গঙ্গাচড়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ ও দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, খানসামা। প্রধান খাল ৩৩ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার। প্রধান খালে পানি সরবরাহ ক্ষমতা ২৮৩ কিউসেক।

    প্রথমের দিকে দিনাজপুর ক্যানেলের সেচযোগ্য এলাকা এক লাখ ১১ হাজার ৪০৬ হেক্টর ধরা হলেও বাস্তবায়িত হয়েছিল ৯১ হাজার ২২৬ হেক্টর। কিন্তু ক্যানেলের বুক ভরাট হওয়ার কারণে গড়ে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হতো। ২০২১ সালে জুলাই থেকে সেচের সক্ষমতা বাড়াতে নতুনভাবে সংস্কারের কাজ হাতে নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এতে মোট ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয় এক হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘তিস্তা সেচ প্রকল্প কমান্ড এলাকার পুনর্বাসন ও সংস্কার প্রকল্প’।

    এদিকে, কমান্ড এলাকার কৃষকরা জানান, আমন ধান বৃষ্টি নির্ভর। আর বোরো ধান সেচ নির্ভর। ক্যানেলের পানি প্রতি বিঘায় সেচ খরচ মাত্র ১৫২.৩৯ টাকা। একর প্রতি ৪৮০ টাকা খরচ হয়। আর শ্যালো বা বিদ্যুৎ চালিত পাম্পে বিঘায় খরচ হয় ১১০০-১২০০ টাকা। ক্যানেলের সেচ পাঁচ জেলার কৃষকের জন্য আশীর্বাদ।

    নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের মাঝাপাড়া গ্রামের কৃষক তনজিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর প্রথম পানিতে তিন বিঘা জমিতে আমনের চারা রোপণ করেছি। কিন্তু গত বছর বৃষ্টিপাতের সংকট হওয়ায় সমস্যায় পড়েছিলাম। পরে সেচ ক্যানেলের পানি পেয়ে চিন্তামুক্ত হই। ক্যানেলের পানি পেয়ে আমনের ফলনও হয়েছিল বাম্পার।’

    একই উপজেলার কৃষক খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তা সেচ প্রকল্পের অধীন পুরাতন ও ক্ষতিগ্রস্ত সেচ নালা সংস্কার ও পুনর্বাসনের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে আগামীতে আরও বেশি পরিমাণ সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। এই মৌসুমে দেড় বিঘা জমি সেচের পানিতে বোরো লাগানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। অল্প খরচে অধিক ফলন ক্যানেলের পানির বিকল্প নাই।’

    জেলার জলঢাকা উপজেলার খুটামারী ইউনিয়নের হরিশ্চন্দ্র পাঠ কমান্ড এলাকার সুবিধাভোগী পরেশ চন্দ্র রায় জানায়, পানি প্রবাহ ঠিকঠাক থাকলে বোরো আবাদে কোনও সমস্যা হবে না। অল্প খরচে বোরো আবাদে সেচের পানিতে বাম্পার ফলন হয়ে থাকে।

    পাউবো রংপুর বিভাগীয় মুখ্য সেচ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অমলেশ চন্দ্র রায় বলেন, ক্যানেলে খনন কাজ চলমান থাকায় কিছুটা সেচ প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে। আশা করি, জানুয়ারি শেষ নাগাদ পুরোদমে বোরো চাষ শুরু হবে।

    জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় পাঁচ লাখ আট হাজার ৯৭৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    একই প্রকল্পের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার ১২টি উপজেলায় সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। নতুন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে এর সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

    তিনি জানান, এবার বোরো মৌসুমে ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা হবে। এ জন্য এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে বৈঠক করছি। কোন এলাকায় কী পরিমাণ সেচ প্রয়োজন সেটি জানার পর আমরা সেচ ব্যবস্থা পরিচালনা করবো। বাস্তবতার নিরিখে সংস্কার কাজ আরও দুই বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে।